somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশ যাত্রা ৫

০৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

কুয়ালা লামপুর কড়চা

শহরটা অনেক সুন্দর। লোকজন বেশ শান্তিপ্রিয়। যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। প্রচুর লোকজন হেঁটে চলাফেরা করে। প্রচুর মোটর সাইকেল দেখা যাবে শহরে। সরকারি বাস চলে সকাল ৬ টা থেকে ১১/১২ টা অবদি। ভাড়া নেহায়েত কম। সব বাসই এসি। সামান্য কিছু নন এসি টেক্সি ছাড়া যতো পরিবহন দেখেছি- সবই এসি। আইনের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল এরা। মধ্যরাতেও সবাইকে দেখেছি ট্রাফিক সিগনাল মেনে গাড়ি চালাতে। চায়নিজ, মালে এবং ভারতীয় (বিশেষ করে কেরালার) মানুষজনই বেশি। জিনিসপত্রের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। তবে তরল পানীয় বেশ সস্তাতেই মিলে। যে যার মতো খাচ্ছে, টাল হচ্ছে- সচরাচর কেউ কারো কোনো সমস্যা করে না। এ শহরের মেয়েদের (বেশিরভাগ) শরীরে পোশাকের চেয়ে গোশতের পরিমান বেশি !!!

তবে অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার আবিস্কার করলাম এখানে এসে। ৫ দিনে একটি বাস, মোটর সাইকেল বা টেক্সি ক্যাবের কোনো হর্ণ শুনিনি। আমার কেনো জানি ধারণা হয়েছে, এ শহরের কোনো গাড়িতে হর্ণ নেই। পরীক্ষা করার জন্য বেশ কয়েকবার আমি আর শান্তনু ইচ্ছে করে সিগনাল না মেনে রাস্তা পার হয়েছি- এই বুঝি গাড়ি হর্ণ বাজালো ! হায় কপাল, ড্রাইভার কষে ব্রেক করলো কিন্তু হর্ণ বাজালো না ! আরো একটি মজার ব্যাপার দেখলাম, প্রতিটি মোটর সাইকেল দিনের বেলাতে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করছে। কেনো, কে জানে !

ওদের কাছে জানতে চেয়েও লাভ হয়নি। তেনারা আবার নো ইংলিশ বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। ট্রেন / বাস কাউন্টারে বসে ডিউটি করছে- অথচ ইংরেজি জানে না, এমন অনেকের দেখা পেয়েছি। অনেক টেক্সি ড্রাইভার আছে তাদেরও একই হাল ! যেখানে সারা বিশ্ব থেকে এত এত পর্যটক প্রতি দিন আসছে, সেখানের মানুষজনের ইংরেজি না জানা / কম জানার বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। এখানকার কিছু ইংরেজি বানানের নমুনা অদ্ভুত ! Bas (বাস), Ekspres (এক্সপ্রেস), Kaunter(কাউন্টার),Tiket (টিকেট), Taksi (টেক্সি), Farmasy(ফার্মেসি)।

এখানকার হোটেল ভাড়া ২৫ রিঙ্গিত থেকে ২০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত। শহরের প্রান কেন্দ্রে যে সব হোটেল রয়েছে, তারমধ্যে- হোটেল আনকাসা, সুইস গার্ডেন, সুইস ইন, টাইম স্কয়ার, ফেডারেল হোটেল, হোটেল প্লাজা উল্লেখযোগ্য। খাবারের দোকানের মধ্যে রয়েছে- ম্যাগডোনাল্স, কেএফসি, হোটেল বিসমিল্লাহ, হোটেল ঘরোয়া (এ দুটি হোটেলের অবস্থান হচ্ছে কোতারাইয়া, বাঙ্গালী মার্কেট এলাকায়)। বিসমিল্লাহ আর ঘরোয়াতে আপনি দেশি প্রায় সব ধরণের খাবার পাবেন। নাস্তা খেতে লাগবে-২/৩ রিঙ্গিত। দুপুর বা রাতে খেতে লাগবে ৫ থেকে ৭ রিঙ্গিত। মনে রাখবেন, ১ রিঙ্গিত সমান বাংলাদেশের ১৯ / ২০ টাকা। একশ ইউএস ডলারের বিনিময়ে আপনি পাবেন, স্থানীয় মুদ্রায় ৩৫০ / ৩৫৫ রিঙ্গিত। সুতরাং সবচেয়ে ভালো হয়, মালয়েশিয়া যেতে চাইলে ডলার না নিয়ে রিঙ্গিত নিয়ে যাওয়া।

কেনাকাটা করতে পারেন- চেইন শপ মানে আমাদের দেশের (ডিপার্ট) মেন্টাল স্টোরের মতো কোটা রায়া, মাই ডিন, পপুলার এ। এছাড়াও বিবি প্লাজা এবং সমগ্র শহর জুড়েই রয়েছে ছোট বড়ো হরেক কিসিমের দোকান। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কিনতে চাইলে চলে যান প্লাজা ল এইট এ। এটির অবস্থান বিবি প্লাজার পাশেই। বিবি প্লাজা বেশ পরিচিত বাঙ্গালীদের কাছে। বিবি প্লাজার আশে পাশে অনেক দোকান আছে যেখানে আমাদের দেশি লোকেরা কাজ করে। আর বিখ্যাত চায়না টাউ তো রইলোই। যা আমাদের গাউছিয়া মার্কেটের মতো। একই ছাদের নিচে সব পণ্য। ব্যাগ, জুতো, খেলনা, ঘড়ি, জামা-কাপড়, খাবারের দোকান। কেনার সময় শুধু আপনাকে প্রচুর দামাদামি করে কিনতে হবে।

ঘোরাঘুরির জন্য বেছে নিতে পারেন, টেক্সি ক্যাব, বাস বা ট্রেন। আপনার হোটেল থেকে গাইড ম্যাপ বা লোকেশন ম্যাপ চেয়ে নিন। আগের দিন রাতে শোবার আগে ম্যাপে একটু চোখ বুলিয়ে নিন। সিদ্ধান্ত নিন কোথায় যাবেন- গ্যাংটিন হাইল্যান্ড ? পুত্রাজায়া ? পেনাং জজ টাউন ? কেএল এয়ারপোর্ট ? কেএল সেন্ট্রাল ? টু-ইন টাওয়ার, না অন্য কোথাও ?
হোটেলের লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন, যদি ওরা আপনার কথা বোঝে ! এরপর সকাল ৯/১০ টার মধ্যে আল্লার নামে বেরিয়ে পড়–ন আপনার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। উঠে পড়–ন সুবিধাজনক পরিবহনে। যা নিতে ভুলবেন না : ছোট ব্যাগে করে হাল্কা কিছু খাবার, পানির বোতল, যে কোনো ফলের জুশ, ক্যাপ, সানগ্লাস এবং অবশ্যই ক্যামেরা। সাথে হোটেলের কার্ডটাও রাখা ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩
১৯টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×