সারা দেশ ঘুরা আছে আমার। আমাদের কতিপয় বন্ধু আছে- যাদের কাজই হচ্ছে প্রতি মাসে ২/১ বার করে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়া। সে অনুযায়ী গত ১৯ জুন রাতে আমাদের চাঁপাই জেলার শিবগন্জের কানসার্টের এক আম বাগানে যাবার কথা ছিল। বাগান থেকে আম খেতে। আমারও যাবার কথা। চাঁদাও দিয়েছিলাম। অথচ যাওয়া হয়নি আমার। না যাবার কারণ শুনে আমার বন্ধুরা দ্বিতীয়বার আমাকে অনুরোধ করেনি। মন খারাপ করে ওরা চলে যায়।
নাটোর অনেক কারণে বিখ্যাত। এখানে জীবনানন্দের বনলতা সেন, উত্তরা গণ ভবন, সালাম ভাইয়ের লাঠি বাঁশি সমিতি, কাঁচা গোল্লা আর ওষুধি গ্রাম আছে। আর আছে আমাদের শাশ্বত। শাশ্বত ছাড়া বাকীগুলো আমার দেখা। সেই নাটোর পার হয়ে রাজশাহী। যেখানে আমাদের শাশ্বত পড়াশুনা করে।
" আচ্ছা বাবা, এই শাশ্বত চাচুটা কে ? " আমার আট বছরের ছেলের এ প্রশ্নের কোন জবাব আমি দিতে পারি না। কী করে দেব ? আমি নিজেও তো জানিনা, শাশ্বত কে ? আমার ছেলে শুক্রবারে আমার সাথে বসুন্ধরায় যায়....শনিবারে মাস্টারের পড়া শেষে তার মাকে নিয়ে আবার যায় বসুন্ধরায়....
আমি না যাবার কারণটা বন্ধুরা জানে বলে ফোনে জানতে চায়- শাশ্ব'র জন্য কত টাকা পাওয়া গেল ? আমি সুখ অনুভব করি। শাশ্বত'র জন্য শুক্রবার সারাদিন বসুন্ধরার গেটে সাহায্য চাই। কেউ দেয়, কেউ দেয় না....
আমাদের চেষ্টা চলতে থাকে.....চলতেই থাকে। ইস, সবাই যদি ২ টাকা করেও দিতো.....অনেক টাকা হতো আমাদের শাশ্বত'র.... তবু আমরা হাত পাতি মানুষের কাছে.....
যারা আসতে পেরেছে, যারা পারে নি- সবার সে কী আকূতি ! এ ওকে ফোন করে জানতে চায় কতো টাকা হলো ?? আর কতো লাগবে আমাদের শাশ্বত সোজা হয়ে হাঁটার জন্যে ??? রাতে শরীরে ক্লান্তি আর মনে তৃপ্তি নিয়ে বাসায় ফিরি আমরা সবাই....
গত ২ দিন ভয়ানক ব্যস্ত আমি। মো: নাসিম আর সুরন্জিত সেন ভর্তি আমাদের হাসপাতালে। টোটাল মিডিয়াকে সামলাতে হচ্ছে আমাকে। কাল বিকেলে নেমেসিস ফোন করে জানতে চায়- কোথায় আমি ? প্রত্যু'র পোস্টটা দেখেছি কি না ?? বলি, না। তাড়াতাড়ি দেখেন.... আমার দেখা হয়ে উঠে না। শুধু শ.হো.মাসুম ভাইকে শুভেচ্ছা আর কৃতগ্গতা জানাই। কাল ছিল তার ৭ম বিয়ে বার্ষিকী। তার কারণে আমাদের শাশ্বত 'র জন্যে চট্রগ্রামের ব্যবসায়ী ২ লাখ টাকা দিয়েছেন.... হে ঈশ্বর ! এ রকোম আর মাত্র ৮ জন মানুষের প্রয়োজন আমাদের !!!! হে মানুষ ! কোথায় তোমরা ?? মাত্র ৮ জন মানুষ !!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

