আমি ২/৩ বার এই যে আপা, শুনেন... বলে ডাক দিলাম। আপা বা রিকশাওয়ালা কেউই শুনলেন বলে মনে হলো না। মেয়েটার ওড়না কিছুক্ষনের মধ্যে রিকশার চেইনে পেঁচাবে, আমি নিশ্চিত। রিকশার পেছন পেছন ছুটলাম- আমার সাইকেল নিয়ে। মেয়েটাকে সাবধান করতে হবে! রিকশাওয়ালার সাথে পেরে উঠছি না। সন্জীব চৌধুরীর গানটা মনে পড়লো... ‘এক পলকে চলে গেলো, আহ কী যে তার মুখ খানা ; রিকশা কেনো আস্তে চলে না.....’।
বেশ জোরে প্যাডেল চাপতে চাপতে আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আরেকটু, আরেকটু... । অবশেষে রিকশার কাছাকাছি পৌঁছলাম। চলন্ত অবস্থায়ই বললাম- আপা সাবধান ! আপনার ওড়না চেইনে পেঁচালো......। কথা শেষ হবার আগেই মেয়েটা চিৎকার দিয়ে উঠলো...। ইতোমধ্যে চেইনে ওড়না পেঁচিয়ে গেছে। টান খেয়ে রিকশা থেকে মেয়েটি ছিটকে
রাস্তায়...। রিকশাওয়ালাও ব্রেক করেছে...।
রাস্তায় লোকজন জমে গেছে। রুপবতী মেয়েটা লজ্জায় লাল। কোন রকমে ছেঁড়া ওড়নাটা গায়ে পেঁচালো। আমি সামনে গিয়ে বললাম- ‘সেই কখন থেকে দেখছি, একটু একটু করে আপনার ওড়নাটা চেইনের মধ্যে পেঁচাচ্ছে। ওড়না সামলে রিকশায় বসতে পারেন না ? এবার শিক্ষা হলো ?’ একসাথে এতোগুলো কথা বলে দম নিলাম। ঠাস করে বেদম জোরে আমার ডান গালে চড় মারলো মেয়েটা। মুখ দিয়ে কথার খৈ ফুটলো... ‘অসভ্য, ইতর, ছোটলোক। খুব মজা না ? অনেকক্ষণ থেকে দেখছো ? রোমিও ! আমার পেছন পেছন আসছো, বলতে পারলে না ? ’
আমি লা জবাব ! রাস্তার লোকজনের দিকে তাকিয়ে বেকুবের মত হাসার চেষ্টা করছি। অজান্তেই ডান গালে হাতটা উঠে গেছে...। কী বলবো ? তারচেয়ে বড় কথা, কাকে বলবো?
মেয়েটা ততক্ষণে অন্য একটা রিকশায় চেপে হাওয়া...............!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

