somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিয়ে করছেন রানী
সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা গেছে, শেষপর্যন্ত রাণীকে মেনে নিচ্ছেন আদিত্যের বাবা-মা। আদিত্যের বাবা যশ চোপড়া বুঝতে পেরেছেন যে, রাণী তাঁর ছেলের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাছাড়া আদিত্যের মা রাণীর এই দুরে থাকার বিষয়টিকে আর মেনে নিতে অপারগতাই জানিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এবিষয়ে যশ বলেছেন, ‘কতোদিন আর এভাবে চলতে পারে। সে তো আমার ছোট ছেলেও। তাছাড়া পামও বেশ নরম হয়েছেন আগের চেয়ে।’

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে আসলে একটি অনুষ্ঠান। সম্প্রতি আদিত্যের বাবা-মা ও রাণী একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সেখানে যশ দম্পতি রাণীর সঙ্গে বেশ ভালো আচরণই করেছেন। রাণীও মঞ্চে ওঠার আগে তাদের আশীর্বাদ নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিয়ের বিষয়টি এখন রাণী-আদিত্যের জন্য বেশ সহজই হয়ে গেলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29129894 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29129894 2010-04-06 11:39:14
বিয়ের পিঁড়িতে প্রভা

বিয়ের পিঁড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মডেল ও অভিনয়শিল্পী প্রভা। বিয়ের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে বাগদানের প্রস্তুতি চলছে।
প্রভার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল ঢাকার অভিজাত একটি রেস্তোরাঁয় প্রভার বাগদান হবে। তাঁর হবু বর রাজীব হাসান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি এমবিএ করছেন।
প্রভা বললেন, ‘আমাদের প্রায় আট বছরের সম্পর্ক। তবে এখন দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। বিয়ের দিনক্ষণও অভিভাবকেরাই ঠিক করবেন।’
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রভা ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর পড়াশোনা করছেন।

সূত্রঃ প্রথম আলো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29128861 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29128861 2010-04-04 14:19:43
এটা মম ও মুন্নার দ্বিতীয় বিয়ে
পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হওয়া এ বিয়ের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানা যায় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে। সূত্র জানায়, এই বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় একরকম মিডিয়ার অগোচরে। এক্ষেত্রে দাওয়াতপত্র পাননি এ দুজনের নাটক ক্যারিয়ারের নিকট বন্ধু-বান্ধবরাও।

জানা যায়, মূলত সংবাদ মাধ্যমের চোখ এড়ানোর জন্যই মিডিয়ার অন্য কাউকে সে অর্থে এ বিয়ের বিষয়টি জানানো হয়নি। তাই এমন সংবাদের সত্যতা জানতে গেলে মম-মুন্নার একাধিক নিকট সতীর্থ অনেকটাই গাছ থেকে পড়েন। তাঁরা বলেন, প্রেমের বিষয়টা তো পরিষ্কার- এটা এখন সবার কাছেই ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে।

কিন্তু বিয়ের বিষয়টি তো ওরা কাউকে জানায়নি। এরপর গেল দুদিন ধরে এমন সংবাদের সত্যতা খুঁজতে এ দুজনের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও প্রতিনিয়ত বন্ধ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ প্রেমের লুকোচুরি খেলার পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়েও মম-মুন্নার এমন আচরণকে অনেকেই ছেলেমানুষি ও পাগলামি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এদিকে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ বিয়ের সত্যতা স্বীকার করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছার শর্ত দিয়ে। সূত্রগুলো জানায়, গত মঙ্গলবার দুপক্ষের হলুদ সন্ধ্যা সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের জিনডিয়ান রেস্টুরেন্টে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুপক্ষের নিকটাত্মীয়দের বাইরে মিডিয়ার তেমন কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

আরও জানা যায়, ওই অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে যৌথভাবে জানানো হয়, পিতা মজিবুল বারী ও মাতা আয়শা আকতারের কন্যা জাকিয়া বারী মম এবং মরহুম এমএ কাদের ও মরহুমা সাইদা বেগমের পুত্র এজাজ মুন্নার বিয়ে ৩১ মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকার জিনডিয়ান রেস্টুরেন্টে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মম-মুন্নার বিয়ের কাবিন কত টাকা ধার্য হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে এই বিয়ের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসে।
জানা যায়, মিডিয়ার প্রায় সবাই এজাজ মুন্না ও অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের প্রেম-বিয়ে এবং সংসার ভাঙ্গনের কথা জানলেও জানা হয়নি এর মধ্যে আরও অনেক কিছু।

বিশেষ করে এজাজ মুন্নার খুব কাছের একটি সূত্র জানায়, মমর সঙ্গে এজাজ মুন্নার পরিচয় অন্তত আরও ৭/৮ বছর আগে থেকে। তখন মমর পরিচয় ছিল শুধু নৃত্যশিল্পী হিসেবে। তখন থেকেই মমর নৃত্যপ্রতিভা ও রূপের মায়ায় ক্রমশ ডুবতে থাকেন মুন্না। এর ফাঁকেই তাজিন আহমেদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রেম-বিয়ে ও ভাঙনের মুখে পড়েন প্রেমিক মুন্না।

এর মাঝে মমর অবস্থারও বেশ উত্থান-পতন হয়। অবনতিটা হচ্ছে এরকম- মম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তারই সহপাঠী মাসুদের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এক বছরের মাথায় বিয়েও করেন। পরিবারের অলক্ষে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সংসার এক বছরের মাথায় ভেঙেও যায়।

কারণ, মম ততদিনে মাসুদের সংসারের চেয়ে গ্ল্যামার দুনিয়ার প্রতি একটু বেশিই ঝুঁকে পড়েন। এরপরই লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার ও দারুচিনি দ্বীপ-এর নায়িকা নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি রাতারাতি তারকা খ্যাতি এনে দেয় মমকে। আবার ততদিনে পুরনো পরিচিত মমর বড় ভাই এজাজ মুন্নার জীবনেও নেমে আসে তাজিন আহমেদ-কেন্দ্রিক অন্ধকার।

তালি বাজানোর জন্য একে একে মিলে যায় দুই হাত। শুরু হয় দুজনার মধ্যকার কিছু দুঃখ আর কিছু স্বপ্ন-গল্পের ভাগাভাগির পালা। একে একে গেল প্রায় তিন বছরে এজাজ মুন্নার সব নাটকের অন্যতম চরিত্রে ঠাঁই পান জাকিয়া বারী মম। এর মধ্যে মিডিয়ায় মুখে মুখে গুঞ্জরিত হতে থাকে দুজনার নীরব প্রেম-বিয়ের খবর।

আনুষ্ঠানিকভাবে যার সফল পরিণতি ঘটলো গত বুধবার। যদিও সেটা সম্পন্ন হয়েছে মিডিয়ার নাকের ডগায় পর্দা টেনে দেওয়ার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে মম-মুন্নার সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া একটাই- প্রেমটা না হয় লুকানোর বিষয়। না লুকালে প্রেমের মজাটাও সেরকম পাওয়া যায় না। তাই বলে বিয়ের অনুষ্ঠানেও এমন লুকোচুরি কেন?

নাকি দুজনারই দ্বিতীয় বিয়ে বলে সবার সামনে আবারও বর-কনে সাজতে একটু লজ্জা করলো! যহোক, এই নব দম্পতির নতুন জীবন সুন্দর হোক, অবসান ঘটুক সব দ্বিধার। তাদের জন্য রইলো শুভ কামনা ও শুভেচ্ছা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29127230 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29127230 2010-04-01 14:19:08
আবারো বিবাহ বার্তা মম-মুন্নার বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর শোনা গিয়েছিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। কিন্তু ওই সময় থেকে দুজনেরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে ধানমন্ডির পারসোনাতে বিয়ের সাজে সাজতে যান মম।
মম এখন এজাজ মুন্না পরিচালিত ধূপছায়া ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে প্রেম হলেও শেষ পর্যন্ত পারিবারিকভাবেই তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। গতকাল বুধবার মম কোনো শুটিংয়ে অংশ নেননি। কাল শুক্রবার নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29127139 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29127139 2010-04-01 10:38:12
আরো কিছু জোকস কথা কাটাকাটি শুরুর পর এক পর্যায়ে গরু ছাগলকে বলছে:
গরু: বেটা ছাগল, তুই আসলেই একটা গরু।
তখন ছাগল উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো:
ছাগল: আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি একটা ছাগলের মতো কথা বলছেন।

কর্তা : যা তো ক্যাবলা, একটি খালি ট্যাক্সি নিয়ে আয় |
কিছুক্ষণ পর ক্যাবলা এসে বলল, স্যার,একটাও খালি ট্যাক্সি পেলাম না , ড্রাইভারের সিটে কেউ না কেউ বসে আছে |


স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী তার পুরানো প্রেমিকের সাথে বসে গল্প করছিল | এমন সময় হঠাত স্বামী এসে পড়লে প্রেমিক আলমারির পিছনে লুকিয়ে গেল | ঘরের মেঝেতে চুরুট পড়ে থাকতে দেখে স্বামী রেগে গেল |বলে উঠল,এই চুরুট কোথা থেকে এসেছে?? স্ত্রী কিছু বলতে পারল না দেখে স্বামী আরো রেগে গেল | স্বামী বলল তোমাকে বলতেই হবে এই চুরুট কোথাকার??? প্রেমিক বন্ধুটি সহ্য করতে না পেরে আলমারির পিছন থেকে বের হয়ে বলল,ও তো মেয়ে মানুষ ,ও কি করে জানবে এই চুরুট কোথাকার?? আপনি পুরুষ মানুষ হয়ে ও চিনতে পারছেন না যে এই চুরুট আমেরিকার???

লাঞ্চ আওয়ারের পরে অফিসে আসতে দেরি হওয়ায় বড় সাহেব ডেকে পাঠালেন কামাল সাহেবকে,
-এখন ক'টা বাজে কামাল সাহেব?
-(কাচুমাচু হয়ে)স্যার,লাঞ্চ করে বিছানায় একটু গা টানা দিতে গিয়ে হঠাত ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।
-এ কেমন কথা!আপনি বাসায়ও ঘুমান!?

ছেলেঃ আচ্ছা বাবা, বিয়ে করতে কেমন খরচাপাতি হয়?
বাবাঃ কি জানি বাবা, আমি তো এখনও খরচা করেই চলেছি।
সূত্রঃ বিডি জোকস ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29121917 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29121917 2010-03-23 16:05:21
উঠানের গন্ধ আবু আল সাঈদ

জ্যোৎস্নার আলোতে কলাগাছটার পাশে এসে দাঁড়ায় রাজেন। গঞ্জে পা রেখেই রাজেন বুঝতে পেরেছে অনেক কিছু বদলেছে। পাঁচ ইঞ্চি গাঁথুনির দেয়াল, উপরে টিনের চাল, এ রকম অনেক ঘর উঠেছে হাটের বটগাছের নিচে। নিধু ময়রা ওপার যায়নি। বড় দারোগা রমজান সাহেব গ্রামে এসে বলেছে, খবরদার নিধুর গায়ে হাত দিবা না কেউ। ও চইলা গেলে মিষ্টি খাইবা কই থিকা।

মুসলমানরা তো মিষ্টির কারবার জানে না। তার দোকানটা যে রকম সে রকমই আছে। সেই কবেকার বাঁশের বেড়া। ভেতরটা বিকেলের আলোতেও প্রায় অন্ধকার। অন্ধকারে গোটাতিনেক রসগোল্লার কড়াই আছে। ঠিক আগের মতোই।

নতুন দুটো সেলুন বসেছে। ট্রানজিস্টরে গান হচ্ছে।
খাসি-ছাগলের বাজারটাতে লম্বা ছাউনি উঠেছে।
কেবল নিবারণ শীল তার ছোট কাঠের বাক্সটা নিয়ে ছাতিম গাছটার নিচেই বসা। বিবর্ণ আয়নাটা একটা বাঁশ পুঁতে ঝুলিয়ে রেখেছে। নিবারণ শীলের চেহারাটা শুধু বদলে গেছে।

অনেক কিছু বদলেছে, তবে অচেনা হয়ে যায়নি।
গঞ্জ-হাট ছেড়ে হাঁটতে হাঁটতে খেয়াপারে এসেছে, পাটনি কৈলাস নেই। তাকে মেরে ফেলেছে দাঙ্গাবাজরা। দাড়িওয়ালা একজন মাথায় টুপি পরে পারাপার করছে। রাজেনের চেনাজানা নয়।

অনেককেই চিনেছে সে, তাকে কেউ চিনতে পারেনি। এমনিতেই উষ্কখুষ্ক পাকা চুল, মুখটা ভেঙে গেছে নিউমোনিয়ায়। তার চেয়ে বড় কথা, পথ তো আর কম নয়, প্রথমে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বনগাঁও। সেখান থেকে বেনাপোল, তারপর লক্কর-ঝক্কর বাসে খুলনা, স্টিমার ধরে বরিশাল। বরিশাল নেমে রহমতগঞ্জ। গতরে এখনও যেটুকু জোশ ছিল তা পথে পথে ক্ষয় হয়ে গেছে।

পথ চিনতে ভুল করেনি। কলাগাছটার সামনে এসে দাঁড়াতেই নাকে সেই গন্ধ পেল।
উঠানের গন্ধ।

জ্যোৎস্নার আলোতে সবকিছুই দেখা যায়। উঠানটা গোবর লেপা। ভালো লাগল রাজেনের। ঘরটার সামনে দরজাটার পাল্লা ছুটে গিয়েছিল রায়টের বছরই। না কেউ ভাঙেনি। এমনিতেই দুটি কব্জা ছুটে পড়েছিল। দরজার সামনে সিমেন্ট করা তিন ধাপ সিঁড়ি। সিঁড়ের দু’পাশে বসার জন্য ছোট্ট দেয়াল।
সন্ধ্যায় বাবা ওখানে বসে হুঁকো টানতেন আর কাশতেন।

উঠানের এদিকে-সেদিকে দেখতে দেখতে হঠাৎ তার নজর পড়ে তুলসী বেদীটা এখনও আছে। অস্পষ্ট আলোতে তুলসী গাছটাও দেখা যাচ্ছে। সে তো মুসলমানের কাছেই ভিটাটা বিক্রি করে দিয়ে গেছে। তাহলে! পাকিস্তানে এখন রায়ট নেই। শেখ সাহেবের ৬ দফার আন্দোলন হচ্ছে প্রতিদিনই। বিহারিরা ঘরে ঢুকে গেছে।

মুসলিম লীগের লোকজনও নাকি গ্রাম ছেড়ে অনেক দূরে আত্নীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে গা-ঢাকা দিচ্ছে। শেখ সাহেবকে আগরতলা মামলায় জেলে ভরে রাখলে কী হবে, মাতুব্বরি এখন বাঙালিদের হাতে। বেশ কয়েকদিন ধরে বরিশালের খবর নিয়েছে সে।

ব্যারাকপুর থেকে সপ্তাহে দু’তিনদিন কলকাতা শহরে এসে আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে জিজ্ঞেস করেছে। ওকে পাত্তা দেয়নি পত্রিকার দারোয়ান আর অন্য লোকজন। অনেক কাকুতি-মিনতি করে কিছু কিছু করে জেনেছে। ভাগ্যিস রিপোর্টার অরবিন্দের নজরে পড়েছিল সে আনন্দবাজারের গেটে।

তাকে নিজ দেশ বরিশালের কথা খুলে বলার সুযোগ পেয়েছে। ছেলেটা খুবই ভালো। অনেক কিছু বলেছে ওকে, অনেক সংবাদ। বলেছে, ছিচল্লিশের দি গ্রেট ক্যালকাটা রায়ট মাথায় নিয়ে সাতচল্লিশে দেশবিভাগ হয়েছে। এ দেশের মানচিত্রটা ভাগ ভাগ করে আঁকা যতটা সহজ, ভাঙা মানুষের ছবিগুলো আঁকা কি ততটা সহজ?

রাজেন বলেছে, বাবা তা তো আমি জানি। আমার তো যৌবনটা কেটেছে বরিশালের গ্রামে। এপার-ওপারে কত মানুষ কত পরিবারকে উপড়ে ফেলল ওরা। অরবিন্দ বললে, দেশবিভাগের ইতিহাস কতজনেই তো লিখছে, কিন্তু এসব মানচিত্রভাঙা মানুষ সম্পর্কে আর কতটাই বা লেখা হয়েছে? কতটাই বা জানি।

এই যেমন আজ প্রায় তেইশ বছর পরও আপনার রক্তে টান উঠেছে, বরিশাল যাবেন। আমার তো মনে হয়, না যেতে পারলে জীবনে কী যেন থেকে গেল। যান, ঘুরে আসুন। সাতচল্লিশের পর ওখানে বায়ান্নতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে বাঙালি জেগেছে।

তারপর শেখ মুজিবের ছয়দফা আন্দোলনে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত হয়েছে। আর এখন ঊনসত্তরে বাঙালি দেখিয়ে দিয়েছে, মিলিটারি, গুলি, বেয়নেট জাতীয়তাবোধের সামনে কিছু না। হিন্দু-মুসলমান ওখানে এখন বড় কথা নয়, এখন বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম। যান আপনি কাকা বাবু। আমার বাবা যেতে পারেননি।

ওই দুঃখ নিয়েই মরে গেছেন। ছেলেমেয়ে, পুতের বউ, নাতি কাউকে কিছু না বলে, তার সঞ্চিত ধন তিনশ রুপি নিয়ে রওনা দিয়েছে এপারের দিকে। একটা পোঁটলা, তাতে একটা গামছা, একটা বিছানার চাদর, একটা লুঙ্গি। আর পরনে শাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। একটু ছেঁড়া হলেও মন্দ ছিল না।

কিন্তু পথে পথে এ ক’দিন রাজ্যের যত ময়লা ধুলোবালি লেগেছে ওতে। পথে একটুও খারাপ লাগেনি রাজেনের। বয়স তো কম হয়নি। বহুমূত্র রোগ চল্লিশ বছর বয়স থেকে। হালে প্রেসারের অষুধ ধরেছে। একটু কান্তি ছাড়া আর কোনও অসুবিধা হয়নি তার।

ও মেয়া কেডা আমনে? পেছন থেকে কে বলে। রাজেন পেছনের দিকে তাকায়। মরদ বয়সের। খালি গা। তরতাজা। আমারে চেনবেন না। প্রায় বাইশ বছর ধরে খুব কমই বরিশালের কথা বলেছে সে। এখন তো পাক্কা কলকাতার খাচ্ছে দাচ্ছে বলে।

চিনি নাই, হেয়া তো ঠিকই, পরিচয় দেওন লাগবে না? এইহানে মোর ভিডার হোমকে ঘাপটি মাইররা খাড়াইয়া রইছেন, পরিচয় জিগামু না? যুবকটি বলে। তার হাতে
এক গোছা খড় আর একটা কাস্তে। পরিচয় তো আছে একটা বাবা। এই বাড়ি তোমাগো?

তয় কইলাম কী?
তোমার আব্বায় কই?

হ্যারে চেনেন আমনে? হে তো গত অইছে আর চাইর বচ্ছর আগে।
আমার নাম রাজেন সূত্রধর। আমার কাছে থিককাই তোমার আব্বায় এই বাড়িডা কেনছেলে।

ও মোরে আব্বায় মরার সময় কইছেলে, বদন আলী মুই জীবনে একটাই পাপ হরছি, এককানি নাল জমি আর এই ভিডাডা খরিদ হরছি মোডে নব্বই টাহায়। হেরে ঠগাইছি। এয়ার দাম তো পাঁচশর উপরে অইবে। আয়েন আয়েন ঘরে আয়েন। বলে যুবকটি জ্যোৎস্নার আলোতেই রাজেনকে পরখ করতে থাকে। হাসু ও হাসু আরে লেমডা ধরো। মেহমান আইছে। বলে হাঁক দিতে দিতে এগিয়ে যায় বদন।

দরজাটার পাশে আগে থেকেই দাঁড়িয়েছিল হাসু। হঠাৎ করেই উঠানে কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছিল। কুপিবাতিটা নিয়ে বেরিয়ে আসে হাসু। মাথায় ঘোমটা। আলোর ওপাশে বলে চেহারাটা ঠিক দেখা যাচ্ছে না। অইতনায় বিছানাডা লাইচ্ছা দেও। হেরপর উপস্থিত মতো খাওনের বন্দোবস্ত হরো।

যাও। বলে বদন। হাসু কুপিবাতিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। বদন সাধারণত উচ্চস্বরে কথা বলে। বুক ভরে দম নিয়ে বাক্য ছাড়ে। আয়েন আমনেরে একটা জিনিস দেহাই। আলোটা নিয়ে তুলসীবেদীর কাছে আসে। রাজেন একদৃষ্টিতে গাছটার দিকে তাকিয়ে থাকে।

মোরা যদি কইতাম বাবো, মালাউনগো তুলসী গাছটা রাখছেন ক্যা? হে সোর হইররা কইতে, ফজরে নামাজ পড়ে যাওনের আগে ওইডার সামনে খাড়াইয়া একবার মাফ চাই, হেরে যে ঠগাইছি। বাবো মইরা গেছে, মোরা গাছটা কাডি নাই, বাবোর কতা মনে হইররা। বলে বদনী। অর্ধেক কথাও রাজেনের কানে গেছে কীনা কে জানে।

গাছটার খুব কাছে গেল। পাতাগুলোতে হাত বুলাল। মোর কোলো মনে অইতে আছে, আমনে বোধহয় কাইন্দা দেবেন।
দেবেন না, রাজেনের দুচোখ বেয়ে পানি নেমে এসেছে। তোমার বাবা ইনসান আলী পাশের গেরামের মানুষ। তারে আমি চেনতাম, হাডে পরিচয় হইছিল। তারেই কইলা, আমাগো গেরামে তো মানুষ নাই, যারে যে পারে ঠগাইয়া খায়। আমার এককানি জমি আর ভিডাটা আপনে কিননা নেন। হে লগে লগে রাজি।

হের কাছে জমাইন্যা টাহা যা আছেলে বেবাক দেছে। হে ভালো মানুষ আছেলে, তয় যে এত ভালো মানুষ আছেলে হেয়া জানতাম না মেয়া। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে রাজেন।

আর রাজেনের মনে আছে, আবুল মাঝির নৌকায় গভীর রাতে গ্রাম ছাড়ার সময় বাবা আর একবার পোঁটলা-পুঁটলি বাক্স-পেটরা গুনে গুনে দেখছিল। মা শুধু মিন মিন করে বলেছিল, শ্বশুর মশায় যে সিন্দুরের কৌটা দিয়েছিল, সেটা কি এনেছে নাকি আনেনি, মনে করতে পারছে না। বাবা বলেছেন থোও ওডা, বাঁইচ্যা থাকলে কত কৌট্টা কেনা যাইবে। বলে বাবাও কিন্তু একটু চিন্তিত হয়েছিলেন।

নেন, ঘডিতে পানি আছে, হাত-মুখ ধুইয়া লয়েন। মুই পানি ডালি বদন পানি ঢেলে দেয়, রাজেন হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। রাজেনের খুবই দুশ্চিন্তা ছিল, তাকে দেখে ওরা কী না কী বলে। তার গ্রামের জন্য ভিটাবাড়ির জন্য যে টান উঠত না মাঝে মধ্যে তা নয়, তবে সে জন্য কলকাতার সবকিছু ছেড়ে চলে আসার কোনও প্রয়োজন আছে বলে সে কখনও ভাবেনি। দুর্গা মাকে ভাগিরথীতে ডুবিয়ে বাড়ি ফিরে কান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল রাজেন।

স্বপ্ন দ্যাখে, বাইশ বছর আগে ছেড়ে আসা তার বাড়ি থেকে কপালে জ্বলজ্বলে লাল সিন্দুর দেয়া তরতাজা একটা বউ উঠানে নেমে এসে বলে, তুমি আমাকে ছেড়ে ভুলে থাকছ কী করে গো, আমি যে তোমার অপেক্ষায় আছি সেই কবে থেকে। আসো না কেন গো? ঘুম ভেঙে গিয়েছিল রাজেনের। উঠে বসে অনেকক্ষণ চিন্তা করেছে, এটা শুধু স্বপ্ন নয়। তাকে তার মাটি ডাকছে। কাউকে স্বপ্নের কথা বলেনি সে। তিন-তিনটা মাস তাকে অপো করতে হয়েছে বরিশাল চলে আসার জন্য।

তিন মাস ধরে সে প্র্যাকটিস করছিল, এখানে এসে সে বলবে, আমাকে মা করে দেনে, মরার আগে নিজের গ্রামটাকে দেখতে বড় ইচ্ছে হচ্ছিল আমার। তাই এসেছি। আমি এক্ষুণি আবার ফিরে যাচ্ছি।
তুলসী গাছটাই তাকে সব কুণ্ঠা দ্বিধা থেকে মুক্তি দিল।

অন্ধকারে অতটা ঠাহর করতে না পারলেও, রাজেন বুঝতে পেরেছিল, বাড়ির কিছুই বদল হয়নি। সবকিছু তার খুবই চেনা। জীবনের পঞ্চাশটি বছর এখানে কেটেছে। এ বাড়ির এমন কী আছে যা তার অচেনা এবং তাকে চেনে না?

মহা প্রশান্তির দীর্ঘ ঘুমে বহু বছর পর একটা রাত কাটাল রাজেন। সত্তর বছরের রাজেনের ঘুম বাঙল ত্রিশ বছর বয়সের রাজেন হয়ে। নিজেই টাট্টিখানায় গেল বাইরের ঘটিটা নিয়ে। নিজেই পেছনের পুকুরে গিয়ে স্নান সারল।

নিম গাছে উঠতে পারেনি তা না হলে দাঁতনের অভাব হতো না।
কোথায় সানকি ভর্তি ভেজানো চিড়া আর গুড় আর দই? এককাপ চা আর কয়েকটা টোস্ট বিস্কুট সামনে এগিয়ে দিল বদন। ঘুমডা ভালোই অইছে মনে অয়।
হ।

মোর তো এহোন জমিনে যাওয়া লাগে। আমনে কী হরবেন?
আমিও যাব।
তাইলে আয়েন। মুই যাই। আল চওয়া লাগবে।
সংক্ষিপ্ত ভাষণে বদন আলী চলে যায়।

রাজেন একটা ইন্ডিয়ান বিড়ি ধরায়। একটু সুখের ব্যবস্থা। ইচ্ছে করলে আরও একটু গড়িয়ে নিতে পারে। এখানে কোনও যন্ত্র তাকে ডাকবে না। এটা কলকাতা নয়। সে উঠানে নেমে এলো, সেই তুলসীবেদী।

একটা বালতিতে গোবর পানি আর মাটি নিয়ে উঠানে নেমেছে হাসু। উপুর হয়ে উঠান লেপছে।
গেরাম দ্যাখতে যাইবেন না কাকা? হাসু বলে।
যামু তো মা। তয় একলা একলা ডর লাগে।

আইজকাইল আর কী ডর? বলে উঠে দাঁড়ায় হাসু।
থর থর করে কেঁপে ওঠে রাজেন সূত্রধর। এ কে! ঠিকই চিনতে পারছে সে। যাকে স্বপ্নে দেখেছিল, সেই দেবী।
মা! তুমি একটু সোজা হয়ে দাঁড়াও তো মা।

হাসু বালতি ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ক্যান?
আমি তোমারে দেখমু.. তুমি কেডা?

এয়া আমনে কয়েন কী? মুই হাসু। যে আমনেরে ঘরে আনছে হে মোর বাতার। স্বোয়ামী।
জানে। কিন্তুক মুই কোলো তোমারে চিনছি।
অ কয়েন কী আমনে? মোরে কোতায় দ্যাখছেন আমনে?
স্বপ্নে।

কয়েন কী? হাসু রাজেনের কাছে আসে, হাতে গোবরের গোর-মাটির দলা।
রাজেন এবার আরও ভালো করে তাকিয়ে দ্যাখে হাসুকে। গিলে খাওয়ার মতো দৃষ্টি। হাসুর মনে হয় বুড়ো ওর ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। হাসুর গলা থেকে কেমন একটা ঠাণ্ডা সাপ নেমে যায় পেটের ভেতরে। বিড় বিড় করে হাসু বলে, কই মুই তো আমনেরে কহনো স্বপ্নে দেহি নাই। কিন্তুক মোর জানি কেমন লাগতে আছে।

রাজেন কোনও কথা বলে না। হাসু সম্ভবত নিজেকে সামাল দিতে দ্রুত চলে ঘরের দরজার কাছে। কলসী থেকে পানি ঢেলে হাত ধুয়ে নেয়। ভয়ে ভয়ে সে তাকিয়ে দেখছিল রাজেনের দিকে।
রাজেন কাছে আসে। দাওয়ায় বসে মোড়াটা টেনে।

হাসু মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করে, স্বপ্নে মোরে কি দেখছেন?
তুমি এই উডানে নাইমমা, মোরে ডাকতে আছো। আর কইতে আছো, তুমি আমাকে ছেড়ে ভুলে থাকছ কী করে গো, আমি যে তোমার অপেক্ষায় আছি সেই কবে থেকে। আসো না কেন গো?

