somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সূর্যগ্রহণকে ঘিরে পরিবেশ অধিদফতর, অনুসন্ধিৎসু চক্র এবং কথিত সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকের নেতিবাচক ভূমিকা সেইদিন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন, বিজ্ঞান জাদুঘর, ডিসকাসন প্রজেক্ট, স্কাই ওয়াচার্স এর কর্মীসহ আরও যারা সেন্টমার্টিন দ্বীপে সূর্যগ্রহণ দেখতে গিয়েছিলেন, পরিবেশ রক্ষা’র নাম করে পুলিশ, কোস্টগার্ড আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আকাশের দিকে টেলিস্কোপ মেলতে দেয়নি। এমনকি, আগের রাতে সূর্যগ্রহণ দেখতে আসা বিজ্ঞানকর্মীদের পুলিশ আর কোস্টগার্ড খুঁজে বেড়ানোর পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে! সবচে বড় কথা, পরিবেশ অধিদফতর সেন্টমার্টিন দ্বীপে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হলে দ্বীপের প্রতিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হবে, এই মর্মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মীদের সেখানে সূর্যগ্রহণ দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারও আগে একটি জাতীয় দৈনিক (যারা সব ভালো কাজের সাথে থাকার দাবী করে) দ্বীপে বিজ্ঞানকর্মীদের আগমন সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করবে বলে প্রচরাণা করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এই পর্যবেক্ষণ বন্ধ করার জন্য। আর বিজ্ঞান আন্দোলনে যুক্ত বলে কথিত, একটি সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র নামধারী স্বার্থান্ধ একটি চক্র পুরো তৎপরতার পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছে।
আর এর ফলাফল হলো, ওই দিন দ্বীপে আসা কয়েক হাজার সাধারণ পর্যটক প্রতিদিনকার মতই দ্বীপে বেড়িয়েছেন, কেউ কেউ হয়তো অসচেতন ভাবে প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলেছেন, আর দ্বীপে যাওয়া বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মীরা প্রায় লুকিয়ে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। অন্য আর সকল পর্যটকদের সাথে ওইদিন সূর্যগ্রহণ দেখতে যাওয়া বিজ্ঞানকর্মীদের পার্থক্য ছিল এই কেবল, তারা নিছক পর্যটক নন, তাদের সাথে ছিল সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য টেলিস্কোপ ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদি। তারা বিজ্ঞানকে ভালবাসে, বিজ্ঞানচর্চার সুবাদেই এই গ্রহের প্রাণের অনন্যতা সম্পর্কে সচেতন। সচেতন দেশের নাজুক পরিবেশ নিয়ে। সঙ্গতকারণেই তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপের গুরুত্ব বিষয়েও সজাগ, অবহিত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার নাম করে এই বিজ্ঞান আন্দোলনের সচেতন কর্মীদেরই বাধা দিয়ে দ্বীপের প্রতিবেশ রক্ষায় তাদের কর্তব্য সম্পন্ন করলেন।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের ইতিহাসে সঙ্গতকারণেই এই দিনটি একটি অশুভ দিবস হিসেবে পরিগণিত হবে। এর আগে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ওপর এই রকম অদ্ভুত, অবিবেচক নিষেধাজ্ঞা পৃথিবীর কোথাও আমরা দেখিনি। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সাথে পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্টির হাস্যকর যোগসূত্র আবিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ ও কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থরক্ষায় প্রকারান্তরে বাংলাদেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের মূলেই কুঠারাঘাত করলেন।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি পরিবেশগত বৈচিত্রের দিক দিয়ে অনন্যতার কারণেই বাংলাদেশের সম্পদ। সা¤প্রতিককালে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জনবসতির বৃদ্ধি, লাগামহীন পর্যটন বাণিজ্যের হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে দ্বীপটির প্রতিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে, এটা সকলেই জানেন। এই প্রবালদ্বীপটি বিপন্ন হলে তা বাংলাদেশের জন্য শুধু না, গোটা বিশ্বের জন্যই হবে অপূরণীয় ক্ষতি। আমরাও মনে করি, এই দ্বীপের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য এদিকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, অন্যদিকে প্রয়োজন জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি।
কিন্তু সূর্যগ্রহণ দর্শনের সাথে এই দ্বীপের পরিবেশ বিপন্ন হবার কি আদৌ কোন সম্পর্ক আছে? আদতেই তা নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করেন, তাদের অধিকাংশই আলাদা করে দ্বীপটির পরিবেশগত স্পর্শকাতরতা সম্পর্কে সচেতন নন। ফলে তাদের কেউ কেউ দ্বীপের যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য নিক্ষেপ করেন, মূল্যবান প্রবাল-পাথর সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। দ্বীপটিতে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বহু অবকাঠামো। আমরা তো মনে করি, অবিলম্বে দ্বীপটিকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করে সেখানে অপ্রাকৃতিক কাঠামো নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া উচিত। দ্বীপে প্রতিদিন কত পর্যটক আসতে পারবে, তার সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেয়া আবশ্যক।
কিন্তু অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের কর্মী ও শুভানুধ্যায়ী হিসেবে যারা ওইদিন সূর্যগ্রহণ দর্শন করতে গিয়েছিলেন, তারা বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী, একই সাথে তারা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন, সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল চর্চায় নিয়োজিত। তাদের মাধ্যমে ওই দ্বীপের পরিবেশগত ক্ষতি হবার ন্যূনতম কারণ যেমন একদিকে নেই, অন্যদিকে সমাজের মাঝে প্রতিবেশগত সচেতনতাবৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত সৃজনশীল কাজে সক্রিয় ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল গোটা দেশের নাগরিকদের মাঝে এই বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি করা সম্ভব। তাই কর্তৃপক্ষ প্রবাল-দ্বীপসহ বাংলাদেশের যে কোন প্রতিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা প্রসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আন্তরিক হলে তাদের দায়িত্ব হবে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন এর মত সংগঠনগুলোকেই এই কাজে সস্পৃক্ত করা, তাদেরকে এই এলাকাগুলোতে আরও বেশি সৃজনশীল আয়োজনে উৎসাহ দেয়া এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্ধুদ্ধ করা।
গণমাধ্যমের বড় অংশই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলেও সর্বাধিক প্রচারিত বলে কথিত দৈনিকটির নেতিবাচক ভূমিকা এবং একই সাথে সুবিধাবাদী-স্বার্থান্বেষী অনুসন্ধিৎসু চক্র নামধারী বিজ্ঞান সংগঠনটির কক্সবাজারে বলয় সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ছবি ও সংবাদ ছাপা- সেন্টমার্টিনে বিজ্ঞানকর্মীদের নিগ্রহের সংবাদটি বেমালুম গোপন করা থেকে বোঝা যায়, তার ভূমিকা শুধু যে নিরপেক্ষ ছিল না তাই নয়। তারা নিজেদের বিপুল প্রচারসংখ্যা আর প্রভাবকে বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মীদের হেনস্তা করার কাজে ব্যবহার করেছে।
এখানে আমরা বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশন এবং এর ধারাবাহিকতা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের জন্ম ১৯৮৮ সালে। এর সবচে বড় অর্জন মহাকাশ বার্তা নামের একটি মূলত জ্যোতির্র্বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা। মহাকাশ বার্তার ৫৫ সংখ্যা এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে, বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞান, বিশেষ করে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে উৎসাহী করে তোলায় ভূমিকা রাখতে পারাটা মহাকাশ বার্তার একটি বিরাট অর্জন। এছাড়া এসোসিয়েশন বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে প্ল্যানেটোরিয়াম নির্মাণের সাফল্য অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার এর নির্মাণ কাজে এসোসিয়েশনকে সরকার উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করে তার ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছিল। নিয়মিতভাবে আকাশ দেখা কর্মসূচির মাধ্যমে এসোসিয়েশন জনগণের মাঝে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়টিকে জনপ্রিয় করার কাজটি নিরলস ভাবে করে আসছে। এছাড়া, সূর্যগ্রহণ, ধূমকেতুর আগমন, উল্কাপাত প্রভৃতি মহাজাগতিক সকল ঘটনাতেই এসোসিয়েশন দেশের নানান স্থানে একযোগে ক্যাম্প করে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করে। শুধু তাই নয়, এ সকল কর্মসূচির সাথেই সহজবোধ্যভাষায় এর কার্যকারণ ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে একদিকে মানুষের মাঝে উৎসুক্য ও সচেতনতা বিস্তারের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়, একইসাথে প্রচলিত অনেক কুসংস্কার দূর করতেও ভূমিকা রাখে এসোসিয়েশন। এই ঢাকা শহরেও এক সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সূর্যগহণের সময় দরোজা-জানালা বন্ধ করে বসে থাকতেন, খাদ্য গ্রহণ করতেন না। এসোসিয়েশনের কর্মীরা ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ যে একটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা, নিরাপদে পর্যবেক্ষণ করার নিয়ম অনুসরণ করলে আশঙ্কার কিছু নেই, তা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই সক্রিয়তার ধারাবাহিকতাতেই গত পূর্ণসূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণে এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের ২৪টি স্থানে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প করা হয়, সেখানে উৎসাহী পর্যবেক্ষকদের জন্য সংগঠনের তরফ থেকে বিশেষ চশমা সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এসোসিয়েশনের উদ্যোগে পহেলা জানুয়ারি সূর্যোদয়ের প্রথম লগ্ন উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত সূর্যউৎসব প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এসোসিয়েশন জাতীয় স্তর ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এসোসিয়েশনের উদ্যোগেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া শুরু করে এবং এসোসিয়েশন এই কাজটি অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবছরই সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বয়স ভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে সারা দেশ থেকে অলিম্পিয়াডের জন্য প্রতিযোগী বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও আয়োজক দেশে যাওয়া আসার সকল বন্দোবস্ত এসোসিয়েশন নিজের উদ্যোগে করে থাকে। এই অংশগ্রহণ একদিকে যেমন সারাদেশে বিজ্ঞানচর্চাকে তৃণমূল স্তরে জনপ্রিয় করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কাজটি করেছে।
এসোসিয়েশন ছাড়াও ওইদিন যারা সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন, তাদের মাঝে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর রীতিমতো সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর এই ধরনের বিরল মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ তাদের সরকারি দয়িত্বও বটে! কিন্তু অতি উৎসাহী পরিবেশ অধিদফতর আর পুলিশ-কোস্টগার্ড তাদেরকেও পর্যবেক্ষণে বাধা দেয়। ডিসকাসন প্রজেক্টও একটি সক্রিয় বিজ্ঞান সংগঠন, দর্শনীর মাধ্যমে বিজ্ঞান-বক্তৃতা সিরিজের মাধ্যমে তারা দেশব্যাপী বিজ্ঞান আলোচনাকে জনপ্রিয় করায় বিশাল ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক স্কাই ্ওয়াচার্স সংগঠনটি, এরা আঞ্চলিক পর্যায়ে মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চাকে বিস্তৃত করে আসছেন।
তাই আমরা অবিলম্বে উচ্চতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিবেশ অধিদফতরের কারা কারা এই নিষেধাজ্ঞা জারির পেছনে তৎপর ছিলেন, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে তাদেরকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়ার জন্যও সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি। আমরা একই সাথে অধিকাংশ জাতীয় সংবাদ মাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই যথাযথ সংবাদ প্রদান করার জন্য। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ও যথাযথ কতৃপক্ষ বিজ্ঞানকর্মীদের কাছে ভুল স্বীকার এবং দুঃখ প্রকাশ করার মাধ্যমে বিজ্ঞানচর্চার পথে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, তা অপসারণ করবেন।
গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার প্রদর্শনী ও হঠকারিতা যেন আর কোনদিন বাংলাদেশে সৃজনশীলতার চর্চায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এটাই আমাদের আজকের দাবি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29091172 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29091172 2010-02-04 13:11:17
হাসি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, আসুন হাসি...
আজকের একটি পত্রিকার হেডলাইনে এসে চোখ আটকে গেলো...। সেটির শিরোনাম হচ্ছে- অস্ত্রহাতে ছাত্রলীগ কর্মী। পাশে সেই সন্ত্রাসী পাশার অস্ত্রহাতের ছবিটা ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ পত্রিকাটি তার পাঠকসহ (আমি বিশ্বাস করিনা, কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক বোধসস্পন্ন পাঠক নিজের টাকা দিয়ে এই পত্রিকাটি কিনে পড়ে। ফ্রি পেলেও কতজন পাঠক এ পত্রিকাটি পড়ে সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে...) সারা দেশের মানুষদের জানাতে চায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রহাতে যে যুবকটি সেদিন মহড়া দিয়েছিলো- সে ছাত্রদলের নয়, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী।

