আমার প্রিয় পোস্ট
- বুফে : ঢাকায় বুফের হালচাল এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার বিখ্যাত বুফে রেস্টুরেন্ট(বিস্তারিত) - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- সামুর সব রেসিপি পোস্ট
[আপডেট * ~ ৫ ~ *] - বাবুনি সুপ্তি
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- বিধাতার মাইনাস প্লাস খেলা, কিছুই বুঝলাম না!!! - ম. রহমান
- ✓ বাংলা নাটক, গান ডাওনলোডের ভাল সাইটগুলো ♪♠☺ - হাশেম
- খারেজিঃ আপনার প্রতি এক সহব্লগারের কিছু সৎ অনুভূতি... - জাতেমাতাল
- ১৮+ কৌতুক প্লিজ ব্যান করবেন না, অথবা করার ইচ্ছা থাকলে ,একটা কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠাবেন।এক্সট্রিমলি ম্যাচিউরডদের জন্য। - বিলাল
- কীবোর্ডের সমস্যা হলেও পাসওয়ার্ড লিখে কম্পিউটার ওপেন করার উপায় - মোঃ শরিফুল ইসলাম সবুজ
- চিরদিনই ভাবতে পারো ----- রেনেসাঁ - বিষাক্ত মানুষ
- এসো ভদ্রতার গলাত দড়ি লাগাই - মহাকাল
- কামেহামেহা, মানোয়া পাহাড় এবং আলোহা। পর্ব-১(খ)। - নির্বাসিত
- মা - বহুরূপী মহাজন
- ছার একডা কতা হুনবেন... - নাদান
- মা, তোমাকে। - নরাধম
আমি অপরাধী...আমায় ক্ষমা করো প্রভু!!!
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:০৮
১৯৯৮ সালের প্রথম দিকের ঘটনা...মাএ কয়েক মাস হলো ঢাকার কোন এক কলেজে ভতি হলাম (কলেজের নামটা এখানে বলতে চাচ্ছি না)... অনেক স্বপ্ন নিয়ে... ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হবো... কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রচন্ড অসুস্হ হয়ে পড়লাম... প্রথম দিকে শুধু মাথা ব্যাথা ছিলো...ধীরে ধীরে সেই ব্যাথা চোখের নিচে এসে বাসা বাধলো...আমার যতো টুকু মনে পড়ে আমার তাকাতেও কষ্ট হতো...এমন অবস্হায় এসে দাড়ালো স্বয়ং ডাক্তার সাহেব আমার ফ্যামিলি কে বললেন, এই ছেলে কে আপনারা ঢাকা থেকে নিয়ে অন্য কোথাও ভতি করান... জানতাম কলেজের হোস্টেল আছে...হালকা একটু চেষ্টা করে ও দেখলাম...কোন লাভ হলো না...কাউকে অনুরোধ করে হোস্টলে উঠা আমাকে দিয়ে হবে না... তাই ফ্যামিলি মেম্বার দের সাথে কথা বলে একটা জেলা শহরের কলেজে ভতি হবার সিদ্বান্ত নিলাম... দুই কলেজেরই প্রিন্সিপালের সাথে কথা হলো...উনারা ও আমার সিচুয়েশন বুঝতে পারলেন...ডাক্তারের কাগজপএ সহ ফরম ফিলাপ করে বকশি বাজারে বোড অফিসে গেলাম...হায়রে এ তো দেখি দালাল আর বাটপারের রাজত্ব... তারপরেও নিজে গিয়ে এক অফিসারকে সবকিছু দেখালাম...উনি অন্য একজন অফিসারের চেয়ার দেখিয়ে বললেন, উনি তোমার এ ব্যাপার টা ডিল করবেন? শূন্য চেয়ার পড়ে আছে, আর আমি হা করে বাইরে দাড়িয়ে আছি... অবশেষে ১১ টার দিকে এক জন ভদ্রলোক বসলেন...কিছুক্ষন পরে গিয়ে অফিসার কে সবকিছু দেখালাম... উনি বললেন, ব্যাংকে গিয়ে কিছু টাকা ফি বাবদ জমা দিতে হবে... কাজটা আমি আগেই করে গিয়েছিলাম...বললেন ১ সপ্তাহ পরে খবর নেওয়ার জন্য... কথামতো এক সপ্তাহ পরে গিয়ে জানতে পারলাম আমার আবেদন রিজেক্টেট... অফিসার আমাকে ডাকলেন... তুমি কি সত্যিই কলেজ চেন্জ করতে চাও? প্রশ্ন টা শুনে একটু অবাক হলাম...!!! বললাম, জ্বি... ২০০০ টাকা লাগবে, না হলে স্যার এটা সাইন করবেন না... বকশি বাজারে বকশিশ ছাড়া কোন কাজ হয় না, তা আমার জানা ছিলো না... পরে ১০০০ টাকায় উনি কাজ টা করে দিলেন...আজো মনে পড়ে, উনি আমাকে বলেছিলেন, একটা প্যাকেটে করে ১০০০ টাকা নিয়ে আসতে...ড্রয়ার খুলে দিয়ে বললেন, এখানে রেখে দাও... উনি আমার ফম টা দেখলেন এবং জানতে চাইলেন এটা কে পূরন করেছে...বললাম, আমিই করেছি... শেষে উনি বললেন, হাতের লেখা ভালোই আছে....এক কাজ করো, আমার এই ৩ টা পাতা সুন্দর করে লিখে দাও...তাও দিলাম ... এটা ও এক ধরনের ঘুষ মনে করি আজও...
