আমার প্রিয় পোস্ট

১৪২ জনের বঙ্গোপসাগরে ১৯ ঘন্টা হারিয়ে যাওয়ার গপ্পো- ১

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৬

শেয়ারঃ
0 0 0

এটি ছিলো আমাদের দশম সূর্য উৎসব। এর আগে আমরা সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, কেওক্রাডাং, খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, বিরিশিরি, রাঙামাটির পাবলাখালীসহ অন্য জায়গাগুলোতে গিয়েছিলাম। এবার আমাদের গন্তব্য সুন্দরবনের কটকা। এটি দ্বিতীয়বারের মত সুন্দরবনে সূর্য উৎসব আর আমার তৃতীয়বার সুন্দরবন যাওয়া। ২৮ তারিখ পৈ পৈ করে সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে- সূর্য উৎসব কোনো প্লেজার ট্রিপ নয়। এতে অংশ নেয়া সবাইকে ম্যালা কষ্ট করতে হবে। থাকা, খাওয়া, বাথরুম সব কিছুতেই কষ্ট। আসলে আমরা একটু বাড়িয়েই বলি। পারতপক্ষে কাউকেই তেমন কষ্ট করতে হয়না। তবুও বলে নেই, যাতে সমস্যা-টমস্যা হলে কেউ কোনো অভিযোগ করতে না পারে। এবারে সেভাবেই বলা হয়েছে। সবাই একমত হয়ে কবেই তার যাওয়া নিশ্চিত করেছে।
৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা । সদরঘাট থেকে আমাদের নিয়ে পারাবত- ১ ভেঁপু বাজালো দুপুর ২.১০ মিনিটে। যথারীতি শেষ সময়ে এটা সেটা কেনা, অনেকের না এসে পৌঁছানো, নতুন করে কারো কারো আমাদের সফরসঙ্গী হওয়া...। যাই হোক, জাহাজ ছাড়ার পরই সবাইকে তার কেবিনের চাবি (যদিও বলা ছিলো- শিশু এবং বৃদ্ধদের শুধু কেবিন দেয়ার পর কেবিন বাকী থাকলে অন্যদের দেয়া হবে) দিয়ে দেয়া হলো। খাবারে ক্ষানিকটা বিলম্ব হবে, সেজন্য সবাইকে মুড়ি-চানাচুর মাখা দেয়া হলো। আমরা যে যার কাজে নেমে পড়লাম।
জাহাজ চালাবার সার্বিক দায়িত্ব দেখবেন- মিলন ভাই।
মুড়ি-চানাচুরের দায়িত্ব- শিবলী।
আমাদের ১১ বেলা খাবারের দায়িত্ব - জুয়েল।
জাহাজ সাজানো, বাচ্চাদের ছবি আঁকা দেখবেন- রাশেদ, রিয়াজ।
গান-বাজনা-প্রজেকটর এসব দেখবে - শাওন।
রেফেল ড্র, কুইজ, বিচিত্রানুষ্ঠান ইত্যাদি দেখবো- আমি আর নওরোজ।
বিভিন্ন রঙ্গের ১০০ গজের একটি বিশাল পতাকা (যার মধ্যে আবার কন্টকীর বিশাল মুখোশ আঁকা রয়েছে) জাহাজের উপরে টানিয়ে দেয়া হলো। সবার সহযোগিতা নিয়ে বিশাল পতাকাবাহী বাঁশটিকে জাহাজের সামনের দিকে দাঁড় করিয়ে দেন রাশেদ আর রিয়াজ। সবাই বেশ আনন্দের মুডেই আছে। ছাদে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে ঢাকাকে। মোটামুটি বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দুপুরের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। খাবার খেয়ে বেশিরভাগই ছাদে ইঠে গেলো। নিচে গান চলছে। উপরে আড্ডা আর ছবি তোলা। আমাদের সাথে যাচ্ছেন- বাংলাভিশন, বৈশাখী আর দেশটিভির বন্ধুরা। এছাড়াও আছেন- বিডি নিউজ ২৪.কম, ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, যুগান্তরসহ কয়েকটি প্রিন্টিং মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এছাড়াও প্রায় সবার কাছেই রয়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা। আস্তে আস্তে সূর্য ডুবে গেলো। তীব্র শীত। আমরা সবাই ছাদ থেকে নেমে এলাম নিচে।
আমাদের লঞ্চ চাঁদপুর পেরিয়ে যাবার পর জানা গেলো- এ জাহাজের চালক (যাকে সুকানী বলা হয়) জীবনেও সুন্দরবন এলাকায় যায়নি। তবে টেনশন নেই, মংলা থেকে পাইলট (যে রাস্তা চিনিয়ে নেয়) নিয়ে নেয়া হবে। ঢাকা থেকে নেননি ক্যানো ? কোনো জবাব নেই। মাথার চুল ছিঁড়ে আর কমাতে চাইনি। সিগারেট খাওয়ার পরিমান বেড়ে গেলো আমাদের কয়েকজনের। অন্যরা কিছুই জানেনা। সারারাত চালিয়ে সকাল ১০ টায় মংলায় থামলাম। ঘন্টাখানেক থামার পর জাহাজের মাস্টার এসে বললো- সব ঠিকাছে। জাহাজ ছাড়বে কিনা ? বললাম- ছাড়তে। জাহাজ চলছে...। আমাদের রুট ছিলো- ঢাকা থেকে শরণখোলা- রায়েন্দা হয়ে কটকা। অথচ এখন অন্তত ১০ ঘন্টার রাস্তা ঘুরে যাচ্ছি আমরা।
সন্ধ্যা নাগাদ আর কোনো অঘটন ছাড়াই পৌঁছলাম হিরন পয়েন্ট। সেখানে ২০০৯ সালের শেষ সুর্যাস্তটা দেখলাম। জাহাজের গাইড জানালো- রাতটা এখানে কাটাতে পারি। আবার ঘন্টাখানেক দুরের কটকাতেও কাটাতে পারি। যেহেতু আমাদের গন্তব্য কটকা, সকালে আমরা মাটিতে নামবো, নতুন সূর্যকে বরণ করে নেবো, বেশ কিছু ইভেন্ট আছে- তাই সিদ্ধান্ত হলো কটকাতেই রাত কাটাবো। কটকার কাছাকাছি যেয়ে জাহাজ নোঙ্গর করা হলো।
আজ ৩১ ডিসেম্বর। ১০টার মধ্যে রাতের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। মাইকে গান বাজছে। আমাদের রাতের প্রোগ্রামের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম প্রহরে আমরা মঙ্গল দ্বীপ জ্বালিয়ে নদীতে নামাবো। মাটির সরাতে রঙ্গীন কাগজ দিয়ে তার ভেতরে ছোট পিদিম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৫০ টি মঙ্গল দ্বীপ ভাসিয়ে দেব। আর এ কাজটিতে নের্তৃত্ব দেবেন আমাদের এ উৎসবের প্রধান অতিথি, আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান। প্রচন্ড বাতাস আর ভয়ঙ্কর সব ঢেউয়ের মাঝেও আমরা আমাদের মঙ্গল দ্বীপগুলো ভাসিয়ে দিলাম নদীতে। এরপর খালি গান, নাচা, মাস্তি আর লুকিয়ে লুকিয়ে তরল খাওয়া......। সবাইকে বলে দেয়া হলো- সকাল ৬ টায় রিপোর্ট করার জন্য । ৭ টায় আমরা মাটিতে নামবো।

