আমার প্রিয় পোস্ট
- ওয়ান ইলেভেন এর দুই বছর বা এক যুগ পূর্তি !!! - মেসবাহ য়াযাদ
- আমাদের ঈদ এবং স্মৃতির জাবর কাটা... - মেসবাহ য়াযাদ
- হচ্ছে কী এ সব ?? - মেসবাহ য়াযাদ
- আজকে মেসবাহ য়াযাদ ভাইয়ের জন্মদিন!!!!!!
- অন্যরকম
- ব্লগে বারো ভূঁইয়ার জমিদারি : ব্লগে ভয়ের সংস্কৃতি - ফিউশন ফাইভ
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে আমার জীবনের প্রথম লেখা (মুক্তিযুদ্ধে যারা বাবা হারিয়েছ তোমাদের সবার জন্য উৎসর্গ) - মুনীর উদ্দীন শামীম
- আমিই লোকালটক!! - সুমন রহমান
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আয়োজিত ব্লগার সমাবেশে উত্থাপিত প্রস্তাব ও কর্মপন্থা - কৌশিক
- মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, ১৬ বছর পরও কি আপনার এই বক্তব্য অনুদিত হবে না? - অমি রহমান পিয়াল
- ৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম - অণৃণ্য
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- অনুভূতির ব্লা ব্লা ব্লা... - লাল দরজা
- রাজাকারমুক্ত ব্লগ বনাম A-TEAM - সবাক
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- মুখ, মুখোশ আর একজন বিক্রয়কারী তরুণী - অন্যমনস্ক শরৎ
- আমার মা, আমার ঈশ্বর। - ফরহাদ উিদ্দন স্বপন
- আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- নরম নরম তেলাপোকা ভোর - কৌশিক
- আমাদের আত্মপরায়নতা এবং মানবিকতার মৃত্যু - রাসেল ( ........)
- আসুন, শাশ্বতের বাঁচার লড়াইয়ে সামিল হোই - আ-আল মামুন
১৪২ জনের বঙ্গোপসাগরে ১৯ ঘন্টা হারিয়ে যাওয়ার গপ্পো- ২
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৯
গপ্পো- ১ Click This Link
সবাই কিন্তু সকাল ৬ টার মধ্যেই রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো। বেগুন ভাজা আর ডিম দিয়ে খিচুড়ি। এরপর গ্লাস ভর্তি রং চা। এই ছিলো আমাদের ২০১০ সালের প্রথম দিনের নাস্তা। জাহাজ চলতে শুরু করেছে...। গাইডের কথা অনুযায়ী আধাঘন্টার মধ্যে আমাদের কটকা বিচে পৌঁছানোর কথা। ৮ টা নাগাদ জাহাজ ছোট খাল দিয়ে চলতে শুরু করলো। আমার কেমন জানি সন্দেহ হলো। গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জাহাজের ৩ তলায় উঠে এলাম। ম্যানেজার লাভলু ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম আমরা কোথায় ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন- সারেং কে। সারেং জিজ্ঞেস করলো গাইডকে...। বুঝলাম, ভুল পথে ঢুকেছি। আশ পাশ দিয়ে ছোট ছোট মাছের ট্রলার ছুটে যাচ্ছে। ওদের কাছে জানলাম, আমরা কটকার উল্টোদিকে। এখান দিয়ে কটকা যেতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লাগবে। বঙ্গোপসাগর দিয়ে যেতে হবে আমাদের। বুঝলাম না, কটকার সাথে বঙ্গোপসাগরের কী সম্পর্ক ? হাতের গ্লাস থেকে ছলকে গরম চা পড়লো গায়ে...। ঘটনা কী ? দৌড়ে ব্রিজে এলাম। সারেং জানালো- এই খাল দিয়ে সামনে যাওয়া যাবে না, পানি কম।