এই রহম শুদ্ধ কতা তো আমি কই না। বলে হাসু।
স্বপ্নে তো। আর স্বপ্নডা দেখছি কোথায় বইয়া, কইলকাতা। হেহানে তো বেবাক মাইনষে শুদ্ধ কতাই কয়।
এই রহমই দেখছেন মোরে?
হ।

এই শাড়িডা?
হ। এই রহমই। বলে রাজেন।

হাসু একবার ভেবেছিল ব্লাউজটা গায় দেয়, কিন্তু ওর তো বয়স অনেক। বুড়ো। ওর কাছে আবার এত লজ্জা শরমের কী আছে? মাত্র তিন মাস বিয়ে হয়েছে বদন আলীর সঙ্গে। বদন আলী উজিরপুর গ্রামে হাডুডু খেলা খেলতে গিয়ে হাসুকে দেখে প্রেমে মজে গিয়েছিল। বদনের মা-বাবা ভাইবোন কেউ নেই। নিজেই নিজের বিয়ের কথা বলেছে হাসুর মামার কাছে। তারাও শাদি দিতে বিলম্ব করেনি।

সকালে গা গরম করেছে হাসুর। জ্বর উঠেছে। বদন গেছে গঞ্জে ডাক্তার আনতে। লোকনাথ ডাক্তারের কম্পাউন্ডার আছর আলী ডাক্তার এখন। মিকশ্চারের হাতটা ভালোই ছিল। রাজেনদের বাড়ি সে কয়েকবার এসেছিল লোকনাথ ডাক্তারের সঙ্গে। বাবা বলতেন, ‘পোলাডার চেষ্টা আছে, দেহিস একদিন পাক্কা ডাক্তার অইবে।’ পাক্কা হয়েছে কীনা জানে না রাজেন, তবে লোকনাথ ডাক্তার চলে যাওয়ার পর এ এলাকার ডাক্তার তো তাকেই হতে হবে। উপায় কী?

আছর আলী ডাক্তার আসার আগেই রাজেন হাসুকে উঠানে নামিয়ে মাথায় পানি ঢেলেছে এক বালতি। একটু লবণ দিয়ে করল্লার রস খাইয়ে দিয়েছে। গায়ের কাঁথাটা নিয়ে নিয়েছে। বলেছে, এবার উডানের চাইরপাশে দুইডা চক্কর দেও।

হাসু বিনাবাক্যে তার কথা শুনেছে। চক্কর শেষে সিঁড়ির ওপর এসে বসেছে। বেশ একটু সময় বসে দম নেয়ার সময় প্রচুর ঘামছিল। আছর আলী ঠিক তেমনি বহু পুরনো ফুলপ্যান্ট একটা খাকি শার্ট আর মাথায় সোলার হ্যাট পরে কাঁধে স্টেটিক্সোপ ঝুলিয়ে সাইকেলে এসেছে। পেছনের কেরিয়ারে বদন বসেছে ব্যাগটা নিয়ে।

সাইকেল চালিয়ে ওরা উঠানে ঢুকে গেছে। হাসু তখন মাথার লম্বা চুলে নিজে নিজে চিরুনি চালাচ্ছে।
কী অইল? জ্বর কই? আছর আলী ডাক্তার হতাশ। স্টেটিস্কোপ লাগিয়ে পরীক্ষা করে দ্যাখে গম্ভীর হয়ে। হাতের নাড়ি দ্যাখে। বদইন্যা মোরে খামাহা আনছো হারাডা পোথ।

জ্বর আছেলে। বলল রাজেন সূত্রধর।
আমনে কেডা?

বদন বিপুল উৎসাহে বলল, আরে চেনেন না ডাক্তার, এ দেহি মোগো সূত্রধর। মোর বাপে যার থিককা এই বাড়ি খরিদ হরছেলে।

আছর আলী ডাক্তার উঠে আসে রাজেনের কাছে, রাজেন দা না? হ। মরার আগে একফির নিজের ভিডাডা দেহার সাধ হইল। রাজেন বলে। হাসু লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায়, না ডাক্তার চাচা, হেয়া না, উনি বলে কইলকাতা বইয়া মোরে স্বপ্নে দেখছে, মুই বলে ওনারে ডাকছি শুদ্ধ কইররা।

কইছি, তোমার জন্যে মুই অপেক্ষা করতে আছি। হেই ভয় ভয়তেই তো মোর গা গরম অইছে। আছর আলী ডাক্তার বলে, দুইননাইর এত মানুষ থাকতে আমনে ওরে স্বপ্নে দেখলেন ক্যা রাজেন দা? জানি না। তয় অরেই স্বপ্ন দেখছি। বুঝি কেমমে? আছর আলী সন্দেহ প্রকাশ করে।

বদন আলী ফাঁপড়ে আছে, তুই তো মোরে কিছু কও নাই বউ? উনি এ্যা কয় কী?
হাসু বলে ডরাইছি কি হাদে? আমনে ঝালকাডির নট্ট কোম্পানির যাত্রাগান দেখতে গেছেলেন কবে?
হেয়া তো মাসতিনেক আগেই অইবে।

হেই সোময় মুই কপালে সিন্দুর দিয়া উডানে আইয়া খাড়াইছালাম, এই কাপুড়ডা পইররা। হাসু বলে।
সিন্দুর পাইছো কই? বদন প্রচণ্ড বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করে।

পাইছি। ওই যে মোগো লোহাকাডের পালঙ্কডা হেইডার তলে একটা পয়ার নিচে। কৌট্টডার একটা কান্দা জাইগগা আছেলে। খুন্তি দিয়া মাডি কোড়াইয়া হের পর বাইর হইররা দেহি, ভিতরে এককারে তাজা সিন্দুর। ছোডকাল থিককা শখ আছেলে লাল পাইরের শাড়ি পইররা, কপালে সিন্দুর দিয়া একদিন সাজমু। এইযা তো লাল পাইরেরই শাড়ি। আমনে মেলাইদদা আইননা দেছেলেন মনে নাই?

আছর আলী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে, মোর বেরেনে কোনো কিছু ঢোকতেছে না। উনি হিন্দু, তোমরা মোসলমান

গ্রামের অনেকেই বদন আলীর বাড়িতে। মেয়েছেলেরাও কম নয়। সবাই কিছু না কিছু হাতে হাতে নিয়ে এসেছে, নিজের গাছের লাউ, কুমড়া, পটল, পুকুরের মাছ, চাল-ডাল, তেল, মশল্লা। শিশি-বোতলও সঙ্গে এনেছে পানি ফুঁ দিয়ে দেবার জন্য। পঞ্চাশ বছরের কাশির রোগী, ল্যাংড়া, খোঁড়া অনেকেই বাড়ির উঠানে, বাড়ির সামনে, এখানে ওখানে।

হাসু নতুন শাড়ি পেয়েছে গোটা পাঁচেক। বাতাসা সেরদুয়েক, ঝোলা গুড়ের হাঁড়িও কয়েকটা। আতপ চালও কয়েক সের, আরও কিছু কিছু। রাজেন সূত্রধর নতুন গেঞ্জি, ধুতি, ফতোয়া সব মিলিয়ে ডজনখানেক।

অনেক চেষ্টা হয়েছে রাজেন সূত্রধরকে গ্রামে ধরে রাখার জন্য। কিন্তু তিনি চলে যাবেন। আমনে থাহেন কাকাবাবু। এহন তো আর আগের দিন নাই। বলেছিল হাসু আর বদন আলী। এই বাড়িতেই থাহেন। রাজেন সূত্রধর বলেছে, এই বাড়ি, এই গেরাম তো আমারই। এহন যে যাইতে আছি মেয়া, হেয়া অইল শ্বশুরবাড়ি। আবুল মাঝির পুত্র কাবুল মাঝির নৌকায় গিয়ে উঠেছিলেন ধুতি আর ফতোয়া পরে, কপালে চন্দনের টিপ।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29121813 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29121813 2010-03-23 12:25:44
প্রসঙ্গ: ঋতু পর্ণ ঘোষ
মেয়েদের সাজে




ছেলের সাজে

কোলকাতা ও বোম্বেতে সমান জনপ্রিয় এই পরিচালক সম্প্রতি হাজির হয়েছেন, মিরাক্কেল নামের জনপ্রিয় টিভি শো তে। এত দিন শুধু তার নাম শুনে এসেছি কখনও দেখিনি কিন্তু মীরাক্কেলে তাকে দেখে তো আক্কেলগুরুম। যাকে এতদিন ছেলে ভাবতাম তাকে দেখলাম সাক্ষাত মেয়ের সাজে। আসলে সে কি? কেউ কি জানেন?
কারন তার আচার আচারন ও মেয়েদেরে মত যা খুবই অস্বাভাবিক লাগছিল। আমি কনফিউজড ....

বিদ্রঃ আমি আবার কিছু লিখলেই তো সুপার ফ্লপ সেই সাথে ৫০০০ মি বেগে মাই নাসের ঝড়। কিছু জানতে চাইলেও ভয় লাগে কখন না আবার ব্লগার রা ঝাপিয়ে পড়ে মাইনাস উৎসবে........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29120740 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29120740 2010-03-21 12:48:17
কালো বিড়াল
কাঁপতে থাকা হাতটা সে টেবিলের নিচে দুপায়ের মাঝখানে লুকিয়ে রাখে। জানালার দিকে তাকায়। সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গাছগাছালি ঘেরা রাস্তার পাশে একটা পুরনো দালানের নিচে রাখা জঞ্জালের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওয়েটার এক গ্লাস দুধ-চা তার নিয়মিত কাস্টমারের সামনে রাখে এবং কোনও কিছু না বলেই চলে যায়।

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা কিছুণ চায়ের গ্লাসটা তার হাতে ধরে রাখে। তার চোখ স্থির হয়ে আছে প্রশস্ত প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রাখা জঞ্জালের দিকে। সে ল্য করে জঞ্জালের স্তূপটায় কিছু একটা নড়ছে। তার হাতে কাপটা নড়ে ওঠে এবং চোখ বড় করে সে স্থিরভাবে লক্ষ করছে- কী নড়ছে।

একটু পর একটা শাদা বিড়াল বেরিয়ে আসে এবং সে জোরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ‘হ্যালো!’ একজন অচেনা লোক তার সামনে একটা চেয়ারে বসতে বসতে বলল।
তার হাত থেকে চায়ের গ্লাসটা ছিটকে পড়ল। একটা বিকট শব্দ হল। তাতেই দুজনে চমকে উঠল।

ওয়েটার তাড়াতাড়ি করে ছলকে পড়া চা ও ভেঙে যাওয়া গ্লাসের টুকরোগুলো তুলে জায়গাটা পরিষ্কার করে দিল। অচেনা লোকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য বিব্রত বোধ করে। ‘আমি দুঃখিত!’ সে বলল, ‘আমি তোমাকে এরকম বিশ্রী অবস্থায় ফেলতে চাইনি।’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা অচেনা লোকটার দিকে চাইল এবং দ্রুত তার হাতটা টেবিলের নিচে টেনে নিল। তারপর আবারও একদৃষ্টিতে প্রশস্ত প্রধান সড়কের দিকে তাকিয়ে রইল। ‘আমি তোমার জন্য আরেক কাপ চায়ের জন্য বলি,’ অচেনা লোকটা বলল। ওয়েটার দুকাপ চা নিয়ে ফিরে এল।

‘তুমি রাস্তার দিকে তাকিয়ে কী দেখছ?’
লোকটা কিছুই বলল না।

‘আমি লক্ষ করেছি তুমি বেশ কিছুণ আগে এখানে এসে বসেছ। অস্থিরভাবে ছটফট করছ এবং রাস্তার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ল্য করছ।’
লোকটা কিছুই বলল না।

অচেনা লোকটা হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই দিশেহারা নও; দিশেহারা কোনও লোক গাড়ি চালাতে পারে না।’ এরপর সে জানতে চাইল, ‘তুমি কী কোনও ব্যাপারে খুবই চিন্তিত?’

বিদ্যুৎগতিতে ফ্যাকাশে মুখের লোকটা আড় চোখে এক পলক অচেনা লোকটার দিকে তাকাল, তারপর চোখ ফিরিয়ে আগের মতো প্রশস্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। তার তাকানোর ভঙ্গিতে যা প্রকাশ পেল, তাতে বুঝতে পারল অচেনা লোকটা তার প্রতি প্রশ্ন করছে, ‘তুমি শঙ্কিত কেন?’

‘আমি কোনও ব্যাপারে শঙ্কিত নই,’ চেঁচিয়ে ওঠে ফ্যাকাশে মুখের লোকটা। সে হঠাৎ উঠে দাঁড়ায় এবং টেবিলের ওপর প্রচণ্ড জোরে একটা ঘুষি মারে। চা ভর্তি গ্লাস দুটো টেবিল থেকে আবারও ছিটকে পড়ে। কী ঘটেছে জানার জন্য এবারও অন্য কাস্টমাররা তাদের দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে দেখে।

অচেনা লোকটা মৃদু হাসে এবং ফ্যাকাশে মুখের লোকটাকে বসতে বলে।
‘শান্ত হও, বন্ধু! এরকম উত্তেজিত হচ্ছ কেন?’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা কাশছে। মুখের সামনে হাত রেখে সে কাশি থামানোর চেষ্টা করছে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে সে চেয়ারটা টেনে রাস্তার দিক থেকে সরে বসে।
‘এটা বেশ ভালো হলো।‘ অচেনা লোকটা বলল, ‘আমরা তো সামান্য কথা বলতে পারি।’

‘কী ব্যাপারে?’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা বলল। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জানতে চাইল, ‘তুমি কে?’
‘বন্ধু!’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য রাস্তার দিকে তাকাল।
‘তুমি বারবার পুরনো দালানটার দিকে তাকাচ্ছ কেন?’
‘এটা তোমার জানার দরকার নেই।’

‘আমাকে মা কর বন্ধু।’ সে বলল, ‘তুমি কি বিষয়ে এত দুঃশ্চিন্তা করছ, যা তোমাকে অসুস্থ করে ফেলেছে?’

হতভম্ব হয়ে ভয়ে চুপসে যাওয়া ফ্যাকাশে মুখের লোকটা চেষ্টা করছে সব ধরনের বিপদের আশঙ্কা মন থেকে মুছে ফেলতে; যা অচেনা লোকটা বলেছে তার আছে। তাচ্ছিল্য করে সামান্য হেসে সে বলল, ‘আমাকে ভয় পাচ্ছ! তুমি স্বপ্ন দেখছ।’

অচেনা লোকটা মাথা নাড়ল : ‘না, আমি তা নই।’ সে বলল, ‘ভয় আমাদের দুজনের মনেই আছে। আমি উদাহরণ হিসেবে বলছি, আমি সব সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় পাই। মনে হয় যেন একটা গাড়ি আমার ওপর এসে পড়ল।’ সে শেষ বাক্যটা বেশ উৎসাহ নিয়ে ও উঁচু গলায় বলল।

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা এই প্রথম হাসল। বলল, ‘ঠিক আছে। তুমি যদি দুর্ঘটনার ভয়ে রাস্তা পার না হও, তাহলে তুমি সারাজীবন চলাফেরা করবে কীভাবে?’
অচেনা লোকটাও হাসল। শান্তভাবে বলল, ‘তুমি দেখে নিও আমার পেয়ারের দোস্ত! রাস্তা পারাপারের সময় আর আতঙ্কিত হব না, তোমার মতো।’

‘আমি তোমাকে বলছি তো, আমি আতঙ্কিত না।’

অচেনা লোকটা তার বুকের ওপর ভাঁজ করে দুহাত রেখে বলল, ‘ঠিক আছে তুমি কাউকে আতঙ্কিত কর না, আতঙ্কিত হও-ও না, শুধু বিরক্ত হও। কিন্তু তুমি কী ব্যাপারে এত বিরক্ত হচ্ছ? বিশ্বাস কর, আমি তোমাকে সাহায্য করতেই এখানে এসেছি। আমাকে চেষ্টা করতে দাও?’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার ঠোঁট দিয়ে জিভ চাটে। আর পুরনো দালানের নিচে ফেলে রাখা জঞ্জালের স্তূপের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর বলে, ‘তুমি কি দেখেছ দালানের নিচে জঞ্জালের স্তূপ জমে আছে?’

‘হ্যাঁ, দেখেছি, একটু আগে আমি সেদিক দিয়েই এসেছি।’
‘তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করবে!’
‘চেষ্টা করব!’

‘গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতিদিন এখানে সে আমাকে অনুসরণ করছে এবং নজর রাখছি।’
‘কে?’
‘একটা বিড়াল।’

‘একটা বিড়াল?’ অচেনা লোকটা বিস্ময়ে ও কৌতুকের স্বরে বলে ওঠে।
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা রাগী চেহারা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তোমাকে বলিনি, তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে না?’
‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি; কিন্তু আমি ওই কালো বিড়ালটা তো দেখিনি। সেটা কোথায়?’

‘কালো, তুমি বলছ? আমিতো বলিনি ওটা কালো ছিল। তুমি কী করে জানলে ওটা কালো?’
‘আসলেই কী কালো? নাকি এটা শুধু আন্দাজ! ব্যাপারটা খুলে বলো।’

‘আমি বলছি শোনো, বিড়ালটাও আমার প্রতি নজর রাখছে। কিন্তু আজ সেখানে নেই, ব্যাপারটা অদ্ভুত।’
অচেনা লোকটা বড় এক ঢোকে চা পান শেষ করে। সে উঠে দাঁড়ায় এবং সেখান থেকে চলে যেতে থাকে। ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তাকে পেছন থেকে ডাক দেয়, ‘ এই যে আগন্তুক! তুমি বিশ্বাস করছ না আমাকে, করছ তো?’

‘আমি কী পাগল, তোমাকে বিশ্বাস করব? একটা বিড়াল তোমার ওপর নজর রাখছে? তুমি নিশ্চয়ই অসুস্থ।’
‘আমি মিথ্যা বলছি না!’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা বলল। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর নিচুস্বরে বলল, ‘আমি আতঙ্কিত!’
অচেনা লোকটা চিৎকার করে তার কাছে জানতে চাইল, ‘কোথায় যাচ্ছ তুমি?’

‘টয়লেটে, আমি আবার আসছি।’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা আবার আগের মতো পুরনো দালানের নিচে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল এবং ফেলে রাখা জঞ্জালের ভেতর একটা কালো লেজ দেখতে পেল। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে, ফ্যাকাশে মুখের লোকটা শরীর বাঁকিয়ে অচেনা লোকটাকে খুঁজতে লাগল। জঞ্জালের স্তূপ ফুঁড়ে একটা কালো বিড়াল উঁকি দিল।

বিড়ালটা নড়াচড়া করে স্তূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। তারপর থমকে গিয়ে তাকিয়ে রইল কাফের দিকে। ফ্যাকাশে মুখের লোকটা হন্তদন্ত হয়ে অচেনা লোকটাকে খুঁজতে টয়লেটের দিকে গেল কিন্তু তাকে পেল না। সে হতাশ হয়ে কাফেতে ফিরে এল এবং দেখল অচেনা লোকটা ফিরে আসছে। সে জানতে চাইল, ‘কোথায় ছিলে?’

‘আমি একটা ফোন করার জন্য বাইরে গিয়েছিলাম। কী হয়েছে? তুমি এতটা দুঃশ্চিন্তা করছ কেন?’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা খপ্ করে অচেনা লোকটার হাত ধরে টেনে টেবিলে ফিরে আসে। জঞ্জালের স্তূপের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলে, ‘দেখ ওখানে সেটা আছে তো!’

অচেনা লোকটা সেদিকে তাকিয়ে উপহাস করে বলে, ‘কোথায়? আমিতো শুধু একটা কালো থলে দেখছি।’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ে। জঞ্জালের স্তূপের দিকে তীক্ষ্ণভাবে দেখে বলে, ‘বোধ হয় চলে গেছে! ওটা ওখানেই ছিল। আমাকে বিশ্বাস করতে পারছ না?’

‘বিশ্বাস করি। তুমি শান্ত হও। এখন বলত, তুমি কালো বিড়ালটার দিকে নজর দিচ্ছ কেন?’
‘আমি জানি না! বলতে পারব না!’

‘একটু ভাবো! একটা কালো বিড়াল নিয়ে কেন ভাবছ?’
‘ওটার একটা আছেঃ’
‘কী? খুলে বল!’

‘ব্যাপারটা অনেকদিন ধরেই চলছে। কিন্তু না, না, না; তবে কোনও একটা সম্পর্ক সেখানে রয়েছে।’ বলে সে থামল।
‘বল! কী হয়েছিল?’

‘অনেকদিন আগে আমি তখন বেপরোয়া তরুণ। একদিন একটা কালো বিড়ালকে তাড়া করেছিলাম। আমি ইচ্ছা করেই বেশ কিছুক্ষণ আমার গাড়ির চাকার নিচে পিষেছিলাম, তখন থেকেই আমি এরকম করছি। কিন্তু সেটা দশ বছর আগের ঘটনা।’

অচেনা লোকটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘কিন্তু ওই গাড়িতে চাপাপড়া বিড়াল ও এই বিড়ালটার সঙ্গে সম্পর্ক কী?’
‘তাতো জানি না! হতে পারে যে বিড়ালটাকে আমি গাড়িচাপা দিয়ে মেরেছিলাম এই বিড়ালটা এসেছে তার প্রতিশোধ নিতে।’
‘তুমি কী ঠাট্টা করছ?’

‘না। আমি একটা কালো বিড়ালকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে ফেলেছি ।’ ‘কালো’ শব্দটার প্রতি বেশ জোর দিয়ে বলল সে।
‘তুমি কী বলতে চাচ্ছ?’
‘এটা শয়তানী শক্তি।’

অচেনা লোকটা তার কপাল কুচকালো এবং গলা উঁচু করে বলল, ‘তুমি কী আমার সঙ্গে সত্যি ঠাট্টা করছ?’
তারা পরিবেশটা উত্তপ্ত করে ফেলায় কাফের কাস্টমাররা কয়েক মুহূর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গেল।

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা ফিসফিস করে বলল, ‘এখন মনে হচ্ছে তুমিই আমার সঙ্গে ঠাট্টা শুরু করলে।’
‘ভেবে দেখ, আমার প্রিয় বন্ধু। একবার ভাবতো! একটা কালো বিড়াল এক সপ্তাহ ধরে তোমাকে অনুসরণ করছে।’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তুমি কীভাবে জানলে এটা এক সপ্তাহ ধরে চলছে?’

অচেনা লোকটা চিৎকার করে বলল, ‘তুমিইতো বললে!’
‘না, আমি বলিনি।’

‘ঠিক আছে! এটা একটা কথার কথা, হতেও পারে কারণ আমার মনে হচ্ছে, এক সপ্তাহ ধরেই তুমি এমনটি করছ।’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা রাস্তার দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে! তুমি এখন কী বলতে চাও?’

‘শয়তান কী কোনও কালো কুকুর বা কালো বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।’
‘আর?’
অচেনা লোকটা তার মুখ ফ্যাকাশে মুখের লোকটার কানের কাছে এনে ফিসফিস করে বলল, ‘সে তোমার ওপর প্রতিশোধ নিতে এসেছে।’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘এর কোনও মানে হয় না!’

‘এটা তোমার দুর্ভাগ্য! তুমিই এই শয়তান বিড়ালের বাবাকে মেরেছ।’
‘তুমি কী করে জানলে ওটা তার বাবা, ভাই কিংবা বোন নয়?’

অচেনা লোকটা কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে বলল : ‘এটা শুধু অনুমান।’
‘শুধু অনুমান! তুমি আমাকে শুধুই পোচ্ছ, তাই না?’

‘আরে দোস্ত শোনো, শয়তানের আত্মা যে কোনও জিনিসের প্রাণ ফেরাতে পারে। এমন কী প্রাণীরও।’
‘তুমি এখন যাও তো!’

‘আমাকে চলে যেতে বলছ! আমি এক্ষুণি যাচ্ছি, কিন্তু চিন্তা করে দেখ?’
‘কী নিয়ে?’

অচেনা লোকটা রাস্তায় নেমে এসে বলল, ‘বিড়ালটা এখন কোথায়?’
ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার কাঁধ ঝাঁকিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি কী জানি।’

‘সে এখানেই আছে।’
‘সে?’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ল এবং ঘাবড়ে গিয়ে কাফের চারদিকে তাকাল।
‘হ্যাঁ, আমিতো বললাম, শয়তান নিজের রূপ বদলে প্রাণীর রূপ ধারণ করতে পারে। তা হলে সে এখন কেন হবে না।’ অচেনা লোকটা একজন ওয়েটারকে উদ্দেশ্য করে বলল।

‘আমি তাকে অনেক বছর ধরে চিনি।’ ফ্যাকাশে লোকটা মন্তব্য করল। ‘ঠিক আছে, সে হতে পারে এখানকার ওই কালো লোকটা। সে তো ওই বিড়ালটার মতোই কালো!’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা মাথা ঝাঁকিয়ে অস্বীকার করে বলল, ‘না, আমি তাকে এখানে বসে থাকতে দেখেছি, যখন বিড়ালটা দালানের পাশেই ছিল। যারা এখানে নিয়মিত আসে তাদের সবাইকেই আমি চিনি। অবশ্য অনেক অচেনা লোকও আসে।’

‘আমার মতো!’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ!’
অচেনা লোকটা ফ্যাকাশে মুখের লোকটার মাথার সামনে মুখ এগিয়ে এনে বলল, ‘কেন ওই কালো বিড়ালটি নয়?’

‘তুমি নিশ্চয়ই ঠাট্টা করছ!’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা বলল। তার চেহারায় একটা ভয়কাতর হাসি ফুটে ওঠে। ‘একটা ছোট্ট কালো বিড়াল দেখল, তার বাবা দৌড়ে গিয়ে একটা গাড়িতে চাপা পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। বিড়ালটা তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে বের হলো।’

‘কিন্তু গত দশটি বছর তুমি কোথায় ছিলে?’
‘আমি তোমাকে খুঁজেছি।’
‘তুমি আমাকে পোচ্ছ।’

অচেনা লোকটা তার রোদচশমাটা খুলল। উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ। চোখ দুটো বিড়ালের মতো লাগছে না?’ অচেনা লোকটার চোখ সবুজ। ফ্যাকাশে মুখের লোকটা তার দিকে তাকিয়েই কয়েক পা পিছিয়ে গেল। এটা বিশ্বাস করতে না পেরে বলল, ‘আমার দাদিমার চোখও সবুজ ছিল। তাই বলে তিনি নিশ্চয়ই বিড়াল ছিলেন না?’

অচেনা লোকটা তার চশমাটা পেছনে রাখল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি একটু আসছি!’
‘কোথায় যাচ্ছ?’
‘টয়লেটে।’

ফ্যাকাশে মুখের লোকটা অচেনা লোকটার টয়লেটের যাওয়ার পথে নজর রাখছিল। সে একটা সিগারেট ধরাল এবং ওয়েটারকে পান করার জন্য কিছু দিতে বলল। সে জানালার দিকে ঘুরে বসল। দেখল, পুরনো দালান থেকে একটা কালো বিড়াল তার দিকে তাকিয়ে আছে।

সে খুব ভয় পেল, কিন্তু শিগগিরই নিজেকে সামলে নিয়ে মনটাকে ভয়মুক্ত করল। সে টয়লেটের প্রবেশ পথের দিকে তাকিয়ে অচেনা লোকটার ফিরে আসার অপেক্ষা করছে। বিড়ালটার দিকে সে আবার তাকিয়ে দেখে। এবার একবার বাথরুমের দরজার দিকে আবার বিড়ালের দিকে চোখ রাখে।
তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে এবং নিজেকে নিজে বলে, ‘এভাবে কতক্ষণ সহ্য করতে হবে?’

ওয়েটার এক কাপ চা এনে টেবিলে রেখে বলল, ‘আমাকে কিছু বলছেন?’
কোনও জবাব না পেয়ে ওয়েটার চলে গেল। সে বিশেষ একটা ভঙ্গিতে তার হাত নেড়ে অন্য ওয়েটারদের বোঝাতে চাইল, লোকটার মেজাজ বিগড়ে আছে। ফ্যাকাশে মুখের লোকটা আবার আপন মনে বলতে লাগল, ‘এটা কী সম্ভব যে অচেনা লোকটা আসলে একটা বিড়াল। তা না হলে যখন বিড়ালটা দেখা যায়, তখন লোকটা থাকে না কেন?’

