আমার প্রিয় পোস্ট

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছো বসি আমার ব্লগখানি কৌতুহল ভরে

বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি, একুশের চেতনার সংজ্ঞা, জায়েজ আর নাজায়েজ প্রসঙ্গ

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৩

শেয়ারঃ
0 0 0

আনিসুল হক লিখলেন :

"তরুণ পাঠকেরা , যদি পার , থ্রি ইডিয়টস ছবিটা দেখে নিও । তাহলে তোমরাও ঐ চরণটা চিৎকার করে বলতে পারবে ...... আল ইজ ওয়েল"

ক্যারিয়ার চুজিং নিয়ে বিশাল বেসাতির শেষে যখন স্বনামধন্য লেখক আনিসুল হক এভাবে উপসংহার টানেন , তখন অবাক বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে থাকি । কোটি বেকার বা দিশাহারা তরুণ তবে অবশেষে দিশার সন্ধান পেল।

তবে কি আনিসুল হক এভাবে বলতে পারেন না ?
না পারেন না , কিছুতেই না।

আমরা থ্রি-ইডিয়টস দেখতে পারি , এটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারি , কিন্তু আনিসুল হক্ব বললেই দোষ ?
হ্যাঁ , আমাদের বেলায় অপরাধটা লঘু , উনার বেলায় অপরাধটা অনেক বেশি গুরুতর । আমি , আপনি যে কারণেই হোক সমাজের ছোট্ট একটা অংশকে প্রভাবিত করতে পারি বড়জোর । আমি তীব্র হিন্দি প্রেম দেখাতে পারি , পাশের দেশের জন্য সুতীব্র ভালবাসাও প্রকাশ করতে পারি , কিন্তু আমার সেই প্রকাশ খুব অল্প মানুষকেই প্রভাবিত করবে । আনিসুল হক্ব যখন কথা বলেন , তখন পুরো তরুণ প্রজন্মের কাছে সে বার্তা পৌছে যায় , যাদের অনেকেই উনাদের আইডল মেনে তাদের কর্মকান্ড অনুসরণ করার ব্রতে আবদ্ধ হয়ে আছেন।

উনার দোষটা কোথায় , ফেব্রুয়ারি মাস বলেই কি ?
হ্যাঁ , সেটাও বলতে পারেন । ফেব্রুয়ারি মাসে আমি আলাদা করে ভাষার জন্য দু'টো কথা হয়ত বলব না , কিন্তু সেমিনার সিম্পোজিয়াম , মঞ্চ ময়দানে আনিসুল হক্বরা ভাষার নিয়ে অনেক আবেগ-ভরা কথাই বলবেন । যিনি এমন করে বলেন , তিনি যখন হিন্দি ভাষাকে প্রমোট করেন , সেটা অবশ্যই ডাবল-স্ট্যান্ডার্ড ।

আমরা তাহলে কোন মুখে সমালোচনা করি , যেখানে আমরা নিজেরাই নীতি মেনে চলি না ? আনিসুল হক্বকে বলার আগে কি নিজের আগে সংশোধন হয়ে আসা উচিৎ না ?
অবশ্যই উচিৎ । কিন্তু এভাবে যদি সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয় , সেটা নিঃসন্দেহে ব্ল্যাক-মেইলিং । একজন ডাক্তার অপারেশনে গাফিলতি করে রোগী মেরে ফেলেছেন , সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সমালোচনা করার জন্য কি আমাকে আগে অপারেশন থিয়েটরে ঢুকে কয়েকটা অপারেশন পরিচালনা করতে হবে ? কাজেই , তিনি ভুল করলে আমরা খুঁত ধরতে পারব না , এমন কথাগুলো নিতান্তই দুর্বল ।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য , এখনকার চেতনার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ?
সম্ভবত দু'টোর মাঝের তফাৎটা এখন আকাশ পাতাল । পার্থক্যটা তখনই প্রকট হয়ে গেছে , যখন বাংলা ভাষার আবেদনটা বছরব্যাপি না হয়ে কেবলই ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে । কোন সূত্র ধরে না বললেও , স্পষ্টত যেটা দেখা যায় ফেব্রুয়ারী মাসে যারা ভাষার কথা বলে , সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য যারা বেশি করে মুখ খুলছেন , তাদের অগ্রসেনানীদের সন্তানদের বেশির ভাগ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষিত , যেখানে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয় ।

তবে কি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনে ব্যর্থতাই সব কিছুর মূলে ?
"সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন" --- এই কনসেপ্ট টায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে । ব্যাপারটা বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবী রাখে । সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের কথা যারা বলেন খুব বেশি বেশি করে (যাদের অনেকের সন্তান বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়ে ঠিকমত বাংলা বলতে পারে না) , জনগণের জন্য তাদের কনসেপ্ট হল , ইংরেজি ভাষার মুলোৎপাটন করে সর্বত্র বাংলা প্রচলন করা । জাতি হিসেবে আমাদের পিছিয়ে যাবার পেছেনে এই মিসকনসেপশনটার অনেক ভূমিকা আছে , সেটা অস্বীকার করা যাবে না । এর ফলে : ১। বাঙালী এখন ঠিকমত বাংলা বলতে লিখতে জানে না ২। বাংলা ভাষায় এখনও পরিপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ আমরা সৃষ্টি করতে পারিনি । ৩। ইংরেজি ভাষা দক্ষতায় বাঙালি মোটামুটি পঙ্গুত্ব বরণ করেছে । আজ থেকে ৩০/৪০ বছর আগে সাধারণ ম্যাট্রিক পাশ করা ছাত্র যতটুকু ইংরেজিতে দক্ষ ছিল , এখন তার সিকিভাগও মেলে না একজন স্নাকোত্তর ছাত্রের মাঝে । অবাক ব্যাপার হল , সে সময়ের ম্যাট্রিক পাশ করা মানুষগুলোর একই সাথে বাংলাতেও এখনকার ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে নেই ।

তাহলে গলদটা কোথায় ? আমরা কি শুধু বাংলার উপর দাঁড়াতে পারি না ? ফ্রান্স , জার্মানী , জাপান পারলে আমরা কেন পারি না ?
উত্তরটা হল ...... না পারি না , আমাদের সামনে জাপান , ফ্রান্স , ইরান উদাহরণ হতে পারে না , যারা নিজের উৎস থেকেই আভ্যন্তরিণ যাবতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম । আমাদের উদাহরণ বরং ভারত , শ্রীলংকা হতে পারে , যাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনো ওতপ্রতোভাবে বৈদেশিক ধারণা এবং বৈদেশিক জ্ঞানের আদান প্রদানের উপর নির্ভরশীল । পরের দেশগুলোর দিকে তাকালে বুঝা যাবে , ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার কারণে তারা কেন আমাদের চেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে এগিয়ে গেছে । শুধু তারাই না , জাপানী , চীনা , ফরাসীরাও সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইংরেজিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলছে ।

