somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ৯০ দশকের বিটিভি পর্দার বিজ্ঞাপনো-পিডিয়া
"যেখানে আছে ফুল , সুগন্ধ সেখানেই.......
স্কুল থাকলে , হোমওয়ার্ক থাকবেই......
ড্রামের তালে আছে ছন্দের খেলা....
যেখানে আনন্দ , সেখানে কোকা-কোলা......
কোকা-কোলা ....."


"আকাশে তারা জ্বলবে, পাখিরা গাইবেই
সবার জীবনে তৃষ্ঞা থাকবেই
তৃষ্ঞা মেটাতে এইতো আসল ......
আনন্দ সবসময়
কোকা কোলা........"

ঠিকই ধরেছেন ।
৯৫ কি ৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত কোকাকোলার দারুণ জনপ্রিয় জিংগেল।

আরেকটু পেছনে, আমার প্রাইমারী স্কুল তথা শৈশবে জীবনে ফেরা যাক। ৯৪ এর জানুয়ারী, ভীষণ শীত , অথচ আমি অস্থির হয়ে আছি কোকা-কোলার তৃষ্ঞায় । কেবল আমার মত প্রাইমারী স্কুলের স্টুডেন্টরাই না , সেবার শীতে কোকা-কোলা তৃষ্ঞায় কাতর হয়ে রইল সারা দেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোকা-কোলার সেই মার্কেটিং প্রমোশনকে সম্ভবত আর কেউ কখনও ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

৯৩/৯৪ এর সেই বৈপ্লবিক কোকা-কোলার টিভি বিজ্ঞাপনে মডেল সিনেমার খলনায়ক জাম্বু। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় আরব্য রজনীর দৈত্য জাম্বুর কাছে গাড়ি চাইছে এক তরুণ। দৈত্য জাম্বু তাকে কোকা-কোলা খেতে বলে ।

রুপকথা নয় , সত্যিই সত্যিই। কোকা-কোলার ২৫০ এমএল বোতলের ছিপির ভেতরে স্ক্র্যাচ করলেই কপালে মিলতে পারত ৬ টি মারুতি গাড়ি , একাধিক মোটর সাইকেল সহ নানা ধরণের অসংখ্য পুরস্কারের যে কোন একটি। আমার ভাগ্যটা অবশ্য সু=প্রসন্ন হয়নি মোটেও। টিফিনের টাকা তিলে তিলে জমিয়ে খাওয়া কোকে সর্বোচ্চ দু'টাকা পেয়েছিলাম একবার।

বাংলাদেশে তাবানী বেভারেজের বিদায়ের সাথে সাথে কাঁচের বোতলে 'লিটার কোকও বিদায় হয়ে যায। কাঁচের বোতলে লিটার কোকের স্মৃতি ধরে রাখা আছে এই বিজ্ঞাপনে:



তাবানী বেভারেকের কোকের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পেপসির নিয়ন্ত্রণভার তখনও ট্রান্সকমের অধীনে আসেনি। বাংলাদেশ বেভারেজের পরিচালনায় পেপসি বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মত ,সবসময়ই তাদের বিজ্ঞাপনে তারুণ্যকে উপস্থাপন করত ।ঘরে এসে রাত-দুপুরে পেপসি চেয়ে বসা তন্বী-তরুণীর আব্দার মেটাতে গিয়ে গায়ক শুভ্রদেবের সুপার হিরো হয়ে ওঠা বিজ্ঞাপনটি এবং তার ডায়ালগ সেসময় ভীষণ জনপ্রিয় হল ।

তারও আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে করা পেপসির এই বিজ্ঞাপনটি সম্ভবত বেশ কয়েকবছর সমানভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখে ।



আপনি যদি সেসময়কার প্রজন্মের হন , তবে বিজ্ঞাপনটি না দেখাটা বোধ করি অন্যায়ই হবে <img src=" style="border:0;" /> ।পেপসির এই গুপ্তধনসম বিজ্ঞাপনটির মাঝে সম্ভবত প্রচন্ড নষ্টালজিক কোন শক্তি লুকিয়ে আছে , যার রেশ ধরে ছোটবেলায় দেখা আরও অনেক বিজ্ঞাপনচিত্র একটা একটা করে ভেসে উঠতে শুরু করল।

..........................................
বিটিভিতে গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপন তখন বেশ নিয়মিত ।

"মনে পড়ে,
মনে পড়ে , মনে পড়ে
হৃদয় মেলিতো পাখা
বাধা সব হত দূর
ছোট ছোট কথা
ভালবাসায় ভরপুর

আর মনে পড়ে রেড-কাউ,
পরিবারের পুষ্টির বন্ধন। "


কিংবা রেড-কাউ এর ৯০ দশকের গোড়ার দিকের এই বিজ্ঞাপনটি :



বাজারে তখন অস্ট্রেলিয়ার রেড-কাউ এর জয়জয়কার , তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ারই আরেক ব্র্যান্ড "ডিপ্লোমা"। দু'টো দুধই পাওয়া যেত একই রকমের হলুদ কৌটায়।

"ডিপ্লোমাআআ
দুধের সেরা দুধ ডিপ্লোমা"

সুরে সুরে দু'লাইনে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা ডিপ্লোমার বিজ্ঞাপনটিও দারুণ লাগত।

কাছাকাছি সময়ে অ্যাংকর মিল্কের সুবাদে টিভি দর্শকরা জানলো নিউজিল্যান্ড নামক দেশটির পরিচয়:

"যে দেশে গরু খায় বারোমাস
সবুজ ঘাস
সেই দেশ , দুধের দেশ নিউজিল্যান্ড"

আমরা যারা সে সময়ের সে অসাধারণ বিজ্ঞাপনটি পেয়েছি তাদের চোখে নিউজিল্যান্ড দেশটির সাথে সাথে ড্যানিয়েল ভে্ট্টরির ছবির বদলে বিশাল বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর আর তাতে চড়ে বেড়ানো গরুর ছবিটিই আগে ভাসে।

অ্যাংকর মিল্কের এই বিজ্ঞাপনটিও পেয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা:



ছোট্টমণিটির "আম্মু তুমি লক্ষীইইই" কথাটি পুরো ৯০ দশকের টিভি বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে মায়া ভরা উক্তি ।

..........................................
আপনার প্রিয় চা-পাতা কোনটি ? মির্জাপুর ? লিপটন ? টেটলি ? শ'ওয়ালেস? নাকি অন্য কিছু ?
উত্তরটা যাই হোক, "আসল চা" ছিল কিন্তু একটাই --- ফিনলে চা ।

সেসময়কার বিজ্ঞাপনে অভিনেতা আবুল হায়াতের ভাষায় -- "ফিনলে চা, আসল চা" । চা খেতে খেতে বাবার মুখে "আসল চা" কথাটি শুনে মেয়ে নাতাশা হায়াত জানতে চায় , তার বাবা কেন ফিনলে চা খাওয়ার সময় "আসল চা" কথাটি উচ্চারণ করে। মেয়েকে কথার গুরুত্ব বোঝাতে আবুল হায়াত সোজা হাজির হন সিলেটে ফিনলের চা বাগানে । ফিনলের নিজেদের বাগানে উন্নতমানের পাতা তুলে বাগানেই প্যাক করা হয় এসব কিছু দেখানোর পর আবুল হায়াত আরেকবার বলেন "ফিনলে চা , আসল চা"

"আসল চা" জিনিসটা ফিনলের ট্রেড-মার্ক হয়ে যাবার পর ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে, ফিনলে একই কথা ব্যবহার করে এই বিজ্ঞাপন তৈরি করে , এবার মডেল হলেন আফসানা মিমি।



অন্যদিকে , "নকল চা" কোম্পানীগুলোও বসে রইল না <img src=" style="border:0;" /> । "আসল চা" হওয়াই তো শেষ কথা নয়, ভাল চা তো হতে হবে। নোবেল যেমন বলতেন এইচ-আর-সি চা দিয়েই টি-ব্রেকটা নিতে:
Take take ...take a break...
take e hrc break.......

অথবা বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া "ডানকান চা" এর সেই অসাধারণ বিজ্ঞাপনটি:




..........................................
শুধুই কি চা হলেই চলবে? সাথে চাই ভাল কনডেন্সড মিল্ক ।
৯৪ এর দিকে বিটিভিতে সেসময় ব্লু-ক্রস কনডেন্সড মিল্কের মেলোডিয়াস সুরের ইংরজি ভাষার একটি বিজ্ঞাপন বেশ মনে ধরেছিল।

দশকের মাঝামাঝি সময়কার স্টার-শিপ কনডেন্সড মিল্কের হৈ-হল্লোড়ে ভরপুর সেই:

"বেশি স্বাদ, বেশি স্বাদ , বেশি কাপ চা
স্টার-শিপ মানেই বেশি কাপ চা"

বিজ্ঞাপনটি সেসময়কার সব দর্শকের মনে থাকার কথা ।

৯০ দশকের শেষদিকে ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্কের বাংলায় ডাব করা ভারতীয় এই বিজ্ঞাপনটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।




..........................................
কসমেটিকসের বিজ্ঞাপনের মাঝে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ম্যানোলা ক্রিমের সুরেলা সেই বিজ্ঞাপনটির কথা:

"ম্যানোলা মানে টলমল শিশিরের লাবণ্য
ম্যানোলা মানে কমনীয় সুরভী অনন্য।"

সেসময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার পেছনের কাভার-পাতায় ম্যানোলার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। সম্ভবত ৯০ দশকেই ম্যানোলা কসমেটিকস ফ্যাক্টরিটি বন্ধ হয়ে যায়।

৯০ দশকের মাঝামাঝি কি শেষ সময়ে বাজারে এলো কেয়া কসমেটিকস। প্রথম দিককার প্রায় সবক'টি বিজ্ঞাপনে নোবেল-মৌ জুটিবদ্ধ হলেও আমার কাছে সেরা ছিল কেয়ার সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপনটি । মৌ বিহীন সে বিজ্ঞাপনে নোবেলের সাথে জুটিবদ্ধ মডেলটির নাম মনে নেই , কিন্তু সুরেলা জিংগেলটি আজও ভেতরে বাজে :

"তারারা হারায় , হারায় চাঁদের আলো
তোমার চুল এমন আঁধার কালো

ভালবাসা মানে তুমি আর আমি শুধু দু'জনেই.....
ভালবাসা মানে দু'জনেই কবি"

ঝাকড়া চুলের মডেল ফয়সাল(জয়া আহসানের স্বামী) সে সময়েই কিউট রোমান্সের এই অ্যাডটি করে দারুণ আলোচিত হন:



বিজ্ঞাপনের কথাগুলো আর সুর ছিল অসাধারণ , অনেক অনেকদিন মনে রাখার মত :

"তুমি ছাড়া আমি যেন আমি নই, অন্য মানুষ কোন....
সৌরভে অনুভবে তুমি ................।
তুমি আছো তাই , প্রতিদিন কোমলতা পাই ।
রোমান্স ........."

দাড়ির মাজেজা শৈশবে ঠিকমত বোঝা দায় বলে মডেল শিমুলের বিপুল জনপ্রিয় "কুল শেভিং ক্রিমের" বিজ্ঞাপন দেখে বিরক্তই হতাম । তার চাইতেও বেশি বিরক্ত লাগত সুন্দরী মডেল ফারদিনের করা "তিব্বত ল্যাদার শেভিং ক্রিম" এর এই বিজ্ঞাপনচিত্রটি :



আলিফ-লায়লার মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতিতে মেরিল বেবি লোশন এর অ্যাডের কথাগুলো মুখে মুখে ফিরত :

"তু রু রু তাত-তা
উল লি লি লি পাপ্পা ...।।।। উম্মা
জু জু জু জা ।।।।। সোনাজাদুমনি
পা রা প্পা পা , পারাপ্পা
সোনাজাদুমনি লে, সোনাজাদুমনি লে"

তিব্বত বেবী লোশনের এই বিজ্ঞাপনটি মেরিলের মত জনপ্রিয়তা না পেলেও এটির সূত্র ধরেই মেরিল বেবী লোশনের স্মৃ্তিগুলো সাড়া দিল:



ডেটল বা স্যাভলনের বিজ্ঞাপনগুলি এখনও কমবেশি এমনই রয়ে গেছে:




..........................................
৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে কমার্শিয়াল ব্রেকগুলোর একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল নানান প্রিন্টের শাড়ি।
শাড়ির বেশির ভাগ বিজ্ঞাপন ছিল সলো , অর্থাৎ মডেল কেন্দ্রিক । ৩০ সেকেন্ডে শাড়ির প্রশংসা সম্বলিত জিংগেলের সাথে ইনডোর সেটে মডেলরা যতসংখ্যক বেশি শাড়ি পড়ে কখনও আঁচল উড়িয়ে , কখনও বা পাখির মত হাত প্রসারিত করে , কিংবা আঁচল চারদিকে ছড়িয়ে মাঝে চুপটি মেরে বসে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতেন। বিটিভির পর্দায় , বিশেষ করে শুক্রবারের বাংলা সিনেমা চলাকালে বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে বিজরী বরকতুল্লাহ নন্দিনী প্রিন্ট শাড়ি পড়ে হাজির হতেন:



সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হত ঢালিউডের তৎকালীন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী "দিতি"র পাকিজা প্রিন্ট শাড়ির এই বিজ্ঞাপন-চিত্রটি:



জনী প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপনে শাবনূরকে দেখা যেত স্টেজ কাঁপিয়ে দ্রুম-দ্রুম নাচ নাচতে। সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি পড়তেন সুন্দরী মৌসুমী,
বিজ্ঞাপনের সুরে:

"প্রিয় প্রিয় প্রিয়,
সুন্দরি সুন্দরি সুন্দরী........
প্রিয় প্রিয় সুন্দরী
সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি সুন্দরী"

বৌরানী প্রিন্ট শাড়ির বিজ্ঞাপনটি ছিল দারুণ মজার। অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীর শা্র্টের পেছনে বৌরানী শাড়ি কেনার নোটিশ সেঁটে দেয় স্ত্রী । অতঃপর , যার সাথেই দেখা হয় ........

"আপনার স্ত্রীর জন্য বৌরানী প্রিন্ট শাড়ি কিনতে ভুলবেন না কিন্তু।"
--"ঘরের কথা পরে জানলো ক্যামনে?"
"এই যে, এ্যামনে"

গায়ক আগুনের কন্ঠে
""তুমি সেই তুলনাহীনা
অপলক আমার এ নয়ন
চেয়ে থাকে শুধু সারাক্ষন""

জিংগেলের সাথে অভিনেত্রী বিপাশার করা জনী প্রিন্ট শাড়ির অপর আরেকটি বিজ্ঞাপন অন্য শাড়ির বিজ্ঞাপনগুলো থেকে কিছুটা হলেও আলাদা ছিল ।

................................................
বিপাশার করা এই বিজ্ঞাপনটি


অন্য আরেকটি বিজ্ঞাপনের কথা খুব মনে করিয়ে দেয় , সেটি ছিল মধুমতি লবণের বিজ্ঞাপন।

রান্নাঘরে ত্রস্ত পায়ে প্রবেশ করে স্ত্রীকে নতুন একটা লবণের প্যাকেট দেয় স্বামী।
নতুন লবণ দেখে.....
---ও লবণ , নাম কি ?(একটু ভাব নিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে স্ত্রী)
-মধুমতি (স্বামী , একটু কাশি দিয়ে)
---তফাৎটা কি ? (গলায় ঝাঁজ টেনে স্ত্রী)

স্বামী রান্নাঘরের বাতি অন আর অফ করতে থাকে ক্রমাগত । স্ত্রীর চাহনিতে প্রশ্ন, এর অর্থ কি?

এরপর সুরে সুরে শুরু হয় স্বামীর পার্থক্যের বর্ণনা :

- "রাত আর দিন ভাই , রাত আর দিন
মধুমতি লবণে আছে আয়োডিন

লবণটা মিহি ভাই , লবণ মিহি
মধুমতি
তফাৎটা তাই আয়োডিন "

................................................
শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে বিটিভিতে প্রচারিত টারজান, মোগলী কার্টুন কিংবা স্পেল-বাইন্ডারস সিরিজের ফাঁকে অবিচ্ছেদ্দ্য অংশই যেন হয়ে গিয়েছিল বাটার সেই বিজ্ঞাপন:
"I wanna gain,
We go out of range
I am going to be formal
I am going to be normal
I am going for style
We are going for smile
I am changing my look,
Going by the book,
I all for design
We are for the new line
I am going for fashion,
To makes a passion,
We making the write book,
I am to the groove,
we are going for sweet
We are going for making......
Bata papa bata papa bata............."

পরবর্তীতে বাংলায় বাটার স্লোগান হল -- "পায়ে পায়ে বাটা"। সেই স্লোগানসম্বলিত তুলনামূলক সমসাময়িককালের একটি বিজ্ঞাপন :



একই সময়ে ছোটদের মাঝে দারুণ ক্রেজ তৈরি করেছিল কেডসের গোড়ালিতে আলো জ্বালা

জাম্প, জাম্প , জাম্প কেডস

এর বিজ্ঞাপনটি।

হারিয়ে যাওয়া রূপসা চপ্পলের কথাই বা বাদ দিই কি করে ? চপ্পলের প্রচলন আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেলেও সেসময়টায় চপ্পলই ছিল আপামর জনসাধারণ প্রথম পছন্দ

সমুদ্র-সৈকতে চপ্পল পড়ে একদল ছেলেমেয়েকে রূপসা চপ্পল পড়ে লাফ-ঝাঁপ , সাথে মাথা নাড়িয়ে গেয়ে যাওয়া সেই :
"রুপসা রুপসা রুপসা,
নরম নরম হাওয়াই চপ্পল রুপসা"


................................................
সেসময় রঙের বিজ্ঞাপনের জিংগেলের ব্যবহারে নতুন মাত্রা আনলো রোমানা , ওদের বেশ কিছু বিজ্ঞাপন খুব জনপ্রিয়তা পেল।

রোমানার প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল:

"দেখো দেখো দেখোরে রঙেরই বাহার
দেখো রোমানার বাহার"

আরও দেখুন তো মনে পড়ে কিনা:

""সময়তো বদলায়
বদলায় বদলায় মন
মনের গভীরে আছে চির আপন
রোমানা আপন রঙ , চির আপন""

বাজারের অন্যান্য অনেক রঙের থেকে খারাপ কোয়ালিটি হওয়া সত্ত্বেও কেবল বিজ্ঞাপনের জোড়ে রোমানা পরিণত হল সর্বাধিক বিক্রিত রঙে ।

টিভি স্ক্রীণে রোমানার সাথে বিজ্ঞাপন-যুদ্ধে অংশ নেয়া পেইলাকের
""রং রং রং রং রং
পেইলাক মনের মত রং""

বা অ্যাকুয়া পেইন্টসের এই বিজ্ঞাপনটিও বেশ সমাদৃত হয়েছিল:




..........................................
""যুগের সাথে চলো
ইকোনো লিখে ভাল
ইকোনো সবার প্রিয়
ইকোনো বলপেন""

আক্ষরিক অর্থেই পুরো ৯০ এর দশক জুড়ে বাংলাদেশ ইকোনো দিয়ে লিখে গেছে। পাশাপাশি ছিল "রাইটার বলপেন" , কিংবা প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবালের মডেলিং করা :

""সাব্বাস!!
বলপেন ক্যাম্পাস।।
লেখে ভাল, চলে ভাল...
বলপেন ক্যাম্পাস ...সাব্বাস!!""

৯৩/৯৪ এর দিকে অলিম্পিক বলপেনের এই অ্যাডটি নিয়মিতই দেখা যেত :


দশকের শেষভাগে "অলিম্পিক বলপেন"ও বেশ ভাল বাজার পায়।

................................................
ডালডা , বনস্পতি ঘি এর কথা এখন বলতে গেলেই শোনাই যায় না , অথচ সে সময়কার বিজ্ঞাপুনগুলিতে এসব বেশ দেখা যেত, যার মাঝে অন্যতম ছিল "পাঞ্জা বনস্পতি"র এই বিজ্ঞাপনটি:




আরও ছিল রেড-কাউ বাটার ওয়েল:

খাবার টেবিলে কথপোকথন:
"--আচ্ছা ভাবি , তোমার হাতে কি জাদু আছে? (দেবর/ননদের প্রশ্ন)
-জাদু আমার হাতে নেই , আছে অস্ট্রেলিয়ার রেড কাউ বাটার ওয়েলে ।মা-ই তো আমাকে শিখিয়েছেন।
**বউমা ঠিকই বলেছেন , রেড-কাউ বাটার ওয়েলে রান্না করলে... (শ্বাশুড়ি)
## হ্যাঁ, রেড-কাউ বাটার ওয়েল আমিই তো কিনি (শ্বশুর)"

..........................................
ঢাকায় রিয়েল এস্টেট তথা নিজের ফ্ল্যাটের ধারণাটি জোরেশোরে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে ৯০ দশকের শুরুর দিকেই। তার ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইসলাম গ্রুপের কিছু বিজ্ঞাপন টিভিতে প্রচারিত হত । কিন্তু রিয়েল এস্টেট বিজ্ঞাপনের প্রথম চমকটা প্রথম নিয়ে আসে বেক্সিমকো গ্রুপ। ৯৮ কি ৯৯ এ টিভিতে প্রচারিত তিনটি বিজ্ঞাপন সে সময়কার দর্শকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। শুধু তিনটি বাক্য দিয়েই আলাদা করে বিজ্ঞাপন তিনটি এখনও বেঁচে আছে।

"সুন্দর বাড়ি হলো, এবার সুন্দর দেখে একটা বউ আন"



"এই যে শোন! ব্রিজের কন্ট্রাক্টটা পেয়ে গেলাম



"বাড়ী?? আমার জন্য বাড়ী ?"




................................................

যে দু'টো বিজ্ঞাপনের কথা না বললে ৯০ দশকের বিজ্ঞাপনোস্মৃতিচারণ অসম্পূর্ণ রয়ে যায় , তার একটি হল মিতা নূরের সেই


"আলো , আলো , বেশি আলো"র অলিম্পিক ব্যাটারির বিজ্ঞাপনটি।

অন্যটি হল:
বাতির রাজা ফিলিপস



অসম্ভব মজা পাওয়া যে বিজ্ঞাপনটিকে ক্লাসিকের মর্যাদা দেয়া যায় , সেটি হল ফেরদৌস ওয়াহিদ( হাবীব ওয়াহিদের পিতা) এর খুশখুশে কাশি দূরকারী ম্যাটসিলস লজেন্সের টিভি কমার্শিয়ালটি :




......................................................
এমন কোন বিজ্ঞাপন কি ছিল যেটি সে সময়ের গন্ডিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল । আমার চোখে সেরকম একটি বিজ্ঞাপন ছিল -- নিউ জড়োয়া হাউজের বিজ্ঞাপন। জুয়েলার্সের বিজ্ঞাপনের চিরাচরিত ধারা থেকে বেরিয়ে নিউ জরোয়া হাউজের বিজ্ঞাপনটি পেয়েছিল নতুন মাত্রা। ৯৬ বিশ্বকাপ ক্রিকেট, বিশ্বকাপ ফুটবল বা এশিয়া কাপের মত বড় আসরের ফাঁকে বারবার স্ক্রীণে ভেসে আসা আসাদুজ্জামান নূরের আবৃত্তিতে বিজ্ঞাপনের জিংগেলটি সে সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে দিয়েছিল বিজ্ঞাপনটিকে



"তুমি সুন্দর
সূর্যের তীব্রতায় জ্বলে উঠো
খরতাপ মুছে দিয়ে বর্ষার প্রশান্তি নামাও
হাসিতে তোমার
শরতের রুপে তোমারই হাসির সুর
হেমন্তের ঝরা পাতায় তোমার বন্দনা
নিঃসঙ্গ শীতের মত তুমি অচেনা সুদূর
বসন্তের যৌবন তুমি হে সুন্দর আমার"







----------------------------------
কৃ্তজ্ঞতা : ব্লগার আমিন শিমুল , যিনি আমার আধো মনে থাকা ভীষণ লম্বা জিংগেলগুলো অবিশ্বাস্য স্ম্বতিশক্তি সহ ধরে রেখেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29512607 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29512607 2011-12-30 03:24:44
স্মৃতিচারণ:: সংকঁট যঁখন চঁন্দ্রবিন্দু
"চন্দ্রবিন্দু"র প্রতি আমার গভীর ভালবাসাও সেই পিচ্চিবেলার বর্ণশিক্ষার প্রথম পাঠ থেকেই।মানুষ যে কারণে আইপড ভালবাসে, যে কারণে যুগে যুগে ভোক্সওয়াগন ভালবেসেছে , ঠিক সে কারণেই আমিও চন্দ্রবিন্দুকে আমার মন দিয়েছিলাম। আকারে ছোট, ভীষণ কিউট আর চাঁদ-তারাসদৃশ মুখশ্রীই কেবল নয় , অন্য আর কোন বর্ণটি আছে যাকে বাকি বর্ণেরা মিলে মাথায় তুলেও রাখে?

বাংলা ভাষাকে মায়াবী করে তোলার পেছনেও চন্দ্রবিন্দুর অবদানের শেষ কোথায়? চন্দ্রবিন্দু বিহনে "হাতি শুঁড় তোলে"র বদলে যদি বলতে হত "হাতি সুর তোলে", কেমন লাগত বলুনতো ? সঠিকভাবে চন্দ্রবিন্দু প্রয়োগ করতে জানাটাও একরকম শিল্প , সে শিল্প ঠিকমত প্রয়োগ না করতে পারলে হতে পারে ঘোরতর সংকট।শৈশবের বাগধারা শেখার দিনগুলিতে এমনতর চন্দ্রবিন্দু সংকটে পড়ে কি বেহাল দশাটাই না আমার হয়েছিল , সেই গল্পই না হয় বলি ।


বাংলায় একটি বাগধারা আছে "গুড়ে বালি" , তা বোধ করি সবাই জানেন, (আখ/খেজুর)গুড়ে বালি থাকাটাও কতটা মর্মান্তিক তাও জানেন।শৈশবে বাগধারাটি প্রথম শেখার পর , শুধু তার অর্থই জানতাম তা নয়, সেটা দিয়ে চমৎকার বাক্যও রচনা করতে পারতাম। কিন্তু কোন এক কারণে বাগধারাটির শাব্দিক অর্থ আমার কাছে রহস্যাবৃত রয়ে গেল। কথ্য বাংলায় "গুঁড়ো" কে "গুঁড়ে" বা "গুঁড়া"ও বলা হয় । কিন্তু উচ্চারণের সময় ভূত-তাড়ানো মনোভাব থেকে নাকিসুর বর্জনের চেষ্টায় "চন্দ্রবিন্দু" টা অনেকেই উহ্য রাখেন । "গুঁড়া দুধ" তখন হয় - "গুড়া দুধ" , সোজা সাপ্টা ইংরেজি যার "Powder Milk" । যাই হোক , যেভাবেই হোক , আমি "গুড়ে বালি"র গুড়কে সোজা গুঁড়া সাব্যস্ত করে "গুড়ে বালি" কে উল্টে পাল্টে শাব্দিক অর্থটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম।ফলাফল যা দাঁড়ালো, Powder Sand থেকে "গুঁড়া বালি" আবার সেখান থেকে Powder Sand , এই বৃত্ত থেকে বেরুতেই পারলাম না।বালি তো এমনিতেই গুড়া গুড়া সেটা আলাদা করে বলার কি আছে , কিছুতেই সে কথা মাথায় খেলতো না । অনেক চেষ্টার পর জোড়াতালি দিয়ে একটা ব্যখ্যা অবশ্য দাঁড় করানো গেল। এক বিকেলে ঘরের পাশে কনস্ট্রাকশনের জন্য রাখা বালুর ঢিবি থেকে হাত ভরে এক মুঠো বালু নেয়ার পরই হাতের ফাঁক গলে সবটুকু বালি ঝরঝর করে ঝরে গেল। বাগধারার নিগূঢ় অর্থও বোধ করি সেই মুহূর্তে টলটলে পরিস্কার হয়ে গেল।ভেবে দেখলাম , বালি ভেজা হলে বিনা বাক্য ব্যয়ে আপনার হাতের মুঠোয় বন্দীদশা মেনে নেবে ।কিন্তু শুকনো "গুড়া গুড়া বালি" আপনার সমস্ত ধ্যান-জপ-সাধনা বরবাদ করে দিয়ে হুড়মুড় করে হাত গলে বেরিয়ে যাবে,ঠিক তেমনি কোন ইচ্ছা বা চেষ্টা অহেতুক/হুদাহুদি/নিরর্থক ভাবে করার নামই "গুড়া বালি" ।


চন্দ্রবিন্দু সংক্রান্ত সংকট "গুড়ে বালি" তেই সীমাবদ্ধ রইল না, আছড় পরল অন্যান্য বাগধারার উপর। এর মাঝে একটি হল "গাঁয়ে মানে না , আপনি মোড়ল" ।সেবার চন্দ্রবিন্দু আমার চোখকে ফাঁকি দিল,আমি পড়লাম "গায়ে মানে না আপনি মোড়ল"। তারপর বহু বহুদিন আকাশ পাতাল ভাবলাম , কিসে থেকে কি হল , "গা=শরীর" মানে না "আপনি=You" মোড়ল কোথেকেই বা এল , কোথায় বা গেল ? বাক্য রচনা আর অর্থ যথারীতি এটারও জানা ছিল , শুধু কোথায় যেন সংযোগ করতে পারতাম না। এটার ব্যাখ্যাটাও শেষ পর্যন্ত বের হয়েছিল । তবে সেটা বেশ নাটকীয়ই বটে, বর্ণনা করতে গেলে আপনাদের কল্পনাশক্তি মোটামুটি পরিপক্ক হতেই হবে। ধরুন , দু'জন লোক সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে, প্রথম লোকটি বেশ বিবেকবান , কর্মঠ, চেহারায় ঝড়ে পড়ছে নূরের আভা। দ্বিতীয়জন রীতিমত অকর্মণ্য , গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিসিমের লোক, তবে গায়ে গতরে বেশ তাগড়া , ফিক ফিক করে ভিলেনী হাসি হাসে ,খোঁচা দাড়ি বিশিষ্ট মাঝ বয়েসী। কথা ছিল, সমাজ প্রথম মানুষটিকেই সেরার সম্মান দেবে, কিন্তু "একদিন সব কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়া" স্টাইলে দ্বিতীয় লোকটিই কোন ভাবে এলাকা জুড়ে প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করল । মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিবেকবান লোকটির সমস্ত শরীর কাঁপছে বিবেকের তাড়নায় , কিছুতেই সে মানতে পারছে না , তার "গা=শরীর" মানছে না , তারপরও অনেক কষ্টে সে বশ্যতা শিকার করে দ্বিতীয় লোকটিকে বলল "স্যার আপনিই মোড়ল" । ব্যাস হয়ে গেল "গায়ে মানে না , আপনি মোড়ল"।



এই চন্দ্রবিন্দু দুর্বিপাকের ঘনঘটায় আরও বেশ ক'টি বাগধারা আমার কল্পনাশক্তি কর্তৃক নির্মমভাবে হয়রানির শিকার হল , তার মাঝে একটি না বললেই নয়, সেটি হল -- "মরার উপর খাঁড়ার ঘা" । আমি কোন এক অজানা কারণে জেনেছিলাম, "মরার উপর খোঁড়ার ঘা" । কল্পনায় যে ছবিটা আঁকতাম সেটি এমন -- "কেউ মরে গেছে , পড়ে আছে তার লাশ । কোন এক খোঁড়া লোক অবিরাম লাথি মেরে চলছে সে লাশে" -- কি বীভৎস । খোঁড়া লোক লাথিই মারতে পারবে না এমন কোন কথা নেই , তবে হাতে মারাটাই তার সাথে বেশি মানানসই। তার চেয়েও বড় কথা কিছুতেই ভেবে পেতাম না শেষ পর্যন্ত মারামারিই, বীভৎসতা আর চরম বিপদই যদি বুঝাতে হয়, তবে খোঁড়াকেই কেন আমদানি করতে হবে? তারপর নিজেকে প্রবোধ দিলাম,মনের মাঝে গড়লাম তার ব্যখ্যা, দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালো-- "খোঁড়া লোকের পা ছোট , বা অকেজো , কিন্তু সেই পা-তেই তার অসীম শক্তি সঞ্চিত হয়ে আছে, ঠিক যেমন অটিস্টিক বাচ্চাদের মাথা ভর্তি থাকে গণিত। সেই পায়ে সে হাঁটতে পারে না বটে, কিন্তু একবার যদি পা তুলে কষে একটা লাথি মারতে পারে , তাহলে জীবন্ত মানুষের লাশ হতে সময় নেয় না" । একবার যদি সেটা ঘটেই যায় , খোঁড়া লোকের রাগ তাতেও পড়বে না , সে মেরেই যাবে , মেরেই যাবে , লোকে বলবে "মরার উপর খোঁড়ার ঘা"।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29452711 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29452711 2011-09-22 06:03:56
মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে যেসব বিজ্ঞাপন (পর্ব-২ Marlboro Man)
এভাবেই চলছিল অনেকদিন । ৫০ দশকের শুরু থেকে ধূমপান নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা হঠাৎই বেড়ে যাবার পর অন্যান্য অনেক সিগারেটের ব্র্যান্ডের মতই Marlboro ও নিয়ে এলো ফিল্টার সহ শলাকা। আমেরিকায় May মাসের আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক , সেটার সাথে মিল রেখেই ফিল্টার সিগারেটের জন্য তাদের স্লোগান হল -- Mild as May ।

একে তো গায়ে গতরে নারীর তকমা , তার সাথে মে মাসের লাবণ্য যোগ হয়ে Marlboro হয়ে উঠল পুরোদস্তুর রমনীয় কমনীয় সিগারেটের প্রতীক। উপরন্তু কিছু মানুষের মাঝে ধারণা ছড়াল , ফিল্টার দেয়া সিগারেট মানেই লেডিস ভাবসাব। Marlboro তখন সবেমাত্র চেষ্টা করছে পুরুষদের বিশাল বাজার করায়ত্ত্ব করতে। কিন্তু ৩০ বছরের লেডিস ভাবসাব রাতারাতি ঝেড়ে ফেলাও চাট্টিখানি ব্যাপার না।

Philip Morris ভেবে দেখলেন , মধ্যবয়েসী দের মাঝে এ সিগারেট চালানো যাবে না, তাদের হাজার করে বললেও হাফ-লেডিস , ফুল-লেডিস গালই কপালে জুটবে। তার চেয়ে কিশোর বা তরুণদের মাঝে যারা সিগারেট ধরাচ্ছে তাদেরকে কোনভাবে পাকড়াও করতে হবে। ফিল্টার চালু করা অন্য কোম্পানীগুলো তখন একই রাস্তায় হাটছে , সবাই কাগজের বিজ্ঞাপনে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রতিযোগিতা করে গল্প বলছে ফিল্টার কি করে নিকোটিন আটকে, জীবনশক্তি বাড়িয়ে তোলে ।

নিজের পরিকল্পনার কথা বিজ্ঞাপন নির্মাতা Leo Burnett Co. কে খুলে বললেন Philip Morris। Leo Burnett ঠিক করলেন নতুন কিছু করবেন , ফিল্টার আর স্বাস্থ্যের কথা শুনতে শুনতে আপাতত সবাই ত্যাক্ত বিরক্ত। তার চেয়ে দুষ্ট কিছু কি করা যায়?কিশোর বা সদ্য তরুণর ছেলেরা কি চায় ? -- উন্মাতাল জীবন , বাবা মায়ের বন্ধন থেকে মুক্তি , পৌরষদীপ্ত কঠিন চাহনি -- এই তো।

ব্যস আইডিয়া পেয়ে গেলেন Burnett।কয়েক বছর আগে Life magazine এ ছাপা হওয়া এক Texan Cowboy এর ছবিটা তার মাথায় গেঁথেই ছিল । ঠিক করে ফেললেন , তামাটে বর্ণের কঠিন চোয়ালের Texan Cowboy, মাথায় কাউবয় হ্যাট আর হাতে ঘোড়ার লাগাম ধরে Marlboro ধরাবে। সেই যে Marlboro Man এর জন্ম হল , আর পেছনে ফিরে তাকাতেই হল না ।

নারী থেকে রাতারাতি বীরপুরুষে পরিণত হওয়া Marlboro কে নিয়ে মাঝের সময়টায় হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরেছে অন্য সিগারেট কোম্পানী সহ ধূমপান বিরোধী সংস্থা গুলো। কিছু সিগারেট নামল নিজেদের আরও বেশি পুরুষ প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় । Chesterfield সিগারেট ,টেক্সাসের বাবা আমেরিকাকে টেনে বলল "“Men of America” smoke Chesterfields" । Old Gold সিগারেট বলল , তাদেরকে পোড়ালে স্বাধীন মানুষের মত চিন্তা করা যায়। এসব করে তাদের বিক্রি-বাট্টাও বাড়ল বটে , কিন্তু Marlboro তখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। দু'বছরে তাদের বিক্রি বেড়ে গেল ৩০০ শতাংশ। কি করি , কি করি ভেবে প্রতিদ্বন্ধীরা তখন পিছু নিল Marlboro Man মডেলদের। ফলাফলও এসে গেল অবিশ্বাস্যভাবে । ৩ জন Marlboro Man -- ওয়েইন ম্যাকলারেন , ডেভিড ম্যাকলিন আর ডিক হ্যামার পরপর মারা গেলেন ফুসফুসের ক্যান্সারে। বাকিরা হৈচৈ করে Marlboro কে ডাকতে শুরু করল "Cowboy killers"। Philip Morris তখন রীতিমত বলেই বসলেন , "ম্যাকলারেন কোনদিন Marlboro Man ছিল না , কোন বিজ্ঞাপনও সে করেনি" । Marlboro Man শব্দের দাপট তখন এত বেশি , সব প্রমাণ বাতাসে মিইয়ে গেল।


৫০ টি বছর একটানা কেটেছে সেই দাপট নিয়েই । ঈগল পাখির দৃষ্টি নিয়ে , ১৯৯৯ পর্যন্ত সারা বিশ্বের বিলবোর্ড আর ম্যাগাজিনগুলোতে Marlboro এর ধোঁয়া ছেড়েছেন টেক্সান কাউবয় Marlboro Man রা-ই।




--------------------------------------------------------------------
প্রথম পর্বের লিংক:
মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে যেসব বিজ্ঞাপন (পর্ব-১) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29437122 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29437122 2011-08-23 10:36:20
আমার ফুটবল-স্মৃতি (পর্ব-২) "France was saved by her school elude students" ছোটবেলায় পড়া দৈববাণীটা অনেকদিন আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত।স্কুল পালালে জগত কি করে উদ্ধার হয়, সে রহস্য ভেদ করতে লেগেছিল পাকা একটি দশক।তাই বলে নিজের পালানো থেমে রইল না। আমার নিজের জীবনটাই তখন আমার জগৎ, সে জগৎ উদ্ধার করতে পারলে মন্দ কি?স্কুলে যাই না, তাতেও বা কি , সবার চোখ এড়িয়ে ঘর পালানো যে আরো বেশি রোমাঞ্চকর।

আমার বাবা সে সময়টায় কান মলায় কিংবদন্তীতূল্য। মনের সাথে যুদ্ধ করে , শেষমেশ কানের মায়া ত্যাগ করে বাসার পেছনের জানালা দিয়ে বাইরে ঝুলে পড়তাম দুপুর আর বিকেলের পালাবদলের ফাঁকে। অনেক দিন পরে বুঝলাম, জগতের কোন মঙ্গল না হলেও ,এমন করে পালানোই চোখ খুলে দিল একবার।

ঘটনার শুরুটা এভাবে-- কথা ছিল এক বন্ধুর সাথে পাহাড়ে মাশরুম তুলতে যাব। তার বাসায় গিয়ে দেখলাম তাহার মোঘলাই বাবা কোন জাদুমন্ত্রবলে ঘরে বসে আছেন।সূর্য সবে তখন পশ্চিমে হেলি হেলি করে,এমন ভরদুপুরে তার বাবার মত কর্মক্ষম লোকের ঘরে থাকাটা ভীষণ বেমানান। খাপ্পা মেজাজটা সামাল দিয়ে কি যেন কিসের নাম করে ঢুকলাম বন্ধুর বাসায়। এমনিতে বিদেশী হিসেবে আমার যথেষ্ট কদর ছিল, সুবোধ বালক হিসেবেও নাম-ডাক ভালই ছিল । ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতির প্রশ্নই আসে না, তবে আমার সৌজন্যে আংকেল তার সাথে আমাদের দু'জনার খেলা দেখার সুযোগ করে দিলেন।

দুঃখ ভুলে গেলাম নিমিষেই , এ যে আকাশী-সাদার আর্জেন্টিনা । বিপক্ষের দেশটার নাম জানি , কিন্তু তাদের খেলা কেমন তা নিয়ে কোন ধারণাও নেই আমার , জার্সির রংটাও ভাল লাগেনি। এত কিছু ভেবে কাজ কি? সারাদিন আর্জেন্টিনা-চর্চা করি, কিন্তু পুরোপুরি খেলা দেখছি তাদের সেদিনই সম্ভবত প্রথম।এত দিনের জানাশোনা থেকে শুধু জানি আর্জেন্টিনা জিতবে, আর্জেন্টিনা সবার সাথে জেতে , সব ম্যাচ জেতে।

খেলা শুরু হল , কমেন্ট্রিতে অদ্ভূত টান , তন্ময় হয়ে কমেন্ট্রি শুনছি, ভাষাটা অচেনা , ভীষণ মায়াবী। অবাক করা ব্যাপার হল , আকাশী-সাদারা খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না , ক্যাটকেটে রঙের জার্সিওয়ালারা বারবার এপাশ ওপাশ দিয়ে সাঁড়াশি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে । তারপর হঠাৎ গোল , কমেনটেটর এর ঝাড়া এক মিনিট ব্যাপী চিৎকার------ "গোওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওলললললললললল"। শেষ পর্যন্ত খেলাটা ড্র হল ১-১ এ ।

ছোটবেলায় মানুষের ভাবনাগুলো ভীষণ অদ্ভূত হয় , ঠিক সেটাই যেন ঘটল আমার বেলাতেও ।মনের ভেতর হাজার প্রশ্ন:: "আমার স্বপ্নের দলও না জিতে পারে ? ক্যাটকেটে রঙের জার্সি পড়া ছেলেগুলি কারা ? কোন দুঃসাহসে ওরা জিততে বসেছিল?কমেন্টেটর রা কোন ভাষায় কথা বলছিল ? গোলের পর কি করে পারল ওমন সুন্দর করে শ্বাস বন্ধ রেখে গোওওওল বলতে ?"