প্রিয় পাঠক, পত্রিকাটির নাম জানতে ইচ্ছে করছে না আপনার ? এটির নাম আমার দেশ...
<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29082204 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29082204 2010-01-20 10:16:19
হারিয়ে যাবার গপ্পো- ৩ Click This Link

জাহাজ চলার মত জোয়ার আসলো রাত ৯ টায়। আমরা রওয়ানা হলাম কটকার পথে। ২/৩টি জাহাজের বাতি দেখে আস্তে আস্তে আগাচ্ছি। জাহাজের বাতি দেখা যায় কী যায় না। চারদিকে ভয়ানক কুয়াশা। জাহাজের ব্রিজে আমি, বন্ধু রাশেদ আর আমাদের গাইড মোতাহার। জাহাজের ডাইন আর বাম থেকে আওয়াজ আসছে- এব বাঁও, এক হাত... এক বাঁও, ২ হাত....। পানি মাপছে জাহাজের লোকেরা। না চলার মত করে চলছে জাহাজ। বামে পানি কমতে শুরু করলো। আমরা ডানে ঘুরলাম। এতটাই ঘুরলাম যে, ১৫ মিনিট পর আর অন্য জাহাজের বাতি দেখতে পাচ্ছিলাম না। বাইনোকিউলার দিয়েও কিছু দেখা যাচ্ছে না। খালী চোখেতো নয়ই। আবার অথৈ সাগরে। ঠান্ডায় জমে যাবার দশা আমাদের। একটার পর একটা সিগারেট ধরাচ্ছি। অবশেষে আমাদের গাইড মোতাহারের চোখে জাহাজের লাইট ধরা পড়লো। আমরা অন্যরা কিছুই দেখছিনা। ভরসা করতেই হলো। আস্তে আস্তে জাহাজের মুথ ঘুরানো হলো বায়ে। কটকায় অন্য জাহাজের কাছে আমরা যখোন পৌঁছলাম, রাত তখন প্রায় ১১ টা। জাহাজের নোঙ্গর ফেলা হলো।

৩ টা জাহাজের মধ্যে ২ টা জাহাজের মাস্টারের সাথে কথা বলে নিলাম। একজন যাবেন ১ দিন পর। বাকী ১ জন আজকেই ভোর ৪ টায় রওয়ানা হবে। তার সাথে আমরা যাবো, বলে আসলাম। তার কোনো আপত্তি নেই। আমাজের জাহাজে ফিরে এসে সুকানীকে বল্লাম- ভোর ৪ টায় যেনো রওয়ানা করে। ওই জাহাজের পিছে পিছে। তাহলে আর পথ হারানোর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। জাহাজের ম্যানেজার, সুকানী আর মাস্টারকে সব বুঝিয়ে বলে ঘুমাতে গেলাম ২ টার দিকে। ওদের ডাকে ঘুম ভাঙলো। জাহাজ মাত্র ছেড়েছি- বল্লেন ম্যানেজার। ঠিকাছে বলে মোবাইলের ঘড়িতে দেখলাম- ৪ টা বেজে ১০ মিনিট। সব্বোনাশ ! ওই জাহাজ ছেড়েছে ১০ মিনিট আগে। তারমানে আবার পথ হরাবো আমরা। দৌড়ে ব্রিজে উঠে এলাম। সুকানীকে বল্লাম- ওই জাহাজটা কতদুর ? বেটা বললো, সামনে কোথাও...। পিত্তি জ্বলে গেলো। কী বলবো ? ডান-বাম-সামনে-পিছে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। শুধু কুয়াশা। হাল ছেড়ে দিলাম। ১০/১৫ মিনিট চলার পর জাহাজ থেমে গেলো। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আর যেতে পারবে না। রোদ উঠার অপেক্ষায় থাকতে হবে। তারপর রাস্তা দেখে আগাবে...

রোদ ঠিকই ঊঠলো। কুয়াশা আর কমে না। ১৫ হাত দুরের জিনিসও দেখা যায় না। সকাল ১০ নাগাদ একটু একটু করে চারপাশ পরিস্কার হলো। আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম। ঘন্টাখানেক বাদে আমরা সাগরকে একপাশে ফেলে তীরের দিকে আগালাম। পশুর নদীতে ঢুকলাম। ডান আর বামে সুন্দরবনের গাছ পালা। সে এক অন্য রকোম সুন্দর ! সবাই ৩ তলায় আর ছাদে চলে গেলো। আশে পাশে বন দেখার পর সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলো। ইতোমধ্যে আমরা যে সঠিক পথে ঢুকেছি সেটা সবাই বুঝে গেছে। এখান থেকে মঙলা যেতে আমাদের সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত। নিচে নেমে আসলাম। এতক্ষনে টের পেয়েছি- প্রচন্ড ক্ষিধে পেয়েছে। নাস্তা সেরে নিলাম। একহাতে গরম চায়ের গ্লাস, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। চায়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে নামিয়ে রাখলাম। মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে নাটকীয় ঘোষনা দিলাম-
সূর্য উৎসবে আগত সকল অভিযাত্রীদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। আমি এই জাহাজের স্ব-ঘোষিত ক্যাপ্টেন। আমার নাম মেসবাহ। আমরা ঠিক পথে জাহাজ নিয়ে ঢাকার পথে যাচ্ছি। চিন্তা করার কিছু নেই। এখন থেকে ঢাকা পৌঁছা পর্যন্ত আমার কথামতো জাহাজ চলবে। আশা করছি দুপুর ৩ টা নাগাদ আপনাদের ঘন্টা খানেকের জন্য মাটিতে নামাতে পারবো....। ধন্যবাদ সবাইকে।

এরপরের ঘটনা খুবই সাদামাটা। বিকেল সাড়ে তিনটায় আমরা এসে করমজল নামক ট্যুরিস্ট স্পটের মাটিতে নামলাম। ৩ দিন পর মাটির স্পর্শ ! ক্ষাণিক সময় ঘুরে আমাদের থাকা ট্রলার এবং আরো দুটো ট্রলার ভাড়া নিয়ে সবাই পাশের খাল দিয়ে বেরিয়ে পড়লো। বেশ কিছুটা বনের মধ্যে ঢুকে গেলো। মধু কিনলো কেউ কেউ। সূর্যাস্তের আগেই সবাই জাহাজে ফিরে আসলো। পেটের অবস্থা কাহিল সবার। তখনো দুপুরের খাবার খায়নি। পড়িমরি করে দুপুরের খাবার খেলো সন্ধ্যায়। সবার চোখে মুখে তৃপ্তির ছাপ। সন্ধ্যার পর শুরু হলো কুইজ প্রতিযোগিতা, র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্রয়ের টিকিটের দাম ছিলো ১০ টাকা। পুরস্কার ছিলো ম্যালা দামী। নিঝুম দ্বীপ এবং সেন্টমার্টিন-এ অবকাশ হোটেলের সৌজন্যে, সেন্টমার্টিনে সীমানা পেরিয়ে রিসোর্টের সৌজন্যে, বান্দরবানে গাইড ট্যুরের সৌজন্যে ২ দিন ২ জনের থাকা এবং নাস্তা ফ্রি। রঙয়ের সৌজন্যে ১০ টি গিফট প্যাকেট। যাতে ছিলো- ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, শাল, শাড়ি, শর্ট পাঞ্জাবী ইত্যাদি। এছাড়া অন্য পুরস্কারও ছিলো। মোট পুরস্কার ছিলো ৭০/৭৫ টা। এভাবে আনন্দেই কাটলো বেশ কিছু সময়। মঙলা থেকে জোয়ার আসার পর আমাদের জাহাজ পারাবত- ১ যখন ঢাকার পথে ছাড়লো তখন রাত ১১ টা। এখান থেকে এক নাগাড়ে জাহাজ চালালে ঢাকা যেতে আমাদের সময় লাগবে ২০ ঘন্টা। কালকে অফিস করতে পারবো। তবুও শান্তনা যে, অনেক বড় একটা বিপদ থেকে অবশেষে উদ্ধার পেয়ে আমাদের জাহাজ ঢাকার পথে... রাতের শেষ সিগারেটটা টেনে ঘুমাতে রুমে গেলাম ১.২৫ মিনিটে। গন্তব্য ঢাকা সদরঘাট...।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29080168 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29080168 2010-01-17 12:30:52
১৪২ জনের বঙ্গোপসাগরে ১৯ ঘন্টা হারিয়ে যাওয়ার গপ্পো- ২ Click This Link

সবাই কিন্তু সকাল ৬ টার মধ্যেই রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো। বেগুন ভাজা আর ডিম দিয়ে খিচুড়ি। এরপর গ্লাস ভর্তি রং চা। এই ছিলো আমাদের ২০১০ সালের প্রথম দিনের নাস্তা। জাহাজ চলতে শুরু করেছে...। গাইডের কথা অনুযায়ী আধাঘন্টার মধ্যে আমাদের কটকা বিচে পৌঁছানোর কথা। ৮ টা নাগাদ জাহাজ ছোট খাল দিয়ে চলতে শুরু করলো। আমার কেমন জানি সন্দেহ হলো। গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জাহাজের ৩ তলায় উঠে এলাম। ম্যানেজার লাভলু ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম আমরা কোথায় ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন- সারেং কে। সারেং জিজ্ঞেস করলো গাইডকে...। বুঝলাম, ভুল পথে ঢুকেছি। আশ পাশ দিয়ে ছোট ছোট মাছের ট্রলার ছুটে যাচ্ছে। ওদের কাছে জানলাম, আমরা কটকার উল্টোদিকে। এখান দিয়ে কটকা যেতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লাগবে। বঙ্গোপসাগর দিয়ে যেতে হবে আমাদের। বুঝলাম না, কটকার সাথে বঙ্গোপসাগরের কী সম্পর্ক ? হাতের গ্লাস থেকে ছলকে গরম চা পড়লো গায়ে...। ঘটনা কী ? দৌড়ে ব্রিজে এলাম। সারেং জানালো- এই খাল দিয়ে সামনে যাওয়া যাবে না, পানি কম।

ইতোমধ্যে জাহাজ থেমে গেছে মানে থামাতে বাধ্য হয়েছে। এখন উপায় ? মংলা থেকে আমাদের সাথে আনা ট্রলারে করে আমি আর লাভলু ভাই পাশের মাছ ধরার ট্রলারের কাছে গেলাম। ওদের বুঝিয়ে বল্লাম, আমরা কী বিপদে পড়েছি...। ওদের মধ্যে দুজনের মায়া হলো। আমাদের কে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে রাজী হলো। ওদের নিয়ে জাহাজে ফিরে আসলাম। কখনো খালের ডান পাশ, কখনো বাম পাশ দিয়ে ধীরে ধীরে আমরা চলছি। এতক্ষণ না বুঝে বোকার মত মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। ঘন্টা খানেকের মধ্যে আমরা বঙ্গোপসাগরে। আমাদের নতুন গাইডদ্বয়ের পরামর্শ মতে আস্তে আস্তে জাহাজ এগুতে থাকলো। ঘড়িতে প্রায় ১০ টা। সবাই নামার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। আমি নতুন গাইড মোতাহার আর কালাম সর্দারসহ জাহাজের ব্রিজে। চারদিকেই ডুবো চর। খুব সতর্কতার সাথে জাহাজের ডানে আর বামে বাঁশ ফেলে পানি মেপে মেপে আমরা ততক্ষনে মাঝ সমুদ্রে। ঘন্টা দুয়েক চলার পর ওদের দেখানো পথে তাকিয়ে দেখলাম- মাইল খানেক দুরে সাধের কটকা দেখা যাচ্ছে। মনের আনন্দে প্যাকেটের শেষ সিগারেটটায় আগুন ধরালাম। দু’এক টান দিয়েছি মাত্র ! আস্তে করে জাহাজের তলা ঠেকে গেলো মাটিতে। হায় হায় করে উঠলো নতুন গাইড দু’জন। সারেং কে বকা দিচ্ছে। আপনাকে বল্লাম, জাহাজ ডানে ঘোরাতে। আপনি বায়ে ঘোরালেন ক্যান ? এখনতো আটকে গেলেন ! রাগে গজ গজ করছে ওরা। ঘড়িতে বেলা ১২ টা বেজে ১০ মিনিট। আর আমাদের বেজে গেছে ২৪ টা।