ইংরেজিই যদি এত কিছু হয় , তবে ইংলিশ মিডিয়াম নিয়ে এত ক্ষোভ কেন ?
সেই একই কথা , ইংরেজি -বাংলার সমন্বয়ের যে নিয়মটা থাকা উচিৎ ছিলে , তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে নেই । বাংলা ভাষায় আমরা দৃঢ় শক্ত ভিত্তি চাই , মানুষকে তার শেকড় আর মাটি চেনানোর জন্য । আর ইংরেজিতে শক্ত গাঁথুনি চাই , পারিপ্বার্শিকতা থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণ করে সে শেকড়কে শক্ত করে , চারাগাছগুলোকে মহীরুহে পরিণত করার জন্য , যার কোনটিই এখন বাস্তবতার আলো দেখেনি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যে মাটি আর মানুষের সাথে সম্পর্কহীন শ্রেণীটি তৈরি করা হচ্ছে , তারা আদৌ দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কিছু দিতে পেরেছে ? আর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা কনসেপ্টের গ্যাঁড়াকলে পড়ে , বাংলা মিডিয়াম থেকে যে ইংরেজি দক্ষতা বিহীন যে বিশাল শ্রেণীটির গড়ে তুলেছি , তার কতভাগই বা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশকে গড়ে তোলার মত প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণের মত উপযোগী হয়ে উঠেছে ?

আমাদের প্রকৃত আইডল কারা ?
মুনীর চৌধুরী , শহীদুল্লাহ কায়সার রা , তাদের সমসাময়িক এবং পূর্ববর্তী যারা ইংরেজি সাহিত্যে এবং ভাষায় পড়াশোনা , দক্ষতার অপরিসীম পরিচয় দিয়ে নিজের মা , মাটি , ভাষাকে দু'হাত ভরে দিয়ে গেছেন , যারা হতে পারতেন বিশ্বের সাথে আমাদের সত্যিকার মেলবন্ধন ।

হিন্দি নিয়ে তাহলে এত অভিযোগ কেন ?
সোজা কথায় ..
১। গত ৪০ বছরে আমরা সর্বস্তরে প্রচলন করতে ব্যর্থ হয়েছি কোন ভাষা ? ------ বাংলা ২। গত ৪০ বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় কোন ভাষা ভুলে যাবার কারণে আমরা বাকি বিশ্বের চেয়ে পিছিয়ে গেছি ক্রমাগতভাবে ? ----- ইংরেজি ৩। গত ৪০ বছরের জাতির অলস সময়গুলো কোন ভাষার দক্ষতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ? কোন ভাষার দক্ষতা আমাদের সবচেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়া সত্তেও আমরা ফলাফলে কেবল শূন্যই পেয়েছি ------- হিন্দি হিন্দি ভারতীয় মানুষের শেকড় , কিন্তু তাদের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি , বিদেশী ভাষায় তাদের দক্ষতা । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম ।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৮
সিউল রায়হান বলেছেন: আনিসুল হকের পেশা লেখালেখি কিন্তু তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার.... ঐ কথাটা লেখার কারণ হয়তোবা এটাই

তবে উনার ইনফ্লুয়েন্স লেভেল চিন্তা করে বলা যায় উনার কথাটা বলা কোনভাবেই ঠিক হয়নি, কোনভাবেই না

চলুক ভাইয়া
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৩

লেখক বলেছেন: লেখাটা পড়ো , আমার কাছে হাস্যকর লাগছে । সত্যি কথা বলতে কি , আমি উনার চরম ভক্ত না হলেও , অনেকই ভাল লাগে উনার কলামগুলো ।

কিভাবে উনি থ্রি-ইডিয়টস এর মাঝে দ্বীন-দুনিয়ার যাবতীয় প্রেসক্রিপশন পেয়ে গেলেন , সেটা কিছুতেই মাথায় আসছে না । এখনকার জেনারেশন ক্রেজে চলে , তাদেরকে এসব পরামর্শ দেয়া আত্মহত্যার শামিল ।

শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি হবে বলে দেয়া যায় ...... ইতোমধ্যেই ইয়াং জেনারেশন হিন্দী সিনেমার অনুকরণের চেষ্টার কঠিন সাধনায় মেতে আছে , তাদের সে চেষ্টার আগুনে কেবল ঘিই ঢালা হল

২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৩
এরশাদ বাদশা বলেছেন: হালার থ্রি ইডিয়টস!!!
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন: ভারতীয় মাইনাসের বানে তো ......... ডুবে গেলাম :)

৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৫
সৌম্য বলেছেন: ভাইজান, আপনি কি নিজে থ্রি ইডিয়ট দেখেননাই।

আমরা থ্রি-ইডিয়টস দেখতে পারি , এটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারি , কিন্তু আনিসুল হক্ব বললেই দোষ ?

হ্যাঁ , আমাদের বেলায় অপরাধটা লঘু , উনার বেলায় অপরাধটা অনেক বেশি গুরুতর । আমি , আপনি যে কারণেই হোক সমাজের ছোট্ট একটা অংশকে প্রভাবিত করতে পারি বড়জোর । আমি তীব্র হিন্দি প্রেম দেখাতে পারি , পাশের দেশের জন্য সুতীব্র ভালবাসাও প্রকাশ করতে পারি , কিন্তু আমার সেই প্রকাশ খুব অল্প মানুষকেই প্রভাবিত করবে । আনিসুল হক্ব যখন কথা বলেন , তখন পুরো তরুণ প্রজন্মের কাছে সে বার্তা পৌছে যায় , যাদের অনেকেই উনাদের আইডল মেনে তাদের কর্মকান্ড অনুসরণ করার ব্রতে আবদ্ধ হয়ে আছেন।