সেই শুরু , একটু একটু ভাল লাগার শুরু। ক্যাটকেটে রঙের সেই ব্রাজিল।

ফুটবল নিয়ে নেশাটা তখন তুঙ্গে উঠতে যেন শুরু করেছে , কার্টুন দেখার সময়টা ভাগ করে ফুটবলের পেছনেও দিতে শুরু করেছি । কিছুদিন পরেই ৯৩ এর জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসল ৪ জাতি ফুটবলের আসর । ব্রাজিল,জার্মানী,ইংল্যান্ড,যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানীর শক্তিমত্তা নিয়ে আমার ধারণা বেশ উঁচুতেই ছিল , চুরি করুক আর যাই করুক , বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বলে কথা , অজেয় আর্জেন্টিনার বাইরে বলতে গেলে বোধ হয় একটা দলকেই চিনতাম।
See video

আমার বাবা জার্মানীর ফ্যান , তাই ইংল্যান্ডকে দেখতে পারেন না মোটেও, সেখান থেকেই ফিরিঙ্গিদের নিয়ে দু'চার ছত্র শুনেছি । হাবে ভাবে বুঝলাম ইংল্যান্ড দলটাও বেশ ত্যাঁদড়। আর আছে সেই রহস্যময় ব্রাজিল । সবগুলো খেলাই সেবার সরাসরি প্রচারিত হল ইরান টেলিভিশনে।

ব্রাজিল-জার্মানীর খেলায় জার্মানী জিতবে ধরেই খেলা দেখতে শুরু করলাম। প্রথমার্ধটাও শেষ হতে পারল না, রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । ব্রাজিল ততক্ষণে ৩-০ গোলে এগিয়ে গেছে । মাঠ জুড়ে ৩/৪ জন ব্রাজিলীয়ানের কারিকুরিও মস্তিষ্কে গেঁথে যেতে শুরু করেছে ততক্ষণে -- মাঝে কারেকা , একপাশে মুলার , অন্যপাশে ছোটখাট মতন বেবেতো । লিডটা যদিও ধরে রাখা গেল না শেষমেশ । শেষ ৭/৮ মিনিটে গোল খেয়ে ফলাফল হয়ে গেল ৩-৩ ।

জিতল না কেন , সে কথা তখন আমি মোটেও ভাবছি না। ভাবছি তখন অন্য কথা , কোন গ্রহ থেকে এল তবে এই ফুটবল দল ?অজেয় দল আর্জেন্টিনাকে যারা প্রায় হারিয়ে দেয় । ভীষণ স্পর্ধায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানীকে আধা ঘন্টার মাঝে দিয়ে বসে তিন গোল ? দু'টো মাত্র ম্যাচ, বাস্তবিক অর্থে আমার স্মৃতির খাতায় আঁকা প্রথম দু'টো পুরো ৯০ মিনিটের ম্যাচ , আমার পুরো দৃষ্টিভঙ্গী বদলে দিল


আর পেছনে ফিরে তাকানো হল না কোনদিন , সেই যে সম্মোহিত হলাম , ব্রাজিল ছাড়া আর কারও কথা ভাবতে পারিনি।



পাদটিকা:
ইন্টারনেট ঘেঁটে পরে জেনেছি সেই ম্যাচগুলোর সময়কাল: আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী , বুয়েন্স আয়ের্সে আর্জেন্টাইন ফুটবলের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক টুর্নামেন্টে । ব্রাজিল-জার্মানীর খেলাটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে চারজাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে । দিনটি ছিল ১০ জুন , ১৯৯৩ কারেকা ছিলেন ১৯৮৭ সাল থেকে ৯৩ সালের মাঝে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। ন্যাপোলিতে ম্যারাডোনা যে ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন , সে দলটিতে কারেকার ছিল অনন্য ভূমিকা। মুলার ছিলেন ৯০ দশকের শুরুর দিককার ব্রাজিল দলের ফরোয়ার্ড। বেবোতোকে কি পরিচয় করিয়ে দেয়ার দরকার আছে আর ? আর হ্যাঁ , বলার অপেক্ষা রাখে না , প্রথম খেলার কমেন্ট্রির ভাষা ছিল স্প্যানিশ । ল্যাটিন কমেন্ট্রির ধাঁচটাই অন্য সবার থেকে সবসময় আলাদা , ইংরেজি-ফার্সি কমেন্ট্রিতে অভ্যস্ত কারও কানে ল্যাটিন কমেন্ট্রি প্রথমবার ভীষণ অদ্ভূত লাগারই কথা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29385394 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29385394 2011-05-23 07:55:40
আমার ফুটবল-স্মৃতি (পর্ব-১) "বন্ধু আমার ৯০ বিশ্বকাপ নিয়া আমার বাড়ির সামনে দিয়া রঙ্গো কইরা হাইট্টা যায় -- ফাইট্টা যায়, বুকটা ফাইট্টা যায় ।

ফুটবল স্মৃতির গোড়াপত্তনটা হয়েছিল ৯০ এর আরও বছর দুয়েক পরে । ৯২ এর কথা । আপাদমস্তক ফুটবল পাগল দেশ হিসেবে ইরানকে চিনিয়ে দেবার কারণ নেই , সেই ফুটবলাড়ম্বর পূর্ণ দেশে ফুটবলের জন্য আমার ভালবাসাটাও এল ঝড়ের বেগেই। ছোটাছুটি করতে শেখার পর খেলা যা খেলতাম ঘুরে ফিরে সেই ফুটবলই , কিন্তু দুনিয়ার কে কোথায় এইসব খেলা খেলে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকে, সেসব বুঝতে শুরু করলাম ৯২ এ এসেই ।

আমার বাবা যে হসপিটালে কর্মরত ছিলেন সেটার সদর দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ডানদিকে কোণাকুনি তাকালে একটা পাহাড় দেখা যেত , প্রতি বিকেলে আমরা পিচ্চিরা প্লাস্টিকের বল নিয়ে সেই পাহাড়ের ঢালে যেতাম ফুটবল খেলতে । ৯২ এর কোন একদিন পাহাড়টা পেট বরাবর চিরে ফেলে রাস্তা তৈরি করার জন্য অনেক হসপিটালের কম্পাউন্ডেই মোতায়েন করা হল বেশ কিছু বুলডোজার। বুলডোজারগুলো বেশ কিছুদিন পর যখন চলে গেল , পেছনে ফেলে গেল পাহাড়-চেরা চওড়া পিচঢালা রাস্তা। সে রাস্তা দিয়ে গাড়ি যেত হাতে গোনা দু'চারবার । মানুষজন না থাকলে মাকড়শা যেমন জাল ফেলবে , আমরা ছানা পোনারা রাস্তাটাকে পুরোদস্তুর বৈকালিক স্টেডিয়াম বানিয়ে ফেললাম ।

সময়টা তখন আর্জেন্টিনা-ঝড়ের । ফুটবল নিয়ে ইরানের সর্দি-জ্বর লেগে থাকে যেখানে বারোমাস , সেখানে আর্জেন্টিনা ঝড়ের ভাইরাল থাবা থেকে মুক্ত থাকার সুযোগটাই বা ছিল কোথায় ? খেয়াল করলাম আর্জেন্টিনা নিয়ে দু'চারটা তথ্য দিতে পারলে বন্ধুরা বেশ সমীহের চোখে তাকায় । নানান দেশ নিয়ে এমনিতেই আমার চিন্তার অন্ত ছিল না , এসব চিন্তা চেতনার বীজ ঢুকিয়েছিলেন আমার বাবা । একদিন তাই ম্যাপের নীচ থেকে শেখা আকাশী নীল পতাকা , সাদা খাতার পৃষ্ঠাজুড়ে এঁকে বন্ধুদের মাঝে বিরাট ফুটবলার(!!!) বনে গেলাম ।

এর মাঝে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু নাসের একদিন মায়ের সাথে শহরে গেল । শহর থেকে যখন ফিরল নীল-সাদা জার্সি গায়ে, পেছনে গোটা গোটা হরফে লেখা ম্যারাডোনা , সাথে জ্বলজ্বলে নম্বর -- ১০ ।

ছোটবেলায় কাউকে দেখে কখনও হিংসা হত এমনটা ঠিক মনে পড়ে না , কে কি কিনল সেসব নিয়েও ভাবতাম না , কিন্তু নাসেরের জার্সিটা দেখে জীবনে যেন প্রথম কোন অপূর্ণতা অনুভব করলাম ।

এর কিছুদিন পর আব্বু আমাকেও ম্যারাডোনার একটা জার্সি এনে দিলেন , কিন্তু সে কথা জানল না বন্ধুদের কেউই। আমাদের পিচ্চিদের ফুটবল সাম্রাজ্যে একক অধিপতি রয়ে গেল নাসেরই ।তাড়াহূড়া করে কিনতে গিয়ে নীল-সাদা না পেয়ে আব্বু কিনেছিলেন লাল-সাদা জার্সি । সে জার্সির গায়ে ম্যারাডোনা বানান ঠিকই ছিল , নম্বরটাও ছিল ঠিকঠিক ১০ , আমার শুধু ছিল না লাল রঙা প্যারাগুইয়ান ম্যারাডোনা হয়ে আকাশী-নীলের নাসেরের সামনে দাঁড়ানোর সাহসটা ছিল না ।

কিছুদিন পরে আমরা নাসেরদের শারভিনাহ ছেড়ে ট্রানসফার হয়ে অন্য শহরে চলে এলাম । প্লাস্টিকের বলের বদলে এবার আমার একটা রাবারের বল হল , সাথে বর্ধনশীল শরীরে ম্যারাডোনার ছোট্ট পোষাকটাও হয়ে গেল খানিক আঁটসাঁট ।তবুও আমার বন্ধুদের কারও জার্সি নেই বলে রোজ বিকেলে টেনেটুনে প্যারাগুয়ের জার্সি পরা আমিই সবার ম্যারাডোনা হয়ে উঠলাম ।

৯৩ সালের কথা । ইরান টেলিভিশনে বলতে গেলে রোজই একটা না একটা ফুটবল খেলা দেখানো হয় , আমার বাবার সাথে আমিও নিয়ম করে খেলা দেখতে বসতাম । বিশ্বকাপ ৯০ এর খবরাখবর তদ্দিনে জানতে শুরু করেছি । ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে বিকেলে বিশ্বের ফুটবলের হাল-হকিকত নিয়ে যেসব আলাপ হত , সেটা কোন অংশেই নিখিল বিশ্বের পিচ্চিদের হাস্যকর আলাপের চেয়ে আলাদা হত না । ওদের কাছে শুনে শুনে বদ্ধমূল ধারণা হল আর্জেন্টিনা বাদে পৃথিবীতে ফুটবল খেলতে জানে এমন কোন দেশই নেই । আরও জানলাম চোর-বদমায়েশের দলটির নাম জার্মানী , যারা চুরি করে ঘুষ খাইয়ে রেফারীকে হাত করে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে । আমার বন্ধুদের মাঝে কিছু জার্মানীর ভক্ত ছিল , হয়ত তারা তাদের বাবা বা বড় ভাইয়ের কথা শুনে জার্মানীর ভক্ত বনে গিয়েছিল , জার্মানীর চৌর্যবৃত্তির কথায় তাদেরকেও কেমন যেন অনুতপ্ত দেখাত । অনুতাপ আমারও ছিল বটে --- আমার বাবা জার্মানীর সাপোর্টার । জেনে শুনে কি করে আব্বু এই চরিত্রহীন দলটিকে সমর্থন করেন , সেকথা ভেবে খারাপ লাগত ।

দেশে ছোট চাচার কাছে ফুটবলের গল্প করে একবার চিঠি লিখলাম । চাচা ম্যারাডোনার ছবিসহ একটা পোস্টকার্ড পাঠালেন , যেখানে ম্যারাডোনা কাঁদছেন , আর বাংলায় বড় বড় হরফে লেখা -- "রেফারীর কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও"।

ম্যারাডোনার অশ্রু দেখে আমার মনটা সিক্ত হয়ে গেল , বিশ্বের একমাত্র ফুটবল খেলুড়ে দেশ আর্জেন্টিনার সমর্থক না হওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায়ন্তর রইল না ...........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29365900 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29365900 2011-04-20 07:46:41
ক্রিকেট স্মৃতি:: রাবণের পুনর্জন্ম পর্ব
ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম পত্রিকার পোকা , খেলার পাতাগুলি পড়তে পড়তে যেমন উইপোকার মত কাটতাম , তেমনি খেলার রেজাল্ট মুখস্থ করে , খাতায় লিখে বা কাউকে বলে জাবর কাটতাম গরুর মত।

৯৪ সালের কথা , ভোরবেলা ইত্তেফাক আসত , আমি জীবনে প্রথম বাংলা পত্রিকা পড়ছি । ইত্তেফাক বরাবরই খেলার খবরে ফাঁকি দিত , দেশের বাইরের খেলাধুলা নিয়ে যা এক আধটা খবর থাকত সেটাও ক্রিকেট নিয়ে । খবর পড়ে পড়ে ক্রিকেট জ্ঞান বাড়াতে মনযোগ দিলাম ।

স্কোরকার্ড আর রেজাল্ট দেখে ক্রিকেট বুঝা চাট্টিখানি কথা নয় । সবচেয়ে খটকা লেগে যেত রানসংখ্যা দেখে । একদল যদি করে ২০৭ , বেশিরভাগ সময়ই বিপক্ষ দল করে ২০৮ । আমি ভাবি , একি আজিব অলৌকিক সুলেমানী ব্যাপার স্যাপার ? একদল যে স্কোর করে আরেকদল কি করে ঠিক তার এক বেশি স্কোর করে ? বলা দরকার , দু'দল আলাদা করে ব্যাটিং করে সে কথাটা তখনও জানা হয়ে ওঠেনি , ফুটবলের মত ক্রিকেটকেও আমি ভাবতাম ৫/৬ ঘন্টার খেলা , যেখানে দু'দল হাতাহাতি করে সময় সুযোগ বের করে যার যার মত রান বাড়িয়ে নেয় ।

ক্রিকেট-কান্ডের এহেন বেহাল দশা অবশ্য খুব বেশিদিন স্থায়ী হল না । মোটামুটি ৫/৬ মাসের মাঝে ক্রিকেট খেলার অলি-গলি চেনা হল তো বটেই , অলি গলির পক্ষ প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাল একটা ধারণা হয়ে গেল ।

৯৪/৯৫ এর সে সময়টায় ক্রিকেট খেলত মোটে ৯ টি দেশ । জিম্বাবুয়ে দলটি তখন ৯ নম্বরে , তাদের কম্ম ছিল সবার কাছে নিয়ম করে হারা । নিয়মিত হারলেও জিম্বাবুয়ে ফেলনা দল ছিল না , গো-হারার বদলে তারা চেষ্টা করত সম্মান রেখে ছাগ-হার হারত । শ্রীলংকা দলটি তখন ৮ নম্বরে । তাদের যত ওস্তাদি , পন্ডিতি মোটামুটি সবই চলত জিম্বাবুয়ের উপরে । বাকি দলগুলি শ্রীলংকাকে খানিক বেশি সমীহ করত বলে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ছিনিমিনি খেললেও লংকার মানের দিকে খেয়াল রেখে তাদের নিয়ে ছিনিমিনির বদলে কিঞ্চিত সম্মানজনক ছোটখাটো ছেলে-খেলায় মেতে উঠত।

ক্রিকেট খেলার ধাঁচটা তখন অন্যরকম ছিল বটে । কোনদল ২৪০ করলেই বিজয় নিশ্চিত ভেবে গোঁফে তা দিত , কখনও কেউ ভুলে ৩০০ করে ফেললে আমরা বিস্ময়ে ভাষা হারাতাম । আর ২০০ করলে চড়া গলায় বলতাম -- "ফাইটিং স্কোর"

পুরো ৯৪ সালটি জুড়ে আমার ক্রিকেট শেখার পর ৯৫ সালেও শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় দুধ-ভাত টিমই রয়ে গেল । ক্রিকেট বিশ্বের বড় ৭ টি দেশের যত রাগ , যত ক্ষোভ , যত ঝড় যেন এই লংকা আর জিম্বাবুয়ের ওপর । কারও ফর্ম খারাপ হলে ফর্ম ফেরাতে শ্রীলংকা, টানা সিরিজ হারার কষ্ট ভুলতে শ্রীলংকা , আর রেকর্ড করতে চাইলে জিম্বাবুয়ে ।

আমার জীবনের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ -- ৯৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাস চারেক আগের ঘটনা । ৯৫ এর অক্টোবরে শারজাহ বসল ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট , অংশ নিল পাকিস্তান , শ্রীলংকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ । শারজাহকে পাকিস্তান তখন ভাবে মামার বাড়ি , আর শারজাহর কাপগুলি যেন তাদের বাপের বাড়ির সম্পত্তি । টুর্নামেন্টে বাজি ধরার মত কিছু যদি থেকে থাকে , তবে সেটা একটাই -- তিন নম্বর বাচ্চা শ্রীলংকাকে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কে কত বেশি ধোলাই দেবে।

লংকাকে আমি তখন ডাকতাম মেহনতী-মুটে-মজুরের দল । মুটে মজুররা ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় করেছিল বলশেভিক বিপ্লব । মেহনতী শ্রীলংকা হয়ত ভাবল এই অক্টোবরে তারাও বিপ্লব করবে । প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়ার পর খানিক বিস্মিয়ের জন্ম দিল , কিন্তু "সাম টাইম শিট হ্যাপেনস" ভেবে কেউই সেভাবে গুরুত্ব দিল না । ক্রিকেট বিশ্ব তখনও জানে না কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে । শ্রীলংকা ইন্ডিজের ম্যাচটিতে মনে হল লংকা-ধোলাইয়ের পুরনো প্রচলিত ইনসাফি নিয়ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সময়টায় ৩০০ রান যেখানে প্রবাদ-প্রতীম , শ্রীলংকাকে মেরে ধরে ইন্ডিজ করে ফেলল ৩৩৩ । বিপক্ষ শ্রীলংকা বলে আমরা কেউ অবাক হলাম না । লংকানদের আস্পর্ধা সব সীমা ছাড়িয়ে ৪৯.২ ওভারে পৌঁছে গেল ৩২৯ রানে । ভাগ্য সেদিন অবশ্য সহায় হল না , জিততে জিততেও হেরে গেল তারা। কিন্তু টনিক সেবার পেল শ্রীলংকা স্রষ্টাই জানেন , ফাইনাল সহ পরের দু'টি ম্যাচে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারল নৃশংস কায়দায় ।

রাবণদের পুনর্জীবন দেখে আমি রীতিমত উল্লসিত হয়ে উঠলাম , শারজাহ-বিস্ময়ে তখন আমার চোখে ঘোর কাটেনি। ক্রিকেট দুনিয়া তখন খানিক নড়ে চড়ে বসলেও ভাবল লংকা-ভেল্কির সেই শেষ , সারাজীবন জিম্বাবুয়েকে হারানো দলটির বেলুন ফুটো হতে কতক্ষণ ?

ডিসেম্বরে শ্রীলংকা গেল অস্ট্রেলিয়ায় , বিতর্কে আর উত্তেজনায় ভরা অনন্য একটি সিরিজের জন্ম। মুরালিধরণের বলে নো ডাকায় শ্রীলংকা মাঠ ছেড়ে শুধু বেরোলই না , অস্ট্রেলিয়াকে ২ ম্যাচে হারিয়ে সিরিজও ড্র করে ফেলল ।

আমি তখন ছোটমানুষ , ক্রিকেটের মারপ্যাঁচ বুঝি না । শুধু বুঝি একটা দল ২/৩ মাসে হঠাৎ আহত বাঘের মত একের পর এক শিকার করে চলেছে । বিপুল জোশে বন্ধুদের বললাম , শ্রীলংকাই চ্যাম্পিয়ন ।

বোদ্ধারা অবশ্য আবেগের লাগাম হারালেন না , শ্রীলংকাকে হিসেবের মাঝে রাখলেন না প্রায় কেউই, স্যার রিচার্ড হ্যাডলি শুধু নিচু স্বরে বললেন -- "ডার্ক হর্স"

উপমহাদেশের মাটিতে ৯৬ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসছে । হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়ার কি হল , লঙ্কায় যেতে ভয় লাগে , তামিলরা যদি মারে -- এসব হেন-যেন-তেন কারণ দেখিয়ে তারা লংকায় যাবে না বলে ঠিক করল । পরের দিনই তাদের পথ ধরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ । গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার বড় ম্যাচ প্রতিপক্ষ বলতে রইল কেবল ভারত ।

ভারতের বিরুদ্ধ খেলাটি হল দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে । শচীন টেন্ডুলকারের অনবদ্য ১৩৭ রানের উপর ভর করে ভারত সেদিন সংগ্রহ করল ২৭০ রান । ১৯৯৬ সালে , ২৭০ রান চেজ করা রীতিমত অসম্ভবতম কাজগুলির একটি । খেলার মাঝ বিরতির পর টিভি খুলতে খানিক দেরী করে ফেললাম -- যে বিস্ময়কর ঘটনা দেখলাম টি-২০ এর যুগে সেটা বুঝিয়ে বলার সাধ্য নেই আমার । ৪.২ ওভারে শ্রীলংকা ১ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তুলে ফেলেছে , স্কোর ঠিকমত দেখছি কিনা , সেটা বুঝতে আমার আদতেই দু'চারবার চোখ কচলাতে হল । ২৫ , ৩০ না , একেবারে ৪৯ রান । পাঠকদের অবগতির জন্য বলি , প্রথম ৪ ওভারে ২৫ রান তুললেই তখন ধরা হত স্বপ্নীল সূচনা , ২০ রানকে হলে অনবদ্য ।সে ম্যাচটি জিতেই ছাড়ল শ্রীলংকা , ৭ নম্বরে নামা হাশান তিল্কারত্নে করলেন অপরাজিত ৭০ ।

অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লংকার রাগটা গিয়ে পড়ল বুঝি কেনিয়ার উপর , কেনিয়া সবে তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে , সেসবের কোন তোয়াক্কা করল না লংকানরা । কেনীয়দের চাবকে তুলল তৎকালীন রেকর্ড ৩৯৮ রান ।

ক্রিকেট দুনিয়া তখন একটু নড়ে চড়ে বসেছে ।অন্য দলগুলির কাছে লংকা দলটি তখন হয়ে উঠেছে মহাযন্ত্রণা , দলটির ৮ টি উইকেটের পতন ঘটিয়েও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায় না , ৯ নম্বরে নামেন কুমারা ধর্মসেনা । ১ থেকে ৯ পর্যন্ত লম্বা সলিড ব্যাটিং লাইন আপ । প্রথম ৫ ওভারে বলকে পিটিয়ে দড়ির ওপারে আছড়ে ফেলে ৫০ রান না তুললে যেন জয়সুরিয়া - কালুভিথারানার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়।

জয়সুরিয়া শব্দটার মার-দাঙ্গার মিলেমিশে গেছে বিশ্বকাপ শুরুর পরেই , ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়সুরিয়া শব্দটির অর্থ যেন আরেকবার বদলাল -- ইংল্যান্ডের বোলারদের নাকির পানি , চোখের পানি একাকার করে জয়সুরিয়া বল অন্তত দু'বার বল আছড়ে ফেললেন বিশাল আকৃতির স্টেডিয়ামের ছাদে ।

ফ্যান্টাসীর জগতে বিচরণ করতে থাকা লংকাকে সেমিফাইনালে মাটিতে নামাবার দায়িত্ব নিল ভারত । ইডেন গার্ডেন প্রাঙ্গনে ১ লাখ ১০ হাজার দর্শকের সামনে জয়সুরিয়া-কালুভিথারানা যখন প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন ,লংকান স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ১ । অনেকেই ততক্ষণে , কলম দিয়ে খাতায় লংকা নামটি কেটে দিয়েছেন , কিন্তু পুনর্জন্ম পাওয়া রাবণের ১১ মাথার মোটে তো দু'টো কাটা গিয়েছে । ৩ নম্বরে নেমে অরবিন্দ ডি সিলভা ৬৬ রানের ইনিংসটি কি মোহনীয় ছিল , সেটা লিখে বোঝানো সত্যিই দুষ্কর । আদর্শ ক্রিকেট বুকে স্থান করে নেবার দাবীদার ১৪ টি বাউন্ডারির প্রতিটি যেন ইঞ্চি ইঞ্চি করে মাপা , নিপুণ কারিগের সযতন হাতে মেপে মেপে আঁকা যেন প্রতিটি শট। ২৫১ রানের টার্গেট নিয়ে ভারত যখন নামছে , তখনও কেউ জানেনা কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য । ২ উইকেটে ৯৯ পর্যন্ত পৌছুল ভারত...

আচমকা ঘুরতে শুরু করল জয়সুরিয়া - মুরালি - ধর্মসেনার বল , এরপর ইডেন গার্ডেনে ঘুর্ণি-ঘূর্ণি-ঘূর্ণিঝড়। ঘোর কাটতে না কাটতেই ভারতবর্ষ দেখল ১২০ রানে ৮ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরত গেছেন । সম্বিত ফিরে পাওয়া দর্শকদের গ্যালারি থেকে মাঠ বরাবর ছুটে আসল বোতল , পটকা আরও অনেক কিছু । , খেলা শেষ হল না ... , ইডেনের কপালে সেঁটে গেল কলংকের দাগ

লংকান রুপকথার শেষ বাক্যটি লেখা হল তার তিনদিন পর, বিশ্বকাপ ৯৬ এর ফাইনালে , ধ্বংসযজ্ঞের সর্বশেষ শিকারের খাতায় লেখা হল অস্ট্রেলিয়ার নাম...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29355508 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29355508 2011-04-02 12:50:49
সময়ের ডায়েরী-১ এক
দেশে থাকতে আমার বসের মাসের অন্তত দু'সপ্তাহ কাটতো ওয়াশিংটনে। প্রতিবার দেশে ফিরেই কি করবেন সেটা মোটামুটি মুখস্থ হয়ে গেল । উস্কখুস্ক চুল আর লালাভ চোখ নিয়ে প্রথম মিটিংয়ে বলবেন -- "আমার জেটল্যাগ কাটেনি"। বারবার শুনতে শুনতে জেটল্যাগ খাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা হালকাভাবে মাথাচাড়া দিল।

ডিসিশান নিলাম উচ্চশিক্ষার্থে জেটল্যাগ খাবো ।মার্কিন মুল্লুকে পাড়ি জমানোর যাত্রাকালটা ছিল ৩০ ঘন্টার । ঢাকা থেকে রওনা হলাম রাত সাড়ে আটটার দিকে । দু'টো ট্রানজিট বাইরাইন আর লন্ডনে , তার মোটামুটি পুরোটাই ব্যস্ততায় কেটে গেল । প্লেনেও ঘুম হল না । ৩০ ঘন্টায় মোটে ঘুম হল ১ কি দেড় ঘন্টা । ডালাস এসে পৌছুলাম দুপুর আড়াইটায় । মাঝে যে ৩০ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে ঠিক টের পেলাম না , মনে হল আগেরদিন রাতে রওনা হয়ে পরের দিন দুপুরে পৌছেছি । ঘুম হয়নি যখন এত দীর্ঘ সময় , ঘরে গিয়ে আচ্ছামতন একটা জেটল্যাগ খাওয়া তো যাবেই । কিন্তু বিধিবাম , আমার বন্ধুরা এই সেই করে জাগিয়ে রাখল রাত ১২ টা পর্যন্ত । তাদের সাফ কথা , একবার জেটল্যাগের খপ্পরে পড়লে ৭/৮ দিন দফারফা হয়ে যেতে পারে, কাজেই মধ্যরাতের আগে নো ঘুম । অনেক শখের জেটল্যাগ খাওয়া হল না আর ।

এখানে আসার পর মনে করে করে দেশের অনেক মানুষকে ফোন করি , দেশে থাকতে যাদেরকে করা হত না , তাদেরকেও । ফোন করা হয় মূলত সন্ধ্যার পরে , বা সকালে । সন্ধ্যার পরে করলে প্রথমবার বেশিরভাগ(মুরুব্বী যারা তারা তো অবশ্যই) অবধারিতভাবেই জিজ্ঞেস করেন:
"ভার্সিটিতে যাও নাই?"
আমি বলি -- "না যাই নাই , এখন রাত"
--ওহহ , কয়টা বাজে তবে?

এরপর যতবারই ফোন করি করি , "কয়টা বাজে?" প্রশ্নটা শুনতেই । উইন্টারে বেশ সুবিধা ছিল । বাংলাদেশের সময়ের সাথে এখানকার সময় মিলে যেত বলে কেউ আর কথা বাড়াতো না। কিন্তু সামারে কথা আরও দীর্ঘ হয় ।
আমি বলি : "জ্বী , ১০ টা বাজে"
ওপাশ থেকে --"আমাদের এখানে ৯ টা , তাহলে কতক্ষণ পার্থক্য"

প্রথম প্রথম হিসাবে গোলমাল হয়ে যেত , এখন মুখস্থ বলি -- ১১ ঘন্টা পিছিয়ে আছি।



দুই
খানিক শিবের প্যাঁচাল অবতারণা করি । বুয়েটে ঢোকার পর নানান কিসিমের আতঙ্কে বুয়েটিয়ানদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হয় , ক্লাসটেস্ট , অ্যাসাইনমেন্ট, সেশনাল , টার্ম ফাইনাল বলে শেষ করা দায় । অবাক ব্যাপার হল , এসব কিছুই নস্যি হয়ে যায় একটি নামের কাছে -- "সোনালী ব্যাংক" । ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা একেকজন মূর্তিমান বিভীষিকা । ঢিমে তেতালা , আঠারো মাসে বছর -- এসব বাগধারা অনেক আগেই তারা গুলে খেয়েছেন । কেউ রাগ করে গলা চড়ালেও তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের গন্ডারের চামড়া ভেদ করে সেসব কথা পৌছুনোর আগে যে বুয়েটের শিক্ষাজীবন যবনিকাপাত হয় , সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই ।

সোনালী ব্যাংক ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমি আমার অ্যাকাউন্টের ১৭ হাজার টাকা ফেলেই বিদেশ পাড়ি জমিয়েছি । আজ থেকে ৮ বছর কোন সিগনেচার দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম , সে কথা মনে নেই । এখানে আসার পর সেসব কথা রুমমেটকে জানাতেই, আমার রুমমেটের মনে হল , বুয়েটে তারও কিছু টাকা জমা আছে , এবং টাকার পরিমাণটা কত , সেটা তার জানা কর্তব্য । আমার মত গোঁয়ার গোবিন্দও সে না , করিৎকর্মার মত কোথেকে ফোন নম্বরও যোগার করে ফেলল । আমি বললাম , "ফোন করে কিছু জানার কথা ভুলে যা , এখানে এসে তুই দেশের নিয়ম ভুলে গেছিস"। আমার কথার তোয়াক্কা না করে বন্ধিু, এক বিকেলে ক্লাস থেকে ফিরে , হাত পা ছড়িয়ে রিং করল ।

তারপরে কি হয়েছিল , বন্ধুর জবানীতেই শুনুন :
"কেন যেন লোকটার গলা ভারী মনে হল , একবার মনে হল ঠান্ডা লেগেছে । যাই হোক , ওসব চিন্তা বাদ দিয়ে আমি কাজের কথা শুরু করলাম । "আমি এক্স-স্টুডেন্ট , ইউএসএ থেকে বলছি , আমার অ্যাকাউন্ট রিলেটেড ইনফরমেশন দরকার" । ভদ্রলোক বেশ অবাক করে দিয়ে টুকটাক ইনফরমেশন দিলেন । সবশেষে বললাম , আমার অ্যাকাউন্ট নম্বরটা দিই , দেখুন তো কত টাকা আছে। ভদ্রলোক বললেন , "আপনাকে সকালে জানাই ?"। তড়াক করে ঘড়ির দিকে তাকালাম , "ও মাই গশশ , এখন তো বাংলাদেশে বিকাল ৪ টা না , রাত ৩ টা""

আল্লাহ পাক সোনালী ব্যাঙ্কের এই বিরল মহীয়ানকে উত্তম পুরস্কার দান করুন!!



