১.
বন্ধুদের সাথে জি.ই.সি'তে (চট্টগ্রামের আড্ডা স্থল নামে পরিচিত) আড্ডায় বসে মাসুদ ভুলেই গিয়েছিল যে তাকে আগ্রাবাদ যেতে হবে। মনে পড়তেই তড়িঘড়ি করে সবাইকে বিদায় দিয়ে সে একটা রিক্সায় উঠে। বাসে চড়তে তার খুব একটা ভালো লাগেনা। দম বন্ধ হয়ে যায়। তবে, রিক্সায় চড়ার মজাই আলাদা।
রিক্সা চলতে থাকে দেওয়ান হাট হয়ে আগ্রাবাদের দিকে। গায়ে ঢিলেঢালা টাইপের একটা ফতুয়া থাকায় বসন্তের হিমেল বাতাস তাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে ফুরফুরে মেজাজে আছে বলেই হয়ত তার কাছে অনেক ভাল লাগছে। সব কিছুই ভাল লাগছে। মৃদু বাতাসে যেন তার মন উড়ে উড়ে যাচ্ছে।
দেওয়ান হাটের দুপাশে পাহাড়, পাহাড়ে সারি সারি আকাশী গাছ। সুন্দর সবই সুন্দর। কিন্তু এখানে বিশাল আকারের এই বিলবোর্ড আসল কিভাবে? খেয়াল করে দেখে গ্রামীণ ফোনের একটা বিগ্গাপন। বাহ্ বিগ্গাপনটা তো ভালোই। সবুজ প্রকৃতির মাঝপথ দিয়ে গিটার হাতে একটা ছেলে হাটছে....পাহাড়ের সবুজ গাছের সাথে এই বিলবোর্ড ভালোই মানাইছে....সুন্দর সবকিছুই অদ্ভুদ রকমের সুন্দর।
২.
দেওয়ানহাট যেতে না যেতেই ট্রাফিক সিগনালের কারণে রিক্সা থেমে যায়। আশে পাশে বেশ কিছু টয়োটা, তিনটার মত বাস, কিছু রাইডার দাড়িয়ে সবুজ বাতির অপেক্ষা করছে। কালো রংয়ের বিএমডব্লিউ ফাইভ সিরিজের একটা জীপও তার চোখে পড়ে। অনেক সুন্দর গাড়ী। মানুষের পথচলা কিংবা ব্যস্ততা দেখতে মাসুদের খুব ভাল লাগে। হঠাৎ সে শুনে............
ভাইয়া একটা নেন না....পাঁচ টাকা।
সে দেখে একটি বাচ্চা মেয়ে তার জিন্স ধরে বলছে....... ভাইয়া একটা ফুল কিনেন না।
শিউলি ফুলের মালা হাতে একটা বাচ্চা মেয়ে দেখে তার সাথে কথা বলার ইচ্ছে হল মাসুদের। এটা তার পুরনো অভ্যাস। অপরিচিত যে কারো সাথে কথা বলা। রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের ছেলেটা....সবার সাথেই গল্প করতে পারে সে।
তারপর সে মেয়েটিকে বলে ফুল কিনব কিন্তু তোমার নাম কি বলতে হবে....
মেয়েটি খুশী হয়ে বলে আমার নাম শিউলি।
: তোমার নাম শিউলি?
: জি ভাইয়া, নেন না একটা ফুল.......
শিউলি ফুলের মালা হাতে শিউলি...এটা কেমন কথা?
: আচ্ছা সত্যি করে বল তো তোমার নাম কি শিউলি?
: জি ভাইয়া....
ওদিকে সবুজবাতির সংকেত পেয়ে সবাই এক এক করে এগুচ্ছে...কে কার আগে যাবে এরকম একটা প্রতিযোগীতা সবসময় দেখা যায়।
মাসুদ তাড়াতাড়ি করে দশ টাকার একটা নোট বের করে বলে....এই নাও, ফুল দিতে হবে না।
: না ভাইয়া, টাকা দিলে ফুল নিতে হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে দাও বলতেই শিউলি দুটো শিউলি ফুলের মালা দিয়ে খেটে পড়ে।
মাসুদ মালা দুটি হাতে নিয়ে শুঁকে দেখে। তার কাছে সব ফুল'ই ভাল লাগে। তারপরও শিউলি ফুল তার বেশী পছন্দ।
রিক্সা এগুতে থাকে। সে শিউলির কথাগুলো ভাবে। পথ ফুরায় কিন্তু মাসুদের ভাবনা ফুরায় না।
সে ভাবে আচ্ছা, মেয়েটি টাকা নিতে চাইল না কেন?
সে তো চাইলে আরেকজনের কাছে ফুলের মালা দুটি বেচঁতে পারত...
তার নাম শিউলি হল কেন?
নাকি সে মিথ্যা বলেছে.....
দূর...দশ বারো বছরের একটি পিচ্চি মেয়ে মিথ্যা বলতে যাবে কেন?
আচ্ছা, এই বয়সে তো তার স্কুলে থাকার কথা।
ফুল হাতে তাকে মানায়, ফুল হাতে সে খেলবে সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু সে ফুল বিক্রী করছে কেন?
তার সাধারন মনের ভাবনাগুলো শেষ না হতেই রিক্সা থেমে যায়।
আগ্রাবাদের চৌমুহনী চলে এসেছে যেখানে আসার কথা ছিল।
রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সোজা ফারুক বিল্ডিংয়ের দিকে পা বাড়ায়। চার তলায় 'একটেল' অফিসে যেতে হবে ।
৩.
বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি করে গোসলটা সেরে আজকের 'প্রথম আলো'টা হাতে নিয়ে রুমে ঢুকে।
কম্পিউটারটা অন করে জেমস্' এর কিছু গান প্লে দিয়ে সে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে পত্রিকায় চোখ বুলাতে থাকে।
এমন সময় .......
ভাইয়া তোমার চা বলে রুমে আসে তার আদরের বোনটি।
কিন্তু, একি !
বোনের দিকে তাকাতেই সে দেখে ফুল হাতে দাড়িয়ে আছে শিউলি।
মাসুদ চমকে উঠে।
ঐ শিউলি ফুল হাতে মেয়েটা এখানে আসল কি করে?
পর্ব২: Click This Link
চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৮ ভোর ৬:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


