শুধুই ঘুরাঘুরি আর কেনাকাটা
ক্লান্ত শরীর। দুই বন্ধু মিলে শুয়ে শুয়ে টিভি ছেড়ে গল্প করছি। কখন যে অজান্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের পাইনি। ঘুম থেকে উঠে দেখি, দশটা ১৫ মিনিট। স্থানীয় সময় ১২ টা ১৫ মিনিট। সকাল ১০ টার মধ্যে হোটেলের কমপ্লিমেন্টারি নাস্তার সময় শেষ। ঠিক করলাম, একবারে গোসল করে রুম থেকে বেরুবো এবং দুপুরের খাবার খেয়ে নেবো। হাতের ঘড়ির সাথে স্থানীয় সময় মিলিয়ে রুম থেকে দুপুর এক টার পরে দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম।
সামান্য খুঁজতেই পুডু রায়া বাস স্ট্যান্ডের উল্টোদিকে কেএফসির কাছাকাছি দাড়িওয়ালা এক হুজুরের হোটেল খুঁজে পেলাম। ভাত, সব্জী, মাছ, ডাল, মুরগী, গরুর গোশত সবই পাওয়া গেলো হুজুরের দোকানে। পেট ভরে ভাত খেয়ে দোকানের সামনে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আয়েশ করে সিগারেট ধরালাম। বিল দিতে যেয়ে বোকা বনে গেলাম। দুজনের বিল এসেছে মাত্র ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। আমার বোকা বোকা চেহারা দেখে শান্তনু বললো, বন্ধু বাংলাদেশি টাকায় আমাদের বিল এসেছে ২৯০ টাকা...
হোটেল থেকে বেরিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। প্রথমে চায়না টাউন ঢুকলাম। এদোকান সেদোকান ঘুরে বৌয়ের জন্য গোটা তিনেক হাত ব্যাগ (ব্যাগের ভেতরে আবার একটা করে আন্ডা বাচ্চা ব্যাগ ফ্রি) কিনলাম। প্রচুর দামাদামি করে জিনিস কিনতে হয় এখানে। টি-শার্ট, ব্যাগ, ঘড়ি, খেলনা আর প্রচুর খাবারের দোকান আছে চায়না টাউনে। অনেক বাংলাদেশি লোক কাজ করেন এখানে। বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলো। বিভিন্ন দেশের পর্যটকে ঠাঁসা চায়না টাউন। সবাই কমবেশি কেনাকাটা করছেন। অনেকগুলো ঘড়ির দোকান থাকা স্বত্বেও সুন্দরী এক বালিকার দোকানে ঢুকলাম আমরা। আমাদের পরিবারের ৩ জনের জন্য ৩ টা ঘড়ি কিনলাম। দাম মাত্র ৬০ টাকা মানে, সেদেশের ৬০ আর আমাদের ১২০০ টাকা।
দুবন্ধু দুগ্লাস অরেঞ্জ জুস খেয়ে আবার হাঁটা। এবার পপুলার চেইনশপে। চকলেট, কলম, খেলনাসহ এটা সেটা কিনলাম। আসলে যা দেখছি তাই কিনতে ইচ্ছে করছিলো। আমার এমনিতেই কেনাকাটার বাতিক আছে। ঘন্টাখানেক বাদে বেরিয়ে এলাম চেইনশপ থেকে। আবার হাঁটা। সামনেই ট্রেন স্টেশন, পাসার সিনি। ৫ মিনিটের পথ। দ্বোতলায় যেয়ে ১ টাকা করে দুটো টিকিট কিনলাম। গন্তব্য কেএল সেন্ট্রাল । সকল ট্রেনের শেষ গন্তব্য। আমাদের কমলাপুর। উঠতে না উঠতেই ট্রেন এসে থামলো। বড়জোর ৫ মিনিটের রাস্তা। কী সুন্দর ট্রেনের ভেতরটা ! আর কী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ! তুলনা করতে যেয়ে মন খারাপ হলো। কিন্তু বেড়াতে এসে মন খারাপ করা যাবেনা। মনকে সান্তনা দিলাম- যেই দেশের যেই বাঁও...।
১০/১৫ মিনিট স্টেশনে ঘুরে ফিরে আবার ফিরতি ট্রেনে চড়ে পাসার সিনি স্টেশনে নেমে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে পুডুরায়া বাস স্টেশন এবং টাইম স্কয়ার হোটেল পেরিয়ে এলাম। এই হোটেল নিয়ে অনেক কিস্সা রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক ধনী এবং সন্ত্রাসীদের আস্তানা হচ্ছে টাইম স্কয়ার। যারা মাসের পর মাস এ হোটেলে অবস্থান করে। যাই হোক, আমরা আদার ব্যাপারি, জাহাজের খবর নিয়ে লাভ নেই ! আবার হাঁটা। বিবি প্লাজা মার্কেটে একটু ঢু মারলাম। প্রচুর বাংলাদেশিদের মিলনমেলা এ বিবি প্লাজা। আশেপাশের অনেক দোকানে বাংলাদেশি লোকজন কাজ করছেন। এর মধ্যে বেল্ট, মানিব্যাগ, খেলনা, টি-শার্ট আর সেন্ডেলের দোকান রয়েছে বেশি।
সন্ধ্যা হয়েছে অনেকক্ষণ। একটু ক্লান্তও আমরা। ঠিক করলাম, আজকের মতো আমাদের শেষ গন্তব্য টু-ইন টাওয়ার। হেঁটে ২০/২৫ মিনিটের মাথায় পৌঁছলাম। কী সুন্দর দুইখান ভবন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ! কতো শতো পর্যটকের আনাগোনা ! সবাই শুধু ছবিই তুলছে...। আমরাও বেশ কিছু ছবি তুলে অবশেষে হেটেলের পথে রওয়ানা হলাম। হোটেলে ফিরে রাতের খাবারের জন্য ছুটলাম বাংলাদেশি হোটেলে। ঢাকার লালবাগের মাসুদের হোটেল বিসমিল্লাহতে রাতের খাবার সেরে নিলাম করলা ভাজি, সব্জী, ডাল আর রুই মাছ দিয়ে। হোটেলে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা। ঘুমানোর আগে পরিকল্পনা করা হয়,কাল সকালে শান্তনু যাবে তার সেমিনারে আর আমি যাবো কুয়ালা লামপুর থেকে ৭০/৮০ কিলো দুরে গ্যাংটিং হাইল্যান্ডে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