চলবে....

 

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫২
মুহিব বলেছেন: প্ল্যানিং ভালই মনে হচ্ছে। পরে কি ঘটল জানার অপেক্ষায় আছি।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৯

লেখক বলেছেন: এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আর রোমাঞ্চকর ট্যুর...

২. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৪
সেতূ বলেছেন: গপ্পো চলুক .....
ছবি দেয়া চাই ..। না দিলে কিন্তু মাইনাস :):)
অপেক্ষায় আছি। :(:(
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৪

লেখক বলেছেন: সামু একদম স্লো... ছবি আছে অনেকগুলো, দেবো

৩. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১০
সুবিদ্ বলেছেন: আমার এক বন্ধু সস্ত্রীক ছিল আপনাদের সাথে.......আমি মিস করেছি নিজেদের ছাদে BBQ-এর প্রোগ্রামটা আগেই ঠিক করে ফেলে......ওদের কাছে কিছুটা শুনেছি বঙ্গোপসাগরে দিক হারানোর ঘটনা......আপনার লেখায় পুরোটা জানার অপেক্ষায়.......
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪১

লেখক বলেছেন: নামটা বলুনতো, দেখি চিনতে পারি কীনা ?

৪. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১১
যীশূ বলেছেন: চলুক। ছবির জন্য অপেক্ষা করতেছি।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪২

লেখক বলেছেন: সামু একদম স্লো... ছবি আছে অনেকগুলো, দেবো

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৪

লেখক বলেছেন: চলবে...

