somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কারণে পুলিশকে আমি জারজ মনে করি...

১৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হতে পারে এটা আমার বংশগত রোগ । আমার আত্মীয়-স্বজন তিনকূলের মধ্যে পুলিশ বলতে ছিলেন আমার এক সৎচাচার শশুর । তিনি এখন অবসরে । কাকার বিয়েটা লাভ ম্যারেজ । তারপরও আমার দাদার একমাত্র আপত্তির বিষয়টি ছিলো মেয়ের বাবা পুলিশ । মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দাদা শুধু সে কারণেই বিয়েটা মেনে নেন নি ।

আর আমার একসময়ের ক্লাস ফ্রেন্ড মিঠু এখন পুলিশে চাকরি করে । চাকরিতে জয়েন করার পরে ও যখন আমার সাথে দেখা করতে এলো, আমি ওর চোখের দিকে তাকাতে পারি নি । ওর বাবাও পুলিশ । নিষিদ্ধ রক্ত তো ওর ধমনীতে বহমান । আমি নিশ্চিত- এতদিনে ওর শরীর কোনো নিরাপরাধীর রক্তে স্নাত হয়ে গেছে ।

স্ববিরোধিতাই যে একটা পুলিশের একমাত্র পরিচয়, তা-ই নয় । এরা একই সঙ্গে শ্বাপদ, শকুন ও রেপিস্টের ভূমিকায় নামে হরহামেশাই । যেই পুলিশ একসময় রাশেদখান মেনন ও মতিয়া চৌধুরীর মতো মানুষকে কুকুরের মতো রাজপথে পিটিয়েছে । মতিয়াকে তো বিবস্ত্র করে ছেড়েছে । সেই পুলিশই জয়নাল আবেদীন ফারুক ও পাপিয়াকে হিংস্র হায়েনা হয়ে লাথিয়েছে । বিবস্ত্র করেছে মাহমুদুর রহমানকে । আকবরের মতো বৃদ্ধ সাংবাদিকের বুকে বুটের আঘাতে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছে ।

ওদের কর্মকাণ্ড এত অমানবিক ও এতটা নিষ্ঠুর, একপৃষ্ঠা কোট করে রাখার পরও এখন লিখতে আমার ঘেন্না লাগছে ।

গতবছর এইডস রোগীদের উপর একটা জরিপ চালিয়েছিলো একটা বিদেশি সার্ভেয়ার গ্রুপ । সেখানে এইডস আক্রান্ত একটি মেয়ে তার উপর পুলিশের পাশবিক নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছে, তার পরে আমার আর পুলিশকে মানুষ মানা সম্ভব হয় নি । সেই মেয়েটিকে থানায় আটকে রেখে পুলিশের অফিসার থেকে শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত ভোগ করেছে । রেপ করেছে । এইডসের ভাইরাস পুশ করে তবে ছেড়েছে ।

মোহাম্মাদপুরের গাঁজার আসরের প্রধান গ্রহিতা ও বিক্রেতা যে পুলিশের হাজারও সদস্য, এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না । এ দেশে একদল বদমাশ গুন্ডাকে প্রশ্রয় দেয় সরকার । আরেকদল গুন্ডা পালে বিরোধী দল । এবং এই দুইটি দলকেই মদদ দেয় পুলিশ । কালাজাহাঙ্গির থেকে শুরু করে যত বড় বড় সন্ত্রাস-গডফাদার এদেশে সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছেনের মূল কারিগর পুলিশ ছাড়া আর কেউ নয় ।

জগলু গ্রুপের প্রধান কানা ছালেক যদি থানায় যায়, ওসি সাহেব জামাই স্বরে বলবেন, আরে ছালেক ভাই, আপনি তো আমাদের ভুইলাই গেছেন । এই ছালেক সাহেবকে চা দাও । আর যদি স্বয়ং জগলু নিজেই উপস্থিত হয়, তাইলে তো কথাই নাই । হাঁকডাক দিয়া পুরা থানা তোলপাড় । ওসি-দারোগা সব কদমবুচি করতে করতে একাকার । ওসি হয়তো মুখ ঝামটে বলবেন, যান, আপনের লগে কথা কমু না । হেই বিষ্যুদবার আপনেরে দেখছি, আর কোনো দেখা-সাক্ষাৎ নাই । আমাগো ভুইলা গেলে কই যামু কন !...