তিন তলা থেকে নিচে নেমে আসলাম। সবাই জানতে চাইছে, কী হয়েছে ? কাউকে কিছু না বলে মাইক্রোফোনটা হাতে তুলে নিলাম। বল্লাম, আমরা বঙ্গোপসাগরের নাম না জানা চরে আটকে গেছি। এখান থেকে ছাড়া পাবার জন্য জোয়ারের অপেক্ষা করা ছাড়া বিকল্প নেই। জোয়ার আসার আগে আমরা আমাদের সাথে থাকা দুটো ট্রলারে করে ৩০ জন করে কটকা ঘুরে আসতে পারি। কে হবেন সে প্রথম ৩০ জন ? সবাই একসাথে ট্রলারের দিকে দৌড়ালো। আমি যতই বলি, ৩০ জনের বেশি একসাথে যাওয়া যাবে না- ততই বাকীরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ১০/১২ জন বিদ্রোহী হয়ে উঠলো। ঘোষনা দিলো, সবাই একসাথে যেতে পারলে যাবে- নতুবা কেউ যাবে না। তাহলেতো জোয়ার আসার আগে কারোরই যাওয়া হবে না...। জোয়ার আসতে কমপক্ষে ৬/৭ ঘন্টা। এই বিদ্রোহী ১০-১২ জনের কারনে অভিযাত্রীরা নিজেদের মধ্যেই ২ ভাগ হয়ে গেলো। শেষতক সবাই মিলে ঘোষনা দিলো- তীরে নামলে একসাথে নামবে, নইলে নামবে না। মন-টন খারাপ করে সবাই যে যার রুমের দিকে গেলো। নিচে দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। আমি রুমে বসে জোয়ারের অপেক্ষা করছি। হঠাৎ সমবেত কন্ঠের চিৎকার শুনে আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে এসে যা দেখলাম...! সেটা যারা সেদিন আমাদের সাথে ছিলো না, তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। আমাদের জাহাজের বামদিকে অন্তত ১০০ ফুট জায়গায় একরত্তি পানি নেই। শুধু ভেজা বালি আর বালি। জাহাজের তলায় প্রফেলর দেখা যাচ্ছে। অতি সাহসী দু’চারজন লাফ দিয়ে বালিতে নেমে পড়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে জাহাজের প্রায় সবাই নেমে গেলো বালুর চরে...। আমাদের শিল্পী বন্ধু রাশেদ আর রিয়াজ তাদের সাথে আনা ইভেন্টের কাপড়-টাপড় নিয়ে নেমে পড়লো জাহাজ থেকে। সবাই ধরাধরি করে ইভেন্ট শুরু করে দিলো বালুতে। যা আমাদের করার কথা ছিলো কটকা বিচে...। আনন্দে নাচছে সবাই। মাটিতে নামতে পারার কারনে না বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে চরে নামতে পারার কারনে--- সেটা গবেষনার বিষয়। আপাতত বিদ্রোহ দুর হয়েছে দেখে আমিও আনন্দিত। নতুন প্যাকেট থেকে সিগারেট ধরালাম...।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। খাবারের জন্য জুয়েল বারবার ঘোষনা দিচ্ছে। কে শোনে কার কথা। কেউ মাটি ছেড়ে জাহাজে উঠতে রাজী নয়। অবশেষে ধীরে ধীরে জোয়ারের পানি আসা শুরু করলো...। মুখ কালো করে সবাই জাহাজে উঠতে শুরু করলো। রুই মাছ, সব্জী আর ডাল দিয়ে খেয়ে নিলো সবাই। বাইরে টুক করে সূয্যি মামা ডুবে গেলো। বাইরে ভীষন ঠান্ডা বাতাস। অস্ত গেলো বছরের প্রথম সূর্য। কটকাতেই রাত্রী যাপন করবো। মাঝ সমুদ্র খুব বেশি নিরাপদ নয়। এমনিতেই একটা দিন চলে গেছে। অদুরের কটকাতে দুটো জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলোর আলো দেখা যাচ্ছে। ওখানটাই আপাতত আমাদের
গন্তব্য। এখান থেকে বড় জোর ১ ঘন্টা লাগবে। জাহাজের আলো দেখা যাচ্ছে। এখন শুধু পরিপূর্ণ জোয়ারের অপেক্ষায়...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29072811 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29072811 2010-01-06 10:19:40
১৪২ জনের বঙ্গোপসাগরে ১৯ ঘন্টা হারিয়ে যাওয়ার গপ্পো- ১ ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা । সদরঘাট থেকে আমাদের নিয়ে পারাবত- ১ ভেঁপু বাজালো দুপুর ২.১০ মিনিটে। যথারীতি শেষ সময়ে এটা সেটা কেনা, অনেকের না এসে পৌঁছানো, নতুন করে কারো কারো আমাদের সফরসঙ্গী হওয়া...। যাই হোক, জাহাজ ছাড়ার পরই সবাইকে তার কেবিনের চাবি (যদিও বলা ছিলো- শিশু এবং বৃদ্ধদের শুধু কেবিন দেয়ার পর কেবিন বাকী থাকলে অন্যদের দেয়া হবে) দিয়ে দেয়া হলো। খাবারে ক্ষানিকটা বিলম্ব হবে, সেজন্য সবাইকে মুড়ি-চানাচুর মাখা দেয়া হলো। আমরা যে যার কাজে নেমে পড়লাম।
জাহাজ চালাবার সার্বিক দায়িত্ব দেখবেন- মিলন ভাই।
মুড়ি-চানাচুরের দায়িত্ব- শিবলী।
আমাদের ১১ বেলা খাবারের দায়িত্ব - জুয়েল।
জাহাজ সাজানো, বাচ্চাদের ছবি আঁকা দেখবেন- রাশেদ, রিয়াজ।
গান-বাজনা-প্রজেকটর এসব দেখবে - শাওন।
রেফেল ড্র, কুইজ, বিচিত্রানুষ্ঠান ইত্যাদি দেখবো- আমি আর নওরোজ।
বিভিন্ন রঙ্গের ১০০ গজের একটি বিশাল পতাকা (যার মধ্যে আবার কন্টকীর বিশাল মুখোশ আঁকা রয়েছে) জাহাজের উপরে টানিয়ে দেয়া হলো। সবার সহযোগিতা নিয়ে বিশাল পতাকাবাহী বাঁশটিকে জাহাজের সামনের দিকে দাঁড় করিয়ে দেন রাশেদ আর রিয়াজ। সবাই বেশ আনন্দের মুডেই আছে। ছাদে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে ঢাকাকে। মোটামুটি বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দুপুরের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। খাবার খেয়ে বেশিরভাগই ছাদে ইঠে গেলো। নিচে গান চলছে। উপরে আড্ডা আর ছবি তোলা। আমাদের সাথে যাচ্ছেন- বাংলাভিশন, বৈশাখী আর দেশটিভির বন্ধুরা। এছাড়াও আছেন- বিডি নিউজ ২৪.কম, ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, যুগান্তরসহ কয়েকটি প্রিন্টিং মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এছাড়াও প্রায় সবার কাছেই রয়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা। আস্তে আস্তে সূর্য ডুবে গেলো। তীব্র শীত। আমরা সবাই ছাদ থেকে নেমে এলাম নিচে।
আমাদের লঞ্চ চাঁদপুর পেরিয়ে যাবার পর জানা গেলো- এ জাহাজের চালক (যাকে সুকানী বলা হয়) জীবনেও সুন্দরবন এলাকায় যায়নি। তবে টেনশন নেই, মংলা থেকে পাইলট (যে রাস্তা চিনিয়ে নেয়) নিয়ে নেয়া হবে। ঢাকা থেকে নেননি ক্যানো ? কোনো জবাব নেই। মাথার চুল ছিঁড়ে আর কমাতে চাইনি। সিগারেট খাওয়ার পরিমান বেড়ে গেলো আমাদের কয়েকজনের। অন্যরা কিছুই জানেনা। সারারাত চালিয়ে সকাল ১০ টায় মংলায় থামলাম। ঘন্টাখানেক থামার পর জাহাজের মাস্টার এসে বললো- সব ঠিকাছে। জাহাজ ছাড়বে কিনা ? বললাম- ছাড়তে। জাহাজ চলছে...। আমাদের রুট ছিলো- ঢাকা থেকে শরণখোলা- রায়েন্দা হয়ে কটকা। অথচ এখন অন্তত ১০ ঘন্টার রাস্তা ঘুরে যাচ্ছি আমরা।
সন্ধ্যা নাগাদ আর কোনো অঘটন ছাড়াই পৌঁছলাম হিরন পয়েন্ট। সেখানে ২০০৯ সালের শেষ সুর্যাস্তটা দেখলাম। জাহাজের গাইড জানালো- রাতটা এখানে কাটাতে পারি। আবার ঘন্টাখানেক দুরের কটকাতেও কাটাতে পারি। যেহেতু আমাদের গন্তব্য কটকা, সকালে আমরা মাটিতে নামবো, নতুন সূর্যকে বরণ করে নেবো, বেশ কিছু ইভেন্ট আছে- তাই সিদ্ধান্ত হলো কটকাতেই রাত কাটাবো। কটকার কাছাকাছি যেয়ে জাহাজ নোঙ্গর করা হলো।
আজ ৩১ ডিসেম্বর। ১০টার মধ্যে রাতের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। মাইকে গান বাজছে। আমাদের রাতের প্রোগ্রামের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম প্রহরে আমরা মঙ্গল দ্বীপ জ্বালিয়ে নদীতে নামাবো। মাটির সরাতে রঙ্গীন কাগজ দিয়ে তার ভেতরে ছোট পিদিম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৫০ টি মঙ্গল দ্বীপ ভাসিয়ে দেব। আর এ কাজটিতে নের্তৃত্ব দেবেন আমাদের এ উৎসবের প্রধান অতিথি, আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান। প্রচন্ড বাতাস আর ভয়ঙ্কর সব ঢেউয়ের মাঝেও আমরা আমাদের মঙ্গল দ্বীপগুলো ভাসিয়ে দিলাম নদীতে। এরপর খালি গান, নাচা, মাস্তি আর লুকিয়ে লুকিয়ে তরল খাওয়া......। সবাইকে বলে দেয়া হলো- সকাল ৬ টায় রিপোর্ট করার জন্য । ৭ টায় আমরা মাটিতে নামবো।

চলবে....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29071578 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29071578 2010-01-04 13:46:23
আমাদের আনন্দ
আনন্দ মেলিতার কলেজের সামনের একটা বিখ্যাত ফাস্টফুডের দোকানে চাকরী নিলো। দোকানের মালিক তার এক পরিচিত বড় ভাই (হতেই হবে, নাইলে গল্প জমবে কী করে ?)। মেলিতার সাথে দেখা হয় তার। টুকটাক হথা হয়। একদিন সাহস করে মেলিতাকে বলে ফেলে নিজের মনের কথা। মেলিতা অবাক চোখে তাকায় আনন্দের দিকে। আনন্দ কিছু বুঝে, কিছু বুঝে না।

বাসায় যেয়ে রাতে ফোন করে মেলিতা। জানায়, তার অপারগতার কথা। অনেকদিন থেকেই সে একটা ছেলেকে ভালোবাসে....। আনন্দকে সে পছন্দ করে, বন্ধু হিসেবে। শুনে আনন্দের জীবনটা নিরানন্দ হয়ে যায়। বেচারা ! বেশ ক'দিন দোকানে আসেনা। তার খোঁজে একদিন বাসায় যায় জয়িতা। একই দোকানে পাটটাইম কাজ করে সে। জয়িতাকে বাসায় দেখে আনন্দ অবাক হয়। ঘন্টাখানেক আনন্দের সাথে আড্ডা মেরে, চা-টা খেয়ে জয়িতা আনন্দের হাত ধরে অনুরোধ করে, পরদিন থেকে কাজে যাবার জন্য। প্রতিশ্রুতি নিয়ে জয়িতা ফিরে আসে।

