somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সে আমার দুচোখে বসেছিল! হঠাৎ
আকাশ ভেংগে জোছনা নেমে আসে
গৃহত্যাগী জোছনা
তারপর
ভিজছি দুজন, শব্দহীন ।
আমাদের সব কথাগুলো হারিয়ে গেলো
নিভে গেলো সব উদ্যম।
ভিজতে ভিজতে আমরা প্রকাশিত হতে থাকি ক্রমশ।
সাতটি তারার পতন হলে ঘরে ফিরে আসি।
তারপর
আমার দুচোখে তুমি বসে
ঘুমালে তুমি
একা আমি জেগে থাকি
সাদা প্রজাপ্রতিদের সাথে তোমার উড়ে যাওয়া দেখি
তারপর
ছেলেবেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই সবুজ প্রজাপ্রতিটার মতো
হারিয়ে ফেলি তোমাকে ও!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29451495 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29451495 2011-09-20 05:23:22
নোংরা ক্রিকেট রাজনীতি!! মাশরাফি কোন সিলেক্টরের ভাই না, কারো আত্বীয় না, সে একজন সহজ সরল পেশাদার ক্রিকেটার। আসিএলে যখন হাবিবুল বাশার, অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফিস, আফতাবের মতো ক্রিকেটাররা টাকার জন্য ভারতে চলে গিয়েছিলো, মাশরাফি দশ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েও যায় নি। কেন জানেন? দেশের হয়ে খেলাটা তার কাছে বড় হয়ে উঠেছিলো! সে কি তখন জানতো যে শাহরিয়ার নাফিজরা চলে গিয়েও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকবে? তার মতো দেশপ্রেমিক ক্রিকেটারকে নির্বাচকরা এভাবে অপমান করবে সেটা কি সে জানতো?
নির্বাচকদের কথা ঠিক, সে ইনজুরিতে আছে। ভারতীয় দলে চারজন ইনজুরড, অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি এখনো হাসপাতাল রিকি পন্টিং ও মাঠের বাইরে অথচ তারা স্কোয়াডে আছে। শুধু বাংলাদেশের নির্বাচকরাই সবচে বুদ্ধিমান! আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারব আশরাফুলের চেয়ে মাশরাফি ভালো রান করতে পারবে, বোলিংয়ের কথা নাহয় বাদই দিলাম।
ওর ফিটনেস নিয়ে বাংলাদেশ দলের physiotherapist, Michael Henry, had said Mortaza had "responded well and there were no negative repercussions after his bowling stint." (ক্রিকইনফো) মনে হচ্ছে সুস্থতা কোন বিষয় নয়, উছিলা মাত্র।

বালের ক্রিকেটই দেখুম না। বালের পলিটিক্স!! রাজনৈতিক পেশীর বরপুত্রেরাই ক্রিকেট খেলুক। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29310674 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29310674 2011-01-20 02:27:37
আড্ডা হবে নাকি? আসেন কিছুক্ষণ বাতচিত করি, কি বলেন? <img src=" style="border:0;" />
কেমন আছেন সবাই?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29306039 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29306039 2011-01-12 00:59:40
BAL সরকার কি করে?? মেজাজ ভালো হইলে ডিলিট মারবো।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29304239 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29304239 2011-01-09 05:21:04 সে বৃষ্টি হতে চেয়েছিলো!
সকাল থেকে জানালার পাশে দাড়িয়ে আকাশ দেখছি। মেঘলা আকাশ। মনটা ভারী হয়ে আছে আকাশের মতো। জানালার ফাঁক দিয়ে থিরথির বাতাস এসে গায়ে লাগছে। সাদা মেঘগুলোকে নগ্ন নারীর একপায়ে লেপ্টে থাকা মোজার মতো দেখাচ্ছে। মাঝে মাঝে রুপালী রোদের ছটা এসে মেঘ তাড়ানো খেলা খেলছে। মেঘলা আকাশ আমার অনেক অনেক প্রিয়। মিডিয়া প্লেয়ারে 'বৃষ্টি' লিখে সার্চ দিতেই বেশ কিছু বৃষ্টির গান পেয়ে গেলাম। গানে গানে বৃষ্টিকে ডাকলে মন্দ হয় না! বৃষ্টি চাই, ঝুম বৃষ্টি। আকাশ দেখতে দেখতে, আমার হঠাৎ মনে হলো- প্রকৃতির কাছে কোন কিছু চাইতে নেই, কারণ প্রকৃতি মানুষের কোন ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে না!
'আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে, মনে পড়লো তোমায়'
ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ গেয়ে চলে। ওস্তাদ বৃষ্টি গান দিয়ে আমাকে তার কাছে নিয়ে যায়। সে; যে বৃষ্টি হতে চেয়েছিলো। বৃষ্টি দিনে ওর সাথে পরিচয় হয়েছিলো বলে আমি ওকে 'বৃষ্টি মেয়ে' নাম দিয়েছিলাম।
‍‍
#

যেদিন ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল, সেদিন অন্যান্য দিনের মতো আমি আমার ছোট্ট রুমটাতে ক্যালকুলাসের বইয়ের পাতায় চোখ বুলাচ্ছিলাম। আমি যে রুমে থাকি সেটা ছাদের উপর, চিলেকোঠায়। দরজা দিয়ে বের হলেই প্রশস্ত ছাদ।
বাইরে সারাদিনভর ঝিরঝির বৃষ্টি। বৃষ্টি আমার কখনো প্রিয় ছিলো না। আমার নাগরিক রুচির দরজায় বৃষ্টির কোন আবেদন, ইসথেটিক্স ছিল না। বৃষ্টি দেখে আমি বরং যারপরনাই বিরক্ত হতাম। বৃষ্টির মাত্রা ধীরে ধিরে বেড়েই চলেছে। আওয়াজহীন আলোর মতো ফ্ল্যাশ দেখে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে কিনা দেখতে বাইরে তাকালাম।
হঠাৎ খেয়াল করে দেখি আকাশ থেকে একটা পরী নেমে এসেছে ছাদে, দুহাত পাখির ডানার মতো মেলে দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে। আমি অবাক নয়নে পরীটাকে দেখছি, চোখে চোখে রাখছি যদি না আবার উড়াল দেয়! ক্যালকুলাস ততক্ষণে একপাশে সরিয়ে রাখি। ড্রয়ার খুলে এক থাবাতে আকিবুকির ডায়েরী আর পেন্সিল নিয়ে বসে পড়ি। আঁকাআঁকিতে আরাম করতে পারছিলাম না দেখে জানালার পর্দাটা আস্তে করে সরিয়ে দিই। একি! আমি যা দেখছি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। কুইন অব সেবা, হার রয়েল হাইনেস বিলকিস হয়তো আঠারো উনিশ বছর বয়সে এই মেয়ের মতোই ছিল। পদ্মীনি গোত্রের এই তরুণীকে দেখে যে তরুণ কিনা কোয়ান্টাম ফিজিক্স পড়ছে, আমি নিশ্চিত সে ও কবি হতে চাইবে, বৃষ্টি কবি।
রবীন্দ্রনাথ ঠিক এই ধরনের কোন মেয়েকে দেখে হয়তো লিখেছিলেন- ' মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে, বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যথা!'

একসময় সে আমাকে ঠিকই দেখে ফেলে। কিন্তু চমকাল না। সহজ ভঙ্গীতে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর আমাকে অবাক করে দিয়ে সে হাতের ইশারায় আমাকে ডাকছে। স্তম্ভিত আমি কিছু বুঝে উঠার আগে সে কাছে এসে তার কোমল হাত বাড়িয়ে বলে, এসো বৃষ্টিতে ভিজি! এমন সুন্দরীর আহবানে বৃষ্টি কেন আগুনে ঝাপ দিতেও সুবোধ বালকের মতো রাজি হয়ে যেতাম।
তারপর আমরা দুজন বৃষ্টিতে ভিজছি, চুপচাপ। দমকা হাওয়ায় আমাদের সব কথাগুলো হারিয়ে গেলো, নিভে গেলো সব উদ্যম। সমস্ত ইন্দ্রিয় মেলে ধ'রে ভিজছি আমরা, ভিজছে আমাদের সনাতনি মন। ভিজতে ভিজতে আমরা প্রকাশিত হতে থাকি ক্রমশ।

