জাহাঙগীর নগরের প্রান্তিক গেটে নাস্তা সেরে আমরা ১০ জন ( জিয়া ইসলাম, সিমু নাসের, স্বর্ণা - প্রথম আলো, কিমি, আশা - ছাত্রী, স্বপন ও তার বৌ তানজীন, পারভেজ- বিডি নিউজ, নওরোজ - এক্স সিএসবি) আটটার সময় মাইক্রো ছাড়লাম। গন্তব্য পাবনা। আমাদের সবার বন্ধু রাফেলের (যায়যায়দিন) বৌ ভাতে যোগ দিতে।
যমুনা ব্রিজে এই নিয়ে দুবার আমার সৌভাগ্য হয়েছে ট্রেনের সাথে ব্রিজ পার হবার। ব্রিজ পার হয়ে সিরাজগন্জে এরিস্টোকেট হোটেলে থামলাম। পাশের একটা ছোট দোকানে বিশাল বড় বড় গামছা দেখে মেয়েদের কেনার সখ হলো। কী করবে ? বললো- ফতুয়া বানাবে। গামছাগুলোও দারুন ! দোকানীর একদাম- প্রতিটা ৮০ টাকা করে। আমাদের মেয়েগুলো কোনোভাবেই ৬০ টাকার বেশী দেবে না। অগত্যা না কিনেই আবার যাত্রা।
এরপর আমাদের যাত্রা বিরতি- শাহজাদপুর। মেইন রোড থেকে ৩/৪ মিনিটের পথ ভেতরে। এখানে আছে- " রবীন্দ্র কাছারি "। ১২/১৩ বিঘার এই কাছারি বাড়ি রবী বাবু ১৮৪১ সালে ১৩ টাকা ১০ আনা দিয়ে কিনেছিলেন (তথ্যসূত্র : কেয়ার টেকার ) । কাছারি বাড়িতে ঢুকতে যেয়ে সাইন বোর্ডের লেখাগুলো পড়ে শিহরিত হলাম। এখানে বসে রবীন্দ্রনাথ তাঁর অনেক রচনার মধ্যে- ছুটি, ক্ষুধিত পাষান, সমাপ্তি আর পোস্ট মাস্টারের মতো অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করেছেন। নিচতলায় রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন সময়ের সব ফটোগ্রাফ। দোতলায় তাঁর ব্যবহার্য আসবাব পত্র। সোফা, ড্রেসিং টেবিল, খাট, বিশাল লেখার টেবিল, আরাম কেদারা.... কত্তো কী !!!
শাহজাদপুর - পাবনা সড়কের পাশেই (সাঁথিয়া থানা) বেঙ্গল মিটের কারখানা। বাংলাদেশের একমাত্র মাংশ প্রসেসিং কারখানা। সে এক এলাহি ব্যাপার। জ্যান্ত গরু এবং ছাগলকে কিভাবে জবাই, চামড়া ছিলা, ভুড়ি-কলিজা-মাংশ আলাদা করা, পিছ করে দেশে এবং বিদেশে পাঠানোর মতো করে প্রস্তত করা হয়--- তা আমাদের দেখানো হলো। এই কারখানাতে দুটো রুম আছে, একটি মাইনাস ১৪ ডিগ্রি এবং অন্যটি মাইনাস ৪০ ডিগ্রি । দরজা খুলে দেখালো আমাদের। মূহুর্তে জমে যাবার মতো অবস্থা আমাদের। কী ঠান্ডা ! অবিশ্বাস্য !!
এতোসব দেখতে দেখতে দেড়টা বেজে গেছে কখোন, কারো সেদিকে খেয়াল নেই। পেটে টান পড়াতে সবার হুশ হলো। ছুটলাম পাবনার উদ্দেশ্যে। পাবনা টাইন হলের সাথে বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারে পোঁছে খাবারের গন্ধে ক্ষিধায় আমাদের নাড়ি ভুড়ি বেরিয়ে যাবার অবস্থা ! রাফেলের বৌ কে দেখতে গেলাম- দোতলায়। মাশাল্লাহ ! বৌ বড়উ সৌন্দর্য। চোখগুলো বিড়ালের মতো। দারুন একখান নীল শাড়ি পরা। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলাম। খেলাম পেট পুরে। মুরগী, খাশী আর গরুর গোশত, বুটের ডাল আর দধি।
বেলা ৪ টা বেজে গেছে। আমাদের বেরুতে হবে। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সাড়ে ৪ টায় আবার ছুটলাম। এবারের গন্তব্য- পাবনা মানসিক হাসপাতাল। লোকাল ভাষায় সংক্ষেপে বলে- মেন্টাল। পাশেই অনুকুল ঠাকুরের আশ্রম। প্রথমে আশ্রমে গেলাম। তারপর মেন্টালে। মেন্টালে ঢুকে রুগীদের অবস্থা দেখে সবারই মন খারাপ হয়ে গেছে। কেউ গান গাইছে, কেউ উদাস হয়ে জানালার মোটা মোটা শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ কেউ হাতের কাছে যা পাচ্ছে এটা সেটা ছুঁড়ে মারছে, অনেকে একসাথে চিৎকার দিচ্ছে। সে কী ভয়াবহ চিৎকার !! না দেখলে বিশ্বাস হবে না। জানা গেছে, এখানে যতো রুগী আছে তার বেশীরভাগই প্রেম ঘটিত। কিছু আছে ভয় পাবার কারণে। কিছু পারিবারিক সম্পত্তির কারণে। অনেকের আত্নীয়-স্বজন দীর্ঘদিন থেকে কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। কী অসহায় এ মানুষগুলো........
আমাদের মাইক্রো ছুটছে ঢাকার পথে। বাইরে সন্ধা নেমেছে। খোদাকে ধন্যবাদ ! কেউ কারো মুখ দেখছে না- অাঁধারের কারণে। কারো মুখে কথা নেই......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

