কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় গিয়েছিলাম ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে। সকাল ৯ টায় লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়ে ১০ মিনিটেই শেষ। প্রশ্ন ছিলো ১৫ টা । সর্বমোট নাম্বার ১৫। রেজাল্ট দেবে ১২ টায়। তারপর পাশ করলে মৌখিক পরীক্ষা। তো লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বসে আছি। বিড়ি টানছি। এক বন্ধুর সাথে এসএমএস খেলছি। এক পর্যায়ে এসএমএস খেলা বাদ দিয়ে মোবাইলে কথা বলা শুরু করলাম। আমার সাথে কথা বলতে বলতে বন্ধুটি বাথরুমে গেলো। তা সে যেতেই পারে। প্রকৃতির ডাক কে তো আর অবহেলা করা যায় না। কিন্তু সেখানেও সে কথা চালিয়ে যেতে থাকলো। হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো বন্ধুটি। তার ফোনে কল করে দেখলাম, বন্ধ। একটু মাইন্ড খাইলাম...।
দুপুর নাগাদ অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলো। সেই বন্ধুটি কল করেছে। ফোন রিসিভ করতেই কাঁদো কাঁদে স্বরে বললো, ‘ আপনার সাথে কথা বলতে যেয়েই আমার এ অবস্থা। আমার নতুন কেনা মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে গেলো। এখন আমি কী করবো ? ’
‘কোথায় পড়েছে ?’ জানতে চাইলাম।
এবার কেঁদে বললো, ‘এক্কেবারে কমোডের ভিতরে।’
যাহ শালা ! পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে...!
সুন্দরী মেয়েদের দুইটা জিনিস বিশ্রী।
এক : অন্যের সামনে মুখে হাত না দিয়ে হাই তোলা।
দুই : ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না করা (এতে মেক আপ মুছে অর্জিনাল চেহারাটা ভেসে উঠার সম্বাবনা থাকে)। মেক আপ উঠেছে কি না, জানিনা। তবে তার কান্না থামছিলো না। আমি শুনছি...। এক পর্যায়ে থাকতে না পেরে জোরে হো হো করে হেসে ফেললাম। কয়েক সেকেন্ড হতভম্ব হয়ে গেলো ও প্রান্ত। অভিমানী কন্ঠে বললো, ‘আপনি হাসছেন...?’ এই বলে বন্ধুটি তার মোবাইলের কানেকশন কেটে দিলো...আমি ২/৩ বার হ্যালো হ্যালো বলে নিজের মোবাইলটা পকেটে চালান করে দিলাম। হাসবো না কাঁদবো, বুঝতে পারছিলাম না। শেষে হেসেই ফেললাম। এখনও হাসছি, হাসতেই আছি। হাসি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আজ দুদিন তার মোবাইলে কল করলেই শুনি, ‘দ্য মোবাইল ক্যান নট রিচ এট দ্য মোমেন্ট’। বেচারি ! মায়া হচ্ছে তার জন্যে। বরফ গলার অপেক্ষায় আছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