# #

ওর সাথে পরিচয়ের পর বেশ কিছুদিন কেটে যায়। এরপর হঠাৎ একদিন সকালে ঘুমের মধ্যেই শুনছি কে যেন মধুক্ষরা কন্ঠে ডাকছে, এ্যই ছেলে উঠো, এতো ঘুমুচ্ছো কেন?
আমি প্রায়ই দরজা জানালা খোলা রেখে ঘুমাই। এটার একটা সুবিধা আছে, ঘরে বাতাস খেলে, নিজেকে প্রকৃতির অংশ বলে মনে হয়, খাঁচার ভিতরে ঘুমুচ্ছি এরকম মনে হয় না।
আমি ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি কুইন অব সেবা বিলকিস বানু দাড়িয়ে আছে। পরনে কাঁচা হলুদ রঙের সবুজ পাড় শাড়ী, খোঁপায় পলাশ ফুল কপালে টিপ।
কিছু জিগেস করার আগেই বিলকিস বানু বলে- 'আজ বসন্তের প্রথম দিন, আপনি কি আমাকে আজকের দিনটা ধার দিবেন?'
ইয়া খোদা, আমি তাকে বলি,' আপনাকে আমি কতোদিন ধরে খুঁজছি।'
সে হাসতে হাসতে বলে, বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলতে হবে না। আপনি আমার সাথে ঘুরতে যাবেন কিনা বলেন?
সে তার হাসিটুকুন গুঁড়ো গুঁড়ো করে, যেন কাচের চুড়ির ভাঙা টুকরা, ছড়িয়ে দিলো আমার ছোট্ট রুমটায়।
যাবো মানে, আপনার মতো সুন্দরীর সাথে ঘুরতে যাওয়াটা তো আমার ভাগ্যের ব্যাপার!
আমরা দুজন বসন্ত উৎসব দেখতে বের হয়ে গেলাম। আমি জিগেস করি আপনার পরিকল্পনাটা কি জানতে পারি?
সে বলে, রিক্সা করে সারাদিন উদ্দেশ্যহীন ঘুরাঘুরি। সমস্যা নেই তো?
আমার কোন কিছুতেই অনাগ্রহ নেই।
আচ্ছা আমি আপনার সাথে যদি একটা ছবি তুলি, আপনি কি রাগ করবেন?
রাগ করবো না, আমি বরং আনন্দ পাবো।
আমরা সবাই বড় একটা পরিকল্পনার অংশ। সেই বড় পরিকল্পনা যিনি করেন তাকে আমরা দেখতে পাই না। কেউ তাঁকে বলে নিয়তি, কেউ বলে প্রকৃতি, আবার কেউ কেউ বলে বিধাতা। এই মেয়েটার সাথে আমার দেখা হবে সেটাও আমার ধারণা কোন বড় পরিকল্পনার ক্ষদ্র অংশ!

সারাদিন অনেক ঘুরোঘুরি করে আমরা ক্লান্ত প্রায়। বাসায় ফিরছি, তখন আকাশে হলুদ মেঘ, সূর্য ডিমের বড়ো কুসুমের মতো আকার নিয়ে পশ্চিম দিগন্তে ছুঁয়ে আছে। আমি তাকে জিগেস করেই ফেলি, আচ্ছা আপনি আমাকে নিয়ে ঘুরতে বেরোলেন কেন?
আমার দার্শনিক মানুষ খুব পছন্দ, আপনার চেয়ে বড়ো দার্শনিক এখন পর্যন্ত আমার চোখে পড়ে নি তাই। হিঃ হিঃ হিঃ
বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভিক্ষুক শ্রেণী মানুষই কিন্তু দার্শনিক জানেন তো! হাঃ হাঃ হাঃ
'একটা আন্তরিক কথা দিয়ে তিনটা শীতকাল উষ্ণ করা যায়'।
জাপানিসরা বিশ্বাস করে।
আপনার সাথে কথা বলে আমার এমনটা মনে হয়। আচ্ছা আপনি কি হাত দেখতে পারেন?
আমি হাত দেখার আমি কিছুই জানি না। তারপর ও সিরিয়াস ভাব নিয়ে তার বাড়িয়ে দেয়া কোমল হাত আলতো করে আমার হাতে তুলে নিই। তার হাত ধরে ঝিম মেরে বসে থাকি।
সে বিরক্ত হয়ে বলে কি হয়েছে?
আপনার হেডলাইন মাউন্ট অব লুনার দিকে বেঁকে গেছে। যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে সেখানে একটা ক্রস।
এটার মানে কী?
সিরিয়াস কিছু না। এটার মানে আপনার জীবনটা অনেক সুন্দর হবে।
সে আমার কথায় কনভিন্সড হয়েছে বলে মনে হলো না। তাকে ব্যথিত দেখালো খুব, আর বিষণ্ন হলে মন খারাপ করলে তাকে কি যে মায়াবী দেখায়! প্রাচীন লেখক বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন- 'রুপসী ও বিষাদময়ী সমার্থক এবং যে-নারী চুম্বনযোগ্য তার চোখ অশ্রুতে মলিন'।

# # #

সেদিন বাসায় এসে মনের প্রশ্নবোধক চিহ্নটা ঝেড়ে ফেলতে কাউন্ট লুইস হ্যামনের বিখ্যাত বই 'দি ল্যাঙুয়েজ অব দি হ্যান্ড' ঘেঁটে দেখি- হেডলাইন যদি মাউন্ট অব লুনার দিকে বেঁকে যায় এবং সেখানে স্টার থাকে তাহলে সেটা ভয়াবহ ব্যাপার। সুইসাইডের চিহ্ন!

# # # #

কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা শুরু করলেই সময় স্লো হয়ে যায়। টাইম ডাইলেশন হয়। আমি যার জন্য অপেক্ষা করছি তার আসার কোন খবর নেই। আকাশ ভেঙে জোছনা নেমেছে আজ, গৃহত্যাগী জোছনা। চারিদিকে থৈ থৈ করছে, মনে হচ্ছে আজ শহরটাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। আজ আমাদের একসাথে জোছনা দেখার কথা ছিলো। আমি আজ সারারাত জেগে আছি, জোছনা দেখছি একা! রাত শেষে একটা সময় ভোর হয়। আলো হয়ে গেছে চারিদিক। তবুও সে আসে নি।

# # # # #

'জীবন মৃত্যুর মাঝখানে যারা থাকে তারা অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। আমার কোন কথায় তুমি রাগ করো না। আমাকে ভুলে যেও। আমাকে দেখতে যদি মন কাঁদে, বৃষ্টিকে ছুঁয়ে দিও।'

সে বৃষ্টি হতে চেয়েছিলো। ঝুম বৃষ্টি।

আমার কাছে তার দেয়া একটা ছোট্ট ডায়েরী ছিল। সে আমাকে খুলতে বারণ করেছে। শুধু কোনদিন তার কোন খোঁজ না পেলে তবেই খোলা যাবে। অনেকদিন কেটে গেলে আমি তার ডায়েরীতে লেখা একেকটা পৃষ্টা পড়ছি।

তুমিই তো বলেছিলে, প্রতিটি মানুষের পাঁচটি নীলপদ্ম আছে। সে তার সবচে প্রিয় মানুষটাকে নীলপদ্ম দেয়। একটা না দুটা সে তার ইচ্ছে। আমি তোমাকে আমার সবগুলো নীলপদ্ম দিয়েছি। আমি তোমাকে ভালবেসেছি তাই বলে এতো বড় অপরাধ আমি করতে পারব না। আমি HIV-positive। একটা HIV-positive মেয়েকে তুমি বিয়ে করবে বলো?

# # # # #

সকাল থেকে জানালার পাশে দাড়িয়ে আকাশ দেখছি। মেঘলা আকাশ। মনটা ভারী হয়ে আছে আকাশের মতো। জানালার ফাঁক দিয়ে থিরথির বাতাস এসে গায়ে লাগছে। আজ আমাদের বৃষ্টি বার্ষিকী। বৃষ্টি চাই ঝুম বৃষ্টি।
আমি বৃষ্টি দেখেছি, বৃষ্টির ছবি এঁকেছি। অন্জনের গানে গানে বৃষ্টিকে ডাকছি।
প্রতিক্ষিত বৃষ্টি এলো, আকাশ ভেঙ্গে। ঝম ঝম ঝরছে। গলে যাওয়া মেঘের সাথে মিশে স্মৃতিরা যেন ঝাঁপিয়ে পড়ছে আজ। ভালোবাসার অপরাধে আজ আমি বৃষ্টিবন্দি। বৃষ্টির মাতম যদি বৃষ্টিমেয়ের হদিস দেয় এই আশায় বৃষ্টিতে ঝাপিয়ে পড়ি। দমকা বাতাসে আমার সব কথা নিভিয়ে দিয়ে গেলো নিমিষেই! এখন কিচ্ছু করার নেই, চুপচাপ বৃষ্টিতে ভিজছি। তার ঝরে পরা অনুভব করছি, সে; যে বৃষ্টি হতে চেয়েছিল!