আনন্দ যথারীতি পরদিন থেকে কাজে যায়। সকালবেলাটা তার ছটফট করে কেটে যায়...। কখোন জয়িতা আসবে! জয়িতা দোকানে আসে ২টার পরে। এরপর আনন্দের সময়টা কীভাবে কেটে যায় টের পায়না সে। কাজের মাঝে টুকটাক কথা হয়। কাজ সেরে একসাথে বের হয় দু'জন। জয়িতাকে বাসায় নামিয়ে আনন্দ নিজের বাসায় ফিরে। সারাপথ আনন্দ বকবক করে। তার মায়ের গল্প, মফস্বল শহরের গল্প শুনতে শুনতে একদিন জয়িতা জেদ ধরলো- সে আনন্দদের শহরে যাবে। বেচারা আনন্দ নিরুপায় হয়ে রাজি হয়।

একদিন দু'জনে ৩ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে ট্রেনে চেপে বসে। মা আনন্দকে দেখে যতোটা খুশি হয়, ততটাই অবাক হয় জয়িতাকে দেখে। আনন্দ সহকর্মী বলে পরিচয় করে দেয়। মা হাসেন। মনে মনে ভাবেন, দু'জনেক বেশ মানিয়েছে...।

ফিরে আসার দিন আনন্দ জয়িতাকে তার ভালোলাগার কথা বলে। শুনে জয়িতা তাকিয়ে থাকে.... চোখ দিয়ে টপ টপ করে ক'ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে। আনন্দের হাত ধরে বলে-আনন্দ, তুমি না বললে কোনোদিন তোমাকে বলা হতো না। তুমি শুধু আমার বন্ধুই না, তারচেয়ে বেশি...। কিন্তু আনন্দ, আমার যে একটা অতীত আছে....। পুরো ঘটনা শুনে আমাদের আনন্দ আরেকবার তব্দা খেয়ে গেলো...।

বাইরে তাকিয়ে ঈশ্বরকে লক্ষ্য করে বললো- আমার বেলায় বার বার এসব কেনো ঘটছে খোদা ? খোদা নিরুত্তর ! আনন্দ উদাস নয়নে বাইরে তাকিয়ে থাকে....
(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29067683 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29067683 2009-12-29 14:19:36
অবশেষে তাহাকে পাইলাম... শোকর আলহামদুলিল্লাহ্ !

<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

কী পাইলাম আর কীভাবে পাইলাম জানতে কষ্ট করে পড়ুন :


Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29063572 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29063572 2009-12-22 12:57:50
হ য ব র ল
মাঝে মধ্যে সামু কর্তৃপক্ষের কিছু কিছু আচরন আমাকে পোড়ায়। ব্লগাররা নিজেদের বাড়ি মনে করে সামুকে। সে কারনে অনেক বন্ধু অভিমান করে সামুতে ঢু মারা ছেড়ে দিয়েছে। ওদের সাথে কথা হয় আমার, ফোনে, মেইলে বা অন্য কোথাও...। ওদের খুব মিস করি সামুতে।

সামুর চেয়ে বছর দেড়েকের ছোট আমি। স্বনামেই লিখি আমি। একটা নিক ছিলো। অনেকদিন সেটা আর খোলা হয়না। হয়তো আর হবেও না। আমি কৃতজ্ঞ সামুর প্রতি। আমার পুরোনো অনেক লেখিয়ে বন্ধুদের সাথে সামুতে আবার নতুন করে দেখা হয়েছে আমার। পেয়েছি নতুন অনেকগুলো ভালো মানুষের দেখা। এক জীবনে আর কী চাই, চাওয়ার থাকতে পারে ? অনেক বন্ধুরা আমাকে ঈর্ষা করে, আড়াই বছরে একবারও ওয়াচ/জেনারেল/ব্যান না খেয়ে টিকে থাকার কারনে। আমি হাসি। সারাক্ষণ, সব্বাইকে নিয়ে আনন্দে থাকতে মন চায় আমার। আমাদের একটাইতো জীবন। কত ছোট।

আজ সামুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে কামনা, সামু বেঁচে থাক তার স্ব-মহিমায়। পেছনের মানুষগুলো আরো নিরলস কাজ করে যাক এর উত্তোরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য। ব্লগার যাদের মধ্যে ক্ষোভ, অভিমান আছে, যারা আমাদের ছেড়েছেন- তারা ফিরে আসুক। এ জন্য যেনো সামু কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেন...। আমি অনেক বছর পরও নাতি-নাতনীদের যেনো বলতে পারি--- জানিস, একদিন আমিও সামুতে ছিলাম। আসলে-
মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক
আমি তোমাদেরই লোক...

(মন্তব্যটা বেশি বড় হয়ে যাওয়াতে পোস্ট আকারে দিয়ে দিলাম)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29059311 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29059311 2009-12-15 16:22:18
যাবেন, সূর্য উৎসবে সুন্দরবন... এটি সূর্য উৎসবের প্রোগ্রাম। প্রতি বছর আমরা করে থাকি। এক এক বছর এক এক জায়গায়। গত বছর ছিলো পঞ্চগড়। তার আগের বছর রাঙ্গামাটির পাবলা খালীতে। এর আগে সেন্টমার্টিন, নিঝুমদ্বীপ, খাগড়াছড়ি, কেওক্রাডাং করেছিলাম।
কেউ যেতে চাইলে আওয়াজ দেবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29057645 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29057645 2009-12-12 17:51:23
ডাবল সেঞ্চুরিতম হিবিজিবি ঘেন্নাও করি তাদের
আমার বেবাক ভালোবাসা আর
মন্দবাসা সব মানব জাতীর জন্য...
হে মানবকূল, তোমরা আমার
ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা গ্রহণ করো।
পাশাপাশি ঘেন্না নিতে ভুলোনা....


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29052878 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29052878 2009-12-03 13:18:29
কোরবানীর দুইদিন আগে কোরবানী !
ঈদের ২ দিন আগে পোলা আর তার মায়ে ঈদবাড়িতে যাওয়ার জইন্য বায়না ধরলো। আমি আবারও কৈলাম ঠিকাছে। একটা বড় ব্যাগ, ২ টা ছোট ছোট ব্যাগ লইয়া পোলা আর তার মায়ে রওয়ানা দিলো। বাসে যাইতে পোলার মঞ্চায় না। কৈলো, বাবা, আমরা সিএনজি টেক্সি কৈরা যামু। কৈলাম ঠিকাছে। ৫/৭ টা টেক্সিরে জিগানোর পর একটা যাইতে রাজী হৈলো। ওরা খুশি হৈয়া টেক্সিতে উঠলো। আমি ছোটো ২ টা ব্যাগ পিছনে আর বড় ব্যাগটা ড্রাইভারের পাশে রাখলাম। দাম ঠিক হৈলো ২৮০ টেকা...। দাম লৈয়া পোলা বা তার মায়ের কোনো টেনশন নাই। আমার বুকের বামদিকে চিনচিন কৈরা ব্যথা শুরু হৈলো। ওরা রওয়ানা হৈলো। জার্নি বাই সিএনজি, ফার্মগেট টু নারায়ণগঞ্জ...

ঈদের আগের দিন আমি বাসা থেইকা বাইরৈলাম সন্ধ্যা ৬ টায়। গুলিস্তান পোঁছলাম ৭.৩৫ মিনিটে। আসিয়ান বাসের টিকিট কাটলাম ৭.৪০ মিনিটে। বাস আইলো ৮.৩৫ মিনিটে। ৮.৪০ এ ছাড়লো। জার্নি বাই বাস, গুলিস্তান টু নারায়ণগঞ্জ... বাসে ঠান্ডা বাতাস। ভালোই লাগতেছিলো। কখন যে ঘুমাইয়া পড়ছি টের পাই নাই। যখোন টের পাইলাম তখোন রাইত ১১.০৭ মিনিট। সব্বোনাশ ! পাশের যাত্রিরে জিগাইলাম, ভাই কোন জাগায় আছি ? হেয় কৈলো শনির আখড়া...। ব্যাটা কয় কী ? তাইলে কি বাস নারায়ণগঞ্জ যাইয়া আবার ঘুইরা ঢাকায় আইতাছে ? বেকুবের মতন আবার জিগাইলাম, ভাই আপনে কি ঢাকা থেইকা নারায়ণগঞ্জ যাইতাছেন ? নাকী, নারায়ণগঞ্জ থেইকা ঢাকা যাইতেছেন ? ব্যাটা আমার দিকে এমনভাবে তাকাইলো... মনে মনে সিওর কৈছে হালায় মফিজ !!!

যাই হোক, দুঃখের কাহিনী শুইন্যা লাভ নাই। রাইত দেড়টার সামান্য আগে শ্বশুরবাড়িত যাইয়া পোঁছলাম। সবাই টেনশনে জাইগা আছিলো। আমারে অন্তত ২০ বার ফোন করছে... আমি রাগে ধরি নাই। ক্যান ধরি নাই সেইডা কৈ। আমার পোলার মায়ে আমারে কসম দিছে, আমি য্যান মোটর সাইকেল লৈয়া না যাই... নাইলে এতোক্ষণে বৌয়েরে জড়াইয়া ধৈরা কম্বলের নিচে ঘুমাইয়া থাকনের কতা আমার । আমার মেজাজ দেইখা বৌয়ে কিছু কয় নাই। পোলায় আমার লগে আইয়া শুইলো। কৈলো, বাবা জানো আমাদের বড় ব্যাগটা সিএনজিতে রেখে আমরা নেমে গেছি। আমার, নানু আর মায়ের সব নতুন জামা কাপড় ওই ব্যাগে ছিলো। মা বলছে, তোমাকে না বলতে...। এবার আমি নতুন জামা ছাড়া ঈদ করবো...। ছেলের কাঁদো কাঁদো গলা...। ওকে শান্তনা দিয়ে বল্লাম, ঈদের পর মার্কেট খুললে নতুন জামা কিনে দেবো, বাবা...

বড় ব্যাগটায় যা যা ছিলো:
সাদা কালো থেকে কিনা বৌয়ের একসেট জামা আর একটা শাড়ি, শ্বাশুড়ির একটা শাড়ি, ছেলের ৩ টা নতুন গেঞ্জি, ২ টা জিন্সের পেন্ট আর পাজামা পাঞ্জাবী, আমার ১ টা লুঙ্গি, ১টা ফতুয়া আর নিত্য উপহার থেকে কিনা ২টা শাল... হায়রে কপাল...!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29052417 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29052417 2009-12-02 13:56:05
আমি আর আমার বউয়ের একই দিন বিয়া হইছিলো
আমার আর আমার বউয়ের একই দিন বিয়া হইছিলো।

আইজ থেকে ১৩ বছর আগে এই একই দিনে আমাগো দুইজনেরই বিবাহ হইছিলো। আর সেই দিনটা ছিল ১ নভেম্বর।

আপনারা হয়তো কেউ কেউ কইবেন-ক্যান আরও তো মিল আছে। যেমন আমাগো ছেলের জন্মদিনও এক। জ্বীনা, এই কথাডা আপনাগো ঠিক না। যেমন, আমি জানি যে আমার একমাত্র পোলাটার জন্ম হয় ১৯৯৯ সালের ৮ জুলাই। আর আমার বউ কয়, তারিখটা ঠিকই আছে তয় সালটা হইবো ২০০০ সাল। বিশ্বাস না হইলে আমার পোলার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেখতে পারেন !

