somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশ যাত্রা ১

০২ রা মে, ২০০৯ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভিসা, টিকিট এবং জিএমজি কাহিনী

অনেকদিন থেকে দেশের বাইরে যাবার পাঁয়তারা করছিলাম। অফিস থেকে সপ্তাহ খানেকের ছুটি ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। আমার টার্গেট হচ্ছে মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুর। এক টিকিটে দুই ছবির মতো। মালয়েশিয়া গিয়ে সেখান থেকে বাস বা ট্রেনে সিঙ্গাপুর এবং সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া হয়ে ঢাকা।
তো গত মাসের প্রথম সপ্তাহে এমডি সাহেবের রুমে ডাক পড়লো। বললেন, তোমার পাসপোর্ট আছে ?
আছে।
এ মাসের শেষের দিকে মালয়েশিয়া যেতে হবে তোমাকে। কোনো অসুবিধা নেই তো ?
না, স্যার !
যাও, একাউন্টস থেকে টাকা পয়সা আর কাজ বুঝে নাও।
স্যারের রুম থেকে বেরিয়ে হাঁসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। শান্তনুকে ফোন করলাম। ও নিজেও যাচ্ছে এ মাসের শেষ দিকে। শান্তনু হচ্ছে আমার বন্ধু। চ্যানেল আইতে কাজ করে। আমি যাবো শুনে ও তো মহাখুশী। ও যাচ্ছে শিশুদের অধিকার বিষয়ক একটা কর্মশালাতে। ওর বিমান টিকিট, হোটেল সব ফ্রি ! আমাকে বললো- ভিসা করতে পারলে বাকীটা তার দায়িত্ব। আমিতো বাকুম বাকুম ! নিজের সিটে ফিরে আসলাম। ড্রয়ার খুলে পাসপোর্ট বের করলাম। পাসপোর্ট খুলে দেখি...১৭ এপ্রিল নাগাদ পাসপোর্টের মেয়াদ আছে। সব্বোনাশ! এখন কী করি ? শান্তনু কে ফোন করি। ও বললো, কালকেই যেনো পাসপোর্ট অফিসে যেয়ে পাসপোর্ট রিনিউ করে নেই। আমি পরদিন পাসপোর্ট অফিসে গেলাম। নগদ আড়াই হাজার টাকা দিয়ে এক ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট রিনিউ করে তবেই অফিসে ফিরলাম। পরদিন আরেক বন্ধু শাহীনের ট্রাভেল এজেন্সিতে গেলাম টিকিট বুকিং দিতে। বুকিং দিলাম জিএমজি এয়ার লাইন্সে। আমার বিদেশ যাত্রার প্রথম ভুল ছিলো সেটি...।
ভিসা করতে কী কী লাগবে...শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। অফিশিয়াল চিঠি, ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, টিকিটের মূল কপি। সব ঠিকাছে। টিকিট পাবো কোথায় ? জিএমজির টিকিট কিনে জমা দিতে পারি। সেখানেও ফ্যাকড়া আছে। কোনো কারণে যদি ভিসা না পাই, তবে জিএমজি টিকিট ফেরত নেবে না। ভাবছেন, এতো ঝামেলা করে কেনো জিএজিতে যেতে চাচ্ছি ? কারণ শান্তনু...ও যাচ্ছে জিএমজিতে। ট্রাভেল এজেন্সির বন্ধু শাহীনের পরামর্শ চাইলাম। শাহীন বললো, জিএমজির টিকিট বুক করে রাখতে এবং মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের টিকিট কিনে সে টিকিটসহ পাসপোর্ট জমা দিতে। ভিসা পাবার পর সে টিকিট পাল্টিয়ে ফেলতে। এতে আমার অর্থনৈতিক ক্ষয় ক্ষতির পরিমান মাত্র ২ হাজার। আর জিএমজির টিকিট কেনা মানে হচ্ছে ভিসা না পেলে অর্থনৈতিক ক্ষয় ক্ষতি ১৮ হাজার ৫ শত টাকা।