এই সামান্য লেখাটি আমার অসম্ভব প্রিয় এবং অসাধারণ একজন মানুষ 'আবদুর রাজ্জাক শিপন' ভাইকে উৎসর্গ করছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29245286 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29245286 2010-09-26 00:33:29
আমায় একটু একা থাকতে দাও!
ঘুরাঘুরি আমার খুব প্রিয়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুরে বাংলাদেশটাকে, দেশের মানুষগুলোকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল আমার। কোথাও ঘুরতে গেলে বাবার জবাবদিহীতা এড়াতে দিনে গিয়ে দিনে বাসায় ফিরতে হতো। জবাবদিহীতা আমার কখনো সহ্য হতো না, এখনো না। শিকল দিয়ে কাউকেই বেঁধে রাখা হয় না। তারপরেও সব মানুষই কোন-না-কোনো সময় অনুভব করে তার হাতে-পায়ে কঠিন শিকল। শিকল ভাঙতে গিয়ে সংসার বিরাগী গভীর রাতে গৃহত্যাগ করে। ভাবে, মুক্তি পাওয়া গেল। দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে গৃহী মানুষ লাফিয়ে পড়ে ফুটপাতে। এরা ক্ষণিকের জন্য শিকল ভাঙার তৃপ্তি পায়। আমি গৃহত্যাগ করেছি সেই কবে, দীর্ঘ আট বছর। শিকল থেকে মুক্ত হতে পেরেছি কই! ব্যস্ততা আমার পিছু ছাড়ছে না।

নওরিনের সাথে কথা বলি না প্রায় দুই মাস হয়ে গেলো।ওর কথা বলতে ইচ্ছে করে কিনা জানি না। আমি মাঝে মাঝে পুরনো অভ্যেসবশত ফোনটা তুলে পরিচিত নাম্বারটাতে ডায়াল করে ফেলি, আবার লাইন কেটে দিই। মনে মনে বলি নো ইমোশনস, 'আই হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল অনলি টু বি কাইন্ড'! ওকে সাফ সাফ বলে দিয়েছিলাম সারাক্ষণ তোমার প্যানপ্যানানি ভালো লাগে না, তুমি অন্য কোন সুপুরুষকে খুঁজে নাও, আমাকে একা করে দাও! ব্যস, এইটুকুই সব শেষ। আমার এমন আচরণ খুবই অস্বাভাবিক লাগছে? লাগুক অস্বাভাবিক। মানুষকে সবসময় স্বাভাবিক লাগবে এটা কোন কাজের কথা না। প্রাণী হিসেবে মানুষ চরম অস্বাভাবিক। সে স্বাভাবিকের ভঙ্গি করে পৃথিবীতে বাস করে।

আমেরিকাতে 'Hobo' সম্প্রদায় বলে একটা গোষ্ঠি আছে। এরা ইচ্ছে করে সব ঠিকানা নষ্ট করে ঠিকানাবিহীন মানুষে পরিণত হয়েছে। এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঠিকানাবিহীন থাকার আলাদা মজা আছে। ঠিকানাবিহীন হতে পারব না জানি! অন্তত কিছুদিনের জন্য আমি একা হতে চাই, খুব একা! কিন্তু কিভাবে? এই শহরটাতে আমার অনেক বন্ধু হয়ে গেছে। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যেখানেই যাই প্রায়ই কোন-না-কোন পরিচিত মুখ সামনে পড়ে যায়। চারপাশে এতো চেনা মুখ দেখতে ইদানিং কেন জানি ভালো লাগছে না! অন্জন দত্তের একটা গান খুব শুনছি। ক্লান্ত আমি, শ্রান্ত আমি, আমায় একটু একা থাকতে দাও! বেশ কিছুদিন ধরে চেনা শহরের বাইরে কোথাও চলে যাবার চিন্তা করছি। সাত পাঁচ ভেবে যাওয়া হচ্ছে না। একাকীত্বের স্বাদ নিতে, বাসা বদলে বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক দুরে চলে যেতে খুব চেয়েছি, পারলাম কই! সাময়িক হলেও ইমোশনের কাছে হার মানতে হলো।

ইদানিং আমার কি হয়েছে আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। কিচ্ছু ভাল লাগে না। বন্ধুরা বলে বিয়ে করে ফেল, তাইলে এই অসুখ সেরে যাবে। অসহ্য! এইজন্যই চাচ্ছি দূরে কোথাও চলে যেতে। দেশে গিয়ে কোনরকম পালিয়ে এসেছি। মা আমার বিয়ে বিয়ে করে মাথা ঝালাপালা করে ফেলছে। মাকে বলি এসব বিয়ে বন্ধনে জড়াতে পারব না। মন চায় না হৃদয় জড়াতে কারো চিরঋণে! মা অবশ্য রবীন্দ্রনাথ বুঝে না। রবীন্দ্রনাথের একটা লাইন মনে আছে? 'মন চায় হৃদয় জড়াতে কারো চিরঋণে' মাঝেখানে শুধু আমি একটা 'না' বসিয়ে দিয়েছি।

অনেকক্ষণ ধরে আকাশটাকে দেখছি। এই শহরে অনেক না থাকার মাঝে এই একটা জিনিস আছে। আকাশ দেখতে পারার পূর্ণ স্বাধীনতা! আমি নিশ্চিত বৃষ্টি আজ ঘন জাল ঝড়াবে এই শহরে। পুরো শহর জুড়ে চাদর টেনেছে মেঘেরা! তছনছ করে দেবে লুটতরাজের হল্লা তুলে। নিশ্চুপ এই রাতে, ছায়া ছায়া এই ঘরে, একা আমি জানালার এপাশে বসে ঝুম বৃষ্টির অপেক্ষা করছি। এইতো এলো বুঝি! সাঁই সাঁই বাতাসে ভেজা গন্ধ পাচ্ছি, উলঙ্গ গাছ নাইতে নামছে, সুখের বসনে। জানালার পর্দাগুলো পতপত করে উড়ছে। অবশেষে প্রতিক্ষিত বৃষ্টি এলো, আকাশ ভেঙ্গে। সমস্ত শহর যেন ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঝম ঝম ঝরছে। এ যেন আমি ঝরছি, নির্মমরুপে ঝরছে আমার নিঃসঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা!


'আই হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল অনলি টু বি কাইন্ড'> লাইনটি শেক্সপিয়রের।

ডিসক্লেইমার: এই শহরে ঝম ঝম বৃষ্টি হতে কখনো দেখিনি, শহর ভেসে যাবে তো দুরের কথা! এটা আমার কল্পনা মাত্র। একটা বইয়ে পড়েছি যেকোন ইচ্ছে নাকি কল্পনা শক্তি দিয়ে জয় করা স্বম্ভব। মাঝে মাঝে আমি চেষ্টা করি। কল্পনা দিয়ে নিজের মতো করে সবকিছু সাজিয়ে নিই, আবার ভাল না লাগলে ভেঙ্গেও দিই। আজ এই রাতে ঝম ঝম বৃষ্টি দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29224344 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29224344 2010-08-17 02:38:40
ছবি ব্লগ: সেন্ট মার্টিন! দেশে গিয়ে ফিরে এসেছি সেই কবে। কিছুটা ব্যস্ততা কিছুটা আলেসমির কারণে এতোদিন কোন পোষ্ট দেয়া হয় নি। এতোদিন পরে দেশভ্রমণের কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো।


যাত্রা শুরু!



অভিনব ফটোসেশন!<img src=" style="border:0;" />


ওপারে মায়ানমার!


ফেলে আসা!


দি এ্যলব্যাট্রস!<img src=" style="border:0;" />


নীরব দর্শক!


পথে পথে ক্লিক ক্লিক!






জীবিকার টানে!



নিঃসন্দেহে পৃথিবীর এক্সপেনসিভ রাইড! (পাঁচ মিনিটে তিনশো টাকা<img src=" style="border:0;" />)


দারুচিনি দ্বীপ!


চড়ুইভাতি খেলার কথা মনে আছে?


দি ফ্লাইং ক্যাপ এন্ড সফি!


গ্যাংস অব চিটাগং!<img src=" style="border:0;" />


সানশাইন টাইম!


মাত্র সতেরো টাকায় ডাব! <img src=" style="border:0;" />


মনে পড়ে সেই দিনের কথা, তুমি আমি নদী তীরে.....!<img src=" style="border:0;" />


রক্তাক্ত বিদায়ী সুর্য্য!

যারা কক্সবাজারের পোষ্ট দেখতে চান, এখানে ক্লিক করুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29217486 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29217486 2010-08-08 06:09:04
ছবি ব্লগ: কক্সবাজার পর্ব! " style="border:0;" />


''ডুবি ডুবি সূর্য''


''শুন্যতা''


'এবং আরেকটি উইকেটের পতন!'


সফি'র অনবদ্য হাফ সেন্চুরিতে আমরা জিতেছিলাম!<img src=" style="border:0;" />


''ক্যাচ ইট!''