তিন
দিন বিশেক আগে প্ল্যান করলাম , বন্ধুকে সাথে নিয়ে টেক্সাসের দক্ষিণে স্যান এন্টোনিও ঘুরতে যাবো । বাসের টিকেট করলাম , প্ল্যান করলাম ব্যাগ আগের রাতেই গুছিয়ে ফেলা হবে । সময়মত ব্যাগ গোছাতে না পেরে বাস-ফেইল করার মত সিচুয়েশন তৈরী করার রেকর্ড আমাদের দু'জনারই আছে । কিন্তু কথায় আছে -- "স্বভাব যায়না ধুলে , ইল্লত যায় না মলে" । রাত ১ টা বেজে গেছে , কিন্তু কারও ব্যাগ গোছানোর নাম নেই । খানিক পর দোস্তের আব্দার সে ১ ঘন্টা ঘুমোবে , তারপর গোছাবে । বসে বসে ব্রাউজ করছি , এমন সময় বন্ধু ঘুম জড়ানো কন্ঠে সময় জিজ্ঞেস করল , আমি বললাম -- ১:৪২ । মাঝে কতটা সময় গেল জানি না , পরের বার ঘড়িতে চোখ পড়লে দেখলাম তখন ৩:০১ । অবাক হলাম , কেন যেন মনে হচ্ছিল কোথাও কোন ভুল হচ্ছে , মাত্রই তো ১:৪২ দেখলাম । মনে মনে ভাবছি -- "নিশ্চয়ই বয়েস হয়ে গেছে মেহরাব , অথবা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে এতই মত্ত যে সোয়া একঘন্টা সময় কখন চলে যায় ,
খেয়ালই থাকে না" । বন্ধুর কথা মনে পড়তেই গিয়ে ধমকানো শুরু করলাম "কিরে তুই আর কত ঘুমাবি ? যাওয়ার কি ইচ্ছা-টিচ্ছা আছে?" । ৩:০১ শুনে দোস্তও লাফ দিয়ে উঠে , অপরাধী অপরাধী ভাব করে কাজ করতে শুরু করল

পরের সকালে মোবাইলে ৪ টা অ্যালার্ম সেট করে রেখেছি , দেশ থেকে আসার পর আলসেমি করে ৭ মাস চুল কাটা হয়নি , কিন্তু এবার আলসেমি ঝেঁটিয়ে বিদায় করা ছাড়া গত্যন্তর নেই । স্যান এন্টিনিও তে দু'একজন আঙ্কেলের সাথে দেখা হবে , লম্বা চুল দেখে পাছে ভেবে বসতে পারে যে পাখা গজিয়েছি।

এখানে একটা সেলুনে চাইনিজ মেয়েরা ৭ ডলারে চুল কেটে দেয় , হেঁটে যেতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট দরকার । কাছাকাছিও সেলুন আছে বটে , কিন্তু ১৫ ডলার খরচ করার বিলাসিত আমার মত গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টের সাজে না।

রবিবার সকালে মোটামুটি , খালি রাস্তা ধরে আমি একাই হেঁটে চলেছি , গিয়ে দেখি সেলুন বন্ধ । কেন বন্ধ তারও ব্যাখ্যা পেলাম না । হাতে সময় কম , বসে থাকার উপায় নেই , রাস্তার এপাশ ওপাশ আতিপাতি করে সেলুন খুজলাম , অবাক ব্যাপার হল সবক'টাই বন্ধ ।

মনে মনে নিজেকে বুঝ দিচ্ছি : এরা নিশ্চয়ই রবিবারে কাজ করে না ।নানান রকমের প্রবাদ প্রবচন জপছি ,আর নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছি-- "৭ মাস কি করেছ হে বালক ?" হন্যে হয়ে ঘন্টাখানেক খোঁজাখুজি করার পর হঠাৎ একটা সেলুন খোলা পেলাম । আগ-পাছ না ভেবেই গিয়ে বসে পড়লাম ।

সেলুনের ভিয়েতনামী মেয়ে চুল কাটার যন্ত্রে মোটে সময় নিল ৩ মিনিট , ডলার খসালো ১২ টা , চুল কেমন হয়েছে নাই বলি , দেশ থেকে জানিয়েছে , নাজিমুদ্দিন রোডের সেন্ট্রাল জেল থেকে খালাস পাওয়া জনৈক আসামীর সাথে আমার চেহারা হুবুহু মিলে গেছে ।

আর হ্যাঁ , খানিক পরে বুঝলাম দিনটা ১৩ মার্চ , ডেলাইট সেভিংয়ের জন্য সময় বদলে গেছে রাত ২ টায় ।রাতে ২ টা বাজার পরের মিনিটেই রাত ৩:০১ বেজেছিল , আর আমি যখন সকাল ১১ টা ভেবে সেলুন খুঁজছি, তখন ঘড়িতে আসলে ১০ টা ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29354685 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29354685 2011-04-01 01:50:34
ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমের ন্যাক্কারজনক প্রতিক্রিয়া
ভারতীয় সাংবাদিকদের সবার অভিযোগ তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাঝে কোন ক্রিকেট খুঁজে পাননি , তাই পরিস্কার করে বলে দেয়া হয়েছে , গতকালের অনুষ্ঠান ছিল নিছক "আলোর জলসা"




স্টেডিয়ামের বাইরে জটলা থেকেই বিরক্তির শুরু । অব্যবস্থপনা , ভীড় , আর ভারতীয় বড়-লাট সাংবাদিকদের গোস্যার সূচনা তখনই


প্রেস-বক্সে নাকি শব্দ শোনা যায়নি , টেকনিশিয়ানরা কেউ ছিলেন না , সময়মত কিছুই শুরু হয়নি। কে জানে কোন ঐশীবলে পুরো অনুষ্ঠানটা হল ।


এত বে-ইজ্জতির মাঝে একটা ক্রেডিট অবশেষে মিলল । লেজার শো নাকি বাংলাদেশের মান-আব্রুর পুরোটা যায়নি।


বাংলাদেশের দর্শকদের রুচিবোধ আর গান বোঝার ক্ষমতা নিয়ে তোলা হল প্রশ্ন । ব্রায়ান অ্যাডামসে তাদের বদহজম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হল । ক্রিকেট অনুপস্থিত এই ধুঁয়া তুলে পুরো অনুষ্ঠানটিকে আরেকবার বলা হল বিচিত্রানুষ্ঠান ।




শিরোনামগুলো শুধু পড়ুন , পরিস্কার হতে শুরু করবে তাদের মনোভাব ।


তাদের ভাষায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হতেই । শুধু তাই নয় , বাংলাদেশী সাংবাদিকরা নাকি বলেছেন , এটি জঘন্যতম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ।


সংবাদ সম্মেলনকে পুরোপুরি ফ্লপ শো বলেই থেমে যাননি । আকারে ইংগিতে এও জানানো হল , শেরাটন আর বুড়িগঙ্গার মাঝে সেরকম কোন পার্থক্য নেই ।


ক্রিকেট অধিনায়কদের সাংবাদিক সম্মেলন যেটি হল , সেটিকে বলা হল ঘুমিয়ে পড়ার জন্য আদর্শ স্থান :



দিল্লীতে কি কি গল্প বলা হচ্ছে সেদিকে নজর দেয়া যাক :


Click This Link


টাইমস অব ইন্ডিয়া শুরুই করল এভাবে :
Thursday's World Cup 2011 opening ceremony at the Bangabandhu Stadium here tasted like overcooked biryani.


এরপরেই তারা করুণাবোধ করেছেন আয়োজনের দৈন্য দেখে :
It is a pity really, for it had all the trappings of a super show. There was simply no one to put it together into big, colourful bouquet.

রিকশাযাত্রাটাও পুরো ফেইল , কারণ হুড তুলে দেয়ায় কাউকে নাকি দেখা যাচ্ছিল না :
The captains' rickshaw ride was supposed to be one of the highlights of the show, but it failed to enthuse the spectators as the skippers were almost hidden under the colourful hoods that ought to have been kept folded in the first place.


সবশেষে তাদের ভাষ্যমতে দর্শকদের টিকেটের টাকা পুরো মাঠে মারা গেছে , এহেন বাজে একটা অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিতে । নিন্দা থেকে রেহাই পাননি ব্রায়ান অ্যাডামসও । তার বাজে পারফর্মেন্স নাকি দর্শকদের টাকা উসুলের শেষ আশাটাও মাটি করে দেয় :
With opening ceremony tickets priced as high as Taka 1,000, 5,000 and 10,000, spectators, who had to queue up for hours to get into the stadium, had every reason to feel let down by a show that even Bryan Adams could not lift with his versatility.

(আপডেট হবে..)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29329077 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29329077 2011-02-18 11:28:15
বাবাকে যে চিঠি শুধু একবার লেখা যায় , কখনও পোস্ট করা হয়ে ওঠেনা ঢাকা , সেই সন্ধ্যা

আব্বু ,
১৬ বছর তো কত্ত লম্বা সময় , তাইনা ? কত সহস্র দিন ,আমার কতই না বদলে যাবার কথা , ছোটবেলার সময় পেরিয়ে কত বড় হয়ে যাবার কথা । তবুও কেন সেই পুরোটা সময় নিমিষেই বিলীন হতে চলেছে? কেন বারবার ১৬ বছর আগের দিনটার কথা মনে পড়ছে , যেদিন শেষবার এই পাচিল ঘেরা ঘরে এসেছিলাম? আম্মু কেন আজ এতগুলো বছর পর আমার জুতার ফিতে বেঁধে দিল , শেষ মুহূর্তে তোমার চোখ কেন জলে ছলছল হয়ে উঠল ? এমন অশ্রুসজল তোমাকে যে আমার বড্ড অচেনা লাগে।

এতগুলো দিন পরে চোখের সামনে দু'পাশে ডানা বিস্তৃত বিমান দেখে আমার না কত উচ্ছসিত হবার কথা ছিল ? ক্ষণিকের শিহরণ আমার , তারপর কেন সব দপ করে নিভে গেল ? সেই ছোট্টবেলার পর ১৬ বছর মাঝে রেখে প্লেনে চড়ছি ভেবে যে উত্তেজনা অনুভব করেছিলাম , সেটাকি চোখের পলকে হারিয়ে যাবার কথা ছিল ?

আব্বু ,
ডক ধরে প্লেনের ভেতর পা ফেলতেই কি ভীষণ একা লাগছে । ছোটবেলায় কত কত বার এই চেনা যানে চড়েছি , আজ না আমি কত বড় হয়েছি। তবুও কেন তোমার ধরে থাকা হাতটা এত খুঁজছি ? মনে আছে তোমার , আমি খুব কম আব্দার করতাম ? শুধু একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম , আমরা প্লেনের একদম সামনের এই চওড়া সিটগুলোতে না বসে কেন সবসময় পেছনে যাই ? কি বলেছিলে তুমি মনে নেই? জানো আব্বু, আজ এয়ারপোর্টের লোকটা আমার নামের সাথে তার নামের মিল দেখে আমাকে একদম সামনের চওড়া সিটটা দিয়ে দিল , ছোট্টবেলার সেই ভীষণ শখের চওড়া সিট । তারপরও একটা বারও ভাল লাগার অনুভূতিটা কেন দোলা দিল না ?

আব্বু ,
এই প্রথম প্লেনে আমার পাশে তুমি নেই । এই প্রথম আমি জানালার ধারে বসিনি । মনে আছে ? সবসময় আমি জানালার ধারে বসতাম ?
তুমি একটিবার আমায় একটু বলবে , আমি কি হারাতে চলেছি ? সাড়ে আটটা বাজতে বড়জোর অর্ধসহস্র সেকেন্ড বাকি , আমি প্রতিটা সেকেন্ড হারিয়ে খুঁজছি। প্রতিটা মুহূর্তের সাথে আমি যেন জীবন থেকে মহাকাল হারিয়ে ফেলছি । কেন মনে হচ্ছে , আরেকটা দিন , আরেকটা দিন আমার ভীষণ প্রয়োজন । কেন আরেকবার লোডশেডিংয়ের আঁধারে ঢাকা আমাদের ঐ বড় বারান্দায় অস্থির হয়ে বসে রাত কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে ?

আব্বু,
তোমরা কি এখনও দাঁড়িয়ে আছো ইমিগ্রেশনের পেছনে ? আমাকে দেখছিলে না তোমরা , একটু আমাকে খুঁজে নেবার জন্য কতবার চেষ্টা করছিলে। আমি দূর থেকে নিষ্পলক হয়ে তোমাদের দেখছিলাম । আমি চলে এসেছি , সব ফেলে এসেছি , তবুও কেন দাঁড়িয়ে ছিলে তোমরা এতটা ক্ষণ ? আমি বেশি পড়াশোনা নিয়ে কথা বলি দেখে ছোটবোনটার না কত অভিমান আমার উপর ? সব অভিমান ভুলে কেন এত কাঁদছে ও ?

আব্বু ,
প্লেনের শব্দ গাঢ় হচ্ছে , আমি যেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেলছি । আরবীতে ক্যাপ্টেন কিছু বলছে , আমার কানে ঢুকছে না । শুধু বুঝতে পারছি , আমাকে আজ যেতেই হবে । কেউ যদি বলত --- আজ প্লেন ডানা মেলবে না । আর হয়ত শ'খানেক সেকেন্ড । কেউ বলছে না আব্বু , কেউ বলছে না , প্লেনের দরজা আটকে যাচ্ছে । আমার শক্তিহীন নিথর হাতগুলো সিটবেল্ট বাঁধছে । আমি না কত বড় হয়ে গেছি । সেই ছোট্টবেলায় কতবার প্লেনে চড়েছি , কই কখনও কি কেঁদেছি তোমার মনে পড়ে ? রানওয়েতে আসতে প্লেন নড়তে শুরু করতেই কেন আমার দু'চোখ ফেটে কান্না আসছে , কেন মনে হচ্ছে অসীমে আমি হারিয়ে যাচ্ছি ? আমার শ্বাস কেন বন্ধ হয়ে আসছে ? পাশে বসা তোমার বয়েসী এক রাশভারি ভদ্রলোক , তার সামনে এত বড় আমার এমন আচরণ কি মানায় বল ?

আব্বু ,
এ শহরকে আমি এতটা ভালবাসি তুমি বিশ্বাস করবে ? বিদ্যুতের জ্বালায় , গরমের জ্বালায় , মশার জ্বালায় কত না অভিযোগ ছিল আমার । কেন এ মাটি ছুঁয়ে থাকতে আমার এত আকুতি । প্লেন রানওয়েতে দৌড়াচ্ছে , গতি বাড়ছে , আমি অনুভব করছি চাকা ছুঁয়ে আছে আমার মাটি , আমার নাড়ির বন্ধন । ভেতরে তীব্র উৎকন্ঠা কেউ যেন এই মাটি , এই মায়ের কোল থেকে আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে । জীবনে কোনদিন কখনও এতটা অসহায় লাগেনি যে আমার । হঠাৎ অনুভব করি , মাটি ছেড়ে আকাশে উড়াল দেবার অনুভূতি । কেউ যেন টেনে হিঁচড়ে আমার নাড়ি ছিন্ন করে ফেলল । ঘাড় উঁচিয়ে, পাশের লোকটির জানালা দিয়ে বারবার ঢাকাকে কেন বারবার দেখে নেবার এত চেষ্টা করি , কেউ আমাকে তোমরা বলবে ?

আব্বু ,
জানতে যদি , জানালার পাশে নেই বলে শহরটাকে ঠিকমত দেখতে পাচ্ছি না বলে কি ভীষণ আফসোস হচ্ছে আমার । আমার ইচ্ছে হচ্ছে আকাশের তারার মত করে ঢাকার আলোকবিন্দুগুলো গুনে আমার ঘরের জানালা খুঁজে নিই । ক্ষণিকের ঝলকে ল্যাম্পপোস্ট আর গাড়ির আলোয় স্পষ্ট করে একটা রাস্তা যেন দেখি ।কেন যেন ভীষণ করে মনে বলে ওটা গুলশান থেকে রামপুরার রাস্তা ? ঐ রাস্তা ধরে গত আড়াইটা বছর কি ভীষণ ক্লান্তি শেষে আমি এমন সময়টায় ঘরে পৌছুতাম তোমার মনে আছে ? নিজেকে কেন হঠাৎ এত ভীষণ নিঃস্ব একাকী লাগছে , ধুলোমলিন ভীষণ জ্যামের ঐ রাস্তায় একটা বার ফিরে যেতে কেন এত অস্থির লাগছে ?

আব্বু,
তোমার মনে আছে আমি বাইরের কোন মানুষের সামনে কোনদিন কাঁদিনি ? আজ তবে কেন আমি দু'চোখে রুমাল চেপে ধরে অঝোরে কাঁদছি ? প্লেনের খাবারের মেন্যুটা তুমি সবসময় আমাকে পড়ে শোনাতে , আজ তুমি কেন পড়ে শোনাচ্ছ না ? কেন এখনও বারবার বোকার মত ভাবছি বাংলাদেশের আকাশসীমা পেরিয়ে গেলাম কিনা? নিজের দেশের শেষ নিঃশ্বাসটুকু আঁকড়ে ধরার জন্য কেন আমার এত ভীষণ আকুতি । হয়ত ভীষণ অপ্রাসঙ্গিক , তবুও মাথায় কেন বারবার বাজছে :

বিরহেরও অনলেতে.. পুড়িয়া অন্তরেএএ... হারাইলাম আপন ঠিকানা..আ.। স্বপ্নবাঁশীর তাই জটিল মনের জটিল পাশা জটিল মন্দিরা ...


বাহরাইন , গভীর রাত

আব্বু ,
আজ বুঝলাম আমি সেই ষোল বছর আগের দিনটা থেকে মাত্র একটা দিন বড় হয়েছি । জানো তুমি , এখনও বারবার বাহরাইন থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব কম ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছি ? এখান থেকে কি আর পেছনে ফেরা সম্ভব বলবে তুমি ?

তোমরা কি সেহরী খেতে উঠেছ সবাই ? সত্যি পারছো আমাকে ছাড়া কিছু মুখে দিতে ? মনে পড়ে আব্বু , ৮ বছর বয়েসে সেই যে তোমাদের সাথে সেহরী খেতে শুরু করলাম , তারপর আর কোনদিন সেহরী মিস হয়নি । আরও যখন ছোট ছিলাম , তখন আমাকে সেহরীতে ডাকোনি বলে কতই না নীরব অভিমান করতাম ? আজ এত বছর পর কেন তোমাদের উপর সেই অভিমানটাই কি আমার আবার হচ্ছে ?

আব্বু ,
প্লেন জুড়ে ভীষণ নীরবতা , অনেকে ঘুমাচ্ছে , অনেকে সীটের পেছনে স্ক্রীণে মুভি দেখছে । শুধু আমি নিষ্পলকভাবে মানচিত্রে প্লেনের গতিপথ দেখছি । ছোটবেলায় তুমি আমাকে কোলে তুলে আমাদের দেয়ালে টানানো বিশাল ম্যাপটায় পৃথিবী চেনাতে মনে আছে তোমার ? জানো ? গতিপথ দেখে বুঝতে পারছি , আমি এখন ইরাকী কুরদিস্তানের উপর দিয়ে চলছি , এইতো পাশেই ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশ , যেখানে আমার জন্ম , যেখানে জড়িয়ে আছে জীবনের প্রথম ১০ টি বছরের স্মৃতি । জন্মদাত্রীকে ছেড়ে জন্মস্থান ছুঁয়ে যাওয়া কত কষ্টের তুমি জানো ? স্বদেশ থেকে যত দূরে যাচ্ছি , বেদনাগুলো শেল হয়ে বিঁধছে এই রক্তাক্ত হৃদয়ে সে রক্ত তুমি চেনো?

আব্বু ,
ঘন্টার পর ঘন্টা কিসের নেশায় আমি গতিপথ দেখছি আমি জানিনা। তোমার চেনানো দেশগুলির আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছি এক এক করে --- তুরস্ক , বুলগেরিয়া , রোমানিয়া , চেক । এমন বৃত্তাকার গতিতে চললে পথে পড়বে হাংগেরি , জার্মানি , নেদারল্যান্ডস , লন্ডন। রোমানিয়ার আকাশে যখন বিমান , তখন দেখেছি দিগন্ত জুড়ে নতুন সূর্যের বর্নিল আভা । ইরাক , তুরস্ক , বুলগেরিয়া , কুয়েতের আকাশ ছুঁয়ে যাবার সময় বাইরে দেখেছি ঘুটঘুটে আঁধার । তবুও জানালা দিয়ে বারবার কি যেন খুঁজেছি , হঠাৎ দু'একবার মেঘহীন আকাশের ফালি দিয়ে নিচে ঝলমলে কোন জনপদ দেখেছি । ইউরোপে দেখেছি সাজানো খামার , দিগন্ত প্রসারী সরলরেখার মত রাস্তা । বিশ্বাস কর , এর কোনটাই আমার ঢাকার মত না ।

গানের কতগুলো লাইন কখন যে আপনাআপনি বদলে ভেতরে বাজছে ---

ইচ্ছে করছে জানতে কাঁদছে কি মন? কি করছে আমার ঢাকা এখন ?


লন্ডন , সকাল..

আব্বু ,
লন্ডন ছেড়ে আবার সুদীর্ঘ যাত্রা । এবার ১০ ঘন্টা , মাঝে অতলান্তিক । মজার ব্যাপার জানো ? বৃত্তাকার পথ ঘুরতে গিয়ে বিমান আইসল্যান্ডের খুব কাছে চলে গেল , কানাডার আকাশেই রইল প্রায় ৪ ঘন্টা । অনুভব করছি , আমি অনেক অনেক দূরে চলে এসেছি , আর ফিরতে পারব না , কবে তোমাদের আবার দেখব জানিনা। আম্মুকে জিজ্ঞেস করো , ঢাকা এয়ারপোর্টে এতগুলো ইফতার কেন আমাকে বানিয়ে দিয়েছিল ? আমি একা মানুষ এত কিছু খেতে পারি ? নিজের অংশটাও তো পারলাম না খেতে , এত কষ্ট হচ্ছিল দূরে তোমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে , সবটুকু এয়ারপোর্টের নামাজের ঘরে দিয়ে এসেছি । মনটা এত অস্থির হয়ে আছে ঐ ইফতারটুকুর জন্য । কেন সাথে করে নিয়ে এলাম না , পচে যেত যদি তবুও একটু মুখে দিয়ে দেখতাম , মায়ার যে ছোঁয়া ছিল ঐ খাবারে , সেটা আর কবে ফিরে পাব ?

...................

টেক্সাস , বিকেল

আব্বু ,
মাত্র ১৫ মিনিট আগে আমার অ্যাপার্টমেন্টে এসে পৌছেছি । বিশ্বাস হতে অনেক কষ্ট হয় । এত দূরে চলে এলাম , কবে আবার তোমাদের দেখব জানিনা । তোমরা অনেক ভাল থেক , আমার জন্য অন্তত , কথা দাও থাকবে , আজ থেকে শুরু আমার ঘরে ফেরার অপেক্ষার পালা । জানি এতটা দূরে আসা আমার দরকার ছিল ভীষণ , না আসলে জানা হত না ঐ ভীষণ কষ্টের দেশটা , অমন বিশৃংখল শহরটা আমি এত ভালবাসি । জানা হত না , তুমি কোনদিন এমন করে কাঁদতে পারো , জানা হত না চিরকাল পড়াশোনার জন্য বকুনি দেয়া আমার ছোট বোনটা এমন অধীর হয়ে প্রহরের পর প্রহর জল ফেলতে পারে । জানা হত না , ঘর থেকে বেরুবার সময় ছোটবেলার কথা মনে করে মা আমার জুতার ফিতা বেঁধে দেবে , সে জুতোর উপর পড়া দু'ফোটা অশ্রু সবার চোখ এড়ালেও বিকেলের আলোয় আমার চোখে মুক্তো হয়ে চমকাবে । অ্যালাবামা এখান থেকে বেশ কিছুটা দূর , মাঝে লুইজিয়ানা । কিন্তু আমি যে টেবিলটায় বসে লিখছি , তারপাশে জানালা । মৃদুস্বরে আমার বন্ধুর ল্যাপটপে চলছে ---
কেউ জানলা খুলে অ্যালাবামায় বাংলা গান গায় কেউ পড়ছে কোরান বসে তার জাপানী জানালায় ......

আম্মু , কোনদিন তোমায় বলা হল না , আমি তোমার কাছে কতটা ঋণী । রোজ তুমি আমার ঘরের চৌকো জানালা দিয়ে ঐ আকাশটা দেখে নিও । তোমার আমার সেই একই আকাশ ...

জানলার শার্সিতে বারবার যেন লেগে ফিরে আসছে কথাগুলি ----

আমার জানলা দিয়ে ... আমার জানলা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায় একটু বর্ষা , একটু গ্রীষ্ম , একটুখানি শীত সেই একটুখানি চৌকো ছবি আঁকড়ে ধরে রাখি সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ ...

অনুভব করছি আমি শেষবারের মত কাঁদছি....






......................................................................
আমি ২৬ বছরের জীবনে কখনও ঘরের বাইরে সেভাবে খুব বেশিদিন থাকিনি । বন্ধুদের সাথে অনেক ঘুরতে যেতাম , কিন্তু ঘর মিস করতাম না কখনও । আমার ধারণা ছিল , আমি অন্যরকম কেউ । ভেতরে ভেতরে অল্প যতটা অনুভূতি হত সেটাও কখনও আব্বু-আম্মুকে বলিনি। বাইরে আসার সময় ঘনিয়ে এলো যখন , আমি জানতাম আমি নির্বিকার ভাবেই বিদায় নেব । কিন্তু কি হল আমি জানিনা ... জীবনে ৩০ টা ঘন্টা আমার ভেতরটা কুঁকড়ে ছোটমানুষের মত হয়ে গেল ।চিঠিটা লিখেছিলাম ১৫/১৬ আগস্ট , ২০১০, যাত্রাপথ জুড়ে । খুব ইচ্ছে হয়েছিল আব্বুকে দেব । কিন্তু আমার ভেতরের বড় মানুষটা জেগে উঠল ভীষণ তাড়াতাড়ি , আর দেয়া হল না , কাগজটা রেখে দিলাম সযতনে । খুব আনাড়ি হাতের লেখা , জানিনা প্রথম ঘর ছাড়ার সময় কারও এমন অনুভূতি হয়েছিল কিনা । আজ রাতে হঠাৎ এত মনে পড়ছে বাসার কথা , টাইপ করে ফেললাম । আজ না করলে কে জানে হয়ত সারাজীবনেও করা হত না । সে রাতে আমার কি হয়েছিল , সেটা ব্যাখ্যাতী্ত । কারও কাছে , ভাষাটা ন্যাকামি লাগতে পারে , মন থেকে ক্ষমা করবেন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29306704 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29306704 2011-01-13 05:20:43
মানুষের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে যেসব বিজ্ঞাপন (পর্ব-১) DeBeers এর 'A Diamond is Forever"

বিয়ে শাদী আরও স্পষ্ট করে বললে এনগেজমেন্টের সাথে ডায়মন্ড শব্দটা এখন যেন সমার্থক হয়ে গেছে । অথচ মাত্র ৬২ বছর আগেও এনগেজমেন্টের সাথে ডায়মন্ডের দূরতম কোন সম্পর্কও ছিল না । উনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য ঘাটলে একটিবারও বিয়ে শাদীতে ডায়মন্ডের উপস্থিতির সেরকম কোন প্রমাণ মেলে না। নতুন করে ভাবতে শেখাল যারা তারা হল হীরক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান DeBeers

১৯৪৮ এ তারা শুরু হল তাদের ক্যাম্পেন , যার স্লোগান ছিল :
A Diamond is Forever

আক্ষরিক অর্থেই হীরা সবচেয়ে কঠিন পদার্থ , তথা অমরত্বের প্রতীক । সে কথাটির ভাবার্থ কাজে লাগানো হল দাম্পত্য জীবনের অমর অটুট বন্ধনকে নির্দেশ করতে ।

বদলে গেল মানুষের চিন্তাধারা , জীবনের বন্ধনের সমার্থক হয়ে উঠল ডায়মন্ড


Volkswagen এর "Think Small"
৫০ দশকের শেষভাগ এবং ৬০ দশকের শুরু ।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোটরগাড়ি বিলাসিতার খোলস ছাড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় হতে শুরু করছে ।

মার্কিন ভোক্তাদের কাছে সামাজিক প্রতিপত্তি এবং আভিজাত্যের প্রতীক ছিল আমেরিকান গাড়ি । আমেরিকান গাড়িগুলো হত আকারে বিশাল , শক্তিশালী মেশিন-পার্টস , ঝকঝকে গড়নেরআমেরিকানদের তখন চাই এমন বড়সড় গাড়ি


সেসময়েই বাজারে এসেছে গুবড়ে পোকার মত দেখতে ছোট্ট জার্মান ভক্সওয়াগন (ফোক্সওয়াগন) গাড়ি। কিন্তু সে গাড়ি মার্কিন ভোক্তাদের একদমই পছন্দ হল না , একে তো ছোট্ট পোকার মত গাড়ি , ইঞ্জিনে গগন-বিদারী শব্দ তার উপর এটি জার্মানী নির্মিত গাড়ি , যাদের সাথে বছর পনেরো আগেই মার্কিনীরা বিশ্বযুদ্ধ করে এসেছে । কাজেই অ্যারোপ্লেনের সাথে পাল্লা দিয়ে যেখানে আমেরিকান গাড়ির মডেল বদলাচ্ছিল , ভোক্সওয়াগন সেখানে হয়ে রইল অপাংক্তেয় আর দুষ্পাচ্য হয়ে।

উপায়ন্তর না দেখে ভোক্সওয়াগন ১৯৫৯ সালে নিয়ে এল তাদের নতুন স্লোগান --- "Think Small" । গাড়ির বিজ্ঞাপনে যা করা হয় , সেসবের কিছুই থাকল না এই বিজ্ঞাপনে -- না কোন চিকন কোমরের নারী মডেল , না কোন পৌরষদীপ্ত গাড়িচালক । ফোক্সওয়াগনের বিজ্ঞাপনে তুলে ধরা হল এর দুর্বল দিকগুলোই । কথাগুলো ছিল এমন:

Our little car isn’t so much of a novelty any more. A couple of college kids don’t try to squeeze inside it. the guy at the gas station doesn’t ask where the gas goes. Nobody even stares at our shape. In fact, some people who drive our little flivver don’t even think 32 miles to the gallon is going any great guns. Or using five pints of oil instead of five quarts. Or never needing anti-freeze. Or racking up 40,000 miles on a set of tires. That’s because once you get used to some of our economies, you don’t even think about them any more. Except when you squeeze into a small parking spot. Or renew your small insurance. Or pay a small repair bill. Or trade in your old VW for a new one. Think it over.


আপাত দৃষ্টিতে শুরুটা যেন নিজেদেরকেই হেয় করে , কিন্তু দু'চারটা কথার পরেই বোঝা গেল অন্য সব মোটরগাড়িকে কথার ফলায় বিদ্ধ করছে ভোক্সওয়াগন । কথার চাতুর্যে বিমোহিত হলে ভোক্তাকুল । দৃশ্যপট পালটে গেল রাতারাতি , চারদিকে তখন ছোট্ট গাড়ি ভোক্সওয়াগনের জয়জয়কার । শুধু তাই না , বিজ্ঞাপনের ইতিহাসেও এমন ভাষার ব্যবহার সেই প্রথম ।

ক্ষুদ্রাকৃতির গোলগাল গাড়ির দিকে মানুষের আকর্ষণ সেই যে শুরু , এরপর আর থামেনি । বিশেষ করে ভোক্সওয়াগনের কথা আলাদা করে বলতেই হয় । ৮০ দশকের কোন গাড়িই যেখানে রাস্তায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর , ৫৫ সালের সেই গুবড়ে পোকা মডেলের ভোক্সওয়াগন কিন্তু এখনও সারাবিশ্বে জনপ্রিয়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29301764 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29301764 2011-01-04 15:13:19
ইংরেজি শব্দের পাঠশালা-১ (ধাক্কাধাক্কি করে বানানো শব্দ) এতই যখন পটু আমরা , চেষ্টা করেই না হয় দেখা যাক ধাক্কাধাক্কিকে কাজে লাগিয়ে ভাল কিছু করা যায় কিনা <img src=" style="border:0;" />

ইংরেজিতে বেশিরভাগ শব্দই এসেছে ল্যাটিন বা গ্রীক থেকে । তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ল্যাটিন বা গ্রীকটা যদি শিখে নেয়া যায় তবে ইংরেজি আয়ত্ত্বে আনা কোন ব্যাপারই না । আঁতকে উঠলেন ? ভয় পাবার কিছু নেই । আমরা কেবল একটা ল্যাটিন শব্দই শিখব ।

শব্দটা হল : Trudere
ল্যাটিন Trudere শব্দটির ইংরেজিতে অর্থ দাঁড়ায় thrust । বাংলায় "ধাক্কা দেয়া" ।


এবার চলুন Trudere(ধাক্কা দেয়া) কে ধাক্কাধাক্কি করে কতগুলো শব্দ বানানোর চেষ্টা করা যাক ।

বাংলা প্রকৃতি প্রত্যয়ের মত ইংরেজিতেও মূল শব্দের সাথে শব্দাংশ যোগ করে নতুন নতুন শব্দ বানানো হয় । এসব শব্দাংশের বেশির ভাগ এসেছে গ্রীক ভাষা থেকে ।

আমাদের মূল শব্দটি হল --- ল্যাটিন Trudere , ইংরেজিতে thrust । বাংলায় "ধাক্কা দেয়া" । এবার শুরু হোক শব্দাংশ যুক্ত করার পালা:

১.protrude

pro-- এটি দিয়ে বুঝানো হয় before/আগে বা "forward"/সামনে
তাহলে protrude= pro- "forward" + trudere "to thrust" (সামনে ধাক্কানো কিছু)

ইংরেজিতে পুরো অর্থ দাঁড়ায় Extend beyond or above a surface
(যে জিনিস সামনে বেরিয়ে থাকে)

উদাহরণস্বরুপ : protruding teeth (সামনের দিকে বেরিয়ে থাকা দাঁত)

২.absutrude

absutrude = ab- "away"/দূরে + trudere "to thrust, push"/ঠেলা/ধাক্কা

মিলিয়ে বললে -- দূরে ঠেলে/ঠেসে দেয়া । আরেকটু ভাল করে বললে: "গোপন করে ফেলা"
ইংরেজিতে সোজাসাপ্টা অর্থ: absutrude= "conceal"/লুকিয়ে ফেলা/গোপন করে ফেলা

৩.extrude

extrude = ex-(out)/বাইরে/বাইরের দিকে + trudere "to thrust, push"/ঠেলা/ধাক্কা

একসাথে করে বললে : বাইরের দিকে বের করে দেয়া

আরও ঠিকমত বললে:
extrude= thrust out; draw out/বের করে ফেলা


৪.obtrude

obtrude= ob "toward"/কোন কিছুর দিকে/কোন কিছুর ভেতরে + trudere "to thrust"/ধাক্কানো

একসাথে করে ভাবলে : কোন কিছুর ভেতরের দিকে ধাক্কানো

ইংরেজিতে obtrude= "thrust into, press upon"/ কোন কিছুর ভেতরে ধাক্কানো / নাক গলানো

অর্থাৎ "নাক গলানো" অর্থে obtrude শব্দটি ব্যবহৃত হয় ।

যেমন Obtrusive = meddlesome(যে সব কিছুতে নাক গলায়)


৫.detrude
detrude= de-(down/নিচের দিকে) + trudere(ধাক্কানো/চেপে ধরা)

ইংরেজিতে অর্থ: to press down with force/ নিচের দিকে চেপে ধরা




৬.Intrude

Intrude = In/ভেতরে+ trudere/ধাক্কানো

অর্থাৎ : যে ভেতরের দিকে ধাক্কায় ।

ব্যবহারিক অর্থে :
Intrude = present uninvited / অনাহূত
Intruder = অনাহূতভাবে যে প্রবেশ করে

৭.retrude
retrude- re (back/পেছনে)+ trudere/ধাক্কানো
একসাথে মিলিয়ে নিলে , পেছন দিকে ধাক্কানো / ঠেলে দেয়া

ইংরেজিতে ব্যবহারিক অর্থে: retrude= to thrust back/ to move backward (কোন কিছুকে পেছন দিকে ঠেলে দেয়া)

retruded = the state of being located posterior to the normal position (কোন কিছুর স্বাভাবিক যে অবস্থান তার থেকে পেছন দিকে ঠেলে দেয়া)


---------------------------------------------------
শব্দগুলো ঝালাই করে নেয়ার জন্য pro , in , de, re , ex শব্দাংশ যুক্ত পরিচিত কিছু শব্দ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন । তারপর এই শব্দাংশগুলোর অর্থ ভাবুন । আশা করি তখন এই লেখায় উল্লেখ শব্দগুলো সহজ হয়ে যাবে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29298108 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29298108 2010-12-29 12:34:16
এলোমেলো নোট :: খালেদা জিয়ার উচ্ছেদ
স্বার্থপরতা :
খালেদা জিয়ার উচিৎ ছিল অনেক আগেই এ বাড়িটি ছেড়ে দেয়া, এটা সময়ের দাবী , জনগণের দাবী । যে পরিস্থিতিতে তাকে এ বাড়িটি দেয়া হয় , সেটি সেসময়ের প্রেক্ষিতে অবশ্যই যুক্তিযুক্ত ছিল । প্রেসিডেন্ট জিয়ার যে যত বড় বিরোধিই হোক না কেন , তার সততা নিয়ে প্রশ্ন কেবল অজ্ঞরাই তুলতে পারে । কিন্তু বাড়িটি ধরে রাখার যৌক্তিকতা অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে , সে কথা নতুন করে আর বলতে হয় না । সে সময়ের পরে প্রায় ৩০ টি বছর পেরিয়ে গেছে । খালেদা দু'বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন , তার দুই সন্তানের অঢেল লুটপাটের কথা যদি বাদও দেয়া হয় , তবুও তিনি বিপুল পরিমাণ বিত্ত প্রতিপত্তির অধিকারী । নিজ উদ্যোগে তিনি অনেক আগে যদি বাড়িটি ছেড়ে দিতেন , তবে তার মাহাত্মই বাড়ত । তবে বাংলাদেশের রেওয়াজ বলে , খালেদা বাড়ি ছাড়বেন না । নিজের লোভ-স্বার্থের কাছে এসব মহান হওয়ার চেষ্টাগুলোকে নেতৃবৃন্দ চিরকাল অপচয় হিসেবেই দেখে এসেছেন ।