ইঁদুরের মতো নিশ্চুপ হয়ে সে আবারও বিড়ালটাকে দেখছে। দেখতে দেখতে সে ভয় পেয়ে যায় এবং নিজেকেই প্রশ্ন করে, ‘তাহলে কীভাবে লোকটা জানল, আমার একটা গাড়ি আছে? সে কীভাবে জানল, এক সপ্তাহ আগে একটা বিড়াল আমার পিছু নেওয়ায় আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আর সে জানলো কীভাবে, ওই বিড়ালটার রং ছিল কালো?‘

‘অচেনা লোকটা তো আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে। সে যখন আমার সঙ্গে কথা বলে, সে একটা ব্যাপার বেশ জোর দিয়ে বলে- বিড়ালটাকে আমি গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেছি, সে ওই বিড়ালটার বাবা।’ বিড়ালটা এখনও সেখানেই স্থির দাঁড়িয়ে আছে এবং ফ্যাকাশে মুখের লোকটাকে দেখছে।

সে টয়লেটের দরজার দিকে লক্ষ রাখছে। মনে মনে ভাবছে, ‘অচেনা লোকটা দ্বিতীয়বার টয়লেটে গেছে আধা ঘণ্টা আগে, অথচ এখনও আসছে না। ব্যাপারটা তো কিছুই বুঝতে পারছি না। তা ছাড়া প্রথমবার যখন চলে গেল, তারপর দেখা গেল, সে বড় রাস্তার দিক থেকে আসছে। ওহ!’ দুশ্চিন্তায় লোকটা খুবই দিশেহারা হয়ে পড়ল।

তার বেরিয়ে আসা চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। সে নিজেকে প্রশ্ন করল, ‘সেই লোকটাই কী ওই বিড়াল? তার চোখ দুটোতো সবুজ।’ ফ্যাকাশে মুখের লোকটা চোখে ধাঁধাঁ দেখছে। তার চোখে ভাসছে, তার সামনে অচেনা লোকটা বসে আছে। হঠাৎ সে তারওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার খুব কাছাকাছি হয়ে তাকে দাঁড় করিয়ে কান্না জড়ান কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমি ওকে খুন করব।’

নিয়মিত কাস্টমাররা ফ্যাকাশে মুখের লোকটার কান্না শুনে চমকে ওঠেন। পরক্ষণেই সে তার পকেট থেকে একটা ছুরি বের করে এবং বাইরে এসে বিড়ালটাকে খুঁজতে থাকে। তার চোখে ভাসে, বিড়ালটাই সেই অচেনা লোক। সে চিৎকার করে বলে, ‘আমি ওকে খুন করব আর তোমাকেও।’

সে ছুরি হাতে বাইরে এসে বড় রাস্তা দিয়ে পুরনো দালানটার দিকে ছুটে গেল। একটা লরি তখন তাকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। সে পুরনো দালানের কাছে ছিটকে পড়ে। একদল ট্রাফিক চিৎকার করে ওঠে মার্চ করার সময়। লোকজন দৌঁড়ে আসে তার কাছে এবং তার চারপাশে গোল হয়ে ভিড় জমায়।

একজন লোক ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে এবং জোরে জোরে বলে, ‘আমি লোকটাকে চিনি! আমরা কিছুক্ষণ আগে একসঙ্গে বসেছিলাম।’সে মারা গেছে। কেউ একজন তার মুখটা এক টুকরো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল। তার চোখ দুটো যেন এখনও ওই পুরনো দালানের নিচে ফেলে রাখা জঞ্জালের স্তূপের দিকে। একটা কালো বিড়াল সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।’

--------------------------------------------------------
মূল লেখকঃ ইয়াসির আবদেল বাকি
ভাষান্তর : রানা আশরাফ

ইয়াসির আবদেল বাকির জন্ম ১৯৭২ সালে এডিনে। তিনি ইতিহাস ও প্রত্মতত্ত্ব বিষয়ে বিএ ডিগ্রি নেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু ছোটগল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন। তিনি ইয়েমেন লেখক ইউনিয়নের আল-মানারা পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলির পরিচালক। তার আরবি ভাষায় লেখা ‘আল-হিরা আল-আসওয়াদ’ (কালো বিড়াল) গল্পটি আলী আজেরিয়াহ ‘দ্যা ব্ল্যাক ক্যাট’ নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29117540 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29117540 2010-03-16 15:48:01
ছোঁয়া
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সামান্য একটু আগে মনি মেডিকেল হলের সামনে একটা রিকশা এসে থামে। সজ্ঞানে হোক অথবা অসতর্ক আঙ্গুলের চাপেই হোক, টুংটাং করে সেই রিকশার বেল বেজে ওঠে দুবার। আরোহী ভদ্রমহিলার সেদিকে বিশেষ ভ্রূক্ষেপ নেই। তার দৃষ্টি দোকানের সাইনবোর্ডের উপরে।

ছোট্ট এই গ্রাম্য বাজারে উল্লেখযোগ্য ওষুধের দোকান বলতে এ একটাই। রিকশাঅলারও মোটেই অচেনা নয়। তবে সে এ দোকানটাকেই বলে ডিসপেনসারি, কালাম ডাক্তারের ডিসপেনসারি। ভদ্রমহিলা প্রথমে কপাল কুঁচকে তাকান, মনের সংশয় তার মুখে ফুটে বেরোয়- কালাম ডাক্তার!

একগাল হেসে রিকশাঅলা জানায়,
হ্যাঁ, চিনি। এ তল্লাটের নামকরা ডাক্তার, সবাই চেনে।
ভদ্রমহিলা শেষবারের মতো যাচাই করে নিতে চান। বলেন,
ডাক্তার তো কালামের বাবা। জালাল ডাক্তার।
রিকশাঅলা হাসিমুখে ভুল শুধরে দেয় আগন্তুকের,

জালাল কম্পাউন্ডারের ছেলেই তো কালাম ডাক্তার। আপনি যাবেন কোথায়- ডিসপেনসারি, নাকি ডাক্তারবাড়ি?
আমি দুজাগাতেই যাব। রিকশায় উঠে বসে আগন্তুক জানতে চান, আগে-পড়ে কোনটা, বাড়ি না দোকান?
রিকশাঅলা আঙ্গুল তুলে দেখায়,
ওই তো সামনেই কালাম ডাক্তারের ডিসপেনসারি।

আগন্তুক সামনে তাকায়। পেছনে তাকায়। বড় বড় শিলকড়-ইয়ের গাছ ডালপালা মেলে ছোট্ট এ বাজারকে কী সুন্দর ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে! কিন্তু এখানে কি আদৌ এ বাজার ছিল আগে! কী যে স্নিগ্ধ প্রাণজুড়ানো ছায়া! সেই ছায়ায় ছায়ায় রিকশা এসে থামে মনি মেডিকেল হলের সামনে। ভেতরে একবার উঁকি দিয়ে রিকশাঅলা বলে,
ওই তো ডাক্তার সায়েব রোগী দেখছেন!

আরোহী নেমে পড়েন রিকশা থেকে। ছোটখাটো ট্রাভেল ব্যাগটা রিকশার পাদানিতে রেখেই তিনি ধীর পায়ে গিয়ে ঢোকেন মনি মেডিকেল হলের ভেতরে। ভেতরে ঠিক নয়, বাইরে বারান্দাতেই ঠেস বেঞ্চে বসে আছে বেশ কজন গ্রাম্য রোগী, বেঞ্চের উল্টোদিকে ডাক্তারের টেবিল-চেয়ার।

এক বৃদ্ধ মহিলার বুকে-পিঠে স্টেথো লাগিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে রোগ নির্ণয় করছেন ডাক্তার। আগন্তুক তবু ব্যস্তকণ্ঠে ডেকে ওঠেন- ডাক্তার বাবু!
আগন্তুকের দিকে না তাকিয়েই ডাক্তার বলেন,
এমন তাড়াহুড়ো করলে তো চলবে না। বসতে হবে।

আগন্তুক আশপাশে তাকিয়ে বুঝিবা বসার জায়গা খোঁজেন। বেঞ্চে বসে থাকা মধ্যবয়সী এক মহিলা পাশের বাচ্চাটিকে হাঁটুর উপরে উঠিয়ে নিয়ে একটুখানি জায়গা করে দিয়ে আগন্তুকের দিকে তাকায়। এদিকে তার বুকের মধ্যে ন্যাকড়া-জড়ানো শিশুটির স্তন্যপানে বিঘ্ন ঘটায় ট্যাঁ করে চেঁচিয়ে ওঠে।

এদের তিনজনের মধ্যে কে যে রোগী, আগন্তুক সেটা নির্ণয় করতে পারেন না, তবে বেঞ্চের ফাঁকা জায়গাটুকুর দিকে আড়চোখে তাকান। অতঃপর তার দৃষ্টি আটকে যায় দোকানের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরের দিকে। ফর্সা ধবধবে সুন্দর চেহারা, মাথাভরা কালো কোঁকড়ানো চুল।

আলমারি থেকে ওষুধপত্তর নামাচ্ছে, তুলছে, রোগীর হাতে বুঝিয়ে দিচ্ছে। আগন্তুক এগিয়ে এসে সেই কিশোরকে জিজ্ঞেস করে,
তুমি তো ডাক্তারবাবুর ছেলে, তাই না?
ছেলেটি সংক্ষেপে উত্তর দেয়- জি।
কী নাম তোমার?

পলাশ। শরিফুল ইসলাম পলাশ।
এতণে ডাক্তারের দৃষ্টি পড়ে এ দিকে। গলায় ঝুলন্ত স্টেথোর একপ্রান্ত হাতের মুঠোয় দাঁড়িয়ে থাকে অচঞ্চল, তিনি আগন্তুকের মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চেয়ারের খোঁড়ল ছেড়ে লাফিয়ে ওঠেন,

অর্চনাদি তুমি!
আগন্তুক একবার ঘাড় ঘুরিয়ে বলেন,
থাক থাক। তুমি ব্যস্ত ডাক্তার। যা করছ করো। আমি ছেলের সঙ্গেই কথা বলি।
না না, ডাক্তারি মানে

সহসা মনি মেডিকেল হলের পরিবেশটাই বদলে যায়। নিজের চেয়ার ছেড়ে ত্রস্তপায়ে কালাম ডাক্তার এগিয়ে আসেন সামনে, চোখে-মুখে তার অপার বিস্ময়, ছেলেকে ডেকে বলেন,
তোর অর্চনা পিসিকে চিনতে পারছিস তো পলাশ? আমাদের অর্চনাদির কথা বলিনি তোকে!

আগন্তুক এবার মিষ্টি করে হাসেন। মধ্যবয়স পেরিয়ে গেছে, তবু হাসলে এখনও তার গালে টোল পড়ে। পলাশ লাজুক চোখে তাকায়। তারপর বলে,
আমি চিনতে পারিনি পিসি। ভুল হয়ে গেছে।

এতক্ষণে শব্দ করেই হেসে ওঠেন আগন্তুক। পলাশের মাথায় হাত রেখে বলেন,
পাগল ছেলে! তুই চিনবি কী করে? দেখেছিস কখনও আমাকে? তোর বাবাই এখন চিনতে চাইছে না দেখছি!
ডাক্তারের কণ্ঠে আছড়ে পড়ে আর্তনাদ,

দিদি! এখনও আমি বুঝতে পারছি না- সত্যি দেখছি তো! তুমিঃ
আমি অর্চনার প্রেতাত্না, তাই তো!

না না অর্চনাদি, সত্যিই তুমি এলে!
হ্যাঁ, এলাম। আসব, সে তো আমি বলেই ছিলাম।

সে তোমার কবেকার কথা, মনে আছে?
বছরপাঁচেক হবে হয়তো। তা হোক। এলাম তো শেষে!

একাই এলে?
হ্যাঁ, আমার গরজে আমি একাই এলাম।
ভিসা-পাসপোর্ট লাগেনি?

লাগেনি আবার! সেই হাঙ্গামা পোহাতেই তো দেরি হয়ে গেল!
কাকিমা কেমন আছেন অর্চনাদি?
সব খবর এখানে বসেই দিতে হবে? বাড়ি যাব না আমি?

এতক্ষণে যেন কালাম ডাক্তারের খেয়াল হয় যে অতিথিকে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। সহসা অতি তৎপর হয়ে ওঠেন। তখনও গোটা তিনচারেক রোগী বসে আছে। কিন্তু তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন, আজ আর রোগী দেখবেন না। এ কথা শুনে আগন্তুক ভয়ানক তেড়ে ওঠেন, রোগী দেখার কাজ শেষ করে বাড়ি আসতে বলেন।

কালাম ডাক্তার শেষ পর্যন্ত ছেলেকে দায়িত্ব দেন- পিসিকে নিয়ে বাড়ি যাও, আমি আসছি।
পলাশ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়। কিন্তু আগন্তুক হেসে বলেন,

এ গাঁয়ের পথঘাট এখনও আমার মনে আছে ডাক্তার বাবু, কিছুই ভুলিনি।
আগন্তুকের কণ্ঠে হঠাৎ বিষন্নতা ছলকে ওঠে। সেই বিষন্নতার কালো মেঘ তার মুখের হাসিকেও যেন আড়াল করে দাঁড়ায়। কী বুঝে যেন কালাম ডাক্তার তখন বেশ জোর দিয়ে বলেন,
না না ভুলবে কেন! মাটির টান আর নাড়ির টান, একই কথা।

আগন্তুক রিকশার দিকে পা বাড়ান। ডিসপেনসারির বাইরে এসে হঠাৎ জিজ্ঞেস করেন, মামা এখন কেমন আছেন কালাম?

ঠিক তখনই দপ করে বাতি নিভে যায়। প্রগাঢ় অন্ধকারে গ্রাস করে চরাচর। এ সুযোগে কালাম ডাক্তার বেচারা রিকশাঅলার ওপরে তম্বি করেন- অ্যাই, কেরে? শমসের না? অন্ধকারে যেতে পারবি তো?
রিকশাঅলা শমসেরের জবাব শোনার আগেই আবার তাড়া লাগান,

কইরে পলাশ! টর্চ নিয়ে আয় দেখি!
আগন্তুকও আহ্বান জানান,
চল বাবা, আমরা বাড়ি যাই। তোর বাবা পরে আসছে।
যে প্রশ্নের অপ্রিয় উত্তর এড়াবার জন্য কালাম ডাক্তার অন্ধকারের আড়াল নেন, কৌশল খাটান, শমসেরকে ধমকান এবং অতিথিকে রিকশায় তুলে বিদায় দেন, ডাক্তার বাড়ি পৌঁছানোর পর আবার সেই প্রশ্নটিই এক ধাক্কায় সামনে চলে আসে।

রিকশা থেকে নেমে আগন্তুক একবার অন্ধকারেই ঘাড় উঁচু করে তাকান ডাক্তারবাড়ির দিকে। স্থানীয় মানুষ এখনও ডাক্তারবাড়িই তো বলে! শমসের রিকশাঅলার মুখেও ওই নামই শোনা গেছে। বদলে গেছে কত কিছুই। তবু রয়ে গেছে ডাক্তারবাড়ির নাম।

মনি ডাক্তার নেই, তবু কি তারই নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ মনি মেডিকেল হল? অন্ধকারে প্রাচীন দোতলা বাড়িটিকে কেমন দৈত্যদানবের মতো মনে হয়। গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে আগন্তুকের। পাশেই আছে পলাশ, তবু কেমন যেন ভয় পাওয়া গলায় সজোরে ডেকে ওঠেন- মামা!
কোথাও কোনও উত্তর নেই।

মামা ডাকটুকুই বাতাসে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। রিকশার পাদানির ওপর থেকে ট্রাভেল ব্যাগ হাতে নিয়ে পলাশ ডাকে,
পিসি, বাড়ির মধ্যে চলুন আগে।

দাঁড়া, দাঁড়া। তুই বল তো পলাশ, মামা কোথায়?

পলাশের মুখে কথা সরে না। হ্যারিকেনের আলো উসকে এক বৃদ্ধা সদর দরজার বাইরে এসে খিনখিনে গলায় জিজ্ঞেস করেন,
কে গো বাছা, কে এলে?

পলাশ আগ বাড়িয়ে জানায়,
ইন্ডিয়া থেকে অর্চনা পিসি এসেছে দাদী।

কে এসেছে?
আগন্তুক দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধাকে আঁকড়ে ধরেন,
আমি অর্চনা মামী, তোমার পোড়ামুখী মেয়ে।
অর্চনাকে জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধা ডুকরে ওঠেন। অর্চনার মুখে তবু সেই দুর্মর প্রশ্ন,
আমার মামা কোথায়?

উচ্চারিত বাক্যে নয়, বৃদ্ধার বাঁধভাঙা কান্নাপ্রবাহ থেকেই প্রকটিত হয়ে ওঠে ওই প্রশ্নের উত্তর। আগন্তুকের তখন কি যে প্রতিক্রিয়া হয়, উচ্ছ্বসিত কান্নার ধাক্কা টের পাওয়া যায় না তার চোখেমুখে; ধপাস করে বসে পড়ে মাটিতে। তার বুক ফুঁড়ে ডুকরে ওঠে আর্তনাদ- মামা নেই!

দুই.

বছরপাঁচেক আগে কালাম ডাক্তারের বাবা জালাল কম্পাউন্ডারের পীড়াপীড়িতেই এপার ওপার দুই পরিবারের মধ্যকার ছিন্নপ্রায় সম্পর্কসুতোটি আবারও একরকম জোড়া লেগে ওঠে। স্মৃতির বালিয়াড়িতে অনেক খোঁড়াখুঁড়ি চলে, চোখ ঝাপসা করা কথার কাসুন্দি উঠে আসে রাশি রাশি, সেই সঙ্গে বুকভাঙা তপ্ত দীর্ঘশ্বাসও।

অনেকদিন থেকেই জালাল কম্পাউন্ডারের মেরুদণ্ডে অসুখ। নিজের ঘটে চিকিৎসাবিদ্যার যেটুকু আছে, তা মোটেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পাওয়া নয়; ডাক্তার মনীশ রায় তাকে হাতে-কলমে যা শিখিয়েছেন বা দেখিয়েছেন, সম্বল সেটুকুই।

তা সেই বিদ্যা গ্রামের মানুষের সাধারণ চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট হলেও নিজের চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি অচিরেই টের পানÑ প্রয়োজনের তুলনায় তা কতটা অপ্রতুল। কুষ্টিয়ায় গিয়ে ডাক্তার দেখান, ছ’মাস পর ঢাকায় গিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মুখে জানা গেল- স্পাইনাল কর্ডের জটিল সমস্যা। সেরে উঠতে ঢের সময় লেগে যাবে। এসব শোনার পর জালাল কম্পাউন্ডার মনে মনে কী যে অঙ্ক কষেন, তার খুব বাঁচার সাধ হয়, একদিন ছেলেকে ডেকে বলেন,
আমি কলকাতা যাব কালাম, ব্যবস্থা করো।

কলকাতা যাবেন? কালাম যেন চমকে ওঠে- ঢাকার চিকিৎসায় কাজ হবে না?
সোজাসাপটা উত্তর,
না, হবে না। কিছুণ দম ধরে থেকে তারপর ঘোষণা দেন, মনিদাকে না দেখালে আমার অসুখ সারবে না।

কালাম খুব অবাক হয়ে তার জন্মদাতার মুখের দিকে তাকায়। সারামুখে বিষন্নতার মেঘ জমে আছে। দুচোখে দূরের আভাস। মনিদা মানে কালামের মনিকাকা, ডাক্তার মনীশ রায়। এ ডাক্তারবাড়ির মালিক। জালাল কম্পাউন্ডারের গুরুদেব। একাত্তরে সব হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতে, কলকাতার উপকণ্ঠে বেলঘোরিয়ায়।

একমাত্র ছেলে গেছে মুক্তিযুদ্ধে, কালামের বড়ভাই সালামের সঙ্গে, দুজনের কেউ বাড়ি ফেরেনি। একমাত্র মেয়েকে পাকিস্তানি নরপশুর দল এসে একদিন ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেছে আর্মিক্যাম্পে। বলা যায় সেও আর ফিরে আসেনি। যুদ্ধের পর পরিত্যক্ত আর্মিক্যাম্প থেকে তার নামে যাকে উদ্ধার করা হয় সে যেন তার প্রেতাত্না।

তো এভাবে সন্তান হারানোর পর আর কী-ইবা বাকি থাকে হারাতে! মনি ডাক্তারের দম বন্ধ হয়ে আসে পরানপুরের বাতাসে। ঘরবাড়ি, বাগান-পুকুর, জমিজিরেত এমনকী ডাক্তারি পেশায় অর্জিত খ্যাতিসম্মান সব কিছু পিছনে ফেলে তিনি সস্ত্রীক চলে যান ওপারে।

এপারের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি এককথায় দিয়ে যান প্রিয় শিষ্য জালাল কম্পাউন্ডারকে। কিন্তু জালালউদ্দীন দিনে দিনে সে সম্পত্তি একটু একটু করে বিক্রি করে বিশ্বস্ত লোকের মাধ্যমে টাকা-পয়সা পাঠিয়েছেন কলকাতায় মনিদার কাছে। পঁচাত্তরের পর এ ডাক্তারবাড়ি এবং বাড়িসংলগ্ন পুকুর বিক্রির কথা উঠলে মনীশ রায় চিঠি লিখে জানান- এ সম্পত্তি নাকি তার নয়, কাজেই এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত দিতেও পারবেন না।

এ ডাক্তারবাড়ি তা হলে মনি ডাক্তারের নয়? পরের চিঠিতেই কিনারা হয় রহস্যের। এ বাড়ি ও পুকুরের কাগুজে মালিক ডাক্তার মনীশ রায়ের স্ত্রী অতসী রায়। জালালউদ্দীন তাকে বৌদি না ডেকে দিদি ডাকে, তার পেটের ছেলেমেয়েরাও সেই সুবাদে জালাল মামা ডাকে।

অতসী রায় এ সম্পত্তি বিক্রি না করে ভাইকে দান করেন। এসব সেই কবেকার কথা! দুই দেশের সরকারে পরিবর্তন এসেছে, সীমান্তে কড়াকড়ি হয়েছে, দুই পরিবারের যোগাযোগও কমে এসেছে। সামান্য চিঠিপত্রের আদান-প্রদান পর্যন্ত কবে কবে থেমে গেছে, সেটাও যেন ঠিকমতো মনে পড়ে না।

এতদিন পর বাবার মুখে মনিকাকার নাম শুনে তাই কালাম প্রথমে একটুখানি চমকে ওঠে, বাবার অন্তর জরিপ করে, বুঝতে চেষ্টা করে ‘মনিদাকে না দেখালে আমার অসুখ সারবে না’- এ কথার মানে কী! না দেখালে, নাকি না দেখলে?

অসুস্থ মানুষ, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার মনীশ রায়ের কথা তার মনে পড়তেই পারে; বিশেষত তিনিও ডাক্তারি-বিদ্যার হাতেখড়ি লাভ করেছেন তার কাছেই। কিন্তু এর অধিক কিছুই নয়! কালাম এ গ্রাম্য পরিবেশে পরশ্রীকাতর কিছু মানুষের মুখে শুনেছে- তার বাবা মনি ডাক্তারের সহায়-সম্পত্তি ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে।

একজন তো কাগজপত্র জাল করে কোর্টে মামলা পর্যন্ত ঠুকেছিল। সে মামলা অবশ্য টেকেনি পরে। কালামের মনে একবার সংশয় জাগে- এসব নিয়ে বাবার অন্তরে কোনও অনুশোচনা জমেছে নাকি! অথবা এসব কিছুই নয়, বহুদিন পর মনিকাকার স্মৃতি মনে পড়ায় ভেতরে ভেতরে উথাল-পাথাল হয়ে পড়েছেন, তাই এখন একবার দেখা করার জন্য এত ব্যাকুলতা।

তা যাব বললেই তো আর এক দেশান্তরে উড়ে যাওয়া যায় না! পাসপোর্ট-ভিসার ঝামেলা চুকিয়ে তবেই বর্ডারে পা বাড়াতে হয়। অবশেষে অসুস্থ বাবাকে কাঁধে নিয়ে কলকাতায় গিয়ে খুঁজে পেতে মনিকাকার বাড়ি ঠিকই আবিষ্কার করে কালাম, কিন্তু পিতাপুত্র দুজনেই ভয়ানক হোঁচট খায়। বিধবার বেশে সামনে এসে দাঁড়ান কাকিমা।

জালালউদ্দীনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই কান্নাপ্রবাহ কিঞ্চিৎ থিতিয়ে এলে আপেভরা কণ্ঠে বলেন, সেই তুমি এলে ভাই, আরও আগে কেন এলে না! তোমার দাদা চোখ বুঁজবার আগে দিনরাত তোমার কথা বলত, তোমাকে দেখতে চাইত। মাত্র মাসচারেক আগে গত হয়েছেন মনীশ রায়।

সেই শোকে সারা বাড়ি এখনও থমথমে। এর মধ্যে অসুস্থ জালালউদ্দীন এসে এই সংবাদ শুনে আরও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তখন বুকের মমতা ঢেলে সেবাযত্ন করেন কাকিমা এবং অর্চনাদি। সেই অচেনা নগরীতে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে বিশেষ কিছুই ভাবতে হয় না কালামকে। একা সে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অর্চনাদি।

মনিকাকার সাধ ছিল ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবেন, হয়নি। ছেলেই হারিয়ে গেছে যুদ্ধে। দুধের সাধ ঘোলে মেটাবার মতো হলেও অর্চনাদি নার্সিং পড়ে বাবাকে সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন। বাবার অবর্তমানে সংসারের হাল ধরেছেন। জালাল মামাকে হসপিটাল-নার্সিংহোমে টানাটানিও তার দায়িত্ব।

আর জালালউদ্দীন তো মা বলতে অজ্ঞান। নিজের মেয়ে নেই। কালামের স্ত্রীকেই মেয়ের মতো ভালবাসেন। তবু পুত্রবধূ বলে যে সূক্ষ্ম দূরত্ব নিভৃতে অনুভব করতেন, অর্চনাদির আদরভক্তি সেই দূরত্বও নিঃশেষে ঘুচিয়ে দেয়। কালামের চেয়ে বছরদুয়েকের বড় হবে অর্চনা।

বয়সের এ সামান্য ব্যবধান শৈশব-কৈশোরে বন্ধুত্ব গড়তে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। গ্রামের ঝোপঝাড়ে, পুকুরপাড়ে, নদীর তীরে দু’জনের শিশুবেলার কত না রঙিন স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। নির্দ্বিধায় পরস্পরকে তুই-তোকারি চালিয়ে যাওয়ার কি যে বেহিসেবি ছিল সেইসব দিন!

মুক্তিযুদ্ধের সেই বছরে কালামের বাবাই একদিন ধমকে বলেন- অর্চনা পড়ে কাস টেনে, বয়সে তোমার চেয়ে বড়, দিদি বলতে পারো না? বাবার সামনে ঘাড় দুলিয়ে সম্মতি জানালেও বাস্তবে তা পারেনি কালাম। দুচারদিন চেষ্টাও করেছে, অর্চনা জিভ ভেংচিয়ে সব নষ্ট করে দিয়েছে।

একদিন সে স্পষ্ট জানিয়েছে, তুমি তুমি করলে কেমন যেন বড়মানুষের মতো লাগে; ওসবে আমার দরকার নেই বুঝেছিস? এত বছর পর কলকাতায় এসে কত সহজেই কালাম ‘তুমি’ বলতে পারে, অর্চনাদি বলে ডাকতে পারে; বাধে না কিছুতেই। অর্চনাদিও আর তুই পর্যন্ত নামতে পারে না।

এখন বরং দৃশ্যাতীত অন্য এক সংকোচের বাধা কালামকে ম্রিয়মাণ করে রাখে। অর্চনার সিঁদুররাঙা সিঁথি দেখে খুব ভালো লাগে, কিন্তু তার ঘর সংসার কিংবা সন্তানাদি প্রসঙ্গে কিছুই শুধানো হয় না। কোথায় যে বাধা সেটাও ঠিক নির্ণয় করতে পারে না। অথচ নিজের স্ত্রী-পুত্রের কথা সে দিব্যি জাহির করে বলেছে।

ছেলেটি ক্লাস ফাইভে পড়ে। ভালো ছাত্র। ওর দাদুর ইচ্ছে ডাক্তারি পড়াবার। এসব নিয়ে কত কথা হয়; হয় না কেবল অর্চনাদির ব্যক্তিগত জীবনের এ অধ্যায়ের কথা।
কলকাতার নামকরা ডাক্তারের চিকিৎসা এবং প্রিয় পরিজনের আন্তরিক সেবাযত্নে জালালউদ্দীনের স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হলে দেশে ফেরার জন্য প্রাণ আনচান করে।

ছেলেকে তাড়া লাগান- ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে এল, বাড়ি যেতে হবে না কালাম! ধীরে ধীরে সবদিক গুছিয়ে কালামও সেই আয়োজন করে। কাকিমার অনুরোধে একদিন, অর্চনাদির আবদারে আরও একদিন, এভাবে সময় একেবারে ফুরিয়ে এলে বিদায় নেওয়ার আগের রাতে কালাম হঠাৎ জিজ্ঞেস করে- আমাদের দেশে কখনও যেতে ইচ্ছে করে না অর্চনাদি?

দীর্ঘশ্বাসের গা পেঁচিয়ে অর্চনাদি জবাব দেয়, তোমাদের দেশে?
না মানে বাংলাদেশে। আমাদের সেই পরানপুরে একবার যাবে না?
হ্যাঁ, যাব একবার।

যাবে? কালাম একেবারে লাফিয়ে ওঠে, কবে যাবে বলো তো দিদি!
তা তো জানি না। তবে যেতে খুব ইচ্ছে করে।
বেশ তো! তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট করে ফ্যালো দেখি!

ওই তো মুশকিল। পাসপোর্টের কথা শুনলেই যাওয়ার ইচ্ছেটা মরে যায়। আমাদের পরানপুরে যেতে আবার পাসপোর্টের হাঙ্গামা কেন?

পরানপুরের অবস্থান বাংলাদেশে। আর তুমি এখন ভারতে বাস কর। দুটো দুই দেশ। যাওয়া-আসার জন্য পাসপোর্ট তো লাগবেই। এ সহজ কথাগুলো কালামের মনে আসে ঠিকই, মুখে বলতে পারে না। এ জবাব নিশ্চয় অর্চনাদিও খুব জানে। আসলে তার মনের মধ্যে জমে আছে ব্যথার পাহাড়। সেই পাহাড়চূড়া থেকে যেনবা বরফ গলে পড়ে। একটু দম নিয়ে সে বলে,

তোমাদের বাংলাদেশের জন্য আমাদের গোটা জীবন ওলোটপালোট হয়ে গেল। তবু আজ পাসপোর্টটাই বড় হল!
কালামের মুখে কথা সরে না। একাত্তরের অনেক ঘটনাই তার মনে পড়ে। বড় হতে হতে সে সব ঘটনার একরকম ব্যাখ্যাও সে মনে মনে করে নিয়েছে। তা নিয়ে কাউকে কিছু শুধায়নি। তবু অর্চনাদিকে জড়িয়ে নানা কথা কানে এসেছে। এতদিন পর এক ঝটকায় সব কিছু ভেসে ওঠে চোখের পর্দায়। কথা বলবে কী করে কালাম?

শেষ পর্যন্ত অর্চনাই ঘোষণা করে- তবু একবার আমি যাব পরানপুরে।

এসবের কিছুই না জেনে সকালে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে অর্চনার মাথায় হাত রেখে জালালউদ্দীনও শিশুর মতো আবদার করেন- তুই একবার পরানপুরে আসিস মা।
বায়নাধরা অবুধ বালিকার মতো করে অর্চনা বলে,

যেতে পারি এক শর্তে মামা।
শর্ত! কী শর্ত মা?
আমি যা চাইব, তাই দিতে হবে।

জালালউদ্দীন আনন্দের সঙ্গে জানান,
তোদের বাড়িঘর বাগান পুকুর- সব আগের মতো আছে। শুধু মনিদার ডিসপেনসারিটা কালাম নিয়ে গেছে বাজারে।
মাঝপথে জালাল মামার কথা থামিয়ে অর্চনা বলে,
ওসব আমি কিছুই চাইনে মামা, চাই অন্য কিছু।

আমি সব দিতে প্রস্তুত। কী চাস বল তো মা!
না মামা, সেটা পরানপুরে গিয়েই চাইব।
বেশ তাই হবে। তুই আগে আয় তাহলে।

তিন.

