somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিউলি নামের মেয়েটি

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
বন্ধুদের সাথে জি.ই.সি'তে (চট্টগ্রামের আড্ডা স্থল নামে পরিচিত) আড্ডায় বসে মাসুদ ভুলেই গিয়েছিল যে তাকে আগ্রাবাদ যেতে হবে। মনে পড়তেই তড়িঘড়ি করে সবাইকে বিদায় দিয়ে সে একটা রিক্সায় উঠে। বাসে চড়তে তার খুব একটা ভালো লাগেনা। দম বন্ধ হয়ে যায়। তবে, রিক্সায় চড়ার মজাই আলাদা।

রিক্সা চলতে থাকে দেওয়ান হাট হয়ে আগ্রাবাদের দিকে। গায়ে ঢিলেঢালা টাইপের একটা ফতুয়া থাকায় বসন্তের হিমেল বাতাস তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে ফুরফুরে মেজাজে আছে বলেই হয়ত তার কাছে অনেক ভাল লাগছে। সব কিছুই ভাল লাগছে। মৃদু বাতাসে যেন তার মন উড়ে উড়ে যাচ্ছে।

দেওয়ান হাটের দুপাশে পাহাড়, পাহাড়ে সারি সারি আকাশী গাছ। সুন্দর সবই সুন্দর। কিন্তু এখানে বিশাল আকারের এই বিলবোর্ড আসল কিভাবে? খেয়াল করে দেখে গ্রামীণ ফোনের একটা বিগ্গাপন। বাহ্‌ বিগ্গাপনটা তো ভালোই। সবুজ প্রকৃতির মাঝপথ দিয়ে গিটার হাতে একটা ছেলে হাটছে....পাহাড়ের সবুজ গাছের সাথে এই বিলবোর্ড ভালোই মানাইছে....সুন্দর সবকিছুই অদ্ভুদ রকমের সুন্দর।

২.
দেওয়ানহাট যেতে না যেতেই ট্রাফিক সিগনালের কারণে রিক্সা থেমে যায়। আশে পাশে বেশ কিছু টয়োটা, তিনটার মত বাস, কিছু রাইডার দাড়িয়ে সবুজ বাতির অপেক্ষা করছে। কালো রংয়ের বিএমডব্লিউ ফাইভ সিরিজের একটা জীপও তার চোখে পড়ে। অনেক সুন্দর গাড়ী। মানুষের পথচলা কিংবা ব্যস্ততা দেখতে মাসুদের খুব ভাল লাগে। হঠাৎ সে শুনে............
ভাইয়া একটা নেন না....পাঁচ টাকা।
সে দেখে একটি বাচ্চা মেয়ে তার জিন্স ধরে বলছে....... ভাইয়া একটা ফুল কিনেন না।
শিউলি ফুলের মালা হাতে একটা বাচ্চা মেয়ে দেখে তার সাথে কথা বলার ইচ্ছে হল মাসুদের। এটা তার পুরনো অভ্যাস। অপরিচিত যে কারো সাথে কথা বলা। রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের ছেলেটা....সবার সাথেই গল্প করতে পারে সে।
তারপর সে মেয়েটিকে বলে ফুল কিনব কিন্তু তোমার নাম কি বলতে হবে....
মেয়েটি খুশী হয়ে বলে আমার নাম শিউলি।
: তোমার নাম শিউলি?
: জি ভাইয়া, নেন না একটা ফুল.......

শিউলি ফুলের মালা হাতে শিউলি...এটা কেমন কথা?

: আচ্ছা সত্যি করে বল তো তোমার নাম কি শিউলি?
: জি ভাইয়া....

ওদিকে সবুজবাতির সংকেত পেয়ে সবাই এক এক করে এগুচ্ছে...কে কার আগে যাবে এরকম একটা প্রতিযোগীতা সবসময় দেখা যায়।
মাসুদ তাড়াতাড়ি করে দশ টাকার একটা নোট বের করে বলে....এই নাও, ফুল দিতে হবে না।
: না ভাইয়া, টাকা দিলে ফুল নিতে হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে দাও বলতেই শিউলি দুটো শিউলি ফুলের মালা দিয়ে খেটে পড়ে।
মাসুদ মালা দুটি হাতে নিয়ে শুঁকে দেখে। তার কাছে সব ফুল'ই ভাল লাগে। তারপরও শিউলি ফুল তার বেশী পছন্দ।
রিক্সা এগুতে থাকে। সে শিউলির কথাগুলো ভাবে। পথ ফুরায় কিন্তু মাসুদের ভাবনা ফুরায় না।
সে ভাবে আচ্ছা, মেয়েটি টাকা নিতে চাইল না কেন?
সে তো চাইলে আরেকজনের কাছে ফুলের মালা দুটি বেচঁতে পারত...
তার নাম শিউলি হল কেন?
নাকি সে মিথ্যা বলেছে.....
দূর...দশ বারো বছরের একটি পিচ্চি মেয়ে মিথ্যা বলতে যাবে কেন?

আচ্ছা, এই বয়সে তো তার স্কুলে থাকার কথা।
ফুল হাতে তাকে মানায়, ফুল হাতে সে খেলবে সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু সে ফুল বিক্রী করছে কেন?
তার সাধারন মনের ভাবনাগুলো শেষ না হতেই রিক্সা থেমে যায়।
আগ্রাবাদের চৌমুহনী চলে এসেছে যেখানে আসার কথা ছিল।
রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সোজা ফারুক বিল্ডিংয়ের দিকে পা বাড়ায়। চার তলায় 'একটেল' অফিসে যেতে হবে ।

৩.

বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি করে গোসলটা সেরে আজকের 'প্রথম আলো'টা হাতে নিয়ে রুমে ঢুকে।
কম্পিউটারটা অন করে জেমস্‌' এর কিছু গান প্লে দিয়ে সে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে পত্রিকায় চোখ বুলাতে থাকে।
এমন সময় .......
ভাইয়া তোমার চা বলে রুমে আসে তার আদরের বোনটি।
কিন্তু, একি !
বোনের দিকে তাকাতেই সে দেখে ফুল হাতে দাড়িয়ে আছে শিউলি।
মাসুদ চমকে উঠে।
ঐ শিউলি ফুল হাতে মেয়েটা এখানে আসল কি করে?

পর্ব২: Click This Link
চলবে....

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৮ ভোর ৬:০২
১৪টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×