মেরিলিন মনরোর একটা বিখ্যাত ছবি আছে দি সেভেন ইয়ার ইচ। বাংলা করলে হয় সাত বছরের চুলকানি। এই ছবিতেই বাতাসে স্কার্ট ওড়ার সেই সেই বিখ্যাত দৃশ্যটা আছে। ছবিটার মূল কথা হইলো বিয়ার পর সাত বছর সব কিছু ঠিকঠাকই থাকে। তারপরেই পুরুষদের চুলকানি শুরু হয়। বিবাহের সাত বছর পরে বেশিরভাগ পুরুষই পরকীয়ায় জড়াইয়া যায়।

আপনাগো আবার মনে করাইয়া দেই যে, আমার বিয়ার বয়স আইজ ১৩ বছর হইলো। আপনাগো জ্ঞাতার্থে আরো কই, আমার মোবাইল সেটটা নকিয়া আর আমার পছন্দ ইলিশ। মাছের রাজা ইলিশ, সেটের রাজা নকিয়া আর...........। থাউক আর কইলাম না। তয় আপনাগো আশ্বস্ত কইরা কই, আমার আর আমার বউয়ের মধ্যে আর কেউ নাই। খালি আমি আর সে, ইংরেজিতে কইলে কইতে হয় সি অ্যান্ড মি।

তারচাইতে আমার বউয়ের কথা কই। বিয়ার পর পরই গেলাম বন্ধুর বাসায়। দেখি বন্ধু তার বউরে কয় জানু আর বউ বন্ধুরে ডাকে জান। বাসায় আইসা আমার বউ আমারে কয় তারা কি সুন্দর আদর কইরা ডাকে, আমি তার সেই পুরানা নাম ধইরাই ডাকি। আমি তারে দুইটা প্রস্তাব দিছিলাম। ১. তার পুরা নাম মনোয়ারা মনু। আমি কইলাম ছোট কইরা আমি তারে মনু বইলা ডাকতে পারি। রাজী হইলো না। ২। কইলাম এখন যদি জান-জানু বলা শুরু করি তাইলে আমার বন্ধু কইবো তাগো নকল করি। নতুন প্রস্তাব দিয়া কইলাম তুমি আমারে প্রাণ ডাকো, আর আমি তোমারে ডাকি প্রানী। হেইডাও হে রাজী হইলো না।

আমার আর বউয়ের মধ্যে মিল দিয়া শুরু করছিলাম। এবার অমিলের কথা কই একটা। আমাগো দুইজনের বিয়া একই দিনে হইলেও আমার চাইতে আমার বউয়ের বিয়াডাই আসলে ভাল হইছে। কি চমৎকার, ভাল, শান্তশিষ্ট একটা জামাই পাইছে। আমাগো পুরা ফ্যামিলির মধ্যেই খালি না, আমার তো মনে হয় পুরা পৃথিবীর মধ্যেই আমার বউয়ের বিয়াডাই আসলে ভাল হইছে।

সর্বসত্ব : ব্লগার শওকত হোসেন মাসুম। আমি খালী কপি, পেস্ট করছি। আর বৌয়ের নাম, বিয়ার সাল, মেয়ের জায়গায় ছেলে ইত্যাদি সামান্য এডিট করছি...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29035731 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29035731 2009-11-01 10:42:16
আমাদের যন্ত্রণা পরিবার কাসুন্দি যন্ত্রণা। যন্ত্রণা নামকরণের পেছনে নানাবিধ কারণ ছিলো। অন্যতম কারণ ছিলো ছোট ভাই বোনদের বন্ধুরা। ওদের কলেজ পড়–য়া বন্ধুরা আমাদেরকে অনেক যন্ত্রণা করতো। যখোন তখোন বাসায় আসতো, আড্ডা মারতো, ঘরে- ফ্রিজে যা থাকতো সব খেয়ে নিতো। রাতে আমাদেরকে নিচে শুইয়ে ওরা দিব্যি আমাদের বিছানায় ঘুমাতো। আমরাও ওদের অত্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অবশ্য না হয়েও উপায় ছিলো না। ওরা আমাদের কেয়ার করলে তো ! নিজেদের বাসা মনে করতো।

সেসব যন্ত্রণা দেয়া বন্ধুরা এখন যে যার কাজে ব্যস্ত। নিয়মিত যোগাযোগ হয় মোবাইলের সৌজন্যে। মিতু (মোটার কারনে যাকে আমরা পরোটা বলে ডাকতাম) তিতুমির কলেজের মাস্টার, মায়া গৃহিনী, অটল সিটি ব্যাংকে, বাবুজি বাইং হাউজে, এরা সবাই ঢাকায়। মারুফা প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার, শেরপুরে। পারভীন (আমার ছোটদি) জামাই নিয়ে আমেরিকার ক্যালিফোর্ণিয়ায়। লাইলি বুটিক শপের মালিক, রিনি গানের শিক্ষক, অশোক সরকারি চাকুরে, কুমিল্লায়। শিরিন আমাদের ঘরের সেজো বৌ, ঢাকায়।

২০০০ সালে বাবাশুদ্ধ পুরো পরিবার শিফট করে ঢাকায়। সে বছরই আমাদের ছেলে রোদ্দুরের জন্ম হয়। ৯৮ সালে হার্টের অসুখে মারা যান আমার শ্বশুর। আমরা ৬ ভাই বোনই এখন ঢাকায়। বড় বোন ব্যাংকে। বড় ভাইয়া এবং ছোট ভাই মিলে একটা বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। এক সময়ের তুখোড় লেখিকা ছোট বোন বাংলায় পড়াশুনা শেষ করে এখন তার ২ রাজকন্যাকে নিয়ে ব্যস্ত। লেখাজোকা ছেড়েই দিয়েছে প্রায়। গেলো দু বছরে ওর দুটো বই বেরিয়েছে একুশের মেলায়। রাজকন্যাদের বাবা দেশ টিভিতে কাজ করছেন। সামুর ব্লগার। আমাদের যন্ত্রণা পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মরা হচ্ছে (ক্রমানুসারে) : তূর্য- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র, অগত্যা- এ বছর অনার্সে ভর্তি হলো, শান আর প্রত্যু কলেজে, আদদ্বীন ৪ ক্লাসে, রোদ্দুর ৩ ক্লাসে, অন্যতমা ২ ক্লাসে, বর্ণমালা, স্পর্শ আর আব্দুল্লাহ আগামী বছর থেকে স্কুলে যাওয়া শুরু করবে। আমাদের যন্ত্রণা পরিবারের বর্তমান মোট সদস্য সংখ্যা : ১৮ জন। সব কিছু ভালো থাকলে আগামী বছরের শুরুতে আশা করা যাচ্ছে এ পরিবারের সদস্য ২০ এ দাঁড়াবে। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29030000 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29030000 2009-10-22 12:35:28
সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব, কারা কারা যেতে চান ? ৩১ অক্টোবর সকালে ইয়টে করে ভেসে চলা সুন্দরবনের পথে
রাত নাগাদ হিরন পয়েন্টে পৌঁছে বোটে রাত্রীযাপন

১ নভেম্বর সকালে দুবলার চরের পথে রওয়ানা
রাতে রাস উৎসব দেখা
২ তারিখ সকালে মান্দারবাড়ি সি-বিচে ঘোরা
সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা / সাতক্ষীরা পৌঁছা
২ নভেম্বর রাতের এসি বাসে ঢাকার পথে
৩ তারিখ সকালে ঢাকায় পৌঁছানো

যাওয়া- আসা- থাকা- খাওয়া বাবদ জনপ্রতি খরচ : সাকুল্যে ৮ হাজার টাকা।
<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
যেতে আগ্রহীরা ২৫ তারিখের মধ্যে যোগাযোগ করুন :

সেলফোন : ০১৭১৩০৯১৯৭১
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29029555 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29029555 2009-10-21 14:40:04
হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুশ
দম ফুরাইলে ঠুশ.................<img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29024602 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29024602 2009-10-12 17:55:26
এম.ডি পাল্টাইয়া ফালামু... ও মোর আল্লা ! ফেসবুক দেখি আসেনা। অফিসের আইটির লগে যোগাযোগ করলাম। তাদের কথা শুইন্যা মাতা খারাপ। অফিসের উপর মহলের সিদ্ধান্তে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হৈছে...
কী করি, কৈ যাই... ও মোর আল্লাগো... আমি এখন কী করুম ? ভাবতাছি, এমডি পাল্টাইয়া ফালামু... আপনেরা কী কন ???
<img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />:-*<img src=(" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29021979 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29021979 2009-10-07 17:10:45
চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ যাওয়ার কারণ এবং তা রোধে কিছু প্রস্তাবনা
কিছুদিন আগেও প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককে যেত চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য। বেসরকারি পর্যায়ে দেশে তেমন কোন উন্নতমানের হাসপাতাল ছিলো না বললেই চলে। বিশেষ করে হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীরা বাইপাস বা ওপেন হার্ট সার্জারি করার জন্য ভারত বা ব্যাংকক কে বেছে নিত। কিডনি, হিপ ও নি রিপ্লেসমেন্ট, গাইনি ও অবস্সহ নানাবিধ সমস্যা নিয়েও বহু রোগী দেশের বাইরে যেত চিকিৎসাসেবা নিতে।

কোন ধরণের রোগী বিদেশ যাচ্ছে

এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, একশ জনের মধ্যে হৃদরোগ সমস্যায় ১৫ জন, লিভার ১০ জন, নিউরোলজি, ক্যান্সার এবং হিপ ও নি রিপ্লেসমেন্ট ৯ জন, কিডনি ৮ জন, চোখ, গাইনি ও অবস্ ৭ জন, নাক-কান-গলা ৫ জন, স্কিন ৪ জন। এছাড়াও অন্যান্য সমস্যার কারণে ১৭ জন রোগী বিদেশ যাচ্ছেন।

অথচ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হৃদরোগ, নিউরোলজি, ক্যান্সার এবং হিপ ও নি রিপ্লেসমেন্টসহ বাংলাদেশে এখন অনেক জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই সব চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে রোগী বাড়ীতে ফিরে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছে। পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- রোগী বিদেশি মানের চিকিৎসা পাচ্ছেন অনেক অল্প খরচে। অথচ এই একই চিকিৎসা নিতে বিদেশ গেলে তাকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা।

পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের কিছু চিকিৎসা খরচের তুলনামূলক চিত্র :

হাসপাতালের নাম বাইপাস সার্জারি এনজিওগ্রাম
মাউন্ট এলিজাবেথ, সিঙ্গাপুর ২৫ হাজার ডলার ১,৬০০ ডলার
বুমরুনগ্রাদ, ব্যাংকক ১০ হাজার ডলার ১ হাজার ডলার
এপোলো, কলকাতা ৫ হাজার ডলার ৩ শত ডলার
এসকর্টস্, দিল্লী ৫ হাজার ডলার ৩ শত ৬০ ডলার
বাংলাদেশের হাসপাতাল ৩ হাজার ডলার ২ শত ২৫ ডলার

হৃদরোগ ছাড়াও হিপ ও নি রিপ্লেসমেন্টের কথাই ধরা যাক। যেখানে বাংলাদেশে সব মিলিয়ে খরচ হয় হিপ দেড় লাখ এবং নি ২ লাখ টাকা। অথচ ব্যাংককে হিপ বা নি রিপ্লেসমেন্টের খরচই শুধু ৩ লাখ টাকা। এ হিসেব যাওয়া আসার ভাড়া, থাকা এবং খাওয়ার খরচ ছাড়া। তা ছাড়া রোগীর আসা যাওয়ার কষ্ট, আতœীয়-স্বজনের মধ্যে অনিশ্চয়তা- এতোসব ঝামেলা তো রয়েছেই।

কেন বিদেশ যাচ্ছে

ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১০০ জন রোগী ও তাদের আতœীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- কী কী কারণে তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন। এমন ১০টি কারণ হচ্ছে :
১. দেশীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হতে না পারা
২. রোগী বা তার আতœীয় স্বজনের সাথে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঠিক মত কাউন্সেলিং না হওয়া
৩. ডাক্তাররা রোগ সম্পর্কে রোগী বা তার আতœীয়দের সুস্পষ্টভাবে কিছু না বলা
৪. একই রোগ সম্পর্কে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত
৫. ডাক্তার / হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অজ্ঞতা বা অবহেলার কারণে চিকিৎসারত অবস্থায় সামান্য অসুখ থেকেও রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে পড়া
৬. রোগের চিকিৎসা নয়, রোগীর চিকিৎসা- এই ভাবে ডাক্তারদের না দেখা
৭. ভুল করে ভুল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে আসলেও রোগীকে সঠিক ডাক্তারের কাছে না পাঠানো বা সঠিক গাইড লাইন না দেয়া
৮. প্রয়োজন না থাকলেও এক গাদা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেয়া এবং পরবর্তীতে সে সব রিপোর্ট ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ না করা
৯. রোগীর প্রতি ডাক্তারের পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেয়া বা তার সমস্যার কথা
বিস্তারিতভাবে না শুনেই প্রেসক্রিপসন লিখতে শুরু করা
১০.দেশিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা বেশিরভাগ হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা,
সন্তোষজনক সার্ভিস না পাওয়া এবং ডাক্তারদের প্রতি আস্থাহীনতা

বিদেশে চিকিৎসা / চিকিৎসকের খোঁজ কীভাবে পাচ্ছে

এ ছাড়াও উল্লেখিত ১০০ জন রোগী ও তাদের আতœীয় স্বজনদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, কীভাবে তারা বিদেশি ডাক্তার এবং হাসপাতালের খোঁজ পায়। এর মধ্যে :
০ বন্ধু বান্ধব ও আতœীয় স্বজনদের কাছ থেকে জেনে ৩৯ জন
০ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি ও অন্য রোগীদের কাছ থেকে শুনে ২৩ জন
০ বিদেশি হাসপাতালের দেশিয় লিয়াঁজো অফিস ও তাদের এজেন্ট এবং স্থানীয় ডাক্তারদের মারফত ২১ জন
০ একান্তই নিজের সিদ্ধান্তে ১৭ জন