যদি আপনি নিজে থ্রি ইডিয়ট না দেখেন তবে কোন কথা নাই। কিন্তু যদি দেখেন তাইলে বলবো, শুধু লেখক হবার জন্যে একটা ভালো সিনেমা বা ভালো বই বা ভালো উপন্যাস সেটা ভাষার মাসে বিদেশী ভাষা হবার জন্যে বর্জন করবো এধারনাটাই ভন্ডামী। ফেব্রুয়ারী মাস আমাদের গর্বের। কিন্তু এই মাস এলেই আমরা দরজা বন্ধ করে রাখবো? আইজাক আসিমভ আমার খুবই প্রিয় লেখক। হ্যা হিন্দি সংস্কৃতি আমাদের যে ক্ষতি করছে সেটা হয়তো ইংরেজী সংস্কৃতির চেয়ে বেশী। কিন্তু তাই বলে আমরা হিন্দি ভালো সিনেমা দেখবো না?
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৫

লেখক বলেছেন: ১। সৌম্য ভাই , ফেব্রুয়ারিতে এসব করার ঘোর বিরোধী আমি । আমি নিজে অন্ততঃ ফেব্রুয়ারিতে আলাদা করে এক ফোঁটা আবেগও দেখাই না । তবে জানি , বাংলা ভাষার জন্য আমার আবেগটা বছর ধরেই আছে । বর্জনটা বছর ধরেই হোক , আপত্তি আছে ? আমি সারা বছরই হিন্দি বর্জন করি ।

২। ভাল সিনেমার জন্য তন্ন তন্ন করে ইন্টারনেট খোঁজা আমার একটা নিয়মিত রুটিন । অসংখ্য ফরাসী , জার্মান , ইতালিয় , জাপানীজ , রুশ , স্প্যানিশ থেকে শুরু করে ডাচ , চেক , বসনিয় , আরবি মুভিও দেখেছি , এর কোনটিই আমার জন্য আগ্রাসী না ।

কিন্তু আগ্রাসী বলে সযতনে হিন্দিকে এড়িয়ে গেছি ।
লাগান আমার খুব প্রিয় একটা সিনেমা , দেখেছি ব্ল্যাক , তারে জামিন পার , রাং দে বাসন্তী , স্বদেশ .......... কিন্তু সবগুলোই ইংলিশ সাবটাইটেল দেখে বুঝেছি । এটাকে কি খারাপ বলবেন ?

হয়ত বলবেন , ফ্লেভারের খানিকটা মিস করেছি । করিই না , প্রোবলেম কি ? সেভাবে দেখলে তো আসিমভের বইও অনুবাদ , তাই বলে আসিমভ বাদ দিব ? আমি হিন্দির আগ্রাসন নিয়ে সচেতন , কিন্তু তাদের ভাল মুভিগুলো ঠিকই খুঁজে নিয়েছি । যখন কাউকে বলেছি , সেভাবেই বলেছি , কিন্তু হিন্দিকে কিছুতেই প্রমোট করিনি । যার বেশির ভাগই মন্দ , সেটার ভাল খুঁজতে যাবার জন্য কি দ্বার পুরোপুরি খুলে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ ? যে ভাল খুঁজে নেবার সে নিজেই খুঁজে নেবে । আনিসুল হক রা ক বললেও সেটা জনগণ কলস হিসেবেই নেয় , কাজেই তাদের সাবধান হওয়াটা জরুরী

৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৬
ক্লান্ত পথিকের গল্প বলেছেন: ভাইয়া ভালো কিছু অনুকরণ করতে দোষ নেই। যদি আমরা মনে করি হিন্দি কোন কিছু থেকে আমরা ভালো কিছু পাচ্ছি আমাদের সেটা অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু আমাদের সমস্যা হল আমরা সবসময় খারাপ টাকেই অনুকরণ করি। আনিসুল হকের লেখা পড়লে বুঝবেন তিনি কিন্তু হিন্দী ছবির খারাপ দিক গুলোর বিরুদ্ধেই লিখেন। হিন্দী ছবিতে কদাচিৎ শিক্ষণীয় ম্যাসেজ থাকে। সেই দিক থেকে থ্রী ইডিয়টস ব্যাতিক্রম বলা যায়। তাই এটা থেকে যদি ভাল কোন ম্যাসেজ আমরা পেতে পারি সেটা আমাদেরি লাভ।

ভাল কাজের কোন দেশ ভাষা স্থান কাল পাত্র নেই।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন: তোমার সাথে অনেকটাই একমত , তবে এই জায়গায় আমি কনজারভেটিভই থাকবো ।

হিন্দি বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে ছড়িয়ে গেছে , যেটার মাঝে ভাল খুঁজতে গেলে , খারাপটাই অনেক বেশি হয়ে আমাকে আষ্ঠে-পৃষ্ঠে ধরবে । একটা সহজ উদাহরণ দিই ...... ঢাকার মোড়ে মোড়ে সাইবার ক্যাফে , কিন্তু বলতে কি পারি বাংলাদেশ আইটি সেক্টরে বিরাট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে গেছে ? ক্যাফেগুলোতে ঢুকে কেউ ই-লার্নিং করে ....... বা ডাটা মাইনিং বা নোলেজ বেইজ সমৃদ্ধ করা ? আমরা কিন্তু ঠিকই সাজেশন দিই ...... বলি , ইন্টারনেট ইউজ করে এই কর , সেই কর , কিন্তু কাজের কাজ কিন্তু হয় না , নেটের সামনে বসে তারা ঢুকে ঐসব সাইটেই ।

কাজেই কারও যখন খারাপ হয়ে যাবার সম্ভাবনাটাই বেশি থাকে , ভালটার কথা শুধু বলেই খালাস হয়ে গেলে হবে না । যদি পারা যায় , তার পাশে বসে তাকে দেখিয়ে দিতে হবে , না পারলে চেপে যাওয়াই কি ভাল অপশন না ?

৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: খোঁয়াড়ে পাঠানো হল ভুরসি কে
৬. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪১
অদ্রোহ বলেছেন: সাথে আছি ...

