somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্পোর্টস মিডিয়া ট্রিকস ::: ঘুরে ফিরে খেলার পাতায় একই কুমির ছানা

০১ লা অক্টোবর, ২০১০ রাত ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(খেলার পাতায় এই কুমির-ছানাগুলি প্রথম কে দেখিয়েছিল সেটা বের করা দুরূহ)

বিশ্বের সেরা কোচ, কি অসাধারণ তাহার টেকনিক
নতুন কোচ আগমন ঘটলেই সেরেছে , হোক সে ক্রিকেট বা ফুটবলের । ক্রিকেটার বা ফুটবলারের উদ্ধৃতি দিয়ে যা যা ছাপা হয় , তার সারাংশটা নিম্নরুপ :
** কোচের কমিউনিকেশন স্কিল অসাধারণ
** ট্রেনিং স্টাইল একদম অভিনব , বিশ্বে ইউনিক
** খেলোয়াড়দের সাথে বোঝাপড়াটা খুব ভাল
** ফিটনেসের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন , অতিরিক্ত সেশন করাচ্ছেন ।

একজন কোচ অভিনব হতেই পারেন , হতেই পারেন বিশ্বের সবার চেয়ে আলাদা । কিন্তু প্রশ্ন হল , এই কোচকে এক সময় অপমানজনক কায়দায় কেনই বা বিদায় করা হয় ?

কোচ বিদায় হয়ে যায় , তবে কলম থামে না । পরবর্তী নতুন কোচ আসেন , যথারীতি তিনি হন শ্রেষ্ঠতর কোচ । স্তুতিবাক্য ছিটিয়ে দেয়া হয় নতুন করে ।

প্রতিশোধের আগুন --- কি ভীষণ দাবানল
দুনিয়ার সমস্ত খেলার সমস্ত আবেগ , সব রকমের প্রতিশোধ স্পৃহা কেবল যেন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের উপর ভর করে । ১৯০৪ সালে জাপান-রাশিয়া যুদ্ধের দামামা তারাই কেবল এখনও জাপান রাশিয়া ম্যাচের আগে খুঁজে পান । প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যেসব ঘটনা সেসব জাতি গুলে খেয়ে বসে আছেন , সেসবকে জাগ্রত করতে সাংবাদিকরা ভীষণ ভালবাসেন । আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই আগামী শতবর্ষে যতবার হবে , বাংলাদেশী ক্রীড়া-সাংবাদিকরা তাতে ফকল্যান্ড যুদ্ধের গন্ধই পেয়ে যাবেন । পঞ্চাশের বিশ্বকাপে উরুগুয়ে ব্রাজিলকে ছ্যাঁকা দেয়ার যে দাগ , সেটা ব্রাজিল হয়ত ভুলেই বসে আছে , সে দগদঘে ঘা কেবলে বাংলাদেশী সাংবাদিকরাই দেখতে পান।

খেলোয়াড়দের আবেগ--কান্না--আহাজারি:
কথায় কথায় আবেগাপ্লুত হওয়াটা ক্রীড়া-সাংবাদিকদের বাতিক । ইউরোপের প্রোফেশনাল ফুটবল লীগে আবেগের মূল্য অনেক কম , পেশাদারী মনোভাবের কারণে যে কেউ যে কোন ক্লাব ছেড়েই শুধু যায় না , সে ক্লাবের স্মৃ্তি মুছেও ফেলে । কিন্তু বাংলাদেশী পত্রিকার ডটাবেজ থেকে তাকে মুছে ফেলা সাধ্য কার ? সে কারণেই দেখা যায় , বার্সেলোনা-মিউনিক ম্যাচের সময় কবে কোন কুক্ষণে মেসি , মিউনিকের কোন সমর্থকের বাসায় নেমন্তন্ন খেয়েছিলেন , সেটাকে টানাটানি করে মেসিকে আবেগ ভারাক্রান্ত বলে ঘোষনা করে দেয়া হয় ।
আবেগ কান্নার পানি ছেটানো হয় দশদিকে । মার্সেইয়ের সাথে ম্যাচের আগে দ্রগবার হাউ-মাউ কান্নার ভার্চুয়াল খবর ছাপা । মরিনহোদের মত যারা দু-চার-দশটি ক্লাব বদল করেছেন তারা যদি প্রতিবেলায় পুরনো একটা ক্লাবের কথা ভেবে ভারাক্রান্ত হয়ে যান , তখন পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে ভাবা যায় ?