'ইনানি বিচ রিসোর্ট' (যেখানে উঠেছিলাম)


'আহা! অবসর।'






ইনানি বিচের ছবি।




'থ্রি ইডিয়টস!'<img src=" style="border:0;" />


'কাস্ট ইউর ভোট ফর কক্সবাজার!<img src=" style="border:0;" />

আরো ছবি আসছে<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29212888 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29212888 2010-08-01 20:23:40
মানবিক আবেদন আমরা সবাই বড় বড় সপ্ন দেখি, মানুষের জন্য এটা করবো ওটা করবো। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের এসব করা হয়ে উঠে না। কোন কমপ্রমাইজ ছাড়াই এমন অনেক ছোট কিছু আমরা করতে পারি যা হয়তো আমরা সবসময় ইগনোর করে যায়। আজকে সকালের খবরে শীতে মানুষের কষ্ট দেখার পর থেকে খুব খারাপ লাগছে। আমরা কি এসব মানুষদের জন্য কিছু করতে পারি না? পরশু দেশে আসছি। আসুন না সবাই মিলে কিছু একটা করি প্লিজ। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29073464 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29073464 2010-01-07 04:47:05 আ্যই এ্যম কামিং হোম 'মামা আ্যই এ্যম কামিং হোম' গানটা যখনই শুনি আমার মা'র কথা মনে পড়ে। জিয়া ইন্টারন্যাশনালে শেষ কবে দেশত্যাগের সিলটা পড়েছিলো মনে পরে না। পাসপোর্টের পাতা উল্টিয়ে দেখি ২০০৫ এর ১২ই আগস্ট; দীর্ঘ চার বছর পাঁচ মাস। সামনের সপ্তাহে(বৃহস্পতিবার) দেশে যাচ্ছি। কঊন্ট ডাউন শুরু করেছি প্রায় দুমাস আগে থেকেই। 'সময় যেন কাটেনা' গানটার মতো কিছুতেই সময় কাটছে না। একেকটা দিন মনে হচ্ছে একেকটা বছর। থার্টফাস্ট সেলিব্রেট করি না করি অন্তত বন্ধুদের সাথে মিলে চিল্লাফাল্লা করি, এবারের থার্টফাস্টে ঘরে একা বসে ছিলাম। বন্ধুদের অনেক জোরাজুরিতেও বাসা থেকে বের হইনি। লাল সবুজের বাংলাদেশ'কে ইদানিং অনেক মিস করছি।

বন্ধুদের অনেকে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে কাজ করছে। পিচ্চিরা আর পিচ্চি নেই, বড় হয়ে গেছে। শুধু আমার স্মৃতিগুলো যেমন ছিলো তেমনই আছে। আমাদের নিজেদের বয়স বাড়লেও স্মৃতিরা কোনকালেই বুড়ো হয় না। এভারগ্রীন।

(অনেকদিন কিছু লিখি না, আজকাল কেন জানি লিখতে ইচ্ছে করে না। ব্লগের অনেক পরিচিত নাম দেখিনা বলেই বোধহয় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। যাইহোক, দেশে যাচ্ছি সেটা আপনাদের না জানিয়ে চুপচাপ থাকি কেমনে?<img src=" style="border:0;" />
আশা করি অনেকের সাথে দেখা হবে।)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29070800 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29070800 2010-01-03 07:23:37
মুঠোফোনের ফ্রেমে পুরনো বন্ধুরা!!

একটা সময় ছিলো বন্ধুদের খুব খবরাখবর নেওয়া হতো, সপ্তাহখানেক উধাও হয়ে গেলে ওরা অভিমান করতো। ইদানিং মাস দুমাস উধাও হয়ে গেলেও ওরা অভিমান করে না। সবাই সবার জীবন গোছাতেই ব্যস্ত কিনা, কারো কোন অভিযোগ নেই। তারপরও হঠাৎ হঠাৎ থমকে যাওয়া সময়ে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাতে বন্ধুদের সাথে স্কুল-কলেজের সেসব কথা মনে পড়ে যায়, ঠিক তখনি মনে হয়; না, এখনো রোবোট হয়ে যায় নি, অনুভূতির কিছুটা হলেও বাকি আছে।
রাতে পড়ার পাঠ চুকিয়ে বিছানায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিয়ে অনেকক্ষণ এপিঠ ওপিঠ গড়াগড়ি করলাম, ঘুম আসছিলো না। ফোন দিলাম তানিয়াকে, কলেজে থাকতে যার সাথে আমি বোধহয় হাতেগোণা দুএকবার কথা বলেছিলাম। কলেজ পেরিয়ে কেন জানি সবাই আপন হয়ে যায়, এমনকি যার নামটা পর্যন্ত কোনদিন জানা হয় নি, হঠাৎ কোথাও দেখা হয়ে গেলে মনে হয় তাকে আমি অনেকদিনধরে চিনি।
তানিয়ার সাথে শেষ কথা হয়েছিলো মাসখানেক আগে বোধহয়। ফোন দিতেই, কিরে দোস্ত তুই তো একদম উধাও হয়ে গেছিস, খবর কি তোর?
এইতো দোস্ত, ক্লাস- কাজ সব কিছু নিয়ে দৌড়ের উপর যতটুকু ভালো থাকা যায়, আছি। তোর খবর কি? সুজন আরাফাত কারো সাথে কথা হয়?
ওর 'না' বোধক উত্তর শুনে আমি অবাক হই না, ঐ যে বললাম সবাই ব্যস্ত!
আচ্ছা, তুই সুজনকে কল দে, কনফারেন্সে কথা বলি।
দোস্ত এটা কিভাবে করতে হয় আমি তো জানি না।
আচ্ছা, তুই ওয়েট কর্‌, আমি সুজনকে ফোন দিয়ে দেখি!
সুজনকে ফোনে পেতে বেশ সময় লাগলো দেখে আমি জিগেস করি; ওই শালা কল রিসিভ করতেছস না ক্যান? তুই এতোক্ষণ ঘুমাচ্ছিস ব্যবসা তো লাটে উঠবে! আমার আর ওর বাবা দুজনই ব্যবসায়ি, দুজনের মধ্যে দারুণ একটা মিল ও আছে। আমরা দুজন এসব নিয়ে অনেক হাসাহাসি করতাম<img src=" style="border:0;" />। ইন্টার পাস করে আমি যখন বিদেশে পাড়ি দিবো, তার ও আসার কথা ছিলো, সে আমার মতো ওর বাবার সাথে অভিমান করে নি। বন্ধুর সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিলো, বাবার ব্যবসায়ের হাল ধরে এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ি সে, আমার মতো হিসেব মেলাতে ব্যস্ত হতে হচ্ছে না।<img src=" style="border:0;" />

তো ওকে বলি; দোস্ত তানিয়া, আরাফাত, দেলোয়ার সবাইরে কল দে, কনফারেন্সে কথা বলি।
আচ্ছা, ওয়েট কর্‌।
একটু পরে তানিয়ার কথা শুনতে পাচ্ছি। ওদের দুজনের পরস্পরের কথা শুনে বুঝতে পেলাম দুজনের মধ্যে অনেকদিন কথা হয় না।
সুজন জিগেস করে; তানিয়া তুই কই রে?
দোস্ত, আমি তো সিলেটে।
কবে গেছিস?
বেশ কিছুদিন ধরেই তো আছি, একটা প্রাইভেট ইউনিতে মাষ্টারি করি।
আমি চান্স পেয়ে বলি; তোরা একই দেশে থাকস অথচ খবরাখবর রাখস না, আমি পরবাসি তোদের খবর নিচ্ছি।(চামে<img src=" style="border:0;" />)
তানিয়া বলে; সুজন দেখছিস ইমন কতো ভালো দোস্ত। (সেটা আমি সবসময়ই ছিলাম...<img src=" style="border:0;" />)
হঠাৎ দেখি সুজন উধাও, তানিয়া আর আমি চিল্লাই, ওরে সুজইন্যা তুই কই?
তানিয়া বলে; দোস্ত ওর বউ বোধহয় ক্ষেপছে!
আরে, আমি তো ভুলেই গেছি ঐ ব্যাটা আর জীবিত নাই।<img src=" style="border:0;" />
হ্যালো হ্যালো বলে আরেকজন হাজির। সাকি।
তানিয়া বলে ; সাকি তুই? কি খবর তোর?
এইতো ভালো তোর খবর কি?
আচ্ছা লাইনে আরেকজন আছে, কে বলতো!
কে? আরাফাত?
আরে না, বিদেশি মানুষ।
ও ইমন?
হুমম।
তানিয়া বলে; ইমইন্যা তুই কথা কস না ক্যান?
হ্যালো, সাকি কেমন আছিস?
ভালো। তোর খবর কি?
এদিকে সুজন আবার উধাও!
সে খবর দেয়; দেলোয়ার, আরাফাত ঘুমাচ্ছে দোস্তরা।
সে কল করেই যাচ্ছে....দেখা যাক সফল হয় কিনা!
এইতো, দেলোয়ারকে পাওয়া গেলো।
তারপর নিলা....
আমি জিগেস করি; কোন নিলারে দোস্ত?
সুজন বলে; সায়েন্সের নিলা।
ওহ...

অনেকদিন পরে একসাথে হলে যা হয় আর কি! খানিকের জন্য ক্যান্ট পাবলিক কলেজের সেসব দিনে ফিরে গেলাম। মুঠোফোনে কথা বলছি মনেই হচ্ছে না, এতো ব্যস্ততার মধ্যেও একসাথে কথা বলতে পেরে কতো লাইভলি সবাই। ইশ! সময়টাকে যদি আটকে দিতে পারতাম। বার্গম্যানের একটা কথা আছে, 'হ্যাপিনেস ইজ গুড হেলথ এন্ড এ ব্যাড মেমোরি'
ঠিক! আজকের কনফারেন্স বাতচিত সামনের কিছুদিন ব্যাড মেমোরি হয়েই থাকবে!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29031469 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29031469 2009-10-25 08:20:14
আই এ্যম ইন লাভ এগেইন!<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> .
প্রেমে পড়েছিলাম সেই কবে! তারপর মাঝখানে অনেকদিন পেরিয়ে গেলো। ভেবেছিলাম এই বয়সে আর প্রেমে ট্রেমে পড়বো না। কিন্তু প্রেমে পড়ার কি কোন বয়েস আছে? হায়! ছাব্বিশে এসে আমি আবার প্রেমে পড়ে গেলাম! কাহিনী কি? সেটাই বলতেই তো এই পোষ্টের অবতারণা।
তো কিভাবে শুরু বলি।
.
.
.