আপাতত সহমত জানিয়ে গেলাম ,পুরোটা পড়ার পর বিশদ কমেন্ট করার আশা রাখি :)
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই লিখে ফেললাম , ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে , এজন্য লেখাটা চরম এলোমেলো হয়ে গেল ।

পরে মনে হল , আরও কিছু কথা অ্যাড করি , লিখে দিয়েছি । মন টন ভাল না , ব্লগ লিখতে ইচ্ছা করে না । উমম , এইটুকুই শেষ । তোমার মতামতের অপেক্ষার থাকলাম

৭. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৫
ওরাকল বলেছেন: আমাদের এই বাংলা প্রিতীই যত নষ্টের গোড়া। হয় আগা-গোড়া বাংলায় চলুক নতুবা নয়। এই আধা খেচড়া বাংলা আমাদের দুই কূলই খাচ্ছে। না আমরা ভাল বাংলা বলতে-লিখতে পারি না ইংরেজীটা ভাল পারি।

আমার কথাই ধরুন শুধু মাত্র ইংলিশ স্কিল ভাল না হওয়ার কারনে এভারেজ মার্কা ইন্ডিয়ানগুলর সাথে পারছি না আবার আমার বাংলা স্কিলও সংগিন।

ভাল কাজের কোন দেশ-কাল-ভাষা নেই, আনিসুল হক ত আর 'থার্ড পার্সন সিংগুলার নম্বর' দেখতে বলেন নাই :)
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৮

লেখক বলেছেন: থার্ড পার্সন ----- ঐটার স্ক্রিপ্টই তো উনার লেখা ।

না বাংলা , না ইংলিশ , মাঝ দিয়ে বেড়ে ওঠা হিংলিশ , সেটার কথা পোস্টে লিখেছি । আপনার সাথে একমত এই ব্যাপারে ।

তবে , থ্রি ইডিয়টস কোন যুক্তিতে ভাল কাজ , সেটা বুঝতে পারছি না । এটা দশকজয়ীও হতে পারবে না অন্তত । হয়ত বিনোদনের জন্য ভাল , কিন্তু কতটা রিয়েলিস্টিক ? আমার কাছে অতি ভাঁড়ামি সমৃদ্ধ ফ্যান্টাসি মনে হয়েছে । একটা মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে , কিন্তু সেই মেসেজেও হাজারটা গলদ ।

বলা হয়েছে , যার যেমন ইচ্ছা ক্যারিয়ার বেছে নিতে । অথচ কারিনার বাগদত্তা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এমবিএ করায় তাকে বলা হল গর্ধভ । কারণ ? ..... একটাই (সিনেমায় সে আমিরের প্রতিদ্বন্দি , কাজেই সে যা করবে সবই ইডিয়টিক) । আর নায়ককে পাঠানো হল লাদাখে , দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সে বৈজ্ঞানিক সভ্যতা গড়ে তোলে । এসব আকাশ কুসুম কল্পনা ছোটবেলায় করতাম আমরা , তরুণরা এটা দেখে যদি ইনস্পায়ার্ড হয় , তাহলে বলতেই হবে , আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে

৮. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৫
জিগ স বলেছেন: এইখানে আনিসুলের কোন দোষ দেখতেছি না। সে একটা ছবি দেখতে বলছে, হিন্দি ভাষা কে এইখানে প্রোমোট করা হইলো ক্যামনে? সে তো বলে নাই হিন্দি শিখতে। এইটা যদি হিন্দী ছবি না হইয়া ইংলিশ ছবি বা ফ্রেন্চ ছবি হইতো তাইলে কিন্তু আপ্নে পোস্টাইতেন না। ছবিটা'র ভাষা হিন্দী হইছে তো দোষ কি? হিন্দী ছবি দেখতে বললেই হিন্দী ভাষা প্রমোট করা হয় এই মতের সাথে আমি একমত না। আপনি বলতে পারেন, "তিনি বাংলা কোন ছবি'র কথা কেন বলেন নাই?" সেই ক্ষেত্রে বলবো তার কথা'র প্রাসংগিকতার বিচারে থ্রি ইডিয়টসের কথা বলা ঠিকই আছে, তাছাড়া উক্ত প্রসঙ্গের কোন বাংলা ছবি নাই। আমি কইতেছি না যে আনিসুল মহান ব্যাক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু আপ্নের পোস্টে'র আনিসুল গীবতের সাথে ভিন্ন মতাইতেছি
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: একজন মানুষের হয়ত শতভাগ পিউর হওয়ার সম্ভব না , কিন্তু কিছু অবস্থান আছে , যেখানে আপনি ভুল যদি করেও থাকেন , সেই ভুলটা হতে হয় ঠিক করার চেষ্টার মাঝে সামন্য কিছু ভুল ।

থ্রি ইডিয়টস সত্যিকার অর্থেই যদি সেরকম কিছু হত , আমি অন্তত নিজে সেটার প্রশংসা করতে কুন্ঠাবোধ করতাম না , তারপরও আনিসুল হকের বেলায় আশা করতাম তিনি রিজার্ভ থাকবেন (অন্তত হিন্দি নিয়ে তিনি অনেক কলাম লিখেছেন) । আমি হিন্দি মুভি অনেক কম দেখি । তারপরও আমির খানের লগন , রাং দে বাসন্তী , তারে জামিন পার এবং হাল আমলের স্লামডগ মিলিওনিয়ার দেখেছি । লগন দেখে আমি রীতিমত মুগ্ধ ছিলাম , অন্যগুলোও বেশ ভাল লেগেছে । বিনোদন হিসেবে স্লামডগ বেশ ভাল , তবে অস্কার নিয়ে সংশয়টা রয়েই গিয়েছিল । শুধু বিনোদনের কথা উঠলে হয়ত থ্রি ইডিয়টস কে কিছু পয়েন্ট দিতে পারতাম , কিন্তু সেটা দিতে হত অন্য হিন্দি মুভির সাথে তুলনা করেই । যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে , বলিউডি বলয় থেকে এটাকে বের করে আনাটা সহজ না ।

যদি বলেন , এই মুভিতে দেয়া মেসেজের কথা , আমি বলব সে মেসেজটি যথেষ্টই দুর্বল এবং কন্ট্রাডিক্টরি । একটা শক্ত মেসেজ দিতে সাথে একটা শক্তিশালী উদাহরণও সেট করতে হয় । এখানে সেটার কোনটিই হয়নি । যাদের এই মুভি থেকে কিছু অ্যাচিভ করার কথা তাদের বয়সটি নিতান্ত কম নয় । ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি দেখানো হল , কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিকমত ডিফাইন করা হল না । এখানে ৪০০ প্যাটেন্ট থাকে না কারও , অন্যের প্রজেক্ট নাড়াচাড়া করেই সেটার অবশিষ্টাংশ শেষ করে দেয়া যায় না । ছোটবেলায় আমার ডেফিনিশনে ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিক এই মুভির মত ছিল , বড় হয়ে যখন রিয়েলিটি দেখেছি , তখন ছোটবেলার সেই ফ্যান্টাসি কাজে দেয়নি । মুভিতে মেসেজ দেয়া হল , যার যেটা ভাল লাগে সেটা করা উচিত । বাস্তবতা হল , খুব কম মানুষই একদম ঠিকমত জানে তার কি ভাল লাগে , তাকে বরং বটম আপ অ্যাপ্রোচে ভাল লাগিয়ে নিতে হয় ।

মুভিতে কারিনার বাগদত্তাকে বারবার গর্ধভ বলা হল , কারণ সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এমবিএ করেছে , অথচ যার যেটা ইচ্ছা সেটাই করবে , এটা বলা হচ্ছিল বারবার । তাহলে কি দাঁড়ালো , শুধু আমিরের অপজিট ক্যারেক্টার বলেই তার এমবিএ করাটা গাধামি ? ফ্যান্টাসি থেকে তাহলে বেরুতে পারলাম কোথায় ?

