somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বগত আলাপ ০১: নিকেলব্যাক এর কনসার্টে....

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে থাকতে বাড়ীর সামনের ক্রিকেট খেলার মাঠে একদিন কেউ একজন বলেছিল 'জীবনটা লাইফ হয়ে গেছে'। শুনে আমরা শুধু হাসাহাসিই করিনি।এর পর থেকে এটা বলে সবাই তাকে ক্ষ্যাপাইতাম। এখানে আসার পরে এখন মনে হচ্ছে জীবনটা আসলেই লাইফ হয়ে গেছে।:) মানে রোবট হয়ে গেছি। আগে বলতাম তেজপাতা হয়ে গেছে। কিন্তু তেজপাতার ও কিছু অনুভূতি আছে। বিদেশে থেকে আমাদের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে। তারপরও মাঝে মাঝে খেলা দেখে(চেলসিতে গিয়ে) কনসার্ট ফনসার্টে গিয়ে অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করি। যাইহোক, আজ কানাডিয়ান রক ব্যান্ড 'নিকেলব্যাক' এর কনসার্টে গিয়েছিলাম। আমি যদিও ওদের তেমন ভক্ত নই। আমার শ্রীলন্কান বন্ধু আবদুলের অনুরোধে যাবো বলেছিলাম। তবে, আজকে কনসার্টে গিয়ে মনে হয় ওদের ভক্ত হয়ে গেছি। ওদের গানে একটা নিজস্বতা কিংবা স্বকীয়তা আছে। যেটা আমার ভালো লাগে। তবে, গানের মধ্যে খুব একটা ভেরিয়েশন নেই বললে চলে। সবগুলো গান খুব কাছাকাছি সুরের মনে হয় কিংবা একটা গানের সাথে আরেকটার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যেটা 'মেটালিকা' কিংবা 'ড্রিম থিয়েটার' এর গানে পায় না। তারপরও কিছু গান আমার অনেক আগে থেকেই ভালো লাগত।

কনসার্টের ভেন্যু 'দি ০২' আমার বাসার কাছেই। পূর্বে 'মিলেনিয়াম ডোম' নামে এটা পরিচিত ছিল। 'মিলেনিয়াম ডোম' ব্যবসায়িকভাবে অসফল হওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। পরে ২০০৭ এ (যেদিন টনি ব্লেয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল:)) এটা 'দি ০২ এরেনা' নামে পুনরায় চালু করা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে এটাই এখন পৃথিবীর সবচে সফল ভেন্যু। প্রতি সপ্তাহে দু একটা কনসার্ট তো থাকবেই। এটা আয়তনে এত বিশাল যে, ভিতরে ঢুকলে মনে হবে একটা শহর। শহরের মধ্যে ছোট্ট শহর।:)

যাইহোক, কনসার্টের কাহিনীতে ফিরে আসি। সন্ধ্যা পাঁচটায় বাসা থেকে বের হয়ে ০২ এরেনা'তে গিয়ে হাজির হই। তখনো আমার বন্ধু এসে পৌছায়নি দেখে তাকে ফোন করলাম। সে তখন ইফতারির জন্য 'টর্টিলা চিকেন র‌্যাপ' কিনতে ব্যস্ত। বেশ কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাঘুরির পর আবদুল আসলে দুজন গিয়ে লাইনে দাড়ায়। গেট খুলবে সাড়ে ছয়টায়। কনসার্ট শুরু হবে তারও এক ঘন্টার পর। তো লাইনে অপেক্ষা করার পর যখন গেট খুলল। আমরা দুজন আস্তে আস্তে সামনে যেতে থাকি। সমস্যা হল আমাদের হাতে খাবার আছে। এটা নিয়ে ভিতরে যেতে দিবে কিনা এটা নিয়ে দুজনের মধ্যে সংশয় ছিল। গেটের কাছাকাছি গিয়ে যখন সুন্দরী রমণীকে টিকেট দেখালাম হাতে আর্মব্যান্ড পরিয়ে যেতে দিলেও সামনের জন (যিনি সবার হাতের ব্যাগ কিংবা প্যাকেটে কি আছে দেখছে) আমাদের খাবার নিয়ে ভিতরে ঢুকতে দিবেন না। এখন কি করি? তারপর তার কাছে জিগেস করে আমার দুজন এক কোণায় ইফতারের সময় হওয়ার জন্য দাড়িয়ে কাউন্ট ডাউন করছিলাম। ইফতারের সময় হলে দুজনে যেই খাওয়া শুরু করি সামনে সিকিউরিটির একজন এসে হাজির। বলে এখানে খাওয়া যাবে না। তাকে বললাম আমরা রোযা রাখছি তাই ইফতার করি। মানুষের ক্ষতি তো আর করছি না। সমস্যা কোথায়। সে বলে এখানে খাওয়া নিষিদ্ধ। তারপর অন্যজন এসে বলে 'ইটস ওকে, বাট বি কুইক'। কি আর করা। তাড়াহুড়া করে অর্ধেকের মতো পেটে চালান দিয়ে ভিতরে ঢুকে পরলাম। প্রায় ঘন্টাখানেক বসে থাকার পরে অতিথি ব্যান্ড 'ষ্টেইনড' ষ্টেজে আসে। আগে কখনো নাম শুনিনি। এটা নাকি অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড।
যাইহোক, ওরা সাতটা-আটটার মতো গান করে অত্যাচার থেকে রেহাই দেয়। অবশ্য দু একটা গানের গিটারের টিউনটা ভালো লেগেছে। রাত নয়টার দিকে দুমদাম বোমা ফাটিয়ে ষ্টেজে আসে 'নিক্যালব্যাক'। আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।:)
হার্ডরক ধাঁচের গান 'এনিম্যাল' দিয়ে ওরা যাত্রা শুরু করে। এটা আগে শুনেছি তবে, খুব বেশি ভালো লাগে না। পরের গানটা আমার শুনা ছিল না। তাই পাঁচ মিনিটের মতো হা করেছিলাম।:)
তারপরের গান 'লুক এট দিস ফটোগ্রাফ, এভরি টাইম আই ডু ইট মেকস মি লাফ' গানটা আমার খুব প্রিয়। গত দুদিন রিপিট করে শুনছিলাম। গানটা এক কথায় অসাধারন। এটা শুনলে যে কেউ নষ্টালজিক হবেন। আমি যতবারই শুনি আমার স্কুল, শৈশবের কথা মনে পড়ে।:(