বিদেশ যাওয়া রোধে কিছু প্রস্তাবনা

রোগীদের কথা থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা গেল- ডাক্তারদের অবহেলা, রোগীদের পর্যাপ্ত সময় না দেয়া, সঠিক ভাবে রোগের ডায়াগনসিস না হওয়া, ভুল চিকিৎসা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ইত্যাকার কারণে রোগীদের মধ্যে দিন দিন দেশিয় চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। রোগীদের বিদেশমুখী হতে সাহায্য করছে। যদিও প্রায় সবাই অভিন্ন ভাবে বলেছেন, দেশের চাইতে বিদেশের চিকিৎসা ব্যয় ৩/৪ গুন বেশি। এটি জেনেও তারা নিরুপায় হয়েই বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। অর্থনৈতিকভাবে অনেকে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছেন। তবু সান্তনা পাচ্ছেন এই ভেবে যে, সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন তারা।

এ ক্ষেত্রে রোগীদের দোষ না দিয়ে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল উদ্যোক্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। ডাক্তারদের প্রতি রোগীর আস্থা আর নির্ভরতা ফিরিয়ে আনতে হবে। রোগীদের সাথে ডাক্তারদের আন্তরিক ব্যবহার, একটু সময় নিয়ে রোগী দেখা, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট না করতে দেয়া, সর্বোপরি রোগ সম্পর্কে রোগী বা তার আতœীয় স্বজনকে সঠিক ধারণা দিতে হবে। রোগীর প্রতি ডাক্তারের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের তরফ থেকে সুস্পষ্ট কিছু নীতিমালা তৈরি করতে হবে। ভুল চিকিৎসা বা রোগীর প্রতি কোনো ধরণের অবহেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ডাক্তারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যে সকল চিকিৎসা আগে বাংলাদেশে সম্ভব ছিলো না, কিন্তু বর্তমানে হচ্ছে- সে সকল চিকিৎসার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বিদেশি হাসপাতালের স্থানীয় লিয়াঁজো অফিসের মাধ্যমে রোগীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। বিদেশি হাসপাতালগুলো জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে রোগীদের উদ্বুদ্ধ করে যে সব বিজ্ঞাপণ দেয়- এ ব্যপারেও সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণ মাধ্যমেরও বিশাল ভূমিকা রয়েছে।

মোদ্দা কথা হচ্ছে - সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা, সাহায্য সহযোগিতা, চিকিৎসা খাতে সুস্পষ্ট কিছু নীতিমালা, রোগীর প্রতি ডাক্তারের দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা, মিডিয়ার গঠণমূলক সমালোচনার মাধ্যমেই কেবল মাত্র রোগীদের বিদেশমূখীতা কমানো যাবে। দেশিয় চিকিৎসার প্রতি রোগীদের আস্থা ফিরে আসবে। প্রতি বছর দেশের বাইরে শুধু চিকিৎসা খাতে যে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, তা বন্ধ হবে। দেশের টাকা দেশেই থেকে যাবে। পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে আরো অনেক উদ্যোক্তাই এগিয়ে আসবেন- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29021386 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29021386 2009-10-06 13:22:49
কনচাইন দেহি ? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29018578 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29018578 2009-10-01 14:10:31 আছেন কোনো পয়সাওয়ালা ভাই বেরাদর ? মাহবুব সুমনের বাসায় থাকবো, খাবো। প্রতিদিন চা খেতে যাবো নুশেরার বাসায়। আড্ডা শেষে অনেক রাতে ফিরবো।

সাজি বলেছেন, কানাডা গেলে তাঁর বাসায় উঠতে। ভাবছি...

লন্ডনে বন্ধু সামুয়েল ইকবাল আর শাপলা আছে। শুধু হিথ্রোতে নেমে ওদের ফোন করতে বলেছে। বাকী দায়িত্ব ওদের। এমনকী আসা আর যাবার বিমান ভাড়াও দেবে বলেছে। সেখানে বন্ধু হাসান মোরশেদসহ আছে সিলেটি একদঙ্গল বন্ধু।

ভিসা কোনো বিষয়ই না। ভাবছি মাসখানেকের মধ্যে রওয়ানা হবো। আছেন কোনো পয়সাওয়ালা ভাই বেরাদর ? আমার সফর সঙ্গী হবেন !!!
<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29017422 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29017422 2009-09-29 11:59:30
রোজার ঈদে আমার কোরবানী... এইবার কারোর লাইগা কিসু কিনতে পরুম না। নো অনুরোধ ! বৌ অন্যদিকে মুখ ঘুরাইয়া মিটমিট কৈরা হাসে। পোলা কৈলো, বাবা, মা হাসে কেনো ?
আমিও জিগাইলাম, হাসো ক্যান ?
কৈলো, প্রতি ঈদেই তুমি ইরাম কও। শেষে দেখা যাইবো, সবার লাইগাই কিনছো- হেল্লাইগাই হাসতেছি...
আমার গলার স্বর এট্টু নরম হয়। কৈলাম, শুধু দরকারি ২/১ জনের জন্য কিনুম। এইবার বাজে কেনাকাটা একদম না...
২০ রোজার পরে পোলারে লৈয়া একদিন ইফতারের পরে বারৈলাম। আল্পনা প্লাজায় যাইয়া পোলার লাইগা- ২ টা গেঞ্জি, ১ টা হাফ শার্ট, ২ টা থ্রি কোয়াটার পেন্ট আর এক জোড়া সেন্ডেল কিনলাম। ব্যস, আমার ঈদের কিনাকাটা শেষ।
২১, ২২, ২৩, ২৪ রোজা শেষ। আমিও আর মার্কেটে যাইনা। বৌ এট্টুখানি কনফিউশনে পৈড়া গেছে। সত্যই কি তাইলে এইবার কিনাকাটা হৈবো না ? আমিও চুপচাপ।
২৫ রোজার দিন শাহবাগ আজিজে এক বন্ধুর দোকানে ইফতারের দাওয়াত খাইতে গেলাম। ইফতার শেষে চা-চু খাইয়া ঘুরতে ঘুরতে দেশাল-এ ঢুকলাম। ছোডো ভাই আর ছোডো বৈনের জামাইয়ের জন্য ২ টা ফতুয়া কিনলাম।
পাশে নতুন একটা শার্টের দোকান হৈছে। কী সোন্দর শার্ট ! বড়ভাই আর ছোডো আরেক ভাইয়ের লাইগা ২ টা শার্ট কিনলাম। নিজের লাইগা কিনলাম নিত্যউপহার থেইকা একটা হাফশার্ট ।
২৮ রোজার দিন গেলাম সাদাকালোতে। বৌয়ের লাইগা ১ টা শাড়ি, ১ টা থ্রি পিস, কান আর গলার মালা, ছোডো বৈনের লাইগা একই রকমের একটা শাড়ি, নিজের জন্য ১ টা পাঞ্জাবী, পোলার লাইগা ১ টা পাঞ্জাবী, ভাইস্তা আর ভাইগ্নার লাইগা ২ টা শর্ট পাঞ্জাবী, ছোট আর বড় শ্যালকের জন্য ২ টা পাঞ্জাবী, শ্যালিকার জন্য ১ টা থ্রিপিস, শ্বাশুড়ির জন্য ১ টা শাড়ি কিন্যা বাসায় আসনের পর মনে হৈলো, বুকের বামপাশে চিনচিনে ব্যাথা...
শেষ রোজার দিন পোলায় কৈলো- বাবা, নানুর দেয়া আমার কাছে ১০০০ টাকা আছে। আমি কি সেই টাকা দিয়া একটা জিন্সের পেন্ট কিনবো ? বল্লাম, যাও কিনো।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বোনের ছেলেরে নিয়া বসুন্ধরায় গেলো। রাত ১০ টার দিকে ফোন করলো। বাবা, একটা জিন্সের পেন্ট পেয়েছি। যা সুন্দর না ! দাম একটু বেশি, ১৫০০ টাকা। কিনবো, বাবা ?
অধিক শোকে পাথর আমি বল্লাম, কিনো। বাসায় এসে বাকী টাকা নিয়ে যাও।
বললো, থ্যাংকু বাবা। টাকা এখন লাগবেনা। তূর্য ভাইয়ার কাছে আছে। তুমি কাল সকালে ঈদের সালামীর সাথে ভাইয়াকে দিয়ে দিও। কোনো কথা না বলে ফোনের লাইন কেটে দিলাম।

আমার বলার কিছু ছিলো না, না গো....

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29017050 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29017050 2009-09-28 16:45:13
পর সমাচার এই যে,
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো
নাকী
নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো !!


মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে
নাকী
এমন চাঁদের আলো মরি যদি সেও ভালো... !!

<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29016497 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29016497 2009-09-27 15:34:06
পরেরবার নিশ্চয়ই ঈদে গ্রামে যাবো...
আমার ৯ বছরের ছেলে বললো, বাবা, আমরা কোনোদিন গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে যাই না কেনো ? আমার স্কুলের বন্ধুরা যায়...
আমি আমার বৌয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। দুজনেই চুপ হয়ে যাই।

ছেলেটা ক্ষাণিক ভেবে বললো, ও, বুঝতে পেরেছি, আমারতো দাদা-দাদী নেই। সেজন্যেই গ্রামে ঈদ করিনা, তাই না বাবা ?

আমি কিছু বলিনা। ওকে বুকে জড়িয়ে ধরি। ছেলেটা আমার শরীরের উস্নতা নেয়... চোখ জ্বালা করে উঠে। দু'ফোটা পানি কি গড়িয়ে পড়লো ? বুঝতে দেই না, ছেলে বা তার মা'কে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29012493 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29012493 2009-09-18 12:17:45
ঈদের সেকাল আর একাল সেকালের ঈদ
ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সাথে সাথে আমরা বন্ধুরা হাতের কাছে যা পেতাম তাই দিয়ে বাজনা বাজানো শুরু করে দিতাম। সারা কলোনি ঘুরতাম আর সাথে গলা ফাটিয়ে শ্লোগান দিতাম।
ঈদের নামাজ কয়টায় ? সকাল সাড়ে আটটায়...
বাসায় ফিরতাম দশটা নাগাদ। মা রান্নাঘরে। বড়াপা তাঁকে বিভিন্ন রান্নায় সাহায্য করছেন। মুরগী, গোশত্, বিভিন্ন মিষ্টান্ন রাতেই রেঁধে রাখতেন। সকালে শুধু পোলাও আর খিচুড়ি রান্না হবে। ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো নতুন জামা, পেন্ট আর জুতোটা দেখে এবং সযতেœ লুকিয়ে রেখে তবেই ঘুমাতে যেতাম। আগে দেখলে ঈদের আমেজ নষ্ট হয়ে যাবে সেজন্য ঈদের জামা, জুতো কাউকে দেখাতাম না।
সকালে মার ধাক্কাধাক্কিতে অনেক কষ্টে ঘুম থেকে উঠতাম। গোসল-টোসল সেরে পাজামা, পাঞ্জাবী, টুপি পরে বাবার সাথে নামাজে যেতাম। কীসের নামাজ ! বন্ধুরা মিলে মসজিদের এ মাথা থেকে সে মাথা দৌড়ে বেড়াতাম। কে, কী নতুন জামা নিয়েছে সে সব গপ্পো করতাম। এরমধ্যে সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে যেতো। আমরাও তাড়াতাড়ি কোনো এক লাইনে দাঁড়িয়ে যেতাম। নামাজ শেষে কোলাকুলি সেরে এক দৌড়ে বাসায়। পাজামা পাঞ্জাবী ছুঁড়ে ফেলে নতুন পোশাক পরায় ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। মা খেতে ডাকতেন। কোনো রকমে চারটা খেয়ে নিতাম। তবে বাবা মাকে সালাম করতে ভুলতাম না। সালামী মিলতো যে ! বেরিয়ে পড়তাম বন্ধুরা মিলে। সকালের মর্ণিং শো কোনোদিন মিস করতাম না। দুপুর নাগাদ বাসায় ফিরে খেয়ে নিতাম। আবার বেরিয়ে পড়তাম বন্ধুদের সাথে। এ বাসা সে বাসা ঘুরে বাসায় ফিরতাম ১০/১১ টার সময়। মা জোর করে খাওয়াতেন। ক্লান্ত আমি তারপর কখোন যে ঘুমিয়ে পড়তাম...।