প্রতিহিংসা:
খালেদাকে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হলো যে পন্থায় , তাতে কিন্তু জনগণের ন্যায্য দাবীর প্রতিধ্বনি শোনা গেল না , কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসাটাই উচ্চস্বরে বাজল । ২০০১ চলে এল সামনে , যখন জননেত্রী নিজের নামে গণভবন লিখে নিয়েছিলেন । গণভবনের মত রাষ্ট্রীয় বাসভবন কেউ নিজের নামে লিখে নিতে হলে কতটা বেশি উদ্ধত হতে হয় , সে কথা আর নতুন করে বলার নেই । যারা অবশ্য গণভবনের সাথে সেনানিবাসের বাসভবনকে মিলিয়ে সাম্যাবস্থা দেখছেন , তাদের ঘুম ভাঙানোটাও জরুরী । গণভবন লিখে নেয়াটা ছিল নির্লজ্জ নোংরামী , সেটা থেকে হাসিনার বহিষ্কারাদেশ ছিল পাপমোচনের সমতূল্য । বিপরীতে সেনানিবাসের বাড়িটি ছেড়ে দেয়া ছিল কেবলই সু-বিবেচনা আর বিবেকের প্রশ্ন , যে বিবেক জাগ্রত হওয়ার আশা জনগণ কখনও করতে পারেনি।

দু'জনার কান্না:
শেষ বিকেলে খালেদা কাঁদলেন । এই মহিলা কদাচিৎ কাঁদেন । খালেদার কান্না দেখলে নিশ্চিত হই , এই মহিলার ব্যক্তিগত কোন ক্ষতি হয়ে গেছে । দেশের জন্য কখনও তার ভেতরটা কেঁদেছে কিনা জানিনা , তবে নিজের জন্য যতটুকু জল তিনি ফেলেন , সেটা জেনুইন ।
হাসিনার কান্না দেখে অবশ্য সবসময়ই কনফিউজড হয়ে যেতাম , এখনও যাই। এই মহিলা যত্রতত্র কাঁদেন , নাকি কান্না , মেকি কান্না। নিজের জন্য কাঁদেন , যেখানেই কাঁদলে খানিক সুবিধে হবে সেখানেই দক্ষ অভিনেত্রী হয়ে জল উগড়ে দেন।

আরেকবার পিষ্ট বাংলাদেশ :
দেশে অনেক ইস্যু ছিল , দিনরাত বিদ্যুত থাকে না , কলকারখানা চলে না । দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী । ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে বিনা-শুল্কে , টিপাইমুখ দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে মেঘনা । বিএনপির হাতে হাজারটা ইস্যু ছিল , জনগণ তাদের টিকির সন্ধানটাও পেল না । সবাইকে বোঝানো হল , বিএনপি দূর্বল , দেশের পক্ষে কথা বলার শক্তিটুকুও তাদের নেই। দেশ বেচার যে বুলি বিএনপির এত পছন্দ তার সবটুকু সুযোগ সরকার তাদের হাতে তুলে দিল , তবুও লজ্জাবতীর মত তারা নীরব রইল । আজ কেবল একটা ঘর বেহাত হতেই ঢাকার রাজপথে যে আসুরিক শক্তি এল সেই মৃত শরীরে , তা আরেকবার দলের মহিমা , ব্যক্তির মহিমাকেই ঘোষণা করল , দেশ আরেকবার হলো লাঞ্চিত ।


...............
(জানি এসব কথার দু'পয়সার মূল্যও নেই , তাই এসব কথা বলাও হয়না । আমাদের মত এক পয়সার মানুষগুলোর দু'পয়সার কথা বলাটাও স্পর্ধা দেখানোর মতই লাগে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29271862 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29271862 2010-11-14 11:30:15
টিপস এন্ড ট্রিকস <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> ::: সাংবাদিক হওয়ার অলৌকিক কৌশল
(চ্যানেল এবং পত্রিকার বন্যায় ভাসছে দেশ , প্রয়োজন ভুড়ি ভুড়ি সাংবাদিকের । মনে রাখবেন , সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতা পড়া ডিসকোয়ালিফিকেশন । শুধু কতগুলো টিপস মাথায় রাখলেই , আপনি হতে পারেন আপোষহীন ক্রিয়েটিভ জার্নালিস্ট)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করুন:
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে এ পন্থা অবলম্বন করুন।

যতই নিরপেক্ষতার ভং ধরুন, আপনি নিজেই জানেন আপনি কোন না কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করতে তীব্রভাবে ভালবাসেন । ভালবাসা প্রকাশের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কথায় কথায় আপনার বিরুদ্ধমতের দলটিতে সংকটের কথা লিখুন। দলটির অন্যায় , অনাচারের কথা তুলতে গিয়ে সেই দলেরই কিছু নেতাকে সৎ হিসেবে দাঁড় করান । এমন সিনারিও ক্রিয়েট করুন , যেখানে দেখানো হবে , দলের ত্যাগী নেতারা তাদের দলের অরাজকতায় লজ্জিত , অবনত যারা কিনা পত্রিকার কাছে তাদের কান্না , ব্যথা , মাতম সবকিছু প্রকাশ করে দেন ।
তাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখুন... "নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বর্ষীয়ান নেতা"। সে নাম আর কোনদিনই প্রকাশ করবেন না ।

নিরপেক্ষতার মাস্ক পড়ুন নব-কৌশলে:
আপনার বিরুদ্ধমতের দলটিকে বাঁশ দিতে সমস্ত শক্তি ব্যয় করলে শেষতক ব্যবসায় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে । নিরেপক্ষতার ঢাল হাতে নিয়ে রিপোর্ট করার ফাঁকেও আপনার পত্রিকার বিরুদ্ধমতের দলটিকে সুচিক্কন বাঁশ প্রদান করুন । এ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ নিচে সন্নিবিষ্ট হল :

ধরুন , আপনি আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত । পত্রিকার পাতায় উঠতে বসতে বিএনপির খুঁত ধরার পাশাপাশি ছাত্রলীগের সমালোচনার জন্যও একটি কলাম , নিদেনপক্ষে একটি উপসম্পাদকীয় বরাদ্দ রাখুন । তবে , উপসম্পাদকীয়র বাঁশটা আখেরে বিএনপিকেই দিতে বটমলাইনে লিখুন "ছাত্রলীগও যদি এমন করে , তাহলে ছাত্রদলের সাথে তাদের পার্থক্যটা রইল কোথায়?"

সবসময় মনে রাখবেন , লেডিজ ফার্স্ট:
এ কথাটি সবচেয়ে বেশি মনে রাখবেন যে কোন পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরের দিন।

এসএসসি , এইচএসসি বা পাবলিক পরীক্ষার পর পত্রিকায় প্রথম পাতায় ৬ কলাম ধরে লাল কালিতে হেডিং দিন ... "মেয়েরা এগিয়ে" । মেয়েরা কিভাবে এগিয়ে সেটা প্রকাশ করার ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা নেই , তবে রেফারেন্স প্রকাশ করলে রিপোর্টটি শক্তিশালী হবে ।

নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো ঘটলে মেয়েরা দেশব্যাপী নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবে:
১। ভিকারুননিসা কলেজ , নটরডেমের চেয়ে বেশি সংখ্যক জিপিএ-৫ পেলে
২। অন্তত: একটি বিভাগে মেয়েদের পাশের হার ছেলেদের চেয়ে বেশি হলে ।
৩। বোর্ড স্ট্যান্ড যুগে কোন মেয়ে প্রথম হলে , বাকি ১৯ টি স্থানে ছেলেরা থাকলেও সর্বোপরি মেয়েরা এগিয়ে
৪। উপরের ক্রাইটেরিয়াগুলোর কোনটি ম্যাচ না করলেও শেষমেশ দৃঢ় ঘোষণা দিন --- মেয়েরা এগিয়ে

পাঠককে করুন মহাকালের মহাসাক্ষী:
এ কাজটি সবচেয়ে সুচারুভাবে করতে পারবেন সূর্যগ্রহনের সময়কালে।

সূর্যগ্রহন খুব বিরল ঘটনা ... এটা ভাবাটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি । মানুষের এ প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে আপনার সুবিধা হাসিল করুন ।

ভাল করে চিন্তা করলে দেখা যায় , ফি-বছর আকাশের কোন না কোন চিপা দেয়া সূর্যগ্রহন হয়েই যায় । কিন্তু সে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সূর্যগ্রহনের অব্যাবহিত পূর্বে পত্রিকার সংবাদভাষ্যগুলো মোটামুটি ধরা-বাঁধা রাখুন:

১) ঘোষণা করুন এটি সহস্রাব্দের (কোন কোন ক্ষেত্রে ১ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে) শেষ সূর্যগ্রহন । কখনও বা ৭১৩ , কখনও বা ৯৮ বছরের মাঝে শেষ সূর্যগ্রহন । মানুষ একই সাথে বছর বছর সূর্যগ্রহন দেখবে এবং মহাকালের মহাস্বাক্ষী হওয়ার কৃত্রিম আনন্দ পাবে।

২) সব গ্রহন দেখিয়ে ফেলবেন না , দেখার জন্য মাঝে মাঝে লোভ দেখিয়ে সুযোগ কেড়ে নিন । কখনও কখনও লিখুন -- বাংলাদেশের আকাশ থেকে এ গ্রহন দেখা যাবে না।

ঈদকালীন সময় কাটান দারুণ ফূর্তিতে:
বছর জুড়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পত্রিকা এবং টিভি নিউজ প্রকাশিত হলেও , ছুটিতে চলে যাওয়া সাংবাদিক সংকটের কারণে ঈদের অব্যবহিত পরে পত্রিকা প্রকাশে সমস্যা হয় । প্রকৃতপক্ষে গুটিকয়েক সাংবাদিক দিয়ে এসময় সহজেই কাজ চালিয়ে নেয়া যায় । ঈদের পরের দিন থেকে ৩ দিন নিচের রিপোর্ট গুলি দিয়ে ত্যানা প্যাঁচান:

১। রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলো ছিল ফাঁকা । সাথে সংযুক্ত করুন যে কোন বছরের ঢাকার ফাঁকা রাস্তার একটি ছবি । দু'একজন পথচারীকে দিয়ে উদ্ধৃতি দিন , "জ্যাম নেই , ধোঁয়া নেই ,খুব ভাল লাগছে"। শেষে আহাজারির সুরে লিখে ফেলুন "আহা , ঢাকা যদি সবসময় এমন হত"
২। "রাজধানী এবং রাজধানীর বাইরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল মানুষের ভীড়। শিশুদের সাথে এসেছিলেন তাদের অভিভাবকরাও"

অফিস যেদিন প্রথম খুলবে সেদিন রিপোর্ট করুন:
ঈদের পর আজ ছিল প্রথম অফিসের দিন । অফিসগুলোতে ছিল না কোন ভীড় , যারা এসেছেন , তাদেরকেও দেখা গেল ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে সময় কাটিয়ে দিতে । সাথে ছবি সংযুক্ত করুন যেখানে দেখা যাবে দু'জন লোক প্রায় দু'ফুট দূরত্ব থেকে উটের মত একজন অপরজনের দিকে গলা বাড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ভেটকি হাসি সহযোগে কোলাকুলি করছে। শেষ করুন এভাবে "আর দুয়েকদিনের মাঝেই মানুষ ফিরতে শুরু করবে , নগরী ফিরে পাবে তার প্রাণচাঞ্চল্য"

গৃহিনীদের ভার্চুয়াল ফোন পেতে থাকুন :
কেউ না জানুক আপনার পত্রিকা অফিসের টেলিফোন নম্বর কত , বা আদৌ জনগণের অভাব-অভিযোগ জানানোর জন্য কোন ফোন আছে কিনা ।

প্রায় প্রতিদিনই রিপোর্ট করার সময় নিচের কায়দাটি অনুসরণ করুন : "টিকাটুলি থেকে গৃহিনী মেহনাজ শামস ফোন করে জানালেন , ৩০ দিন ধরে সেখানে সূর্যের আলো নেই । একই অভিযোগ মোহাম্মদপুরের গৃহিনী রোকেয়া সাদিক এবং মগবাজারের ইশিতা সায়েমের"

টিকেট ফুরিয়ে ফেলুন :
ঈদের আগে বাস টার্মিনালের খবর থেকে শুরু করে যে কোন কনসার্টের আগে চোখ বুজে লিখে দিন :
"টিকেট না পেয়ে অনেককে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে"




বাকি টিপস পাবেন পরের পর্বে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29252288 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29252288 2010-10-10 03:41:56
স্পোর্টস মিডিয়া ট্রিকস ::: ঘুরে ফিরে খেলার পাতায় একই কুমির ছানা
(খেলার পাতায় এই কুমির-ছানাগুলি প্রথম কে দেখিয়েছিল সেটা বের করা দুরূহ)

বিশ্বের সেরা কোচ, কি অসাধারণ তাহার টেকনিক
নতুন কোচ আগমন ঘটলেই সেরেছে , হোক সে ক্রিকেট বা ফুটবলের । ক্রিকেটার বা ফুটবলারের উদ্ধৃতি দিয়ে যা যা ছাপা হয় , তার সারাংশটা নিম্নরুপ :
** কোচের কমিউনিকেশন স্কিল অসাধারণ
** ট্রেনিং স্টাইল একদম অভিনব , বিশ্বে ইউনিক
** খেলোয়াড়দের সাথে বোঝাপড়াটা খুব ভাল
** ফিটনেসের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন , অতিরিক্ত সেশন করাচ্ছেন ।

একজন কোচ অভিনব হতেই পারেন , হতেই পারেন বিশ্বের সবার চেয়ে আলাদা । কিন্তু প্রশ্ন হল , এই কোচকে এক সময় অপমানজনক কায়দায় কেনই বা বিদায় করা হয় ?

কোচ বিদায় হয়ে যায় , তবে কলম থামে না । পরবর্তী নতুন কোচ আসেন , যথারীতি তিনি হন শ্রেষ্ঠতর কোচ । স্তুতিবাক্য ছিটিয়ে দেয়া হয় নতুন করে ।

প্রতিশোধের আগুন --- কি ভীষণ দাবানল
দুনিয়ার সমস্ত খেলার সমস্ত আবেগ , সব রকমের প্রতিশোধ স্পৃহা কেবল যেন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের উপর ভর করে । ১৯০৪ সালে জাপান-রাশিয়া যুদ্ধের দামামা তারাই কেবল এখনও জাপান রাশিয়া ম্যাচের আগে খুঁজে পান । প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যেসব ঘটনা সেসব জাতি গুলে খেয়ে বসে আছেন , সেসবকে জাগ্রত করতে সাংবাদিকরা ভীষণ ভালবাসেন । আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই আগামী শতবর্ষে যতবার হবে , বাংলাদেশী ক্রীড়া-সাংবাদিকরা তাতে ফকল্যান্ড যুদ্ধের গন্ধই পেয়ে যাবেন । পঞ্চাশের বিশ্বকাপে উরুগুয়ে ব্রাজিলকে ছ্যাঁকা দেয়ার যে দাগ , সেটা ব্রাজিল হয়ত ভুলেই বসে আছে , সে দগদঘে ঘা কেবলে বাংলাদেশী সাংবাদিকরাই দেখতে পান।

খেলোয়াড়দের আবেগ--কান্না--আহাজারি:
কথায় কথায় আবেগাপ্লুত হওয়াটা ক্রীড়া-সাংবাদিকদের বাতিক । ইউরোপের প্রোফেশনাল ফুটবল লীগে আবেগের মূল্য অনেক কম , পেশাদারী মনোভাবের কারণে যে কেউ যে কোন ক্লাব ছেড়েই শুধু যায় না , সে ক্লাবের স্মৃ্তি মুছেও ফেলে । কিন্তু বাংলাদেশী পত্রিকার ডটাবেজ থেকে তাকে মুছে ফেলা সাধ্য কার ? সে কারণেই দেখা যায় , বার্সেলোনা-মিউনিক ম্যাচের সময় কবে কোন কুক্ষণে মেসি , মিউনিকের কোন সমর্থকের বাসায় নেমন্তন্ন খেয়েছিলেন , সেটাকে টানাটানি করে মেসিকে আবেগ ভারাক্রান্ত বলে ঘোষনা করে দেয়া হয় ।
আবেগ কান্নার পানি ছেটানো হয় দশদিকে । মার্সেইয়ের সাথে ম্যাচের আগে দ্রগবার হাউ-মাউ কান্নার ভার্চুয়াল খবর ছাপা । মরিনহোদের মত যারা দু-চার-দশটি ক্লাব বদল করেছেন তারা যদি প্রতিবেলায় পুরনো একটা ক্লাবের কথা ভেবে ভারাক্রান্ত হয়ে যান , তখন পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে ভাবা যায় ?

বাংলাদেশ বাংলাদেশ :
সম্বোধন , সম্ভাষনের রীতিটা দেশ থেকে দেশে অনেক বদলে যায় । পাশ্চাত্যের দেশগুলির মানুষগুলো যখন জানবে আপনি বাংলাদেশের তখন বাংলাদেশ চিনুক বা না চিনুক , হাত বাড়িয়ে হাসিমুখে খানিক বিস্ময়ভরা কন্ঠে বলে উঠবে , "ওহহহহহ , বাংলাদেশ" । কিন্তু তাই বলে যদি কেউ ভেবে বসেন সাদা চামড়ার মানুষটির সাথে বাংলাদেশের অনেক ঘনিষ্ঠ স্মৃতি জড়িয়ে আছে , তাহলে সেই নির্বুদ্ধিতার জওয়াব কি ?

এসব সম্ভাষণের উপর লিখে লিখে দিস্তা দিস্তা কাগজ ভরিয়ে ফেলায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের ক্লান্তি নেই । সে কারণেই বেকেনবাওয়ার , ম্যারাডোনাকে অহরহ দেখা যায় , বাংলাদেশী সাংবাদিকের নাম শুনে প্রায় জ্ঞানহারা হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতে । এসব খবর পড়ে ভক্তরাও ভক্তি-শ্রদ্ধায় আরেক দফা জ্ঞান হারাবার উপক্রম হন। অথচ আদতে ম্যারাডোনারা বাংলাদেশ নামটা জানেন কিনা সেটা খুব বড় একটা প্রশ্ন। প্রসঙ্গক্রমে জানতে ইচ্ছে করে , আরবে যাবার পর অভিবাদন জানানোর কায়দায় আরবরা সাংবাদিকদের যে চুমু খেয়েছেন , সেটাকে প্রেম ভেবেই কি সাংবাদিকরা বেমালুম চেপে গেছেন ?

বাহারী ডাকনামে , কত রং এ , ঢং এ :
ডাকনামে ডাকাডাকি করে শোরগোল তোলাটা পত্র-পত্রিকায় নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার । বিগত দশকে যারা ফুটবল দেখেন , তারা মনে করে দেখুন , পর্তুগাল দলের কথা বলতে গিয়ে কোন ধারাভাষ্যকার "গোল্ডেন জেনারেশন" শব্দটি মুখে এনেছেন কিনা ? কিংবা "ইউরোপের ব্রাজিল" বলতে শুনেছেন কিনা ?

বিপরীতে বাংলাদেশী পত্রিকায় দেখুন , লুই ফিগো বা রুই কস্তার নাম একবার উচ্চারণের বিপরীতে "ইউরোপের ব্রাজিল" , "সোনালী প্রজন্ম" শব্দগুলো উচ্চারিত হয় কমপক্ষে ৬ বার । সাংবাদিকদের দেয়া বাহারী টাইটেল এখানেই শেষ নয় , বাংলাদেশের পত্রিকার পাতা জুড়ে ইউক্রেনের শেভচেঙ্কো নাম ছাপিয়ে হয়ে যান পূর্বাঞ্চলের রোনাল্ডো , কেউবা বসফরাসের ষাঁড় । অদূর ভবিষ্যতে গুয়াংজুর জাভি , অযোদ্ধার শারাপোভা নাম দেখলে কি পাঠক অবাক হবেন ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29247862 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29247862 2010-10-01 02:55:51
তিন কবি ::: উড়ালের আগে ও পরে (এই লেখাটির সব চরিত্র কাল্পনিক , কেহ উহার মাঝে কোন সাযুজ্য খুঁজিয়া পাইলে তাহা নিছক কাকতাল মাত্র)

১. প্রাক-কথন:
তিন কবির বেজায় শখ । বেজায় শখ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার । তাহাদের যুগে সায়েন্স ছিল , আর্টস ছিল । ছিল না শুধু কমার্স ।

তিনকবির ভীষণ পিপাসা , জ্ঞানার্জনের বিশাল চাওয়া । জ্ঞানসাগরে সাঁতার কাটার বয়েস নেই , তিন কবির কমার্স পড়ারও বাধা নেই ।

লোকে বলে শখের দাম লাখ টাকা ।রাজ্য জুড়ে ঢাক বাজে --- বিশ্ববিদ্যালয়ের "বিজনেস ক্লাসে" তিন কবি ফল সেশনে ভর্তি হবে । কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন বিরাট ফ্যাকরা । অনলাইনে টিপে টুপে করতে হবে রেজিষ্ট্রেশন । সে কি আর মুখের কথা ? অনলাইনে শিখতে শিখতে "বিজনেস ক্লাস" ওভারলোড । নতুন কেউ রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে না , কোর্স টিচারের সাফ কথা । উপায় তবে ? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যখন পণ , যেভাবেই হোক হবে তা পূরণ । আসন খালি মেলে "ইকোনমি(কস) ক্লাসে" তাই সই , রেজিষ্ট্রেশন হয় ইকোনমি(কস) ক্লাসেই।

১.১ প্রাক-কু-কথন এবং তাহার জওয়াব
ডেঁপো বদমায়েশারা কুকথা ছড়ায় । সায়েন্সজনেরা বলে "মুঠোফোনে তাঁহারা কাব্য লেখে , কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার জানে না বলেই বিজনেস ক্লাসটা নিতে পারলো না , চুক চুক" । কমার্সজনেরা বলে "এতাল বেতাল বুঝিনা , কমার্স কঠিন বলেই ভয়ে গুটিসুটি মেরে বিজনেস ক্লাস ছেড়ে দিয়েছে" ।

তিন কবির শক্ত চোয়াল , পাঁজিদের দিতে হবে দাঁতভাঙা জওয়াব ।
বিকেলে আসে যৌথ ঘোষণা "আমরা মানুষের কবি , সাম্যবাদের কবি । বিজনেস শব্দটার অর্থ মানে বাণিজ্য , বাণিজ্য মানেই মুক্তবাণিজ্য , মুক্তবাণিজ্য মানেই নার্কিন মুক্তরাষ্ট্র । আমরা জেনেশুনে বিজিনেস ক্লাস নিয়ে সেই মুক্তরাষ্ট্রের ধামাধরা হতে পারি না । তার চেয়ে ইকোনমি মানে ইকোনমিক , ইকোনোমিক মানেই সাশ্রয়ী , সাশ্রয় মানে সমতা , সাম্যবাদ ।

দুর্জনের চুপসে যায় , সমবেত জনতা হর্ষধ্বনি করে ওঠে ।

২. ক্রমণিকা
তিন কবি কবিতা লেখেন । মনে মনে প্র‌থম জনা নার্কিন মুক্তরাষ্ট্রকে চেপে ধরেন , দ্বিতীয়জনা চামড়া ছিলেন , তৃতীয়জনা লবণ মাখেন । হঠাৎ মালকিন হাঁক দেন "তোমরা রেডি হও , নার্কিনের কাছে যাবো , তোমরা সঙ্গী হবে ।"

তিন কবি বেজায় খুশি । নার্কিনের ঘরে নাকি অনেক সাদা মেয়েদের দেখা মেলে । নারী মানেই নিত্য নতুন কবিতা , আহা আহা ।

যেতে হবে বিমানে চড়ে ,তিনকবি বসবে সামনের দিকে , সিটগুলো সেথায় বড় বড় , খানিক পরপরই আসতে থাকে বিমান বালা । হাতে থাকে চকোলেট কুকিজ , ক্যাশিউ নাট , আর জুস , স্যামন মাছ , পেপার জ্যাক চিজ, মাখখন , ঘনদুধের কফি। তিন কবির ভীষণ প্রেশার , বড্ড বেশি ব্লাড প্রেশার । এসব খেতে ডাক্তারের সাফ মানা ।

তিন কবি ভীষণ রসিক , বড্ড বেশি ভোজনরসিক । বিমানবালাদের খাদ্যাহ্বান আর কাঁহাতক এড়িয়ে যাবেন । শেষে এসব খেয়ে মরার উপক্রম না হয় । তৃতীয় কবির কাছে খবর আসে , বিমানের পেছন দিকটায় খানিক ঘিঞ্জি । তবে খাবার দাবার সে তুলনায় অতিশয় কম । লজ্জা ভেঙে চেয়ে বসলেও বুড়ো ভাম হওয়ার অজুহাতে দিতে অস্বীকার করে লজ্জা ফিরিয়ে দেবে । তবে তাই সই , চল ইকোনমিতেই । আগে জীবন বাঁচুক , তারপর হবে সব ।

২.২ আ-ক্রমণিকা এবং তাহার জওয়াব:
হতচ্ছাড়া ছোঁকরাগুলি কুকথা ছড়ায় , "ছ্যাঁ ছ্যাঁ , নার্কিনের বিরুদ্ধে এত কথা বলে সেই নার্কিনের বাসায় দুধ সেমাই খেতে যাচ্চে ? তাও আরাম করে সামনে বসে বাদাম চিবু্তে চিবুতে? বলি , ঘোর কলিকাল এলো... মরি মরি" ।

তিন কবির শক্ত চোয়াল , পাঁজিদের দিতে হবে মোক্ষম জওয়াব । বিকেলে আসে যৌথ ঘোষণা "বিমানের সামনের দিকে লোক কম , পুঁজিবাদী খানা-দানা" । আমরা মানুষের সাথে থাকতে চাই , মানুষের জয়গান গাইতে চাই । তাই মানুষের ভীড়ে মিশে পেছনে চড়েই নার্কিনের বাসায় যেতে চাই ।

সমবেত জনতা হর্ষধ্বনি করে ওঠে ।


৩. লা-জওয়াব .....
নার্কিনের উপর তিন কবির তেমন আর রাগ নেই ।নার্কিন হাজার খারাপ হোক , ওদের ড্রইং রুমটা তো খারাপ না । কত মানুষ সেখানে আসে , আদর করে ড্রইং রুমটাকে ডাকে সাধারণ পরিষদ । অবশ্য হুগো শ্যাভেজ নামের লোকটা এসে নাকি ঐ ঘরে সালফারের গন্ধ পেয়েছিল , মুয়াম্মার গাদ্দাফী তো সোফায় বসে খিস্তি যে শুরু করেছিল , ওঠানোই যাচ্ছিল না । তিন কবি অবশ্য অমন কিছু করবে না । তারা গাইবে শুধু পবিত্র সে চরণ

"আমি এই ভালবাসা দিয়ে গ্রীষ্মের রাত্রিকে করি স্নিগ্ধ ও সজল , কন্টকিত পথ করি পুষ্পময়"



উপবিষ্ট সভাসদরা শুনবে ,হবে তুমুল হর্ষদ্ধনি


৪ উপসংহার :
যাবার আগে শেষ বিকেল । বিশাল ময়দান , লাখো মানুষ এসেছে বিদায় দিতে । বিদায়যাত্রী ১০০ , সাথে আরও ৩ কবি । ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লাখো জনতা পশ্চাদ্দেশ পেতে দিয়েছে , তাহা না হইলে বিমানের ইঞ্জিন স্টার্ট হইবেক না। ১০৩ জনকে সরবরাহ করা হয়েছে একফুট ব্যাসের ১০৩ টি খাম্বা যাহা দ্বারা তারা জনগণের পশ্চাদ্দেশে "........" মারিবেন। তিন কবি দিল খোলা প্রাণ , মানুষের জন্য তাদের অসীম দরদ। শলাপরামর্শ করিয়া তিনকবি ঠিক করিয়াছেন একফুটের বদলে আট ইঞ্চি ব্যাসের খাম্বা দ্বারা তাঁহারা জনগণের "......." মারিবেন।

সে কথা জানিয়া উপস্থিত সমবেত জনগণ মারহাবা , মারহাবা বলিয়া হর্ষধ্বনি করিয়া উঠিল]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29241774 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29241774 2010-09-19 09:07:31
শম্বুক বাস-গতি , সেদ্ধ বাস-মতি "৬০ বছর বেঁচে থাকা কোন মানুষ ২০ বছর ঘুমিয়ে কাটায়" এহেন মামুলি তথ্যও যখন প্রথমবার মস্তিষ্কের নিউরণে যুতসইভাবে আঘাত করেছিল, শিরদাঁড়া বেয়ে নেমেছিল শীতল স্রোত । দু'দিন বাদেই যখন মস্তিষ্ক জানবে ৬০ বছরের ১০ বছর বাসে কেটে গেছে , তখন আর অবাক হব না । ঢাকার ট্রাফিক জ্যামকে টেক্কা দিয়ে বাস-কারা-জীবনের দৈর্ঘ্য ১০ বছরের নীচে নামিয়ে আনা এখন রীতিমত সৌভাগ্যের ব্যাপার। শম্বুক-সম এই বাস-গতিতে আহাজারি না করে বাসকেই জীবনের অংশ ভেবে মানুষের মতিগতি পরখ নেয়ার অনন্য সুযোগ হিসেবে এই বাস-মতি রন্ধনের প্রয়াস।



১......
ফার্মগেটগামী ওয়ানলাইন আর তরঙ্গের গুলশানের লাইন বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় অটবির শো-রুম ছুঁই ছুঁই । বিকেলের শেষ আলো ঠিকরে পড়ছে অপেক্ষমান যাত্রীদের কপালে , আর তাতে মুক্তোদানার মত চকচক করে উঠছে যাত্রীর মুখমন্ডলের সহস্র ঘাম-বিন্দু।

এমন বীভৎস লাইনে অপেক্ষমান যাত্রীরা যখন শেষমেশ বাসে চড়ার সুযোগ পায় , তখন কারও দিকে কারও ফিরবার জো থাকে না। অথচ সেদিন বিকেলে বাসে চড়েই সবার দৃষ্টি আটকে গেছে জনৈক ভদ্রলোকের দিকে । ভদ্রলোক তারস্বরে চিৎকার করে যাচ্ছেন "আমার মোবাইল , মোবাইললললললল , নিয়ে গেল রে , নিয়ে গেল"।

ঘটনার আকস্মিকতায় সম্বিত ফিরে পেতে যাত্রীদের কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল।
যারা সম্বি্ত ফিরে পেলেন তাদেরই একজন জিজ্ঞেস করলেন , "হাইজ্যাক ?? কে করসে ? কে কে ?"

ঘটনা বুঝতে পেরে অন্য যাত্রীরা ততক্ষণে গণপিটুনি দেয়ার তীব্র স্পৃহায় হাত মুঠো করে ফেলেছেন । কিন্তু যুদ্ধংদেহী যাত্রীদের উত্তপ্ত বাসনায় শীতল জল ঢেলে দিয়ে মোবাইল-ওয়ালা জানালেন , তিনি কিছুই টের পাননি , কখন হয়েছে তাও টের পাননি । দু এক মুহূর্তের মাঝেই অনেকেই সম্ভবত আশা ছেড়ে দিয়েছে , লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যদি নিয়ে গিয়ে থাকে , তাহলে তো এতক্ষণে বদমাইশটার টিকিও ছোঁয়া যাবে না ।

"আরে শিগগির কল দেন , দেখি হাইজ্যাকার বাসেই কিনা"... ড্রাইভার গলা ফাটিয়ে বলে ।
"নাম্বার বলেন ভাই , নাম্বার বলেন" ..........রিং করার জন্য মোবাইল হাতে হাঁক দেয় এক যাত্রী।
"০১৮১...."
মোবাইলের লাউড স্পিকার অন , পুরো বাসে পিন পতন নীরবতা ।
"রিং হচ্ছে , রিং হচ্ছে , শালা এখনও ফোন অফ করার চান্স পায়নাই"

সবাইকে অবাক করে দিয়ে বদমাইশ শালা ততক্ষণে ফোন রিসিভ করে ফেলেছে । কিন্তু একি ???????? এ যে শালা নয় , শালীর কন্ঠ । পরিস্কার করে শুদ্ধ সুরেলা কন্ঠ ভেসে আসে "হ্যালো , হ্যাঁ বলো"

হতবুদ্ধি যাত্রীদের মাঝে তখন চলছে গণ মুখ চাওয়াচাওয়ি ।
"অ্যাঁ , মহিলা পকেটমার ???? এ কোন ঘোর কলিকালে এসে পড়লাম রে বাবা "---- সবার মনের কথাটা অবশ্য তখনও কেউ মুখ ফুটে বলে ওঠেনি । তার আগেই বিজ্ঞ কেউ খানিক বিরক্তির স্বরে হাঁক দেয় , "ভাইজান কি মোবাইল ঘরে রেখে এসেছেন , কথা শুনে তো ভাবী বলে মনে হয় "

ভদ্রলোকের তখন ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছুটেছে , বউকে তিনি চিনতে পেরেছেন । তার বোকাটে মুখখানা অফিস ফেরত বাস বোঝাই ক্লান্ত যাত্রীদের রাম-ঝারির অপেক্ষা করে । নাহ , তেমন কিছু হয় না । ব্যস্ত এই শহরে মাগনা এই বিনোদনে বাসজুড়ে তখন কেবলই হাসির রোল । কেউ শুধু আস্তে করে বলল , "ভাইজান , নেক্সট টাইম থেকে একটু সাবধানে , নয়ত ক্রসপিটুনিতে একটা নিরীহ লাশ পড়ে যাওয়ার জোগার হইসিল"


২...........................
বাসের আড্ডাগুলো এখন সেভাবে জমে ওঠে না । মাঝপথে লোকের নেমে যাওয়া যেমন একটা কারণ , তার চেয়ে বড় কারণ বাসের দু'সারির মাঝে ওয়াক-ওয়েতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ।এই সারির মানুষগুলো চীনের প্রাচীর হয়ে দু'সারির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে আড্ডার শেষ সম্ভাবনাটুকোকে গলাটিপে হত্যা করে । গত মাঘের শেষদিনে অবশ্য তার ব্যাতিক্রম হল । একটু আগেই হয়ে যাওয়া তুমুল বৃষ্টির রেশ ধরে বাস সেদিন কাগজে কলমে হয়ে উঠেছে সিটিং বাস ।আবারও সেই গুলশান টু ফার্মগেট , তবে বাস এবার ৬ নম্বর ।

মহাখালী যেতেই আড্ডাটা রীতিমত জমে উঠল । বিষয়বস্তু যথারীতি দেশ-জাতি । গেল গেল করে অনেকে হৈ হৈ করে উঠছে , অন্য পক্ষ তখন দেশ জাতিকে রক্ষার জন্য একের পর এক সু-পরামর্শ দিয়ে চলছে ।হঠাৎ করেই কেউ গ্যাস সংকটের কথা তুলতেই অনেকে ক্ষেপে উঠল । বাসা-বাড়িতে চুলো জ্বলছে না একথা স্মরণ হতেই ক্ষোভ দাবানলে রুপ নিল । কিন্তু রাগ ঝাড়ার জায়গা কোথায় ? খানিকটা সময় সরকারকে তুলোধুনো করার চেষ্টা করে অনেকে সফল হল না । নিবেদিত কিছু সরকারপন্থী প্রাণপণে সমালোচনায় বাধা দিল ।

মহাখালী রেললাইন ছেড়ে এগুলেই হাতের বাঁয়ে সিএনজি স্টেশন , তাতে দাঁড়ানো সারি সারি প্রাইভেট কার।আর যায় কোথায় । বাস-জনতা একজোট হয়ে শুরু করল প্রাইভেট কারের মুন্ডুপাত।

[si...."দেখেন দেখেন , দেশে হচ্ছেটা কি দেখেন"
---"আমরা রান্নার গ্যাস পাইনা , আর এরা ...................."
----"প্রাইভেট কারের লাইন দেখসেননি ভাইসাব , মন বলে এই গুলিরে ..."
----"এইগুলিরে লাইসেন্স দিয়েই চলতেসে , কারও কোন মাথাব্যথা নাই , ক্যাম্নে কি ?"
---"আরে হ্যারা তো এইসবেই চড়ে , আমগো মত তো বাসের ঝুলানি টের পায় নাই "
------"যানজট সমস্যার পুরা দায় প্রাইভেট কারের"

এ পর্যায়ে এসে সবাই একমত হল যে যানজটের দায় পুরোই প্রাইভেট কারের।
বাসের গণ-আদালতে তখন পারলে প্রাইভেট কারের ফাঁসি তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কিন্তু বিকল্প কি ? নানা জনের কাছ থেকে সলিউশন আসতে শুরু হল।
"পাবলিক বাস চালু করতে হবে " "কিন্তু সেইটার জন্য বিশাল প্ল্যান কইরা নামতে হইবো, মহিলাদের কি দুর্ভোগ হয় দেখছেন না ? তারা যেন উঠতে পারে , সেইটা আগে নিশ্চিত করতে হইবো"।

এতক্ষণে এককোণে চুপচাপ বসে থাকা শ্বেত শুভ্র শ্মশ্রুমন্ডিত এক বৃদ্ধ হঠাৎ মুখ খুললেন "আরে , খালি বাস চালু করলেই হইব ? বাতাসের অবস্থা দেখসেন ? এইখানে মানুষ নি্ঃশ্বাস নিতে পারে.????? প্রত্যেকটা মানুষের নিজের ব্যবস্থা নিজেরে করতে হবে।"

বাস জুড়ে তখন নীরবতা , সবাই তাকিয়ে বৃদ্ধের দিকে ।দেশ জাতির এই ক্রান্তিকালে তার দেয়া সলিউশনের জন্য যেন সবার অপেক্ষা ।

মনে মনে আমিও ঝটপট ভাবছি , কিসের কথা বলবেন ?? পরিবেশ বান্ধব সাইকেল বুঝি ?? চীনের রাজধানীর ছবি ভাসিয়ে ফেললাম চোখের সামনে ,
সেখানে সারি সারি সাইকেল চলছে ।

বৃদ্ধ এবার বিজ্ঞচোখের শ্যেন দৃষ্টি হেনে অব্যর্থ ভাষায় ইশতেহার ঘোষণা করলেন "শায়েস্তা খাঁ , শাহ সুজার আমলে ঢাকায় ঘোড়া চলত । আমাদের সবারও ঘোড়া থাকতে হবে"

বাসের নীরবতা কাটল না , দেশ জাতি ভুলে আমরা একে অন্যের মুখ চাওয়া-
চাওয়ি শুরু করলাম..........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29227288 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29227288 2010-08-21 23:29:46
মুভি রিভিউ :: ব্রাজিলের অসাধারণ ৫ টি , আর্জেন্টিনার অনন্য ২ টি মুভি রিভিউ দেয়ার বিশ্বকাপের ঠিক আগের এই সময়টার চেয়ে বাজে সময় আর বোধকরি নেই । ব্রাজিল আর্জেন্টিনা নাম দু'টি ক্ষণে ক্ষণে উচ্চারিত না হলে লোকে এখন কথাই কানে তোলে না , সবুজ , হলুদ , নীল আর আকাশী রং ছাড়া অন্য রঙের দিকে মানুষ যেন ফিরেও তাকায় না । সে কথা মাথায় রেখেই ল্যাটিন ফ্লেভার সহযোগে এই মুভি রিভিউয়ের (অপ)প্রয়াস।

ব্রাজিলের অসাধারণ ৫ টি:

City of God

২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি ব্রাজিলের সিনেমাকে নিয়ে গেছে অন্য রকম উচ্চতায় । বিশ্বের সর্বকালের সেরা সিনেমাগুলোর অন্যতম এই মুভিটি আবর্তিত হয়েছে রিও ডি জেনেইরোর শহরতলীতে অল্প বয়েসীদের অপরাধ জগতে ক্রমাগত জড়িয়ে পড়া এবং সে থেকে বিস্তৃত বিরাট অপরাধীদের জাল গড়ে ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে । মুভিটির ট্যাগলাইন "Fight and you'll never survive... Run and you'll never escape." সম্ভবত মুভিটি নিয়ে অনেককিছু বলে দেয় । অনন্য নির্মাণশৈলীর এই মুভিটি রইল আমার টপ চয়েসে।

Central Station

১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি বিখ্যাত তার অনন্য মানবিক আবেদনের জন্য । বর্ষীয়ান মহিলা ডোরার পেশা রিও-ডি-জেনেইরোর সেন্ট্রাল স্টেশনে বসে নিরক্ষর মানুষকে চিঠি লেখে দেয়া। ৯ বছরের বালক জোশুয়ার মা ডোরার কাছে নিয়মিত চিঠি লিখিয়ে নেয় , জোশুয়ার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে উদ্দেশ্য করে । একদিন ঘটে যায় মর্মান্তিক এক ঘটনা , বাস চাপায় মারা যান মা , জোসুয়া হয়ে গৃহহীন অনাথে । ডোরা এবার জোসুয়াকে সাথে করে নিয়ে চলে বেচে দেবার উদ্দেশ্যে , কিন্তু হঠাৎ করেই ভেতর থেকে বিবেক যেন তাকে চেপে ধরে । পরের গল্পগুলো শুধুই ছুঁয়ে যাবার..