রিমান্ডে পুলিশ যে নিপীড়ন চালায়, তার ভাষা কি আপনাদের জানা আছে ? আপনারা অনেকেই হয়তো এই আধুনিক যুগে মৃত্যুদণ্ডের বিপেক্ষে কথা বলেন, তাদের কাছে মৃত্যু কি রিমান্ডের অত্যাচার থেকে বেশি মানবিক ? আপনি কি জানেন ৫৪ ধারার মতো একটি জারজ আইনের মাধ্যমে কিভাবে কোনো কারণ ছাড়াই সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ? জানেন কি পুলিশে গ্রেপ্তার হওয়া ৮০% লোক জানে না, তারা কী অন্যায়ে থানা বা কোর্টে যাচ্ছে ?

এসব কথার স্বীকৃতি আজকাল খোদ পুলিশ নিজেও দেয় । এর পরে একটা খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করিয়ে তাদেরকে আনা হয় ইন্টারগেশন সেলে । সেখানে পুরুষের পেনিসে কারেন্টের শক এবং মহিলাদের নিতম্বে দেয়া হয় ইস্ত্রি মেশিনের ছ্যাঁকা । পুলিশ এটাকে হাসতে হাসতে বলে ‘ডলা’ । আদালতে হয়তো এই ডলা খাওয়া লোকটির কোনো সাজাই হয় নি । বিশ্বাস হয় না ? ‘জর্দ্দা জামাল’- এর সিনটায় একবার চোখ বুলাইয়েন ।

দেশের অস্থির সময়ে তো পুলিশের পোয়াবারো । যত মানুষ ধরবে, তত পকেট ভরবে ।পিটিয়ে পিটিয়ে কিংবা চাপতি দিয়ে কুপিয়ে হাতের ঝাল মেটাবে । কোম্পানীর সেলসম্যানদের মতো এদের তখন টার্গেট নির্ধারণ করে দেয় হয়, দৈনিক সপ্তাহে ও মাসে এত ‘ক্রিমিনাল’ ধরে আনেতে হবে । আরে ভাই, ক্রিমিনাল যদি ধরতে না পারে তাহলে পুলিশে চাকরি থাকবে কী করে ? প্রমোশন তো দূরের কথা । তাই ক্রিমিনাল পয়দা করতে হয় প্রথমে ।

সায়েন্টিসদের মতে বড় বড় ক্রিমিনালরাও তাদের ক্রাইমে কোনো না কোনো খুঁত রেখে যায় । এই খুঁত চিহ্নিত করে পুলিশ । একমাত্র পুলিশই পারে নিখুঁত ক্রাইম করতে । কারণ খুঁতগুলো তারা জানে । বলেন তো কথাটা কোন বিখ্যাত পুলিশ অফিসার বলেছিলেন ?

আমাদের দেশের দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সবচে’ বেশি অবদান কার, জানেন তো ? এবং দেশের সবচে’ দুর্বিনীত সংস্থা কোনটি সেটা জানেন ?

এরপরও এই পুলিশদের সবচে’ কুখ্যাত সদস্যরা তাদের ‘অবদান’- এর স্বীকৃতিতে এওয়ার্ড পায় ! যেমন, এডিসি মেহেদি হাসান ।

