somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ সময়ের রোগ : ডেঙ্গু জ্বর, সবাই সাবধান !!!!

২৪ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডেঙ্গু কী
ইংরেজিতে যার উচ্চারণ ডেঙ্গি কিন্তু বাংলাতে ডেঙ্গু নামেই অধিক পরিচিত। এটি একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশার নাম এডিস মশা। অন্য ভাইরাস রোগের মতো এ রোগেরও কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেই। ভাইরাল ফিভারের মতো এ রোগও ৭ দিনের মধ্যে আপনাতেই সেরে যায়। তবে এর মুল সমস্যা হচ্ছে-পরবর্তীতে অনেক জটিলতা দেখা দেয়। সময়মতো সঠিকভাবে মোকাবেলা করা না গেলে রোগীর শারীরিক অবনতি ঘটতে পারে। দেখা দিতে পারে ডেঙ্গু হেমারেজিক ফিভার বা রক্তক্ষরণকারী ডেঙ্গু জ্বর।
কীভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস সেই মশার দেহে প্রবেশ করে। ভাইরাস বহনকারী সেই এডিস মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস তার দেহে ঢুকে পড়ে এবং ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ডেঙ্গুর লক্ষণ
চোখে, গায়ে আর কপালে প্রচন্ড ব্যথা হয়। হঠাৎ করেই জ্বর আসে। চোখেও ব্যথা করে। এদিক-সেদিক তাকানো মুশকিল হয়ে পড়ে। দাঁতের মাড়ির পাশাপাশি পায়খানা এবং প্রশ্রাবের সাথে রক্ত পড়ে। পায়খানার রং কালো বা কালচে কালো হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মস্তিষ্কেও রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া উচিত।

ডেঙ্গু হেমারেজিক জ্বর বুঝার উপায়
রক্ত পরীক্ষায় যদি প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণী জ্বর। রোগী অগ্যান হওয়া, শকে চলে যাওয়া, অবসন্নতা, অস্থিরতা, তীব্র পেট ব্যথা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, হাত পা ঠান্ডা হওয়া, অধিক পরিমানে প্রশ্রাব হওয়া- ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেশী রক্তক্ষরণ হলে ‘ফ্রেশফ্রোজেন প্লাজমা’ অথবা প্রয়োজনে পূর্ণ রক্ত পরিসন্চালনের মাধ্যমে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেয়া গেলে ডেঙ্গু হেমারেজিক জ্বর সারিয়ে তোলা যায়

রোগীর যতœ
০ রোগীকে প্রচুর পরিমানে তরল খাবার খাওয়াতে হবে
০ প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে
০ প্রশ্রাবের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে
০ জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে বার বার গা মোছাতে হবে

ডেঙ্গু রোগীর রক্তের পরীক্ষা
সত্যি বলতে কী, ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্তনরণের অর্থাৎ জীবানু পৃথককরণের কোনো পরীক্ষা আমাদের এখানে নেই। রোগের লক্ষণ দেখে রক্তে বিশেষ অ্যান্টিবডি উপস্থিতি নির্ণয়ের মাধ্যমে সাধারণত ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়। তবে এটি কোনো নিশ্চিত পরীক্ষা নয়। সাধারণ জ্বর হলে এ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কারণ এটি একটি ব্যয়বহুল পরীক্ষা। জ্বর ১০৩ ডিগ্রির বেশী হলে প্রথমে রক্তের একটি রুটিন টেস্ট করে পে¬টলেট কাউন্ট দেখে নেয়াটা জরুরি। প্লেটলেট কাউন্ট ১ লাখের কম হলে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বিশেষগ্জ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ বরুন।

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা
অধিকাংশ ডেঙ্গু জ্বরই আতংকিত হবার মতো তেমন ভয়াবহ নয়। ৭ দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। শুধু প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমানে পানি, তরল খাবার আর বিশ্রামের। সাথে জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল। তবে, রোগীকে ব্যথানাশক হিসেবে এসপিরিন বা ক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না। এতে রোগীর রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে।
হেমারেজিক বা রক্তক্ষয়ী ডেঙ্গু (যা খুব কমই হয়ে থাকে) বেশি ভয়াবহ। তাই, জ্বরের পাশপাশি রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখ গেলে সাথে সাথেই রোগীকে বিশেষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
হেমারেজিক বা রক্তক্ষয়ী ডেঙ্গু জ্বরে প্লেটলেট, আর ডেঙ্গু শক সিনড্রমে দরকার রক্তরস বা প্লাজমা। এক ব্যাগ অর্থাৎ ২০০ মিলিলিটার প্লেটলেটের জন্য পুরো ৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন পড়ে। অবশ্য সেল সেপারেটর মেশিনের সাহায্যে একজন ডোনারের কাছ থেকেই সম পরিমাণ পে¬টলেট সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু সেল সেপারেটর মেশিন বেশি না থাকায় রেফ্রিজারেটেড সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে সাধারণত ৩ ব্যাগ ব্যবহার হরে রক্তের তিন ধরণের কম্পোনেন্ট আলাদা করা হয়ে থাকে। ডেঙ্গু হয়ে গেলে অনেক রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। এক ব্যাগ প্লেটলেটের জন্য ৪ ব্যাগ রক্ত।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের করনীয়
০ পরিবেশ সম্পর্কে গণ সচেতনতা তৈরী
০ নিজের ঘর, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা
০ ফুলের টব, পুরোনো ক্যান,পাত্র, গামলা ইত্যাদিতে যাতে ৪/৫ দিন পানি জমতে না দেয়া
০ ছোট আবদ্ধ স্থানে যাতে বৃষ্টির পানি না জমে সে ব্যবস্থা নেয়া
০ আপনার এলাকাজুড়ে বাড়ি বাড়ি মশা মারার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে
০ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে
০ বাড়ীতে কেউ আক্রান্ত হলে যথাযথ চিকিৎসা করানো
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×