অর্চনার সেই আসা আসতে আসতে এই এতদিন।

এরই মাঝে পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। প্রথম দিকে বছরখানেক বেশ পত্রযোগাযোগ গড়ে ওঠে। দুপরে চিঠিতেই থাকে স্মৃতিজাগানিয়া বিবরণ। এদিকে কালামের চিঠিতে থাকে উদার আমন্ত্রণ- অর্চনাদি, এসে বেড়িয়ে যাও। জালাল কম্পাউন্ডারও একবার বেড়াতে আসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেন অর্চনাকে।

সে চিঠির এক কোণায় পুনশ্চ দিয়ে লেখেন- ‘তোমার যে কোনও দাবি পূরণ করিতেই আমি ইচ্ছুক। কিন্তু দাবিটি যে কী তাহা আগাম জানাইলে তোমার এই অধম সন্তানের পক্ষে প্রস্তুতি গ্রহণ করা সহজ হইবে।’ অর্চনার কোনও চিঠিতে সেই শর্ত কিংবা দাবির ব্যাখ্যা ছিল কীনা কে জানে!

বছরখানেক পর চিঠি চালাচালিই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। মনে পড়ে না তা নয়, গরজ করে চিঠি লেখা আর হয়ে ওঠে না।

তাই বলে জালাল মামার মৃত্যু সংবাদটা পর্যন্ত দেবে না কেউ!
এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে অর্চনার দম বন্ধ হয়ে আসে। মামাও এভাবে ফাঁকি দিয়ে গেল! তবে আর পাসপোর্ট-ভিসার এত হাঙ্গামা পেরিয়ে, এত পথ ঘুরে এই এ্যাদ্দূরে আসার কী মানে হয়! অর্চনা সত্যি কারও সঙ্গে কথা বলতে পারে না। কথা বলার ইচ্ছেই জাগে না।

কালাম ডাক্তার অনুতপ্ত হয়, সোজাসুজি মাই চেয়ে বসে- আমার ভুল হয়ে গেছে দিদি। বাবার মৃত্যুর পর আমার মাথা ঠিক ছিল না। খবরটা তোমাকে জানানো হয়নি। তুমি মাফ করে দাও।

রাত যায়। দিন যায়। সারাদিনে অর্চনা কারও সঙ্গেই কথা বলে না। নাওয়া-খাওয়া করে না। ওর বাবা-মা যে ঘরে বাস করতেন সেই ঘরে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কলকাতায় বসে কালামের সঙ্গে পরিকল্পনা হয়েছিল- একদিন দুজনে মিলে আমরা আবার বাগানে গিয়ে প্রজাপতির সঙ্গে নাচব, ফড়িঙের পেছনে ছুটব, ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে টুনটুনি পাখি খুঁজব। একদিন একবেলার জন্য না হয় ছেলেমানুষ হয়ে যাব।

ইশারা-ইঙ্গিতে সেসব পরিকল্পনার কথাও মনে করিয়ে দেয় কালাম। কাজ হয় না কিছুতেই। পরদিন গভীর রাতে মামীর বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে হঠাৎ ডুকরে ওঠে অর্চনা। মামী ডানহাত দিয়ে সারা গায়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন। অর্চনার সারাশরীর ফুলে ওঠে, কেঁপে ওঠে। মামী এবার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন- ওঠ মা, একটা কিছু মুখে দে। দানাপানি পেটে নেই। বাঁচবি কী করে?

অর্চনা সেদিকে যায় না। মামীর শরীর আঁকড়ে ধরে জিজ্ঞেস করে,
একদিন তুমি আমাকে পোড়ামুখী মেয়ে বলেছিলে, মনে আছে মামী?

এবার মামীর বুক ফুঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরোয়,
সে-সব কথা মনে করতে নেই মা।
কেন মনে করতে নেই? কেন পোড়ামুখী বলেছিলে মামী?

সেই কবেকার কথা, মন থেকে মুছে ফেলতে পারিসনি হতভাগী!
অর্চনার গায়ে হাত রেখে মামী এবার কেঁদে ফেলেন। নিজের পেটে কন্যাসন্তান আসেনি বলে খুব দুঃখ তার। সেই দুঃখের দাহ জুড়িয়েছিল এই অর্চনাকে হাতে পেয়ে। মেয়েটিকে জন্ম দিতে গিয়ে ওর মা এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, বছরখানেক প্রায় শয্যাগত থাকতে হয়।

সে সময় মা-মেয়ে দুজনেরই সেবাযত্ন করেছেন এই মামী। অর্চনা বড় হতে হতে যতটা তার মায়ের গা-লাগা হয়েছে, মামীর গা-ন্যাওটা থেকেছে তার চেয়ে বেশি। অর্চনার মা মুখ ফুটে স্বীকারও করেছেন- অর্চনার অর্ধেকটা মায়ের, আর অর্ধেকটা মামীর। কিন্তু একাত্তরে এসে ভাগাভাগির সেই হিসাবে ভুল হয়ে যায়।

কাউকে কিছু না বলে সালামের সঙ্গে অবিনাশও মুক্তিযুদ্ধে গেছে, এ ধাক্কা ডা. মনীশ রায় এবং তার স্ত্রী একভাবে সামলে ওঠেন। কিন্তু পাকিস্তানি নরপশুরা একদিন ছোঁ মেরে অর্চনাকে তুলে নিয়ে গেলে ওর বাবা-মা দুজনেই পাগলপ্রায় হয়ে যান।

ভারতে গেলে অবিনাশের দেখা পাওয়া সম্ভব, এরকম এক ছেলেমানুষী হিসাব মাথায় নিয়ে একদিন তারা দুজনেই বর্ডার টপকে চলে যান ওপারে। অর্চনার কী হবে? অর্চনার মা অনেক কাঁদাকাটি করেন। কিন্তু জবাব দিতে পারেন না মুখ ফুটে। কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যায়- ভাটপাড়া ক্যাম্প থেকে যদি কোনওদিন ছাড়া পেয়ে যায়,

তখন সে দাঁড়াবে কোথায়? তবে কি অর্চনার ফিরে আসাটা মা-বাবা কেউই আর চাইছেন না? মানে চাইতে পারছেন না? কিন্তু যুদ্ধশেষে মুক্তিসেনারা ভাটপাড়া ক্যাম্প থেকে যে কজন অর্ধ উলঙ্গ জীবিত নর-নারীকে উদ্ধার করে আনে, অর্চনাকে তাদের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর অর্ধেক নয়, পুরো অর্চনাই তখন মামীর হয়ে যায়।

কিন্তু অর্চনার পেটে যে অনাকাঙ্ক্ষিত মানবপিণ্ড আসছে তার কী হবে? নিজের শরীরের এ হাল, বাড়িতে মা-বাবা নেই, অর্চনা তখন কী করে? আত্নহত্যা করতে উদ্যত হয়। এ মামী বুক দিয়ে আগলে নেন, কিন্তু মুখে তিরস্কার করেন- মরবি তো ওই ক্যাম্পে মরতে পারিসনি পোড়ামুখী মেয়ে!

এত বছর ধরে সেই কথা মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছে অর্চনা। কেবল মামীর সেই তিরস্কারটুকুই নয়, অবাঞ্ছিত সেই মানবপিণ্ডকেও সে মনে রেখেছে। জীবন সংশয় করে হাতুড়ে কবিরাজের দ্বারা গর্ভপাত ঘটান হলে একসময় অর্চনা ভারতে চলে যায় মা-বাবার কাছে।

অবিনাশ নয়, অর্চনাই দিনে দিনে হয়ে ওঠে মা-বাবার ভরসার জায়গা। নার্স হিসেবে সেবা দিতে গিয়েই সৌরভ নামের এক সংস্কৃতিবান যুবকের সঙ্গে পরিচয় থেকে পরিণয় পর্যন্ত ঘটে। কিছুই লুকায়নি তার কাছে। নারী জীবনের এত বড় অপমানকেও সে ভালবেসে সম্মানিত করে।

পোড়ামুখী অর্চনার এতসুখ সইবে কেন? সন্তানহীন নিষ্ফলা সময় যতই গড়ায় সৌরভের ভালবাসার রঙ ততই ফিকে হয়ে আসে। একদা অনাকাক্সিত সন্তানের সম্ভাবনা তার জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল বটে, তবু মাতৃত্বের দুয়ার তো খুলে দিয়েছিল!

কে জানত যে তাকে হঠাতে গেলে সে যাওয়ার সময় মাতৃত্বের স্বর্ণ দুয়ার এভাবে রুদ্ধ করে দেবে! সৌরভের সব উদারতা এখানে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। দশ বছরের প্রতীা এবং প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষে সংসার ভেঙে যায়। তখন থেকেই সেই অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের স্মৃতি তাকে দগ্ধায়।

তলপেট ভারি হয়ে আসছে, দুগ্ধভারে নুয়ে আসছে স্তন, শিশু ওষ্ঠের স্পর্শের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে স্তনবৃন্ত- এসব আজ শুধুই স্মৃতি। গভীর রাতে মামীকে জড়িয়ে ধরে অর্চনা জানতে চায়, আমার পেটের সেই অবাঞ্ছিত মানবপিণ্ড তোমরা কোথায় পুঁতেছিলে মামী? সেই মাটি একবার ছুঁতে দাও না!

একটু দম ধরে থেকে মামী জবাব দেন- সারা বাংলাদেশের মাটিই তো তোর সন্তানের মতো! পাগলি মেয়ে! বিশ্বাস না হয় ছুঁয়ে দেখ যে কোনও জায়গায়!




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29116700 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29116700 2010-03-15 11:15:06
সাক্ষাতকার "চলচ্চিত্রের কারণেই..." সূত্র এইখানে
অভিনেত্রী থেকে সংসদ সদস্য। রাজ্যের ব্যস্ততা এখন কবরী সারোয়ারের। অভিনয় করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। তবে বিশেষ কোনো চরিত্র হলে না করতে পারেন না। অনেকদিন পর অভিনয় করছেন রাজা সূর্য খাঁ ছবির মহারানি চরিত্রে। কবরী সরোয়ারের নতুন পরিচয় সংসদ সদস্য হলেও তিনি এখনো ভক্ত মনে নায়িকা কবরী হিসেবেই আসন পেতে আছেন।

সুভাষ দত্তের সেই সুতরাং ছবি থেকেই তিনি উপহার দিয়েছেন সাবলীল ও সুন্দর অভিনয়। গ্রামবাংলার আবহমান সহজ-সরল চরিত্র থেকে শুরু করে শহুরে দাম্ভিক চরিত্র, সর্বোতই তিনি অতুলনীয়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের জন্য। কিন্তু বঞ্চিত হচ্ছিলেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

প্রিয় অভিনেত্রীকে আর নিয়মিত দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। সম্প্রতি তিনি রাজা সূর্য খাঁ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরেছেন। গাজী মাহবুব পরিচালিত এ ছবিতে তিনি রাজা সূর্য খাঁ-এর স্ত্রী অর্থাৎ রানির চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ছবি প্রসঙ্গে কবরী বলেন, গল্পটি প্রায় ৩০০ বছর আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

গল্পটি অনেক পুরনো হলেও বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে কবরী সান্নিধ্য পেয়েছেন তাঁর সময়কার অভিনেতাদের। উজ্জ্বল, ববিতা, সোহেল রানা- এদের সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে কবরী ফিরে গিয়েছেন তাঁর পুরনো দিনগুলোতে। কবরী প্রথমে এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না।

পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে অভিনয় করতে পারবেন, কিছুটা এই লোভেও তিনি সম্মতি জানিয়েছেন। ফ্লা. লে. (অব.) এস এ সুলতান প্রায় ৩৩ বছর গবেষণা করে রাজা সূর্য খাঁ গল্পটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এ গল্পটি শুনেছিলেন। কবরীর সম্মতির এটাও একটা কারণ।

চলচ্চিত্রের অনেকেই এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু কেউই চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেননি। ব্যতিক্রম একমাত্র কবরী সারোয়ার। অন্তত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট লোকজন তেমনটাই মনে করেন। তিনি প্রায়ই চলচ্চিত্রকর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে থাকেন।

যেটুকু সময় পান চেষ্টা করেন চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন বয়স্ক শিল্পীকে নিজ উদ্যোগে দেখভাল করছেন। এ বিষয়ে কবরী বলেন, আমি একা মানুষ, কতটুকু সময় পাই, তা ছাড়া এত ব্যস্ত থাকি যে, সবদিকে লক্ষ করার সময় হয়ে ওঠে না। যেটুকু পারি চেষ্টা করি।

ক্ষমতায় থাকাকালীন যেন তিনি চলচ্চিত্রের জন্য কিছু আদায় করেন- এই চাওয়া চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের। কবরী সেটা জানেন এবং ধীরে সুস্থে সে ব্যবস্থাই করবেন বলে জানান। চলচ্চিত্রের কারিগরি সমস্যাসহ অন্যসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে দাবি জানাবেন তিনি। পাইরেসি সংক্রান্ত যে ভয় সিনেমাকে গ্রাস করছে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও তিনি খুঁজছেন।

রাজনীতিতে গিয়েও একজন অভিনেত্রীর জন্য অভিনয়কে ভুলে থাকা কঠিন। মনের মতো গল্প ও চরিত্র পেলে মাঝে মধ্যে ক্যামেরার সামনে আসতে কোনো বাধা নেই। কারণ চলচ্চিত্রই আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। অতএব চলচ্চিত্রের অবদানকে অস্বীকার করে অন্য কিছু স্বীকার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়- বললেন কবরী।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29113043 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29113043 2010-03-09 13:12:01
 বাবা অজয়

প্রথমে অভিনেতা, এরপর নির্মাতা হিসেবে অসামান্য গুণের পরিচয় দিয়েছেন অজয় দেবগন। এবার তিনি দেখালেন, বাবা হিসেবে মমত্ব ও দায়িত্ববোধেও তাঁর কমতি নেই। শুটিং উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া গেছেন অজয়ের স্ত্রী কাজল। এখন ছয় বছরের মেয়ে নিশাকে আগলাবে কে? মেয়ের এই দেখভালের দায়িত্ব কারও ওপর না চাপিয়ে অজয় নিজেই নিলেন। নতুন ছবি অতিথি তুম কাব যাওগে?র শুটিং স্পটে মেয়েকে নিয়ে গেলেন তিনি। এক দিকে চলতে লাগল শুটিং, আরেক দিকে চলতে লাগল মেয়ের দেখাশোনা। এভাবে দুটি কাজই সমানভাবে চালিয়ে যেতে লাগলেন তিনি। ওয়েবসাইট। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29109022 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29109022 2010-03-03 10:17:09
জোকস <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" />
<img src=" style="border:0;" />
<img src=" style="border:0;" />
<img src=" style="border:0;" />
<img src=" style="border:0;" />

এক বুড়ি ময়মনসিংহের বাসে উঠেছে! বাসে উঠেই সে হেল্পারকে বলল, ‘ভালুকা আইলে আমারে কইয়েন যে!’
হেল্পার তাকে আশ্বস্ত করে বলল, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’
বাস চলতে শুরু করল! বুড়ি দুই মিনিট পরেই হেল্পারকে বলল, ‘ভালুকা আইছে?’
হেল্পার উত্তরে ‘না’ বলল! কিন্তু বুড়ি দুই মিনিট পর পর হেল্পারকে এই প্রশ্ন করতে লাগল! হেল্পার ও বাসের যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে বুড়িকে ধমক দিল! বুড়ি তখন ভয়ে চুপ।
এদিকে বাস চলতে চলতে ভালুকা ছাড়িয়ে সামনের স্টপেজের মাঝামাঝি চলে এল। তখন হেল্পারের মনে পড়ল যে বুড়িমা তো ভালুকার কথা বলে রেখেছিল! বাসের সব যাত্রী তখন হেল্পারকে বকাঝকা করে বাস ঘোরাতে বলল। তো বাস আবার ঘুরিয়ে ভালুকায় এল। হেল্পার বুড়িকে বলল, ‘বুড়িমা, ভালুকা আসছে! আপনে নামেন!’
বুড়ি চোখ কুঁচকে জবাব দিল, ‘নামমু কে? ডাক্তার আমারে ডাহাত্তন (ঢাকা থেকে) একটা টেবলেট খাওয়াইয়া কইছে ভালুকায় গিয়া আরেকটা খাইতে! আমি এখন টেবলেট খাইবাম! পানি দেন!’

স্টেশনে থেমে থাকা একটি ট্রেনে দুই ব্যক্তির মধ্যে কথা হচ্ছে।
প্রথম ব্যক্তি:ভাই, এটা কোন স্টেশন?
দ্বিতীয় ব্যক্তি বাইরের দিকে কিছুক্ষণ দেখে বলল, এটা মনে হয় রেলস্টেশন।

এক ভদ্রমহিলা ভীষণ রেগেমেগে খেলনার দোকানে ঢুকলেন। সঙ্গে নিয়ে আসা খেলনাটা ফেরত দিয়ে বললেন, আমার টাকা ফেরত দিন! নিয়ে যান এই খেলনা।
বিক্রেতা বললেন, কেন, কী হয়েছে? এটা তো খুবই ভালো খেলনা।
ভদ্রমহিলা বললেন, এটা ভাঙে না কিন্তু এই খেলনা দিয়ে বাড়ি দিয়ে আমার ছেলে বাড়ির অন্য সব খেলনা ভেঙে ফেলেছে।

এক হকার পেপার বিক্রি করতে গিয়ে খুব সমস্যায় পড়ল। কেউই কিনছে না। সে পেপার খুলে দেখল, আজ বারাক ওবামার কোনো খবরই ছাপা হয়নি। সে সঙ্গে সঙ্গে চিত্কার
করে পেপার বিক্রি শুরু করল, ওবামার কোনো খবর নাই, ওবামার কোনো খবর নাই।
সঙ্গে সঙ্গে তার সব পেপার বিক্রি হয়ে গেল।

নবদম্পতির বাচ্চা হয়েছে। ফুটফুটে নিখুঁত বাচ্চা। কিন্তু একটাই দোষ। বাচ্চা কোনো কথা বলে না। বারো বছর পর খাওয়ার টেবিলে বাচ্চা প্রথম কথা বলল, ‘আমাকে একটু চিনি দাও।
মা-বাবা অবাক, কী ব্যাপার, তুমি এত দিন কোনো কথা বলোনি কেন?
ছেলে বলল, এত দিন পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। আজ চায়ে চিনি কম হয়েছে।

কুকুর ইংরেজি কী? ডগ।
ডগ কীভাবে ডাকে? ঘেউ ঘেউ।
বিড়াল ইংরেজি কী? ক্যাট।
ক্যাট কীভাবে ডাকে? মিউ মিউ।
ইঁদুর ইংরেজি কী? মাউস।
মাউস কীভাবে ডাকে? ক্লিক ক্লিক।
সংগ্রহে: রিসাদ মেলান


যারা জোকস বলেন বা লেখেন সবই সংগৃহীত। এখানে কিছু জোকস আছে। সবগুলোই প্রথম আলোর রস আলো থেকে সংগৃহীত। আশা করি সূত্র দেখেছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29104507 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29104507 2010-02-24 12:28:25
নারী এক উভয় সংকট .
.
.
.

ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29100220 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29100220 2010-02-18 10:42:48
পুরাতন মডেলের কিছু গাড়ীর ছবি
১৪ স্পিড হান্টার


ইয়োলো ফোর্ড মডেল- ১৯৩২

মডেল ১৯৩৫

মডেল ১৯৩২


১৯৩৫ মডেল

ফোর্ড পি ইউ ১৯৩৪

ফোর্ড ইয়োলো ব্রাইট সি জি আর
ফোর্ড ১৯৩৪

পোর্ড পেট্রো সি জি আর ১৯৩২


ফোর্ড ব্রাইট ১৯৩২
পিক আপ ১৯৩০ মডেল
২০০৮ ফোর্ড মডেল


মডেল-১৯৩৭


মডেল-১৯৩৪



পুরাতন মডেলের কিছু গাড়ীর ছবি দিলাম। ইন্টারনেট থেকে কালেক্টিত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29099725 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29099725 2010-02-17 15:36:52
তারকা বিবাহ
শাকিব খান
একটা ভালো মেয়ে খুঁজে দিন তো! আজকেই বিয়ে করে ফেলি। (হেসে) নারে ভাই! মজা করলাম। বিয়ে করার সময় কই? আমি তো বিয়ে করতেই চাই। কিন্তু কোন মেয়েটা আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে, বলেন? বউকে সময় দেওয়ার সময় আমার কোথায়?

আমার সব সময় যে প্রযোজকরা নগদ টাকা দিয়ে অগ্রিম কিনে নিয়েছেন! এত কিছু জেনেও যদি কেউ রাজি থাকেন আমাকে বিয়ে করার জন্য, তাঁকে বিনীতভাবে দুঃখিত হয়ে বলব, আমি বিয়ে করতে পারব না। কারণ, আমি তো চাইব আমার বউকে সারাদিন সময় দিতে।

তাঁকে নিয়ে শপিংয়ে যেতে, হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে, ঝগড়া করতে। কোনোভাবেই কি এখন আমার পক্ষে এগুলো করা সম্ভব? তাই আমি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। সময়ই নির্ধারণ করবে আমার বিয়ে করার সময়। কেমন মেয়ে পছন্দ? আগাগোড়া বাঙালি মেয়ে আমার পছন্দ।

আন্তরিকতা থাকতে হবে তাঁর মধ্যে। যাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘর-সংসার করা যাবে। ভালোবাসার ক্ষমতা এবং আমাকে শাসন করতে জানে এমন মেয়েকেই আমার ঘরনি করব। মধুচন্দ্রিমা নিয়ে এখনো ভাবিনি। শুটিংয়ের জন্য তো অনেক দেশেই গিয়েছি।

এমন একটা দেশে যাব যেখানে আগে কখনো যাইনি। সম্পূর্ণ নতুন একটা পরিবেশ থাকবে সেখানে। যেখানে আমাকে কেউ চিনবে না- এমন একটা দেশ আগে বাছাই করব। তারপর সে দেশের রাস্তায় হাত ধরাধরি করে দুজন হারিয়ে যাব অজানায়।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
এর আগেও অসংখ্যবার আমার বিয়ের পাত্রী নিয়ে কথা বলেছি। পাত্রী কেমন হবে, নাম কি তা আকার-ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ইচ্ছে ছিল গত বছরই বিয়ে করি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই ভাবি এ বছরই বিয়ে সেরে ফেলব কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠে না। তাই এখন আর বলতে চাচ্ছি না কোন সালে বিয়ে করব। যখন সব চূড়ান্ত হবে আমার সারাদেশের ভাই-ব্রাদারদের জানিয়েই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলব।

অপু বিশ্বাস
বিয়ে করব না কেন? অবশ্যই করব। তবে কবে করব, এই ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি দিতে পারছি না (হা হা হা!)। পছন্দের কেউ তো নেই এই মুহূর্তে। থাকলে অবশ্য লুকাতাম না। কেমন ছেলে পছন্দ? উম্... ভালো ছেলে! শুধু ভালো ছেলে হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে তাঁকে।

আর যেটা সবচেয়ে বেশি চাই সেটা হলো, আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো আপস চলবে না। আমাকে অবশ্যই বুঝতে হবে তাঁর। আমার ভালো লাগা, মন্দ লাগাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর আমি যখন কাউকে ভালোবাসব, সবকিছু উজাড় করে দিয়েই ভালোবাসব।

ভালোবাসার মানুষটিকে খুব ধনী হতে হবে, এমন কোনো শর্ত আমার নেই। দুজন মিলে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারলেই হলো। হানিমুনের ব্যাপারটা তো আর আমার নিজের একার না, আমাদের। দুজন মিলেই সিদ্ধান্তটা নেব, কোথায় যাওয়া যায়। আর হ্যাঁ, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আমার খুব পছন্দ।

পরিবারের সবাই থাকবে, অনেক মজা হবে। চোরের মতো পালিয়ে বিয়ে করার মধ্যে কোনো মাহাত্দ্য নেই। আমার বাবা-মা আমাকে স্বাধীনতা দিয়ে বড় করেছেন। বিয়ের ব্যাপারেও আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন তাঁরা। আমি তাঁদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করতে চাই না।

ভালোবাসা দিবসকে আমি আলাদা করে দেখতে চাই না। আর ভালোবাসা বলতে আমি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসাই বুঝি না। ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন থাকার দরকার আছে বলেও মনে করি না। সব দিনই ভালোবাসার।

সুমাইয়া শিমু
বাড়ি থেকে পাত্রের খোঁজ করা হচ্ছে। হয়তো খুব শিগগিরই বিয়ে করব। নিজের বিয়ে সম্পর্কে এভাবেই বললেন অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। বিয়ে নিয়ে সব মেয়েরই একটা পরিকল্পনা থাকে, তেমনি শিমুরও আছে। তবে আগে থেকে সেসব বলতে চান না তিনি।

অনেক ধুমধাম করে সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছা তাঁর। আনুষ্ঠানিকতার কোনো কমতি রাখা হবে না। এমনই প্ল্যান তাঁর। কারণ বাঙালি মেয়ের বিয়ে একবারই হয়। তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে তখনকার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর। কেমন ছেলে আপনার পছন্দ? অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। দর্শনদারিত্বও থাকতে হবে। পাত্রের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ভালো হতে হবে।

অপূর্ব
বিয়ে জিনিসটা একেবারেই ভাগ্যের ব্যাপার। আর ভাগ্যের ওপর কারও হাত নেই। কখন, কার সঙ্গে বিয়ে হবে তা কেউ বলতে পারে না। আমার বেলাতেও তাই। সত্যি বলতে, আমি ছোটবেলা থেকেই প্ল্যানিং করে কিছু করি না। শুধু ভাবি, যা হওয়ার ভালোই হবে।

তবে সবারই বিয়ের পাত্রী বাছাই নিয়ে নিজস্ব ভাবনা, পছন্দ থাকে। এক্ষেত্রে আমার ব্যাপারটা একেবারেই অন্যরকম। প্রথমেই বলব, একটা লক্ষ্মী বউ চাই আমি। যার সঙ্গে জীবনের সব সুখ-দুঃখ শেয়ার করা যাবে। যে আমাকে সবসময় কেয়ার নেবে। আমার ছোট ছোট ভালোলাগার মুহূর্তগুলো খেয়াল করবে।

আপন রাজ্যে যত প্রকার ঝামেলাতেই থাকি না কেন তার সামনে আসতেই যেন সব ভুলে যেতে পারি। এক্ষেত্রে চেহারা কোনো মুখ্য ব্যাপার নয়। বিয়ের ব্যাপারে ফ্যামিলি যে সিদ্ধান্ত নেবে তা-ই মেনে নেব আমি। তবে আমার ভালোলাগার বিষয়ে বাবা-মাকে অবশ্যই জানাব। আশা করি, তাঁরাও আমার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেবেন।

তিশা
বিয়ের পাত্র নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না। পাত্র দেখতে সুন্দর হতে হবে, খাটো হলে চলবে না, লম্বা হতে হবে- এ ধরনের কোনো চাহিদা নেই আমার। সত্যিকারের একজনকে আমি পাত্র হিসেবে চাই। যে কিনা সত্যিকার অর্থেই ভালো মনের মানুষ। বিয়েটা কোন বছর করব তাও এখনই বলতে পারছি না। কারণ জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে সব ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ ইনফু
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29097383 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29097383 2010-02-14 10:01:57
নক্ষত্র কথন
অবসরটা কাটাতে মাঝেমধ্যে তৌকীর-বিপাশা দম্পতি ছুটে যেতেন। এবার সেই বাংলো বদলে যাচ্ছে। দুজনে মিলে সেখানে তৈরি করছেন একটি কনভেনশন সেন্টার ও ১০টি কটেজ নিয়ে একটি রিসোর্ট। এখানে থাকবে একটি রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুল।

তৌকীর বললেন, আমরা ভালো মানের একটি রিসোর্ট ও কনভেনশন সেন্টার করতে যাচ্ছি। এটি বাণিজ্যিকভাবেই সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। এরই মধ্যে নকশাও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দ্রুত সেখানে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ শুরু করবেন।

বিপাশা বললেন, আসলে মানুষ খুব ভালোভাবে কোথাও গিয়ে দু-চার দিন থাকতে পারে, এমনই একটি স্থান আমাদের নক্ষত্র। যেখানে নাগরিক জীবনের কোনো কোলাহল নেই। নেই গাড়ির শব্দ। আছে শুধুই পাখির ডাক। আমরা পৃথিবীর অনেক দেশেই গিয়েছি এবং রিসোর্ট দেখেছি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই একটি ভালো রিসোর্ট ও কনভেনশন সেন্টার করতে যাচ্ছি। বিপাশা জানিয়েছেন, এখানে যে কটেজগুলো থাকবে তার প্রতিটির সঙ্গে একটি করে ছোট্ট রান্নাঘর থাকবে। সঙ্গে থাকবে রুম সার্ভিস। বিপাশা বললেন, আমরা এমনভাবেই নক্ষত্রকে সাজাতে যাচ্ছি, যা সবার কাছেই অনেক আকর্ষণীয় মনে হবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ ইনফু
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29095259 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29095259 2010-02-11 12:20:31
সুসংবাদ আমি আপনাদের প্রত্যাশা পূরন করেছি










সকল ব্লগারদের সাথে একটা সুসংবাদ শেয়ার করতে চাই, আমি ব্লগে সেইফ হয়েছিলাম মাত্র ৭ দিনের মাথায়। কিন্তু আমাকে এখন জেনারেল করা হয়েছে। সকলেই নিশ্চই এই সংবাদে খুব খুশী হয়েছেন? খুশি হবার মতই ঘটনা কারন আমি লারসালুর মত কোন জনপ্রিয় ব্লগার না আমি হলফ করে বলতে পারি এই ব্লগে এমন কোন ব্লগার নেই যে কিনা আমার জেনারেল হওয়াতে কষ্ট পেয়েছে। কারন আমি এই ব্লগে আজ পর্যন্ত ভাল কোন লেখা উপহার দেইনি। সবই কপি পেষ্ট। কিন্তু কখনও কোন আক্রমনাতœক পোষ্ট দেইনি সেটা হলফ করে বলতে পারি। তবে কিছু ব্লগার আক্রমনাত্বক কমেন্ট করতে শুরু করে যার জবাবে আমিও পাল্টা জবাব দেই। ফলশ্র“তিতে আমার ব্লগ নিয়ে একটার পর একটা লেখা আসতে খাকে । ব্লগারএে উৎসাহ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।

সবশেষে একটা সত্যি কথা শেয়ার করি, আমি নিজেও কিন্তু আমার জেনারেল হওয়া নিয়ে খুব উচ্ছস্বিত। আমার কোন আফসুস নাই , এই অল্প সময়ে যে পরিমান কমেন্ট ও আমার নিক নিয়ে যে পরিমান লেখা ব্লগে এসেছে তা ব্লগ ইতিহাসে খুব বিরল। বিখ্যাত না হতে পারি কুখ্যাত তো হয়েছি, সেটাই বা কয়জনে পারে,, হা হা হা হা ।

বিদ্রঃ আশা করছি এখন থেকে ভাল হয়ে যাব, আর দুষ্টুমি করব না। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29092892 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29092892 2010-02-07 16:50:01
কলম্বাস যদি বিবাহিত হতেন,
কারণ তাকে আগে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হতো:

0১. তুমি কোথায় যাচ্ছ?