বাংলাদেশ বাংলাদেশ :
সম্বোধন , সম্ভাষনের রীতিটা দেশ থেকে দেশে অনেক বদলে যায় । পাশ্চাত্যের দেশগুলির মানুষগুলো যখন জানবে আপনি বাংলাদেশের তখন বাংলাদেশ চিনুক বা না চিনুক , হাত বাড়িয়ে হাসিমুখে খানিক বিস্ময়ভরা কন্ঠে বলে উঠবে , "ওহহহহহ , বাংলাদেশ" । কিন্তু তাই বলে যদি কেউ ভেবে বসেন সাদা চামড়ার মানুষটির সাথে বাংলাদেশের অনেক ঘনিষ্ঠ স্মৃতি জড়িয়ে আছে , তাহলে সেই নির্বুদ্ধিতার জওয়াব কি ?

এসব সম্ভাষণের উপর লিখে লিখে দিস্তা দিস্তা কাগজ ভরিয়ে ফেলায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের ক্লান্তি নেই । সে কারণেই বেকেনবাওয়ার , ম্যারাডোনাকে অহরহ দেখা যায় , বাংলাদেশী সাংবাদিকের নাম শুনে প্রায় জ্ঞানহারা হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতে । এসব খবর পড়ে ভক্তরাও ভক্তি-শ্রদ্ধায় আরেক দফা জ্ঞান হারাবার উপক্রম হন। অথচ আদতে ম্যারাডোনারা বাংলাদেশ নামটা জানেন কিনা সেটা খুব বড় একটা প্রশ্ন। প্রসঙ্গক্রমে জানতে ইচ্ছে করে , আরবে যাবার পর অভিবাদন জানানোর কায়দায় আরবরা সাংবাদিকদের যে চুমু খেয়েছেন , সেটাকে প্রেম ভেবেই কি সাংবাদিকরা বেমালুম চেপে গেছেন ?

বাহারী ডাকনামে , কত রং এ , ঢং এ :
ডাকনামে ডাকাডাকি করে শোরগোল তোলাটা পত্র-পত্রিকায় নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার । বিগত দশকে যারা ফুটবল দেখেন , তারা মনে করে দেখুন , পর্তুগাল দলের কথা বলতে গিয়ে কোন ধারাভাষ্যকার "গোল্ডেন জেনারেশন" শব্দটি মুখে এনেছেন কিনা ? কিংবা "ইউরোপের ব্রাজিল" বলতে শুনেছেন কিনা ?

বিপরীতে বাংলাদেশী পত্রিকায় দেখুন , লুই ফিগো বা রুই কস্তার নাম একবার উচ্চারণের বিপরীতে "ইউরোপের ব্রাজিল" , "সোনালী প্রজন্ম" শব্দগুলো উচ্চারিত হয় কমপক্ষে ৬ বার । সাংবাদিকদের দেয়া বাহারী টাইটেল এখানেই শেষ নয় , বাংলাদেশের পত্রিকার পাতা জুড়ে ইউক্রেনের শেভচেঙ্কো নাম ছাপিয়ে হয়ে যান পূর্বাঞ্চলের রোনাল্ডো , কেউবা বসফরাসের ষাঁড় । অদূর ভবিষ্যতে গুয়াংজুর জাভি , অযোদ্ধার শারাপোভা নাম দেখলে কি পাঠক অবাক হবেন ?
২২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×