somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতোটা বিষণ্ণ হলে এতো কথা নিয়ে, নিশ্চুপ বসে আছি নগ্ন অন্ধকারে...../ইমন

২০ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমার মন ভালো নেই। নীলচে আকাশের মতো কিনা জানি না। শুধু জানি মন ভালো নেই। এতোটাই খারাপ যে, কাজে গিয়ে কলিগদের সাথে নূন্যতম হাই/হ্যালো'টুকু বলার ইচ্ছে হয়নি। ট্রেনে উঠে অন্যান্যদিনের মতো পত্রিকাটা নিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রান্সফার নিউজগুলো ঝটপট দেখে নিতে একবারও মনে পড়েনি। কাজ শেষে ফিরতি পথে টানেলের বাস্কার (যারা আন্ডারগ্রাউন্ডে গান করে) আজ 'গানস এন রোজেস' নাকি 'মেটালিকা'র গান করছে সেটা চিন্তা করতে ইচ্ছে হলো না। কিংবা তাকে খুশী করতে দুটো পাউন্ডের কয়েন দেবার প্রয়োজনীতাও বোধ করিনি। টটেনহ্যাম কোর্ট রোডে এসে অন্যদিনের মতো ভ্যাপসা গরমের উত্তাপে জ্যাকেটটা খুলে হাতে নেওয়ার কথা আজ মনে হয়নি। বাসায় এসে নিত্যদিনের রুটিন অনুযায়ী গরম এককাপ চা খাওয়ার ইচ্ছে হয়নি। লনে গিয়ে হিমেল বাতাসে বসে আকাশে নক্ষত্রের কনফারেন্স চলছে কিনা কিংবা পূর্বের মৃত নক্ষত্ররা আজ জেগে উঠেছে কিনা সেটা জানতেও ইচ্ছে হলো না। শুধু জানি আজ আমার কোন কিছুই ভালো লাগছে না। কেন ভালো লাগছে না সেটা বলার জন্য কিছু কথা আপনাদের বলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি।

আমার একটি অসুখ আছে। যতটুকু মনে পড়ে ছেলেবেলা থেকেই আমি এই অসুখে অসু্স্থ। আজ আমি আপনাদের 'স্বপ্ন' নামের সেই অসুখের কথা বলব। যে অসুখটি এখনো সারেনি। বয়েস বাড়ার সাথে সাথে বরং এটি একটি স্বপ্ন থেকে অনেকগুলো স্বপ্নে সংক্রমিত হচ্ছে।

অনেক ছোটবেলা থেকেই আমার পত্রিকা পড়ার অভ্যেস। দুঃখী মানুষদের নিয়ে কোন লেখা চোখে পড়লে কষ্টে মন খারাপ হতো। আর্থিক অসচ্ছলতার সাথে যুদ্ধ করে পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হওয়া পরীক্ষার্থীদের খবরে জলে চোখ ভিজে যেত। কলেজে উঠার পরে আমি মেধাবী গরীব ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি ফান্ড গড়ে তুলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। পাড়ার কিছু বন্ধুদের সংগঠিত ও করেছিলাম। সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলাম 'ষ্টুডেন্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল'। কোচিং সেন্টার, লাইব্রেরী, বিনামূল্যে বই বিতরণ দিয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুন্দর শুরু ও হয়েছিল। কিন্তু সেটা বেশিদিন ধরে রাখতে পারি নি। তবে, হ্যা এটা এখনো বুকে ধারণ করি।