তো, বন্ধু শাহীনেরই জয় হলো। সব কাগজ পত্র জমা দেবার পর ৪ দিনের মাথায় ভিসা পেয়ে গেলাম। আমার টিকিট হচ্ছে ২৫ এপ্রিল দুপুর ২.৫০ মিনিটে। ২০ তারিখ জিএমজি থেকে প্রথম ফোন পেলাম। ২.৫০ মিনিটের বদলে ৫ টার সময় বিমান যাবে। আমরা দুঃখিত স্যার ! ২১ তারিখ আবার ফোনে জানালো- আগের টাইমই ঠিকাছে অর্থাৎ ২.৫০ মিনিটেই যাবে। ২২ তারিখ আবার ফোন। ২৫ তারিখ ফ্লাইট যাবে কীনা, নিশ্চিত না। আমরা স্যার আপনাকে কালকে কনফার্ম করবো। ২৩ এবং ২৪ আর কোনো ফোন কল পাইনি। ২৫ তারিখ সকালে ফোনে জানালো, ফ্লাইট আজকে যাবে তবে ২.৫০ মিনিটের বদলে বিকেল ৫ টায়। দুপুর আড়াইটায় শান্তনু আসলো গাড়ী নিয়ে। তিনটা নাগাদ এয়ারপোর্ট। সব কাজ কর্ম সেরে বসে আছি। অবশেষে জিএমজি যখন আকাশে উড়লো তখন সন্ধ্যা ৬ টা...
জিএমজির সামনের ৪ সারি মানে ১৬ টা সিটে আমরা দুজন ছাড়া কোনো যাত্রী নেই। পেছনের দিকে ২০/২৫ জন যাত্রী আছে। সবাই বসার পর বিমান রানওয়ে ধরে ছুটলো। যতোক্ষণ বিমান আকাশে না উঠলো, ততক্ষন বিমানের এসি আর ছাড়লো না। ভেতরে গরমে আমাদের অবস্থা কাহিল ! রীতিমত শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলো। অবশেষে আমরা ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে লাগলাম। এসিও কাজ করা শুরু করলো। ৩২ হাজার ফুট ওপর দিয়ে আমাদের বিমান ছুটে চললো কুয়ালা লামপুরের পথে...বিমান বালা চকলেট দিয়ে গেলো। ক্ষাণিক বাদে দিয়ে গেলো খাবার। রীতিমত দুপুরের লাঞ্চ (ওদের কী দোষ! বিমান তো ছাড়বার কথা ছিলো দুপুরে)। ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল, চিকেন কারি, সফট ড্রিংস, পানির বোতল ইত্যাদি। সামান্য খেয়ে নিলাম। কেএল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বিমান যখন থামলো তখন আমাদের ঘড়িতে ১০.১৫ বাজলেও স্থানীয় সময় রাত ১২ টা বেজে ১৫ মিনিট। এয়ারপোটের্র কাজ সেরে আমরা যখোন কুয়ালা লামপুরের পথে টেক্সিতে উঠলাম, তখন ১ টা প্রায়। রাত ২ টার সামান্য আগে হোটেল আনকাসাতে পৌঁছলাম। রুমের চাবি বুঝে নিয়ে ৭১৬ নং রুমে গিয়ে উঠলাম। ১০ মিনিটের মধ্যে সামান্য হাত মুখ ধূয়ে বেরিয়ে পড়লাম খাবারের সন্ধানে। রাতের শহর কুয়ালা লামপুর। সামান্য হাঁটতেই পেয়ে গেলাম কেএফসি। দুটো চিকেন বার্গার, ফ্র্যান্স ফ্রাই আর পেপসি দিয়ে রাতের খাবারটা সেরে নিলাম। আয়েশ করে সিগারেট ধরিয়ে হাঁটা শুরু করলাম হোটেলের পথে...

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬
১৬টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×