৪ দিন ঈদের ছুটি কাটিয়ে গতকাল থেকে অফিস করছি। আসলে অফিসে তেমন কোন কাজ নেই। আমাদের মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্ট হচ্ছে- মূল ভবনের পাশে। ভবনের এক এবং দোতলায় মার্কেট। ঈদের ছুটির কারণে মার্কেট বন্ধ। বন্ধ লিফটও। আমরা বসি ভবনের ছয় তলায়। গতকাল অফিসে তেমন কেউ আসে নাই। বিকেল পর্যন্ত আড্ডা মেরে বাসায় ফিরে যাই।
আজ সকালে যথারীতি অফিসে আসি। মার্কেট বন্ধ হলেও সিকিউরিটির লোকজনকে বলাতে ওরা লিফট চালু করে দেয়। আগের লিফটে আমার অন্য কলিগরা উঠে যায়। আমি সিগারেট কিনে আনতে যেয়ে দেরি হয়। পরের লিফটে উঠি। লিফট ১ ২ ৩ ৪ পেরিয়ে প্রায় ৫ তলাতে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়...। লিফট থেমে যায়। সাধারণত মিনিট খানেকের মধ্যে জেনারেটর চালু হয়ে যায়। সো, নো টেনশন! আমি লিফটের ভেতরে গুনগুন করে গান গাইছি। ১২৩ করে প্রায় ৫ মিনিট কেটে যায়। জেনারেটর আর চালু হয়না। আমি লিফটের ভেতরে ঘামছি। ইমার্জেন্সি বোতামে চাপ দিলাম। ওটা কাজ করছে না!
লিফটের ভেতরে সাধারনত মোবাইল কাজ করে না (আমার তো আর সিটিসেল ফোন না !)। আজ মোবাইল কোম্পানি আমার প্রতি সদয় হয়েছে। অর্ধেকের মত নেটওয়ার্ক পাওয়া গেল। আমি কলিগকে ফোন করে লিফট বন্ধের খবরটা জানাই। কলিগ তাড়াতাড়ি সাথে আরো ২/১ জন নিয়ে লিফটের লোকজন আর সিকিউরিটিকে খবর পাঠালো। ওদের কথা বার্তা সব শুনতে পাচ্ছিলাম আমি। সিকিউরিটির লোকজনের কথা শুনে আমার তো আক্কেল গুড়ুম! বলে কীনা, জেনারেটর চালু হচ্ছে না, নষ্ট। ঈদের পরে অফিস খুললে জেনারেটরের কাজ করার কথা ! এদিকে কখন যে বিদ্যুৎ আসবে ? লিফটের ভেতর আমি দর দর করে ঘামছি ...
ছেলেটার চেহারা ভেসে উঠলো। বন্ধু-বান্ধব, ব্লগ, আত্নীয়-স্বজনদের একে একে মনে পড়তে শুরু করলো। অদ্ভুত এক অনুভূতি! এ বলে বুঝানোর নয়। লিফটের সামনে সবাই প্রাণপন টেষ্টা চালাচ্ছে। লিফটের দরজা আর খোলা যাচ্ছে না। কেউ কেউ আমাকে সান্তনা দিচ্ছে। ছুটির দিনেও মোটামুটি বেশ লোক জন জমে গেছে। ভাবছি, শেষবারের মত ছেলে আর তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে নেই। ওদের কী বলবো, সেটাও ঠিক করে ফেলেছি...।
হঠাৎ চোখের সামনে অনেক লোকজন আর আলো দেখলাম। লিফটের দুই কর্মী অনেক চেষ্টা শেষে দরজা খুলতে পেরেছে। বেঁচে থাকা অনেক আনন্দের। সাহসী মানুষের মত (!) আমি লিফট থেকে বেরিয়ে এলাম। বাইরে বেরিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