একালের ঈদ
এখন বাবা মা নেই। নিজেই ঈদের কেনাকাটা করি। ছেলে, তার মা, ছোট ভাই বোন, ভাগিনা, ভাগ্নি, আপা, দুলাভাই, শ্বাশুড়ি, সবার জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করি। কখোনো সখোনো নিজের জন্যও কিছু কিনি। তারপর ঈদের ৩/৪ দিন আগে কাঁচা বাজার করি। আমাদের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মুরগী আর গরুর গোশত এবং পোলাও আর খিচুড়ি ঈদের দিনের একদম কমন আইটেম। শেমাই, পায়েস, চটপটি এ তিনটে আইটেমও প্রায়ই করা হয়। আগেরদিন রাত ১২/১ টা পর্যন্ত এটা সেটা রান্না করে আমার বৌ। তাকে রান্নায় সাহায্য করি আর রিমোর্ট ঘুরিয়ে টিভির এটা সেটা প্রোগ্রাম দেখি। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি। ছেলেকে গোসল করিয়ে নিজেও গোসলটা সেরে নেই। বাপ-বেটা মিলে মসজিদে যাই। নামাজ সেরে ফিরে নাস্তা করি। ছেলেকে সালামী দেই, তার মাও বাদ যায় না। ঘন্টাখানেকের জন্য বেরিয়ে যাই আমি। আজিমপুর ঘুরে আসি। বাবা সেখানে শুয়ে আছেন। মা রয়েছেন গ্রামের বাড়িতে।
ইতোমধ্যে রান্নার কাজ শেষ হয়ে যায়। টেবিলে সব খাবার সাজিয়ে টিভিতে মনোযোগ দেই। বোন / ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা আসে। আমার ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। দুপুর নাগাদ ফিরে আসে সবাই। দুপুরের খাবারটা একসাথে খাই। তারপর আবার টিভিতে মনোযোগি দর্শক ! একসময় ঘন্টা দুয়েক ঘুমিয়ে নেই। সন্ধ্যার পর বেরিয়ে পড়ি সবাই। বোন বা ভাইয়ের বাসায়। রাতের খাবার সেরে ফিরি বাসায়। অনেক রাত অব্দি টিভিতে এটা সেটা দেখি। তারপর... ঘুম। পরদিন অনেকবেলা পর্যন্ত ঘুমাই....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29009081 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29009081 2009-09-12 13:11:48
একজন সুস্থ মাইনষের কয় ঘন্টা ঘুমানো উচিৎ ?? (" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />:-*

কেউ কী কৈতারেন, চব্বিশ ঘন্টায় একজন সুস্থ মাইনষের কয় ঘন্টা ঘুমানো উচিৎ ?? <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29002838 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29002838 2009-09-01 11:03:21
দেশের প্রথম সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু আর "আইইডিসিআর" কর্তৃপক্ষের মিথ্যাচারিতা... http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29002275 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29002275 2009-08-31 09:55:47 কাইলকার ইফতারের রেসিপি...
লেবুর শরবত
সাদা পানি
আপেল
খেজুর
কলা
মালটা
আম
পেয়ারা
আমড়া
পেঁপে
শসা
চিকন জিলাপী
ডিমচপ
ছোলা
বেগুনি
পিঁয়াজু
মুড়ি
হালিম
চিকেন ফ্রাই

আপনেগো কোনো চয়েস আছে ???<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29001419 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/29001419 2009-08-29 14:11:34
ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস কী
আমরা প্রতিদিন যেসব খাদ্য গ্রহণ করি, তার শর্করা জাতীয় অংশ পরিপাকের পথে সিংহভাগ গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে প্রবেশ করে। আর দেহ কোষগুলি প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের জন্য রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করে। অধিকাংশ দেহকোষই এই গ্লুকোজ গ্রহণের জন্য ইনসুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের উপর নির্ভরশীল। ইনসুলিন কম বা অকার্যকর হলে দেহের অধিকাংশ কোষে গ্লুকোজের অভাব ও রকোত গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। আর এই সাময়িক অবস্থাই হচ্ছে ডায়াবেটিস।
ডায়াবেটিস রোগের ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
১. হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য)
২. হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের স্বল্পতা)

১. হাইপারগ্লাইসেমিয়া বা ডায়াবেটিক কোমা
ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগীদেরই সাধারনত ডায়াবেটিক কোমা হয়ে থাকে। অপর্যাপ্ত ইনসুলিন নিলে বা ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগী ইনসুলিন একেবারেও না নিলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে গিয়ে বিপর্যয় দেখা দেয়। ইনসুলিনের অভাবে রক্তের গ্লুকোজ শরীরের কাজে লাগাতে পারে না। তখন তাপ শক্তির জন্য দেহের সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার হতে থাকে। অতিরিক্ত চর্বি ভাঙ্গার ফলে রক্তে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ বেড়ে গিয়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিক কোমা বলে। হাইপারগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণসমূহ হচ্ছে :
০ খুব বেশি পিপাসা লাগা
০ ঘন ঘন প্রশ্রাব হওয়া
০ চামড়া শুকিয়ে আসা
০ খুব বেশি ক্ষুধা লাগা
০ চোখে ঝাপসা দেখা
০ বমি ভাব হওয়া
০ শাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস নেয়া
০ দূর্বলতা বোধ হওয়া
০ ঝিমানো বা নিস্তেজ বোধ হওয়া
০ শ্বাসে এসিটোনের গন্ধ বের হওয়া

হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় করনীয়
০ পানি স্বল্পতার জন্য বেশি করে লবন মিশ্রিত পানি পান করতে হবে
০ ইনসুলিনের পরিমান বাড়িয়ে দিতে হবে
০ যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
০ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে

২. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
বেশি ট্যাবলেট খাওয়া বা ইনসুলিন নেয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি অতিরিক্ত কমে যায় অর্থাৎ ২.৫ মিলিমোলের কম হয় তাহলে শরীরে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রতিক্রিয়ার লক্ষণগুলি নিুরুপ:
০ অসুস্থ বোধ করা
০ খুব বেশি খিদে পাওয়া
০ বুক ধড়ফড় করা
০ বেশি ঘাম হওয়া
০ শরীর কাঁপতে থাকা
০ ঝিমানো ও নিস্তেজ বোধ হওয়া
০ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
০ অস্বাভাবিক আচরন করা
০ মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরানো
০ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

কেনো এবং কখন এই সব লক্ষণ দেখা যায় :
০ ওষুধের (ট্যাবলেট বা ইনসুলিন) পরিমান প্রয়োজন তুলনায় বেশি হলে
০ বরাদ্ধের চেয়ে খুব কম খাবার খেলে বা খেতে ভুলে গেলে
০ ইনসুলিন নেবার পর খুব দেরি করে খাবার খেলে
০ হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করলে
০ বমি বা পাতলা পায়খানাজনিত কারণে শর্করা অন্ত্রনালী হতে শোষন না হলে

কী করা উচিত
প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া মাত্রই রোগী চা চামচের ৪ থেকে ৮ চামচ গ্লুকোজ বা চিনি এক গ্লাস পানিতে গুলে খেয়ে নেবেন বা তাকে খাইয়ে দিতে হবে। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে মুখে কিছু খাবারের চেষ্টা না করে গ্লুকোজ ইঞ্জেকশন দিতে হবে বা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28999967 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28999967 2009-08-26 14:43:30
বন্ধু, বন্ধুতা, সিদ্ধান্তহীনতা আর অমিমাংশিত সম্পর্ক বন্ধু, বন্ধুতা, সিদ্ধান্তহীনতা, অমিমাংশিত সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কোনো এক বালিকাকে লেখা জনৈক বালকের চিঠির চুম্বকাংশ...
আমার অপরাধের সীমা নেই। কেনো যে তোমাকে এতো ঝামেলায় ফেল্লাম। আমি অনুতপ্ত। তবে বিশ্বাস করো, কোনোটাই আমার ইচ্ছাকৃত না। শুধু আমার জন্য তোমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল, অপমানিত আর আহত হতে হয়েছে। যার পুরো দায়ভার আমি স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে নিচ্ছি। আমি কোনো দিন কোনো ভাবেই চাইনি, আমার কারণে তোমার কোনো কষ্ট হোক, দুঃখ হোক। আমি তোমাকে অনেক বেশি পছন্দ করি, স্নেহ করি আর ভালোবাসি। তোমার প্রতি আমার টানটা একটু আলাদাই। এ এক অন্য রকোম বিনি সুতার টান। কিছু কিছু বন্ধুত্ব আছে, যা বন্ধুত্বের বাইরেও বেশি কিছু। এ বড়ো অমিমাংশিত এক সম্পর্ক।

তোমার বা আমার কাউকে ভালো লাগতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, তার ভালো-মন্দ সব কিছুতেই তুমি বা আমি সার্বক্ষণিকভাবে অসভ্য মানুষের মতো নাক গলাবো। বন্ধুত্বের দাবী নিয়ে আর যাই হোক, অন্যপক্ষ না চাইলে তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নাক গলানো ঠিক নয়। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো কিংবা ধরো আমি তোমার। তারমানে এই নয় যে, আমাদের কারো আর কোনো বন্ধু থাকতে পারবেনা। বন্ধুত্বের জন্যে বয়স, ধর্ম, বর্ণ কোনোটাই খুব জরুরি নয়। এরজন্য যা প্রয়োজন তা হলো সমমনতা। নির্ভরতা, স্বার্থহীনতা আর বিশ্বস্ততা। বন্ধু বন্ধুর প্রতি সব সময় থাকবে বিশ্বস্ত। একজন না চাইলে অন্যজন কোনোভাবেই একে অন্যের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাবে না... এটাই বন্ধুত্ব আর বন্ধুতা।

বন্ধুত্বের বাইরে কেউ তোমাকে অন্যভাবে পছন্দ করে, করতেই পারে। পছন্দ করার মতো যথেষ্ঠ বিষয় আছে তোমার মধ্যে। তবে কেউ যখোন সেই পছন্দের দোহাই দিয়ে সবকিছুতে সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখোন তা মানতে বড়ো বেশি খারাপ লাগে। মনে করো, তুমি একটু অন্যরকোম কাউকে পছন্দ করো- তারমানে এই নয় যে, তার ভালো-মন্দ- চলন-বলন-পোষাক-অচরণ সব কিছুতেই নাক গলাবে। সে অবসর সময় কোথায় যায়, কী করে, কার সাথে কথা বলে- এ সব জানতে চাওয়াটা যথেষ্ঠ বাড়াবাড়ি। বন্ধুত্বের সম্পর্কে ঈর্ষা, জ্বালা-পোড়া থাকবে, তবে সেটার একটা সীমা পরিসীমা থাকা চাই। প্রতিটি মানুষের একটা ব্যক্তিগত জীবন থাকবে। ব্যক্তিগত ভালো লাগা, মন্দ লাগা, পছন্দ, ইচ্ছা, অনিচ্ছা থাকবে। পারস্পরিকভাবে একে অন্যের সে সব কিছুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। তবেই না বন্ধুত্ব বা বন্ধুতা যাই বলো- তা পোক্ত হবে। মনে রেখো, বন্ধুতার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস আর নির্ভরশীলতা। বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এক নিমিষে, কিছু বুঝার আগেই।