জীবনে একবারই ঘুষ দিয়েছি...মাঝে মাঝে এখন ও ঐ লোকের জন্য দোয়া করি... হয়তো একদিন উনি বদলাবেন...প্রভু আমায় ক্ষমা করো...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন:
হ !!! কত রকমের ঘুষ যে আছে আমাদের দেশে...আমি ও মাঝে মাঝে এটা মনে করে হাসি...
ভালোই ঝামেলায় আছি...ঝামেলা ছাড়া জীবন আবার খুব বেশী পানসে...তাই বলি ভালোই আছি...
মাহবুবা আখতার বলেছেন:
ঐ লোকের জন্য দোয়া রেছেন, ভালো কথা, আপনি মহৎ মানুষ। আমি আপনার জায়গায় থাকলে সুযোগ পেলে বিরাশি শিক্কা ওজনের একটা ঘুষির ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করতাম লোকটার জন্য। এদের জন্য মহত্ত নয়, শাস্তি প্রাপ্য।
লেখক বলেছেন: ঘুষ নেবার সময় লোকটার মুখ দেখে আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম... মনে হয়েছিলো মানুষ টা অনেক বেশী অসহায়...
আমি মহৎ মানুষ হবার আগে একজন মানুষ হতে চাই... সে প্রচেষ্টায় আজো মনে হয় পৌছাতে পারিনি...
একটা ঘুষি দিয়ে কি কাউকে বদলাতে পারবেন??? শাস্তি দিয়ে কি আপনি পুরো সমাজের ঘুষ নেওয়া রোধ করতে পারবেন...হয়তো সাময়িক ভাবে কমাতে পারবেন... যাইহোক সুযোগ পেলেও কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না বলে আশা করছি...আপনাকে ধন্যবাদ...
উরনচণ্ডী বলেছেন:
বিচিত্র ধরনের ঘুষ।
লেখক বলেছেন: হুমম...লিখে ফেলুন যদি ঘুষ দেবার কোন সুযোগ হয়ে থাকে...
দূরন্ত বলেছেন:
ইউনিভার্সিটিতে আমার রুমমেটের হাতের লেখা খুবই ভাল ছিল। ডিপার্টমেন্টের এবং হলের খেলাধূলা, সংবর্ধনা ইত্যাদি সব ধরনের সার্টিফিকেট লেখার জন্য সবসময় ওর ডাক পড়তো। সে এজন্য প্রায়ই খুব বিরক্ত হতো, তবু লিখে দিত। কাউকে না করতো না।
লেখক বলেছেন: হাতের লেখার চেয়ে ভদ্র লোক উনার কাজটি করিয়ে নিয়েছিলেন আমাকে দিয়ে এটাই বড় কথা...
লেখক বলেছেন: আপনি মজা পেলেন...!!! নিজেকে যে এখনও অপরাধী মনে হয়...!!! এখন হলে হয়তো বলতো ৩ পাতা টাইপ করে দাও ...!!!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















--- হা হা হা.. জটিল ঘুষ দিছেন আপনি...
কেমন আছেন?