Barren Lives

উত্তর পূর্ব ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ বিরান ভুমিতে খাদ্য , আশ্রয়ের খোঁজে দিনের পর দিন চড়ে বেড়ায় একটি দরিদ্র পরিবার । বাবা ফাবিয়ানো , মা সিনহা , তাদের দু'সন্তান আর একটি কুকুর ছানা । কিন্তু ভাগ্য বিধাতা তাদের সহায় যেন হতেই চাইছেন না । ফিল্মটির বৈশিষ্ট্য হল এর সাইক্লিক নেচার । মুভিটি শেষ হয়ে যাবার পর আবার নতুন করে দেখতে শুরু করলে মনে হবে যেন ঘটনা এগিয়ে চলছে । ১৯৬৩ সালের সিনেমাটি আমার অন্যতম ফেভারিট।

Black God, White Devil

মুক্তি পায় ১৯৬৪ সালে , তবে ঘটনার প্রেক্ষাপট ১৯৪০ এর দশককে ঘিরে। ভাড়াটে বন্দুকধারী বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা আন্তোনিওর জবানীতে মুভির প্রধান চরিত্র দরিদ্র খামার কর্মী ম্যানুয়েল । বঞ্চনার প্রতিবাদে নিজের মালিককে হত্যা করে স্ত্রী সহ অপরাধ জগতে নাম লেখায় ম্যানুয়েল । ধীরে তারা হয়ে পড়ে আরও বৃহত্তর চক্রের অংশ।

Bus 174


২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ডকুমেন্টারি ফিল্ম । একদল ডাকাত ডাকাতি প্রচেষ্টার পর ঘটনাক্রমে জিম্মি করে ফেলে একটি বাসের যাত্রীদের । ৪ ঘন্টার জিম্মিদশার ঘটনাপ্রবাহে উঠে আসে রিও-ডি জেনেইরোর বস্তিবাসী জীবনের চিত্র , ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থা ।


আর্জেন্টিনার অনন্য ২:

The Secret in Their Eyes

একেবারেই হাল সময়ের মুভি । ২০১০ এর অস্কার মঞ্চে হিসেবে জার্মানীর "দ্যা হোয়াইট রিবন" এবং ফ্রান্সের "দ্যা প্রোফেট" এর মত বাঘা বাঘা মুভিকে পরাভূত করে এটি ছিনিয়ে নেয় সেরা মুভির সম্মান ।১৯৯৯ সালে ফেডারেল জাস্টিস এজেন্ট বেঞ্জামিন এসপিতো অবসর জীবন কাটাতে উদ্যোগ নেন একটি উপন্যাস লেখার । উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেন ২৫ বছর আগের তার কর্মজীবনে কাছ থেকে দেখা অনুদ্ঘাটিত এক হত্যা রহস্যকে । সঙ্গীনি হিসেবে পেয়ে যান এক সময়ের ভালবাসার মানুষ এবং সহকর্মী আইরিনকে । হঠাৎ করেই যেন কেটে যেতে থাকে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা । কোনদিকে তাহলে মোড় নিতে চলেছে ঘটনাপ্রবাহ ?
অসাধারণ একটি সিনেমা ..

The Motorcycle Diaries

মোটরসাইকেল ডায়েরিজ বইটি নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই । বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে বিপ্লবের দীক্ষা দিয়েছিল যে দক্ষিণ আমেরিকা সফর , তাকে উপজীব্য করেই সেলুলয়েডের পাতায় এই মুভির আয়োজন । মুভির স্বল্প পরিসরে ডায়েরির খুঁটিনাটি উঠে না আসলেও , যতটা এসেছে ততটুকু আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29165012 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29165012 2010-05-29 16:52:44
উপনির্বাচনের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি
আহমেদ তফিজউদ্দিন পারিবারিকভাবে আমার দাদার সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন । ৭০ এর গণপরিষদে নির্বাচিত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত হন ।

সুজানগর থানার পুরোটা আর বেড়া থানার দক্ষিণভাগের অর্ধাংশ নিয়ে পদ্মা তীরবর্তী জাতীয় সংসদের এই আসন । ১৯৯৭ সালের শেষদিকে আহমেদ তফিজউদ্দিনের মৃত্যুর ফলে এই আসনটি শূন্য হয়ে যায় ।

উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হলে অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব । তার বিপক্ষে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক একে খন্দকার । একে খন্দকার মূলত পাবনা-১ সদর আসনের অধিবাসী হলেও উপনির্বাচন করার জন্য পাবনা-২ আসনে তাঁকে মননোয়ন দেয়া হয় ।

সময়টা ভাল করে মনে নেই , ৯৭ এর নভেম্ভর কি ডিসেম্বর।বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করে গ্রামে যাবার প্রস্তুতি নিলাম । গ্রামের উপনির্বাচন দেখব বলে ভেতরে ভেতরে ভীষণ উত্তেজনা অনুভব করছিলাম ।

গ্রামে পৌছার পর প্রথম অনুভূতিটা ছিল ভীষণ বিস্ময়ের । পদ্মার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে চলে যাওয়া পাকা সড়ক থেকে নেমে ঢাল বেয়ে গ্রামে প্রবেশ করছি , আর দু'চোখ দিয়ে খুঁজে চলেছি প্রার্থীদের পোস্টার । কিন্তু একে খন্দকার ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী একটা পোস্টারও চোখে পড়ল না ।

কি ঘটছে , সেটা বুঝতে শুরু করলাম দুপুরের পর থেকে । আমার কাজিন তখন সাতবাড়িয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র । কাজিনের সাথে করে দুপুরে গেলাম পাশের গোপালপুর গ্রামে , যাবার পথে পড়ল হেমরাজপুর গ্রাম । এই দু'টি গ্রামেও হাবিবের একটি পোস্টারও চোখে পড়ল না । ফেরার পথে কয়েকটি বাড়ির কুপিয়ে ঝাঁঝড়া করে ফেলা টিনের বেড়া চোখে পড়ল । কাজিন জানালো , এগুলো স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাড়ি । কোপানোর আগেই পরিবারসহ সমস্ত বিএনপি নেতারা গা ঢাকা দিয়েছে ।

বিকেলে গ্রামে ঢুকে বুঝলাম পরিস্থিতি থমথমে । আমাদের কুড়িপাড়া গ্রামে বিএনপি আওয়ামী লীগের শক্তি মোটামুটি ৪৫:৫৫ । কিন্তু গ্রামের বিএনপি ভাবাপন্ন ছোটখাটো গোছের সব নেতাই পালিয়ে ঢাকা চলে গেছেন । গ্রামের প্রতিটা মানুষই কোন না কোনভাবে একে অন্যের আত্মীয় । নিজের আত্মীয়ের প্রতি শুধু রাজনৈতিক কারণে এটা ক্রুদ্ধ হতে পারে , সেটা ভেবে অবাক হলাম।

অবাক হওয়ার তখনও ঢের বাকি । রাতে কাজিনের বন্ধুরা আসল , রাত ১১ টার পর থেকে এলাকার সমস্ত ছেলেকে নিয়ে গ্রামের চারপাশ পাহাড়া দিতে নাকি হবে , নয়ত বিএনপির লোকেরা গোপনে গ্রামে চলে আসতে পারে । সেটা না হয় মেনে নেয়া গেল , কিন্তু পাহাড়ার কাজে যা সরবরাহ করা হয়েছে , সেটা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । অসংখ্য রামদা আর লাঠি আনা হয়েছে , যেগুলো নিয়ে রাতভর পাহাড়া চলবে বিশাল এলাকা জুড়ে । ভোররাতের দিকে আয়োজন করা হবে ভুড়ি ভোজের ।

আমাকেও বলা হল তাদের সাথে যেতে , অন্তত খাওয়া দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করতে । ভাল ছাত্র মনে করত বলে , গ্রামের সবাই আমাকে বেশ খাতির যত্ন করত । হঠাৎ কেন যেন আমার মনটা এসব দেখে বিষিয়ে উঠল , তাদের বললাম , না ভাইয়া আমি যাবো না

আমাদের গ্রামটা সুজানগর থানার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত । সাতবাড়িয়া যেতে মটরসাইকেলে বড় জোড় ৭/৮ মিনিট লাগে , যাবার পথে দু'টি গ্রাম । অবাক ব্যাপার হল গ্রাম দু'টির মাঝে প্রথমটির ৯৯ ভাগ লোক ঐতিহ্যগত ভাবে আওয়ামী লীগের সাপোর্টার । আর পরের গ্রামটির ৯৯ ভাগ লোক বিএনপি সমর্থক । বিএনপি সমর্থক গ্রামটির অবস্থান তারাবাড়িয়া এবং সাতবাড়িয়ার মাঝে । ততদিন সাতবাড়িয়াতে যে কজন বিএনপি মনা ছিলেন , তারাও প্রাণভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন । মাঝের গ্রামটির সব মানুষ বিএনপি বলে , তারা চরম বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে গেলেন । পুরো গ্রাম ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না , অন্যদিক গ্রামের দু'পাশের দু' গ্রাম থেকে শুরু হল হামলার আশঙ্কা । সাতবাড়িয়া যাবার পথে গ্রামটি ক্রস করলাম , গ্রামের মানুষজন তখন গ্রামের মাঝে অবরুদ্ধ ।

সাতবাড়িয়া গিয়েছিলাম মন্ত্রীদের দেখতে । সেদিন বিকেলে এসেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম । নাসিম আসতেই , নাসিমকে ঘিরে তুমুল স্লোগান দিতে শুরু করল আওয়ামী লীগের কর্মীরা । একটা স্লোগান খুব বেশি করে কানে বাজে "একটা করে বিএনপি ধর , ধরে ধরে জবাই কর" । আমার ধারণা ছিল , নাসিম হয়ত কর্মীদের নিরস্ত করবেন , কিন্তু নিরস্ত করা দূরের কথা , নাসিম বক্তব্য শুরুই করলেন উপনির্বাচনে বিএনপি জোর-জুলুম করছে সে অভিযোগ দিয়ে । একই বিকেলে বিএনপির হয়ে সুজানগর এসেছিলেন খলনায়ক ওয়াসিমুল বারী রাজীব । সুজানগরে রাজীবকে লাঞ্চিত করা হল ।

সেরাতে খিচুরির পরিবর্তে বিরানী-মুরগীর মাংসের আয়োজন হবে জানিয়ে আমার কাজিনের বন্ধুরা দাওয়াত দিয়ে গেল । আমার চেয়ে সবাই বয়েসে ৩ বছর বড় বলে কিছু বলারও ছিল না । তবে একবার মনে হয়েছিল , রামদা , বল্লম নিয়ে রাতভর এলাকা পাহাড়া কেমন চলে দেখে আসি ।

পরের দিন সাতবাড়িয়ার জনসভার কথা ভুলবার নয় । প্রধান বক্তা ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক । সাতবাড়িয়ার অবস্থান পদ্মা নদীর ধারে , নদীর ঠিক ওপারেই রাজবাড়ীর পাংশা , সে সূত্রে বহু মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্কে নিয়মিত পাংশা যাতায়াত করেন । রাজ্জাক বললেন "আপনাদের আর কষ্ট করে নদী পার হতে হবে না , আমি এখান দিয়ে ব্রীজ করে দেব , হেঁটেই চলে যেতে পারবেন" । মাত্র ১৪ বছর বয়সে এত বড় মিথ্যাচার শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । সাতবাড়িয়া পয়েন্ট দিয়ে পদ্মা সেতু হওয়ার আগে পদ্মার উপর অন্তত ২০ টি সেতু নির্মিত হবে (উল্লেখ্য , পদ্মার উপর সবেধন নীলমনি মাওয়া সেতুর নির্মাণকাজও এখনও শুরু হয়নি) । তবে , সহজ সরল এলাকাবাসীর মাঝে এই ঘোষণা তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করল । মিটিং থেকে ফেরার পথে লক্ষ্য করলাম সবার মুখে মুখে এক কথা , "ব্রীজ দিয়ে হেঁটে পাংশা যাওয়া যাবে"।

নির্বাচনের ঠিক দু'দিন আগে আওয়ামী লীগের মহিলা এমপিদের একটি দল আসলেন । পুরো উপজেলা কাভার করে তারা তখন সাতবাড়িয়াতে এসেছেন । সবার সাথে কোরান শরীফ । ঘরে ঘরে প্রবেশ করলেন তারা , মহিলাদেরকে কোরান শরীফ ছুঁইয়ে শপথ করাতে লাগলেন যে তারা নৌকা ছাড়া কোথাও ভোট দেবে না ।

জাতীয় মিডিয়াতে তখনকার অবস্থা পুরোপুরি জানা ছিল না । গ্রামে কেবল মাত্র জনকন্ঠ , আর ভোরের কাগজ আসত । সেসব পত্রিকায় এলাকার এসব ঘটনার একটিও আসতে দেখিনি । তবে নাজিরগঞ্জ এলাকায় বিএনপি লুন্ঠন সন্ত্রাস করছে বলে খবর বেরিয়েছিল বলে মনে আছে । নির্বাচনের আগের দিন আরও বেশি কিছু বাড়িঘর তচনচ করা হল । হেমরাজপুরে আগে থেকেই তচনচ করে ফেলা দু'টি ঘর আওয়ামী লীগের কর্মীরা পুড়িয়ে দিল।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসল । বিশাল এলাকাজুড়ে বিএনপির একটি পোস্টার নেই , গ্রামগুলোতে বিএনপির সমস্ত নেতা পালিয়ে গেছেন , লুন্ঠন , জখম চলছে , এমন অবস্থায় শুরু হল ভোটগ্রহন ।

কুড়িপাড়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে গিয়ে সকালেই দাঁড়িয়ে গেলাম ভোটগ্রহন দেখতে । পুলিশ বিডিআর মোতায়েন ছিল , সেনাবাহিনীর কথা ঠিক করে মনে নেই । ভোটকেন্দ্রের আশে পাশে কোন বিএনপি পন্থীর দেখা মিলল না , তবে বিএনপির পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে আছে বলে জানলাম । পুলিশের পাশে বসেই "আলিম" নামের এক ব্যক্তি ভোটার লিস্ট নিয়ে সিরিয়াল ঠিক করছিলেন । ঢাকা সহ অন্যান্য অনেক শহরে বসবাসরত দের অনেকেই গ্রামে ভোটার হয়েছিলেন , তবে উপনির্বাচনে ভোট দিতে আসেননি । তাদের বিশাল তালিকা করা হল , কার ভোট কে দেবে , সেটা ওখানে বসেই বলে দেয়া হচ্ছিল । পরিচিত অনেককেই দেখলাম দায়িত্ব নিয়ে ৩/৪ টি করে ভোট দিয়ে আসছেন । অনেকগুলো মেয়ে ছিল মেয়েদের জাল ভোটগুলি দেয়ার জন্য । আলিম কাকা দুপুরের দিকে অদ্ভূত একটা আব্দার করে বসলেন "মেহরাব , একটা ভোট দিয়ে আসো" । বয়সে ছোট ছিলাম বলে ন্যায় অন্যায় বোধটা আরও তীব্র ছিল । ভোট দিতে অস্বীকার করলাম ।

ভোট চলাকালীন সময়েই বাঁশ হাতে বেশ কিছু ধাওয়ার ঘটনা ঘটল । বিএনপির কিছু চিহ্নিত পাতি নেতা ভোট দিতে এসেছেন , এই গুজব ছড়িয়ে গেলে , তাদের খুঁজে বের করতে আওয়ামী লীগের অল্প বয়েসীরা বেরিয়ে গেল । পুরো ব্যাপারটা ঘটছিল পুলিশ বিডিআর এর একদম সামনে ।

বিকেলের দিকে গেলাম কাদোয়া গ্রামে । সেখানে ততক্ষণে একজন মাস্টার্স করা ছাত্রলীগ নেতা ৬১ ভোট দিয়েছেন বলে গর্ব করছিলেন । এবার হঠাৎ করেই মুখ খুলে বলে ফেললাম "কি নির্লজ্জ চুরি চামারী" । সবাই আমার চেনা , আর বয়েসে আমি ছোট বলে কেউ বিশেষ মাইন্ড করল না । একজন হাসিমুখে বোঝালো "ঢালার চর" এ বিএনপি একই রকম চুরি করতে পারে , চান্স আছে , কাজেই ব্যালেন্স করতে হবে না ?

সন্ধ্যার পর পর কুড়িপাড়া হাইস্কুলের ফলাফল কেন্দ্রের সামনে ঘোষণা করা হল । নৌকা ১৩০০ , ধানের শীষ ৯০০ । এত কিছুর পরেও ধানের শীষে ৯০০ ভোট পড়েছে শুনে , অনেককে দিশেহারা হয়ে যেতে দেখলাম । উপলব্ধি করলাম , কোনভাবে বিএনপি জিতে গেলে বিরাট খুন খারাবি আসন্ন ।

আল্লাহর রহমতে ফলাফল ঠিকঠাক মতই হল , একে খন্দকার ৮০০০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেন , সেলিম পেলেন ৬০০০০।

পরিশিষ্ট : সেলিম ২০০১ এ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন , তবে তার সময়টায় সুজানগর আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয় , এলাকার জন্য তিনি কিছুই করেননি । তবে উপনির্বাচনে বিজয়ী একে খন্দকার বহিরাগত হয়েও সে সময় বেশ কিছু কাজ করেছিলেন । এলাকায় তিনি খুব বেশি যদিও যাননি , ফলে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আওয়ামী জোর জুলুমের সাথে সেভাবে সংশ্লিষ্ট নন বলেই আমার মনে হয়েছিল । ২০০৮ এ একে খন্দকার পুনরায় বিজয়ী হন । উপনির্বাচনে বিএনপি কারচুপি আর জুলুমের অভিযোগ করেছিল বলে মনে আছে । তবে সেটা চরম এবং তীব্র ছিল না , সেটা থেকে ধারণা হয়েছিল এধরণের দস্যুতাকেও চরম ভাবা হয় না । যখন প্রকাশ্যেই মারামারি , খুন খারাবির ঘটনা শুনি , তখন ঘটনার ভয়াবহতা আন্দাজ করতে গিয়ে শিউরে উঠি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29141099 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29141099 2010-04-24 12:25:21
সুপ্রভাত বাংলাদেশ :: এই সুন্দর স্বর্ণালী সকালে (ফিচার রিপোর্ট) ১....
ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটার দিকে তাকিয়ে আজও চোখের জল ফেলেন আদাবর এলাকার গৃহিনী সবিতা শাহনাজ । খেলাচ্ছলে ঘরের ইলেকট্রিসিটির প্লাগ পয়েন্টে হাত দিয়ে বসেছিল ৪ বছরের অবুঝ শিশু শাহেদ। সেই যে ছেলেটি জ্ঞান হারালো , আর ফিরে আসেনি। ছেলের চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না সবিতা ।

চট্টগ্রামের সামিরা শাহিনের গল্পটাও একই রকম। বারান্দা থেকে বাতাসে উড়ে গিয়ে কাপড় আটকে ছিল , রাস্তার ওপরের ইলেকট্রিসিটির তারে । স্বামী মুনীম শাহিনকে জানানোর পর, পর্দা ঝোলানোর স্টিলের স্ট্যান্ড নিয়ে কাপড় তুলতে গিয়ে ঘটে যায় বেদনাদায়ক সে ঘটনা । পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর ধাক্কা আজও সামলে উঠতে পারেননি সামিরা ।

সামিরা ,সবিতা হারিয়েছেন তাদের প্রিয়জন । পদ্মা যমুনায় গড়িয়েছে অনেক জল , বদলে গেছে পুরনো সেসব দিন। "বৈদ্যুতিক আঘাতে" আর খালি হয়না আর কোন মায়ের কোল । আন্দরকিল্লায় মুনীমের ঘরের সামনে গিয়ে দেখা গেল ১১ কেভি লাইনের উপর বসে পাখি গাইছে , লম্বা লোহার রড দিয়ে ১১ কেভি লাইনে ছুঁয়ে ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করছে মাজিদ শাহিন। ছোট ছোট শিশুরা নির্ভয়ে ঘরের প্লাগপয়েন্টগুলোতে মেটাল ঢুকিয়ে খেলাচ্ছলে তড়িৎ প্রকৌশলের কলাকৌশল শিখে নিচ্ছে ।

সবিতা , সামিরাদের বেদনাবিধুর দিনের ঘটনাগুলো আজ যেন সুদূর অতীত । বৈদ্যুতিক শকে মৃত্যুর হার পৌছে গেছে শূন্যের কোঠায় , শান্তি পেয়েছে মুনীম , শাহেদের আত্মা ।

২....
রাশেদ সাহেবের শৈশব কেটেছে বরিশালে । নদী-নালার সাথে সম্পর্ক তার রক্তে মিশে আছে । ঘন্টার পর ঘন্টা নদীতে সাঁতরে বেড়াতেন তিনি । কিন্তু প্রাইভেট ইউনি পড়ুয়া দু'ছেলে মেয়ের কেউ সাঁতার জানে না । এ ভয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কখনও দেশে বেড়াতে যাননি রাশেদ সাহেব । "এত বড় শহর কিন্তু সাঁতার শেখার ব্যবস্থা ছিল না কোথাও" .. রাশেদ সাহেবের কথায় আক্ষেপ ঝরে পড়ে । শেষমেশ ভেবেছিলেন বর্ষায় ফকিরাপুল শান্তিনগরের রাজপথে জন্ম নেয়া সাগরেই সাঁতার শেখাবেন ছেলেমেয়েদের । কিন্তু রোজ রোজই বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতো সে পানিতে , রাজপথগুলো হয়ে থাকত মৃত্যু ফাঁদ হয়ে । এবার বর্ষার অপেক্ষা করছেন রাশেদ সাহেব , শুনেছেন এবছর স্মরণকালের দীর্ঘতম জলাবদ্ধতা হবে ঢাকার রাস্তায় । সে পানিতে শয়ে শয়ে তার ছিঁড়ে পড়ে থাকলেও এবার সাঁতার কাটা যাবে নির্ভয়ে । " সাঁতার শেখানো হলে এবার সবাইকে নিয়ে দেশে ঈদ করব , যেখানে ওদের শেকড় , সেখানটা ওরা চিনে আসবে , বিপন্ন জীবনে আসবে নতুন সম্ভাবনা" ... রাশেদ সাহেবের চোখে দ্যুতি খেলা করে ।

৩...
রেজাউল করিম দীর্ঘদিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন , সততা থেকে বিচ্যুত হননি কোনদিন । অবসর সময়টা পার করছেন এলাকায় জনসেবা করে । মানুষের কাছাকাছি গিয়ে যে চিত্রটি তিনি পেয়েছিলেন , সেটা তার কাছে ছিল রীতিমত আঁতকে ওঠার মত । এলাকার প্রায় প্রতিটা বাড়িতে ইলেকট্রিক মিটারে চলে কারচুপি , মিটার রিডারদের সাথে সখ্যতা করে সবাই সরকারকে ফাঁকি দেন । সামাজিক অবক্ষয়ের এহেন দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা দেখে মানুষের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন । "সে বিশ্বাস আজ ফিরে এসেছে , এলাকার মানুষের মিটার রিডারদের সাথে ঘুষদেয়া নেয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে । মিটার ঘোরে না বলে সবার মিটার রিডিং বড় কোন অংক ছুঁতেই পারছে না , তাই ঘুষ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে । যখন মানুষের মাঝে জন্ম নেয়া নিষ্ঠা আর সততা দেখি , তখন মনে হয় এবার শান্তিতে মরতে পারব"

৪...
খুলনার খালিশপুরে মোজাম্মেল প্রধানকে মাত্র কয়েকদিন আগেও সবাই ডাকত "ঘাটের মড়া"। যৌবনে মল্লবিদ হিসেবে মোজাম্মেলের খ্যাতি যশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল , এক বসায় আস্ত ৭/৮ টি মুরগী খেয়ে ফেলতেন । সেই মানুষটি হঠাৎ করেই যেন বয়সের ভারে ন্যূজ হয়ে গেলেন , অনেক বছর ভাল করে কিছু খেতে পারেননি । অস্থি চর্মসার কাক ভুষুন্ডি হয়ে বেঁচে আছেন গত দু'টি দশক । হঠাৎ করেই সেই মানুষটির মুখে রুচি ফিরে এসেছে । গায়ে গতরে নতুন মাংস লাগছে । ক্ষীণ কন্ঠে জানালেন ... "আবার সেই স্বাদ পাচ্ছি খাবারে" । গ্যাস পাইপলাইনে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাবার পর , মোজাম্মেলের ছেলেদের বাসায় রান্না হচ্ছে খড়িতে । গ্যাসের রান্নায় হারিয়ে গিয়েছিল যে স্বাদ , খড়ির চুলোয় আবার তা ফিরে আসছে।

৫...
জীবন সংগ্রামে চারদশক আগে রংপুর থেকে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কামাল আহমেদ । ছোটবেলায় দেখেছিলেন খরার দুর্বিষহ প্রকোপ । বৃষ্টি চেয়ে গ্রামে সেসময় আয়োজন করা হত প্রার্থনা আর গানের । সেসব ক্থা ভেবে কাতর হতেন কামাল সাহেব । চৈত্রের দাবদাহে কলে পানি না পেয়ে কামাল সাহেবের শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলো ফিরে আসে যেন বারবার ।


হাসি-আনন্দের চিরচেনা ছবিগুলো ফিরে আসছে যেন দেশ জুড়েই , বহুবছর পর পূর্ণিমার আলোতে ঝলসে যাচ্ছে বাংলাদেশ , আল্লাহ মেঘ দে পানি দে'র সুরে প্রকম্পিত হচ্ছে সংস্কৃতিঙ্গন , শিল্প চর্চায় এসেছে গতি , দুর্নীতির শেকড় উপরে চারদিকে নতুন করে সূচিত হয়েছে সুনীতির জয়গান। নতুন দিনের প্রভাতফেরীতে হাত হাত রেখে চলুন এগিয়ে চলি সবাই ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29128941 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29128941 2010-04-04 17:24:33
বিব্রত দৌড়ের বিবৃতি এবং বিস্কুটের আক্ষেপ (১৯৯৪-১৯৯৯)
মাসখানেক বাদে ভর্তিপরীক্ষা নামক মহারণে টিকে গিয়ে সফলভাবে
জীবনে প্রথমবারের মত ছাত্র হওয়ার গৌরব অর্জন করলাম । একখানা
স্কুলের সাথে পেলাম স্কুলের সামনে এক চিলতে মাঠ । সে মাঠে স্বল্পায়ু টিফিন পিরিয়েডে এলোপাতাড়ি দৌড়াদৌড়ি করে অন্তত প্রাণ রক্ষা হল ।

জুন মাস ঘনাইয়া আসিতেই ফুটবল বিশ্বকাপের তুমুল দামামা বাজিয়া
উঠিল । বয়স অতিশয় কম হলেও ফুটবলখোর হিসেবে আমি ছিলাম অকালপক্ক । সুদূর মার্কিন মুল্লুকে খেলা হওয়ার দরুণ ৯৪ বিশ্বকাপের খেলাগুলোর বেশির ভাগ গভীর রাতে শুরু হত । কিছু খেলা হত সকালবেলায় ।

আমি জন্মলগ্ন থেকে ব্রাজিল অন্তঃপ্রাণ , কিন্তু সেবার গোল বাধালো সাঈদ ওয়াইরান । ওয়াইরানের আরব্য রজনীর রুপকথা বলার আগে তার দেশ নিয়ে দু'টো কথা বলার প্রয়োজন বোধ করি । সৌদি আরব সেবার প্রথম বিশ্বকাপে উন্নীত হওয়ায় , তাদের নিয়ে ছেলেখেলা করার জন্য ইউরোপের তৎকালীন পরাশক্তি হল্যান্ড আর শক্তিধর বেলজিয়ামের হাত নিশপিশ করছিল , সেটা বলাই বাহুল্য । রুড গুলিত , রাইকার্ড সমৃদ্ধ ওলন্দাজদের বিরুদ্ধে খেলাটা হল এক সকালে । আমার ভাবনার বিপরীতে লক্ষ্য করলাম , সৌদি খেলোয়াড়দের মাঝে শেখীয় দুম্বা-দামড়া ধবধবে খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নেই , বরং মোটামুটি সবাই লিকলিকে কালো , তালপাতার সেপাই হয়ে আমার স্বাজাত্যবোধ-জাত সহানুভূতি জাগ্রত করে তুলল। সেই সকালে সৌদিরা দাঁতে দাঁত চেপে খেলল , ওলন্দাজদের ঘাম ঝরলো দেদারসে , কোন রকমে ২-১ এ ম্যাচ জিতে মান রক্ষা করল তারা।

বিশ্বকাপ নিয়ে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া বাচ্চা-বালকের অতিশয় চঞ্চলতা দেখে , আমার মা প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসলেন । ঘরে জারি হল রেড অ্যালার্ট , রাত ১২ টার পর খেলা দেখা যাবে না । বাবাকে উকিল ধরে , বাবার শার্টের কোণা ধরে ব্রাজিল জার্মানির কিছু কিছু খেলা দেখার সুযোগ হতে থাকল , কিন্তু সৌদি আরব-বেলজিয়াম খেলার মাহেন্দ্রক্ষণে বাবার সন্ধান মিলল না । সন্তর্পনে রাত দ্বিপ্রহরে টিভি অন করিলাম । প্রসঙ্গক্রমে বলি, সেই যুগে , বেলজিয়াম দলে কালজয়ী এনজো শিফো ছাড়াও গোলবারের নিচে মাইকেল প্রেডহোম নামীয় এক অতন্দ্র প্রহরী অবস্থান করিতেন । সেবার বিশ্বকাপে মাইকেল সেরা গোলরক্ষীর পুরস্কারটিও হস্তগত করেছিলেন ।

কিন্তু সৌদি আরবের সাথে খেলার শুরুতে যা ঘটল , তা অভাবনীয় । দর্শকরা তখনও গ্যালারিতে আড়মোড়া ভাঙেননি , কিন্তু মাঝমাঠে লিকলিকে কুচকুচে সৌদি তুর্কী , সাঈদ ওয়াইরানের পায়ে বল যাবার পর স্রষ্টার বিচিত্র খেয়াল হল । কাউকে পাস না দিয়ে সাঈদ যে দৌড়টি শুরু করলেন , তার খানিকটা সোজাসুজি , খানিকটা সর্পীল , কিঞ্চিত স্বপ্নিল , শৈল্পিক আর গতিশীল । স্বপ্নের সে দৌড়ের শেষে যখন মাইকেলকে একাকী পেয়ে গেছেন , পেছনে তখন ছিটকে পড়ে আছে গোটা ছয়েক বেলজীয় পরাস্ত ফুটবল সেনা । শেষ শটে যখন মাইকেলকেও বশ্যতা শিকার করালেন সাঈদ , ঘড়ির কাটায় তখন ৫ মিনিটেরও কম , স্কোরকার্ডে সৌদি ১ বেলজিয়াম ০ । আমি মুগ্ধ বিহ্বল হয়ে গেলাম । মুগ্ধটার রেশ কাটতে না কাটতেই বেরসিক মা হাজির হয়ে নির্মমভাবে টিভি সুইচ অফ করে দিলেন । ব্রাজিল আর্জেন্টিনা হলে হয়ত মা খানিক সদয় হতেন , কিন্তু সৌদি আরবের খেলার মাহাত্ম তাকে বোঝানোর সাধ্য কার ? মনে জমা দুঃখ নিয়ে চোখ বুজলাম।

মরুদুলাল সাইদের স্বপ্নের দৌড় দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়ে থেমে গেল ঠিকই , কিন্তু জাদুকর হিসেবে তদ্দিনে আরেকজন শুরু করে দিয়েছেন তার ভেল্কি । তার নাম --------- রবের্তো বাজ্জিও । ইতালির হয়ে একা পায়ে দ্বিতীয় রাউন্ড , কোয়ার্টার ফাইনাল , সেমিফাইনালে গোলের পর গোল করে গেলেন , আর প্রতিটা গোলের পর হাতের তালু ঠোঁটে ছুঁয়ে গ্যালারির দিকে ছুঁড়ে দিতে দিতে দৌড়ুলেন সেই ট্রেডমার্ক দৌড় । ওমন ছুঁড়ে দেয়ার নাম যে ফ্লাইং কিস , সে শব্দটি তখনও আমার ডিকশনারিতে আপলোড হয়নি । কিন্তু হাস্যোজ্জল হাত চুমু ছুড়ে দেয়া বাজ্জিওর দৌড় আমাকে আষ্ঠে পৃষ্ঠে ঘিরে ধরল ।

সেসময় যা ঘটিল , তাতে রীতিমত কেলেঙ্কারি হয়ে যাবার সম্ভাবনা জাগলেও , স্রষ্টার কৃপায় শেষমেশ আর তা হল না । ওয়াইরান ভূতে আমি তখন ভালোমতই সওয়ার , বিশ্বকাপ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমাদের পিচ্চিদের মাঝে ফুটবল জোয়ারও তুঙ্গে , পায়ে বল আসলেই নিজেকে ওয়াইরান মনে হয় , আর চারদিকটা যেন ভরে যায় লাল জামা পড়া বেলজিয়ান ডিফেন্ডারে । সবাইকে ছিটকে ফেলে গোল দেয়ার ফ্রেমের শেষটায় আমি আবার এককাঠি সরেস , সেখানে থাকে ব্যাজ্জিওর হাত চুমু ছুঁড়ে দেয়া দৌড় । Man proposes , but god disposes .... কয়েকদিন আপ্রাণ চেষ্টার পরও সাঈদ ওয়াইরানের বদলে মেহরাব হয়রান হয়েই রইলাম , সাইদের পরের ফ্রেমের ব্যাজ্জিওর দৌড়ও জীবন পেল না , ছুঁড়ে দেয়া হল না সেই অজানা অনুভূতি । উল্লেখ্য , গ্যালারিতে সে সময় মেয়েদের অনেকেই উপস্থিত থাকত । যে ছেলেটি মেয়েটির দিকে লজ্জায় চোখ তুলেও তাকায় না , সে ওমন কিছু ছুড়ে দিলে , কি ঘটতে পারত , পাঠক নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন , সেদিক থেকে ভাবতে গেলে পিঠের আয়ু বাড়ল।