আমি জানিনা, কেনো তোমাকে এসব লিখছি ! তবে তোমার মতো মানুষদের জীবনে অনেক দুর্ভোগ থাকে। মানুষ নামের কিছু অসভ্য প্রাণীরা বড়ো বেশি কষ্ট দেয়, তোমাদের। তোমার জন্য আমার অনেক কষ্ট হয়, অনেক পোড়ে। তুমি একটা বোকা মেয়ে ! সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগো। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারো না। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিও না, যাতে পস্তাতে হয় তোমাকে। বরং আগে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিও। আমাকে ভুল বুঝোনা। আমি তোমার বন্ধূ ! বন্ধু হিসেবেই থাকতে চাই, আমৃত্যু! তোমার সুখে না হোক যে কোনে বেদনায় আমায় ডেকো, আমি আসবো। সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে...। ভালো থেকো। ঈশ্বর তোমার সু-মতি দিক, দিক প্রশান্তি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28998850 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28998850 2009-08-24 10:35:34
সঠিক পথে গাড়ী চালানোর লাইসেন্স পেতে যা করতে হবে... প্রথম পর্ব
শিক্ষানবীশ ফর্ম মিরপুর বিআরটিএ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ওদের অফিসে আপনি পাবেন না। নিতে হবে দালালের কাছ থেকে। সে জন্য আপনাকে ১০/২০ টাকা খরচ করতে হবে। তারপর সেই ফর্ম পূরণ করে তার সাথে ভোটার / ন্যাশনাল আইডি কার্ড, কমিশনার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং দুই কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি এবং ৫০০ টাকা ফিসহ জমা দিতে হবে। ভাগ্য ভালো হলে ২/৩ দিনের মধ্যে শিক্ষানবীশ কার্ড পেয়ে যাবেন। ৩ বার যাওয়া-আসা, ফিসহ অন্যান্য খরচের পরিমান : ৮০০ টাকা।
দ্বিতীয় পর্ব
মাসখানেক বাদে ওদের দেয়া তারিখ অনুযায়ী আপনাকে জুরাইনের চীন মৈত্রী সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসে যেতে হবে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা দেবার জন্য। সকাল নয়টার পরীক্ষা শুরু হবে দশটায়। দেরীতে শুরু করলেও মাত্র পনের মিনিটে শেষ হবে লিখিত পরীক্ষা। এরপর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত বসে থাকতে হবে আপনাকে রেজাল্টের জন্য। ভালো পরীক্ষা দিলে আপনি পাশ করবেন এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পড়বে আপনার। সেখানেও যদি পাশ করেন, তবে ৩ টার পর আপনাকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হবে। গাড়ী স্টার্ট করে এদিক সেদিক সামান্য চালাতে পারলেই আপনি পাশ। এদিনে ওরা আপনার শিক্ষানবীশ কার্ডটা রেখে দেবেন। এতসব পরীক্ষা দিতে যেয়ে সারাদিন আপনার শেষ। ইকুরিয়াতে যাওয়া এবং আসা আর সারাদিনে খাবার দাবার মিলিয়ে আপনার এবারের খরচ পড়বে: ৩০০ টাকারও বেশি।

তৃতীয় পর্ব
১৫ দিন পর শিক্ষানবীশ কার্ডটি সংগ্রহ করতে আপনাকে মিরপুর বিআরটিএ যেতে হবে। এরপর নির্ধারিত তারিখে দ্বিতীয়বারের মতো আপনাকে যেতে হবে কেরানীগঞ্জে। যাবার পর এটা সেটা আজাইরা প্রশ্ন করবে আপনাকে। আসলে আপনার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে নেবেন তারা। সেদিনও সারাদিন আপনার শেষ...। আজকের খরচ : ৩০০ টাকা

চতুর্থ পর্ব
আবার ১৫ দিন পর আপনি মিরপুর অফিসে যাবেন। শিক্ষানবীশ কার্ডটি সংগ্রহ করবেন। ৪ পৃষ্ঠার একটা সবুজ ফর্ম আর দুটো সাদা রংয়ের বিআরটিএর ডিএল (ড্রাইভিং লাইসেন্স) ফর্ম যা অফিসে পাবেন না। আপনাকে ১০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে। সবুজটি ফ্রি। এ ৩টি ফর্ম পূরণ করে এর সাথে যা যা দিতে হবে :
১. ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
২. ২ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি
৩. কমিশনারের নাগরিকত্ব সনদপত্র
৪. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি
৫. মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি
৬. শিক্ষানবীশ কার্ড

এতোসব কাগজ পত্র যোগাড় করেছেন ? খুশী হবার মতো কিছু ঘটেনি। কাউন্টারে জমা দিতে যাবেন ? ঘড়ির দিকে তাকান ! ১ টা বেজে গেছে ! স্যরি, আজ আর জমা নেয়া যাবে না। কাল আসুন। খরচ হলো : ২০০ টাকা।

পঞ্চম পর্ব
সকাল সকাল মিরপুরের বিআরটিএ অফিসে গেলেন। প্রতিজ্ঞা করেছেন, আজ ফর্ম জমা দিবেনই...। সব কাগজসহ জমা দিলেন। কাউন্টার থেকে আপনাকে টাকা জমা দেবার চালান দেবে। একটু দুরেই ডাকঘর। সেখানে যেয়ে ঠেলাঠেলি করে ২ হাজার টাকা জমা দিলেন। জমার রশিদ পেতে আরো ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এরমধ্যে দেখবেন, আপনার পাশ থেকে কতোজন আলম ভাই, আলম ভাই বলে ওপাশের কাউন্টারের ভদ্রলোকের কাছে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে গেছে। ওপাশের আলম ভাইয়ের সাথে ওদের একটা বুঝাপড়া আছে আগে থেকেই...। তো জমার রশিদ নিয়ে আবার সকল কাগজ জমা দিতে এলন ৭ নং কাইন্টারে। ওপাশের অন্য এক আলম ভাই সব দেখেবে গম্ভীর হয়ে। তারপর বলবেন: শিক্ষানবীশ কার্ডটির ৩ টি, টাকা জমার ৩ টি মোট ৬টি ফটোকপি লাগবে। ফটোকপি মেশিন কোথায় ? গেইটের বাইরে। দৌড়ালেন আপনি। ফটোকপিও করলেন। টাকা দিতে যেয়ে আপনার আক্কেল গুড়–ম! ৬ টি ফটোকপি মাত্র ৩০ টাকা। কেনো ? কারণ, বিদ্যুৎ নেই। জেনারেটরের সাহায্যে ফটোকপি করতে হয়েছে। অতি কৌতুহলী হয়ে আপনি হয়তো জানতে চাইলেন, যখোন বিদ্যুৎ থাকে। ফটোকপি মেশিনের ওপাশের ভদ্রলোক হেসে বলবেন- বিদ্যুৎ এখানে প্রায়ই থাকে না..। এরপর জমা দিলেন সব কাগজ। আপনাকে ৩টি কাগজ ফেরত দেবে- যা দেখিয়ে লাইসেন্স সঙগ্রহ করতে হবে। আপনার আজকের খরচ : ২৩০০ টাকা। ভাবছেন, লাইসেন্স পেয়ে গেলেন ? জ্বী না মশাই ! আপনাকে কম করে ৪ টি মাস অপেক্ষা করতে হবে লাইসেন্সের জন্য। যেমন আজ থেকে আমি অপেক্ষা করছি...



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28995890 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28995890 2009-08-18 16:39:09
সোয়াইন ফ্লু : বেশি আতংকিত হবার কারন নেই
সাধারণত সোয়াইন ফ্লু মানব দেহে সংক্রমন করে না। তবু মানুষের মাঝে এর আক্রমন দেখা গেছে মাঝে মাঝে। সাধারণত যারা সরাসরি শুকরের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের মাঝেই এ রোগ দেখা গেছে। মানুষ থেকে মানুষের দেহে এর সংক্রমনের ঘটনা দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের উইমকনসিন রাজ্যে ১৯৮৮ সালে।

শুকরের দেহ থেকে মানুষের শরীরে, আবার মানুষের দেহ থেকে শুকরের শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস সরাসরি ছড়াতে পারে। যারা সরাসরি শুকরের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের মাঝেই ভাইরাসটি বেশি ছড়িয়েছে। মানুষ থেকে মানুষেও এর বিস্তার ঘটতে দেখা গেছে ফ্লু রোগের মতই হাঁচি আর কাশির সাহায্যে। এ ছাড়াও ফ্লু ভাইরাস সমৃদ্ধ স্থানে হাতের স্পর্শ এবং পরবর্তীতে সেই হাত, মুখ বা নাক স্পর্শ করলেও সোয়াইন ফ্লু ছড়াতে পারে। সোয়াইন ফ্লুর লক্ষণ হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতই। জ্বর, সর্দি, কাশি, দুর্বলতা, গলা ব্যথা, খাবার গ্রহণে অরুচি, বমি, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কয়েকটি সোয়াইন ফ্লু সংক্রমনের পেছনে রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপের এইচ১ এন১ প্রজাতির এমন রূপ যা একেবারে নতুন। এইচ১ এন১ প্রজাতি যা ১৯১৮ সালে ফ্লু মহামারি ঘটিয়েছিলো এর একটি নতুন রূপ ঘটিয়েছে এই প্রাদুর্ভাব। এতে যে ডিএনএ রয়েছে তা এসেছে মানুষ, পাখি ও শুকরের ফ্লু ভাইরাস- এ ৩টি থেকে। ফ্লু ভাইরাসের এমন ক্ষমতা রয়েছে যে, এরা পরস্পর জ্বিন বিনিময় করতে পারে এবং মনে হচ্ছে এইচ১ এন১ প্রজাতির নতুন এই রুপটি মানুষ, পাখি ও শুকরের ভাইরাসের সংমিশ্রনে সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন প্রজাতির ফ্লু ভাইরাস আশ্রয় নেয় বিভিন্ন প্রানীতে। নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সৃষ্টি হতে পারে মিউটেশনের ফলে। এটি হতে পারে দু’ভাবে ঃ
১.অ্যান্টিজেন প্রবাহ , যা দীর্ঘদিন চলে। ঈষৎ এই মিউটেশন ঘটলে শরীর এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
২.অ্যান্টিজেন স্থানান্তরের মাধ্যমে এসেছে নতুন এইচ১ এন১ প্রজাতি, যার বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। সোয়াইন ফ্লু বলা হচ্ছে কারন শুকরকে শুকর, পাখি ও মানুষের ফ্লু ভাইরাস জ্বিনের মিশ্রনের আধার বলে মনে করা হয়েছে।
১৯১৮ সালে স্পেনে যে ফ্লু হয়েছিলো, তাতে মারা গিয়েছিলো প্রায় ৫ কোটি মানুষ (এইচ১ এন১)। ১৯৫৭ সালে এশিয়ান ফ্লুতে মারা যায় ২০ লাখ মানুষ। এর মূলে ছিলো এইচ২ এন২ ভাইরাসের মানবরূপ। সাথে মিশ্রিত ছিলো বুনোহাঁসের একটি মিউটেটেড জ্বিন। তবে বর্তমান সোয়াইন ফ্লু রোগের বিরুদ্ধে সব দেশ ও সরকারকে জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আশার কথা হলো, মানুষ যেহেতু প্রতি বছরই প্রায় এইচ১ এন১ প্রজাতির মুখোমুখি হয়, তাই এই নতুন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে মানুষ অবশ্যই টিকে থাকতে পারবে।

প্রতিরোধ

০ যারা অসুস্থ, যাদের সর্দি, কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা হয়েছে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে
০ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি চর্চা জরুরি। হাঁচি ও কাশি দেবার সময় নাক মুখ ঢেকে রাখা উচিত
০ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমন রোধ করার জন্য হাত বার বার সাবান পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়া উচিত। আর হাত দিয়ে দরজার হাতল ধরলে তা ধোয়ার জিনিস দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত
০ যাদের ফ্লুর মতো অসুখ হয়েছে, তাদের সেবা যতœ করার সময় রোগের বিস্তার এড়ানোর জন্য মুখোশ ব্যবহার করতে হবে

এডগার হার্নানডেজ- প্রথম নিশ্চিত রোগী
মার্চ মাসের শেষের দিকে পাঁচ বছর বয়সী এডগার হার্নানডেজ হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে জ্বর, মাথা ব্যথা আর ভীষন গলা ব্যথায় ভুগছিলো। কেবল এডগার একা নয়, লা গ্লোরিয়া গ্রামের শত শত লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো তখন। ডাক্তারগন এডগারেরর মা মারিয়াহ ডেল কারমেন হার্নান্দেজ কে বলেছিলেন ফ্লুতে আক্রান্ত হবার কথা। পরবর্তীতে এডগারের অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গলা থেকে নেয়া সোয়াব কানাডার একটি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। আর সেখানেই এ ভাইরাসটির নতুন রুপ চিহিৃত হয়।

সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসটি শুরুতে যতোটা ভয়ঙ্কর মনে হয়েছিলো আসলে এটি ততোটা ভয়ঙ্কর নয়। এটি সাধারন ফ্লু ভাইরাসের মতোই এবং এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপি যে মহামারীর আশংকা করা হয়েছিলো তা নাও ঘটতে পারবে। তাই সোয়াইন ফ্লু নিয়ে বেশি আতংকিত হবার কারন নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28994226 http://www.somewhereinblog.net/blog/mesbah_aajadblog/28994226 2009-08-15 16:04:05