আর কাশ্মীরের লাদাখে গিয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ারের বৈজ্ঞানিক সভ্যতা গড়ে তোলার প্রয়াস , সেটাও রীতিমত অবাস্তব । সব মিলিয়ে যেটা দাঁড়ায় , এই মুভির কথাগুলো হয়ত প্রাসংগিক ভাবে ঠিক , বিনোদন হিসেবে দারুণ , মেকিং ভাল , চমৎকার বলিউডি মুভি , কিন্তু মুভিটা মোটামুটি অবাস্তব , যেটা থেকে কারও পক্ষে দিক নির্দেশনা পাওয়া অসম্ভব।

এটাকে কোন যুক্তিতে তিনি সিরিয়াসলি সাজেস্ট করলেন , সেটা আমার কাছেও অবাক করে দেয়া। প্রশ্নটা হল , গীবতটা আনিসুল হক না হয়ে অন্য কারও নামে , যার সেরকম ভক্ত নেই , যদি করতাম , তাহলে কি ঠিক একইভাবে তার পক্ষে দাঁড়াতেন ?

৯. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৬
হাইফেন বলেছেন: সৌম্য বলেছেন: ভাইজান, আপনি কি নিজে থ্রি ইডিয়ট দেখেননাই।
যদি আপনি নিজে থ্রি ইডিয়ট না দেখেন তবে কোন কথা নাই। কিন্তু যদি দেখেন তাইলে বলবো, শুধু লেখক হবার জন্যে একটা ভালো সিনেমা বা ভালো বই বা ভালো উপন্যাস সেটা ভাষার মাসে বিদেশী ভাষা হবার জন্যে বর্জন করবো এধারনাটাই ভন্ডামী। ফেব্রুয়ারী মাস আমাদের গর্বের। কিন্তু এই মাস এলেই আমরা দরজা বন্ধ করে রাখবো? আইজাক আসিমভ আমার খুবই প্রিয় লেখক। হ্যা হিন্দি সংস্কৃতি আমাদের যে ক্ষতি করছে সেটা হয়তো ইংরেজী সংস্কৃতির চেয়ে বেশী। কিন্তু তাই বলে আমরা হিন্দি ভালো সিনেমা দেখবো না?.
...সৌম্য বস, এইসব বালছাল কতা কইয়া লাব নাই। এমুন কুনো হাতি-ঘুড়া না ঐ থ্রি ইডিয়টস, চ্যাটের বাল টাইপ একখান রদ্দি হিন্দি ফিল্ম। এমুন কুনো বালের মেসেজও দ্যায়নাই যার লাইগা এই চ্যাটের বালরে রেফার করন লাগবো। তুমি বস যে পয়েন্ট থেকা কইতেচো এই পয়েন্টটা অনেক ইঙরেজি মুভিতে এর চে অনেক সুন্দরভাবে আইচে। তাই এই বালছাল ব্র্যান্ডিঙ এর পক্ষে স্ট্যান্ড নিয়া নিজেরে মহাবাল হিসাবে না দেহাইলেও পারতা।
আর আনিসুল হকরে লইয়া কী কমু। নিজে বুয়েটে একসময় পড়চি বইলা বুয়েটিয়ানগো প্রতি দরদ আচে, মাগার আনিসুল হক কর্পোরেট দালাল হইয়া গ্যাচে ম্যালা আগেই। দালালগো জইন্য একখান ট্রিটমেন্টই দিমু- ওগোরে ধইরা কাকড়াআলা পানিতে খাড়াইয়া রাহুনের কাম, নাইলে আন্ডারওয়ারের লগে কাকড়া বাইন্ধা রাহনের কাম।
বস তুমার ল্যাহা ভালা হইচে। লও বিড়ি লও।++++
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৮

লেখক বলেছেন: ব্যাপক কমেন্ট , অনেক হাসলাম , তার মাঝে অনেকগুলি নির্মম সত্য কথা বলে দিয়েছেন ।

বিড়ি যদিও খাইনা , তবুও সানন্দে অ্যাকসেপ্ট করলাম , পরে না হয় আপনাকেই সাধা যাবে অন্য সময় :)

১০. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫০
গিল্টিমিয়া বলেছেন: ভালোই লাগচে মৌসুমি দরদের বলকানি।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন: ওয়ালাইকুম সালাম ।
ভুল জায়গায় এসেছেন । এখানে কোন মৌসুমী ফল পাবেন না । ফেব্রুয়ারিতে মুখে ফেনা কখনও তুলি নাই , কালো জামা পড়ে মানুষ দেখানো কিছুও কোনদিন করি নাই । তবে জানি যে সারা বছর আমি একই রকম করেই ভাবি

১১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৯
হাসান মাহবুব বলেছেন: আনিসুল হক এর আগে একবার বিশাল একটা কলাম লিখসিলো মনের মাঝে তুমি ছবিটা কত ভালো ঐটার বর্ণনা দিয়া। হাহাহা! আর এখন ঐ থ্রি ইডিয়টস দেখার কথা কয়। এমনি তে নাচুনি বুড়ী তার ওপর ঢোলের বাড়ি। এই ছবি দেইখা পুলাপান কি এমন জাতে উঠবো আমি তো বুঝলামনা(অর্ধেকটা দেইখা আর দেখিনাই)। তয় হিন্দী তো প্রোমোট করা হৈতাসে ঠিকই। এইটা ঠিক যে ভালো কিছু দেশ-কাল=সংস্কৃতি মানেনা। কিন্তু তিন গর্দভের ছবি কি অতটাই ভালো? আর হিন্দী- বাংলা ক্ল্যাশ এইটা তো নতুন কিছুনা, আশঙ্কাজনক হারে বাড়তেসে। এই লোকই কৈসিলো যে ১০ বছর পরে ঢাকা শহরের তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগ হিন্দী ভাষায় কথা বলবে। সেই ব্যক্তি কিভাবে একটা সস্তা বানিজ্যিক হিন্দী ছবিকে প্রমোট করে? পোস্টে প্লাস।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩২