মাস ঘুরে অবশেষে এলো সত্যিকার দৌড়ের ক্ষণ । জীবনের সব দৌড় গল্প থেকে সত্যি করার জন্য স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা । কেমন দৌড়াই সে বিষয়ে ভাল জ্ঞান ছিল না বিধায় , প্রতিযোগিতার আগের দিন ক্লাসের ছেলেরা মিলে উত্তপ্তকরণ (ওয়ার্ম আপ) করার ব্যবস্থা হল । সে দৌড়ের পুরোটা জুড়েই আমার মস্তক গুঁতোদ্দত ষাঁড়ের মত সামনের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে রইল , মাঠের ওমাথায় পৌছে যখন মাথা তুললাম , দেখলাম সবাই পেছনে পড়ে গেছে । এ ঘটনায় আমার ছোট মনে প্রবল আশার সঞ্চার হল ।

শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর । আশপাশে পঞ্চম শ্রেণী ছাড়াও ষষ্ঠ আর সপ্তম শ্রেণীর স্বল্প-উচ্চতার বেশ কিছু পটেনশিয়াল কিছু দৌড়বিদকে দেখলাম । আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম , ষাড়ের শিং গুঁতোনোর ভঙ্গিতেই মাথা নিচু করে বাতাস ফুঁড়ে ছুটব । স্টার্ট বলতেই শুরুটা করলামও ঠিক অমন ,
কিন্তু টের পেতে শুরু করলাম আমার নাক ক্রমশ মাটির দিকে ছুটে যাচ্ছে , খানিক পরেই অবধারিত ক্রাশ ল্যান্ডিং। মাঠের মাঝামাঝি এসে তীব্র ঘষা খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম । দু'হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বিমানের পাখারুপী হাতের একটা আঙ্গুল মচকে গেল বুঝি । এবড়ো থেবড়ো
রানওয়েতে , চাকাবিহীন বিমানের ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ে অবলা বিমানের কি ভয়াবহ কষ্ট হয় , তার যেন জীবন্ত স্বাক্ষী হয়ে রইলাম । হাত পা ছলে যাবার পরও আমার কিছু গায়ে লাগত না , যদি মায়ের কাছে ব্যাপারটা চেপে যাওয়া যেত , কিন্তু ডান হাঁটু বরাবর প্যান্টের বিশাল ফুটো দিয়ে দৃশ্যমান রক্ত ঝড়া হাঁটু , সে অবকাশ রাখল না । মা যথারীতি , ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কর্মকর্তারুপে আবির্ভূত হয়ে আমাকে অ্যাথলেটিকস ফিল্ডে সাময়িকভাবে ব্যান করে দিলেন ।

ব্যান খাবার পরও মায়ের অজান্তে দৌড়াদৌড়ি , গরম পানি , ঠান্ডা পানি , বোম বাস্টিং চলতেই থাকল । বছর ঘুরে আসল আরেকটা ক্রীড়া
প্রতিযোগিতা । কথায় বলে , স্বভাব যায় না ধুলে , ইল্লত যায়না মলে । দুরুদুরু বক্ষে আরেকবার নিজের নাম দিয়ে দিলাম । এবার প্রতিজ্ঞা ছিল , আর নয় ষাঁড়ের নত মাথা হেট দৌড় , দৌড়াব এবার বুক উঁচিয়ে । হলও তাই , কিন্তু হিটেই দেখা গেল , আমার পেছনে তেমন কাউকে দেখা গেল না । বুঝতে বাকি রইল না , আমার দৌড়ের হালত বড়জোর "শামুক খালে কচ্ছপ রাজা"র মতন । কিন্তু তার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটল অন্য জায়গায় । টাচলাইন অতিক্রম করেও পুরনো কুফা পিছু ছাড়ল না , একজনের সাথে ধাক্কা খেয়ে হাঁটু গেড়ে মৃদুভাবে পড়লাম । তাতেই যা হবার হয়ে গেল , আগের বারের ডানহাটুর সাথে ইনসাফি করে এবার বাঁ হাটু ছলে গেল , সাথে সে ক্ষত দৃশ্যমান করার জন্য প্যান্ট ভেদ করে বিশাল এক জানালাও রচিত হল।

পাঠক মাত্রেই জানেন , ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন প্রথমবার ডোপ পাপের জন্য দু'বছরের জন্য সাময়িক , আর দ্বিতীয়বার পাপের জন্য আজীবন অ্যাথলেটকে নিষিদ্ধ করে থাকে ।দ্বিতীয় দফায় মত প্যান্টের হাঁটু ফাটিয়ে ফেলার অপরাধকে ডোপপাপের মত ট্রিট করে মা আমাকে আজীবন দৌড়াদৌড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলেন ।

নিষেধাজ্ঞা মেনে খুব ভদ্র হয়ে গেলাম এমন না । তবে , গরম পানি , বোম বাস্টিংয়ের মত আধ মেয়েলি খেলা ত্যাগ করে আমরা বন্ধুরা সুপুরুষ হওয়ার ধান্দায় টিফিন পিরিয়ডে লং জাম্পের প্রবর্তন ঘটালাম । ধীরে ধীরে লং জাম্পে অংশ নেয়া টিফিনিয়ারের সংখ্যা বেড়েই চলল । লং জাম্পের লম্ফ দেয়ার আগে বেশ খানিকটা জোরে দৌড়ে আসতে হয় । যেভাবেই হোক , টিফিন পিরিয়ড জাম্পে আমি বিপুল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলাম । আগের বছর যে ছেলেটি লং জাম্প জিতেছে , তাকে হারাতে লাগলাম নিয়মিত ।

আসলো ক্লাস সেভেনের প্রতিযোগিতার ঘোষণা । মায়ের অজ্ঞাতে নতুন স্বপ্নে বুক বেঁধে আবার নাম লেখালাম প্রতিযোগিতায় । ভাবখানা এমন যে স্প্রিন্টার কার্ল লুইস ক্যারিয়ারের শেষে এসে যেমন পুরোদস্তুর লং-জাম্পার হয়ে গিয়েছিলেন , আমিও ঠিক তেমন কেউ । কিন্তু একি হল ? ইভেন্ট তালিকায় আতিপাতি করে খুঁজেও লং জাম্পের দেখা মিলল না , জাম্প একটাই , সেটা ট্রিপল জাম্প ।

হাজার হোক জাম্প্ তো জাম্পই । ট্রিপল জাম্পের আগে স্যার নিয়ম শিখিয়ে দিলেন । দৌড়ে একস্টেপ , দু স্টেপ , তারপর ফাইনাল ঝাঁপ । পুরো দৌড়টার মাঝে একটা দারুণ রিদম আছে , নর্তকীদের মত । শরীরটা একবার এদিকে বাঁকে , পরক্ষণে উল্টোদিকে । স্টেপ গুলো ফেলতে হয় এক পায়ে । যথাসময়ে আমার পালা আসল , দৌড়ে গেলাম , কিন্তু হায় , কোথায় আমার নাচের মুদ্রা ? এক পায়ের বদলের ব্যাঙের মত জোড়া পায়ে দিলাম প্রথম লাফ , তারপর চরম হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জোড়া পায়ে দ্বিতীয় লাফ , ফাইনাল লাফ নিয়ে তখন বিরাট দ্বিধা , অসহায়ত্ব । স্যারই এগিয়ে এলেন , সামনে হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করলেন ..... "ডিসকোয়ালিফাইড"

দৌড়ের ক্যারিয়ারে ততদিনে ওয়াইরান হতে চাওয়া মেহরাব , হয়রান এক ব্যর্থের নাম । পরের বছর স্কুল বদলে চলে গেলাম আইডিয়াল স্কুলে । বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিজের পা দু'টোকে আটকে রাখতে পারলাম না । তার আগে আবু বকর স্যারের কথা বলি , যার কাছে আমি অংক বিজ্ঞান প্রাইভেট পড়তাম । স্কুলের স্যারদের মাঝে তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় , ব্যাচে পড়ার সময় স্যার খেলাধুলা বিষয়ক গল্পে বিশাল কনট্রিবিউশনের জন্য স্যার আমাকে বেশ পছন্দ করতেন । মাঠে নেমে যখন দেখলাম , স্যার মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন , তখন খানিক দমে গেলাম ।

আগের স্কুলের সব ব্যর্থতার অতীত স্মৃতি মুছে আমি তখন নতুন খোলসে । জানা গেল , দূরপাল্লার দৌড়ে একসাথে সবাই অংশ নেবে । অতীত ইতিহাস আর স্যারের চাহনি , দুয়ে মিলিয়ে স্বল্প পাল্লার দৌড় বাদ দিলাম , রাতারাতি পরিণত হলাম দূরপাল্লার দৌড়বিদে । একসাথে এত ছেলের মাঝে ব্যর্থ হলেও কেউ বুঝতে পারবে না , এতটুকুন ভরসা নিয়ে নেমে গেলাম । কিন্তু হায় , বিধাতা অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন আলাদা করে । স্কুলের মাঠ ছোট বলে একটা বৃত্তাকার দাগের চারপাশে ১৮ বার ঘুরতে বলা হল । বিপুল সংখ্যক ছেলে একসাথে শুরু করল সে দৌড় । বৃত্তের ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে খানিক পর টের পেলাম বৃত্তের কেন্দ্রের দিকে অস্বাভাবিক ভাবে বেশি হেলে দৌড়াচ্ছি ।পাঠক যদি ভিজুয়ালাইজ করতে চান , তবে
মোটরসাইকেল রেসে হাঁটু ছুয়ে বাঁক নেয়া ভূমির সমান্তরাল বাইকগুলোর কথা ভাবুন ।

খানিক পর দেখা গেল , যে ছেলেটি সবচেয়ে ভাল দৌড়াচ্ছে , সে আমার কাঁধ ঘেষে যেন ঠিক পেছনে নিঃশ্বাস নিচ্ছে ।খুশি হওয়ার বদলে , গভীর হতাশা ততক্ষণে আমাকে গ্রাস করে ফেলেছে , হয়ত ভাবছেন কেন? কারণ ছেলেটি এর মধ্যেই এক ল্যাপ বেশি দৌড়ে আমার গায়ে ঘেঁষে আছে ।

ফিজিক্সের রুলস রেগুলেশন নিয়ে তখনও জ্ঞান হওয়ার সুযোগ হয়নি , তাই কেন্দ্রমুখি বল , বিমুখি বল , ত্বরণ নিয়ে শরীরে যে অনুভূতি হচ্ছে , সেগুলো বিজ্ঞানের পরিভাষায় অনুবাদ করতে পারছিলাম না ।

ফিজিকস বলে , কেন্দ্রমুখী বলের ভেক্টর দিক ,সবসময় বৃত্তাকার পথের স্পর্শক বরাবর । এমন হাবিজাবি ফিজিক্সের সূত্রগুলো সিরিয়াল ধরে যেন প্রমাণ করার ক্ষণ এসে গেল । হঠাৎ করে ভীড়ের মাঝে কারও পায়ে যেন আটকে গেল আমার পা , স্পর্শক বরাবর উড়ে গেলাম যেন , তারপর খানিক দূরে গিয়ে ধপাস করে পতন , চোখে পড়ল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কারও একজনের পা , ধীরে মাথা তুললাম .... নির্বাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন ... আবু বকর স্যার ।

(( ট্রিপল জাম্প এবং দূর-পাল্লার দৌড়ে এমন মর্মান্তিক ক্যারিয়ার শেষে আমার উপলব্ধি হল , আমাকে আমার সম্ভবনাময় ইভেন্ট বিস্কুট দৌড় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে । অংকের মাথা বেশ ভাল ছিল বলে , ঝটপট অংক কষে দিতে পারতাম । কাজেই অংক যদি খুব কঠিন হত , তাহলে বিস্কিট সবার শেষে খেয়েও আমিই বিস্কিট দৌড় জিততাম । কিন্তু যে বয়সে এই ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত সে বয়সে আমাকে গৃহে পাঠদান করে , এ ইভেন্টের বিজয় আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়))

দৌড় নিয়ে লেখা প্রথম পর্ব :
স্মৃতির দৌড় , দৌড়ের স্মৃতি : গল্পে , অনুভবে (১৯৮৮-১৯৯৪) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29099471 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29099471 2010-02-17 03:03:35
স্মৃতির দৌড় , দৌড়ের স্মৃতি : গল্পে , অনুভবে (১৯৮৮-১৯৯৪) কৃতজ্ঞতার , বাবার ভালবাসার :
দৌড়ুনোর প্রথম স্মৃতি .... স্মৃতির ক্যালেন্ডারে ৮৮ সালের মার্চের এক সকাল , সকালের সৌম্য ভেঙে শহরের আকাশ জুড়ে এক ঝাঁক ইরাকী
বোমারু বিমান । শহরের নাম কেরমানশাহ ,আমরা সে শহরে অতিথি ,
ইরান থেকে দেশে বেড়াতে আসার জন্য আমাদের যাত্রা , সে যাত্রাপথে
সেই সকালেই কেরমানশাহে আমাদের প্রবেশ । কেরমানশাহে তখনও গাড়ি থেকে নামার ফুসরত মেলেনা আমাদের , হঠাৎ গগনবিদারী
সাইরেন , পরক্ষণেই সব এলোমেলো , কি করে গাড়ি থেকে নেমে আসি
বাবার কোলে , অতটুকুন ক্ষয়ে যাওয়া স্মৃতি ।

রাস্তাজুড়ে এলোমেলো গাড়ি , সব গাড়ির দরজা খোলা ,দরজা খুলে নেমে
আসা মানুষের স্রোত , সে স্রোতের একজন আমার বাবা , বাবার কোলে এক হাতে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখা আমি , অন্য হাতে মায়ের হাত , মায়ের চোখে অঝোর জল , মায়ের কোলে আধো বোলে আমার
ছোট ভাই । দু'ধারের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের ঝাঁক , চোখে মুখে আতঙ্ক , গাড়ির হর্ণ , সাইরেন .... , প্রাণপণে রুদ্ধশ্বাসে সবার ছুটে চলা । খানিক দূরে ডানে বামে কনক্রীটের আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার , বেঁচে থাকার আশ্রয় । ছু'টে চলা স্রোতগুলো সেগুলো সেখানে মিশে
যেতে দেখি ।

সেই আমার প্রথম, প্রথম ভীষণ গতি , ছু'টে চলার প্রথম স্মৃতি । বাবার পায়ে আমার প্রথম দৌড় , ছুটে চলার নকশায় প্রথম ফোঁড় । কি নাম সে স্মৃতির ? পিতৃত্বের , ভালবাসার নাকি কৃতজ্ঞতার ।

ছোট জীবনের , জীবনের মায়ার:
তারপর .... জীবন হাতে নিয়ে নিজের ছোট পায়ে দৌড়ুনোর স্মৃতিটা
খোদাই হতে বড়জোড় আর একবছর লাগে । রোজ বিকেলের খেলার সাথীটির নাম ইদ্রিস । এক বিকেলে কি খেয়ালে নিজের পোষা বদরাগী কুকুরটি আমার পেছনে লেলিয়ে দেয় । সে বয়সে , এতটুকুনই যেন আমার কাছে মৃত্যুর হাতছানি । রুদ্ধশ্বাসে আমি ছুটে চলি , পেছনে ছুটে আসে ইদ্রিসের কুকুর । বাসা পর্যন্ত পথটা অসীম দূরত্বের মনে হয় , এতদিনেও সে অনুভূতি আজও ফিকে হয়ে যায়না । আমার প্রাণশক্তি যেন ফুরিয়ে আসে , শেষ বিন্দুটুকু ঢেলে দিয়ে বাসার দ্বারে
পৌছে যাই , কিন্তু ঘরে ঢোকা হয়না । স্টিলের চৌকাঠে আমার ছোট কাঁধ আটকে যায় । পুরো বাসা কাঁপিয়ে দ্বারের সামনে আমি নিথর হয়ে
ছিটকে পড়ি । আচমকা ঘটনায় কুকুরটাকে ঘাবড়ে গিয়ে পালিয়ে যেতে
দেখি ।

উড়ে চলার:
দৌড়ের মাঝে উড়ে চলার স্বপ্নের স্থপতির নাম ইকারুস । স্কুলে যেতাম না বলে , ঘরে বসেই ইকারুসের গল্প পড়ে , গ্লাইডারে ভর করে আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখি ।আমাদের হসপিটাল কম্পাউন্ড ঘেঁষেই একটা গাঁ , সে গাঁয়ে মাত্র কয়েকটা ঘর , ঘর পেরুলেই হেলানো পাহাড় । বসন্তে লাল সাদা হলুদ অজানা নামের ফুলে , আর নাম জানা টিউলিপ ফুলে সে পাহাড় রঙিন কার্পেট জড়িয়ে নেয় । বিকেলে বন্ধুদের সাথে সে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে , দু'হাত দুপাশে আদিগন্ত ছড়িয়ে দিতাম , পাগুলো শিথিল করে ঢাল বেয়ে শুরু হত আমার দৌড় । বাতাসে ভেসে , উড়ে চলার স্বপ্নে রঙ মেখে পৌছে যেতাম পাহাড়ের পাদদেশে ।

পাশের শহরের হসপিটালের ডাক্তার আংকেলরা মাঝে মাঝে বেড়াতে
আসেন । তাদের ছোট ছেলেমেয়েগুলির বেশ ক'জনা আমার সমবয়েসী । তাদেরই একজন জুনায়েদ । এক উপলক্ষে জুনায়েদরা বেড়াতে
আসলে আমি ঐ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওকে উড়তে শেখাই । উড়ে চলার সে দৌড় জুনায়েদও ভালবেসে ফেলে ।

তারপর একদিন গাঁয়ে বড় বড় বুলডোজার আসে । পাহাড়ের ঠিক মাঝ চীরে তৈরি হয় রাস্তা । পাহাড় বেয়ে আমার ছুটে নেমে আসার গল্পও ফুরিয়ে যায় ।

লজ্জার:
জুনায়েদরা আবার আসে , পাহাড়ের চূড়াতেও ওঠে । কিন্তু ভুলে যায় সে রাস্তার কথা । হেলানো বলে , পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো পাহাড় দেখার জো নেই , সে না দেখাই কাল হয়ে দাঁড়ায় , কিছু বুঝে উঠার আগেই ও নিচের দিকে ছুটে যায় । ঢাল বেয়ে নিচে দৌড়ে গিয়ে দেখি , রাস্তার উপর অসহায় ভাবে ও পড়ে আছে । সে যাত্রায় খুব বড় ক্ষতি হয় না , ওর হাঁটু আর হাতে বেশ ক'জায়গায় ছলে যায় , ঘরে ফিরে সবার সামনে বলে আর কখনও আমাদের বাসায় আসবে না । কি ভেবেছিল সেদিন সবাই ? সবাই কি জানত কি হয়েছিল ? নাকি আমার দোষ ভেবে নিয়েছিল সবাই ?

শেষ পরিচ্ছদটা আজও অজানা.... কিন্তু সে দৌড় নিয়ে আমার লজ্জার রেশটা বেঁচে রইবে চিরকাল ।

রক্তের :
পরের গল্পটার দিনক্ষণ অজানা । আমার প্রিয় ইরানী বন্ধুটির নাম নাসের , সেই নাসেরই মাঝে মাঝে ক্রোধে অন্যরকম হয়ে ওঠে । ইরানের রুক্ষ মাটিতে ছড়িয়ে থাকা কোটি পাথর টুকরো আমাদের খেলার নিত্য সঙ্গী । একদিন পাথর নিয়ে খেলতে খেলতে আমার হাত ছিটকে একটু টুকরো গিয়ে নাসেরের পায়ে আঘাত করে বসে । কিছু হয়নি বলে খেলা থামে না , বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই নাসেরের সজোরে ছুঁড়ে দেয়াএকটা পাথরের টুকরো আমার চোখের ঠিক নিচে এসে লাগে । হঠাৎ করেই পৃথিবীটা যেন অন্ধকার দেখি , বাসার দিকে দৌড়াতে শুরু করি । ছুটে চলার ফাঁকে টপটপ করে পড়া রক্তের ফোঁটায় আমার সাদা কেডস লাল হয়ে যেতে দেখি । আয়নার সামনে দাঁড়ালে চোখের নিচে সেই ক্ষতের রয়ে যাওয়া খানিক দাগ আজও রক্ত ঝরানো ছুটে চলার স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে।

গর্বের , অহঙ্কারের :
ইরান ছেড়ে শেষ যেবার দেশে ফিরি , তার দিন কয়েক পরেই দক্ষিণ এশিয়া জয় করে নেয় বাংলাদেশের এক তরুণ । দৌড়ে উপমহাদেশ জয় করা সে তরুণের নাম বিমল চন্দ্র তরফদার , টিভি স্ক্রিনে দেখা সে দৌড়ের রেশ না কাটতেই , স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় । পরীক্ষা শেষে চেহারা মনে থাকা , নাম না জানা বুড়ো এক শিক্ষক বিশাল হলরুম ভর্তি ছেলে মেয়েকে এসে জিজ্ঞেস করেন দ্রুততম মানবের কথা । হয়ত ইতস্তত হওয়ার বোধ থেকে বা না জানার ভয় থেকে কারও হাত ওঠেনা । দোটনার মাঝে আমার হাতটা উঠে যায় । বিমলের কথা বলতেই স্যার এসে আমার চুল নেড়ে দেন , আজ প্রথমবার স্বীকার করে নিই সেদিন আমার ভীষণ গর্ব হওয়ার কথা। বিমলের সে দৌড় অহঙ্কারের ভাগীদার হয়ে গর্বের যে অনুভূতি আজও হয় , সে দৌড়ের স্মৃতি কি কোনদিন মলিন হবে ?

.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29094492 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29094492 2010-02-10 09:05:23
বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি, একুশের চেতনার সংজ্ঞা, জায়েজ আর নাজায়েজ প্রসঙ্গ আনিসুল হক লিখলেন :

"তরুণ পাঠকেরা , যদি পার , থ্রি ইডিয়টস ছবিটা দেখে নিও । তাহলে তোমরাও ঐ চরণটা চিৎকার করে বলতে পারবে ...... আল ইজ ওয়েল"

ক্যারিয়ার চুজিং নিয়ে বিশাল বেসাতির শেষে যখন স্বনামধন্য লেখক আনিসুল হক এভাবে উপসংহার টানেন , তখন অবাক বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে থাকি । কোটি বেকার বা দিশাহারা তরুণ তবে অবশেষে দিশার সন্ধান পেল।

তবে কি আনিসুল হক এভাবে বলতে পারেন না ?
না পারেন না , কিছুতেই না।

আমরা থ্রি-ইডিয়টস দেখতে পারি , এটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারি , কিন্তু আনিসুল হক্ব বললেই দোষ ?
হ্যাঁ , আমাদের বেলায় অপরাধটা লঘু , উনার বেলায় অপরাধটা অনেক বেশি গুরুতর । আমি , আপনি যে কারণেই হোক সমাজের ছোট্ট একটা অংশকে প্রভাবিত করতে পারি বড়জোর । আমি তীব্র হিন্দি প্রেম দেখাতে পারি , পাশের দেশের জন্য সুতীব্র ভালবাসাও প্রকাশ করতে পারি , কিন্তু আমার সেই প্রকাশ খুব অল্প মানুষকেই প্রভাবিত করবে । আনিসুল হক্ব যখন কথা বলেন , তখন পুরো তরুণ প্রজন্মের কাছে সে বার্তা পৌছে যায় , যাদের অনেকেই উনাদের আইডল মেনে তাদের কর্মকান্ড অনুসরণ করার ব্রতে আবদ্ধ হয়ে আছেন।

উনার দোষটা কোথায় , ফেব্রুয়ারি মাস বলেই কি ?
হ্যাঁ , সেটাও বলতে পারেন । ফেব্রুয়ারি মাসে আমি আলাদা করে ভাষার জন্য দু'টো কথা হয়ত বলব না , কিন্তু সেমিনার সিম্পোজিয়াম , মঞ্চ ময়দানে আনিসুল হক্বরা ভাষার নিয়ে অনেক আবেগ-ভরা কথাই বলবেন । যিনি এমন করে বলেন , তিনি যখন হিন্দি ভাষাকে প্রমোট করেন , সেটা অবশ্যই ডাবল-স্ট্যান্ডার্ড ।

আমরা তাহলে কোন মুখে সমালোচনা করি , যেখানে আমরা নিজেরাই নীতি মেনে চলি না ? আনিসুল হক্বকে বলার আগে কি নিজের আগে সংশোধন হয়ে আসা উচিৎ না ?
অবশ্যই উচিৎ । কিন্তু এভাবে যদি সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয় , সেটা নিঃসন্দেহে ব্ল্যাক-মেইলিং । একজন ডাক্তার অপারেশনে গাফিলতি করে রোগী মেরে ফেলেছেন , সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সমালোচনা করার জন্য কি আমাকে আগে অপারেশন থিয়েটরে ঢুকে কয়েকটা অপারেশন পরিচালনা করতে হবে ? কাজেই , তিনি ভুল করলে আমরা খুঁত ধরতে পারব না , এমন কথাগুলো নিতান্তই দুর্বল ।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য , এখনকার চেতনার সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ?
সম্ভবত দু'টোর মাঝের তফাৎটা এখন আকাশ পাতাল । পার্থক্যটা তখনই প্রকট হয়ে গেছে , যখন বাংলা ভাষার আবেদনটা বছরব্যাপি না হয়ে কেবলই ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে । কোন সূত্র ধরে না বললেও , স্পষ্টত যেটা দেখা যায় ফেব্রুয়ারী মাসে যারা ভাষার কথা বলে , সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য যারা বেশি করে মুখ খুলছেন , তাদের অগ্রসেনানীদের সন্তানদের বেশির ভাগ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষিত , যেখানে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে অন্ধকারে রাখা হয় ।

তবে কি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনে ব্যর্থতাই সব কিছুর মূলে ?
"সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন" --- এই কনসেপ্ট টায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে । ব্যাপারটা বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবী রাখে । সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের কথা যারা বলেন খুব বেশি বেশি করে (যাদের অনেকের সন্তান বাইরে পড়াশোনা করতে গিয়ে ঠিকমত বাংলা বলতে পারে না) , জনগণের জন্য তাদের কনসেপ্ট হল , ইংরেজি ভাষার মুলোৎপাটন করে সর্বত্র বাংলা প্রচলন করা । জাতি হিসেবে আমাদের পিছিয়ে যাবার পেছেনে এই মিসকনসেপশনটার অনেক ভূমিকা আছে , সেটা অস্বীকার করা যাবে না । এর ফলে : ১। বাঙালী এখন ঠিকমত বাংলা বলতে লিখতে জানে না ২। বাংলা ভাষায় এখনও পরিপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ আমরা সৃষ্টি করতে পারিনি । ৩। ইংরেজি ভাষা দক্ষতায় বাঙালি মোটামুটি পঙ্গুত্ব বরণ করেছে । আজ থেকে ৩০/৪০ বছর আগে সাধারণ ম্যাট্রিক পাশ করা ছাত্র যতটুকু ইংরেজিতে দক্ষ ছিল , এখন তার সিকিভাগও মেলে না একজন স্নাকোত্তর ছাত্রের মাঝে । অবাক ব্যাপার হল , সে সময়ের ম্যাট্রিক পাশ করা মানুষগুলোর একই সাথে বাংলাতেও এখনকার ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে নেই ।

তাহলে গলদটা কোথায় ? আমরা কি শুধু বাংলার উপর দাঁড়াতে পারি না ? ফ্রান্স , জার্মানী , জাপান পারলে আমরা কেন পারি না ?
উত্তরটা হল ...... না পারি না , আমাদের সামনে জাপান , ফ্রান্স , ইরান উদাহরণ হতে পারে না , যারা নিজের উৎস থেকেই আভ্যন্তরিণ যাবতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম । আমাদের উদাহরণ বরং ভারত , শ্রীলংকা হতে পারে , যাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনো ওতপ্রতোভাবে বৈদেশিক ধারণা এবং বৈদেশিক জ্ঞানের আদান প্রদানের উপর নির্ভরশীল । পরের দেশগুলোর দিকে তাকালে বুঝা যাবে , ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার কারণে তারা কেন আমাদের চেয়ে যোজন যোজন দূরত্বে এগিয়ে গেছে । শুধু তারাই না , জাপানী , চীনা , ফরাসীরাও সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইংরেজিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলছে ।

ইংরেজিই যদি এত কিছু হয় , তবে ইংলিশ মিডিয়াম নিয়ে এত ক্ষোভ কেন ?
সেই একই কথা , ইংরেজি -বাংলার সমন্বয়ের যে নিয়মটা থাকা উচিৎ ছিলে , তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে নেই । বাংলা ভাষায় আমরা দৃঢ় শক্ত ভিত্তি চাই , মানুষকে তার শেকড় আর মাটি চেনানোর জন্য । আর ইংরেজিতে শক্ত গাঁথুনি চাই , পারিপ্বার্শিকতা থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণ করে সে শেকড়কে শক্ত করে , চারাগাছগুলোকে মহীরুহে পরিণত করার জন্য , যার কোনটিই এখন বাস্তবতার আলো দেখেনি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে যে মাটি আর মানুষের সাথে সম্পর্কহীন শ্রেণীটি তৈরি করা হচ্ছে , তারা আদৌ দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কিছু দিতে পেরেছে ? আর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা কনসেপ্টের গ্যাঁড়াকলে পড়ে , বাংলা মিডিয়াম থেকে যে ইংরেজি দক্ষতা বিহীন যে বিশাল শ্রেণীটির গড়ে তুলেছি , তার কতভাগই বা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশকে গড়ে তোলার মত প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণের মত উপযোগী হয়ে উঠেছে ?

আমাদের প্রকৃত আইডল কারা ?
মুনীর চৌধুরী , শহীদুল্লাহ কায়সার রা , তাদের সমসাময়িক এবং পূর্ববর্তী যারা ইংরেজি সাহিত্যে এবং ভাষায় পড়াশোনা , দক্ষতার অপরিসীম পরিচয় দিয়ে নিজের মা , মাটি , ভাষাকে দু'হাত ভরে দিয়ে গেছেন , যারা হতে পারতেন বিশ্বের সাথে আমাদের সত্যিকার মেলবন্ধন ।

হিন্দি নিয়ে তাহলে এত অভিযোগ কেন ?
সোজা কথায় ..
১। গত ৪০ বছরে আমরা সর্বস্তরে প্রচলন করতে ব্যর্থ হয়েছি কোন ভাষা ? ------ বাংলা ২। গত ৪০ বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় কোন ভাষা ভুলে যাবার কারণে আমরা বাকি বিশ্বের চেয়ে পিছিয়ে গেছি ক্রমাগতভাবে ? ----- ইংরেজি ৩। গত ৪০ বছরের জাতির অলস সময়গুলো কোন ভাষার দক্ষতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ? কোন ভাষার দক্ষতা আমাদের সবচেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়া সত্তেও আমরা ফলাফলে কেবল শূন্যই পেয়েছি ------- হিন্দি হিন্দি ভারতীয় মানুষের শেকড় , কিন্তু তাদের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি , বিদেশী ভাষায় তাদের দক্ষতা । বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দি কেবল একটা আগ্রাসনেরই নাম ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29090976 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29090976 2010-02-04 00:53:41
অতঃপর হোটেল সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দল --- তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন + ইন্টারভিউ ১.......
স্টেডিয়াম গেটে মোটরসাইকেল নিয়ে অনেক্ষণ অপেক্ষা করছে , "আমার বিদেশ" পত্রিকার স্পোর্টস রিপোর্টার আরিফ । সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হয়ে গেছে বেশ অনেক্ষণ আগে , কিন্তু বাংলাদেশ দল কেন যেন স্টেডিয়াম ছেড়ে বের হচ্ছে না কিছুতেই । আরিফের হাতে সময় কম , রাত ১ টার আগেই অফিসে ম্যাচ রিপোর্ট পাঠাতে হবে । হঠাৎ করেই টিম বাসটা চোখে পড়ে আরিফের । টিনটেন গ্লাস ভেদ করে খেলোয়াড়দের চেহারা বুঝবার জো নেই । আরিফের ইচ্ছে হোটেল সোনারগাঁ গিয়ে ম্যাচ পরবর্তী দু'একটা প্রতিক্রিয়া জেনে তবেই পত্রিকায় রিপোর্ট পাঠানোর ।

সুমনকে মোবাইলে কল করে আরিফ । "সুমন কোথায় তুমি ? তোমার না আমার বাইকে চড়ে হোটেলে যাবার কথা ? টিম বাস তো ছেড়ে দিয়েছে , শিগগির আসো , আমি ৩ নং গেটে আছি"

--"আরিফ ভাই , আপনি চলে যান , আমার আর আজ হোটেলে যাওয়া হবে না , আমি সরাসরি অফিসে যাব" ।

কারণটা বুঝতে বাকি থাকে না আরিফের । সুমন হল , আলু পত্রিকায় উট-পালের চ্যালা । উট-পাল এখন বিশ্বকাপ নিয়ে বিজি বলে সাফ ফুটবলে দেখার সময় নেই তার , তাই দায়ভার এসে পড়েছে সুমনের উপর । আরিফ ভেবেছিল , এদ্দিনে উট-পালের জ্বালা থেকে রেহাই পাওয়া গেল , কিন্তু সুমন আরেক কাঠি বাড়া । প্রথম আলুর সাংবাদিকরা বদলালো না ..... রাগে একটু গরগর করে আরিফ । এরা ম্যাচ রিপোর্ট লিখে ফেলে ম্যাচের আগেই , সবার পকেটে থাকে একটা কবিতার পকেট বুক , সেখান থেকে কিছু লাইন নিয়ে রিপোর্টের মাঝে ঢুকিয়ে দেয়া হয় ।

আজ সুমন ভুল করে রিপোর্টটা ওর পাশে ফেলে গিয়েছিল , সেই সুযোগে আরিফ অনেকটাই দেখে ফেলেছে । মোটামুটি ৮/৯ প্যারার রিপোর্টের প্রথম ৪ প্যারা জুড়ে ডিসেম্বর মাস এবং মুক্তিযুদ্ধের দুর্বার চেতনায় খেলোয়াড়দের তেতে ওঠার বর্ণনা , পরের ৪ প্যারায় বাংলাদেশ দলের চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্সের দুর্বার বর্ণনা । আগের দিন আলু এনামুলকে দুঙ্গা বানিয়েছে , আজকের রিপোর্টে ওয়ালি ফয়সালকে বানানো হয়েছে দানি আলভেজ , আর নাসিরের মাঝে খুঁজে পাওয়া গেছে জাভি আলোনসো কে । সুমনের জন্য মায়া হয় আরিফের । "আহারে বেচারা , অফিসে গিয়ে পুরো রিপোর্টটা কেটে আবার নতুন করে লিখতে হবে"...... ভাবতে ভাবতে বাইকে স্টার্ট দেয় আরিফ


২.......
হোটলে লবি যতটা নীরব থাকবে ভেবেছিল আরিফ , ততটা নয় । একপাশে মালদ্বীপের ফাজিল কে দেখা গেলে মোবাইলে কথা বলতে । ভারতের তিন/চারজন খেলোয়াড়কেও দেখা গেল ছোটখাট জটলা করে কথা বলতে । আরিফের চোখ বাংলাদেশীদের খোঁজে । "সবাই কি রুম বন্ধ করে শুয়ে পড়ল নাকি" ..... মনে মনে ভাবতেই দেখা মেলে রজনী আর জাহেদের । রজনীর মুখটা দেখে হঠাৎ মনে হয় কেউ রজনীকে বুঝি মাত্রই বোমা মেরেছে । জাহেদের মুখেও যেন রাজ্যের মেঘ । এক পা এগোয় আরিফ , কিন্তু ওদের মুখ দেখে কথা বলার সাহস হয় না । পেছনেই ফিরতেই হঠাৎ যেন ভাগ্যদেবী আরিফের দিকে ফিরে চায় । বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় সিরাজীকে দেখে ওর দিকে হেঁটে আসতে , ছেলেটা আজ মাঠে নামেনি , কিন্তু ওর পেট থেকে অনেক কথা বের করা যাবে , আরিফ জানে ।

আরিফকে একপাশে টেনে নিয়ে কোনার সোফাটায় বসে সিরাজী ।"কি ব্যাপার সিরাজী , জরুরী অবস্থা নাকি ? কি অবস্থা তোমাদের , রজনীকে দেখলাম মন খারাপ করে কান্নায় ভেঙে পড়ার দশা , পরাজয়ের শকটা মনে হয় সিভিয়ার হয়ে গেছে?"