বেশ কিছুদিন পূর্বে একটা পত্রিকায় মেয়েটার ছবি। মাশাল্লাহ সো সুইট এন্ড কিউট।<img src=" style="border:0;" /> কাহিনী পড়ে জানতে পারি মেয়ে গান করে। বাসায় এসে খুব আগ্রহ নিয়ে ইউটিউবে সার্চ দিলাম। অনেকগুলো গানের ভিডিও পেলাম। 'লাভ স্টোরি' গানটাতে ক্লিক করি। একি! এতো সুইট ভয়েস আমার জীবনে খুব কমই শুনেছি। শুরুটা বলতে পারেন ওভাবেই।

তো একেকটা গান শুনছি আর উইকি তে মেয়ের খোঁজ খবর নিচ্ছি। এটা আমার পুরনো অভ্যাস। কোন নতুন গান কিংবা নতুন কোন আর্টিস্টের নাম শুনলে উইকি ঘুরে আসি।

উইকিতে গিয়ে তো আমি শেষ। একি দেখছি। এই মেয়ে চারিদিকে এতো রেকর্ড করে ফেললো অথচ আমি গানের পোকা নাকি জানি না। খুব খারাপ।

উনিশ বছর বয়সি এই তরুণীর গান শুধু 'ইউএস টপ চার্টে' উঠে আসে নি, এমন কিছু রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে যা রীতিমতো ঈর্ষনীয়।

তারপর mp3raid.com এ গিয়ে মেয়ের নাম লিখে সার্চ দিলাম। আরেব্বাস! গানে গানে ভরপুর। একেকটাতে ক্লিক করি আর ডাউনলোড মারতে থাকি। এক থেকে দুই সেকেন্ডে একেকটা গান ডাউনলোড হচ্ছে।(খোদার কসম বিন্দুমাত্র মিথ্যা বলছি না) আহ! প্রথম বিশ্বের ব্রডব্যান্ড, আই লাভ ইউ সো মাচ!

পরের কাজ হলো ডাউনলোড করা গানগুলো আইফোনে ট্রান্সফার করা। ইদানিং অন্য কোন গান শুনছি না। শুধু আমার প্রেমিকার গান শুনছি।

তো আমার নতুন প্রেমিকার নাম হচ্ছে 'টেইলর সুইফট'।<img src=" style="border:0;" />


এর আগে কানাডিয়ান রকস্টার এভরিল লাভি'র প্রেমে পড়েছিলাম। কিন্তু প্রথম এ্যলবামের পরের গানগুলো এই প্রেমিককে হতাশ করেছিলো।<img src=" style="border:0;" />

ডিসেম্বরে দেশে যাবো। বাবা মার পছন্দে কেউ একজনের সাথে শহীদ হয়ে যাবার চান্স খুব বেশি। কিন্তু আমার ভালবাসার কি হবে? সুদূর আমেরিকাতে আমি কিভাবে ভালাবাসার খবর পৌছে দিই?<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />


লাভ স্টোরি গানটা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29012852 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29012852 2009-09-19 05:30:53
আমার দল বার্সা নামতেছে দোয়া রাইখেন।<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /><img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" /> আজকে বার্সা চ্যম্পিয়নস লীগের মিশন শুরু করতেছে। দোয়া রাইখেন। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29011827 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29011827 2009-09-17 01:44:36
সড়ক দুর্ঘটনায় রুবেল শাহ মারাত্বকভাবে আহত! 'রুবেল শাহ' র ব্লগে গিয়ে দেখি অভিমানি পোষ্ট; বিদায় বন্ধুরা! কেউ বিদায় বললে শুনতে কেন জানি আমার ভালো লাগে না। যাইহোক সে ব্লগের নিয়মিত কাহিনী। তারপরও ভাবলাম কি না কি হয়েছে ওর! ফোন করে জানতে পারি আজকে সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে, পায়ে অনেকগুলো সেলাই হয়েছে, মাথায় ও নাকি প্রচন্ড লেগেছে! বেশিক্ষণ কথা বলতে পারিনি।
সবাই বন্ধুটার জন্য দোয়া করবেন প্লিজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29002247 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29002247 2009-08-31 07:18:29
মানুষ আসলেই একা! 'একলা চলতে হয়' গানটা কলেজে থাকতে খুব শুনতাম। বাবার বানানো বাড়িতে একা রাতে ব্যালকনিতে বসে কতো সময় কাটিয়েছি তার কোন হিসেব নেই, নিয়ন আলোতে বসে হিমু টাইপ ভাব নিয়ে স্লো ভলিউমে নচিকেতা শুনতাম। মাঝে মাঝে অবশ্যি মা এসে হিমুকে তাড়াতেই কিনা 'ঘুমাইতে যা' বলে ধমক দিয়ে যেতো।

একলা মানুষ মাতৃগর্ভে, একলা মানুষ চিতায়, একলা পুরুষ কর্তব্যে, একলা মানুষ পিতাই, মধ্যিখানের বাকি সময় একলা না থাকার অভিনয়'। নচিকেতার সেই গানের কথা। একলা না থাকার অভিনয় করতে গিয়ে বেশ কিছু বছর আগে সময়ের মারপ্যাচে ফেঁসে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে পুরনো কাহিনী মনে করে মন খারাপ করছি কেন? না ঘটনা মোটেও মন খারাপের না। ওই সময়ের পরিচিত নাম্বার থেকে আজ একটা 'ম্যাসেজ' পেলাম; 'কেমন আছিস, তোর কি একবারও ফোন দিতে ইচ্ছে করে না?' একবার ভাবলাম রিপ্লাই দিই, পরে কেন জানি ইচ্ছে হলো না। একটা সময় আমার জন্য ওর সময় ছিলো না, এখন আমার সময় নেই, ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু পাঁচ বছর পূর্বের কাহিনী ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্যের জন্য নিজেকে এতো তুচ্ছ ভেবেছি এখন নিজের প্রতি মায়া হয়!
সুনীলের 'নিজের আড়ালে' কবিতাটি তখন পড়লে বোধহয় ভালো হতো;
'সুন্দর লুকিয়ে থাকে মানুষের নিজেরই আড়ালে, মানুষ দেখে না, সে খোঁজে ভ্রমর কিংবা দিগন্তের মেঘের সংসার, আবার বিরক্ত হয়, কতকাল দেখে না আকাশ, কতকাল নদী, আর রমনীর কাছে গিয়ে বারবার হয়েছে কাঙাল'
'রমনীর কাছে গিয়ে বারবার হয়েছে কাঙাল' শুধুমাত্র এই লাইনটির কারণে আমার এক বন্ধুর যে কিনা কবিতা পড়ে না, কবিতাটি খুব পছন্দ হয়! বেচারা! দুবছর আগে যে কিনা তার প্রেমিকা আরেকজনের সাথে একই ছাদের নিচে বসবাস করছে শুনে বিশ্বাসই করতো না, বলে ইম্পসিবল, তোরা মিথ্যা বলতেছিস। মমিনদের বোধহয়এমনই হয়!

মানুষ বোধহয় আসলেই একা! নাইলে এতোদিন পরে কেন সেই মানবী ফিরে আসতে চাইবে? বেশ কিছুদিন ধরে যোগাযোগ করতে চাচ্ছে, আমিই পথটা বন্ধ রেখেছি, 'নো ইউটার্ন'। আমার এমন পরিবর্তন দেখে মাঝে মাঝে নিজেই অবাক হই। পেছনের সময়গুলোতে ফিরে গেলে শুধু ওকেই দেখতে পাই! সেসব ঘুমহীন রাতে জগজিৎ সিংয়ের সব গজলই মুখস্ত হয়ে গিয়েছিলো। ড্রয়ারে এতো ফোনকার্ড ছিল, কেউ দেখলে জিগেস করতো আমি ফোনকার্ডের ব্যবসা করি কিনা! ওকে এতো বেশি ফোন করতাম দেখে বিরক্ত হতো, মাঝে মাঝে পাত্তাই দিতো না। এখন তবে কেন এই ফিরে আসা? মানুষ কি তাহলে সত্যিই একা?
জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। সে তার আপন গতিতে চলে যাচ্ছে। আমার সময় ও ভালো মন্দে চলে গেছে, চলে যাচ্ছে। শুধু সময়ের সাথে আমরা পরিবর্তন হচ্ছি এই যা!

ঠিক ওই সময়টাতে এক পারস্য রমনীকে চিনতাম, যাকে শুধু সুন্দরী বললে কম বলা হবে। অসম্ভব ধরণের ভালো মেয়ে ছিলো সে। এক বাঙালির মন পাবার আশায় কতো চেষ্টাই না করলো, বাংলা কোর্সে ভর্তি হয়ে টুকটাক বাংলা পর্যন্ত শিখেছিল। ইন্টারনেট ঘেঁটে বাংলা গান শুনা থেকে শুরু করে বাঙালি কালচার সব তার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। এই মেয়ে একবার আমাকে বলে, 'জাস্ট মেরি মি, আই এ্যম রেডি টু গো হোয়্যারএভার ইউ টেক মি'। আমি পাত্তা দিতাম না।

এখন মাঝে মাঝে ওকে মিস করি। ভাবি একটা মেইল দিই, সে তো রিপ্লাই দিবেই! আবার চিন্তা করি সে ও যদি আমার মতো করে ভাবে 'নো ইউটার্ন'!