আমার একটিমাত্র বোন। যাকে নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছি। যে নিজেও বড় ভাইয়ের মতো স্বপ্ন নামের অসুখে আক্রান্ত। ও যখন ক্লাস সেভেন এ পড়ে আমার কাছ থেকেই স্বপ্নের ভাইরাস ওকে পেয়ে বসে। আমাদের এলাকায় সিরাজ ডাক্তার নামের এক ভদ্রলোক বিনামূল্যে গরীব মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। এটা দেখে আমার খুব ভালো লাগত। এতো ভালো লাগত যে, ভাবতাম ইস আমি যদি সেই মানুষটি হতে পারতাম। তখন থেকে আমার বোনকে মেডিক্যাল পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে শুরু করি। একদিন সে আমাকে বলে ' ভাইয়া আমি তো মেয়ে, আমি ডাক্তার হয়ে কি করব'। সেদিন আমি তাকে বলেছিলাম তুমি ডাক্তার হয়ে গরীব মানুষদের সেবা করছ ভাবতে কেমন লাগবে তোমার? এ কথা বলার পরে সেদিন আমি স্পষ্ট দেখেছি, বিষয়টি এই ছোট্ট মানুষটির কোমল হৃদয়ে খুব নাড়া দিয়েছিল। সেই থেকে শুরু। ভাইয়ের কথায় সাঁয় দিয়ে সে সিরিয়াস হয়ে পড়ালেখা শুরু করে। আমিও স্বপ্ন দেখতে থাকি একদিন সে ডাক্তার হয়ে বের হবে। তারপর ভাইবোন মিলে একটি ক্লিনিক গড়ে তুলবো। যেখানে বিনামূল্যে গরীব মানুষের চিকিৎসা হবে। এবারের এসএসসিতে শুধুমাত্র বাংলা দ্বিতীয়ের জন্য বোনের গোল্ডেন এ+ প্লাস পাওয়া হয়নি। কিন্তু তখনও বুঝতে পারেনি স্বপ্নটি অধরা হয়ে দুরে সরে যাচ্ছে। গতকাল বাসায় ফোন করে জানতে পারি যে দুটি কলেজে সে ভর্তি হতে চেয়েছিল সে দুটোর প্রাথমিক তালিকায় আসে নি। অভিমান করে আর পড়বে না বলে বইখাতা ও নাকি ছিড়ে ফেলেছে। অথচ দুদিন আগেও সে ছিল হাসিখুশী, প্রাণবন্ত। এই প্রথমবারের মতো সে তার বড় ভাইটির সাথে কথা বলেনি। হ্যালো পর্যন্ত বলেনি। যে ভাইকে সে অনেক অনেক ভালোবাসে। যে ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য সে বাবা মার সাথে কাড়াকাড়ি করে ফোন হাতে নেয়। এটা শুনার পর বুকের মধ্যে এক ধরণের ব্যথা অনুভব করলাম। আমার কান্না পাচ্ছে সেটা আমার মা বুঝতে পারার আগে ফোন রেখে দিই। সব কিছু কেমন যেন অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। কষ্টকর অনেক কথায় বুকের গভীরে ভারী হতে থাকে। আমার কোন কিছু ভালো লাগছে না। একমাত্র বোনকে নাকি নিজেকে সান্তনা দিবো সেটা বুঝতে পারছি না। জীবনের কাছে নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে। যে বোনকে সারাটি জীবন আকাশের চাঁদ পেড়ে দেবো বলে এসেছি অথচ সেই আমি এখন কিছু করতে পারছি না। বুকের বাঁ পাশে অস্ফুট কান্নার ব্যথায় চোখে রাতজাগা ক্লান্তি নিয়েও ঘুমুতে পারছি না। কতোটা বিষণ্ণ হলে এতো কথা নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে থাকি। ভাবি, এইতো জীবন! ব্যথিত আমি বসে থাকি নগ্ন অন্ধকারে। বিধাতাকে বলি, আমাকে আরো ব্যথিত হতে দাও। আমাকে আরো মাতাল হতে দাও। এবার আমাকে স্বপ্ন নামের অসুখ থেকে মুক্তি দাও।

(গতকালের লেখা। লেখাটি পড়ে কারো মন খারাপ হলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আসলে বোনের জন্য ভীষণ মন খারাপ। কাউকে বলতেও পারছি না। লিখে কিংবা আপনাদের সাথে শেয়ার করে যদি কিছুটা মন ভালো হয় সেই উদ্দেশ্যে এই পোষ্টের অবতারণা।)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:৫৫
২৫টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×