লেখক বলেছেন: হাসান মাহবুব ভাই ,
এই লেখাটা নিয়ে আমার যদি কোন সন্দেহ থেকেও থাকত , আপনার কমেন্টের পরে সেটা অবশিষ্ট নেই । মনের মাঝে তুমি ......... ??? হায়রে , দু'টো ভাল গান বাদে যে সিনেমা হুবুহু ৩০ বছরের প্রতিটা বাংলা সিনেমার বস্তাপচা কাহিনী ।

আজকের প্রথম আলোর লেখাটা মনে হল , আনিসুল হকের জীবন-সাফাই । অনেকদিন পর সাফাই গাওয়ার মত একটা রেফারেন্স তাকে দিল তপু , সেটা সে জনগণের উপর চাপায় দিল । মানুষের কাছে কিন্তু উনি এখন আরও পপুলার হয়ে যাবে , অনেক অনেক ছেলে আছে যারা উনার "মা" উপন্যাস ছুঁয়েও দেখে নাই , তবে ঠিকই থ্রি ইডিয়টস দেখবে ।

অনেক ধন্যবাদ কমেন্টের জন্য

১২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৩
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: হিন্দির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে কয়টা যে মাইনাস খেতে হবে!
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৩

লেখক বলেছেন: ব্যাপার না , মাইনাস পাচ্ছি মানে , একটা বিশেষ ভাষার প্রতি অনেকের মনের ভেতরের অপ্রকাশিত ভালবাসাগুলোর প্রকাশ ঘটিয়ে দিচ্ছি , মন্দ কি ?

১৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৭
শ।মসীর বলেছেন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম ।

থ্রি ইডিয়টস পর্দায় সাফল্য পায়, বাস্তবে কোন মহানয়কের ৪০০ প্যাটেন্ট থাকেনা .......বাস্তবে মিলিমিটাররা মিলিমিটার ই থাকে....ফারহানরা জবের পিছনেই ছুটে, রাজুরা ধুকে ধুকে পথ চলে......।।

বাস্তবের কর্পোরেট বেনিয়ারাই সব.......।

এই সিনেমা যা করবে তা হল কতিপয় বালকের মাথা নস্ট, পড়া লেখা বাদ দিয়া তারা গীটার নিয়া ঘুরবে দুনিয়ার সেরা গীটারিস্ট হবার আশায়...কিন্তু খেয়াল করবেনা যে বাংলাদেশের মিডিয়া এমন কিছু না যে তাকে দুনিয়ার বুকে চিনাইয়া দিবে...। ভাল পা চালাইলে যে এই দেশে ভাল খেলোয়াড় হওয়া যায়না এইটা মাথায় থাকবেনা ..........।

গরীবের সব শখ মানায়না...।

১৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১২
স্তব্ধতা' বলেছেন: হিন্দী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠিনভাবে সহমত।তবে আনিসুল হককে আক্রমণটা অযাচিত মনে হয়েছে।মুভির নামটা সাক্ষাতকারের প্রসঙ্গ ধরেই তিনি বলেছেন।এটা 'দোস্ত একটা বদমাইশ' টা্ইপের মুভিও হতে পারতো যদি আলোচনার প্রসঙ্গে আসতো।উনি হিন্দির প্রমোশনের উদ্দেশ্যে বলেননি কথাটি।অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে।

@হাইফেন:তুমি এইখানে?...তোমার কমেন্ট পইড়া যথারীতি হাহাপগে .... =p~ =p~ =p~ =p~ =p~ =p~
১৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২০
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: ভাইয়া আপনার সব গুলো কথার সাথেই আমি একমত। অনেক কিছু আমি এমন করে ভাবিনি। আপনার কথা থেকে বুঝতে পারলাম। আর অনেক গুলো কথা যে সত্যি তা আমি নিজেও জানি।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৫

লেখক বলেছেন: bojha gelo , onek buro hoye gechi

dhoriye deyar jonno thanks :)

১৭. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২১
হোরাস্‌ বলেছেন: আসলে আনিসুল হকের বলা উচিৎ ছিলো Patch Adams (থ্রী ইডিয়টসের সাথে কাহিনীর অনেক মিল আছে) মুভিটা দেখতে তাইলে মনে হয় কোন সমস্যা ছিলো না!!!

দিনের শেষে আনিসুল হক শুধুই একজন মানুষ। তার সবকিছুই পারফেক্ট হতে হবে এমন কোন দায়বদ্ধতা তার নাই। সে নিজে অন্ততঃ নেই নাই। আমাদেরও উচিৎ না সেটা তার উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: কি উচিত ছিল , সেটা চাপিয়ে না দিই । উনারই ভাল বুঝা উচিত , কি বলতে হবে ।

গতকাল আরেকবার , হিন্দি আগ্রাসনের উপর বিরাট প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি । আমার কথা হল , উনার উপর কেউ কিছু জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে না , বরং উনার পজিশনে অনেক রেস্ট্রিকশন আছে , যেটা না মেনে চলাটাই বরং স্বাভাবিকতার পরিপন্থী । সেটা উনি না বুঝলে আমরা সমালোচনা করবই ,এটা থেকে তিনি দায়মুক্তি চাইতে পারেন না

১৮. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২৮
ফারহান দাউদ বলেছেন: হিন্দিপ্রেমীদের পশ্চাদ্দেশে জ্বলন উঠিয়াছে, পীরের মুরিদরাও খেপিয়াছে। যা বলার ছিল, আইসা দেখি হাইফেন সব বলিয়া দিয়াছে, আর বিশেষ কি বলিবো? :)
১৯. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২২
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: প্রিয় মেহরাব,

আনিসুল হক গ্যানি লুক বলে ওনারা নিজেদের ব্যক্তিমতকে জনগণের জন্য শিক্ষণীয়/পঠনীয়/পালনীয় মত চালিয়ে দিতে পারেন পত্রিকার কাগজে, অন্তত গ্যানি লুকের ব্যক্তিগত জাজমেন্টের ব্যাপারে জনতার আস্থা আছে বলেই মনে হচ্ছে। গ্যানি লুকেরা আবার ক্ষেত্র বিশেষে চালবাজ, কলামে ভাব প্রকাশের স্রোত জনতমতের অনুকূলে চালিয়ে সহসা সুনাম কুড়াতেও তাদের বাধেনা, কোন দলের দালাল না হয়েও তারা আম জনতা/জনমতের দালাল।