মুখ চেপে ধরে হাসি থামায় সিরাজী । "আরিফ ভাই , এদ্দিন সাংবাদিক হয়ে এই চিনলেন আমাদের রজনী ভাইদের ? ঐসব পরাজয় টরাজয় কিছু না , জীবনে যত পরাজয় দেখসে রজনী ভাই , জয় দেখসে তার চেয়ে অনেক কম । এইসব পরাজয়ে কোন প্রতিক্রিয়া হয় না এখন আর"

"তাহলে ঘটনাটা কি ?"...... সন্দিগ্ধ চোখে আরিফ জিজ্ঞেস করে ।
"স্টেডিয়াম ছেড়ে আসার আগে সবাই বেশ ফূর্তিতে ছিল , আগামী ৩ দিন সোনারগাঁয়ে থাকা , পুলে সাঁতার , বুফে ... এসব করা যাবে ইচ্ছেমতন ভাবতেই সবাই ফুরফুরে হয়ে গেসিল। আর সবার প্রতি কড়া নির্দেশ চরম মন খারাপ করে থাকতে হবে , কিন্তু কেউ জোর করে কাজটা করতে পারেনি বলে ম্যানেজমেন্টের ডিসিশন ,কালই সোনারগাঁ ছেড়ে যেতে হচ্ছে"

"ওহহ , এই তবে ঘটনা , রজনীর সেজন্য মন খারাপ"..... আরিফ বিজ্ঞের মতন মাথা নাড়ে ।

---"না না , রজনী ভাইয়ের ব্যাপার অন্যরকম । এসব তাঁর গায়ে লাগে নাকি ? আরে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন নাকি , প্র্যাকটিরস না করার দাবীতে ডিডোর বিরুদ্ধে যখন বিদ্রোহ হল , তখন রজনী ভাই তো লিড দিল, শেষমেশ ডিডোরে কি করল দেখসেনই তো , তাঁর খুঁটির জোর অনেক। অন্যরা রুম আটকে থাকলেও বিদ্রোহী ৬ জন ঠিক করসিল , সারা রাত ফূর্তি করা হবে, কে জানে আবার কবে সোনারগাঁয়ে আসা হবে । কিন্তু আসার পরেই রজনী ভাইয়ের লুজ মোশন , বারবার বাথরুমে দৌড়াচ্ছে , খেতে পারবে না , এটা বুঝতে পারতেই রেগে টং হয়ে আছে "

প্রসঙ্গ বদলে খেলার কথা তোলে আরিফ---- আজকের ম্যাচ নিয়ে ভাবনা কি তোমাদের ? অপরাধবোধ হচ্ছে না তোমাদের ? জাতিকে তো তোমরা লজ্জা দিলে ...

আরিফের স্ট্রেট কাট আক্রমণে সিরাজীর মুখের রঙ খানিক বদলে যায় --- "শুধু বাংলাদেশ দলের দোষটাই দেখেন , তাই না ? কই , ইন্ডিয়া টিমের বিরুদ্ধে কিছু তো লেখেন না"

"ইন্ডিয়া টিমের বিরুদ্ধে আবার কি লেখার আছে ?"

"কেন , ওরা যে বলতেসে ওদের খেলো্যাড়দের বয়েস ১৯/২০ এইটা তো ডাহা মিথ্যা , সাউথ এশিয়ায় সব দেশই বয়েস নিয়ে বিশাল চাপাবাজী করে ।সারাক্ষণ ১৯ বছর , ২৩ বছর নিয়ে ওদের সে কি ভাব!!মোট্টেও ২৩ না ,ওদের বেশির ভাগ খোলোয়াড়ের বয়েস ২৪ , আমি নিজে জানি ।ব্যাটারা আস্ত কালপ্রিট"

"আচ্ছা আচ্ছা "...... এটা নিয়ে কথা বলা বৃথা ভেবে আরিফ বয়েস প্রসঙ্গটার ইতি টানে । হঠাৎ করেই আবার ৩৫ বছর বয়েসী রজনীর কথা মনে পড়ে আরিফের । সিরাজীর কথা মত , বয়েস লুকানো রজনীর আসল বয়েসটা ৩৭/৩৮ হবে ।আজ খেলার শেষদিকে রজনীকে শামুকের মত নড়াচড়া করতে দেখা গেছে । এই বয়েসে কোন সাহসে প্র্যাকটিস না করার দাবীতে বিদ্রোহে রজনী নেতৃত্ব দিয়েছিল , আরিফের ছোট মাথায় কুলোয় না ।

ডিডোর কথা মনে পড়ে যায় আরিফের । ডিডোর গেমপ্ল্যান কি হত , সে ভাবনাটা মাথায় আসতেই জিজ্ঞেস করে "গেমপ্ল্যানটা কি ছিল তোমাদের ?""

----সেরকম কোন প্ল্যান ছিল না , কোচ বলেছিলেন , ওরা অ্যাটাক করলে শক্ত করে ডিফেন্স করতে হবে । মিডফিল্ড থেকে বেশি করে উপরের ফ্রন্টে বল যোগান দিতে হবে, আর স্ট্রাইকারদের গোল করতে হবে"

"হাহ !! , এর মাঝে নতুন কি ? বাচ্চাও তো জানে এসব , তো যখন কিছু কাজ করছিল না , প্ল্যানে কোন চেইনজ আসেনি ? এমিলি এনামুলের কি হল , ম্যান মার্কিংয়ের শিকার হয়ে ওরা তো বল নিয়ে ঘুরতেও পারছিল না "

----"এমিলি ভাইয়ের কাছে আশা করেন কেন? সে ইনজুরড ছিল , ইনজেকশন নিয়ে খেলসে । আর এনামুল ভাই সকাল পর্যন্ত ঠিকই ছিল , সকালে আলু পত্রিকায় যখন দেখল তার নাম দুঙ্গা , আর সেই দুঙ্গার দিকে তাকিয়ে আছে সারা দেশ , তখন থেকেই সে শেষ । আর যাই হোক , গন্ডায় গন্ডায় গোল দিলে , সেই খেলোয়াড় তো দুঙ্গা হতে পারবে না, সে হবে ফ্যাবিয়ানো , নিদেনপক্ষে লিওনার্দো । কাজেই দুঙ্গার কাজ দুঙ্গা করসে "

"ঠিক আছে , কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এমিলি ইনজুরি গোপন করে সেকেন্ড হাফ খেলল কেন ? এই ক্রাইমের তো পানিশমেন্ট হওয়ার কথা , আর ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ জন নিয়ে ডিফেন্স করার মানেটাই বা কি ছিল?"

-----"আরিফ ভাই , বুঝার চেষ্টা করেন । মনে করে দেখেন তো , পাড়ার ক্রিকেটে সবসময় ওপেনার হওয়ার জন্য সবার মধ্যে মারামারি হইত কিনা? আর ফুটবলে সবাই কি স্ট্রাইকার হইতে চাইতেন কিনা? পায়ে ব্যাথা হইলে কি খেলার দাবী ছেড়ে দিতেন ? অথবা বলতেন কি , যে আজ ম্যাচে আমি বসে থাকলাম ? এমিলি ভাইয়ের কেসটাও সেইম , তার মঞ্চাইসে খেলতে , তাই যেভাবেই হোক মাঠে ছিল । আর বিজয়ের মাসে পাকিস্তানের কাছে হারলে জাতি ক্ষমা করত আমাদের ? শুরুতে যখন বুঝলাম যে এই ম্যাচ জিততে গেলে চান্সে গোল খাওয়ার সুযোগ আছে , তখনই ওরা ১১ জন স্টাইলে ডিফেন্স করার ডিসিশন নেয়া হইল"

মিডফিল্ড নামের শব্দটার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া গেল না কেন ? জার্সি ধরেও তো জাহেদ আর নাসিরকে পেলাম না । দু'একবার যাও দেখলাম , জাহেদ সামনে ২/৩ টা ভারতীয় খেলোয়াড় দেখেও বলটা ডানে না বাড়িয়ে বাঁদিকের সাইড লাইন দিয়ে জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা দেখলাম । ফলাফল হল হয় বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো নয়ত ইন্ডিয়ার থ্রো-ইন। ওর এভাবে চিপা দিয়ে ঢুকার অভ্যেস হল কবে থেকে ?...... আরিফ জানতে চায়

---"জাহেদ ছোটখাট প্লেয়ার , ওর মনে মনে নিজেকে রবার্তো কার্লোস ভাবে মাঝে মাঝে , সেই কারণে ওভারল্যাপ করার প্রবণতা থেকেই এটা করসে মনে হয় । আর মিডফিল্ডের শুধু দোষ দেন কেন? ওরাও খানিক ফ্রাস্ট্রেটেড ছিল । আজ তো ছোট ছোট পাসে খেলা হয় নাই , সব ভুল পাস হচ্ছিল । এরপর ডিফেন্ডাররা দেখা বল ক্লিয়ারের জন্য সব ঊঁচু করে মারছে , বলের প্রাসের গতিতে ছোট খাট সব মিডফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে অ্যাটাকিং লাইনে গিয়ে পড়ছে । এই কারণেই মিডফিল্ড খুঁজে পান নাই" ...সময় নিয়ে বলে সিরাজীি

সিরাজীর ফুটবল সেন্স দেখে হতাশ হয় আরিফ । হতাশা চেপে জিজ্ঞেস করে "আচ্ছা , ডিফেন্সের কথাই না হয় বল। ফ্রি-কিকের বিরুদ্ধে কি এমন ডিফেন্সিভ ওয়াল বানানো হল যে , পরপর দুই দিন দেয়ালের পাশ দিয়ে মাটি কামড়ানো শটে গোল হয়ে গেল?"

"ডিফেন্সের দোষ কিভাবে দেন ? যদি এমন হত যে ওয়ালের খেলোয়াড়দের পায়ের নিচ দিয়ে বল চলে গেছে , অথবা মাথার উপর দিয়ে যাওয়া বলে কেউ হেড করতে পারেনাই , তাহলে না হয় কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেন , বল তো গেল ওয়ালের পাশ দিয়ে"

"তো ওয়ালের পাশে এত বড় ফাঁকা কেন যে গোলে সরাসরি বল চলে যায় ? ওয়ালটাও তো ঠিক জায়গায় করতে পারলে না তোমরা"

----"সেটা আমিনুলের দোষ , ও ইনস্ট্রাকশন দিতে পারত , দেয় নাই । আমিনুল আসলে ডিডোর চ্যালা , তার কথা আর কি বলি"

ডিডোর প্রসঙ্গ তুলতে চায়নি আরিফ । চলেই যখন আসল এবার মুখ খোলে "টুর্নামেন্টে খেললোই তো দু'জন , আমিনুল আর এনামুল , ডিডোর দুই প্রিয় খেলোয়াড় । আর ডিডোর যেসব প্রিয় খেলোয়াড়কে বাদ দিলা তোমরা , তারাও তো নিজেকে কম প্রমাণ করে নাই। প্র্যাকটিস ম্যাচে জাতীয় দলকে একা হাতে পর্যদুস্ত করে শেখ রাসেলের মারুফ তো একা হাত দেখে নিল । ঠিক কি কারণে ডিডোকে পছন্দ হল না বিদ্রোহীদের ?"

-----"ডিসেম্বর মাসে ডিডোর কথা তুলবেন না আরিফ ভাই । আমরা সংগ্রামী জাতি , সংগ্রাম আমাদের রক্তে । দেশের জন্য উজাড় করে আমরা খেলি । ডিডো হল ব্রাজিলের মানুষ , কোনদিন শুনসেন ব্রাজিল মুক্তিযুদ্ধ করসে ? একবার বলা হল , ডিসেম্বরে জিততেই হবে । ডিডো শুনে বলে .... ১২ মাস জিততে হবে , শুধু ডিসেম্বরে কিসের জিতা ? আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর যে আঘাত ডিডো করসে , সেটা কিভাবে মেনে নেন ? আর অভিজ্ঞতাকে সে কোন দাম দিত না , পিচ্চি পোলাপাইনে টিম ভরায় ফেলার প্ল্যান করসিল , সিনিয়রদের সম্মান করত না । রজনী এমিলি ভাইরা দুপুরে ভাত খাওয়ার পর ভাত-ঘুম দিতে পছন্দ করেন ।ডিডোর সাফ কথা বিকেলে ঘুম বন্ধ ,রানিং-স্ট্রেচিং চলবে । কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়?"

"কৃষ্টি নিয়ে ডিডো আবার কি করল?"......... আরিফের চোখে মুখে বিস্ময়

-----"ছোটবেলা থেকে ভাত খেয়ে বড় হইসি সবাই , আমরা ভেতো জাতি , ডিডো আমাদের ভাত খাওয়ার অধিকার কেড়ে নিসিল । একবেলা শুধু ভাত , তাও লিমিটেড ।সব এনার্জি ডায়েট, ব্যালেন্সড ডায়েট দিত , আল্লাহ মালুম । সে থাকলে এবার কি কুরবানীর মাংস কপালে জুটত কারও ?তরকারীও দিত না ব্যাটা , কি সব স্যুপ টুপ খাওয়াইত । এসব হল হার্মাদদের খাবার । হার্মাদদের চেনেন তো ? পর্তুগীজ ...... ব্রাজিলিয়ানদের পূর্ব পুরুষ তো ঐ হার্মাদ পর্তুগীজরাই "

"অভিজ্ঞতা দিয়েই বা কি রাজা-উজির মারতে পারলা তোমরা ? শেষমেশ তো হারলা ঐ পিচ্চি পোলাপাইনের টিমের কাছেই"

------"কি বলেন মিয়া ভাই , একটু ভেবে দেখেন । রজনী ভাইরা ১৪/১৫ বছর ধরে হারতে হারতে চামড়া মোটা করে ফেলসে । আজ হেরে যাওয়ার পরেও সিনিয়ররা দেখেন কেমন নির্বিকার , হারার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কি জুনিয়রদের ছিল ? দেখা যাইত , আজ হারলে কান্নার রোল পড়ে গেসে । পরে এরা হারার ভয়ে খেলতেই নামতে চাইত না " , সিরাজীর মুখ দেখে মনে হয় , বড় কিছু ব্যাখ্যা করে ফেলেছে।

"হুমমমম , আচ্ছা , দেশের মাটি নাকি বিদেশের মাটি কোথায় ফুটবল খেলে বেশি স্বস্তি পাও?"

----"ডেফিনিটলি , বিদেশের মাটিতে । আজকের কথাই ধরেন , কেউ বলতে পারছে না যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরে গেছি , সবাই দেখসে যে আমরা একটা চান্সও পাই নাই । অথচ খেলাটা যদি বিদেশে হত , আর টিভিতে না দেখাত , তাহলে আমাদের আর কে পেত? ম্যাচটা যদিও ৩-০ তে হারতাম , ফোন করে জানিয়ে দেয়া হত যে বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে চরম প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে গেছে , পাঁচ/ছ'টা ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে সুযোগ পেয়েছে , ৪ টা বল বারে লাগসে , মোটের উপর ভাগ্যদেবী নাখোশ থাকায় পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে।

একটা অফটপিক প্রশ্ন হঠাৎ করেই মাথায় আসে আরিফের । সিরাজী উত্তর দিতে পারবে কি পারবে না , এই দোলাচলে বলেই ফেলে "সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট কিভাবে বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল হয় ? কোনদিন কোন রুটিন চ্যাম্পিয়নশীপ কারও নামে হতে পারে? নেলসন ম্যান্ডেলা ওয়ার্ল্ড কাপ , অথবা মার্শাল টিটো ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপ ? চামচারা কি বঙ্গবন্ধুকেও লজ্জিত করল না?"

--- ওহহ , এই কথা ? অন্য দেশগুলো হয়ত অবাক হইসে , কিন্তু কেয়ার করে নাই , সাফ নিয়ে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের কিছু যায় আসে না। রিফিউজড হওয়ার রিস্ক এড়াইতে শুরুতে টুর্নামেন্টের নাম "মজনু স্মৃতি সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ " প্রস্তাব করা হইসিল। যখন দেখা গেল এটা নিয়ে কোন দেশের মাথা ব্যথা নাই , তখনই বঙ্গবন্ধুর নাম প্রস্তাব করা হইল।

"শেষ প্রশ্নটা করি, সব খেলাতেই বাংলাদেশ হারের মাঝে পজিটিভ কিছু খুঁজে পায় । তোমার কি মনে হয় , আজকের পজিটিভ আউটপুট টা কি ?"

"অনেএএএএক , জাস্ট কল্পনা করেন , আমরা ফাইনালে চলে গেছি আউল ফাউল ফুটবল খেলেই। তারপর মালদ্বীপের সামনে ............ চিন্তা করতেই কাঁপন দিয়ে জ্বর আসে । শ্রীলংকাকে দিল ৫ টা , আফগানিস্তান আর ভারতকে দিল নাকানি চুবানি । আমাদের নিয়ে কি পৈশাচিক আনন্দেই না মেতে উঠত। ৩ লাখ মানুষের দেশের কাছে ১৬ কোটি মানুষের ১৩ ডিসেম্বরের সেই ধাক্কাটা সহ্য করা অনেক বেশি কঠিন হত । "

সিরাজির সাথে হাত মিলিয়ে দ্রুত অফিসে যাবার প্রস্তুতি নেয় আরিফ ।

একবার ডিডোর কথা মনে পড়ে , তারপর মনে পড়ে বাদল রায় , আসলামদের নির্লজ্জ হাসিমুখগুলো । দেশের ফুটবল ইতিহাসের শেষ কথাটা মনে হয় বলেই গেছেন ডিডো ............ "এই দেশে ফুটবল নিয়ে কেউ ভাবে না, কেউ না"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29057367 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29057367 2009-12-12 01:33:27
ঈদের অন্য রঙ সান্ত্বনা যেন হারিয়ে ফেলতাম । একাকী মনের সে কষ্টের দাগ কাটতে কেটে যেত আরও কয়েকটি দিন।

কৈশোরের দিনগুলিতে ঈদের কষ্টের রঙ ছিল কখনও সাদা , কখনও বা নীল । বন্ধুদের সাথে ঈদাড্ডা ঈদের দিনের সীমানা ছাড়িয়ে কখনও বা বিস্তৃত হত ঈদের পরের দিন ...... কখনও বা পরপর দু'রাতে বিরামহীন গল্প । আড্ডা ছেড়ে , গল্প শেষে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ত ক্লান্ত দেহ , ঈদ হারানোর ব্যথাটা রাতের আঁধারে ছুঁয়ে দেবার সুযোগ মিলত না
। দিনের আলো ফোটার পর , এক বা দু'প্রহর পরে হঠাৎ যখন আবিষ্কার হত ...... দু'দিনের ঈদ , আড্ডা সব কেবলই গল্প হয়ে গেছে , কষ্টের অনুভূতিগুলো সন্তর্পনে ভর করত এ মনে। ঈদের দু'দিন পরের দুপুরের দিগন্ত ছোঁয়া আকাশের তীব্র নীলও শেল হয়ে বুকে বিঁধত , উদাস দুপুর , বিকেল বা সন্ধ্যাগুলো ভীষণ হয়ে মনে বাজত।

শৈশব , কৈশোর বা কৈশোরের চৌকাঠ পেরুনো জীবনের ক্ষণে ক্ষণে ঈদের কষ্টগুলো কখনও সবুজ হয়ে ডানা মেলত । যে বছর গুলোতে গ্রামে যেতাম , ঢাকায় ফেরার মুহূর্তগুলো পরম অনাকাঙ্খিত মুহূর্তগুলো বুকের ভেতর তীব্র আঁচর কেটে যেত । ফেরার পথে মাঠের পর মাঠ অনন্ত সবুজ , পেছনে ফেলা আসা গাঁয়ের ছায়া , প্রিয়জন স্মৃতিগুলোকে বারবার মনের জানালা ঝাপসা করে দিত । ঈদের দু'দিন পেছনে ফেলে ভীষণ ব্যস্ত এই শহরে যতবার পা রেখেছি , সবুজ রঙের
কষ্টগুলো হাতছানি দিয়ে আকুল স্বরে , অস্ফূট সুরে আমায় ডেকে যেত ।

তারপর অনেকদিন পর একদিন ঈদ আসে ।কষ্টের জন্য সাঁঝের লালিমার অপেক্ষা করতে হয় না , সবুজ চাদরে ঢাকা গাঁয়ে যাওয়া হয় না , দুর- দুরান্তে হারানো বন্ধুদের সাথে গভীর রাতের আড্ডাটা আর জমে না ....... । কষ্টের পুরনো রঙগুলো আজ যেন পরম পাওয়া মনে হয় ।

একাকী , নীরবে , নিভতচারী হয়ে নির্ঘুম সারারাত আমি কষ্টের রঙ খুঁজি। কষ্ট আসে চাঁদরাতে , রাতের নিকষ কালো রঙে , ভোরের আকাশের সাদাটে আকাশী হয়ে , দুপুরের সূর্যের সোনালী হয়ে বা সাঁঝের লাল আভা হয়ে , অজানা অপেক্ষার অজানা রঙ হয়ে । হেমন্তের ভোরেও একফোটা শিশির ঝরে না , বিন্দু বিন্দু শিশিরের স্বপ্নে , হেমন্তের হিমিকাছোঁয়ায় , অপেক্ষায় .... কেটে যায় দু'টো দিন , ব্যস্ত শহর নীরবতার আড়মোড়া ভেঙে একসময় জেগে ওঠে ..... শহরের সবক'টা রঙই আজ কষ্টের সমার্থক মনে হয় ।

পুরনো দিনগুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় , সেই ভীষণ ভাল লাগা নীল কষ্ট , সবুজ কষ্ট ....




উৎসর্গ: হেমন্তের সব ক'টা শিশির ফোঁটা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29051858 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29051858 2009-12-01 11:37:47
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা :: হতাশা , ক্ষোভ আর কষ্টের উপাখ্যান ঘুরে ফিরে সেই একই ছবি ....

১....
কাঁচা-পাকা রাস্তা ধরে এগিয়ে আসে পাকিস্তানী সৈন্য ভর্তি আর্মি ট্রাকের একটি বহর । তবে বহরে ২/৩ টির বেশি ট্রাক থাকে না কখনও । খানিক আড়ালে রাস্তার ঢালে অ্যামবুশ করার জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা কিছু তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ।আর্মি লড়িগুলো কাছে এলে গ্রেনেড ছুঁড়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা
,তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকে আগুন লেগে যায় । পরের সিকোয়েন্সে অবধারিত ভাবেই , আগুন লেগে যাওয়া ইউনিফর্ম নিয়ে পাকি সৈন্যদের ট্রাক থেকে
ঝাঁপিয়ে পড়া । ঝাঁপিয়ে পড়া সৈন্যদের আড়াল থেকে গুলি করা হয় ।

যুদ্ধের আরেকটি পরিচিত দৃশ্যে পাকিস্তানী সৈন্যরা কোন ঢালের আড়ালে
অবস্থান নেয় । বিপরীতে গাছপালা বা জংগলে বা অন্য কোন ঢালে
অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধা গেরিলারা । গোলাগুলি শুরু হওয়ার পরেই ঢালের আড়ালে অবস্থান নেয়া পাকী সৈন্যদের , খুব আনাড়ি ভাবে মাথা তুলে
উঠে দাঁড়িয়ে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় ।আকস্মিকভাবে পাকিদের শ্যুটিং রেঞ্জের মধ্যে পেয়ে , আড়ালে থেকে
মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করলে ,পাখির মত একের পর এক পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়ে ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে । একের পর এক সঙ্গী মারা
যাচ্ছে দেখেও পাকিস্তানী সৈন্যদের হাস্যকর ভঙ্গীতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের দিকে দৌড়ে আসতে দেখা যায় ।ফলাফলে ঝাঁকে ঝাঁকে
হানাদার সৈন্য প্রাণ হারায় ।


২...
মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে আঘাত প্রাপ্ত পাকিস্তানী সৈন্যরা দু'হাত উপরে তুলে
ধনুকের মত পেছন দিকে বেঁকে খুব দ্রুত পেছনে পড়ে যেতে থাকে । গত চল্লিশ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রায় সব চলচ্চিত্রে মৃত সব পাকী সৈন্য একই স্টাইলে মৃতুবরণ করে গেছে ।

বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুটাও গতবাঁধা নিয়ম মেনেই চলে । গুলিতে
আহত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা কখনোই সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করে না , কিছুটা
সময় নিয়ে , খুব কষ্টে কিছু কথা বার্তা বলে তারপর মৃত্যুর কোলে ঢলে
পড়ে ।


৩...
যুদ্ধে যাবার প্রাক্কালে মায়ের কাছে বিদায় নেবার দৃশ্যটাও স্টেরিওটাইপিং
থেকে চারদশকেও বেরিয়ে আসতে পারেনা । বিদায়ের দৃশ্যে চোখ বেয়ে
নেমে আসা পানি বা কান্নার শব্দ শুনিয়ে অনেক জোর করেই আবেগ সঞ্চারের চেষ্টা করা হয় ।

হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের বীভৎসতা দেখাতে বেশির ভাগ সময় বড় বড় গোঁফ ব্যবহৃত হয় , কথা বলার ফাঁকে বিকট শব্দে তাদেরকে হাসতে
দেখা যায় ।

৪...
যুদ্ধ সিকোয়েন্সগুলো খুব স্বল্প সময়ের মাঝে শেষ হয়ে যায় । সবচেয়ে
বেশি দেখানো হয় মেশিনগান থেকে ছিটকে যাওয়া গুলির খোসা , সবচেয়ে বেশি শোনানো হয় ব্রাশফায়ারের শব্দ ।এর বাইরে যুদ্ধের ডিটেইলস দেখানো হয় খুবই কম । মেশিনগানের শব্দের মাঝে মাঝে
জোরে জোরে বোমা বিস্ফোরণের বুমবুম শব্দটাকেই হাইলাইট করা হয় ।গ্রেনেড ছুঁড়ে দিলে বড় জায়গা জুড়ে ধুলোবালি উড়তে দেখা যায় । একের পর এক গ্রেনেড ছোঁড়ার দৃশ্যগুলো যুদ্ধের চেয়ে ধুলিঝড়ের কথা বেশি
মনে করিয়ে দেয় ।

৫...
কোন নির্দিষ্ট যুদ্ধ , অপারেশন বা ব্যক্তির বীরত্বকে হাইলাইট করা হয়না
কখনও। সিনেমাগুলোতে মোটামুটি জেনারালাইজড কিছু দৃশ্য থাকে , যার শুরু হয় ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে , মাঝের অংশে মায়ের কাছে বিদায় , ঝাপসাভাবে দেখানো হয় কিছু অপারেশন , দু'একজন সঙ্গীর মৃত্যু হয় , সবশেষে নায়ক ফিরে আসে পাগল হয়ে যাওয়া মায়ের কোলে ।

৬...
কোন ক্ষয় ক্ষতি ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ জয় করে নেয় , বিপুল ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয় পাকিস্তানী সৈন্যরা ।

৭...
আবেগঘন দৃশ্য দেখাতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে তেমন কোন বৈচিত্র থাকে না।যেকোন পরিস্থিতিতেই অবশ্যাম্ভাবী হিসেবে একই টাইপের দু'তিনটা মিউজিক ব্যবহৃত হয় ।


কেন আমরা পারি না ?

(১)
নির্মাতাদের অনেকের অজুহাত , বাংলাদেশে যুদ্ধ দেখানোর মত প্রয়োজনীয় কারিগরী সামর্থ নেই। তাদের এই দাবীটিকে পুরোপুরি
অযৌক্তিক বলে মনে হয় । যুদ্ধ দেখানো মানেই ধুন্দুমার কিছু দেখাতে হবে
, এমন কথা বোধ করি কেউই স্বীকার করবেন না । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে গেরিলা পদ্ধতিতে । নদীমাতৃক দেশে ট্যাংক মিসাইল , অত্যাধুনিক রকেট নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে , সেসব কেউ দেখতেও চাইছে না । তাই বলে
বারবার একই ট্রাকে আগুন লাগানোর দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকার ভাবে যে যুদ্ধ হয়েছে , সেটা সেভাবেই ফুটিয়ে তুলতে দোষ কোথায় ? শুরুর দিকের খানিকটা অংশ ছাড়া যুদ্ধের দামামা বিহীন Enemy At The Gates মুভিতে সোভিয়েত স্নাইপার শ্যুটার ভ্যাসিলির শ্যেন দৃষ্টি আর জার্মান অফিসারের সাথে তাঁর ডুয়েল কি সিনেমাটিকে অসাধারণত্বের মর্যাদা এনে দেয়নি ?

(২)
শত্রুসেনাদের অদ্ভূত স্টাইলে মৃত্যুবরণ দেখানোটাও নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতার দৈন্যতা হিসেবেই বিবেচিত হয় । বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ নিয়ে
যেসব সিনেমা হয় , সেগুলোর মাঝে শত্রুসেনাদের এমন অদ্ভূতভাবে কই মাছের মত একটা ঝাঁকি দিয়ে চিৎপটাং হয়ে মৃত্যুবরণের দৃশ্য খুঁজে
পাওয়া যাবে না।

চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি মনে করেন , এমন দৃশ্যগুলো বীরত্বের প্রতিচ্ছবি , তবে তারা খুব বড় ভুলের মাঝে আছেন।একটা ব্যাপার খেয়াল রাখা
জরুরী , সবসময় সবকিছু স্পষ্ট করে দেখানোর কিছু নেই , সেটা যদি
দেখিয়েই দিতে হয় , তাহলে মানুষের অনুভব করার ক্ষমতার কি প্রয়োজন ছিল ? সাঈদের চোখে আটকে যাওয়া "Paradise Lost" সিনেমার শেষ দৃশ্যটা কি মানুষকে অবারিত সম্ভাবনা দিয়ে ভাবতে
শেখায়নি ?

(৩)
চলচ্চিত্রকারদের বেলাতেও খুব কঠিন কাজগুলোর অন্যতম হল , দর্শকেদের কোন দৃশ্যে আবেগে বিহ্বল করে দেয়া । বহু বছর ধরে একই বিদায় দৃশ্য দেখতে থাকলে দর্শকদের মনে আলাদা করে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না । চমৎকর নৈপুণ্যের সাথে ফুটিয়ে তুলতে পারলে ,
নায়ক নায়িকার চোখে জল ছাড়াই , দর্শকরা অঝোরে কাঁদতে পারে । আর আনাড়ি ভাবে জোর করে কাঁদানোর চেষ্টা করে গেলে মুভি সিকোয়েন্সে
শত কান্নাও দর্শকদের মাঝে প্রভাবে ফেলে না । "Ballad Of A Soldier" মুভিতে আলিয়েশো মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল হাসিমুখেই ,কিন্তু সে হাসিমুখ দেখে চোখের জল ফেলেনি , এমন কারও কি সন্ধান মিলবে ?

[৪]
মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাগুলো হতে পারত , বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে
উপস্থাপনের অনন্য একটি উপায় । বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে এত গৌরবময় যুদ্ধের ইতিহাস খুব বেশি জাতির নেই , অথচ পরিতাপের বিষয় হল , আজ পর্যন্ত বিশ্বকে আমরা কোন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছি । মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঘুরে ফিরে ২/১ রকমের মাঝেই ঘোরা-ফেরা করে , যার কোনটির মাঝেই নৈপুণ্যের সামান্যতম ছাপ নেই ।নির্মম কথাটি সম্ভবত
স্বীকার করে নেয়া ভাল ,জহির রায়হান কে হারানোর ক্ষতিটা সম্ভবত ৪০ বছর পরেও বাংলাদেশেকে বয়ে চলতে হচ্ছে । আপাত মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতারা আসলেই কতটা বাংলাদেশকে দিতে পেরেছেন , সেটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে আছে ।

(৫)
মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু খন্ড যুদ্ধ , শুধু বাংলাদেশ নয় , সমগ্র বিশ্বের গেরিলা যুদ্ধের ইতিহাসেই অন্যরকম গুরুত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
।বিপরীতে নির্মম সত্যিই হল , বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালকরা সম্ভবত একটা বারের মতও সেসব যুদ্ধের কোন একটিকেও পূর্ণাঙ্গভাবে
সেলুলয়েডের ফিতায় আলাদা কোন বিশেষত্ব নিয়ে তুলে আনতে
পারেননি । ঘুরে ফিরে যুদ্ধগুলোর বৈচিত্রহীনভাবে একইরকম হয় । চলচ্চিত্র শুধুই বিনোদনের মাধ্যম না , ইতিহাসেরও দলিলও বটে । প্রশ্ন উঠতেই পারে ঢাকা অপারেশন ,আখাউড়া বা চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা যেসব
বিখ্যাত অপারেশনগুলো পরিচালনা করেছিলেন ,সেগুলোকে আলাদা করে
হাইলাইট করে কেন কোন সিনেমা বা নাটক নির্মিত হয়নি ?

শুধু বিখ্যাত খন্ডযুদ্ধই না , সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে , ছোট ছোট কোন দল , বা ব্যক্তির বীরত্বগাঁথা । সেগুলো নিয়ে অসাধারণ চলচ্চিত্র হতে পারত , প্রায় ৪০ বছর পরে আজ যখন সেসব আমরা
ভুলতে বসেছি , কৌতুহল হয় , কেন সেসব ঘটনাকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়নি ?

(৬)
ইতিহাস বলে যুদ্ধটা এত সহজে জেতা যায়নি । কিছুটা ক্ষয়ক্ষতির পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিপুল বিক্রমে ফিরে আসার ঘটনাগুলো যদি দেখানো যেত
, গল্পগুলো অনেক বেশি দর্শকদের মনে দাগ কাটত ।

বিপক্ষের সৈন্যদের অট্টহাসি হাসিয়ে আর বড় গোঁফ দেখিয়ে যদি তাদের নৃশংসতা প্রমাণ করতে হয় , সেটা আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং
অভিনয় কলাকুশলীদের আরেকটি বিপর্যয়কর ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হবে। নির্বিকার চিত্তে হত্যাযজ্ঞ চালাতে দেখানো বরঞ্চ অনেক বেশি দাগ কেটে যায় । ভিলেন মানেই বীভৎস হাসি , এটা কোন কোন পরিস্থিতেতে
চলচ্চিত্রেকারের চিন্তার পরিধিকেই প্রশ্নবিদধ করে ।বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোতে নেগেটিভ চরিত্রগুলোও বেশির ভাগ সময় পজেটিভ ইমেজের কোন অভিনেতাকে দিয়ে করানো হয় , মেকিং আর অভিনয়ের অভিনবত্বে তারা তাদের ক্রুড়তা ফুটিয়ে তোলেন ।

(৭)
সংগীতের অসামান্য ব্যবহার দিয়েও একটা সিনেমা বদলে যেতে পারে । "No Man's Land" চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যটি যারা দেখেছেন , তারা এটার সবচেয়ে বড় স্বাক্ষী হয়ে আছেন । সিকোয়েন্সের সাথে সংগতি
রেখে নতুন সংগীত ব্যবহারের ব্যর্থতার দায়টা কি আমাদের সংগীত পরিচালকদের সীমাবদ্ধতারই ফসল ?




যা বলতেই হল : {স্বল্প বাজেটে নির্মিত প্যারাডাইস লস্ট , নোম্যানস ল্যান্ড , বা ব্যালাড অফ অ্যা সোলজার দেখার পর বারবার প্রশ্নটা মাথায় ঘুরে ... আমাদের কেন বিশ্বকে দেয়ার মত কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নেই ? বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বাদ দিলেও হাতে গোনা ১ টি বা ২ টি চলচ্চিত্র পাওয়া যাবে , যেগুলো দেশের মাঝে সত্যিকার অর্থে সাড়া জাগিয়েছিল। লেখাটার মাঝে ক্ষোভের চাইতে কষ্টটা বেশি , আশা করি সে দৃষ্টিকোণ থেকেই সবাই দেখার চেষ্টা করবেন}

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29023017 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29023017 2009-10-09 17:04:44
বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হয় কিভাবে ? তথ্য চাই ২/ কি কি সুবিধা / অসুবিধা ?
৩/ ইচ্ছেমত খরচ করার সুবিধা আছে কি ?করতে চাইলে কি কি করতে হবে?
৪/ কি কি শর্ত পূরণ করতে হয় ?
৫/ কি কি বিপদে পড়ার আশংকা আছে ?


