somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দোহাই আপনাদের এসব ছেলেমানুষী বন্ধ করুন

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দু বন্ধু আর্মিতে আছে। একজনের বড় ভাই বিডিআর এর উর্দ্ধতন অফিসার। সকালে আর্মি বন্ধুকে ফোন করেছি ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য। অন্যান্যদের মত বন্ধুর বড় ভাই(যিনি বিডিআর অফিসার) ও দরবার হলে উপস্থিত ছিলেন। কিছু একটা আনতে হল থেকে তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। এর ঠিক দশমিনিট পরে গুলাগুলি শুরু হয়ে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। বন্ধুর সাথে কথা বলে যেটা বুঝতে পেরেছি দরবার হলের অলমোষ্ট সবাই স্পট ডেড। যারা পালাতে পেরেছেন তারা বেঁচে গেছেন। বুঝলাম উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অনেকেই জওয়ানদের কোন কথার পাত্তা দিতেন না কিংবা খবরদারী করতেন। তাই বলে জওয়ানদের এ ধরণের অপরাধ কেন করতে হবে। কেন এর উত্তর খুজে পাচ্ছি না। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিদ্রোহ কোনভাবেই কাম্য নয়। আর্মি কিংবা জওয়ানদের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ এটা আশা করি না।
পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে এটা এত বড় ঘটনা হত না। আমি কোন পক্ষের কিংবা বিপক্ষের হয়ে কথা বলছি না। কেউ কেউ দেখলাম জওয়ানদের এ ধরণের বিদ্রোহকে হাততালি দিচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এসব ছেলেমানুষী বন্ধ করুন। নিজে বুঝতে চেষ্টা করুন। পরিচিত যারা আর্মি কিংবা বিডিআর এ কর্মরত আছেন তাদের বুঝান, শান্ত করুন। এটার পরিণতি খারাপ হবে কখনোই ভালো হতে পারেনা। বিডিআরদের দাবীগুলো নৈতিক। কিন্তু এ ধরণের মানসিকতা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিদ্রোহ কখনোই শান্তি বয়ে আনবে না। শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সাথে বৈঠক করেই দাবী মেটানো সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা সেটলড করা উচিত।
যারা যুদ্ধ যুদ্ধ বলে লাফাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে দুটা কথা বলব। আর্মি কিংবা বিডিআর সবাই আমাদেরই আত্বীয়স্বজন। আমাদের দেশের মানুষ। এই দুই বাহিনীর গৃহযুদ্ধ/বিদ্রোহ হলে কিন্তু দেশের অনেক বড় ক্ষতি। দেশের ক্ষতি মানে আপনারই ক্ষতি। আপনারা হয়ত অনেকেই বড় বড় ফুটবল দলের খেলা দেখেন। আপনি কি জানেন এসব দলের প্লেয়াররা দলের সম্পত্তি। বছরশেষে যখন লাভ-ক্ষতি হিসেব করার জন্য পাবলিশড এ্যকাউন্টস করা হয়। তখন এসব প্লেয়াররাই এ্যকাউন্টস এ লংটার্ম এসেট হিসেবে স্থান পায়। এটা বলার কারণটা বলি। ধরুন, বাংলাদেশ একটা কোম্পানী। আর্মি কিংবা বিডিআরের অফিসাররা সবাই এই কোম্পানীর লংটার্ম এসেট। একজন মেজর জেনারেল হতে আনুমানিক বিশ বছর সময় লাগে। ঠিক একইভাবে কর্ণেল, লেঃ কর্ণেল পনেরো কিংবা দশ বছর সময় লাগে। এতোদিন যাবৎ এদের ট্রেনিংয়ের পেছনে দেশের কত টাকা খরচ হয়েছে বলতে পারেন? কোটি টাকা কিংবা তারও অনেক বেশি। সে টাকা আমার, আপনার কৃষক থেকে শুরু করে যারা রিকসা চালান তাদের ও। এবার চিন্তা করুন একজন ট্রেইন্‌ড আর্মি কিংবা বিডিআর অফিসার যারা বিদ্রোহে মারা গেলেন, দেশের কত লস ইতিমধ্যে হয়েছে। তাছাড়া আরেকজন মেজর জেনারেল তৈরীতে দেশের আরো বিশটা বছর সময় লাগবে।
যারা হাততালি দিচ্ছেন তাদের বলছি উস্কানীমূলক কথা না বলে প্লিজ বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনার পরিচিতজন যারা আর্মি বিডিআর এ কর্মরত আছেন তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন অস্থির কিংবা ভীত। তাদের বোঝানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। আপনারা যারা আওয়ামী লীগ সরকার পছন্দ করেন না কিংবা বিএনপি করেন তাদের বলছি এটা ভাববেন না যে এটা আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা। এটা আপনার আমার সবার ব্যর্থতা। আওয়ামীলীগ পছন্দ করুন কিংবা না করুন তারাই কিন্তু দেশের নির্বাচিত সরকার। তার মানে এখন সেটা আপনারই সরকার, আপনিই সরকার। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সবার সাধ্যমত সহযোগিতা একটা দেশের সরকার অবশ্যই আশা করবে। সরকারের ব্যর্থতা হইল কি না সেটা না দেখে পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করুন। ঘটনা বুঝার চেষ্টা করুন। দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সামনে আরো বড় ক্ষতি হয়ে যাবার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন প্লিজ।



মন্তব্যের সবগুলোর একসাথে রিপ্লায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সবার প্রতি দেয়া মন্তব্য পোষ্টে এ্যড করে দিলাম।

সবার উদ্দেশে বলছি। আমি সশস্ত্রবাহিনী সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা। অনেকের মত জানতে ইচ্ছেও হয়না। এক্ষেত্রে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার 'সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি' কবিতাটি দ্রষ্টব্য।
যাইহোক, আমি জানি আপনারা এসব ব্যাপারে আমার কাছ থেকে বেশি বুঝেন। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে সেটা বলি। আর্মিকে আমার কোনদিন পছন্দ ছিল না। এটার কারণ দেশের দখলদারিত্ব নিয়ে নেওয়া। আর্মি যখন পলিটিশিয়ান হয়ে যায় সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ আর্মিরা বুঝে 'ব্লাডি সিভিলিয়ান'দের দুচারটে ডান্ডার বাড়ি দিলে সব ঠিক। ওরাই দেশ চালাবে। কিন্তু ইতিহাস বলে আর্মিরা সরকারের আসনে বসে কখনোই সুফল বয়ে আনেনি। উল্টো দেশের বারোটা বাজিয়েছে।

জওয়ানদের দাবীগুলো অবশ্যই নৈতিক। কিন্তু দাবী আদায় করে নিতে গৃহযুদ্ধ কখনো কাম্য নয়। এখনকার পরিস্তিতিতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ক্রিয়েট হইছে। এটাতে দেশের লাভ যে হচ্ছে না এটা তো যে কেউ বুঝতে পারছেন?
এসব জওয়ানদের উপরে অনেক অত্যাচার করা হবে সেটা বুঝাই যাচ্ছে। এটা যাতে নাহয় সেটার জন্য সরকারের এখুনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আর্মিদের এখুনি শান্ত করা উচিত। এটার পরিণাম কখনোই ভালো হবে না। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
৫৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×