হিন্দি ভাষা- সংস্কৃতি কি, কেন কীভাবে এসব যাচাই বাছাই করার আগে আমাদের এত শত টিভি চ্যানেল ওপার বাংলায় কোন ধরনের "সাম্প্রদায়িক ভেদ জ্ঞান" বশত নিষিদ্ধ সেটি মাথায় আনা চাই। ফেসবুকে ছেলে পেলে হিন্দি ভাষায় দুর্দান্ত ও অনর্গল "স্ট্যাটাস" দিচ্ছে, বিনোদনের প্রয়োজন আছে বৈকি।

যখন বলা হবে শুদ্ধ ইংরেজিতে হিন্দি স্ট্যাটাস খানা অনুবাদ করে দেখাও দেখি, তখন কী বোর্ড ভাঙ্গার মত শব্দ করার চেয়ে বেশি কিছু দেখা যায়না।ভারতীয়রাও তাদের সর্বস্তরে হিন্দিকে বর্জন করে বাজার ধরতে যেভাবে ইংরেজি রপ্ত করছে, সেখানে আমাদের প্রজন্মদের হিন্দি ভাষায় দক্ষতাটা বিস্ময়কর। ভাষার জন্য সংগ্রামটা উর্দুর বিরুদ্ধেই হয়েছে, হিন্দির বিরুদ্ধে হলে এতদিনে হিন্দি পছন্দ লোকদের অবলীলায় রাজাকার সার্টিফিকেট বিলাতে পারতেন। আফসোস!

পরিশেষে আমরা বুদ্ধিজীবীদের "গ্যানি লুক" বলি।
২১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৩
জনৈক আরাফাত বলেছেন: "বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম"

সম্পূর্ণ একমত।

এই বান্দি (বাংলা + হিন্দি ) আমাদের খাইলো! /:)
২২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৮
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: লেখা ভাল লেগেছে।
২৩. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২১
এরশাদ বাদশা বলেছেন: আর আনিসুল হকরে লইয়া কী কমু। নিজে বুয়েটে একসময় পড়চি বইলা বুয়েটিয়ানগো প্রতি দরদ আচে, মাগার আনিসুল হক কর্পোরেট দালাল হইয়া গ্যাচে ম্যালা আগেই। দালালগো জইন্য একখান ট্রিটমেন্টই দিমু- ওগোরে ধইরা কাকড়াআলা পানিতে খাড়াইয়া রাহুনের কাম, নাইলে আন্ডারওয়ারের লগে কাকড়া বাইন্ধা রাহনের কাম।
বস তুমার ল্যাহা ভালা হইচে। লও বিড়ি লও।+++


এই লোকটার মন্তব্য আমার লাইগ্যা নির্ভেজাল বিনুদন হইয়া দাঁড়াইচে..খ্যাক খ্যাক।
২৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২০
রোবোট বলেছেন: আনিসুল হকের লেখাও পড়িনাই। থ্রি ইডিয়টও দেখিনাই।

ওনার কাছে সিনেমাটা যদি ভালো মনে হয় সেটা যদি প্রমাণ (ওনার নিজের কাছে) করতে পারেন, আমার সেটাকে খারাপ মনে হয় না। (সিনেমাটা উর্দু হলেও তাই বলতাম)

হিন্দি আগ্রাসন - সেটা আলাদা ইস্যু। ইংরেজি গানের সুর নকল (১০০%) করা হিনদি গান। ইংরেজিটাও শুনসে, হিন্দিও শুনসে। শুইনা বলে ইংরেজিটার সুর অত ভালো হয়নাই। এমনই আগ্রাসন।

ফারহানের পোস্টে বলসি। আমরা অনেক সিনেমা দেখি। ভালো সিনেমা না। সুতরাং কাঁটার বনে শেয়াল রাজা তো হবেই।

সত্যিকারের ভালো সিনেমা হলে সেটা আগ্রাসন না। যে ভাষারই হোক।
২৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪০
ত্রিভুজ বলেছেন: বলে কোন লাভ নাই... আমাদের সবার লিভিং রুম বহু আগেই দখল হয়ে গিয়েছে। আনিসুল হক শুধু বাতাস বুঝে পাল তুলছেন, এর বেশি কিছু না। সামনে দেখো কি হয়....
২৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৪
আবু সালেহ বলেছেন:
বলে কোন লাভ নেই....আমাদের দেশের বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন...
২৭. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৬
অপরিচিত_আবির বলেছেন: আসলেই বলে কোন লাভ নেই, খোদ বুয়েটের মতো স্থানে সিভিল ফেস্টিভাল দেখতে গেলেই বোঝা যায় হিন্দী আগ্রাসন কতদূর পর্যন্ত গিয়েছে। হিন্দী নাচ আর গান ছাড়া অনুষ্ঠান নাকি জমেই না! আরে বাপ্রে এতো জমাইতে চাইলে তুমি কাশ্মীরী গান ছাড়ো, মুম্বাইয়া বীচের খটখটে রোদ্রে রৌদ্রস্নানরতা নায়িতাদের নৃত্য কেবল মানুষকে গরমই করতে পারবে জমাইতে পারবে বলে মনে হয় না।

আর থ্রি ইডিয়টস দেইখা যেইটা পণ করছি সেইটা হল আর কোনদিন পোলাপানের কথা শুনে কোন মুভি দেখুম না।
২৮. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৮
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: পনেরই অগাস্ট রাতে যখন গরু জবেহ করে শোক-উৎসব চলছিল , তখনো হিন্দি গান বাজাতে শুনেছি।
হলুদ- মেহেদী অনুষ্ঠান মানেই অশ্লীল হিন্দি গানের সাথে বাচ্চা কিংবা কিশোরী ছেলে-মেয়েদের নাচ , সিনেমার আসল নাচ দেখে প্রাক্টিস করে আসা !
পারিবারিক মূল্যবোধ কিংবা সামাজিক জীবনের ভ্যালুস গুলোর কোন বালাই নেই নাকি হিন্দি সিরিয়াল গুলোতে , এখন উচ্চমধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে সেরকম নিয়ম আর ভ্যালুস এর ভাঙ্গা -গড়া অহরহ। আবেগপ্রবন হয়ে সীমালঙ্ঘন ......

এমন আরো অনেক উদাহরণ আনা যায়.........