পেন্সিলের 'বোহমিয়ান জীবনের একটা রাত' লেখাটি পড়ে লিখতে ইচ্ছে হলো।
নচিকেতার একলা চলতে হয় এখানে শুনতে পারবেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29000869 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/29000869 2009-08-28 11:13:09
লাইফ ইজ বিউটিফুল!
গত সোমবার পরীক্ষার রেজাল্ট পেলাম। রেজাল্টের আগেরদিন একটু নার্ভাসনেস কাজ করছিল। ওই সময়টায় কিছু ভালো লাগে না। সকাল পাঁচটার দিকে 'পাস' কিংবা 'ফেল' নিয়ে একটা মেইল আসবে সেটা ভেবে আমরা যারা পরীক্ষা দিয়েছি সবার বুকের ভিতরে দামামা বাজতে থাকে! অনেক চেষ্টা করেও এটা থেকে বের হতে পারি না।

রাত দুটোর দিকে ঘুমুতে যাবার আগে ঘড়িতে পাঁচটায় এ্যলার্ম দিয়ে রাখি। এ্যলার্ম বেজে উঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে হটমেইল এ্যকাউন্ট এ লগইন করে দেখি কোন মেইল আসেনি! রিফ্রেশ করেও যখন কনফার্ম হলাম মেইল আসেনি, ভাবলাম আরো কিছুক্ষণ ঘুম দেই। ছয়টার দিকে উঠে লগইন করলাম। কাঙ্খিত মেইল দেখে চেষ্টা করেও হার্টবিট স্বাভাবিক রাখতে পারছিলাম না। অবশেষে মেইল খুলে দেখি বড়ো বড়ো অক্ষরে 'পাস' লেখা, পাশে নাম্বারটা ও লেখা থাকে। আমাদের কোর্সটা এমনই যে পাস'টাই মুখ্য একশোতে একশো পেলেও যা, পাসমার্ক পন্চাশ পেলেও একই। ইউনিভার্সিটির মতো কে কতো নাম্বার পেয়েছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না, পাসের হার এতো বেশি কম (৩০%, থেকে ৪৮% মতো) পাস করতে পেরেছে কিনা সেটাই বড় কথা!

যাইহোক, এটা লেখার মতো তেমন আহামরি কিছু না। তারপর ও কেন লিখছি সেটার কারণ তো আছেই। আমি খুবই আশাবাদী মানুষ। কোনদিন মন খারাপ ছিল না তা কিন্তু না। আশাবাদী হয়ে ও মাঝে মাঝে যে হতাশা উঁকি দিয়ে যায় সেটা অস্বীকার করি কিভাবে?

গত কিছুদিন আমার মন মেজাজ খুব ভালো। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরাঘুরি, শপিং, রেজাল্ট সব মিলিয়ে মনটা ভীষণ ভালো। গত সেমিষ্টার শুরু হওয়ার আগে আমার অর্থনৈতিক অবস্থা এতো বাজে ছিল বলার মতো না। কিন্তু আমি বরাবরের মতো হাল ছেড়ে দেয়নি। পুরোটা সেমিস্টার আমাকে চার থেকে পাঁচদিন কাজ করতে হয়েছিল। ফুলটাইম কাজ করে ফুলটাইম পড়ালেখা করা কতটুকু কষ্টকর সেটা নিজে ভুক্তভোগি না হলে বলে বোঝানা যাবেনা। তাছাড়া বিদেশে থাকার ঝামেলা হিসেবে আরো কতো হাবিজাবি কাজ যে করতে হয় সেটার হিসেব নাই। এতোকিছুর পর ও আমি হতাশ হয় নি। 'লিটল মিস সানশাইন' ছবির শেষের দিকে দারুণ কিছু কথা বলে। পুরোপুরি মনে নেই, অনেকটা এরকম; প্রত্যেক মানুষকেই কখনো না কখনো মানসিক চাপে পুড়তে হয়, জীবনের সাথে লড়াই্য়ে টিকে থাকতে সবাইকে যুদ্ধে শামিল হতে হয়, এসবের পরে একদিন ঠিকই সে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছায়। তবে, মজার ব্যাপার হচ্ছে মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা হচ্ছে সে সময়টাই যখন সে প্রচন্ড কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়। কারণ, ওই সময়টাতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে মূল্যবান শিক্ষা লাভ করি, সবচে বেশি জীবনকে উপলব্দি করতে শিখি, বেঁচে থাকাটা যে কতো সুন্দর সেটা বুঝতে শিখি।

আমার সুপার পসিটিভ মনোভাবের জন্য আমাকে অনেকে মিষ্টার পসিটিভ বলে ডাকে! ফারহান দাউদ এর একটি পোষ্টে কমেন্ট রেখেছিলাম, জবাবে সে বলেছিল; 'আপনে মিয়া সুপার পজিটিভ, বাড়ির উঠানে বোমা পড়লেও কইবেন যাক বিনা পয়সায় পুকুর কাটা হয়া গেল।' ঠিকই বলেছে ফারহান।
আমি নিজে আশাবাদী বলেই হয়তো আশাবাদী মানুষদের খুবই পছন্দ করি। ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবাল যে কারণে আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো স্বপ্ন দেখানোর মানুষের দরকার আছে। কেন? আমাদের দেশে নেতিবাচক কথাবলার মানুষের অভাব নেই, আপনি যেকোন কিছুই করতে যান; কেউ না কেউ এসে আপনাকে আটকে দিতে চাইবে। আমাকে আরেকজন মানুষ খুব স্বপ্ন দেখান। স্যার রিচার্ড ব্রানসন(ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ); যাকে আমি গুরু মানি। এই মানুষটার মধ্যে স্পেশাল কিছু আছে। ওনার লেখা বইগুলো বিভিন্নদেশে কেন এতো জনপ্রিয় সেটা নিজে পড়ে বুঝতে পেরেছি। উনাকে দেখে আমার মতো অনেকেই উৎসাহিত হয়েছে। বিশ্বাস করুন উনার লেখা 'Screw it, let's do it' বইটা পড়ে আমি এতোটাই অনুপ্রাণিত হয়েছি, আমার কাছে অসম্ভব বলে কোন কিছু মনে হয় না। আমি জীবনকে নতুন করে দেখতে শুরু করেছি। আমার এখনকার এই ভালো থাকার পেছনে এই মানুষটার অবদান সবচে বেশি(বইটাতে এমন কি আছে সেটা নিয়ে একটা পোষ্ট লেখার ইচ্ছে আছে)। ঠিক একইভাবে আমি বিশ্বাস করি ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা পড়ে আমাদের দেশের অনেক তরুণ অনুপ্রাণিত হবে।

কোল্ডপ্লে আমার অসম্ভব প্রিয় ব্যান্ড। ওদের একটি গান আছে 'লস্ট', মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে এই গানটি শুনে উৎসাহ খুঁজি। গানটির কথাগুলো খুবই সহজ কিন্তু জটিল, বিশ্বাস না হলে একবার শুনে দেখুন।



আমি কারো মন খারাপ দেখতে পারি না। হতাশা থেকে কাউকে উদ্বার করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি। ব্লগের ভাঙা চাঁদকে মনে আছে? এই ছেলেটার প্রতিটি লেখায় হাহাকার বিরাজ করতো। অনেকেই হয়তো ওর মানসিক কষ্টের কারণ বুঝতে পেরেছিলেন! আমি ওকে মেসেন্জারে এ্যড করেছিলাম, এরপর থেকে অনলাইনে দেখলে ওর সাথে কথা বলতাম। ছেলেটাকে কখনো হাসতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম পড়ালেখাটা যাতে ঠিকভাবে চালিয়ে যায়। তারপর একদিন হঠাৎ করে সে ব্লগ থেকে উধাও হয়ে গেছে, অনলাইনে ও ওকে আর দেখি না।
যতটুকু বুঝতে পেরেছি ছেলেটির কথা বলার মতো কোন বন্ধু নেই।

জীবনটা অনেক ছোট। অনেকের জন্য খুবই অল্প সময়, কারো কারো জন্য একটু বেশি এই যা! Behrangi নামের একজন ইরানী লেখক বলেছিলেন; 'Death could very easily come now, but I shouldnt be the one to seek it, if I should meet it and that is inevitable, it would not matter, what matter is whether my living or dying has had any effect on the lives of others' ঠিক। বেঁচে থাকার আনন্দটা উপভোগ করুন, অন্যকেও উপভোগ করতে সাহায্য করুন, মানুষের উপকার করুন। মানুষের উপকার করার মধ্যে আনন্দ আছে। সেটা অর্থনৈতিক ও হতে পারে আবার ভালো কোন উপদেশ দিয়েও হতে পারে! আমি চেষ্টা করি যতটুকু পারি মানুষের উপকার করতে। বেশ কিছুদিন পূর্বে দেশের একটি পরিবারকে সাহায্য করতে বন্ধুদের কাছে হাত পেতেছিলাম, দুএকজন বাদে কেউ তেমন একটা এগিয়ে আসেনি। পরে আমি একা যতটুকু পেরেছি চেষ্টা করেছি ; অথচ তখন আমি নিজেই অর্থনৈতিক চাপে ছিলাম। তবে, ম্যানেজ করতে পেরেছি। সে পরিবারটিতে এখন হাসিখুশি আছে, যেটা আমাকে খুব আনন্দ দেয়। ব্লগে মনজুরুল হক ভাইকে অনেক সম্মান করি এই একটি কারণে। প্রতু, জ্বিনের বাদশা, আব্দুর রাজ্জাক শিপন ভাই, একরামুল হক শিপন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এর বাইরে অনেকে আছেন যারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্যালুট আপনাদের।