0২. কার সাথে যাচ্ছ?

0৩. কেন যাচ্ছ?

0৪. কিভাবে যাচ্ছ?

0৫. কী আবিষ্কার করতে যাচ্ছ?

0৬. এত লোক থাকতে তোমাকে কেন যেতে হবে?

0৭. তুমি যখন এখানে থাকবে না, আমি কিভাবে থাকব?

0৮. আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?

0৯. তুমি ফিরবে কখন তাই বলো।

১০. রাতে বাসায় ফিরে খাবে তো?

১১. আমার জন্য কী আনবে বলো?

১২. তুমি আমাকে ছাড়া একা একা নিশ্চয় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা করেছ।

১৩. পরবর্তীতে তুমি এরকম প্রোগ্রাম আরো করতে যাচ্ছ...

১৪. উত্তর দাও না কেন?

১৫. আমি আমার বাপের বাড়ি চললাম।

১৬. তুমি আমাকে আগে সেখানে পৌঁছে দাও।

১৭. আমি আর কোন দিন ফিরে আসব না।

১৮. আচ্ছা? আচ্ছা বলতে তুমি কী বুঝাতে চাচ্ছ?

১৯. তুমি আমাকে ঠেকাচ্ছও না... কেন?

২০. আমি বুঝতে পারছি না, এই আবিষ্কারটা আসলে কিসের আবিষ্কার।

২১. তুমি সব সময় এরকম কর।

২২. গতবারও তুমি একই কাজ করেছিলে।

২৩. এখন থেকে তুমি এ ধরনের ছন্নছাড়া কাজ করতেই থাকবে।

২৪. আমি এখনও বুঝতে পারছি না, এখনও এমন কি আছে যে, আবিষ্কার করা হয়নি।




এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হলোঃ

গুণীজনরা বলেন পুরুষ মানুষ হচ্ছে দুই প্রকার:-

১. জীবিত ? এবং ২. বিবাহিত !!!!

সূত্রঃ মেইল থেকে পেয়েছি

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29090543 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29090543 2010-02-03 11:35:13
তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করবেন আদনান সামি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আদনান সামি ও হবু স্ত্রী রয়ার পরিবারের সদস্যরা শিগগির উড়াল দিচ্ছেন মিউনিখের পথে। মুম্বাইভিত্তিক পাকিস্তানি গায়ক আদনানের মতে, রয়া ছিলেন তাঁর দুঃসময়ের বন্ধু।
এদিকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সাবাহ সম্পর্কে আদনানের মন্তব্য, সাবাহর সঙ্গে কোনোকালেই সত্যিকার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না তাঁর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085917 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085917 2010-01-26 11:05:30
ঠান্ডা গোশত (অনুবাদঃ মূল গল্প) ইশের সিং ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই তড়াক করে বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে উঠল কালবন্ত কাউর। তীক্ষ্ণ চোখে তাকে একবার দেখে দরজায় খিল এঁটে দিল সে। সময় মাঝরাত পেরিয়ে গেছে, সারা শহরে নেমে এসেছে এক অদ্ভুত নীরবতা।

কালবন্ত কাউর বিছানার ওপর যোগাসনের মতো হাঁটু গেড়ে বসে। ভেতরে ভেতরে ভয়ে একশা ইশের সিং হাতে কৃপাণ নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে। কোনো কথাবার্তা ছাড়া নিঃশব্দে কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল।

এই সুমসাম নীরবতায় বিরক্ত হয়ে কালবন্ত বিছানার একধারে তার পা দুখানি নাচানো শুরু করে।
তারপরও ইশের সিং টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করে না।

কালবন্ত দেখতে বড়সড়, তার নিতম্ব প্রশস্ত, বক্ষ পিনোন্নত, চোখ জোড়া তীক্ষ্ণ, আর কিঞ্চিত্ ছাইরঙা ঠোঁট দুটি কামরসে টসটস। তার চিবুক দেখেই ঠাহর করা যায় এ মেয়ে জাঁহাবাজ।

মাথার পাগড়ি কিঞ্চিত্ আলগা করে ইশের সিং তখনো ঘরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে। হাতে যে ছুরিটা ধরা, সেটি থেকে থেকে কাঁপছিল। দেহের গড়ন দেখে বোঝা যায়, কালবন্ত কাউরের জন্য এমন এক শক্তপোক্ত পুরুষ মানুষই দরকার।

কালবন্তই প্রথমে নীরবতা ভঙ্গ করে, কিন্তু শুধু যে শব্দ দুটি সে উচ্চারণ করতে পারল তা হলো, ‘ইশের লক্ষ্মীসোনা’। ইশের কালবন্তের দিকে চোখ তুলে তাকাল, কিন্তু তার চোখের আগুন সহ্য করতে না পেরে চোখ সরিয়ে নিল।

‘ইশের,’ প্রায় চেঁচিয়ে ওঠে কালবন্ত, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নেয় সে। ‘এই কয় দিন ছিলে কোথায়?’

‘জানি না,’ নিজের শুকনো ঠোঁটের ওপর জিহ্বা একবার বুলিয়ে নিয়ে জবাব দেয় ইশের।

‘জানি না, এ আবার কেমন উত্তর?’ ক্রুদ্ধস্বরে কালবন্ত জিজ্ঞেস করে।

হাতে ধরা কৃপাণখানা মাটিতে ফেলে বিছানায় এলিয়ে পড়ে ইশের। দেখে মনে হয় অনেক দিন ধরে সে যেন অসুস্থ। তার দিকে তাকিয়ে কালবন্তের করুণা হলো।

‘সোনা, কী হয়েছে?’ ইশের সিংয়ের কপালে হাত ছুঁয়ে আবেগঘন স্বরে প্রশ্ন করে কালবন্ত।

ইশের এতক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। এবার কালবন্তের দিকে তাকিয়ে নরম করে তার মুখের ওপর হাত বুলাল, বলল, ‘কালবন্ত’। তার গলার স্বরে ছিল প্রবল বেদনার সুর।

শক্ত করে জাপটে ধরে ইশেরের ঠোঁট কামড়ে ধরে কালবন্ত, ‘কী, সোনা, কী হয়েছে?’

মাথার পাগড়ি খুলে কালবন্তের দিকে খুব অসহায়ভাবে তাকায় ইশের সিং।


তার প্রশস্ত নিতম্বে মৃদু আঘাত করে স্বগতোক্তি করে, ‘আস্ত পাগলি’!

মাথা ঝাড়া দিতেই ইশেরের ঝাঁকড়া চুল বেরিয়ে পড়ে। কালবন্ত তার সে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করে, ‘সোনা, এই কয় দিন ছিলে কোথায়?’

‘দাদিমার বাড়ি,’ কালবন্তের স্তন দুই হাতের মুঠোয় ঘষতে ঘষতে জবাব দেয় ইশের। ‘ধর্মগুরুর কসম, তোর মতো মেয়ে মানুষ আমি জীবনে দেখিনি।’ আহ্লাদির মতো ঝটকা টানে ইশেরের হাত সরিয়ে কালবন্ত জিজ্ঞেস করে, ‘তার আগে আমার গা ছুঁয়ে বলো, তুমি ছিলে কোথায়।

কী, শহরে গিয়েছিলে, ঠিক না?’

‘না,’ নিজের চুলে গিঁট দিতে দিতে বলে ইশের।

‘মিথ্যুক, তুমি শহরে গিয়েছিলে, সেখানে লুটপাট করে টাকা-পয়সা এনেছিলে, আর এখন মিছে কথা বলছ,’ বিরক্ত হয়ে বলে কালবন্ত।

‘এ কথা যদি মিথ্যা হয়, তো আমি নিজের বাপের সন্তান না, আমি জারজ।’

কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকে কালবন্ত, তারপর চেঁচিয়ে ওঠে, ‘কিন্তু সে রাতে তোমার হলো কী, আমি তো কিছুতেই বুঝতে পারছি না। আমার সঙ্গে বেশ তো শুয়েছিলে, বললে লুট করে আনা সব গয়না গায়ে দিয়ে সাজতে। কত চুমুটুমু খেলে। তারপর কী হলো কে জানে, হঠাত্ উঠে জামা-কাপড় পরে তুমি বাইরে চলে গেলে।’

সে কথা বলা মাত্রই ইশের সিং যেন কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেল। তা দেখে কালাবন্ত বলে ওঠে, ‘কী, চমকালে কেন? ধর্মগুরুর কসম, একটা কিছু গড়বড় নিশ্চয় হয়েছে।’

‘কসম, কিছু হয়নি, কোনো গড়বড় না।’ প্রাণহীন শুকনো গলায় বলে ইশের।
কালবন্তের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। প্রতিটি শব্দ মেপে মেপে সে বলে, ‘ইশের, হয়েছেটা কী তোমার? আট দিন আগের সে মানুষ তো তুমি নও।’

কেউ যেন তাকে আঘাত করেছে, এমনভাবে তড়াক করে উঠে পড়ে ইশের। কালবন্তকে শক্তভাবে ধরে, তার সারা শরীরের ওপর হাত বোলাতে বোলাতে বলে, ‘আরে না, আমি সেই আগের মতোই আছি। তোকে আমি এমন আছড়ে-পাছড়ে ধরব যে তোর হাড়মাস সব গরম হয়ে উঠবে।’

কোনো বাধা দেয় না কালবন্ত, কিন্তু ফের সেই কথাই তোলে, ‘সে রাতে তোমার হয়েছিল কী?’

‘দাদিমার জ্বর এসেছিল।’
‘আবার মিথ্যা কথা?’
‘আরে না, ঠিক ঠিক বলছি।’
‘মিথ্যা বলো তো আমার এই শরীরের কসম।’

হাত দিয়ে কালবন্তের ঘাড় পেঁচিয়ে ধরে ইশের, তারপর খুব শক্তভাবে চুমু খায় তার ঠোঁটে। ইশেরের গোঁফের চুল কালবন্তের নাকে ঢুকে গেলে সে হাঁচি দিয়ে ওঠে। তাতে দুজনেই হেসে ওঠে।
গা থেকে জ্যাকেট খুলে রাখে ইশের।

কালবন্তের দিকে লোলুপ চোখে তাকিয়ে বলে, ‘আয়, তাস খেলা যাক।’

কালবন্তের ঠোঁট ভিজে ওঠে। চোখ পাকিয়ে বলে, ‘ভাগ হারামি’!

কালবন্তের নিতম্বে চিমটি কাটে ইশের। সরে বসে বিষণ্ন গলায় কালবন্ত বলে, ‘আহ্, লাগে।’

ইশের আরও কাছে এসে কালবন্তের ঠোঁটে ঠোঁট ভিজায়, খুট করে কামড় বসায়। যেন আগুনের নিচে মোমবাতি, এভাবে গলে পড়ে কালবন্ত। গায়ের জামা ছুড়ে ফেলে দিয়ে ইশের বলে, ‘আয়, তাস বাটা যাক।’

কালবন্তের ঠোঁট থরথর করে কেঁপে ওঠে। ইশের এক এক করে তার গায়ের পোশাক খুলে নামায়, যেমন কসাই বকরি জবাইয়ের পর তার গা থেকে কেটে কেটে চামড়া খুলে নেয়।

কালবন্তের উলঙ্গ দেহের দিকে নির্লজ্জের মতো তাকায় ইশের, তার হাতে খামচি দিয়ে বলে, ‘গুরুর নামে কসম খেয়ে বলছি, তোর মতো মাল আর হয় না।’

খামচির ফলে বাহুতে লালচে দাগ ধরে যায় কালবন্তের, সে দিকে তাকিয়ে সে বলে, ‘তুমি, তুমি বড় নিষ্ঠুর’।

তার ঘন, কাল গোঁফের নিচে মুচকি হাসে ইশের, বলে, ‘এবার তাহলে নিষ্ঠুর খেল শুরু হোক।’

নিষ্ঠুর খেলা শুরু হয় কালবন্তের ঠোঁটে চুমু খেয়ে, তার কানের লতিতে কামড় বসিয়ে। কালবন্তের স্তন ঘষতে থাকে ইশের, তার নিতম্ব খুবলে লাল করে ফেলে, দুই গাল চুমোয় ভরিয়ে দেয়, তার স্তনের বোঁটা ভিজিয়ে তোলে। কালবন্তের মনে হয় সে যেন গনগনে চুলোর ওপর বসানো হাঁড়ি।

কিন্তু তাবত্ প্রাক্-প্রণয় সত্ত্বেও ইশেরের শিশ্ন অনুত্থিত রয়ে যায়। পাকা মল্লযোদ্ধার মতো যত জারিজুরি আছে, সবই কাজে লাগায় সে, কিন্তু কিছুতে কিছু হয় না। কালবন্ত তখন পুরোপুরি প্রস্তুত, ইশেরের এইসব জারিজুরি তার মোটেই ভালো লাগে না।

‘ইশের, সোনা, হয়েছে, আর না। এবার তুরুপের তাস ফেল,’ অস্ফুট স্বরে বলে সে।

সে কথা শুনে ইশেরের হাতের সব তাস যেন তছনছ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কালবন্তকে যে হাতে জড়িয়ে ধরে ছিল, তার মুঠি শিথিল হয়ে আসে; হাঁফাতে হাঁফাতে এলিয়ে পড়ে কালবন্তের পাশে। তার কপালজুড়ে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম।

এরপরও ইশেরকে প্রস্তুত করতে কালবন্ত বিস্তর চেষ্টা চালায়, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

ক্ষিপ্ত কালবন্ত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, দেয়ালে পেরেকে ঝোলানো চাদর টেনে নিয়ে গা ঢাকে। রাগে তার নাক স্ফিত হয়ে এসেছে, খ্যাপাটে গলায় কালবন্ত বলে, ‘ইশের, কোনো মাগীর সঙ্গে এই কটা দিন কাটালে, বল যে এখন তুমি এমন শুকনো চিঁড়েচিপ্টে হয়ে গেছ?’

ইশের সিং বিছানায় শুয়ে হাঁফায়, কোনো কথা বলে না।

‘কী, বেশ্যা মাগীটা কে, কথা বলছ না কেন?’ রাগে জ্বলে যাচ্ছিল কালবন্ত।
‘কেউ না, কেউ না, কালবন্ত।’ ইশেরের গলা শুনে মনে হয় সে ভীষণ ক্লান্ত।

পাছায় হাত রেখে মুখিয়ে ওঠে কালবন্ত, ‘বল, আমাকে সত্যি কথাটা বলতেই হবে। ধর্মগুরুর নামে কসম। কী, তোমার অন্য কোনো মাগী আছে?’

কিছু একটা বলার চেষ্টা করে ইশের, কিন্তু তাকে থামিয়ে দেয় কালবন্ত। ‘কসম খাওয়ার আগে একটা কথা মনে রেখো। আমিও নিহাল সিংয়ের বেটি। মিছে কথা বললে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলব। বল, এবার কসম খেয়ে বল, অন্য কোনো মেয়েলোক আছে কি নেই?’

বিষণ্নভাবে মাথা দোলায় ইশের, নেই, ইঙ্গিতে সে বলে।

একেবারে দক্ষযজ্ঞ বাধিয়ে বসে কালবন্ত। মাটি থেকে কৃপাণখানা তুলে নেয় সে, যেন কলার খোসা ছড়াচ্ছে, এভাবে তার ঢাকনা খোলে, তারপর শাঁ করে ইশেরের ঘাড়ে একটা পোঁচড় দেয়। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে। পাগলের মতো কৃপাণ চালাতে থাকে কালবন্ত, আর অজ্ঞাতনামা মেয়েটির নামে খিস্তি করতে থাকে।

‘আহ্, থাম কালবন্ত, থাম,’ দুর্বল স্বরে বলে ইশের সিং। সে গলার স্বর এমন বিষণ্ন যে থমকে পড়ে কালবন্ত। রক্ত ততক্ষণে ইশেরের নাকে-মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। কালবন্তের দিকে সে তাকায়, তার চোখে একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা ও প্রতিবাদ। ‘সোনা, তুই বড় বেহুঁশ হয়ে পড়েছিস। যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়।’

কালবন্তের ঈর্ষা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ‘কে মাগীটা? ও কি তোর মা লাগে?’

রক্ত ততক্ষণে ইশেরের মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। জিহ্বা দিয়ে চেটে নেয় সে রক্ত, সারা শরীর তার কেঁপে কেঁপে ওঠে।

‘ঐ, ঐ কৃপাণ দিয়ে ছয় ছয়টা মানুষ খুন করেছি আমি।’

‘বল, ঐ ছিনাল মাগীটা কে?’ কালবন্তের মাথায় তখন অন্য কোনো চিন্তা নেই, হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে সে।

ইশের সিংয়ের নিস্তেজ চোখ এক মুহূর্তের জন্য চিলিক দিয়ে ওঠে। ‘গুরুর দোহাই, ওকে গালমন্দ করিস না।’

চেঁচিয়ে ওঠে কালবন্ত, ‘কে, মাগীটা কে?’

‘বলছি, বলছি,’ ভাঙা ভাঙা গলায় মৃদুস্বরে বলে ইশের। ঘাড়ে হাত দিয়ে রক্ত স্পর্শ করে সে, মুখে মৃদু হাসি ধরে সে বলে, ‘পুরুষ মানুষ, কী অদ্ভুত জিনিস!’

‘যা বলার পষ্টাপষ্টি বল’, অধৈর্যের সাথে বলে কালবন্ত।

রক্তাক্ত গোঁফের নিচে দেঁতো হাসি দেয় ইশের। ‘বলছি, বলছি। তুই আমার গলায় ছুরি দিয়েছিস, তোকে এখন সব কথা বলতে হবে ধীরে ধীরে।’

পুরোনো কথা স্মরণ হওয়ায় ঠান্ডা ঘাম কপাল বেয়ে নামে ইশেরের। ‘কালবন্ত, জান আমার। বুঝতে পারছি না কোত্থেকে শুরু করি! শহরে দাঙ্গা শুরু হলে তাতে সবার মতো আমিও অংশ নিই। লুটের মাল আমি তোকে এনে দিয়েছি, কিন্তু সে সময় একটা কথা তোকে বলা হয়নি।’

ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে ইশের, কিন্তু সে দিকে নজর না দিয়ে কালবন্ত জিজ্ঞেস করে, ‘কী, কী কথা?’
গোঁফের ওপর জমে থাকা রক্তের ফোঁটার ওপর ফুঁ দিতে দিতে ইশের বলে, ‘যে বাড়িটায় আমি হামলা করি, সেখানে সব মিলিয়ে সাতজন মানুষ ছিল।

তার ছয়জনকে আমি খুন করি, ঐ কৃপাণ দিয়ে, যেটা দিয়ে তুই আমাকে পোঁচ দিয়েছিস। সে বাড়িতে এক সুন্দরী মেয়েমানুষ ছিল। মেয়েটাকে আমি নিজে তুলে আনি।’

গভীর আগ্রহে সব কথা শুনতে থাকে কালবন্ত। গোঁফের ওপর জমা রক্ত ফুঁ দিয়ে সরাতে আরেকবার চেষ্টা করে ইশের। ‘কালবন্ত, জানু, তোকে বলে বোঝাতে পারব না, কী সুন্দর ছিল মেয়েটা! ওকেও খুন করতাম, কিন্তু ওকে দেখে মনে মনে বললাম, ইশের সিং, তুই তো রোজ কালবন্ত কাউরের সাথে ঘুমোস। একবার না হয় আরেকটা ফল চেখে দেখ।’

কালবন্ত শুধু অস্ফুট স্বরে বলে, ‘ওহ, আচ্ছা।’

‘মেয়েটাকে ঘাড়ে তুলে নিয়ে আমি বেরিয়ে আসি। যাবার সময়...হ্যাঁ, কী যেন বলছিলাম, ও হ্যাঁ, তারপর নদীর ধারে একটা ঝোপের কাছে নিয়ে ওকে নামালাম। ভাবলাম, দেরি না করে তক্ষুনি তাস বাটি। কিন্তু পর ভাবলাম, না থাক...।’ ইশেরের গলা একদম শুকিয়ে কাঠ।

‘তারপর কী?’ ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করে কালবন্ত।

‘তারপর তুরুপের তাস চাললাম, কিন্তু... কিন্তু...’ ইশেরের গলা ততক্ষণে একদম মিইয়ে এসেছে।
‘কিন্তু কী?’ ইশেরকে ঝাঁকি দিয়ে বলে কালবন্ত।

ইশের সিং তার ক্লান্ত, ঘুমকাতুরে চোখ দুটি খুলে তাকায়, কালবন্তের সারা শরীর তখন কেঁপে কেঁপে উঠছে।

‘মেয়েটা ছিল মরা। একটা মরা মেয়ে মানুষের লাশ...একদম ঠান্ডা গোশত। আমার হাতটা একটু ধর, কালবন্ত।’

কালবন্ত কাউর নিজের হাত রাখে ইশেরের হাতের ওপর। বরফের চেয়েও ঠান্ডা সে হাত।
















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085279 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085279 2010-01-25 11:14:24
গল্প: ‘ঠান্ডা গোশত’ (অনুবাদ)
ষাট বছর আগে, মার্চ ১৯৪৯ সালে, সাদাত হাসান মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ গল্পটি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়। ছাপা হওয়ার পরপরই গল্প ‘অশ্লীল’ এই অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং মান্টোকে অপরাধীর কাঠগড়ায় তোলা হয়।

দেশ বিভাগের সময় দাঙ্গার ওপর লেখা এই গল্পটি মান্টোর আরও অনেক গল্পের মতোই, প্রবল দাঙ্গাবিরোধী। আমাদের বিবেকের ওপর কশে চাবুক দেয় সে।

খোলামেলা ভাষায় শরীরী সম্পর্কের বিবরণ থাকায় পাকিস্তানের রক্ষণশীল মহলের পক্ষে এ গল্প হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালে মুম্বাই থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাকিস্তানে চলে আসার পর লাহোরে বসে এই গল্পটি তিনি লেখেন। পাকিস্তানে সেটিই ছিল তাঁর রচিত প্রথম গল্প।

বন্ধু আহমেদ নাদিম কাসমির অনুরোধে তাঁর মাসিক পত্রিকা নাকুশ-এর জন্য গল্পটি লেখা, কিন্তু সে গল্প পড়ে কাসমি এককথায় তা নাকচ করে দেন। ‘এ গল্প বড় উত্তেজনক’—এই ছিল তাঁর যুক্তি। এই গল্প এরপর আরও চার-পাঁচ হাত ঘুরে আসে, কেউই তা ছাপাতে সাহস পান না বলে জানালেন।

অবশেষে পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আরিফ আবদুল মতিন তাঁর সদ্য প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা জাভেদ-এর এক বিশেষ সংখ্যায় গল্পটি ছেপে দেন। সম্ভবত কর্তাদের কারও চোখে পড়েনি, এক মাস পরও এ নিয়ে কোনো মহলে চেঁচামেচি নেই দেখে মান্টো ধরে নিয়েছিলেন, ফাড়া বোধহয় কেটে গেছে।

আর ঠিক তখনই তথ্য দপ্তরের নির্দেশে জাভেদ-এর অফিসে পুলিশ এসে হানা দিয়ে সে পত্রিকা অফিস বন্ধ করে দেয় ও পত্রিকার সব কপি বাজেয়াপ্ত করে। প্রথমে প্রেস অ্যাডভাইজরি বোর্ডে এ নিয়ে মামলা উঠল। সে বোর্ডের প্রধান ছিলেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ।

তিনি বললেন, এই গল্প মোটেই অশ্লীল নয়, তবে কোথাও কোথাও আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার আছে, যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। কিন্তু বোর্ডের একাধিক সদস্য বললেন, এমন অশ্লীল গল্প পাকিস্তানে কোনো পত্রিকায় ছাপা হবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় বিষয়টি পাঠানো হয় এক নিম্ন আদালতে। একই সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় সে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং মান্টোর বিরুদ্ধে। আগাম জামিন নেওয়ার ফলে তাঁদের অবশ্য জেলে ঢুকতে হয়নি।

নিম্ন আদালতে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর (যার বিবরণ তাঁর স্বভাবসুলভ পরিহাসময়তায় মান্টো নিজেই দিয়ে গেছেন) লেখক এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক দোষী সাব্যস্ত হলেন। অশ্লীল গল্প লেখার অপরাধে শাস্তি হিসেবে মান্টোর জন্য নির্ধারিত হলো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০ রুপি জরিমানা।

সে রায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আপিল করা হলো। নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে আগাম জামিন পেলেন মান্টো ও সহযোগীরা। এরপর সে মামলা উঠল সেশন জজের আদালতে। পরপর তিনজন বিচারক একের পর এক নানা অজুহাতে মান্টোর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানালেন।

অবশেষে মামলা উঠল অতিরিক্ত সেশন জজ এনায়েতুল্লাহ খানের আদালতে। অতি-ধার্মিক বলে পরিচিত এই সেশন জজের হাতে ন্যায়বিচার পাবেন এমন কোনো আশা মান্টো করেননি।

বিচারক নিজেও মান্টোকে বললেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে রায় দিলে যত দোষ পড়বে আমার চাপদাড়ির ওপর।’ বিস্তর নয়-ছয় করার পর সে বিচারক যে রায় দিলেন, তাতে মান্টো ও বাকি দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, যে জরিমানা তাঁরা আগে দিয়েছিলেন, তাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। মান্টো স্মরণ করেছেন, এই রায় বেরোনোর দিন কয়েক পর কোহাট থেকে প্রশিক্ষণরত এক ক্যাডেটের কাছ থেকে পাওয়া এক পত্রে তিনি জানতে পারেন, চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন নামে যে ভদ্রলোক তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা ঠুকেছিলেন, কিছুদিন হলো তিনি মারা গেছেন।

সে কথা শুনে মান্টো মন্তব্য করেছিলেন, মৃত লোকের বিরুদ্ধে কথা বলতে নেই, কিন্তু পাকিস্তানে তো উন্মাদের অভাব নেই। তাদের কেউ যদি ফের এ নিয়ে মামলা ঠুকে, তো তাকে বলব: ‘হে বন্ধু, তোমার দীর্ঘ জীবন কামনা করি, (যাতে প্রেমাস্পদের ঘাড়ে) ছুরি চালানোর মতো সময় ও সুযোগ তোমার থাকে।’ (সার-ই-দস্তাঁ সালামাত, কেহ তু খাঞ্জর আজমায়ি।)

এখানে ‘ঠান্ডা গোশত’ গল্পের যে বাংলা ভাষান্তর মুদ্রিত হলো, তা খালিদ হাসানের করা ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে রচিত।

সূত্রঃ প্রথম অালো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085277 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085277 2010-01-25 11:10:22
মিডিয়া গছিপঃ গুঞ্জনের কবলে তিন্নি হিল্লোল মাঝখানে বছর দুই নির্ঝঞ্ঝাট জীবন পার করে ফের গুঞ্জনের কবলে পড়েছেন ছোটপর্দার প্রিয়মুখ তথা প্রেমিক-দাম্পত্য জুটি তিন্নি-হিল্লোল। নতুন বছরের শুরু থেকে মিডিয়ার এ কান হয়ে ও কান পর্যন্ত ফিসফাসফিস করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ দম্পতির বিচ্ছেদের খবর। গুঞ্জনে উঠে এসেছে, দুজনার মতের অমিল, ব্যক্তিগত জীবনে একে অপরের প্রতি সন্দেহ, বাচ্চা হওয়ার এক বছরের মাথায় তিন্নি আবার ফিরে গিয়েছেন বিয়ের আগের চনমনে চলনে, শান্ত হিল্লোল কোনোভাবেই বশ করতে পারছেন না চঞ্চলা স্ত্রীকে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন নির্মাতা আর কুশলীর পৰ থেকে তিন্নির প্রতি নতুন করে পুরনো অভিযোগের আঙুল উঠছে সিডিউল ঘাপলার বিষয়টি নিয়ে, কেউ তিন্নিকে নতুন করে প্রেমে জড়াচ্ছেন একজন ব্যান্ড তারকার সঙ্গেও। তবে এর সবকিছু ছাপিয়ে তিন্নি যখন নাট্যাভিনয়ের পুরনো জমকালো অধ্যায়ের দিকে আবারও এগিয়ে যাচ্ছেন ক্রমশ, ঠিক তখনই জোরালো হয়ে উঠছে তিন্নি-হিল্লোলের বিচ্ছেদের গুঞ্জনটি।

