মেহরাবের আমার ছবি কইবে কথা যখন আমি থাকবো না চমৎকার পোষ্টটি পড়ে এই লেখাটি লিখতে অনুপ্রাণিত হলাম। এতো সুন্দর করে আমি লিখতে পারতাম না। সে কারণে তাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। পোষ্টটিতে আমি একমত পোষণ করেছি। কারণ মেহরাব এর মতো আমিও খুবই আশাবাদী মানুষ। সবসময় পসিটিভ চিন্তা করার চেষ্টা করি। যাইহোক, যে কারণে আমি লেখাটি লিখতে বসলাম সেটাই বলি। এবারের এসএসসি'র রেজাল্ট ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে ইতিবাচক (পাসের হার অনুসারে)। এটা খুবই ভালো দিক যে এখন আমাদের 'অকৃতকার্য হয়ে আত্নহত্যা' বিষয়ক কোন লেখা পত্রিকায় পড়তে হয় না। একটা বিষয় আমার খুবই ভালো লাগে। সেটা হলো 'নকল' নামক যে অসুখটি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল সেটা ইদানীংকালে নেই বললেই চলে। এখনকার পরীক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে আগ্রহী হয়েছে সেটাই বা কম কিসে। আমি যখন এসএসসি পাস করেছি তখন আমার কোন লক্ষ্য বলতে কিছু ছিল না। বড় হয়ে সিএ হবো সেটা ভাবিনি কিংবা বলতে পারিনি। কিন্তু এখনকার শিক্ষার্থীদের সাহস দেখে যেমনই অবাক হয় তেমনি ভালোও লাগে।
তবে, বাস্তবতা বলে একটা কথা আছে সেটা ভুলে গেলেও চলে না। বাস্তবতার কারণে এতো বেশি ভালো রেজাল্টকে আমার কাছে এখন 'গরীবের ঘোড়া রোগ' মনে হচ্ছে। কেননা, অনেক পরীক্ষার্থীই ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পেরে আশাহত হবে। এমনও হতে পারে অনেকে এখানেই পড়ালেখার ইতি টানবে।
আমার একমাত্র বোন এবং ছোট ভাই পরীক্ষা দিয়েছিল। তাই আমারও এ নিয়ে কৌতুহল কম ছিল না। বোন সায়েন্স থেকে এ+ পেয়ে এবং ভাই কমার্স থেকে 'এ' পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বোনের জন্য একটু মন খারাপ হয়েছে যখন শুনলাম শুধুমাত্র বাংলা দ্বিতীয়ের জন্য গোল্ডেন এ+ টা মিস হয়ে গেলো। বোনকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্নের কথা আগেও বলেছি। আমরা চার ভাই যখন কমার্স নিলাম সেখানে একমাত্র বোনটি সায়েন্স পড়ছে। তাই ওকে নিয়ে স্বপ্নটা বেশী দেখি। স্কুলে থাকতে সায়েন্সের কথা শুনলে আমি ভয় পেতাম। তাই পড়ার সাহস করতে পারি নি। কমার্সে 'সাধারণ বিজ্ঞান' পড়তে হয়েছিল। যেটাতে আবার আমার মতো কমার্সের স্টুডেন্টরা ফেল করে। এসএসসি'তে আমি কিভাবে যেন এই বিষয়টিতে লেটার মার্কস পেয়ে গিয়েছি সেটা এখনো বোধগম্য হয় না। আমার এখনো মনে হয় অন্য কারো মার্কস আমাকে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। যাইহোক, এবারের রেজাল্ট নিয়ে কথা বলছিলাম। তো এবার নাকি শুধুমাত্র চট্টগ্রামে গোল্ডেন এ+ পেয়েছে আঠারো'শ পরীক্ষার্থী। সেখানে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার দৌড়ে অন্যরা অনেকটা বাদ পড়ে গেছে। আমার বোন যে দুটি কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিল এখন মনে হচ্ছে সেটা সম্ভব হবে না। যদিও ফরম নেওয়ার যোগ্যতাটুকু আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদৌ কি সে ভর্তি হতে পারবে সেটা নিয়ে টেনশনে আছি। একটা ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারলে ভালো রেজাল্ট করার আনন্দটা কি পরীক্ষার্থীরা ধরে রাখতে পারবে? যদি না পারে তখন কি ওদের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাবে না? এটা কি এতো বেশি ভালো রেজাল্টের নেতিবাচক দিক নয়? পত্রিকায় দেখলাম পাসের হার বেশি হয়ে যাওয়ায় ভর্তি সংকট কাটাতে ভালো কলেজগুলো দ্বিতীয় শিফট চালু করবে। কিন্তু এটা কতটুকু ভালো হবে কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে? এতো ভালো রেজাল্ট অবশ্যই শিক্ষকদের উদারতার কারণে সম্ভব হয়েছে। কারণ রাতারাতি সব পরীক্ষার্থীরা মেধাবী হয়ে গেছে সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পাসের হার বেশি হওয়ার কারণে এখন আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কলেজ আছে বলে মনে হচ্ছে না। যে কারণে হয়তো দেখা যাবে উত্তীর্ণ হয়েও অনেকে কলেজে ভর্তি হতে পারে নি এবং একসময় পড়ালেখার আগ্রহটা হারিয়ে ফেলবে। এরকম ভালো ফলাফল সামনের বছরগুলোতে আরো বেশী হবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যদি একই গ্রেডিং পদ্ধতি সচল থাকে। এমনিতে আমাদের দেশের শিক্ষার মান এখনো অনেক খারাপ। সেটা এখানে আসার পরে প্রথম দিন থেকে অনুধাবন করতে পেরেছি।
এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশের সরকারের ভাবার সময় কবে হবে সেটা দেখার বিষয়।
(ছবিসূত্র: দৈনিক সমকাল)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


