somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশ যাত্রা ২

০৩ রা মে, ২০০৯ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

শুধুই ঘুরাঘুরি আর কেনাকাটা

ক্লান্ত শরীর। দুই বন্ধু মিলে শুয়ে শুয়ে টিভি ছেড়ে গল্প করছি। কখন যে অজান্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের পাইনি। ঘুম থেকে উঠে দেখি, দশটা ১৫ মিনিট। স্থানীয় সময় ১২ টা ১৫ মিনিট। সকাল ১০ টার মধ্যে হোটেলের কমপ্লিমেন্টারি নাস্তার সময় শেষ। ঠিক করলাম, একবারে গোসল করে রুম থেকে বেরুবো এবং দুপুরের খাবার খেয়ে নেবো। হাতের ঘড়ির সাথে স্থানীয় সময় মিলিয়ে রুম থেকে দুপুর এক টার পরে দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম।

সামান্য খুঁজতেই পুডু রায়া বাস স্ট্যান্ডের উল্টোদিকে কেএফসির কাছাকাছি দাড়িওয়ালা এক হুজুরের হোটেল খুঁজে পেলাম। ভাত, সব্জী, মাছ, ডাল, মুরগী, গরুর গোশত সবই পাওয়া গেলো হুজুরের দোকানে। পেট ভরে ভাত খেয়ে দোকানের সামনে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আয়েশ করে সিগারেট ধরালাম। বিল দিতে যেয়ে বোকা বনে গেলাম। দুজনের বিল এসেছে মাত্র ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। আমার বোকা বোকা চেহারা দেখে শান্তনু বললো, বন্ধু বাংলাদেশি টাকায় আমাদের বিল এসেছে ২৯০ টাকা...

হোটেল থেকে বেরিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। প্রথমে চায়না টাউন ঢুকলাম। এদোকান সেদোকান ঘুরে বৌয়ের জন্য গোটা তিনেক হাত ব্যাগ (ব্যাগের ভেতরে আবার একটা করে আন্ডা বাচ্চা ব্যাগ ফ্রি) কিনলাম। প্রচুর দামাদামি করে জিনিস কিনতে হয় এখানে। টি-শার্ট, ব্যাগ, ঘড়ি, খেলনা আর প্রচুর খাবারের দোকান আছে চায়না টাউনে। অনেক বাংলাদেশি লোক কাজ করেন এখানে। বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলো। বিভিন্ন দেশের পর্যটকে ঠাঁসা চায়না টাউন। সবাই কমবেশি কেনাকাটা করছেন। অনেকগুলো ঘড়ির দোকান থাকা স্বত্বেও সুন্দরী এক বালিকার দোকানে ঢুকলাম আমরা। আমাদের পরিবারের ৩ জনের জন্য ৩ টা ঘড়ি কিনলাম। দাম মাত্র ৬০ টাকা মানে, সেদেশের ৬০ আর আমাদের ১২০০ টাকা।

দুবন্ধু দুগ্লাস অরেঞ্জ জুস খেয়ে আবার হাঁটা। এবার পপুলার চেইনশপে। চকলেট, কলম, খেলনাসহ এটা সেটা কিনলাম। আসলে যা দেখছি তাই কিনতে ইচ্ছে করছিলো। আমার এমনিতেই কেনাকাটার বাতিক আছে। ঘন্টাখানেক বাদে বেরিয়ে এলাম চেইনশপ থেকে। আবার হাঁটা। সামনেই ট্রেন স্টেশন, পাসার সিনি। ৫ মিনিটের পথ। দ্বোতলায় যেয়ে ১ টাকা করে দুটো টিকিট কিনলাম। গন্তব্য কেএল সেন্ট্রাল । সকল ট্রেনের শেষ গন্তব্য। আমাদের কমলাপুর। উঠতে না উঠতেই ট্রেন এসে থামলো। বড়জোর ৫ মিনিটের রাস্তা। কী সুন্দর ট্রেনের ভেতরটা ! আর কী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ! তুলনা করতে যেয়ে মন খারাপ হলো। কিন্তু বেড়াতে এসে মন খারাপ করা যাবেনা। মনকে সান্তনা দিলাম- যেই দেশের যেই বাঁও...।

১০/১৫ মিনিট স্টেশনে ঘুরে ফিরে আবার ফিরতি ট্রেনে চড়ে পাসার সিনি স্টেশনে নেমে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে পুডুরায়া বাস স্টেশন এবং টাইম স্কয়ার হোটেল পেরিয়ে এলাম। এই হোটেল নিয়ে অনেক কিস্সা রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক ধনী এবং সন্ত্রাসীদের আস্তানা হচ্ছে টাইম স্কয়ার। যারা মাসের পর মাস এ হোটেলে অবস্থান করে। যাই হোক, আমরা আদার ব্যাপারি, জাহাজের খবর নিয়ে লাভ নেই ! আবার হাঁটা। বিবি প্লাজা মার্কেটে একটু ঢু মারলাম। প্রচুর বাংলাদেশিদের মিলনমেলা এ বিবি প্লাজা। আশেপাশের অনেক দোকানে বাংলাদেশি লোকজন কাজ করছেন। এর মধ্যে বেল্ট, মানিব্যাগ, খেলনা, টি-শার্ট আর সেন্ডেলের দোকান রয়েছে বেশি।

সন্ধ্যা হয়েছে অনেকক্ষণ। একটু ক্লান্তও আমরা। ঠিক করলাম, আজকের মতো আমাদের শেষ গন্তব্য টু-ইন টাওয়ার। হেঁটে ২০/২৫ মিনিটের মাথায় পৌঁছলাম। কী সুন্দর দুইখান ভবন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ! কতো শতো পর্যটকের আনাগোনা ! সবাই শুধু ছবিই তুলছে...। আমরাও বেশ কিছু ছবি তুলে অবশেষে হেটেলের পথে রওয়ানা হলাম। হোটেলে ফিরে রাতের খাবারের জন্য ছুটলাম বাংলাদেশি হোটেলে। ঢাকার লালবাগের মাসুদের হোটেল বিসমিল্লাহতে রাতের খাবার সেরে নিলাম করলা ভাজি, সব্জী, ডাল আর রুই মাছ দিয়ে। হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা। ঘুমানোর আগে পরিকল্পনা করা হয়,কাল সকালে শান্তনু যাবে তার সেমিনারে আর আমি যাবো কুয়ালা লামপুর থেকে ৭০/৮০ কিলো দুরে গ্যাংটিং হাইল্যান্ডে...

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×