এরপরের গানটা ছিল ছ্যাঁকা খাওয়াদের জন্য। 'ফার এওয়ে' । এ গানটা শুনলে আমার এক পুরনো বান্ধবীর কথা মনে পড়ে।:( এটার লিরিক্স দিয়ে একবার তার অভিমান ভাঙ্গাতে সক্ষম হয়েছিলাম।(কেউ চাইলে চেষ্টা করতে পারেন।:))

'টু ব্যাড' গানটি শুরু করার আগে 'চাদ ক্রোয়েগার' (ব্যান্ডের ভোকাল) সবাইরে উপর নিচ লাফালাফি করতে কইল। গান শুরু হওয়ার পরে দেখি সবাই সত্যি সত্যি ন্যাংটাকালের মতো লাফানো শুরু করল।:) দেখাদেখি আমিও দলে যোগ দিলাম। আশে পাশে যারা ছিল তাদের ভালো করে দেখিয়ে দিলাম আমিও লাফাতে পারি।

কনসার্টের মাঝামাঝি সময়ে আমার পাশের দু তিনজন মিলে সিগারেট ফুকছে দেখে ইচ্ছে করতেছিল দু-তিনটে থাপ্পড় লাগিয়ে দেয়। এদিকে আমার পাশের সুন্দরী পায়রাবানু বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল দেখে আমি সিগারেট খাইনা বলে তার সন্দেহ থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করি।:)

যাইহোক, এরপর ওদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান 'দিস ইজ হাউ ইউ রিমাইন্ড মি' দিয়ে দর্শক মাতাই। পাঁচ ছয় বছর আগে তৌফিকের কাছে এই গানটা প্রথম শুনেছিলাম। গানটা শুনে বেশ ভালো লাগছিল। কিছু গান আছে সবার ভালো লাগে। এটা সবার ভাল লাগার মতো একটা গান।

তারপর নিয়ে আসে 'ইফ এভরিওয়ান কেয়ার্‌ড' । এটা মানবতার আহবানের গান। এই গানের মিউজিক ভিডিও গানের মতোই চমৎকার।

'সেভিন মি' , অল দ্যা থিংস উই ফাইট ফর' সহ আরো কিছু গান গেয়ে ওরা ষ্টেজের পিছনে চলে গেলে আমরা মনে করেছিলাম কনসার্ট শেষ। এদিকে সবাই 'রকষ্টার' 'রকষ্টার' বলে চিল্লানো শুরু করছে। 'রকষ্টার' গানটি ইতিমধ্যে সবাই হয়তো শুনেছেন। এটা এখনকার অন্যতম জনপ্রিয় একটা গান। এ গানের লিরিক্স যেমন মজার, ভিডিওটা ও খুব মজার। যারা দেখেননি তারা এখুনি ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। এখানের রেডিওতে প্রায় প্রতিদিনই এটা শুনা যায়।

কিছুক্ষণ পর ওরা আবার ষ্টেজে হাজির হয়। তারপর 'আই ওয়ানা বি এ রকষ্টার' দিয়ে সবাইরে ভালোই নাচিয়েছে। সবচে ভালো লাগছে প্রতিটি গানের পরে ওরা কিছু একটা নিয়ে মজা করছিল। মোটকথা আমি ওদের বিগ ফ্যান না হয়েও একশোতে একশো দিতে রাজী।

নিচে আইফোনে তোলা কিছু ছবি দিলাম।

'দি ০২' বাইরে থেকে যেমন দেখায়।


'দি ০২' তে কি, কোথায় আছে সেটার ম্যাপ।


ঢুকতে বিএমডব্লিউ'র এই এ্যড চোখে পড়ে:)


'০২ এরেনা'র প্রবেশ পথ।


নিকেলব্যাক এর টি শার্ট,ক্যাপ, পোষ্টার ইত্যাদি বিকিকিনি চলছে।


ভিতরের যে পাশে সিনেমা থিয়েটার, আইস স্ক্যাটিং, রেষ্টুরেন্ট ইতাদি অবস্থিত।


দাবা খেলায় ব্যস্ত:)


কনসার্ট শুরু হওয়ার পূর্বে।


অতিথি ব্যান্ড 'ষ্টেইনড' পারফর্ম করছে।



নিকেলব্যাক।





এ বছরের ডিসেম্বরে 'কোল্ডপ্লে' দেখতে যাবো। তখন নাহয় ওটা নিয়ে লিখব। ততক্ষণ পর্যন্ত টা টা, বাই বাই।:):)
(পোষ্টটি শুক্রবারে লেখা)







সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৫৮
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×