নাটকপাড়ার একাধিক সূত্র, যারা তিন্নি-হিল্লোলেরই কাছের মানুষ বলে অভিহিত, সেই তাদের অনেকে বলছেন, ওরা আর একসঙ্গে থাকছে না। এরই মধ্যে তিন্নির কাছে হিল্লোল পাঠিয়েছেন বিচ্ছেদপত্র। তাও মাসখানেক হবে। যা কার্যকর হতে সময় লাগবে আরও মাস দুই, যদি এর মধ্যে হিল্লোলের চাওয়া মতে তিন্নি ফিরে না আসে। এমন নানাবিধ শক্তিশালী গুঞ্জনের বিপরীতে অভিযুক্তদের যুক্তি অথবা এর বাস্তবতা নিরীক্ষার লক্ষে প্রথমে আলাপ হয় হিল্লোলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, এ খবর আমার কাছেও এসেছে, আমার কলিগদের মাধ্যমে কানে কানে। বড় বাস্তবতা হচ্ছে আজ (প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপের দিন) সকালেও আমি ওকে মানিকগঞ্জে অরুন দার (অরুন চৌধুরী) শুটিং স্পটে নামিয়ে এসেছি। ওই স্পটে অরুন দাসহ আরও অনেক শিল্পী আছেন। প্রয়োজনে তাদেরকেও ফোন করে জানতে পারেন। এর বাইরে আর কি বলবো! মৃদুভাষী আদনান হিল্লোল এর বেশি কিছু বললেন না। যেমনটি বলেননি বছর তিনেক আগে তিন্নিকে কেন্দ্র করে বিয়ের আগে ও পরের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়গুলোতে।

এর পরপরই তিন্নির সঙ্গে আলাপ। জানান, তিনি তখন অরুন চৌধুরীর নির্মাণ চলতি ধারাবাহিক লীলাবতীর শুটিংয়ে আছেন। স্থান মানিকগঞ্জ। সাম্প্রতিক দিনকালের আলাপ শেষে প্রসঙ্গ এলো বাজারে প্রচলিত গুঞ্জনের। এমন জিজ্ঞাসায় তিনি বললেন, হ্যাঁ, বেশ কদিন ধরে আমার কানেও বিষয়টি এসেছে। মজার বিষয় হচ্ছে আজ সকালেও হিল্লোল আমাকে শুটিং স্পটে লিফট দিয়ে গেছে। তবে প্রেসের পক্ষ থেকে এমন জিজ্ঞাসা এই প্রথম।

এতে আমি খুব একটা ক্ষুব্ধ কিংবা শঙ্কিত নই। কারণ, আমি জানি এসব কারা বলে বেড়াচ্ছে। দুএকজন নির্মাতা, যারা অতি সম্প্রতি আমার সিডিউল চেয়েও পাননি, তারা এ গুঞ্জনটি ছড়াচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে এন্টি তিন্নি গ্রুপ। যারা আমার ক্যারিয়ারের সুবর্ণ দিনগুলোতে প্রতিনিয়ত আমাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। তারাই আমার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

তিন্নির প্রতি প্রশ্ন ছিল মিডিয়ায় এত মানুষ থাকতে আপনার বিপরীতে বার বার কেন গুঞ্জন উঠবে? জবাবে তিন্নি বলেন, আমি আসলে জানি না। হয়তো আমার ঠোঁট কাটা স্বভাবের জন্যই অনেকে আমার ভালটা মেনে নিতে পারে না। আমি আবার আগের মতো জ্বলে উঠবো, এই ভেবে আমার শত্রুরা জেগে উঠছে আবার। বিশ্বাস করবেন না, আমি আগের চেয়ে অনেক শুকিয়েছি। ফিরে যাচ্ছি আগের গঠনে। নিয়মিত কাজ শুরু করেছি।

এটাই অনেকের চোখের কাঁটা হয়ে গেছে। আমাদের ঘরে একটা ফুটফুটে বাচ্চা আছে। আমরা নিজেদের মতো করে জীবন চালাচ্ছি। বাচ্চাটার একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার মধ্যে আছি। জানামতে আমরা কারো কোনো ক্ষতি করিনি। তবুও মানুষ আমার পেছনে লেগে কি মজা পায় সেটাই বুঝি না। তিন্নি আরও বলেন, সেপারেশন হলে সেটা ঢেকেতো লাভ নেই। এসব রাখঢাক আমার মধ্যে নেই।

তবে এন্টি-তিন্নী বাহিনীর এই প্রচার-প্রপাগান্ডা যদি সামনেও অব্যাহত থাকে, তাহলে আমিও তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। অবশ্য তার আগে তিন্নি নিজের ক্যারিয়ার পুনঃস্থাপন নিয়ে শতভাগ মন বসাতে চান। শত্রুদের মোকাবিলা করতে চান অভিনয় সফলতার মধ্য দিয়ে।


সূত্রঃ বাংলাদেশ ইনফু










]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29082993 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29082993 2010-01-21 15:39:00
নাসফিয়ার আত্মহত্যা সূত্র এইখানে 


বখাটে যুবকের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আরেকজন স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো। নারীর অবমাননা, তাদের উত্ত্যক্ত করা ও যৌন হয়রানি গুরুতর অপরাধ। কিন্তু এ সমাজে নারী প্রায় ক্ষেত্রেই বিচার-বঞ্চনার শিকার। তাই হয়তো অপমানিত স্কুলছাত্রী নাসফিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকার এক যুবক প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সে তাকে মারধর করলে নাসফিয়া মৃত্যুর পথ অবলম্বন করে। এ জন্য দায়ী সেই অভিযুক্ত যুবক। তাকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
নারীর ক্ষমতায়নের কথা সব সময় বলা হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে পথেঘাটে, এমনকি নিজ গৃহে নারী যৌন হয়রানির শিকার। কোনো সভ্য দেশে এ রকম চলতে পারে না। নারীর অবমাননার বিচার ও সমুচিত শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না বলেই এই অসহনীয় অবস্থা। আমাদের দেশে নারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা দেওয়া হয়। তথাকথিত সমাজপতিদের দৌরাত্ম্যে নির্যাতিত নারীকে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। নয়তো আত্মহত্যার পথে যেতে হয়।
অথচ নারীর যৌন হয়রানি রোধে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রদান করেন। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে পালনীয় কিছু দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। এর অন্যতম হলো যৌন হয়রানির শিকার কোনো নারীর তাঁর পরিচয় গোপন রেখেই অভিযোগ পেশ ও প্রতিকার দাবির সুব্যবস্থা করা। এ জন্য সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করবে, যার অধিকাংশ সদস্য হবেন নারী এবং সম্ভব হলে কমিটির প্রধান হবেন নারী। এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তব্য হলো, কমিটিগুলো গঠন এবং সেখানে সব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবিধান অনুযায়ী, এ বিষয়ে আইন প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনাই আইন হিসেবে গণ্য হবে। তাই এই নির্দেশনার ব্যাপক প্রচার ও সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। নির্দেশনায় যৌন হয়রানির বিশদ সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নারীর উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি, মুঠোফোনে উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বিশ্ব পরিসরে ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন কর্মজীবীদের অর্ধেক নারী। গবেষণাভিত্তিক এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে নারী কর্মজীবীদের সংখ্যা মোট কর্মজীবীদের অর্ধেকের বেশি হয়ে যাবে। আমাদের দেশেও এই ধারাই অনুসৃত হবে, তার লক্ষণ এখনই দৃশ্যমান। সংখ্যাগুরু অংশের অবমাননার ওপর কোনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ টিকে থাকতে পারে না। নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমাজের এই অসংগতির অবসান সম্ভব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29082770 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29082770 2010-01-21 10:22:07
ডাহুক (রিপোষ্ট)
ছুটির দিন এলেই মনটা ছটফট করে ওঠে। ঘরে মন বসে না। ইদানীং বন্দুক ছোঁড়া শিখেছি, পাখি-টাখি শিকারের শখ জাগছে। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিন এলেই হাতটা নিশপিশ করে। আমার বন্দুক নেই। যে বন্দুক নিয়ে শিকার শিখেছি সেটা আমার প্রিয় এক ছাত্রের। মফস্বল কলেজে শিক্ষকতা করি।

একেবারে অজ পাড়াগাঁ। ঊনসত্তর-সত্তর সালে মরসুমী ফুলের মত যেসব কলেজ গড়ে উঠেছে, তেমনি একটি কলেজে। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশ সম্মান-টম্মান পাই। যে সব ছেলে পড়াশুনোয় একটু ভোঁতা, এক-আধটু পার্টি করে, সুন্দর সুন্দর কাপড়-চোপড় পরে- তারা শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণত একটু বেশি খাতির করতে চায়।

তারা কলেজের মেয়েদের পেছনে ঘুর ঘুর করে, তারাই আবার পরীক্ষার আগে পড়ুয়ার মতো এক গাদা বই বগলদাবা করে শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষায় খুব দরকারি-অদরকারি প্রশ্নগুলো জেনে নিতে আসে, সারা বছরের দুর্বিনীত ভাবটা ঝেড়ে-পুছে গদগদ হয়ে পড়ে, যখন-তখন সেলাম ঠুকে বসে।

এরা সাধারণত সহজ-সরল হয়, কলেজের যে-কোনো কাজেও তারা সবার আগে থাকে। নাসির সে রকম ছাত্র নয়। ভালো পাস করার ছাত্র। বুদ্ধিসুদ্ধি আছে, কলেজ বার্ষিকীতে গল্প-কবিতা লেখে। ছাত্র হয়েও তাই নাসির আমার বন্ধুর মতো।

সবে দেশ স্বাধীন হয়েছে, বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ফিরেছি কলেজে। নাসির করেছে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ, আমি কলম হাতে শব্দসৈনিক। নাসির বন্দুকটা আমাকে ধার দেয়। এক ছুটির দিনে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কলেজ থেকে মাইল ছয়েক দূরে একটি বড় বিল আছে।

বিলের দিকে পা ছড়িয়ে আছে পাহাড়। পাহাড়ে আছে পেয়ারা ও লেবু বাগান, আনারসের ঝাড়।
বর্ষাকালে এসব ফল হয় প্রচুর, শীতের দিনে পাতা ঝরতে ঝরতে এলোমেলো দিশেহারা। বিলও শূন্য খাঁ খাঁ। পাহাড়ও রুখু ও ঝিমিয়ে পড়া গাছপালা নিয়ে অভাবগ্রস্তের মতো হামলাতে থাকে।

বেরিয়ে পড়লাম খুব ভোরে, আঁধার কাটার সময়। নাসির একটা এয়ার-গান নিয়েছে। বের হতে একটু দেরিই হয়ে গেল। তবু ছুটলাম। দেরি হওয়ার জন্য নাসিরও একটু মনমরা। তাকে উৎসাহ দিতে কথা শুরু কলাম। গ্রাম ছেড়ে বিলের কাছে যেতে যেতে সকাল হয়ে গেল।

বিলে পা দিতেই গুলির শব্দ শুনতে পেলাম, দুম ট্যা ট্যা ট্যা। কুয়াশার ঘন জাল ভেদ করে শব্দ বুকে এসে লাগল জ্যান্ত বুলেটের মতো, আরও একটা শব্দ হল। কান আপনাতেই খাড়া হয়ে গেল, বন্দুকের শব্দটা পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে খান খান, টুকরো টুকরোর মত ছড়িয়ে পড়ল, ওই শিশিরের মতো।

বুঝতে পারলাম আমাদের আগেই বিলের পুকুরে শিকারী পৌঁছে গিয়ে শিকারীর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিলের মাঝামাঝি জায়গায় যে দুটি পাড় বাঁধানো বড় বড় পুকুর আছে সেখানেই নানা ধরনের জলজ পাখিদের আড্ডা। খোঁড়ল হাঁস, কাঁচি চোরা, ভুতি হাঁস, সরাল আসে।

পানকৌড়ি, ডাহুক, বক তো আছেই। এক সময় বিলটিই ছিল আস্ত একটি জলাভূমি বা হাওর। নলখাগড়া আর হোগলার বন ছিল। ওগুলো নিজে নিজে জন্মাত, আপনা আপনি মরে যেত, আবার গজিয়ে উঠত ছায়াপথের তারাপুঞ্জের মতো।

এখন পুকুর দুটো আর মাঝখানের হোগলা বনে পাখিরা আসে। শীতেই আসে। বন্দুকের শব্দ শুনে নাসির বলল, স্যার আর আর শিকার করা হল না। তখনই আবার গুলির শব্দ, দুম ট্যা ট্যা ট্যা, দুম। ফাঁকা বিলটা গুলির শব্দে কানায় কানায় ভরে গেল। নিজের বুকটা হতাশায় ছ্যাঁচড়া ছ্যাঁচড়া হয়ে গেল।

গুলির শব্দ যত শুনি ভেতরটা তত দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে। মনে মনে নাসিরের ঘাড়ে দোষ চাপাই, নিজেকেও। সবচেয়ে বেশি শিকারীদের, তাদের উপর দোষ নয় গালমন্দ। কেন আরও আগে বের হলাম না, কেন নাসির দেরি করল, কেন শিকারীদের সুসময়ে ঘুম ভাঙ্গল।

শেষে ঠিক করলাম, কাজ নেই আর বিল পাড়ি দিয়ে। তারচেয়ে পাড়াগাঁর ভেতর দিয়ে যাই, যদি দু’-একটা হরিয়াল বা ঘুঘু মেলে। এদিকে রামঘুঘু আছে বলে শুনি। বিলের ধার দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। ধূ ধূ শূন্য বিল।

বিলের গায়ে লাগোয় পাড়া। মাঝে মাঝে পুকুরের উঁচু পাড়। পুকুরের পাশে, গ্রামের আশেপাশে শীতের ধান হয়েছে। বিলেও শুরু হয়েছে। গুণ গুণ করে গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে। গ্রামের মেয়ে-বৌয়েরা পুকুর ঘাটে, ওখানেও কুয়াশার একটা টুকরো চলে গেছে।

মেয়েদের বাসন-কোসন মাজা, পানি ব্যবহারের একটা ছন্দ আছে। কুয়াশার যেমন ছন্দ আছে, স্তরে স্তরে সে নিজেকে ছড়াতে জানে, কোথাও ঘন আবার পাশেই পাতলা আবরণ বিছিয়ে নিতে জানে।
মেজাজটা যে বিগড়ে আছে। সুন্দর পাড়া। উঁচু একটা টিলার উপর গ্রামের হাইস্কুল।

এই স্কুল থেকে পাস করে ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের কলেজে আসে। পাশের অন্য কলেজটি যায় না। স্কুলের আশেপাশে খুব একটা বাড়িঘর নেই। টিলার বড় বড় বৃষ্টিশিরীষ ও বটগাছগুলো কুয়াশায় চমৎকার ডালপালা মেলে আছে। কুকুরের রোঁয়া ফোলার মতো নতুন করে আরও ঘন কুয়াশা জমেছে।

মাঝে মাঝে পাহাড় থেকে কুয়াশাবাহিনী সকালের দিকে এভাবে লোকজনকে দেখিয়ে দেখিয়ে ছুটে আসে। মাঝে মাঝে এভাবে এসে নয়-দশটা অবধি আসর জমিয়ে রাখে। বোধহয় সেই কুয়াশাই তেড়ে আসছে। নাসির পুকুরটা ঘুরে এগিয়ে চলল। সে হয়তো ভাবছে দু’ একটা কানা বক পেলেও হয়।

কিংবা কণ্ঠীঘুঘু, ডাহুক। ঠিক তখনই ভিটের পাশে নাল জমিতে ডাহুকটা চোখে পড়ল। দেখার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাব অমন বোকা আমি নই। ডাহুক ভীষণ সতর্ক পাখি। আমি বরং ওকে না দেখার ভান করে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। সে বেঁটে-খাটো লেজটা গর্ব ভরে উঁচু করে ভিটের পাশে খাবার খুঁজছে।

লেজের নিচের লাল রংটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বার বার লেজ তোলা ও নামানো তার স্বভাব, চলতে চলতে বা খাবার খুঁজতে খুঁজতে সব সময়। মাত্র একশো গজখানেক দূরে। ওর সঙ্গে চোখাচোখি হওয়ার পরও সে পালিয়ে গেল না।

তবুও না দেখার ভান করে পুকরের পাড়ের কাছে একটা উঁচু আল নিয়ে বসে পড়লাম। নাসির ওদিকে কোথায় এক দলা কুয়াশার আড়ালে পড়ে গেছে। এতক্ষণ বৃষ্টিশিরীষ বা বটগাছে কোথায় যেন একটা ছিটঘুঘু ডাকছিল। পুকুরে আসা মেয়েদের কল কল শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

ডাহুকটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সব শব্দ তার পেছনে পড়ে গেল। বন্দুক তুলে তাক করলাম। তখন কেন যে সে ‘কোয়াক কোয়াক’ ডাক পাড়ল বুঝতে পারলাম না। অমনি আমার বন্দুক থেকে ছররার শব্দ হল, দুম ট্যা ট্যা ট্যা। হ্যাঁ, ঘায়েল হয়েছে। একবার লুফিয়েও উঠেছে। ছটফট করছে। উঠে দাঁড়ালাম।

সঙ্গে সঙ্গে জোড়ের পাখিটা ভিটের বেত ও বাসকপাতার ঝোপ থেকে বেরিয়ে এলো। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত জোড়ের পাখিটা পালিয়ে যায়। তা নয়, বন্দুকের গর্জন শুনে ডাহুকটা এভাবে বেরিয়ে আসবে ভাবতেও পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়লাম, ছররা ভরে ফের নিশানা ঠিক করলাম।

পাখিটা চুপচাপ লেজ নাচিয়ে এগিয়ে এল জখম হয়ে মরতে বসা সঙ্গীর কাছে। এসে ঠোঁট বুলিয়ে সোহাগ নাকি সান্ত্বনা জোগাল? ডাহুক এভাবে ভয়ডর হারিয়ে এগিয়ে আসবে, এরকম করবে আমার ধারণার বাইরে। পাখিবিষয়ক আমার জ্ঞানগম্যি ধুলোয় গড়াগড়ি।

তাই নিশেন ঠিক করেও চুপ করে রইলাম, দ্রুত সবকিছু আর একবার ভেবে নিলাম। এরি মধ্যে কখন যে নাসির পাশে চলে এল বলতে পারব না। টের পেতেই সে ফিস ফিস করে বলল, মারুন, মারুন, স্যার! আমার হাত কেঁপে উঠল, বুকে কেঁপে গেল।

আর আমাদের দেখেও পাখিটার ডরভয় নেই, আমাদের এত তুচ্ছ করল? কিসের জোরে? পাখিটা একবার আমাদের চোখ তুলে তাকাল। তাকাল নয়, যেন শাসিয়ে দিল। তারপর আবার মৃত্যু পথযাত্রী সঙ্গীর দিকে দেখল। ঠোঁট এগিয়ে দিল। সেই করুণ ও ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে পারব না আমি।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এসব ঘটে গেল। নাসির আবার চাপা গলায় বলল, স্যার, দেরি করছেন কেন? মারুন? প্রায় বকুনি দিয়ে থামতে বললাম ওকে। তারপর বন্দুক ফেলে সম্মোহিতের মতো ছুটলাম পাখি দুটোর দিকে।

ওদিকে যেতেই জোড়ের পাখি আহত সঙ্গীর দিকে ফিরে তাকাতে তাকাতে চলে গেল ভিটের নিরাপদ আড়ালে। তার মধ্যে ডাহুকের চঞ্চল স্বভাব নেই, ভয়ডরও সম্ভবত না। পোষা পাখির মতো আস্তে আস্তে ভিটের পাটিবেতের ঝাড়ে ঢুকে পড়ল।

ঝোপের ভেতর থেকে চিৎকার তুলে ডাকতে লাগল লাগাতার ‘কোয়াক কোয়াক কোয়াক’। সেই বুক দুমড়ানো সঙ্গী হারানোর বেদনার একটানা ডাক আর থামে না। কাছে গিয়ে দেখি পাখায় গুলি খাওয়া পাখিটা ধড়ফড় ছটফট করছে। সেই প্রথম পাখির মৃত্যু-যন্ত্রণা আমার বুকে বাজতে শুরু করল।

দাঁড়িয়ে রইলাম। নাসির আগেই ঝুঁকে পড়ে পাখিটা হাতে তুলে নিল। পাখিটা ফ্যাল ফ্যাল করে নাকি বিদ্বেষভরা চোখে রক্ত-লাল কনীনিকায় তাকাল। একটা ন্যাংটো বাচ্চা ছেলে এসে জুটল। গায়ে শাটের উপর গামছা জড়ানো। নাসির ছেলেটাকে বলল, ধর তো, জবেহ করি।

এরি মধ্যে আরও কয়েকটি বাচ্চা ছেলে এসে আমাদের ঘিরে ধরল। আমার চোখ চলে গেছে ভিটের ঝাড় থেকে আসা জোড়ের পাখির কাতর কান্নার দিকে, বাসকপাতার ঝোপের ভেতর থেকে বুক মোচড়ানো হাহাকারের প্রতি।

তাকিয়ে থাকতে থাকতে দেখি ডাহুকটাকে বুকে চেপে ঝোপ-ঝাড়ের ভেতরে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে। কী বিষন্ন, কী মলিন মেয়েটির দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে। শিকারীর প্রতি অপরিসীম ঘৃণা এবং বেদনা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ওর গায়ের কাপড় আধ ভেজা।

বোধহয় ভোরে উঠে স্নানের অভ্যেস আছে, বন্দুকের শব্দ শুনে অথবা ডাহুকের কান্না শুনে আলুথালু ছুটে এসেছে। ওর চোখের দিকে তাকাতেই অপরাধীর মতো চোখ নামিয়ে নিলাম। নাসির ডাক দিল, স্যার, চলুন। কাজ শেষ।

আমি আস্তে আস্তে সম্মোহিতের মতো মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলাম। ওদের ভিটের বাসকপাতার ঝোপে সে দাঁড়িয়ে আছে। ফারহানা ফাল্গুনীকে চিনতে পারলাম কাছে যেতেই। সে আমাদের কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছে। মাত্র ক’দিন ধরে কাস করছে, কলেজের কাছে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকে।

তার সুন্দর চোখ-দুটি, মিষ্টি হাসি, শ্যামল সেই লাবণ্য নেই। কলেজের হাসিখুশি চাঞ্চল্য নেই- সেই ফাল্গুনীর কিছুই নেই। আমাকে দেখে সম্মানও জানাল না। অন্য সময় হলে তার শিকের জন্য কী না করত! কাছে গিয়ে মা চাইব কিনা ভাবছি।

সে জন্য বললাম, ডাহুক দু’টো যে তোমার পোষা জানতাম না। ফাল্গুনী আমার সঙ্গে কোনো কথা বলল না, কিছু বলার সুযোগও দিল না। জীবিত ডাহুকটি বুকে আগলে ধরে বেশ রুক্ষ্ণ গলায় নাসিরকে বলল, পাখিটা দাও। ওটা আমার।

পাখি দু’টি নিয়ে সে চলে গেল। নতুন করে নেমে আসা ঘন কুয়াশার মধ্যে আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম। এই ঘটনার পর ফাল্গুনী আর কোনোদিন কলেজে আসেনি। খোঁজ করে জানতে পারলাম সে পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী কলেজে ভর্তি হয়েছে।


সংগ্রহীত
মূল লেখকঃ বিপ্রদাশ বড়ুয়া

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29081144 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29081144 2010-01-18 16:19:34
ফুয়াদের বিয়ে
যাইহোক এতদিন বিয়ের যন্ত্রণাটা ফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আম্মু লাইভ যন্ত্রণা দিতে ঢাকায় আসছেন। দেখা যাক আসার পর কি হয়! এদিকে ফুয়াদ এখনই বিয়ের জন্য মানসিকভাবে খুব একটা প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানান। তবে সঙ্গে এটুকুও বলেন, আম্মু যেভাবে বলছেন তাতে করে এই যাত্রায় বিয়েটা থামানো মুশকিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ বিয়ের প্রস্তুতি না থাকলেও বিয়েকেন্দ্রিক আম্মুর আগ্রহে মোটামুটি সমর্থন রয়েছে পুত্র ফুয়াদের।

ফুয়াদের কাছের একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০শে জানুয়ারি ফুয়াদের মা মূলত বিয়ের জন্যই আসছেন। হতে পারে ফেব্র্বয়ারির ভালবাসা দিবসে কিংবা তারও আগে ফুয়াদের শুভ কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে। কারণ তার আম্মু বিয়ে ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। তাছাড়া আমেরিকা থেকে ফিরে সংগীত নিয়ে ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার পর ফুয়াদ অনেকটাই একা, কারণ তার প্রায় সব আত্মীয় স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোন ও বন্ধুদের বসবাস আমেরিকায়। মূলত এ ভাবনা থেকেই ফুয়াদের মা বিয়ের জন্য তাড়াহুড়া করছেন। এতে ফুয়াদেরও মৌনতা রয়েছে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো পাত্রী কে? এমন প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব জানাননি ফুয়াদ কিংবা তার আশপাশের মানুষ। অন্যদিকে ফুয়াদের স্ত্রীর তালিকায় তার দীর্ঘ সময়ের প্রেমিকা চিত্রনায়িকা দিতির কন্যা লামিয়ার নামটিও খুব একটা স্পষ্ট নয়। ফুয়াদ তার প্রেমিকার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও কাছের একটি সূত্র মতে জানা যায়, লামিয়ার সঙ্গে ফুয়াদের দীর্ঘ ওপেন-সিক্রেট প্রেমের পাঠ চুকে গেছে এরই মধ্যে। হয়তো দীর্ঘ দিনের এই প্রেমের ক্ষত শুকানোর জন্যই ফুয়াদের এই হঠাৎ বিয়ের উদ্যোগ।

এদিকে লামিয়া প্রসঙ্গে তার মা দিতির কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিয়ের বিষয়টি একদম উড়িয়ে দেন। বলেন লামিয়া এখন কানাডায় পড়াশুনা করছে। আগামী জুনে বেড়াতে আসবে, হয়তো। জুনে দেশে ফিরে ও নাট্য নির্মাণে কিছু সময় ব্যয় করবে। এর মধ্যে প্রেম-বিয়ে সব বাজে সংবাদ। সব মিলিয়ে ফুয়াদের দীর্ঘ প্রেমের অবসান এবং হঠাৎ বিয়ে নিয়ে খানিক নাটকীয়তা রয়ে গেছে। যা পরিষ্কার হবে হয়তো ফেব্র্বয়ারি প্রথম সপ্তাহে। অপেক্ষা ততক্ষণ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29080951 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29080951 2010-01-18 11:31:17
কয়েকটা রাজনৈতীক জোকস, কমন পড়লে রাগ কইরেন না এইথানে দেখুন ১৮+ অামার কাছে ১৮+ এর এক বিরাট কালেকশন অাছে কিন্তু অনেক ব্লগারই একজন মেয়ের কাছ থেকে ১৮+ হজম করতে পারছেন না। তাই ১৮+ দিলাম না। অাপাতত এগুলো হজম করান। সবগুলো রাজনৈতীক। কমন পড়লে ক্ষমা চাচ্ছি। ভাল কথা, অামি অাজ সেফ হয়েছি


একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের খুব ইচ্ছে হল রাজধানীর রাস্তায় একাকী ঘুরে বেড়াবেন। তাই পরদিন খুব ভোরে নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক পরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন তিনি। সারাদিন রাজধানীর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে রাস্তায় বসে পড়লেন প্রেসিডেন্ট। ভাবলেন এবার ফেরা দরকার। কিন্তু এতদূর থেকে হেঁটে বাসভবনে ফেরা সম্ভব না। তাই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর একটি ট্যাক্সি এসে তার সামনে দাঁড়াল। প্রেসিডেন্ট দরজা খুলে আসনে বসতেই ট্যাক্সি চলতে শুরু করল। কিন্তু প্রেসিডেন্টের আজ ইচ্ছে পূরণের দিন। তাই তার খুব ইচ্ছে হল গাড়ি চালানোর। এদিকে যতই ছদ্মবেশে থাকুন না কেন, ট্যাক্সিচালক প্রেসিডেন্টকে চিনে ফেললেন। তাই প্রেসিডেন্ট যখন গাড়ি চালানোর কথা জানালেন, চালক কথা না বাড়িয়ে হুইল ছেড়ে দিয়ে পেছনের আসনে গিয়ে বসলেন। চালকের আসনে বসে প্রেসিডেন্ট তার বাসভবনের দিকে গাড়ি চালাতে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে গাড়ির গতি বাড়তে লাগল। প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছাকাছি আসার পর প্রেসিডেন্ট তার ছদ্মবেশ খুলে ফেললেন। আরও কিছুদূর যাওয়ার পর এক ট্রাফিক সার্জেন্ট অবাক বিস্ময়ে ঘটনাটি দেখলেন এবং সদর দফতরে ফোন করলেন।
হ্যালো, হেডকোয়ার্টারঃ
হ্যালোঃগতিসীমা অতিক্রম করে একটি ট্যাক্সি প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে যাচ্ছে।
�তাই নাকি? তাহলে গাড়িটাকে থামাচ্ছ না কেন?�
�না স্যার, ভেতরে যে ছিল সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।�
খুবই গুরুত্বপূর্ণ! কে সে? মেয়র নাকি?�
�না, মেয়রের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।�
�তাহলে কে তিনি? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!!�
�না না তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ কেউ। একেবারে টপ লেভেল ভিভিআইপি।�
�তাহলে কি তিনি মি. প্রেসিডেন্ট।�
�তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি!�
এবার অপর প্রান্তে বেশ কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতার পর প্রশ্ন এল �তুমি কি আমার সঙ্গে ফাজলামো করছ? প্রেসিডেন্টের চাইতে গুর�ত্বপূর্ণ আবার কে?�
ট্রাফিক সার্জেন্ট বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিল, �না আমি ফাজলামো করছি না। আর আমি তার পরিচয়টাও জানি না। তবে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি প্রেসিডেন্টের চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রেসিডেন্ট নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে যাচ্ছেন।
________________________________________


দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথোন :
-- শ্রম শিবির নাকি দারুন জায়গা ? লোকজন নাকি খুব ভালো থাকে সেখানে ?
-- মনে হয় তা-ই ।কারন আমার এক পরিচিত ব্যক্তি এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ।তাই তাকে স্বচক্ষে সেখানকার ব্যাপার স্যাপার দেখানোর জন্য কেজিবি নিয়ে গিয়েছিল। সেই যে গেছে, আজও সে ফেরেনি ।মনে হয় খুব পছন্দ হয়েছে শ্রম শিবির ।
________________________________________


কেজিবির এক কর্মীর সঙ্গে দেখা তার প্রতিবেশীর ।
-- শুভ সন্ধ্যা, বলল প্রতিবেশী
-- সন্ধ্যা মানে ? এই ভর দুপুরে বলছেন শুভ সন্ধ্যা !
-- খুবই দুঃখিত ।কিন্তু কি করব বলুন ? আপনাকে দেখলেই আমার চারপাশে সব কেমন অন্ধকার হয়ে যায় ।
________________________________________


মস্কো শহরে ট্রামের জন্য অপেক্ষমান দুই ব্যক্তির মধ্যে হাল্কা কথাবার্তা চলছে ।এক জন বলল,
-- পাউডার ও সরকারের মধ্যে তফাত কি বলতে পারেন?
-- না
-- পাউডার মুখে মাখে, আর সরকারকে কেউ কোথাও ঠেকাতে চায় না ।
ট্রাম এসে পড়ল ।এবার প্রশ্ন করল দ্বিতীয় ব্যক্তি,
-- ট্রাম এবং আপনার মধ্যে পার্থক্য কি বলতে পারেন ?
-- না
-- ট্রাম এখন চলে যাবে নিজের পথে, আর আপনি যাবেন আমার সঙ্গে কেজিবির অফিসে ।
-- কিন্তু আমি তো সরকার বলতে আমেরিকান সরকারকে বোঝাতে চেয়েছি ।
-- বাজে কথা রাখুন ।যে সরকারকে কোথাও ঠেকাতে ইচ্ছে হয় না তা নির্ঘাৎ আমাদেরটা ।
________________________________________

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29080376 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29080376 2010-01-17 16:46:24
ডাহুক ছুটির দিন এলেই মনটা ছটফট করে ওঠে। ঘরে মন বসে না। ইদানীং বন্দুক ছোঁড়া শিখেছি, পাখি-টাখি শিকারের শখ জাগছে। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিন এলেই হাতটা নিশপিশ করে। আমার বন্দুক নেই। যে বন্দুক নিয়ে শিকার শিখেছি সেটা আমার প্রিয় এক ছাত্রের। মফস্বল কলেজে শিক্ষকতা করি।

একেবারে অজ পাড়াগাঁ। ঊনসত্তর-সত্তর সালে মরসুমী ফুলের মত যেসব কলেজ গড়ে উঠেছে, তেমনি একটি কলেজে। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশ সম্মান-টম্মান পাই। যে সব ছেলে পড়াশুনোয় একটু ভোঁতা, এক-আধটু পার্টি করে, সুন্দর সুন্দর কাপড়-চোপড় পরে- তারা শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণত একটু বেশি খাতির করতে চায়।

তারা কলেজের মেয়েদের পেছনে ঘুর ঘুর করে, তারাই আবার পরীক্ষার আগে পড়ুয়ার মতো এক গাদা বই বগলদাবা করে শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষায় খুব দরকারি-অদরকারি প্রশ্নগুলো জেনে নিতে আসে, সারা বছরের দুর্বিনীত ভাবটা ঝেড়ে-পুছে গদগদ হয়ে পড়ে, যখন-তখন সেলাম ঠুকে বসে।

এরা সাধারণত সহজ-সরল হয়, কলেজের যে-কোনো কাজেও তারা সবার আগে থাকে। নাসির সে রকম ছাত্র নয়। ভালো পাস করার ছাত্র। বুদ্ধিসুদ্ধি আছে, কলেজ বার্ষিকীতে গল্প-কবিতা লেখে। ছাত্র হয়েও তাই নাসির আমার বন্ধুর মতো।

সবে দেশ স্বাধীন হয়েছে, বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ফিরেছি কলেজে। নাসির করেছে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ, আমি কলম হাতে শব্দসৈনিক। নাসির বন্দুকটা আমাকে ধার দেয়। এক ছুটির দিনে তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কলেজ থেকে মাইল ছয়েক দূরে একটি বড় বিল আছে।

বিলের দিকে পা ছড়িয়ে আছে পাহাড়। পাহাড়ে আছে পেয়ারা ও লেবু বাগান, আনারসের ঝাড়।
বর্ষাকালে এসব ফল হয় প্রচুর, শীতের দিনে পাতা ঝরতে ঝরতে এলোমেলো দিশেহারা। বিলও শূন্য খাঁ খাঁ। পাহাড়ও রুখু ও ঝিমিয়ে পড়া গাছপালা নিয়ে অভাবগ্রস্তের মতো হামলাতে থাকে।

বেরিয়ে পড়লাম খুব ভোরে, আঁধার কাটার সময়। নাসির একটা এয়ার-গান নিয়েছে। বের হতে একটু দেরিই হয়ে গেল। তবু ছুটলাম। দেরি হওয়ার জন্য নাসিরও একটু মনমরা। তাকে উৎসাহ দিতে কথা শুরু কলাম। গ্রাম ছেড়ে বিলের কাছে যেতে যেতে সকাল হয়ে গেল।

বিলে পা দিতেই গুলির শব্দ শুনতে পেলাম, দুম ট্যা ট্যা ট্যা। কুয়াশার ঘন জাল ভেদ করে শব্দ বুকে এসে লাগল জ্যান্ত বুলেটের মতো, আরও একটা শব্দ হল। কান আপনাতেই খাড়া হয়ে গেল, বন্দুকের শব্দটা পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে খান খান, টুকরো টুকরোর মত ছড়িয়ে পড়ল, ওই শিশিরের মতো।

বুঝতে পারলাম আমাদের আগেই বিলের পুকুরে শিকারী পৌঁছে গিয়ে শিকারীর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিলের মাঝামাঝি জায়গায় যে দুটি পাড় বাঁধানো বড় বড় পুকুর আছে সেখানেই নানা ধরনের জলজ পাখিদের আড্ডা। খোঁড়ল হাঁস, কাঁচি চোরা, ভুতি হাঁস, সরাল আসে।

পানকৌড়ি, ডাহুক, বক তো আছেই। এক সময় বিলটিই ছিল আস্ত একটি জলাভূমি বা হাওর। নলখাগড়া আর হোগলার বন ছিল। ওগুলো নিজে নিজে জন্মাত, আপনা আপনি মরে যেত, আবার গজিয়ে উঠত ছায়াপথের তারাপুঞ্জের মতো।

এখন পুকুর দুটো আর মাঝখানের হোগলা বনে পাখিরা আসে। শীতেই আসে। বন্দুকের শব্দ শুনে নাসির বলল, স্যার আর আর শিকার করা হল না। তখনই আবার গুলির শব্দ, দুম ট্যা ট্যা ট্যা, দুম। ফাঁকা বিলটা গুলির শব্দে কানায় কানায় ভরে গেল। নিজের বুকটা হতাশায় ছ্যাঁচড়া ছ্যাঁচড়া হয়ে গেল।

গুলির শব্দ যত শুনি ভেতরটা তত দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে। মনে মনে নাসিরের ঘাড়ে দোষ চাপাই, নিজেকেও। সবচেয়ে বেশি শিকারীদের, তাদের উপর দোষ নয় গালমন্দ। কেন আরও আগে বের হলাম না, কেন নাসির দেরি করল, কেন শিকারীদের সুসময়ে ঘুম ভাঙ্গল।

শেষে ঠিক করলাম, কাজ নেই আর বিল পাড়ি দিয়ে। তারচেয়ে পাড়াগাঁর ভেতর দিয়ে যাই, যদি দু’-একটা হরিয়াল বা ঘুঘু মেলে। এদিকে রামঘুঘু আছে বলে শুনি। বিলের ধার দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। ধূ ধূ শূন্য বিল।

বিলের গায়ে লাগোয় পাড়া। মাঝে মাঝে পুকুরের উঁচু পাড়। পুকুরের পাশে, গ্রামের আশেপাশে শীতের ধান হয়েছে। বিলেও শুরু হয়েছে। গুণ গুণ করে গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে। গ্রামের মেয়ে-বৌয়েরা পুকুর ঘাটে, ওখানেও কুয়াশার একটা টুকরো চলে গেছে।

মেয়েদের বাসন-কোসন মাজা, পানি ব্যবহারের একটা ছন্দ আছে। কুয়াশার যেমন ছন্দ আছে, স্তরে স্তরে সে নিজেকে ছড়াতে জানে, কোথাও ঘন আবার পাশেই পাতলা আবরণ বিছিয়ে নিতে জানে।
মেজাজটা যে বিগড়ে আছে। সুন্দর পাড়া। উঁচু একটা টিলার উপর গ্রামের হাইস্কুল।

এই স্কুল থেকে পাস করে ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের কলেজে আসে। পাশের অন্য কলেজটি যায় না। স্কুলের আশেপাশে খুব একটা বাড়িঘর নেই। টিলার বড় বড় বৃষ্টিশিরীষ ও বটগাছগুলো কুয়াশায় চমৎকার ডালপালা মেলে আছে। কুকুরের রোঁয়া ফোলার মতো নতুন করে আরও ঘন কুয়াশা জমেছে।

মাঝে মাঝে পাহাড় থেকে কুয়াশাবাহিনী সকালের দিকে এভাবে লোকজনকে দেখিয়ে দেখিয়ে ছুটে আসে। মাঝে মাঝে এভাবে এসে নয়-দশটা অবধি আসর জমিয়ে রাখে। বোধহয় সেই কুয়াশাই তেড়ে আসছে। নাসির পুকুরটা ঘুরে এগিয়ে চলল। সে হয়তো ভাবছে দু’ একটা কানা বক পেলেও হয়।

কিংবা কণ্ঠীঘুঘু, ডাহুক। ঠিক তখনই ভিটের পাশে নাল জমিতে ডাহুকটা চোখে পড়ল। দেখার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাব অমন বোকা আমি নই। ডাহুক ভীষণ সতর্ক পাখি। আমি বরং ওকে না দেখার ভান করে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। সে বেঁটে-খাটো লেজটা গর্ব ভরে উঁচু করে ভিটের পাশে খাবার খুঁজছে।

লেজের নিচের লাল রংটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বার বার লেজ তোলা ও নামানো তার স্বভাব, চলতে চলতে বা খাবার খুঁজতে খুঁজতে সব সময়। মাত্র একশো গজখানেক দূরে। ওর সঙ্গে চোখাচোখি হওয়ার পরও সে পালিয়ে গেল না।

তবুও না দেখার ভান করে পুকরের পাড়ের কাছে একটা উঁচু আল নিয়ে বসে পড়লাম। নাসির ওদিকে কোথায় এক দলা কুয়াশার আড়ালে পড়ে গেছে। এতক্ষণ বৃষ্টিশিরীষ বা বটগাছে কোথায় যেন একটা ছিটঘুঘু ডাকছিল। পুকুরে আসা মেয়েদের কল কল শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

ডাহুকটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সব শব্দ তার পেছনে পড়ে গেল। বন্দুক তুলে তাক করলাম। তখন কেন যে সে ‘কোয়াক কোয়াক’ ডাক পাড়ল বুঝতে পারলাম না। অমনি আমার বন্দুক থেকে ছররার শব্দ হল, দুম ট্যা ট্যা ট্যা। হ্যাঁ, ঘায়েল হয়েছে। একবার লুফিয়েও উঠেছে। ছটফট করছে। উঠে দাঁড়ালাম।

সঙ্গে সঙ্গে জোড়ের পাখিটা ভিটের বেত ও বাসকপাতার ঝোপ থেকে বেরিয়ে এলো। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত জোড়ের পাখিটা পালিয়ে যায়। তা নয়, বন্দুকের গর্জন শুনে ডাহুকটা এভাবে বেরিয়ে আসবে ভাবতেও পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়লাম, ছররা ভরে ফের নিশানা ঠিক করলাম।

পাখিটা চুপচাপ লেজ নাচিয়ে এগিয়ে এল জখম হয়ে মরতে বসা সঙ্গীর কাছে। এসে ঠোঁট বুলিয়ে সোহাগ নাকি সান্ত্বনা জোগাল? ডাহুক এভাবে ভয়ডর হারিয়ে এগিয়ে আসবে, এরকম করবে আমার ধারণার বাইরে। পাখিবিষয়ক আমার জ্ঞানগম্যি ধুলোয় গড়াগড়ি।

তাই নিশেন ঠিক করেও চুপ করে রইলাম, দ্রুত সবকিছু আর একবার ভেবে নিলাম। এরি মধ্যে কখন যে নাসির পাশে চলে এল বলতে পারব না। টের পেতেই সে ফিস ফিস করে বলল, মারুন, মারুন, স্যার! আমার হাত কেঁপে উঠল, বুকে কেঁপে গেল।

আর আমাদের দেখেও পাখিটার ডরভয় নেই, আমাদের এত তুচ্ছ করল? কিসের জোরে? পাখিটা একবার আমাদের চোখ তুলে তাকাল। তাকাল নয়, যেন শাসিয়ে দিল। তারপর আবার মৃত্যু পথযাত্রী সঙ্গীর দিকে দেখল। ঠোঁট এগিয়ে দিল। সেই করুণ ও ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে পারব না আমি।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এসব ঘটে গেল। নাসির আবার চাপা গলায় বলল, স্যার, দেরি করছেন কেন? মারুন? প্রায় বকুনি দিয়ে থামতে বললাম ওকে। তারপর বন্দুক ফেলে সম্মোহিতের মতো ছুটলাম পাখি দুটোর দিকে।

ওদিকে যেতেই জোড়ের পাখি আহত সঙ্গীর দিকে ফিরে তাকাতে তাকাতে চলে গেল ভিটের নিরাপদ আড়ালে। তার মধ্যে ডাহুকের চঞ্চল স্বভাব নেই, ভয়ডরও সম্ভবত না। পোষা পাখির মতো আস্তে আস্তে ভিটের পাটিবেতের ঝাড়ে ঢুকে পড়ল।

ঝোপের ভেতর থেকে চিৎকার তুলে ডাকতে লাগল লাগাতার ‘কোয়াক কোয়াক কোয়াক’। সেই বুক দুমড়ানো সঙ্গী হারানোর বেদনার একটানা ডাক আর থামে না। কাছে গিয়ে দেখি পাখায় গুলি খাওয়া পাখিটা ধড়ফড় ছটফট করছে। সেই প্রথম পাখির মৃত্যু-যন্ত্রণা আমার বুকে বাজতে শুরু করল।

দাঁড়িয়ে রইলাম। নাসির আগেই ঝুঁকে পড়ে পাখিটা হাতে তুলে নিল। পাখিটা ফ্যাল ফ্যাল করে নাকি বিদ্বেষভরা চোখে রক্ত-লাল কনীনিকায় তাকাল। একটা ন্যাংটো বাচ্চা ছেলে এসে জুটল। গায়ে শাটের উপর গামছা জড়ানো। নাসির ছেলেটাকে বলল, ধর তো, জবেহ করি।

এরি মধ্যে আরও কয়েকটি বাচ্চা ছেলে এসে আমাদের ঘিরে ধরল। আমার চোখ চলে গেছে ভিটের ঝাড় থেকে আসা জোড়ের পাখির কাতর কান্নার দিকে, বাসকপাতার ঝোপের ভেতর থেকে বুক মোচড়ানো হাহাকারের প্রতি।

তাকিয়ে থাকতে থাকতে দেখি ডাহুকটাকে বুকে চেপে ঝোপ-ঝাড়ের ভেতরে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে। কী বিষন্ন, কী মলিন মেয়েটির দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে। শিকারীর প্রতি অপরিসীম ঘৃণা এবং বেদনা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ওর গায়ের কাপড় আধ ভেজা।

বোধহয় ভোরে উঠে স্নানের অভ্যেস আছে, বন্দুকের শব্দ শুনে অথবা ডাহুকের কান্না শুনে আলুথালু ছুটে এসেছে। ওর চোখের দিকে তাকাতেই অপরাধীর মতো চোখ নামিয়ে নিলাম। নাসির ডাক দিল, স্যার, চলুন। কাজ শেষ।

আমি আস্তে আস্তে সম্মোহিতের মতো মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলাম। ওদের ভিটের বাসকপাতার ঝোপে সে দাঁড়িয়ে আছে। ফারহানা ফাল্গুনীকে চিনতে পারলাম কাছে যেতেই। সে আমাদের কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছে। মাত্র ক’দিন ধরে কাস করছে, কলেজের কাছে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকে।

তার সুন্দর চোখ-দুটি, মিষ্টি হাসি, শ্যামল সেই লাবণ্য নেই। কলেজের হাসিখুশি চাঞ্চল্য নেই- সেই ফাল্গুনীর কিছুই নেই। আমাকে দেখে সম্মানও জানাল না। অন্য সময় হলে তার শিকের জন্য কী না করত! কাছে গিয়ে মা চাইব কিনা ভাবছি।

সে জন্য বললাম, ডাহুক দু’টো যে তোমার পোষা জানতাম না। ফাল্গুনী আমার সঙ্গে কোনো কথা বলল না, কিছু বলার সুযোগও দিল না। জীবিত ডাহুকটি বুকে আগলে ধরে বেশ রুক্ষ্ণ গলায় নাসিরকে বলল, পাখিটা দাও। ওটা আমার।

পাখি দু’টি নিয়ে সে চলে গেল। নতুন করে নেমে আসা ঘন কুয়াশার মধ্যে আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম। এই ঘটনার পর ফাল্গুনী আর কোনোদিন কলেজে আসেনি। খোঁজ করে জানতে পারলাম সে পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী কলেজে ভর্তি হয়েছে।


সংগ্রহীত
মূল লেখকঃ বিপ্রদাশ বড়ুয়া













]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29078177 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29078177 2010-01-14 09:24:51
তৈরি হচ্ছে লালন গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় মনপুরা ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের কারণে চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের মনে চঞ্চল চৌধুরী জায়গা করে নিয়েছেন খুব শক্তভাবেই। এ ছবিতে তার অভিনয় সাফল্য উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে তাকে।

সে সুবাদে এই পরিচালকের নির্মাণাধীন ছবি মনের মানুষ-এ অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন চঞ্চল।
লালন সাঁইয়ের উপর নির্মাণাধীন এ ছবিতে তিনি লালনের শিষ্য কালু সাঁইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকেশনে এ ছবিটির শুটিং হচ্ছে।

পুরো ডিসেম্বর জুড়ে ভারতে এই ছবিটির শুটিংয়ের পর গত ৩রা জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে শুটিং শুরু হয়েছে। আর এই শুটিংয়ের জন্য এদেশে হাজির হয়েছেন কলকাতার চলচ্চিত্রের ভার্সেটাইল অভিনেতা প্রসেনজিৎ। তিনি এ ছবিতে লালন সাঁইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন।

লালনের প্রধান শিষ্য সিরাজ সাঁইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন আমাদের দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ। ভারতে এক মাসে এই ছবির শুটিং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে চঞ্চল বলেন, আমার জীবনের সেরা কাজ আমি কখনই বলবো না, কিন্তু ছবির শুটিংয়ে পরিচালক থেকে শুরু করে এমনকি প্রোডাকশন বয়দের মধ্যেও পেশাদারিত্বের যে চিত্র আমি দেখেছি সেটা আমার জন্য একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

ভারতে আমরা শুটিং করেছি চিলাপাতা জঙ্গলে। এটি শিলিগুড়ি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আমাদের দেশে ছবির শুটিং শুরু হলে উৎসুক দর্শকের কারণে নানা ঝামেলা হয় কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেখানে প্রতিদিন অন্তত ৫/৬ হাজার দর্শককে দেখেছি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুটিং দেখতে।

আর গৌতমদার মতো এমন ঠাণ্ডা মেজাজের ও পেশাদারিত্বসম্পন্ন মানুষ আমি জীবনে কম দেখেছি। উনি তার কাজ সম্পর্কে শতভাগ সচেতন এবং তা আদায় করে নেন খুব টেকনিক্যালি। আমার মনে হয়েছে তিনি একজন শতভাগ রেডিমেড পরিচালক।

শতভাগ পেশাদারিত্ব নিয়ে তৈরি হচ্ছে লালন ছবিটি। প্রসেনজিতের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার সঙ্গে শুটিংয়ের সময় বোঝাই যায়নি উনি যে উপমহাদেশের এতবড় একজন অভিনেতা।

ছোটবেলা থেকেই তার ছবি আমি দেখতাম এবং মনে মনে তার পাশে নিজিকে দাঁড় করিয়ে কল্পনা করতাম। কল্পনার পুরোটা নাইবা বললাম। প্রসেনজিতের সঙ্গে অভিনয়ের সময় মনে হয়েছে তার সঙ্গে যেন আমার কতদিনের পরিচয়। উনি আসলেই একজন বড় মাপের অভিনেতা।

লালন ছবির শুটিংয়ের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত আমার শুটিংয়ের ব্যস্ততা রয়েছে এই ছবিতে। গত ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত শুটিং হয়েছে সুনামগঞ্জের বিল হাওরে। এখন শুটিং করছি টাঙ্গাইলে। সেখান থেকে পরের শুটিং রয়েছে হোতাপাড়ায়।

এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য চঞ্চল চৌধুরীকে সত্যিকারের দাড়ি, গোঁফ বড় বড় করে রাখতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচালকের নির্দেশনা অনুসারে আমি গত দুই মাস দাড়ি-গোঁফ কাটাইনি। প্রথমদিকে একটু সমস্যা হয়েছিল কিন্তু পরে মানিয়ে নিতে হয়েছে।

ছবিটির বাস্তবতা ধরে রাখতে সবরকমই আয়োজন করে রেখেছেনে গৌতম ঘোষ। চঞ্চল বলেন, এই ছবির প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের জন্য দুই মাস কোন নাটকের শুটিংয়ে সময় দিতে পারিনি। ১৫ তারিখের পর আবারও নাটকের শুটিংয়ে নিয়মিত হবো।

এদিকে এই মুহূর্তে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকের প্রচার চলছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যানেল আইতে সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় সাকিন সারিসুরি, একুশে টিভিতে অরণ্য আনোয়ারের পরিচালনায় ঘোড়ার ডিম, মানিক মানবিকের নো প্রবলেন ডট কম সহ মোট ৭/৮টি নাটক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29077614 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29077614 2010-01-13 13:01:51
আরো কয়খান ১৮+++, কমন পরলে দোষ নাইক্কা ________________________________________


একজন লোক বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়েছে। সেদিন মাইনে পাওয়ার দিন । মাইনে পেয়েই লোকটি ঠিক করল যে সে একেবারে উইকএন্ড পার্টি করে কাটিয়ে তবে বাড়ি ফিরবে। যথারীতি শনিবার রাতে বাড়ি ফিরে সে দেখল স্ত্রী রেগে বোম হয়ে আছে। বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই প্রশ্ন " তোমার কেমন লাগবে যদি তুমি আমাকে দু-তিন দিন দেখতে না পাও ?"
স্ত্রীর কাছে কিছুতেই হারবে না বলে মনস্থ করা লোকটি বলল " আমার কোন প্রবলেম হবে না"।
সোমবার কেটে গেল সে বউকে দেখতে পেল না... মঙ্গলবার,বুধবার কেটে গেল সে বউকে দেখতে পেল না।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সে তার ফুলে ঢোল হওয়া দুটি চোখের মধ্যে একটি কোনরকমে খুলে তার স্ত্রীকে দেখতে পেল...
________________________________________


স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হচ্ছে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীর গালে ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দিলেন।
স্ত্রী : কী! তুমি আমার গায়ে হাত তুললে?
স্বামী বেচারা ভেবে দেখলেন, আসলে কাজটা অন্যায় হয়ে গেছে। তাই একটু নরম সুরে তিনি বললেন, আরে না না, আমি তোমাকে ভালোবেসে চড়টা মেরেছি।
স্ত্রী তখন স্বামীর দুই গালে কষে দুইটা চড় লাগিয়ে দিলেন।
স্বামী : (থ হয়ে) তুমিও আমাকে...
স্ত্রী : তুমি কি ভেবেছ আমি তোমাকে কম ভালোবাসি?
________________________________________


এক ভদ্রলোক একটা মোটর গাড়ী দুঘটনার একেবারে চুরমার হয়ে গেছে । তিনি তার গাড়ী যেখানে বীমা করেছিলেন সেখানে গিয়ে টাকার দাবী করলেন । কোম্পানীর ম্যানেজার বললেন যে আপনাকে তো টাকা দেয়া হবে না । আপনাকে গাড়ীর বদলে একটা নতুন গাড়ী দেয়া হবে । ভদ্রলোক তো আৎকে ঊঠলেন । আরে আমার স্ত্রীর নামে বীমা করা , সে মরে গেলে কি আপনারা একই ব্যবস্থা করবেন ?
________________________________________


এক লোকের বউয়ের নাম হাসি আর শ্যালিকার নাম খুশি।
সেই লোক রাতের শিফটে কাজ করে।

বহুদিন পর খুশি দুলাভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছে।
হাসি আর খুশি ডিনার সেরে টিভি দেখতে দেখতে একই খাটে শুয়ে পড়লো।

দুলাভাই ভোর চারটার দিকে বাড়ি ফিরলো। সে জানে শ্যালিকাটি বউয়ের পাশেই ঘুমোচ্ছে। বাসায় ফিরে রুমে ঢুকে কেয়ারফুলি কেয়ারলেস ভাব নিয়ে শ্যালিকার পাশে শুয়ে পড়লো। যেন সে ঘুমের ঘোরে এ কাজটি করছে, এমন কেয়ারলেস ভাব নিয়ে এক সময় শ্যালিকাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে থাকে। আদর পেয়ে শ্যালিকার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে চাপা স্বরে বলে, দুলাভাই আমি খুশি...আমি খুশি.
দুলাভাই এবার চেতন হবার ভাব ধরে ফিসফিস করে বলে, আমি তো ভাবছিলাম তুমি রাজিই হইবা না। চলো পাশের রুমে যাই।
________________________________________


স্বামী আর স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া। মুখ দেখা, কথা বন্ধ।
রাতে শুতে যাওয়ার সময় স্বামীর মনে পড়ল পরের দিন ভোরবেলা ফ্লাইট । এদিকে স্বামী বেচারা সকালে উঠতে পারে না। সাত-পাঁচ ভেবে সে একটি কাগজে লিখল " কাল সকাল চারটার সময় ডেকে দিও।" কাগজটা স্ত্রীর বালিশের কোণায় চাপা দিয়ে স্বামী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল।

পরের দিন সকালে সাড়ে আটটার সময় স্বামীর ঘুম ভাংল। সময় দেখে তার তো চক্ষু চড়কগাছ। রেগেমেগে চিৎকার করে স্ত্রীকে ডাকতে গিয়ে তার নজরে পড়ল বালিশের পাশে একটা চিরকুট।

খুলে দেখল লেখা আছে " চারটে বেজে গেছে, উঠে পড়ো।"
________________________________________


একটি আন্তর্মহাদেশীয় ট্রেনে এক ব্যক্তি আর এক মহিলা একই কম্পার্টমেন্টে শোওয়ার জায়গা পেয়েছেন। প্রথমে কিছুক্ষণ উসখুস করলেও দুজনেই খুব ক্লান্ত থাকায় অল্পক্ষণের মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। ভদ্রলোক উপরের বার্থে আর ভদ্রমহিলা নীচের বার্থে।

মাঝরাতে হঠাৎ ভদ্রলোকের ঘুম ভাংল। তিনি একটু ইতস্তত করে ভদ্রমহিলাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন দেখুন কিছু মনে করবেন না , আমার এত ঠান্ডা লাগছে, আপনি কি দয়া করে আমার সুটকেস থেকে একটা কম্বল বার করে আমায় দেবেন ?

ভদ্রমহিলা উত্তরে বললেন আমার আরো একটা ভালো আইডিয়া আছে। আজকের রাতের জন্য মনে করি না আমরা স্বামী আর স্ত্রী?

ভদ্রলোক খুব অবাক আর মনে মনে খুব খুশি হয়ে বললেন ওয়াও!!! দারুণ আইডিয়া!! তাহলে এখন আমার কি করা উচিত?

