৯১ থেকে ৯৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ছিল- অনামিকা অধ্যায়। ৯১ সালের মাঝামাঝি ঢাকা ছাড়ি চাকুরী নিয়ে। হপ্তায় ২/৩টি চিঠি আর প্রতি বিষ্যুদবার রাতে ঢাকায় আসা ছিল রুটিন। শুক্কুরবার ছিল আমাদের ডেটিং ডে। সেকালে ডেটিং-এর জন্য সিনেমা হল ছিল উতকৃষ্ট স্থান। কত যে বাংলা সিনেমা দেখেছি...। তিনি ছিলেন আবার বাংলা সিনেমার ভয়ানক ভক্ত। সিনেমা হল নিরাপদ ভেবে ঢুকেছি, আর শ্বশুরের মেয়ে দিব্যি মনযোগ দিয়ে ছবি দেখছে। শালার কপাল...
৯৪ সালের আগস্ট মাসে এসে হঠাত অনামিকার মনে হল,
" সে যে ছেলেটির সাথে প্রেম করছে- ২/১ বছরের মধ্যে যাকে বিয়ে করবে- সেই ছেলেটির কী আছে (এখানে কী আছে বলতে অর্থ-বিত্তকে বুঝানো হয়েছে)? নিদেনপক্ষে ঢাকা শহরে একটা বাড়ীও নেই !" এই বিষয়টা তার মনে সংশয় তৈরী করল। আমার সাথে দেখা/ যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিল। চিঠি লিখছি (তখন মোবাইল এভেলেবল ছিল না), বন্ধুদের পাঠাচ্ছি- সে পাত্তাই দিচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে তার বড় বোনের সাথে দেখা করলাম(সে আমাদের বিষয়টা জানতো)। তার উত্তর শুনে আমার আক্কেল-গুড়ুম! বললেন," এটা আপনাদের ব্যপার। তাছাড়া অনামিকা যদি আপনার সাথে যোগাযোগ না করতে চায়, আমার কী করার আছে ?? " সব শুনে আমারও জিদ চেপে গেল। এবার আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম। সে কী ভয়ানক দিনগুলো গেছে ! কাজে অমনযোগীতার জন্য আমাকে বদলী করে হেড অফিসে নিয়ে আসা হল। আমি তখন স্কয়ারে।
৯৫ এর বইমেলায় আমাদের একটা স্টল ছিল। শুধু হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের দোকান। নাম-'কোথাও কেউ নেই'। কোন এক ছুটির দিনে দুপুরের দিকে দোকানে বসে আছি। মেলায় লোকজন কম। ২/৩টি মেয়ে এলো দোকানে। ছটফটে টাইপের একজন বললো-' ভাইয়া কেমন আছেন ? চিনতে পারছেন ? '
আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। আমার দৃষ্টি ওদের তিন জনের এক জনের দিকে...। চেহারাটা বেশ পরিচিত। কিছুতেই মনে করতে পারছিনা... অথচ আমি তাকে চিনি....। চট করে মনে পড়লো। আরে, এতো সেই মেয়ে...ছোট বোনের বান্ধবী। যার সাথে দেখা নেই প্রায় ১১ বছর...!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

