দেশে গিয়ে প্রথম দিন টানা ৮ ঘন্টার ম্যারাথন ঘুম...বিরক্তকর লোডশেডিং আমার ঘুম ভেংগে দিলো...ইচ্ছে হচ্ছিল আরো কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নেই...যাইহোক, ১৭ই অগাষ্টে কোন এক কারনে সকাল সকাল বের হয়ে যাই পল্টন এলাকায়...টাকা অদল বদল করে দৈনিক বাংলা মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকি সি.এন.জি অথবা taxi জন্য...তখন ১১ টার মতো বাজে...এক friend এর সাথে আগেই কথা ছিলো আমরা বসুনদ্বরা সিটি complex দেখা করবো ১১:৩০ এ। আধা ঘন্টায় চলে যেতে পারবো বলেই মনে হয়েছিলো...সি.এন.জির জন্য অপেক্ষার পালা শুরু ...এরই মাঝে ভারী বৃষ্টিপাত...ভাগ্যিস বাসা হতে ব্যাগপ্যাক টা নিয়ে বের হয়েছিলাম...ছাতা বের করে মাথা কিছুটা বাচালাম...২/১ টা সি.এন.জি আসা শুরু করেছে কিন্তু ধারে কাছে যেতে পারছিনা...অনেকেই অপেক্ষা করছে আমার মতো...কোন নিয়মের বালাই নেই...এক সময় মনে হলো এখন যদি একটা সি.এন.জি পাই তাহলে আমিই এই পৃথিবীর একজন সেরা ভাগ্যবান মানুষ হবো...একজন বুড়ো ধরনের মুরুব্বীর কাছে জানতে চাইলাম, চাচা, কাছাকাছি taxi স্ট্যান্ট আছে কিনা? উনি আমার দিকে এমন ভাবে তাকালেন যেন আমি অন্যায় কিছু বলেছি!!! আমি একটু হাসি দিয়ে চাচাকে বললাম, ধন্যবাদ চাচা...
১২ টা বাজে, friend এর ঘন ঘন ফোন, বেচে আছি কিনা জানতে চাইছে...আবারও এক চাচাকে ধরলাম, চাচা, taxi স্ট্যান্ট কোন দিকে? চাচা বললেন, আসলে এখানে ঐরকম ভাবে taxi স্ট্যান্ট বলে কিছু নেই, তয় এক কাজ করেন, ঐ পাম্পের দিকে এগিয়ে যান, ২/১ টা পেতে পারেন...চাচা কে ধন্যবাদ দিয়ে পাম্পের দিকে এগিয়ে গেলাম...ততক্ষনে ১২:৪০... হা, একটা ক্যাব পেয়ে গেলাম কিন্তু ২০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে...বাধ্য হয়ে রাজী হলাম...খানিকক্ষন কথা হলো ক্যাব চালকের সাথে...জেনে নিলাম কিভাবে ক্যাব, সি.এন.জি ম্যানেজ করতে হয়...
সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো, ক্যাব/সি.এন.জি চালকরা উনাদের সুবিধা মতো জায়গায় যেতে চায়...মেজাজ টা তখনই চরমে ওঠে...এ জন্য কাকে দোষ দিবো, ক্যাব চালকদের নাকি সরকারের নাকি আমার মতো পাবলিকদের...
পরবতীতে যতোবারই সি.এন.জি, ক্যাব নিয়েছি আগেই বলতাম ২০/৩০ টাকা বেশী দিবো মামা...কিন্তু বিবেকের কাছে সবসময় লজ্জা পেতাম...আমিও সরকারের আদেশ মানছি না...জানি না কিভাবে এর মুক্তি মিলবে হাজারো বিবেকবান মানুষদের???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