মানুষের রক্তে গোসল করার তৃষ্ণায় রাতে ঘুমাতে পারে না এরা । রাতের আঁধারে জারজ হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর । লাখো লাখো গুলি বর্ষণ করে মানুষ হত্যার মহাউৎসবে উল্লাস করে । দেখেছেন তো, কত বিকৃত আনন্দ নিয়ে এরা মানুষকে মারে । একজন পুলিশ কাউকে ধরে রাইফেল দিয়ে পেটাচ্ছে । পাগলা কুত্তার মতো আরো কয়েক জন সেই আধমরা মানুষটার উপর বেধড়ক লাঠি চালাবে । যখন লোকটা রাস্তায় পড়ে তড়পাচ্ছে । ঠিক তখন এসে এক হায়েনা তার উপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দেবে । তারপর সাংবাদিকদের সামনে এসে গলা উঁচিয়ে বলবে- আন্দোলন মারাইতে আসছে । আন্দোলন একদম…..দিয়া ঢুকায়া দিমু । কোনো সাংবাদিক প্রতিবাদ করলো তো, তাকেও একলাছা লাঠির বাড়ি লাগাবে আর বলবে, পিটা অরে । ধুর, সাংবাদিক পেটালে কিছু হয় না । বেশ । বেশ ।

হয়তো এই কারণেই মানবতাবাদী কম্যুনিষ্টদের (জনযুদ্ধ) টার্গেটে পড়েছে পুলিশ । খুলনায় তারা ছ’মাসে ২২ পুলিশকে জবাই করে দিয়েছে । সাঈদীর ফাঁসীর রায়ের পরে অন্তত দেড়শ’ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ । বিনিময়ে গেছে ওদের চারটে তরতাজা প্রাণ ! ওই দেড়শ’ তো কোনো প্রাণ না, ময়লা । আর শাপলা চত্বরে মেরেছে কত কে জানে ? ওখানে তো ব্যাপক উৎসবের আমেজ । পরদিন চিটাগং রোডে মরেছে দুই পুলিশ আর বিশজন সাধারণ মানুষ । অর্থাৎ পুলিশ মানুষের কাতারে ছিলো না ।

তাই তো বলি- ওরা মানুষ না পুলিশ ।

আমাকে এ যুক্তি শুনিয়ে লাভ নেই যে, ওদের মধ্যেও তো ‘সৎপুলিশঅফিসার’ আছে । হ্যাঁ আছে । এজন্যই গোবরে পদ্মফুলের মতো তাদের নামের সাথে ‘সৎ’ শব্দটি যোগ করতে হয় । নইলে বাকি তো সব হায়েনা । কই কোনো ব্যাংকার, কিংবা কোনো ডাক্তারকে তো বলতে হয় না সৎব্যাংকার বা সৎডাক্তার ?

হুমায়ূন আহমেদ দিয়ে শেষ করি । একজন হিমু ও কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা বইতে তিনি লিখেছেন-
“এই যে ঘটনাগুলি ঘটে, আপনাদের হাতে লোকজন মারা যায়, আপনাদের খারাপ লাগে না ?
ওসি সাহেব সিগারেটে লম্বা টান দিতে দিতে বললেন, সত্যি কথা জানতে চান ?
‘হ্যাঁ জানতে চাই ?’
‘পরনে যখন খাকি পোশাক থাকে তখন খারাপ লাগে না । বাসায় গিয়ে যখন লুঙ্গি গেঞ্জি পরি তখন খারাপ লাগে ।
‘তাইলে লুঙ্গি গেঞ্জি পরে অফিসে এলেই হয় ।…..চোরের পেছনে লুঙ্গিতে মালকোচা দিয়ে দৌড়াবেন ।…..”

ভাই, যারা আমার এই দীর্ঘ লেখাটা পড়বেন, একবার বলে যাবেন, মনুষ্যত্বের এই দুর্দিনে পুলিশ নামের জানোয়ারগুলোকে রাষ্ট্রের কেন পেলে পুষে রাখতে হয়, জানেন ?

হয়তো এ লেখার কারণে আমি এ্যারেস্ট হয়ে যেতে পারি । বাকস্বাধীনতার যথেচ্ছাচার করেছি হয়তো আমি । আর আশ্চর্যর বিষয়, এ্যরেস্ট করতে আসবে সেই স্বাধীনতা আর মানবতার সবচে’ ক্ষতিকারক কীট ওই পুলিশ । অনুরোধ- আমাকে ধরতে যেন অন্য কোনো বাহিনী পাঠায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৫৯
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×