উঠুন আর নিজের কম্বল নিজে নিয়ে নিন।
________________________________________


স্ত্রী: আমার সাথে ১০ বছর সময় কাটানো তোমার কাছে কি?
স্বামী: আরে সে ১ সেকেন্ড মনে হয়। চোখের পলকে কেটে গেল প্রিয়ে...
স্ত্রী: (খুশি হয়ে) আমার জন্য ১০,০০০ টাকা তোমার জন্য কি?
স্বামী: আরে সেত ১ টাকার মত। কোন ব্যাপারই না।
স্ত্রী: (ততধিক খুশি হয়ে)তা জানু আমাকে ১০,০০০ টাকা দিতে পারবে এখন?
স্বামী: (গম্ভির হয়ে) দাড়াও এক সেকেন্ড পরে দেই।
________________________________________


দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে �
১ম বন্ধুঃ তুমি তো দেখছি একেবারে তোমার বউয়ের চাকর হয়ে গেছ! সেদিন দেখলাম তুমি তোমার প্যান্টটা নিজেই সেলাই করছ ।
২য় বন্ধুঃ তুমি ঠিকই দেখেছ। কিন্তু সেই প্যান্টটা তো আমার নয়, ওটা আমার স্ত্রীর।
________________________________________


স্ত্রী: শোনো না, নীচের তলায় চোর এসেছে। সকালে যে কেকটা বানিয়েছিলাম, সেটা খেয়ে নিচ্ছে।
স্বামী: কাকে ডাকব, পুলিশ না অ্যাম্বুল্যান্স?
________________________________________


স্বামী: আজ মাছ রান্না হয়নি কেন?
স্ত্রী: মাছটাকে মারতেই পারলাম না।
স্বামী: কী ভাবে মারার চেষ্টা করছিলি?
স্ত্রী: জলে ডুবিয়ে!
________________________________________


স্ত্রী : কী ব্যাপার! বাজার থেকে পেঁয়াজ আননি কেন, দাম বেশি বলে পেঁয়াজ আনবে না?
স্বামী : না, ঠিক তা নয়।
স্ত্রী : তাহলে?
স্বামী : পেঁয়াজ কাটতে বসে তুমি প্রতিদিন চোখের জল ফেলবে, দৃশ্যটা আমি সহ্য করতে পারি না।
________________________________________


১ম বন্ধুঃ আসলে তুই একটা ইঁদুর।
২য় বন্ধুঃ তোর এই কথাটা আমি মানতে পারলাম না। কারণ ইঁদুর হলে আমার বউ এতদিনে আমাকে দেখে ছুটে পালাত। ইঁদুরকে ওর ভীষণ ভয়।
________________________________________


স্বামী : তোমার এক মাসে এতো লিপস্টক লাগে আমি ভাবতে পারি না, আর কারো এতো লাগে কিনা?

স্ত্রী : আরে লিপস্টকের অর্ধেকতো তোমার পেটেই যায় |
________________________________________


স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী তার পুরানো প্রেমিকের সাথে বসে গল্প করছিল | এমন সময় হঠাত স্বামী এসে পড়লে প্রেমিক আলমারির পিছনে লুকিয়ে গেল | ঘরের মেঝেতে চুরুট পড়ে থাকতে দেখে স্বামী রেগে গেল |বলে উঠল,এই চুরুট কোথা থেকে এসেছে?? স্ত্রী কিছু বলতে পারল না দেখে স্বামী আরো রেগে গেল | স্বামী বলল তোমাকে বলতেই হবে এই চুরুট কোথাকার??? প্রেমিক বন্ধুটি সহ্য করতে না পেরে আলমারির পিছন থেকে বের হয়ে বলল,ও তো মেয়ে মানুষ ,ও কি করে জানবে এই চুরুট কোথাকার?? আপনি পুরুষ মানুষ হয়ে ও চিনতে পারছেন না যে এই চুরুট আমেরিকার???
________________________________________


সেই যে বাড়ীতে এক অথিতি এসেছে , এক সপ্তাহ যায় দু সপ্তাহ যায় তবু নড়বার কোন লক্ষন নেই ।স্বামী স্ত্রী কেউ কিছু বলতে পারে না লজ্জায় । একদিন পাশের ঘরে অথিতিকে শুনিয়ে দুজন খুব ঝগড়া করতে লাগলো , মিছামিছি। স্ত্রীকে স্বামীর প্রহার এবং স্ত্রীর কান্নায় আওয়াজও শোনা গেল এক পর্যায়ে। গতিক সুবিধের নয় ভেবে অথিতি ভদ্রলোক তার সুটকেস নিয়ে এক ফাকে বেরিয়ে গেল। জানালা দিয়ে স্বামী স্ত্রী দুজনায় তাদেখে ঝগড়া বন্ধ করে খুব এক চোট হেসে নিল- যে বুদ্ধি করে তারা অথিতি তাড়াতে পেরেছে । স্বামী বললো তোমার লাগে টাগে নিতো ? যে জোরে কাদছিলে । স্ত্রী বললো দূর এক্টুও লাগেনি। এতো লোক দেখান কেদেছিলাম । হাসিমুখে এক সময় অথিতির আর্বিভাব , হেঁ,হেঁ আমিও কিন্তু লোক দেখানো গিয়েছিলাম ।
________________________________________


নতুন বিয়ে হওয়া বান্ধবীকে প্রশ্ন করল শায়লা- কী রে তোর বর কেমন?

: স্বামী আর পেঁচার মাঝে কোন প্রর্থক্য নেই |
: কেন, এমন কথা বলছিস কেন?
: বলছি কারন স্বামীরা তাদের বউদের সব ভালো জিনিস শুধৃ রাতের বেলাই খুজে পায় |
________________________________________


এক ভদ্রলোক একটা মোটর গাড়ী দুঘটনার একেবারে চুরমার হয়ে গেছে । তিনি তার গাড়ী যেখানে বীমা করেছিলেন সেখানে গিয়ে টাকার দাবী করলেন । কোম্পানীর ম্যানেজার বললেন যে আপনাকে তো টাকা দেয়া হবে না । আপনাকে গাড়ীর বদলে একটা নতুন গাড়ী দেয়া হবে । ভদ্রলোক তো আৎকে ঊঠলেন । আরে আমার স্ত্রীর নামে বীমা করা , সে মরে গেলে কি আপনারা একই ব্যবস্থা করবেন ?
________________________________________


ঐ শালা খুব মজা লুটেছে
মুখোশ পার্টিতে যাবে রোমেল আর তার বউ।

রোমেলের বউ শেষ মিনিটে বললো, সে যাবে না, তার মাথা ধরেছে। রোমেল একটা স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরে বেরিয়ে গেলো একাই। ঘন্টাখানেক পর রোমেলের বউ মত পাল্টে একটা মুখোশ পরে নিয়ে পার্টিতে গেলো, একা একা রোমেল কী করে বেড়ায় দেখতে।

পার্টিতে গিয়ে সে দেখলো স্পাইডারম্যানের মুখোশের চারপাশে অনেক মহিলা, জমিয়ে আড্ডা মারছে রোমেল। চটে মটে রোমেলের বউও সেই ভিড়ে গিয়ে জুটলো, তারপর এক এক করে মহিলাকে হটিয়ে দিয়ে রোমেলকে দখল করলো সে। নির্জনে রোমেল তার কানে কানে কুপ্রস্তাব দিলো। মনে মনে চটে গিয়ে রাজি হলো রোমেলের বউ। ঘন্টাখানেক আদরসোহাগের পর রোমেলকে পার্টিতে রেখেই বাড়িতে ফিরে এলো সে।

গভীর রাতে ক্লান্ত রোমেল বাড়িতে ফিরলো।

তার বউ চিবিয়ে চিবিয়ে জানতে চাইলো, পার্টি কেমন হয়েছে। রোমেল বললো, আরে ধ্যুৎ, খুব বোরিং। আমি আর আমার কয়েকজন বন্ধু কোণার ঘরে বসে তাস খেলেছি।

তাই? কোন মজা হয়নি পার্টিতে?

একদম না। তবে যে ব্যাটাকে আমার মুখোশটা ধার দিয়েছিলাম, ঐ শালা খুব মজা লুটেছে।
________________________________________


স্ত্রী বিউটি পার্লার থেকে সেজেগুজে বাসায এসে দেখে, স্বামী এক বামন তরুনীর সাথে শুয়ে। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে চেঁচিয়ে উঠল স্ত্রী, �তুমি না আমাকে কথা দিয়েছিলে , আমি ছাড়া কোন মেয়ের সাথে বিছানায় যাবে না..., এই তোমার কথার নমুনা?�
�রেগো না হানি, দেখতেই তো পাচ্ছ অভ্যাসটা আস্তে আস্তে ছোট করে আনছি।�
________________________________________



স্বামীঃ আচ্ছা বিয়ের আগে তোমাকে কেউ চুমু খেয়েছিলো?
স্ত্রীঃ একবার পিকনিকে গিয়েছিলাম | সেখানে আমাকে একা পেয়ে একটা ছেলে ছোরা বের করে বলেছিলো, যদি চুমু না খাও, তাহলে খুন করে ফেলবো |
স্বামীঃ তারপর তুমি চুমু খেতে দিলে?
স্ত্রীঃ দেখতেই পাচ্ছো, আমি এখনও বেঁচে আছি |
________________________________________


আত্মহত্যা ভাল নাকি খুন হওয়া ভাল

আমার কাছে সত্যই একটা ব্যাপার হাসির মনে হয় যখন শুনি মানুষ প্রশ্ন করে যে ভালবেসে বিয়ে করা ভাল নাকি পারিবারিক ভাবে বিয়ে করা ভাল। আমার কাছে মনে হয় একজন যেন অন্য একজনকে প্রশ্ন করছেঃ আত্মহত্যা ভাল নাকি খুন হওয়া ভাল।
________________________________________


কোন সিনেমাটা দেখলি

দুই বন্ধু গল্প করছে
সুমনঃ বুঝলি, কাল আমার বউয়ের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল ।
সাজুঃ কি নিয়ে?
সুমনঃ আমি চাইছিলাম ক্লাবে যেতে আর ও চাইছিল সিনেমায় যেতে ।
সাজুঃ তা শেষ পর্যন্ত কোন সিনেমাটা দেখলি?
________________________________________


জরিমানা

একলোক এক ট্রাফিক মহিলাকে বিয়ে করল। বাসর রাতের পরদিন ট্রাফিক মহিলা ১০০০ টাকা জরিমানা করল এভাবে
ওভার স্পীড ৩০০
হেলমেট না পরা ৩০০
রং ওয়ে এট্রি ৪০০
________________________________________














শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে আনিসের সম্পর্ক ভালো না প্রথম থেকেই।সেই প্রথম যেদিন টিনা বাসায় জানাল আনিসের কথা সেইদিন থেকেই ...আনিসের যোগ্যতা-পরিবার ইত্যাদি বিষয়ে নানা কথা হতে হতে ইদানিং আনিসের মনটা একেবারে বিষিয়ে উঠেছে।
ওরা দুইজনে ডিটারমাইন্ড থাকাতেই হয়তো ওদের বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল।
কিন্তু বিয়ের পর পর ও আনিস যতবার শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে খালি জুটেছে অনাদর আর শ্বাশুড়ির খোঁটা।টিনা এইটা নিয়ে অনেক ঝগড়াঝাটিও করেছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
শেষে বাধ্য হয়ে শ্বশুড়বাড়ি যাওয়া একরকম বন্ধই করে দিয়েছে আনিস।
অবশ্য শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের এহেন আচরণে আনিস কিংবা টিনা কারোই ভালোবাসায় কোন প্রভাব ফেলেনি।আনিসের ছোট চাকরিতেও দিব্যি চলছিল দুজনার ছোট্ট সংসার।

তারপর ...ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আরকি কিছুদিন পরই একটা ভয়াবহ কার অ্যাক্সিডেন্টে টিনা দারুনভাবে আহত হয়।র্দুঘটনাটিতে ভয়াবহভাবে পুড়ে যায় টিনার শরীর।সারা শরীরই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার, কিন্তু ডাক্তারের ভাষ্যমতে সবচে বাজে অবস্থা মুখের।ডাক্তার জানালেন, কসমেটিক সার্জারি করতে হবে।অন্য কোথাও থেকে চামড়া এনে বসাতে হবে মুখে।কিন্তু টিনার নিজের শরীরের চামড়া এ অবস্থায় সরানো সম্ভব নয়, সমস্যা হতে পারে।

টিনার এ অবস্থায় আনিস তার নিজের শরীর থেকে চামড়া নেয়ার প্রস্তাব দিল।ডাক্তার রাজি হলেন, এবং আনিসের নিতম্ব থেকে চামড়া তুলে টিনার মুখে বসালেন।অবশ্য এই দম্পতি ডাক্তারকে অনুরোধ জানালেন গোটা ব্যাপারটা গোপন রাখার জন্যে।

অপারেশন শেষে দেখা গেলো, টিনাকে আরো সুন্দরী দেখাচ্ছে।আত্মীয়স্বজন তো তাঁকে দেখে অবাক, এবং এতো চমৎকার অপারেশনের জন্যে ডাক্তারকে প্রচুর ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন টিনা-আনিস।

কিছুদিন পর নিরালায় টিনা ধন্যবাদ জানালেন আনিসকে।�তুমি আমার জন্যে যা করলে, তা আমি জীবনে ভুলতে পারবো না গো, এর প্রতিদান আমি দিতে পারবো না।� গদগদ হয়ে বলল টিনা।

আনিস তাকে একহাতে জড়িয়ে ধরে বললেন, �ও কিচ্ছু না, লক্ষীটি।আর তোমার প্রতিদান দিতেও হবে না।যতবার তোমার মা এসে তোমার গালে চুমো খাবে, আমার প্রতিদান পাওয়া হয়ে যাবে।�
________________________________________


শপিং সেরে বাড়ি ফিরতেই ছোট্ট অন্তু তার মাকে বললো, �মা মা, আজ কী হয়েছে শোনো, আমি তোমার আলমারিতে লুকিয়ে খেলছিলাম, এমন সময় বাবা আর পাশের ফ্ল্যাটের টিনা আন্টি এসে ঢুকলো।তারা দুজন সব জামাকাপড় খুলে ফেললো, তারপর বাবা টিনা আন্টির ওপর চড়ে বসলো।�

এটুকু শুনেই অন্তুর মা তাকে থামিয়ে দিলেন।মুখখানা গম্ভীর করে বললেন, �ব্যস, আর একটা শব্দও না।এবার বাবা ফিরলে তুমি যা দেখেছো, তা আবার ঠিক ঠিক বলবে, কেমন?�

অন্তুর বাবা বাড়ি ফিরতেই অন্তুর মা মুখ ঝামটা দিলেন।�তোমার মতো একটা লম্পটের সাথে আমি আর সংসার করবো না।�

অন্তুর বাবা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললেন, �কেন?�

তখন অন্তুর মা বললেন, �বল অন্তু, কী দেখেছিস গুছিয়ে বল।�

অন্তু বললো, �আমি তোমার আলমারিতে লুকিয়ে খেলছিলাম, এমন সময় বাবা আর পাশের ফ্ল্যাটের টিনা আন্টি এসে ঢুকলো।তারা দু�জন সব জামাকাপড় খুলে ফেললো, তারপর বাবা টিনা আন্টির ওপর চড়ে বসলো, তারপর তুমি আর পাভেল আঙ্কেল গত পরশু দিন দুপুরে যা করেছিলে, বাবা আর টিনা আন্টি তা-ই করতে লাগলো।�
________________________________________



প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে লিখেছে,


প্রিয় সুইট হার্ট,
আমি এই মাসের বেতনের টাকা পাঠাতে পারছিনা, তাই তোমাকে ১০০ kiss পাঠালাম।
ইতি
তোমার স্বামী।

তার বউ কিছুদিন পর সে চিঠির উত্তর দিল এভাবে,

প্রিয় জান,
তোমার পাঠানো kiss গুলোর বিস্তারিত জানাচ্ছি।
১.দুধ ওয়ালা ২টা kiss বিনিময়ে এক মাসের জন্য দুধ দিতে রাজি হয়েছে।
২.বিদ্যুত বিলওয়ালা ৭টা kiss এর বিনিময়ে শান্ত হয়েছে।
৩.বাড়ি ওয়ালাকে প্রতিদিন দুইটা কিংবা তিনটা করে kiss দিতে হচ্ছে।
৪.সুপার মার্কেট মালিক শুধু kiss তেই মানি রাজি নয়, তাই ...(সেন্সর)
৫.আর অন্যান্য খাতে ব্যায় হয়েছে ৪০ টি kiss
আমার জন্য কোন চিন্তা করোনা।আরও কিছু kiss এখনও বাকি আছে।আমি আশা করছি সেগুলো ব্যাবহার করে এ মাস ভালোই চলতে পারব।
ভালো থেকো।
ইতি
তোমার বউ।
________________________________________


স্বামী: ওগো, জানো কাল রাতে তুমি যে বললে, আমার পাঞ্জাবিটা ছিঁড়ে যাওয়ায় ঈদে একটা নতুন পাঞ্জাবি কিনে দেবে কথাটা আমার স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।
স্ত্রী: তুমি স্বপ্নই দেখেছ। তোমার ছেড়া পাঞ্জাবি আমি সেলাই করিয়ে এনেছি।
________________________________________


স্বামী: তুমি কি ভেবেছো? আমি কি গাধা!!?
স্ত্রী: এতে ভাবাভাবির তো কিছু দেখি না!
________________________________________


স্ত্রী: প্রতিজ্ঞা করো, আমি মরে যাওয়ার পর কাউকে ভালোবাসবে না।
স্বামী: সে প্রতিজ্ঞা করলাম। কিন্তু তুমি বেঁচে থাকা অবস্থায় এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করার তো দরকার নেই?
________________________________________


স্বামীর অফিসে যাবার সময় স্ত্রী তার কাছে একটা ছোট প্যাকেট দিয়ে বললেন
এটাতেই তোমার লেডী টাইপিস্টের জন্য এক শিশি চুল ওঠার ঔষুধ আছে। তোমার কোটে তার চুল খুব বেশী করে পাওয়া যাচ্ছে।
________________________________________


প্রগতিশীল বর (দোকানের সেলস্ গার্লকে): আচ্ছা আপনাদের এখানে কি এমন কোন বই আছে যার নাম "মহিলাদের শাসন কর্তা পুরুষ"?
সেলস্ গার্লঃ জি স্যার, আষাঢ়ে গল্পের বই ৩/২ নং সেকশনে পাবেন।
________________________________________


স্ত্রীঃ স্বামী এবং স্ত্রীকে কখনো একসঙ্গে স্বর্গে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয় না।
স্বামীঃ হ্যাঁ, এজন্যই এর নাম স্বর্গ।
________________________________________


একটা উপদেশ- সবসময় মানিব্যাগে আপনি আপনার স্ত্রীর ছবি রাখুন। যখনই বড়ো কোনো সমস্যায় পড়বেন তখন মানিব্যাগ বের করে স্ত্রীর ছবিটা দেখবেন, আর মনে করবেন এর চেয়ে বড় সমস্যা আর কিছুই হতে পারে না।
________________________________________


স্ত্রী : বল তো, আমি সুন্দরী এটা কোন কাল?
স্বামী : অতীত কাল!
________________________________________


স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করছে । ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী স্বামীর গালে চড় মারল-
স্বামী: তুমি আমাকে চড়টা সিরিয়াসলি মেরেছ, নাকি ইয়ার্কি করে মেরেছ ?
স্ত্রী: সিরিয়াসলিই মেরেছি ।
স্বামী:তাহলে আজ বেঁচে গেলে। তুমি তো জানো আমি ইয়ার্কি একদম পছন্দ করি না।
________________________________________



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29077044 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29077044 2010-01-12 15:14:51
১৮+++ তো তারা গেলেন হাসিনার কাছে।ম্যাডাম, কাঠাল কোন লিঙ্গ ? ম্যাডাম বললেন, এটা নির্ধারন করা কোনো সমস্যা না।আমি আজকেই বাংলা একাডেমীর ডিজিকে বলে দিচ্ছি তিনি জানিয়ে দিবেন।
কিন্তু দুইদিন গেল, ডিজি জানালেন না।তখন তারা গেল এরশাদের কাছে।এরশাদের ঝটপট জবাব-আরে কাঠাল হল পুং লিঙ্গ।কারণ কাঠালের বিচি আছে।
এরপর পত্রিকার খবর বের হল-পুলিশ একদল ছাত্রকে ডান্ডা দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে।
আচ্ছা, পুলিশ কোন লিঙ্গ ? জানতে চাওয়া হল প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কাছে।হাসিনা বললেন, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিতে হবে।সেই খোঁজ আর আসে না দেখে এরশাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।তিনি বললেন যেহেতু পুলিশের ডান্ডা আছে তাই পুলিশ পুংলিঙ্গ।

এরপর প্রশ্ন উঠে আইন কোন লিঙ্গ।এবারও যথারীতি হাসিনা ফেলটুস।বলতে পারলেন না।অগত্যা আবার কাবিল এরশাদের কাছে জিজ্ঞাসা।তিনি ভেবেচিন্তে বললেন, আইনের ফাঁক আছে, তাই আইন স্ত্রী লিঙ্গ।
--------------------

আমি আপনার সাথে বিছানায় যাব

এক সুন্দরী তরুণী পঞ্চাশ তলা উঁচু এক ভবনের ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গেল

পড়তে পড়তে দশ তলা পার হয়ে সে যখন ঠিক চল্লিশ তলা পর্যন্ত আসল তখন এক বৃটিশ ভদ্রলোক (!) বারান্দা থেকে হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল। এভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় মেয়েটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে অগ্র-পশ্চাত্� বিবেচনা না করেই সিনেমার ডায়লগের মতো গড় গড় করে বলল - আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন; কাজেই আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনার ঋণ শোধ করার জন্য আপনি যা চাইবেন আমি তাই দিব। বলুন আপনি কি চান? বৃটিশ দেখল এ যেন না চাইতেই একেবারে শরবত। কাজেই সে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে বলল, আমি বেশি কিছু চাই না - শুধু তোমাকে চাই। তোমার এই সুন্দর শরীরটা চাই। চল, আমার সাথে বিছানায় চল।
বৃটিশের এ অন্যায় আবদার শুনে বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা না করে তরুণী বলল - ইতর, বদমাশ, জানোয়ার! ভেবেছিস এত সহজ? আমার জীবন বাঁচিয়ে এখন তার বিনিময়ে এই চাইছিস? দরকার নেই আমার এ জীবনের। তোর মতো পাপিষ্ঠের সাথে বিছানায় যাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। ছেড়ে দে আমাকে। ছেড়ে দে �

কাজেই বৃটিশ লোকটা তাকে ছেড়ে দিল এবং সে আবার পড়তে লাগল। পড়তে পড়তে আরো দশ তলা পেরিয়ে সে যখন ত্রিশ তলা পর্যন্ত এল তখন এক আমেরিকান ভদ্রলোক (!) হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল। আগেরবারের ঘটনা থেকে তরুণীর যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। কাজেই সে বেশি কিছু না বলে আমেরিকানকে শুধু তার জীবন বাঁচানোর জন্য একটা ধন্যবাদ দিল। কিন্তু আমেরিকানটা বৃটিশটার চেয়েও এক ডিগ্রী বেশি অসভ্য। সে নিজে থেকেই বলল, দেখ মেয়ে আমি এখনও তোমাকে বারান্দা থেকে সরিয়ে নেই নি। তুমি যদি আমার সাথে বিছানায় যেতে রাজি থাক, তাহলেই কেবল তোমাকে আমি সরিয়ে নিব। নইলে কিন্তু দিলাম ছেড়ে।
আমেরিকানের কথা শেষ হওয়ার আগেই তরুণী বলল, পেয়েছিস কি তোরা? মেয়ে দেখলেই ভোগ করতে ইচ্ছে করে? তোদের ঘরে কি মা-বোন নেই? দরকার নেই তোর দয়ার। ছেড়ে দে আমাকে। তোর হাতে যাওয়ার চেয়ে মাটিতে পড়ে মরাও অনেক ভালো। ছেড়ে দে �

কাজেই আমেরিকান লোকটাও তাকে ছেড়ে দিল এবং সে আবার পড়তে লাগল।
পড়তে পড়তে তরুণীটি আরো দশতলা পেরিয়ে গেল - কিন্তু এবার আর কেউ তাকে হাত বাড়িয়ে ধরল না। এই সময় তার একটু আফসোস হতে লাগল। তার মনে হল, ঐ দুজনের কথামতো তাদের সাথে বিছানায় গেলে কি এমন ক্ষতি হতো! অন্তত মারা যাওয়ার চেয়ে সেটাতো খারাপ হতো না! ইস, কেন যে সে ওদের কথায় রাজি হল না! তা হলে তো আর জীবনের আসল আনন্দগুলো উপভোগ করার আগেই বিদায় নিতে হতো না � হায় আর কেউ কি নেই তাকে বাঁচানোর? বিনিময়ে সে এবার সব দিতে রাজি আছে �

এসব ভাবতে ভাবতে সে যখন আরো দশতলা অর্থাত্� মোট চল্লিশ তলা পেরিয়ে ঠিক দশতলা উচুঁতে আসল, ঠিক তখন আরবীয় হুজুর তাকে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললেন। মেয়েটি এবার খুশিতে গদগদ হয়ে বলল - আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন! চলুন আমি আপনার সাথে বিছানায় যাব!

মেয়েটির মুখে এরকম নির্লজ্জ কথা শুনে হুজুর হতভম্ব হয়ে গেলেন। নিজের অজান্তেই �আসতাগফিরুল্লাহ� শব্দটা উচ্চারণ করে তিনি মেয়েটিকে হাত থেকে ছেড়ে দিলেন

------------------------------------

কার বেশি সুখ

: বলো তো সেক্স করার সময় ছেলে না মেয়ে কে বেশি আনন্দ পায়?
: অব্যশই মেয়ে ।
: কেন ?
: যখন কাঠি দিয়ে কান খোঁচাও আরামটা কোথায় লাগে, কানে না লাঠিতে ??
-------------------------------------

পোস্টমাস্টার ভিতরে ছিলো নাকি বাইরে

এক পোস্টমাস্টার গেছে দাওয়াত খাইতে, কিন্তু ভুলে বেচারা প্যান্টের চেইন লাগায় নাই
পার্টিতে এক লোকের তা দেইখা তো আক্কেল গুড়ুম। সরাসরি তো আর বলা যায়না যে চেইন খোলা। তাই সে কায়দা কইরা বলল, ভাই, আপনার পোস্টঅফিস তো খোলা।
কিন্তু পোস্টমাস্টার ইংগিতটা বুঝলো না, সে কয়- না না , পোস্টঅফিসে আমি নিজের হাতে তালা মাইরা আইছি। খোলা না, বন্ধই আছে।
তো ঐ লোক যতই বোঝায়, পোস্টমাস্টার বুঝে না, কয় বন্ধ, বন্ধ, নিশ্চয়ই বন্ধ।
তো লোকটা হাল ছাইড়া দিয়া চইলা গেলো। পরে পোস্টমাস্টার বাসায় ফিরা দেখে তার চেইন খোলা। সাথে সাথে সে সব বুঝলো, বুইঝা তো পাইলো ব্যাপক শরম। কিছুক্ষণ ঝিম মাইরা থাইকা ফোন করলো ঐ লোকটারে।
ফোন কইরা কয়- ভাই, এইবার আমি বুঝছি আপনি কি বুঝাইতে চাইছিলেন। তা ভাই যখন খোলা আছিলো, তখন কি পোস্টমাস্টার ভিতরে ছিলো নাকি বাইরে?

-----------------------------------------------
আর না�

এক ফরাসী, এক ইতালীয় আর এক বাঙালি ট্রেনে বসে নিজেদের বিবাহিত জীবন নিয়ে গল্প করছে।

ফরাসী বলছে, গত রাতে আমার বউকে চারবার আদরসোহাগ করেছি। সকালে সে আমাকে চমৎকার নাস্তা বানিয়ে খাইয়েছে, আর বলেছে, আমার মতো পুরুষ সে আগে কখনো দেখেনি।

ইতালীয় বলছে, গত রাতে আমার বউকে ছয়বার আদরসোহাগ করেছি। সকালে সে আমাকে চম কার নাস্তা বানিয়ে খাইয়েছে, আর বলেছে, আমার মতো পুরুষ সে আগে কখনো দেখেনি।

বাঙালি চুপ করে আছে দেখে ফরাসী তাকে প্রশ্ন করলো, তা তুমি গত রাতে তোমার বউকে ক বার আদরসোহাগ করেছো?

বাঙালি বললো, একবার।

ইতালীয় মুচকি হেসে বললো, তোমার বউ সকালে তোমাকে কী বললো?

ওগো, থামো, আর না �।

---------------------------------------

বনের রাজা টারজানের বয়স যখন প্রায় তিরিশ তখন তার লাইফে জেন এর আবির্ভাব ঘটে।তার আগ পর্যন্ত টারজান বনে পশুপাখিদের সাথেই দিন গুজরান করতো।একবার চিন্তা করেন তিরিশ বছর ধরে সে জঙ্গলে বাস করছে, সেখানে নানারকম পশুপাখি থাকলেও কোন মানুষ নেই।উদ্ভাবনী মস্তিষ্কের অধিকারী টারজান তাই বিভিন্ন গাছের গায়ে ফুটো করে নিয়েছে, প্রথম রিপুকে মোকাবেলা করার জন্যে।

তো জেন আসার কিছু পরের ঘটনা..... জেন একদিন জঙ্গলে গিয়ে দেখলো, টারজান মহা উল্লাসে একটি গাছের সাথে প্রেম করে চলছে।

এই দৃশ্য দেখে জেন খানিকটা ভালোবাসা, খানিকটা অনুকম্পা বোধ করলো টারজানের জন্যে...জামাকাপড় খুলে আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এসে টারজানের উদ্দেশ্যে নিজেকে নিবেদন করলো।

টারজান তখন গাছ ফেলে ছুটে এসে জেনকে অবাক চোখে কিছুক্ষণ দেখলো, তারপর জেনের পেটে কষে একটা লাথি মারলো।

পেট চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো জেন।�জংলি ভূত, আমি তোমাকে প্রেম নিবেদন করলাম, আর তুমি কি না আমাকে লাথি মারলে?� চেঁচিয়ে উঠলো সে।

টারজান এগিয়ে এসে জেনকে জাপটে ধরে বললো, �আমাকে ভুল বুঝো না প্লিজ সবসময় চেক করে দেখি, কাঠবিড়ালি আছে কি না।�
------------------------------
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29076918 http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29076918 2010-01-12 12:03:59