৬. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২০
বলাক০৪ বলেছেন: আমার ছোট মেয়ে আপনাদেরকে দেখেছে। সে কিছু আত্মীয় ও বন্ধুদের বিরাট গ্রুপের সাথে গিয়েছিল। আপনারা সবাই মনে হয় সুর্যাস্ত লেখা টি শার্ট পরেছিলেন। সে কাল সন্ধ্যায় ফিরেছে। ফিরে আমাকে বলছিলো, ' তুমি তো কোথাও যাওনা, কিন্তু ঐ দলে সবরকম বয়সীরাও ছিল। সবাই কত মজা করছিলো। তুমি কেন ওদের খোঁজ করনা?' এখন খোঁজ পাওয়া গেল।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৩

লেখক বলেছেন: নাম কী ? কোন্ গ্রুপের সাথে গিয়েছিলো ? আমাকে নিশ্চয়ই তার চেনার কথা...

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৩

লেখক বলেছেন: সামু একদম স্লো... ছবি আছে অনেকগুলো, দেবো (লেখা নিয়ে কিছু কৈলেন্না ?)

৮. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
কালপুরুষ বলেছেন: প্রথমবারের সুন্দরবন ট্রিপে আমি ছিলাম। দারুন অভিজ্ঞতা।

চলুক......
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৯

লেখক বলেছেন: মানে ২য় সূর্য উৎসবে ? ২০০২ সালে ??

৯. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫০
চাচামিঞা বলেছেন: রোমান্চকর লিখা.......অবশ্যই পড়তে হবে। আপাতত প্রিয়তে........
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০০

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে

১০. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৩
স্বপ্নকথক বলেছেন: চুয়াডাংগার টুটুল ভাই ছিলেন না?
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০১

লেখক বলেছেন: একটু বেঁটে করে, কোকড়ানো চুল, ফটোগ্রাফার ???? চিলো মানে ! সবাইকে মাতিয়ে রেখেছে...

১১. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৫
স্বপ্নকথক বলেছেন: লেখক বলেছেন: একটু বেঁটে করে, কোকড়ানো চুল, ফটোগ্রাফার ???? চিলো মানে ! সবাইকে মাতিয়ে রেখেছে...

এক্কেবারে বুলস আই!!!
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে কিনা তাই বলুন ?

১২. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৯
রেজোওয়ানা বলেছেন: লেখা চলুক, ছবির অপেক্ষায়..............
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: লেখা চলবে... ছবি দিয়ে দিয়েছি কিছু.....

১৩. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৯
মাহবুব সুমন বলেছেন: দেশে গেলে যা যা করার প্ল্যান আছে তার মাঝে একটা হলো আপনার সাথে লন্চে এ রকম একটা জব্বর ভ্রমন, জানি না কবে সেটা হবে।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩২

লেখক বলেছেন: আগে আসেনতো, জব্বর আড্ডা হৈবে। ঘুরাঘুরি হৈবে...

১৪. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪২
ওসমানজি২ বলেছেন: পরের বার স্বপরিবারে আপনাদের সাথে যাওয়ার ইচ্ছা রইল - আপনারা যেখানেই যান না কেন। কি নেবেন না সাথে?
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৫

লেখক বলেছেন: মোস্ট ওয়েলকাম।
খেয়াল রাখবেন, প্রতিবার ঢাকার বাইরে যাবার আগে আমি একটা করে পোস্ট দিয়ে থাকি...
আমার নং- ০১৭১৩০৯১৯৭১

১৫. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: মূল কাহিনীতে প্রবেশের আগেই শেষ করে দিলেন?
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৬

লেখক বলেছেন: নারে ভাই, এতক্ষনতো ঘটনা শুনলেন। এরপর শোনাবো অঘটনের কাহিনী...

১৬. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
বলাক০৪ বলেছেন: আমার মেয়ে মনে হয় আপনাকে চিনতে পেরেছিল (!)

আমি অবশ্য শীতকালে কখনও ই যাবনা দাদা। যে শীতের গল্প শুনলাম!
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

লেখক বলেছেন: যত শীতই পড়ুক- শীতই হচ্ছে ট্যুরের আসল সময়...

১৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩১
রহমান মাসুদ বলেছেন: মেজবাহ ভাই আমাদের বাদ দিয়ে তরল, না! কাক নিজেদের বেশি চালাক মনে করে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদেরটা কেউ জানেনা।! হা হাহাহাহা....
চলুক! আমার লেখা আসছে সামনে। পুরোপুরি সত্য এক এ্যাডভেঞ্চার কাহিনি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৬৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
দেশটাকে অনেক ভালবাসি আমি। ভালবাসি বউ আর আমার ছেলে ‌‌ রোদ্দুর কে।
ঘেন্না করি রাজাকার, কুত্তা আর সাপকে। ঘোরা, আড্ডা আর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