ভোর হয়নি, আজ হলো না, কাল হবে কিনা তা ও জানা নেই, পরশু ভোর ঠিকই আসবে এই আশাবাদ তুমি ভুলো না। মাহমুদুজ্জামান বাবুর একটি গানের কথা। যারা জীবনকে নিয়ে হতাশ তাদেরকে বলছি জীবনকে তুচ্ছ ভাববেন না। সামনে দেখুন, চ্যালেন্জ মোকাবেলা করুন, ভোর ঠিকই আসবে। বেঁচে থাকার মধ্যে আনন্দ আছে, সেটা উপভোগ করুন।

(লেখাটি সম্পুর্ণ নিজের অভিগ্গতা থেকে। কারো প্রতি কোন উপদেশ নয়, অনুরোধ হিসেবে নিতে পারেন। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28998817 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28998817 2009-08-24 08:46:56
ঘুরাঘুরি @ আইল অফ ওয়াইট!
'আইল অফ ওয়াইট' (Isle of Wight): মেইনল্যান্ড থেকে পাঁচ থেকে আট কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত, মাত্র ২৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দ্বীপ। লন্ডন থেকে দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটারের মতো।

কথা না বাড়িয়ে ঘুরাঘুরিতে চলে আসি। আগেই বলেছি বন্ধু মুনতাকিম বেড়াতে লন্ডনে আসছে। তাই সব বন্ধুরা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম 'আইল অফ ওয়াইট' ঘুরতে যাবো, কিন্তু যাবার দিনক্ষণ কেউ মনস্থির করতে পারছিলাম না। বাড়তি তথ্যের জন্যে আবার ব্লগের দুরন্ত ভাইকে মেইল দিলাম, তিনি বেশ কিছু লিংক পাঠিয়েছিলেন। যদিও প্ল্যান করে আমাদের কোন কিছু করা হয়নি।

যাইহোক, শুক্রবারদিন সকালে 'আইল অফ ওয়াইট' রওয়ানা হবো বলে ঠিক করি। কথামতো আগের রাতে বার্মিংহ্যাম থেকে মাহিন এসে হাজির, আমি সফি, রাসেল তিনজনই কাজ থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছিলাম, হীরা সোয়াইন ফ্লু'র অজুহাত দিয়ে কাজ ফাঁকি দিয়ে যাবার জন্য রেডি, জর্জ রাসেল যাবার কথা থাকলেও শুক্রবার হওয়াতে সে কেন্ট থেকে আসতে পারেনি। রাকিবকে অনেক জোরাজুরি করার পরও রাজী করানো গেলো না।

সকাল সাত-আটটার মধ্যে আমাদের বের হয়ে যাবার কথা থাকলেও নয়টার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি তখনো সবাই ঘুমাচ্ছে। একজন একজন করে সবাইকে ডেকে তুললাম। আমরা ছয়জন যখন ব্যাক প্যাক করে বাসা থেকে বের হবার জন্য যখন প্রস্তুত, তুষার, আগেরদিন রাতে কোন কারণে বাসায় এসেছিল চোখ কচলাতে কচলাতে হঠাৎ বলে, 'দোস্ত তোরা যাচ্ছিস, আমারও তো যেতে ইচ্ছে করে!' তুষারের এমন কথা শুনে আমরা হাসব নাকি অবাক হবো বুঝতে পারছিলাম না! সবাই তাকে বললাম দৌড় দে, তাড়াতাড়ি রেডি হ। ওর কাজ ছিল বিধায় তাকেও কাজে সিক কল দিতে হলো, বেচারা!

তো বাসা থেকে বের হতেই এগারোটা। ওয়াটারলু স্টেশনে গিয়ে টিকেট করে যখন পোর্টসমাউথের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠি সময় তখন সাড়ে বারোটা।
হীরাকে সবসময় সফি কিছু না কিছু বলে চেতাতে থাকে। ট্রেনে উঠার সময় হীরা সফিকে বলে, ' সফি ভাই ঘুরতে যাচ্ছি, অন্তত এখন না পচাইলে হয় না!' কিছুক্ষণ পরে দেখি ওরা দুজন হ্যান্ডশেক করে, গোল্ডেন হ্যান্ডশেক বলা চলে!

পোলাপান এমনিতে সবসময় কে কারে পচাইতে পারে সে প্রতিযোগীতা চলে! ট্রেনে উঠে ও কারো রেহাই নাই। টার্গেটটা হীরার দিকে বেশি থাকে বলেই কিনা সে বলে, 'শালা আমি হইলাম মন্দিরের ঘন্টা, সবাই আইসা ডং,টং করে বাজায়ে যায়!' ওর ডায়ালগটা আমাদের ঘুরাঘুরির অংশ হয়ে যায় বটে। কেউ কাউকে কিছু বললেই পাশের জন টং করে উঠে, মানে মন্দিরের ঘন্টা বাজলো। একটু বেশি পচাইলে ডং, খুব বেশি হইলে ডং ডং করে পোলাপান বাজাইতেই থাকে! হা হা হা.....

যাইহোক, ঘুরাঘুরিতে ফিরে আসি। পোর্টসমাউথ হার্বার স্টেশনে পৌছাতে আমাদের প্রায় দুঘন্টার মতো লাগে। তারপর সেখান থেকে 'ফাস্টক্যাট' ফেরিতে করে বিশমিনিটে দ্বীপে পৌছালাম। ফেরি থেকে নেমে কোনদিকে যাবো বুঝতে পারছিলাম না, ততক্ষণে সবার হাতে ট্যুরিস্টদের মতোই ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুক। কোন হোটেল কিংবা গেস্ট হাউসে সাতজনের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। তো সবাই একেকটা হোটেলে ফোন করতে শুরু করি। কিন্তু একটাতে ও কোন ভ্যাকেন্সি নাই। এমনিতে এই সময়টাতে ওখানে ট্যুরিস্টদের ভিড় থাকে, তাছাড়া উইকএন্ডে 'কাউস ফেস্টিভ্যাল' নামে বোট রেসের একটা ফেস্টিভ্যাল আছে, যে কারণে নাকি প্রায় দশ হাজারের মতো বাড়তি ট্যুরিস্টের সমাগম হবে। সমস্যা তো বটেই! টেনশনে আমি বাদে সবাই তখন সিগারেট ফুঁকছে। আমি বললাম চল আগে তো টাউনে যাই, তারপর না হয় একেকটা হোটেলে গিয়ে কথা বলা যাবে! সেটা না হয় করাই যাবে কিন্তু তার আগে আমাদের ঠিক করতে হবে কোনদিকটায় যাবো। 'আইল অফ ওয়াইট' গাইডগুলোতে প্রধান এ্যট্রাকশনস এর ছবি, ম্যাপসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া ছিল, তো ওটা দেখে সবাই ঠিক করলাম 'স্যান্ডডাউন বিচে (স্যান্ডি বিচ) যাবো।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515738_8-Optimized[1].Emon_(9).JPG]
ফেরি থেকে নেমে।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515763_9-Optimized[1].Emon_(10).JPG]
মন্দিরের ঘন্টা হীরার সাথে। ব্রীজটা পার হলেই বড় টাউন 'রাইড'।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515632_5-Optimized[1].Emon_(4).jpg]

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515722_7-Optimized[1].Emon_(8).JPG]

'ফাস্টক্যাট' ফেরি।

রাইড, ফেরি থেকে নেমে যেখানটায় আমরা আটকে আছি সেখান থেকে বাসে করে সরাসরি বিচে যাওয়া যায়। পুরোদিনের ট্রাভেলকার্ড করতে খরচ পড়ে দশ পাউন্ডের মতো, যেখানে 'রাইড' থেকে বাস নিয়ে স্যান্ডডাউন যেতেই চার পাউন্ডের মতো লাগবে। সবাই ঠিক করি একদিনের ট্রাভেলকার্ডই করি ফেলি!
বাসে উঠার সময় ড্রাইভারকে সাতজনের টিকেট দিতে বললে সে আমাদের বাসে উঠতে বলে, ভাবলাম বাস ছাড়ার পরে হয়তো কেউ একজন এসে ভাড়া আদায় করবে! বাসে উঠেও কেউ টুকে নেওয়া হোটেলের নাম্বারে ফোন দিচ্ছে, আমি আইফোন থাকার সদ্ব্যবহার করতেই কিনা গুগলের সাহায্যে একেকটা হোটেলের নাম্বার নিয়ে ফোন দিচ্ছিলাম। কিন্তু একটাতে জায়গা পাচ্ছি না দেখে মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। মুনতাকিম বলে, আমরা হোটেল না পেলে রাতে লন্ডনে ফিরে যাবো, শুনে দু-একজনের মন খারাপ হয়ে গেলে আমি বলি আরে দূর, দরকার হলে এখানে ঝোপে জঙ্গলে একরাত পার করে দেবো। অনেক ইউরোপিয়ানদের ক্যাম্পিং করে ঝোপের আশে পাশে থাকতে দেখেছি। এটা কোন ব্যাপার না, ঘুরতে এসে না ঘুরে চলে যাবার পক্ষপাতি আমি নই।

ততক্ষণে আমরা গন্তব্যস্থল স্যান্ডডাউন এ পৌছে যাই। মজার ব্যাপার হলো ভাড়া নিতে কেউ আসেনি! আমাদেরও আর ভাড়া দেওয়া হলো না। পকেট থেকে সত্তর পাউন্ড কম খরচ হতে চাইলে ক্ষতি কি!