ইতোমধ্যে জাহাজ থেমে গেছে মানে থামাতে বাধ্য হয়েছে। এখন উপায় ? মংলা থেকে আমাদের সাথে আনা ট্রলারে করে আমি আর লাভলু ভাই পাশের মাছ ধরার ট্রলারের কাছে গেলাম। ওদের বুঝিয়ে বল্লাম, আমরা কী বিপদে পড়েছি...। ওদের মধ্যে দুজনের মায়া হলো। আমাদের কে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে রাজী হলো। ওদের নিয়ে জাহাজে ফিরে আসলাম। কখনো খালের ডান পাশ, কখনো বাম পাশ দিয়ে ধীরে ধীরে আমরা চলছি। এতক্ষণ না বুঝে বোকার মত মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। ঘন্টা খানেকের মধ্যে আমরা বঙ্গোপসাগরে। আমাদের নতুন গাইডদ্বয়ের পরামর্শ মতে আস্তে আস্তে জাহাজ এগুতে থাকলো। ঘড়িতে প্রায় ১০ টা। সবাই নামার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। আমি নতুন গাইড মোতাহার আর কালাম সর্দারসহ জাহাজের ব্রিজে। চারদিকেই ডুবো চর। খুব সতর্কতার সাথে জাহাজের ডানে আর বামে বাঁশ ফেলে পানি মেপে মেপে আমরা ততক্ষনে মাঝ সমুদ্রে। ঘন্টা দুয়েক চলার পর ওদের দেখানো পথে তাকিয়ে দেখলাম- মাইল খানেক দুরে সাধের কটকা দেখা যাচ্ছে। মনের আনন্দে প্যাকেটের শেষ সিগারেটটায় আগুন ধরালাম। দু’এক টান দিয়েছি মাত্র ! আস্তে করে জাহাজের তলা ঠেকে গেলো মাটিতে। হায় হায় করে উঠলো নতুন গাইড দু’জন। সারেং কে বকা দিচ্ছে। আপনাকে বল্লাম, জাহাজ ডানে ঘোরাতে। আপনি বায়ে ঘোরালেন ক্যান ? এখনতো আটকে গেলেন ! রাগে গজ গজ করছে ওরা। ঘড়িতে বেলা ১২ টা বেজে ১০ মিনিট। আর আমাদের বেজে গেছে ২৪ টা।
তিন তলা থেকে নিচে নেমে আসলাম। সবাই জানতে চাইছে, কী হয়েছে ? কাউকে কিছু না বলে মাইক্রোফোনটা হাতে তুলে নিলাম। বল্লাম, আমরা বঙ্গোপসাগরের নাম না জানা চরে আটকে গেছি। এখান থেকে ছাড়া পাবার জন্য জোয়ারের অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প নেই। জোয়ার আসার আগে আমরা আমাদের সাথে থাকা দুটো ট্রলারে করে ৩০ জন করে কটকা ঘুরে আসতে পারি। কে হবেন সে প্রথম ৩০ জন ? সবাই একসাথে ট্রলারের দিকে দৌড়ালো। আমি যতই বলি, ৩০ জনের বেশি একসাথে যাওয়া যাবে না- ততই বাকীরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ১০/১২ জন বিদ্রোহী হয়ে উঠলো। ঘোষনা দিলো, সবাই একসাথে যেতে পারলে যাবে- নতুবা কেউ যাবে না। তাহলেতো জোয়ার আসার আগে কারোরই যাওয়া হবে না...। জোয়ার আসতে কমপক্ষে ৬/৭ ঘন্টা। এই বিদ্রোহী ১০-১২ জনের কারনে অভিযাত্রীরা নিজেদের মধ্যেই ২ ভাগ হয়ে গেলো। শেষতক সবাই মিলে ঘোষনা দিলো- তীরে নামলে একসাথে নামবে, নইলে নামবে না। মন-টন খারাপ করে সবাই যে যার রুমের দিকে গেলো। নিচে দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। আমি রুমে বসে জোয়ারের অপেক্ষা করছি। হঠাৎ সমবেত কন্ঠের চিৎকার শুনে আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে এসে যা দেখলাম...! সেটা যারা সেদিন আমাদের সাথে ছিলো না, তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। আমাদের জাহাজের বামদিকে অন্তত ১০০ ফুট জায়গায় একরত্তি পানি নেই। শুধু ভেজা বালি আর বালি। জাহাজের