আমার কলিগ রোমানার গল্প আগেই বলেছি। ওর মেজাজের কোন ঠিক ঠিকানা নেই। এই ভালো, এই মন্দ ! আগে মন-মেজাজ খারাপ হলে ছুরি, কাঁচি, কলম- মানে হাতের কাছে যা পেত ছুঁড়ে মারতো। আল্লাহ বাঁচিয়েছে আমাকে। ইদানীং আর ছুঁড়ে মারার সুযোগ পাচ্ছে না বেচারী !! স¤প্রতি ওর সাথে আমার ‘কথা না বলা’ সম্পর্ক যাচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত সপ্তাহ খানেক আগে।
মোহাম্মদ নাসিম আমাদের হাসপাতালে ভর্তি। সেদিন তার জরুরি মেডিকেল বোর্ড বসবে। সকালবেলায় বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ চিলের মত ছোঁ মেরে আমার টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা নিয়ে বললো- ‘ভাইয়া, ২ ঘন্টার জন্য আপনার মোবাইলটা নিয়ে গেলাম।’ না বলারও সুযোগ পেলাম না। মেজাজ খারাপ হলো। মোবাইল নিয়ে সে তার ডেস্ক ছেড়ে লাপাত্বা ! তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের এবং আমার দুটো মোবাইলই বন্ধ করে দিয়েছে।
আধা ঘন্টাখানেক তাকে না পেয়ে তার ডিপার্টমেন্টের বসকে জানালাম বিষয়টা। ভদ্রলোক সব শুনে ভীষন ক্ষেপলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, আমি অফিসিয়াল একশনে যাব। এটা কী ধরণের কথা ? অন্যের মোবাইল নিয়ে যাবে ! এবার আমি পড়লাম মহা ফাঁপড়ে ! ভদ্রলোককে কোনমতে মানাতে পারছিনা। গজ গজ করে বললেন, আপনারা আস্কারা দিয়েই ওকে মাথায় তুলেছেন ! আজ আসুক ....! পিয়নকে পাঠালেন ওকে খুঁজে আনতে....। ১৫/২০ মিনিট পরে আমার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে কলিগ। হাতে আমার মোবাইল। চোখ দিয়ে বরষা ! স্যরি, ভাইয়া। আর এমন হবে না.... আর কিছু বললো না। চোখ মুছতে মুছতে নিজের টেবিলে গিয়ে বসলো। সেই থেকে আমাদের ‘কথা না বলা’ সম্পর্ক যাচ্ছে।
রোমানা ছাড়াও আমার ম্যালা যন্ত্রণাদায়ক কলিগ আছে। ওদের সারাদিন মুখ নড়তেই থাকে, নড়তেই থাকে। হয় কথা বলে, নতুবা খাদ্য খায়...। আমাকে দেখলেই কিছু না কিছু খেতে চাইবে ( ওরা আবার পরের টাকায় কফি ছাড়া চা খায় না। অন্যের টাকায় ফ্রাইড চিকেন, বার্গার ওদের খুবই প্রিয় খাবার...)। ওদের সামনেই আমাদের কফি সপ। আজকাল আর আমাকে অর্ডার দিতে বা আমার অনুমতি নিতে হয়না। শুধু ওদের সামনে পড়লেই হলো। নিজের মত করে অর্ডার দেয়, খায়। আর আমাকে বিলটা দিতে হয়...
প্রিয় ব্লগার, এহেন কলিগদের হাত থেকে আমি বাঁচতে চাই ! আমাকে বাঁচাতে দয়া করে কেউ কি এগিয়ে আসবেন ???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