কেউ তথ্য দিলে কৃতজ্ঞ থাকব

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29021845 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29021845 2009-10-07 12:52:11
ডায়াসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্যাচালের ইতিহাস :: ক্লিওন থেকে মুয়াম্মার গাদ্দাফী বারাক ওবামার ভাষণের পর ১৫ মিনিট বরাদ্দ ছিল লিবীয় প্রেসিডেন্ট কর্ণেল মুয়াম্মার গাদ্দাফীর জন্য । এরপর পালা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের । কিন্তু গর্ডন ব্রাউনের অপেক্ষার পালা যেন ফুরোতেই চায় না । ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ঘটল এই ঘটনা।

অবশেষে যখন গর্ডন ব্রাউনের সুযোগ মিলল , ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ৯৬ টি মিনিট। পুরো সময়টা জুড়ে কিছুই যেন বাদ রাখেননি গাদ্দাফি । আবেগাপ্লুত হয়ে সোমালী জলদস্যুদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে
কারা সেটা থেকে শুরু করে জন এফ কেনেডির মৃত্যু নিয়ে আলোচনা
করে ফেলেছেন । তাঁর কথার তীক্ষন বাণে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত করেছেন বিশ্বের জাঁদরেল সব নেতৃবৃন্দকে , নিরাপত্তা পরিষদকে অকার্যকর দাবী করে একে তুলোধুনো করেছেন , সোয়াইন ফ্লুকে আখ্যা দিয়েছেন
পশ্চিমা সামরিক স্বার্থে উৎপাদিত গুজব এবং ভাইরাস হিসেবে।


(সবেমাত্র জাতিসংঘ সনদ ছিঁড়ছেন গাদ্দাফী , বক্তৃতা তখনও অনেএএক বাকি)

মার্কিন মুল্লুকে উড়ে আসতে জেট ল্যাগে আক্রান্ত হয়ে কি ভীষণ ঝক্কি গেছে তার সে কথাও বাদ থাকেনি । সারা বিশ্বে সময়ের পার্থক্য নিয়ে তাই অভিযোগ করে বসেছেন । জাতিসংঘ সনদ ছিঁড়ে টুকরো
করেছেন , ছুঁড়ে ফেলেছেন। শেষমেশ নিজের ওয়েবসাইটের প্রচারণাতেও
কাজে লাগিয়েছেন সাধারণ পরিষদের ডায়াস।


লম্বা কথার লম্বা ইতিহাস :
এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় গর্ডন ব্রাউন যদি হতাশ হয়ে পড়েন , তবে বলতেই হবে ব্রাউন যথেষ্টই ভাগ্যবান । অন্য অনেকের তুলনায় গাদ্দাফী যে নিতান্তই শিশু ।


(কাস্ট্রোর কথা শুরু হত , কিন্তু শেষ হত না)

১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ডায়াস থেকে বক্তৃতা শেষ করে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিডেল ক্যাস্ট্রোর সময় লেগেছিল পুরো ৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট। তবে , ইতিহাস বলে , ক্যাস্ট্রো সেদিন কথা অনেক কমই বলেছিলেন । টানা ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তৃতা দিয়ে যাওয়ায় তার জুড়ি মেলা
ভার। ১৯৮৬ সালে কিউবান কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসে ক্যাস্ট্রো
একনাগাড়ে ৭ ঘন্টা ১০ মিনিট উচ্চকন্ঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এত বেশি
উত্তেজিত ছিলেন যে , মাঝে খাবার বিরতিও দেয়া হয়নি ।


ভারতীয় রাজনীতিবিদ ভিকে কৃষ্ঞমেনন তো আরেক কাঠি বাড়া । কাশ্মীরের উপর ভারতের কর্তৃত্বকে বৈধ প্রমাণ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটানা আট ঘন্টা গলা চড়িয়েছিলেন তিনি।


লম্বা কথার একাল/সেকাল :
গণতান্ত্রিক দেশে লম্বা ভাষণের ঘটনা আজকাল তুলনামূলকভাবে কমই ঘটে থাকে । আগে যেখানে লম্বা চওড়া বক্তৃতাকে বক্তার বিচক্ষণতা মনে
করা হত , এখনকার দিনে আজকাল বক্তার রাজনৈতিক দূর্বলতা হিসেবেই চিহ্নিত করা হয় ।

উদাহরণস্বরুপ , গর্ডন ব্রাউনের নামেই অভিযোগ আছে , তিনি অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেন। অথচ তার হ্যারল্ড ম্যাকমিলান পর্যন্ত পূর্বতন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীরা যখন ঘন্টার ঘন্টার পর ঘন্টা বলে যেতেন , তখন লোকে তাদের আরও বেশি সমীহ করত ।


বাঘে ধরলে ১৮ ঘা , ঠিকমত বক্তৃতা না শুনলে , তালি না দিলে ৩৬ ঘা :
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ বিভাগের অধ্যাপক এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে , শ্রোতারা উঠে চলে যাবে না , এমন নিশ্চয়তা পেলেই অনেকে লম্বা বক্তৃতা দেয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন । গাদ্দাফির বেলায় নিঃসন্দেহে তাঁর বাগ্মীতা শ্রোতাদের ধরে রাখে না , জাতিসংঘ সাধারণ
পরিষদে কূটনৈতিক রীতি আর ভদ্রতার কারণেই সবাই নিঃশব্দে তার ভাষণ শুনে গেছে , তবে দেশে তার অনুসারীদের সামনে বক্তৃতা শুরু করেন , তখন নিজেদের গা বাঁচানোর স্বার্থেই সবাইকে বক্তৃতা শুনে
যেতে হয় ।


(বক্তৃতাকালে দাঁড়িয়ে সম্মান বা তালি সব বক্তাই পছন্দ করেন ... তবে ...)

লম্বা বক্তব্য দেয়ার পর সবাই যদি তালি দিতে কার্পন্য করে , সেটা বক্তার জন্য বিরাট অপমানজনক । সাবেক সোভিয়েত নেতারা এই ব্যাপারটি
ভালভাবেই মাথায় রাখতেন বলে , তাদের বক্তৃতার পর অনুসারীদের
দীর্ঘ সময় ধরে ছন্দ মিলিয়ে তালি দিয়ে যেতে হত । কেউ যদি তালি
দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যেত , তবে তার কপালে বিরাট দুর্ভোগ নেমে
আসত ।

বিখ্যাত রুশ লেখক আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিনের সাথে সাইবেরিয়ার বন্দীশিবিরে দেখা হয়েছিল এমনই এক হতভাগার। রাশিয়ার স্থানীয় এক কমিউনিস্ট পার্টি কনফারেন্সে কেউ একজন স্ট্যালিনের সুস্বাস্থ্য কামনা
করে বসতেই শ্রোতারা দাঁড়িয়ে তুমুল করতালি শুরু করে । স্ট্যালিন যদিও অনুপস্থিত , তারপরও কেউ তালি থামাতে , বা তালির তীব্রতা থামানোর সাহস পেল না । ১১ মিনিট একটানা ঝড়ের বেগে তালি দিয়ে সেই হতভাগার হাতের তালু লাল হয়ে যায় , কাঁধ যেন খুলে আসতে থাকে । বাধ্য হয়ে সেই হতভাগা পার্টি নেতা বসে পড়েন তার আসনে , পরের দিন তাকে গ্রেফতার করে সাইবেরিয়ার বন্দী শিবিরে চালান করে দেয়া হয় ।


(স্ট্যালিনের বক্তৃতা , বা বক্তৃতায় স্ট্যালিনের নাম ...... মানেই ভীষণ বিভীষিকা)

স্ট্যালিনের লম্বা ভাষণের এক চতুর্থাংশ শুধু তালিময় হয়ে থাকত । সেসব ভাষণ এমনিতেও ভয়াবহ রকমের লম্বা হত । সামাজিক , অর্থনৈতিক , সামরিক , পররাষ্ট্র সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত ভাবে বলতে ভালবাসতেন স্টালিন। শুধু বর্তমানের কথা বলেই তিনি ক্ষান্ত হতেন না , আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে কোন ক্ষেত্রে কি ঘটতে যাচ্ছে সেসবও বলতে গিয়ে শুরু
হত আরেক ভাষণ ।

পরবর্তী সময়ের সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভও কম যাননি । এমনিতেই তার বক্তৃতার কপিগুলো হত পুস্তিকার মত , তার উপর ভীষণ উত্তেজিত হয়ে তিনি বহু পৃষ্ঠা দু'বার করে পড়তেন ।

লম্বা বক্তৃতা দিয়ে ধমক খাওয়া :
তবে , লম্বা বক্তারা জায়গা মত গিয়ে ধাতানিও খেয়েছেন ,সবচেয়ে
উল্লেখযোগ্যটা ঘটেছিল চিলিতে ।


(এত কথা বলে কাস্ট্রো ডোবাবে নাকি , ভীত হয়ে গেলেন সালভাদর আয়েন্দে)

১৯৭০ এর চিলিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমাজতন্ত্রী সালভাদর আলেন্দের সমর্থনে প্রচারণা চালাতে চিলি গিয়েছিলেন কিউবান প্রেসিডেন্ট ফিডেল ক্যাস্ট্রো । আলেন্দের সমর্থনে চিলির বিভিন্ন জায়গায় যখন কাস্ট্রো লম্বা
লম্বা বক্তৃতা ।দিতে শুরু করেন , তখন স্বয়ং আলেন্দে শংকিত হয়ে
পড়েন । তার ধারণা হয় , কাস্ট্রোর এত লম্বা বক্তৃতায় অধৈর্য হয়ে চিলির জনগণ উল্টো আলেন্দের বিপক্ষে ভোট দিয়ে বসতে পারে । কাস্ট্রোকে
তাই কঠোরভাবে তিনি সতর্ক করে দেন কম কথায় কাজ সারতে ।

দীর্ঘ বক্তব্যের জনক কে ?
গাদ্দাফি বা কাস্ট্রো হয়ত আধুনিক কালে ঘন্টার পর ঘন্টা বক্তৃতা দিয়ে
বেড়াচ্ছেন , তবে প্রাচীনকালের দিকে যদি তাকানো হয় ,তবে তাঁদের
গুরু ছিলেন গ্রীক শিক্ষক ক্লিওন , যিনি মনে করতেন লম্বা চওড়া বক্তৃতা
দিয়েই কেবল জনগণের মন জয় করা সম্ভব।

পেলোপনিশিয়ান যুদ্ধে যেসব এথেন্সবাসী নিহত হয়েছিলেন , তাদের শৌর্য বীর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে অসম্ভব রকমের প্রলম্বিত করে ফেলেছিলেন ক্লিওন , যে মৃতদেহ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ।


শেষের গল্প :

(আতাতুর্ক ......কাল আবার বাকিটুকু ..... )

এখানেই শেষ করা যেত , তবে কামাল আতাতুর্কের গল্প না বললে
বক্তৃতাবাজীর গল্পটা মনে হয় অসমাপ্তই রয়ে যায় । ১৯২৭ সালে তার একটা বক্তৃতার দৈর্ঘ্য ছিল ৩৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট । প্রতিদিন বক্তব্য শুরু করতেন কামাল পাশা , এভাবে পুরো বক্তব্য শেষ হতে সময়
লেগে গেল ৬ টা দিন !!


বিবিসি অবলম্বনে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29016177 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29016177 2009-09-26 22:11:37
আমার যুদ্ধ-স্মৃতি :: (ইরান-ইরাক যুদ্ধ - ১)
২ বছর আগে ঢাকা মেডিকেল থেকে পাশ করে আব্বু তখন ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি ওয়ার্ডের রেজিস্টারার এবং সিও । বাংলাদেশী
ডাক্তারদের মাঝে তখন মধ্যপ্রাচ্যে যাবার ধুম । ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র প্রফেসর আব্বুকে ভীষণ স্নেহ করতেন । তার হস্তক্ষেপের কারণে সৌদি আরব সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে
সৌদি যাবার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় বেশ কয়েকবার । দাদার সংসারের কথা ভেবে বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন স্যারকে না জানিয়েই সৌদি আরবের চেয়ে অনেক কম সুবিধা সম্বলিত ইরান যাবেন । এ যাত্রায় বাবার সঙ্গী , বাবার এক বন্ধু ।


করাচী থেকে বাইরোডে পৌছুলেন পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে । সেখান থেকে বর্ডার পার হয়ে প্রবেশ করলেন ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে । জাহেদান শহর থেকে দীর্ঘ বাসযাত্রা শেষে তেহরান পৌছুতে লেগে গেল পুরো তিনদিন।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের অষ্টম কি নবম মাস চলছে তখন । পারস্য উপসাগরে কয়েকটি দ্বীপের মালিকানা এবং শাতিল-আরব মোহনার দখলদারিত্ব নিয়ে ৮ বছর ব্যাপি ইরাক-ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা ১৯৮০ সালে ।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর রেজা শাহ পাহলভীপন্থি আর্মি
অফিসারদের অনেকেই পাশ্চাত্যে পালিয়ে গেছেন , যারা যেতে পারেননি , তাদের অনেককেই বরখাস্ত করা হয়েছে , বা বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে
প্রেরণ করা হয়েছে।শাহের একান্ত অনুগত অনেক জেনারেলকে ফাঁসিকাষ্ঠও ঝুলানো হয়। ১৯৮০ সালে ইরাকের করা আকস্মিক আক্রমণে হতভম্ব ইরান তখনও গুছিয়ে উঠতে পারেনি । সে কারণে , শক্তিশালী ইরাকী
বাহিনীর মোকাবেলায় এলোমেলো ইরানী বাহিনী প্রাথমিকভাবে বিপর্যস্ত
হয়ে পড়ে ।

এরকম পরিস্থিতির মাঝে ৮১ সালের মে মাসের যেদিন আব্বু তেহরান পৌছুলেন , সেদিনও তেহরান দফায় দফায় ইরাকী বোমারু বিমানগুলোর হামলার শিকার হয় ।

দেশে আত্মীয়-স্বজনকে বিপুল উৎকন্ঠার মাঝে রেখে গেছেন আব্বু । কোথায় পোস্টিং হবে সেটা নিয়েও অনেক উৎকন্ঠার মাঝে পড়ে গেলেন ।আব্বুর আশংকাই সত্য হল , পোস্টিং দেয়া হল ইরাক ঘেঁষে থাকা , ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহের সর্বপশ্চিমের জেলা পাভেহতে ।


ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে দামাভান্দ পর্বতমালার একটি পাহাড়ে গা বেয়ে নেমে আসা শহর পাভেহ । ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৭ কিমি দূরে হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের এক বছরে পাভেহর একবারও আক্রান্ত না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল । ইরাক-ইরান যুদ্ধ তখন পরিচিত হয়ে উঠছে "ব্যাটল অব সিটিজ" হিসেবে । সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি সাধনের জন্য দু' দেশই পরস্পরের বৃহত্তম শহরগুলোকে টার্গেট করতে শুরু করে , ফলে পাভেহ এর মত ছোট শহরগুলো প্রাথমিক আক্রমণের লক্ষবস্তু হয়নি । ইরাক সীমান্ত থেকে দূরত্ব মাত্র ১৭ কিমি হলেও এর পুরোটাই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল , ফলে স্থল আক্রমণ থেকেও পাভেহ তখনও অক্ষত রয়ে যায় ।

১৯৮২ সালের শুরুর দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় । ইরাকী স্থলবাহিনী ইরানী ভূ-খন্ড দখলের লক্ষ্য নিয়ে ইরানের পশ্চিম সীমান্তে তীব্র আক্রমণ চালায়। আক্রান্ত হয় ইরাক সীমান্তবর্তী পাভেহ জেলার সীমান্ত সংলগ্ন শহর নওসুদ এবং নোদশেহ এবং ক্বাসর-এ-শিরিন।

প্রথমেই ইরাকী বাহিনীর হাতে পদানত হয় মরুদ্যান ক্বাসর-এ-শিরিন । ক্বাসর-এ-শিরিনের পতনের পর ইরাকী বাহিনী তখন নউসুদ এবং নদশা অভিমুখে উদ্যত ।


বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশী কোন ডাক্তারকে ফ্রন্টে পাঠানোর কথা নয় ।নউসুদ এবং নোদশেহ এর আকস্মিক ভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সে চুক্তিতে কয়েকদিনের জন্য ছেদ টানল ইরাকী মর্টারশেল নিক্ষেপে ইরানি ডাক্তারদের অধিকাংশ তখন নিহত হন , ধ্বংস হয়ে যায় নৌসুদ হাসপাতাল। শয়ে শয়ে আহত সৈন্যে ভরে যায় নোদশেহ হাসপাতাল । প্রাদেশিক রাজধানী কেরমানশাহ থেকে ইরানী ডাক্তার এসে পৌছুতে সময় লেগে যাবে দু'তিনদিন । জরুরী ডাকে নদশেহ পাঠানো হল আব্বুকে । ইরাক সীমান্তের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে নোদশেহ শহর দখল করতে এগিয়ে আসছে
ইরাকী ট্যাংকবাহিনী । জীবন-মরণের দোলাচলে , নদশা হাসপাতালে
বাবা অতিবাহিত করেন জীবনের দুঃসহতম তিনটি দিন ।

১৯৮২ এর শেষদিকে মাস দুয়েকের জন্য দেশে ফেরেন বাবা ।সদ্য বিয়ে করে ইরান ফেরার পর বাবার নতুন কর্মস্থল পাভেহ এর দক্ষিণের শহর জাভানরুদে । চারটা বড় পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকায় অবস্থিত জাভানরুদ তুলনামূলক ভাবে অনেক ছোট শহর , পাভেহ এর মত পুরো শহরটা পাহাড়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নেই । শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট পাহাড়ি নদীটির নামও জাভানরূদ । পাভেহ এর তুলনায় জাভানরুদ অনেক বেশি সুরক্ষিত । ইরাকি বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হবার সুযোগটা অনেক কম , এ কথা ভেবে বাবা অনেকটাই আস্বস্ত । ১৯৮৩ এর মাঝামাঝি আম্মু জাভানরুদ যান ।

১৯৮৪ এর শুরুর দিকে যুদ্ধের গতিপথে বড় ধরণের পরিবর্তন আসল । প্রাথমিক বিপর্যয় অবস্থা কাটিয়ে উঠে ইরানিরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে । বড় শহর গুলোর সীমা ডিঙিয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে ছোট শহরগুলোতে ।

১৯৮৪ এর শেষদিকে এক রাতে জাভানরুদের আকাশ ভেঙ্গে প্রথম উড়ে যায় কয়েকটি ইরাকী জঙ্গী বিমান । শহরের উত্তর প্রান্তের পাহাড়ের উপর অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট কামানগুলো গর্জে ওঠে । পরের দিন আতঙ্কে শহরের অনেকটাই খালি হয়ে যায় ।শহরের উপকন্ঠের শান্ত পাহাড়ী গ্রামগুলো জাভানরুদবাসীর প্রাথমিক আশ্রয়স্থল । আম্মাকে
নিয়ে অন্য অনেক জাভানরুদবাসীর মত আব্বু আশ্রয় নেন জাভানরুদের উপকন্ঠে শান্ত , ছায়াঘেরা গ্রাম সাফিদবার্গে । আমার বয়েস তখন কয়েকমাস ....

ঘোরতর দুঃশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার মাঝে আব্বু সিদ্ধান্ত নেন আরও দুর্গম এলাকায় পোস্টিং নেয়ার । হেড-অফিসে দরখাস্ত করার পর নতুন অফার আসে ... গন্তব্যের নাম শারভিনাহ। ১৯৮৬ এর একদম প্রারম্ভে আমরা জাভানরুদ ছেড়ে যাই , নতুন ঠিকানা শারভিনাহ । মোটামুটি প্রত্যন্ত অঞ্চল বলতে যা বোঝায় শারভিনাহের সাথে তা মোটামুটি মানিয়ে যায় ।শারভিনাহ যাবার রাস্তা তখনও পুরো পাকা হয়নি , পাহাড় কেটে বানানো কাঁচা রাস্তা ধরে শারভিনাহ যাবার পথটাও ভীষণ বিপদসঙ্কুল , বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার পাশে হাজার ফুটের বেশি গভীর খাদ । জাভানরুদের পূর্ব দিকে অবস্থিত শারভিনাহ ইরাকী ভু-খন্ড থেকে মাত্র ৩৫ কি।মি দূরে । তবে এ ৩৫ কি.মি এর প্রায় পুরোটাই বিপদশঙ্কুল পর্বতাকীর্ণ , সে কারণে স্থলবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ শারভিনাহতে নেই ।আর কৌশলগত কারণে শারভিনাহতে বিমান হামলা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ইরাকের অনেক কাছাকাছি থেকেও শারভিনাহ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ ...


(এ পর্বের পুরোটাই আমার বাবা মায়ের কাছ থেকে শোনা , অল্প বয়েসের কারণে তখনকার কোন স্মৃতিই আমার মনে নেই । শারভিনাহ থেকে আমার স্মতিগুলো জমাট বাঁধতে শুরু করে , সেসব কথা থাকছে পরের পর্বে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29010706 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29010706 2009-09-15 02:58:35
আড্ডা রিভিউ : বুয়েটিয়ান ব্লগারদের স্মরণী্য় একটি সন্ধ্যা অদ্রোহের মেইল , বুয়েটের ব্লগারদের নিয়ে একটা গেট টুগেদার করার প্ল্যানের কথা জানালো । ঝটপট সায় দিলাম , আগে কখনও ব্লগার আড্ডায় যাওয়া হয়নি । এমনকি বুয়েটের ব্লগারদের মাঝে বন্ধু সীমান্ত আহমেদ , ফারহান আর জুনিয়র শিটসুজি ছাড়া কাউকে চিনিও না । বেশ অবাক ব্যাপার
, ব্লগেও কোন পোস্ট দেয়া হয়নি । ফেসবুকে মাত্র তিনটা মেইল চালাচালির পরেই খুব ঝটপট দু'দিনের মাঝেই ২২ জন ব্লগার সম্মতি দিয়ে ফেলল , ভেন্যু ঠিক হল বুয়েট ক্যাফে , ২ রা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইফতার +আড্ডা ।

আমি আর সীমান্ত গুলশান থেকে সিএনজি নিয়ে ডিরেক্ট বুয়েট ক্যাফেতে যখন পৌঁছেছি , তখন ৪:৪৫ । তখন ক্যাফেতে ৩/৪ টা গ্রুপ বসে আছে , যেহেতু আগে থেকে কাউকে চিনি না , তাই দু'জন মিলে ঘুরে ঘুরে মনযোগ দিয়ে একটু নিরীক্ষা করে বুঝলাম এদের কেউই ব্লগার সম্প্রদায়ের না । একবার মনে হল , কাউকে ফোন দিই , কোন ফোন নাম্বারও নেই কারও শেষে ঠিক করলাম রশীদ হলে আমাদের ফ্লোর থেকে ঘুরে আসি , অনেকদিন যাওয়া হয় না । ফ্লোরে গিয়ে চমৎকার ১ টা ঘন্টা কাটলো ।

হঠাৎ সীমান্ত স্মরণ করিয়ে দিল , হায় হায় আমরা তো কেউ চাঁদা দিই নাই । এমনকি কত চাঁদা , কখন দিতে হবে তাও জানি না ।পড়িমরি করে
ক্যাফের দিকে ছুটলাম ৫:৪০ এর দিকে । আসলেই ..... অদ্রোহ আর আবীর কারও কাছ থেকে আগে থেকে চাঁদা না নিয়েই যেভাবে ম্যানেজ করে ফেলেছে , তাতে আমি মুগ্ধ । ২৪ জন ব্লগার ২৪ দিকে ছড়িয়ে
ছিটিয়ে , ওরা ম্যানেজ না করলে আয়োজনটাই সম্পন্ন করা যেত না ।

ক্যাফেতে যাবার পথে শেরে বাংলা হল থেকে আমাদের সঙ্গী হল শিটসুজি আর হিমালয়৭৭৭ ....

ক্যাফের সামনে গিয়ে দেখি অডিটোরিয়ামের সামনে কয়েকজন বসে আছে , একটা মেয়ে আছে তাদের মাঝে । আমি যথারীতি সবার মাইন্ড রিড করে বুঝে গেলাম এরাই সেই স্বজন , ওরাও যেন অপেক্ষা করছে কারও জন্য। আর নাহিন যে একটা মেয়ে সেটা জানা ছিল , তাই একটা মেয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলাম ।

সবার লেখা পড়ার সাথে সাথে একটা ছবি কল্পনা করে নিতাম মনে মনে । ওখানে গিয়ে অবাক হয়ে খেয়াল করলাম কোন ছবিই মিলছে না । তবে , সাদাত ভাইয়ের টা মিলে গেল একদম পারফেক্ট : নিপাট ভদ্রলোক , নূরানী চেহারা । হাতটা বাড়িয়ে দিয়েই বললাম ...."সাদাত ভাই ?" । আবিরকে কেন যেন কার্টুন কার্টুন ভাবতাম , দেখি এই ছেলে বেশ রাশভারী , ভদ্রছেলে (দাড়ির কারণে ??) । মুক্তবয়ান দেখেই চিনে ফেললাম , এই ফেস আমার খুবই চেনা , বুয়েটেই দেখেছি অনেক । পরে কারণটা বুঝলাম , মুক্ত রশীদ হলে আমার ঠিক ওপরের ফ্লোরেই থাকে ....... হলেই তাহলে অনেকবার দেখেছি । অদ্রোহের আউটওয়ার্ড অ্যাপায়ারেন্সও মিলল না , ওকে কেন যেন আমার সেমিনার করে এমন বুদ্ধিজীবি মনে হত (ওর লেখার দারুণ ফ্যান কিনা) , কিন্তু ওর হাসি দেখেই মনটা ভাল হয়ে গেল , দারুণ আন্তরিক আর লাজুক একটা ছেলে বলেই মনে হল । হিমালয়৭৭৭ কথা বলে খুবই কম , এই চুপচাপ ছেলেটা লেখা নিয়ে অনেক এক্সপিরিমেন্ট করে , দেখে বুঝার একদমই অবকাশ নেই । ওর সাথে কথা বলে অসম্ভব ভাল লেগেছে (এত কম কথা বলে , তারপরও যে ৪/৫ টা কথা হয়েছে তাতেই ভাল লেগে গেল) । রুমমেট শিটসুজি তো এমনিতেও হ্যান্ডসাম , পাঞ্জাবী পড়ে তো আরও মাঞ্জা । ফোন করে ডেকে আনল ক্ষুরধার লেখনী দিয়ে একটা সময় ব্লগে বহুল পরিচিত আরিফুল হোসেন তুহিনকে । তুহিনের সুদর্শন চেহারায় ওর লেখনীর একটা ছাপ আছে , একটু রিজার্ভ মনে হল (হয়ত হঠাৎ দেখা বলেই) ।

অডিটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়েই আড্ডা শুরু হল । গরমে সবারই খারাপ লাগছে , কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে কেউ বসছে না । নাহিনের সাথে কথা হল , তখন পর্যন্ত যারা এসেছে তাদের মাঝে কেবল নাহিনই কবিতা লেখে , এটা ধরিয়ে দেয়ার পর মনে হল নাহিন খানিক বিব্রত । কিন্তু সবাই যখন রায় দিল যে আমরা তাহার কবিতা ভাল পাই , তখন ওর সংকোচ খানিক কাটল । সাদাত ভাইয়ের সাথে ততক্ষণে পুটপুট করে আলাপ জুড়ে দিয়েছি । সবাই অপেক্ষা করছে সেলিব্রিটি ফারহান দাউদের (মাফ চাই, আমি কিন্তু এই ট্যাগিং করি নাই , অন্যদের কথা শুনে বুঝা যাচ্ছিল ফারহানই সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগার <img src=" style="border:0;" /> )

এর মাঝে রিকশায় করে আসল টোনা(শুভ) । শুভ , তোমাকে দেখে আমার প্রথমে কি মনে হইসে জানো ? মনে হইসে , একটু বেশি করে খাওয়া দাওয়া করা উচিত তোমার <img src=" style="border:0;" /> । কল্পনায় তোমার যে চেহারা ছিল , সেটার সাথে তোমারটাও মিলল না একদম । আমি গম্ভীর রাগী টাইপ কাউকে ভাবতাম , এই ছেলে দেখি মহা হাসি খুশি , পাতলা একটা পাঞ্জাবি পড়ে জামাই সেজে এসেছে <img src=" style="border:0;" /> ।

খানিক পর ক্যাপ মাথায় দিয়ে যখন ফারহানের আগমন ঘটল , সবাই হাততালি দিয়ে ওকে স্বাগত জানাল (আফসোস , আমরা কেউ হাততালি পাই নাই <img src=" style="border:0;" /> ) । সবাই এগিয়ে এসে ফারহানের সাথে হ্যান্ডশেক করল (মনে মনে বলছিলাম , সোয়াইন ফ্লুর কালে এত হ্যান্ডশেক ভাল না) । তো ফারহান শুরুতে কি কারণে যেন খানিক ঝিম মেরে বসে থাকল , কথা বার্তা বিশেষ বলছিল না । একবার বলতে চাইলাম "ওই , সেলিব্রিটি ভাব ধরলা নাকি ?" । কিন্তু বললাম না , অপেক্ষা করছিলাম কখন ফারহান তার কথার ফোয়ারা ছোটাবে ।

সিউল রায়হান আসল প্রায় একই সময় । ব্লগের লেখা পড়ে সিউলকেও রুদ্রমূর্তির মোটাসোটা কেউ ভেবেছিলাম (কুংফু পান্ডা প্রোফাইল পিক দেখেই হয়ত) । কিন্তু দেখা গেল , সে তার ধারে কাছেও নেই , একদম নরমাল ।

একটু পরেই আসল গুহামানব , আকাশনীল (আরে , এই ছেলেকেও তো অনেক দেখেছি , আমাদের বাসে করেই বুয়েট থেকে বাসায় ফিরত) , বোহেমিয়ান কতকথা , ভীষণ চুপচাপ চুপচাপ অঞ্জন সানি , ব্লগীয় বিচারে সবার সিনিয়র হাজ্জাজ বিন ইউসুফ । কেউ মনে করিয়ে দিল ইফতারের সময় হয়েছে , ক্যাফেতে গিয়ে সবাই বসলাম । আমি ত্খনও বুঝতে পারছিলাম না , কিভাবে আয়োজন করা হয়েছে । কারণ কেউই চাঁদা দিই নাই , ইফতারের মাত্র কয়েক মিনিট বাকি । গিয়ে দেখি আবির অদ্রোহ সব ব্যবস্থা করে রেখেছে । ক্যাফের জুস , কেনা জুস , ফল , চিকেন গ্রিল , পরোটাও রেডি । আর রেগুলার আইটেম তো আছেই ।

খাওয়া দাওয়ার সময় গ্রুপ গ্রুপ করে আড্ডা চলছিল । আরাফাত ভাই আসলেন , সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলাম আরাফাত ভাইয়ের সাথে । আরাফাত ভাই , সাদাত ভাইয়ের জুনিয়র জেনে সাদাত ভাইয়ের সে কি আহাজারি !! সাদাত ভাইয়ের সাথে সিএসই বিষয়ক আলাপ করলাম বেশ কিছুক্ষণ ।


ইফতারের শেষ দিকে হঠাৎ একটা জিনিস খেয়াল করেছি , দেখে একটু মন খারাপ হয়ে গেছে । আবির , অদ্রোহ ....... তোমরা মনে হয় নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে আমাদের খাওয়াইসো <img src=" style="border:0;" />..........(কৃতজ্ঞ আমরা সবাই অনেক) । আকাশনীলের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা হল জব , ফিউচার প্ল্যান নিয়ে । বোহেমিয়ান জানাল সামহোয়্যারের বুয়েটিয়ান গ্রুপে ৪ দিন আগে অ্যাপ্লাই করেছে , এখনও সাড়া মেলেনি । ওর কথা শুনে সবার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাবার জোগাড় , কারণ অনেকেই আছে দু'মাস অপেক্ষার পর অ্যাপ্রুভাল পেয়েছে , আর ও কিনা ৪ দিনেই ?? ওকে সান্ত্বনা দিয়ে জানানো হল , ব্লগের বুয়েটিয়ান গ্রুপে কোন কার্যক্রম নেই । ছেলেটা এখনও ফার্স্ট পেইজে আসতে পারেনি , ওর পেইজে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখল ।

হঠাৎ মনে হল হাট ভাঙতে চলেছে । হিমালয়ের গেস্ট আছে , তাই চলে যাবে । সিউলও চলে যাবে , ওর তাড়াহুড়া দেখে নাহিন সন্দেহ প্রকাশ করল সিউল নোয়াখাইল্যা কিনা । এর মাঝে আমরা সাদাত ভাইয়ের সৌজন্যে জুস খেলাম । স্মার্ট ছেলে নকীবুল বারীকে দেখা গেল ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই ফারহানের সাথে আড্ডা দিতে । বলাবাহুল্য নকীব আমাদের মাঝে সবচেয়ে স্মার্ট সেজে এসেছিল , কাজেই স্মার্টনেসের অভাবে ওকে একটা ফার্মের রিসিপশনিস্ট বের করে দিয়েছে বলে যে পোস্টটা দিয়েছিল , সেটার কথা ভেবে নিজের জন্য আতঙ্কিত হলাম (একবার মনে হল , নকীব চাপা মেরেছে নাকি ? )


এরপর শুরু হল ফুটবল পর্ব । ম্যানচেস্টারের সমর্থকদের ভীড়ে টেকা দায় হয়ে পড়ল , আর্সেনালের সহযোদ্ধা আবীরকে পেলাম । সাদাত ভাই যখন জানাল উনি ম্যানচেস্টারের রেজিস্টার্ড ফ্যান , তখন আর যায় কোথায় ? চেলসির উপর ম্যানচেস্টারিয়ানদের মহাক্ষ্যাপা বলে মনে হল , আমাদের রেহাই দিল , ফাঁকে জানিয়ে দিলাম যে ম্যানচেস্টার বধের জন্য চেলসিকে মোরাল সাপোর্ট দিই মাঝে মাঝে । পরিস্থিতি প্রতিকুল দেখে সোজা মোহামেডান-আবাহনীর কথা তুললাম । এবার সাপোর্টে খানিক সাম্য আসল । কথায় কথায় বাড্ডা জাগরণী , ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল , আরামবাগ ক্লাবের কথাও আলোচনা হল । জীবন্ত এনসাইক্লোপেডিয়া সীমান্ত আহমেদ একের পর এক ঢাকা লীগের ইনফো দেয়া শুরু করল । ব্যাপারটায় সবাই মজা পাচ্ছিলাম । কলুর বলদ আর সুহান ততক্ষণে বিদায় নিল । ব্রাজিল আর্জেন্টিনার ব্যাপারটা খানিক আলোচনা হল , তবে সিরিয়াস কোন মারামারির দিকে যায়নি ।

হঠাৎ নাহিন জানাল , গরমে সে সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে । সবাই বের হয়ে আসলাম । আড্ডার মেইন আইটেম যে বাইরে , সেটা তখনও বুঝিনি । দেয়ালের উপর বসা জনৈক আরাফাত ভাই , স্বল্পভাষী ফসিল ব্লগার হাজ্জাজ ভাই , নাহিন , আর সাদাত ভাই ।

সীমান্ত তো বাংলা সিনেমার যুগান্তকারী তিনটা ঘটনা বলে হাসির রোল ফেলে দিল । ব্লগ প্রসংগ উঠে এল বারবার , ব্লগের ঘটনা , ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা , ব্যান-ব্যানানি , এটা কার নিক , ওটা কার নিক ? বুয়েটিয়ান আর কে কে আছে , লুল , এ-টিম সব নিয়েই অল্প বিস্তর কথা হল । মিথিলা প্রসঙ্গ উঠতেই আমি জানালাম ব্লগে আমার পড়া প্রথম পোস্ট ছিল মিথিলার লেখা একটা পোস্ট । মিথিলার শোকে ব্লগবাসীরা কিভাবে সব বিভেদ ভুলে একাট্টা হয়ে শোকাভিভূত হয়েছিলেন , আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হওয়ার পর ব্লগারদের সংহারমূর্তির সেসব কথাও বাদ থাকল না। সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর মিথিলা কাহিনী
শুনে গেল । সিএসই এর ব্লগারদের প্রাধান্য ছিল একটু বেশি , সে কারণেই হয়ত সিএসই ডিপার্টমেন্ট নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হল । মুভি
নিয়ে কথা হল আবীর , অদ্রোহের সাথে । সময়ের অভাবে ওদের কাছ থেকে মুভি আনার কথা ভেবেও আনা হলো না । মুক্ত ১ বছর আগে ছাপা বুয়েটের সিএসই ডে'র স্যুভেনির এগিয়ে দিল , যেখানে আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছে । ছাপার অক্ষরে এই প্রথম নিজের কোন বড় লেখা পেয়ে ভাল্লাগলো অনেক ।ব্লগের কারও নিক উচ্চারণ করার সাথে সাথে কেউ একজন তার সম্পর্কে ডিটেলস ইনফো যখন দিয়ে দিচ্ছিল , সাদাত ভাইয়ের বিস্ময়ের সীমা তখন আর কাটে না ...। তার কথা ..."একেকজন দেখি ব্লগিপিডিয়া" । ফারহানের তাড়া খেয়ে বিদায় জানালাম , তারপর নাহিন , মুক্ত , টোনা , আবির , আরাফাত ভাই , সীমান্ত , হাজ্জাজ ভাই , অদ্রোহের সাথে আবার আড্ডায় মেতে উঠলাম । এমন বিদায় পর্ব চলল তিনবার , শেষমেশ যখন বিদায় নিলাম , ১০ টা বাজতে চলেছে ।

সবাই ফোন নাম্বার শেয়ার করার কথা বলছিলাম , কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে খেয়াল করলাম , আমার মোবাইলে চার্জ নেই <img src=" style="border:0;" /> (জরুরী প্রয়োজনের সময় সবসময় এমনটা ঘটে)

একটা অসাধারণ সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা নিয়ে বুয়েট ছেড়ে রওনা হলাম ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29004870 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29004870 2009-09-05 02:43:09
অভিনব কায়দায় BBC world service এর শিরোনামে উঠে এল বাংলাদেশের নাম
BBC world service জানাচ্ছে, ৩১ শে আগষ্ট দুপুর ২ টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দ্যশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবার কথা ছিল যে বিমানটির , বিমানটির পাঁচটি টয়লেটের সবক'টি জ্যাম হয়ে যাবার কারণে সেটি ১০ ঘন্টা বিলম্বিত হয় । বিমানের প্রকৌশল ডিভিশনের পরিচালক উইং কমান্ডার বিবিসিকে জানিয়েছেন , এর পেছনে কোন যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না , বরং এর পুরোটাই দায় যাত্রীদের , এবং এটি তাদের টয়লেট ব্যবহারে অজ্ঞতার ফসল ।

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের কায়দায় বিমানের বাংলাদেশী যাত্রীরা বিমানের টয়লেটগুলো অবাধে বোতল , কাপ , টিস্যু পেপার এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন নিক্ষেপের ফলশ্রুতিতে বিমানের নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে । একজন পাইলটের উদ্ধৃতি দিয়ে BBC জানায় "কেবল মাত্র পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণেই জাতীয় বিমান সংস্থার ফ্লাইটটি স্থগিত করতে হয় "

BBC আরও জানায় ৩০ শে আগস্ট জাতিসংঘ এক নির্দেশনায় জাতিসংঘের অধীনস্ত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ফ্লাইটে নিয়মিত বিলম্ব এড়াতে বিমান চড়া এড়িয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছে ।

খবরে বিমানের দুর্নীতি , বেতন প্রদানে ব্যর্থতা , পুরনো এবং জীর্ণ শীর্ণ বিমান এবং জ্বালানীর দাম পরিশোধে বিমানের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ।

উল্লেখ্য , শত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ইতোপূর্ব বিমান কখনও বিশ্বমিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয় । এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটে বিলম্ব বিমানের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হলেও , টয়লেট জ্যাম করে দিয়ে ফ্লাইট আটকে দেয়ার কৃতিত্বের ফলেই বিমান অবশেষে BBC এর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হল ।

মূল খবরের লিংক :
Bangladesh flight hits toilet jam

বিবিসির প্রথম পাতায় খবরটি এখনও আছে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29002757 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrabblog/29002757 2009-09-01 05:04:41