এ জন্যই ,
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম ।

লেখাটা ভালো , স্টাইলটা ভালো :-)
২৯. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৬
পাপতাড়ুয়া বলেছেন: কথা টা তপুর কথার প্রসঙ্গ ধরেই এসেছে।আনিসুল হক না বললেও এটা যারা দেখার দেখবেই।আর আপনি যত সিরিয়াসলি ভাবছেন,অত সিরিয়াস মুডে উনি ছিলেন না।

তবুও কথা টা এভাবে তার বলা ঠিক হয় নি।
৩০. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৩
সুবিদ্ বলেছেন: আমরা আসলে নিজেদের ভালো বুইঝাও উল্টা করি তো, কি আর হবে আমাদের
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: সেটাই । শুধু এখানে কেন , সব সেক্টরেই কিভাবে কি করলে সমাধান হবে , সবারই জানা । কিন্তু উদ্যোগটা কখনোই নেয়া হয় না ..

৩১. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০২
ভোরের তারা বলেছেন: ভাল লিখেছেন। কিছু কিছু বিষয় বেশ ভাল ভাবে তুলে ধরেছেন, যেমন ইংরেজীর ব্যপারটা। আমাদের পূর্বপুরুষদের ইংরেজীতে দক্ষতা আসলেই অনেক ভাল ছিল ।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞ আপনার কাছেও , আমার পোস্টটি পড়ার জন্য , সাথে আপনার সুচিন্তিত পোস্টের জন্য । আপনার পোস্টে যে ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন , সেগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তেমন কোথাও কেউ তুলে ধরতে দেখিনি । সমস্যার মূল খোঁজা , বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট , সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয় , এই ব্যাপারগুলো না ভেবে , আমরা অহেতুক অগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো নিয়ে মেতে থাকি ।

৩২. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৭
আবূসামীহা বলেছেন: হিন্দি কই? বলিউডের মুভিগুলোর বেশীরভাগেরই ভাষা মূলত উর্দূ। কথাটা আমার না। আমার অধ্যাপকের কথা। পাকিস্তানী ভদ্রলোক মালয়েশিনা টেলিভিশনে দেখানো হিন্দী ছিবি দেখে এসে ক্লাসে বললেন ঐ কথা।

আমি আসলে ঐ হিন্দী-উর্দূ নিয়ে মাথা ঘামাইনা। হাইস্কুলে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দেখতাম বন্ধুদের অনেকেই হিন্দী-উর্দু গান শুনছে। আমি চেষ্টা করিনি শোনার। একটু শুনলেই হয়তো বুঝাও হয়ে উঠত, কারণ উর্দূ-হিন্দীতে যে শব্দাবলী ব্যবহার করা হয় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তার আধিক্য আছে অনেক, যা পরে বুঝেছি।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় গিয়ে একবার আটকা পড়লাম। মালয়েশিয়া ফিরে আসার জন্য মেডান থেকে কোন ফেরী আসবেনা কয়েকদিন। শেষে এক পাঞ্জাবী চাচার মেহমান হয়েছিলাম। চাচা ভাল ইংরেজী পারেননা। আমি এবং সাথের বাংলাদেশী আরেক বন্ধু ভাল মালয় ভাষা পারিনা। তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা। সুবিধা হল সাথে ছিল পাঞ্জাবী সহপাঠি আনওয়ার। ওর মাধ্যমেই কথা বলা। চাচা আমাদের সাথে উর্দূতে কথা বলতে চাইলে আমি অপারগতা প্রকাশ করলাম। এতে তিনি একটু ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি বললেন ৪৭ এ তিনি যখন ভারত ছেড়ে আসেন তখন তিনিও কোন উর্দূ জানতেননা। তিনি হিন্দী সিনেমা দেখে দেখে উর্দূ শিখেছেন। আমরা কেন পারিনা -এটাই তার রাগের কারণ। আনওয়ারের মাধ্যমে জানালাম যে হিন্দী সিনেমা দেখতে আমি অভ্যস্থ নই।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৯

লেখক বলেছেন: চমকপ্রদ তথ্য !!

মজার ব্যাপার হল , ঠিক এই ব্যাপারটা আমি জানলাম মাত্র দু'দিন আগে । আমার ধারণা বেশির ভাগ মানুষই ব্যাপারটা জানে না । দু'দিন আগে এক আড্ডায় কথা উঠল হিন্দি-উর্দু নিয়ে । এক বন্ধু জানাল তার অভিজ্ঞতার কথা । সে এসব শুনেছে বিসিএস কম্পিউটার সিটির এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর কাছে , যাদের আদি পুরুষরা হরিয়ানা থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন । সেই ভদ্রলোক জানিয়েছেন , আমরা যেটাকে হিন্দি বলে জানি , সেটা মোটেও হিন্দি নয় , বরং সেটা উর্দু । দিল্লীর আশে পাশে এখনও নাকি প্রকৃত হিন্দী ভাষার অস্তিত্ব আছে , তবে আমাদের পরিচিত হিন্দির সাথে তার দূরত্ব অনেক ।

ভদ্রলোকের মতামত হল , মুঘল শাসকদের ভাষা ছিল ফার্সি , আর দিল্লির আদি বাসিন্দাদের ভাষা ছিল হিন্দি । যোগাযোগে ভীষণ অসুবিধা হওয়ায় ফার্সির ব্যাপক সংমিশ্রণে হিন্দি বদলে গিয়ে নতুন একটা ভাষা তৈরি হয় , যেটা থেকেই এখনকার উর্দু এসেছে ।এই কথাগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আমি অবশ্য নিশ্চিত নই ।

তবে , আপনার কমেন্ট থেকে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে , আমরা আসলে উর্দু শিখছি ।

উর্দু বা হিন্দি হোক , বাংলাদেশ এই ভাষার আগ্রাসনের শিকার । আমার মনে হয় , আমাদের বুদ্ধিজীবি শ্রেণী যদি অন্তত এতটুকু জানতেন যে , আমরা উর্দু শিখছি , তারা অনেক বেশি সোচ্চার হতেন । অবশ্য সেটাও বা কিভাবে জোর দিয়ে বলি ....... বাংলাদেশের অনেক অভিজাত পরিবারেই তো উর্দুতে কথাবার্তা চলে ।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ

৩৩. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৪৪
কবির চৌধুরী বলেছেন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম ।

ভাই আমি একজন নতুন ব্লগার, ভবিষ্যতে আপনার আরো লেখা আশা করি।
থেমে যাবেন না।
ধন্যবাদ
৩৪. ১০ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২০
মুনিয়া বলেছেন: যুক্তিপূর্ণ পোস্ট
৩৫. ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৩৭
কাঊসার রুশো বলেছেন: বিয়াফক ফাটাফাটি আর যুক্তিপূর্ণ পোস্ট
+++

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৮১২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নেই তবু যা আছের মতো দেখায়
আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি,
সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায়
তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