তলায় প্রফেলর দেখা যাচ্ছে। অতি সাহসী দু’চারজন লাফ দিয়ে বালিতে নেমে পড়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে জাহাজের প্রায় সবাই নেমে গেলো বালুর চরে...। আমাদের শিল্পী বন্ধু রাশেদ আর রিয়াজ তাদের সাথে আনা ইভেন্টের কাপড়-টাপড় নিয়ে নেমে পড়লো জাহাজ থেকে। সবাই ধরাধরি করে ইভেন্ট শুরু করে দিলো বালুতে। যা আমাদের করার কথা ছিলো কটকা বিচে...। আনন্দে নাচছে সবাই। মাটিতে নামতে পারার কারনে না বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে চরে নামতে পারার কারনে--- সেটা গবেষনার বিষয়। আপাতত বিদ্রোহ দুর হয়েছে দেখে আমিও আনন্দিত। নতুন প্যাকেট থেকে সিগারেট ধরালাম...।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। খাবারের জন্য জুয়েল বারবার ঘোষনা দিচ্ছে। কে শোনে কার কথা। কেউ মাটি ছেড়ে জাহাজে উঠতে রাজী নয়। অবশেষে ধীরে ধীরে জোয়ারের পানি আসা শুরু করলো...। মুখ কালো করে সবাই জাহাজে উঠতে শুরু করলো। রুই মাছ, সব্জী আর ডাল দিয়ে খেয়ে নিলো সবাই। বাইরে টুক করে সূয্যি মামা ডুবে গেলো। বাইরে ভীষন ঠান্ডা বাতাস। অস্ত গেলো বছরের প্রথম সূর্য। কটকাতেই রাত্রী যাপন করবো। মাঝ সমুদ্র খুব বেশি নিরাপদ নয়। এমনিতেই একটা দিন চলে গেছে। অদুরের কটকাতে দুটো জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলোর আলো দেখা যাচ্ছে। ওখানটাই আপাতত আমাদের
গন্তব্য। এখান থেকে বড় জোর ১ ঘন্টা লাগবে। জাহাজের আলো দেখা যাচ্ছে। এখন শুধু পরিপূর্ণ জোয়ারের অপেক্ষায়...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আইচ্ছা
সুবিদ্ বলেছেন:
ভালো লাগলো.......আমার বন্ধু তনু (রাকিবুজ্জামান শাহ) আর ওর স্ত্রী জেসমিন ছিল আপনাদের সাথে......
লেখক বলেছেন: তাই ?
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
হেভ্ভী এক্সাইটিং তো....
লেখক বলেছেন: জ্বী, সব আপনাদের আশীর্বাদ...
সেতূ বলেছেন:
পড়লাম খুবএক্সাইটিং ....ডুব চরে গুলো খুব বিপদ জনক, জোয়ারের সময় হঠাৎ পানিতে ডুবে যায়..
বছর খানিক আগে খুলনা ভার্সিটর বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভাটা সময় ডুব চরে দিয়ে অনেক দুর হেটে গিয়েছিল.. জোয়ারের সময় আর দৌড়ে বীচে/পাড়ে ফিরে যেতে পারেনি ....
আপনার যাত্রীরা জাহাজের পাশেই ছিল দূরে যায় নাই....
ক্ক্সবাজার বীচে চরে +কেনেল (চর থেকে নিচু) আছে ভাটা সময় বুঝা যায় ...জোয়ারের সময় বীচে কাছে পাশাপশি চরে +কেনেলে একই পরিমান পানি থাকে কিন্তু বড় ঢেউ আসলে চরে পানি থাকে ৫ফুট আর কেনেলে হয়ে যায়৭ফুট+ ...
আমিও একবার এই ট্রাপে পরেছিলাম তাই শেয়ার করা
আমি দেখলাম আমি পায়ে মাটি পাচ্ছি না কিন্তু আমার সামনে পিছনে সবাই বুক সমান পানিতে দাড়িয়ে ....দুর্ঘটনা হয় এখানেই....
সকলকে সাতার জানা জরুরী...
চলুক ....
পোষ্টে +++
মুহিব বলেছেন:
আজকের ডেইলি স্টার পত্রিকায় আপনাদের নিউজই তো মনে হয় পড়লাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