বাস থেকে নেমেই বিচ দেখতে পেলাম। আহ! সমুদ্র, কতদিন দেখি না। বিচ ঘেষে কক্সবাজারের মতোই অনেক হোটেল দেখে কাউন্টারে গিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে একটাতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা পেয়ে যায়, কিন্তু একরাতের জন্য যা গুণতে হবে সেটা শুনে একজন আরেকজনের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেও সিদ্ধান্ত তো নিতে হবে! আমি ওদের বলি চল, ওদিক থেকে ঘুরে আসি, এখানে তো জায়গা আছেই, আরেকটু কমে কোথাও পাওয়া না গেলে নাহয় এখানে উঠবো।

রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে দুএক জায়গায় ফোন দিয়ে দেখি ঘটনা একই। হাটতে হাটতে হঠাৎ ছোট্ট অক্ষরে সাইনবোর্ডে 'গেস্টহাউস' লেখা চোখে পড়ে। দরজায় নক করতেই সত্তরের মতো বয়সি এক চাচা (দাদা হবার চান্সই বেশি!) বের হয়ে আসে। যাইহোক, ঘটনা খুলে বললে চাচা আমাকে আগে রুম দেখে নিতে বলে। আমি দেখে অন্যদের দেখতে বলি। সবাই উঠার জন্য রাজী হই, রাসেল গিয়ে চাচাকে স্টুডেন্টের দোহাই দিয়ে তেইশ পাউন্ড থেকে বিশ পাউন্ডে রাজি করিয়ে ছাড়ে!


চাচার গেস্টহাউজ।

রাত্রিযাপনের বন্দোবস্ত হয়ে গেলে সবাই ব্যাগ প্যাক রেখে বিচে যেতে উদ্যত হই। অনেকদিন পরে সমুদ্রের দেখা পেলে যা হয়, দৌড় ঝাপ ইত্যাদি। স্যান্ডডাউন নামে পরিচিত এই বিচ আয়তনে আমাদের কক্সবাজারের চেয়ে অনেক ছোট।



এটাই স্যান্ডডাউন বিচ।



পেডেল চালিত বোট এবং কায়াক(kayak) দেখে কেউ কেউ দৌড়ে ওদিকে ছুটে যাই। শহরে চার দেয়ালের সীমানায় বড় হওয়া ছেলেমেয়েরা হঠাৎ গ্রামে গেলে যেমন ছুটোছুটি করে ঠিক আমরা ও বিচে গিয়ে যেনো প্রাণ ফিরে পেলাম। সবার আগ্রহে দুটো কায়াক এবং একটি পেডেল চালিত বোট ভাড়া নিয়েছি। সফি, মুনতাকিম, মাহিন পেডেলচালিত বোট দখলে নিয়ে নেয়। দুটো কায়াকের একটাতে রাসেল/ হীরা, অন্যটাতে আমার সাথে তুষার। তুষার সাতার পারে না দেখে আমি পড়ি মহা বিপদে! বৈঠা চালিয়ে একটু সামনে গেলেই তুষার পিছন থেকে চিল্লানো শুরু করে। দোস্ত আর যাইস না, আমি সাতার পারি না। আমি বলি তুই শালা সাতার পারস না তো কি হইছে, আমি তো আছি, চুপ থাক, শান্তি মতো কায়াক চালাইতে দে। ওইদিকে রাসেল/ হীরা আমাদের পিছনে ফেলে অনেক দুরে চলে যাচ্ছে। আমি ওদের তাড়া করতে সামনে বসে সমানে বৈঠা মেরে যাচ্ছি আর এদিকে পিছনে বসা চিকেন হার্টেড ব্যাটা হাত পা গুটিয়ে বলে যাইতেছে, দোস্ত এবার ঘুরা, আর যাইস না।


কায়াক চালাতে রেডি হচ্ছে সফি, মাহিন, রাসেল।


কায়াক।

শেষমেষ আমি তুষারকে বলি তুই হীরার সাথে যা, আমি রাসেল একটাতে উঠি। তারপর পার্টনার বদলিয়ে দু দলের মধ্যে একটা রেস ও দিয়েছিলাম, যেটাতে আমরা জয়ী হই, আমার সাথে তুষার থাকলে জীবনে জিততে পারতাম না। কায়াক চালিয়ে হাত পা ভালোই ব্যথা হয়ে গেছিলো। ততক্ষণে ভিজে সবার অবস্থা কাহিল, সন্ধ্যার দিকে হালকা বাতাসে ভেজা শরীরে ঠান্ডা পাচ্ছিলো দেখে একজন গেস্টহাউসে ফিরে যাবার কথা বলতেই সবাই রাজী হই। এই ট্রিপে একটা মজার ব্যাপার ছিল, কেউ কিছু বললেই সাথে সাথে অন্যরা বলে চল,চল; কোন বিরোধী দল ছিল না যে না বলবে!<img src=" style="border:0;" />


থ্রি ইডিয়টস।<img src=" style="border:0;" />

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515989_14-Optimized[1].Emon_(15).JPG]
মডেল হইতাম চাই।<img src=" style="border:0;" />

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249516036_15-Optimized[1].Emon_(16).JPG]
কফি খেতে খেতে বিচ উপভোগ করা।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249516182_16-Optimized[1].Emon_(17).JPG]
ফাজিল পোলাপান। যেখানেই যাই এটা একটা পোজ হয়ে গেছে। <img src=" style="border:0;" />

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515974_13-Optimized[1].Emon_(12).JPG]
ফ্যামিলি ফটুক।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515698_6-Optimized[1].Emon_(7).jpg]
ভাবুক মন। হি হি...

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/metalfreakblog_1249515615_4-Optimized[1].Emon_(3).jpg]
ক্লিক ক্লিক, ক্যামেরার ঝলকানি!

তো গেস্টহাউসে ফিরে সবাই কাপড়চোপড় চেন্জ করে ইংলিশদের ট্রাডিশনাল 'ফিশ এন্ড চিপস' খেতে বেরোয়। বিচ থেকে দুরে একটা শাদা পাহাড় দেখেছিলাম, খাওয়া সেরে বিচের পাড় ঘেষে সবাই হাটতে হাটতে ওদিকে যাই। 'আইল অফ ওয়াইট' এ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। আরেকটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করলাম; আমাদের বয়সি ছেলেমেয়ে খুব একটা চোখে পড়ে না।

( লিখতে বসলে আমি কেন জানি অল্প লিখতে পারি না। একদিনের কাহিনী লিখেই দেখি অনেক বড় হয়ে গেছে, লেখার পরে মুছে দিতে ও মায়া লাগে, তাই ভাবলাম দুপর্বে পোষ্টাবো।<img src=" style="border:0;" />)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28994643 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28994643 2009-08-16 09:41:59
ঘুরে এলাম 'মাদাম তুসো'

গত কিছুদিন আমি খুব সুখে আছি। কাজ থেকে ছুটি, ইচ্ছে মতো ঘুরছি ফিরছি, শপিং করছি। আগেই বলেছি ছুটি কাটাতে এসেছে আমার এক বন্ধু। অনেক ঘুরাঘুরি করছি। আজ ঘুরতে গিয়েছিলাম 'মাদাম তুসো'তে। এর আগে কোনদিন না যাওয়াতে কৌতুহলটা একটু বেশিই ছিল। এতো মানুষের ভিড়, লাইনে দাড়িয়ে থেকে কাউন্টারে যেতেই আধঘন্টার মতো লেগে গেছে! যাইহোক, এতো কাহিনী না বলে আপনাদের সাথে ছবিগুলো শেয়ার করি।<img src=" style="border:0;" />


স্যামুয়েল জ্যাকসনের অনুরোধে ছবি না তুলে কি পারি?<img src=" style="border:0;" />


টম ক্রুজের প্রিয় নায়ক নাকি আমি! ভক্তদের সাথে ছবি তুলতে মজাই!<img src=" style="border:0;" />


পুরনো গার্লফ্রেন্ড, নামটা বোধহয় ভুলে গেছি!<img src=" style="border:0;" />


জর্জ ক্লুনির বাসার দাওয়াতে!<img src=" style="border:0;" />


শ্রেকের সাথে দোস্ত সফি ও তৌহিদ।


হাঃ হাঃ হাঃ<img src=" style="border:0;" />


হাল্ক! বাঁচাও!<img src=(" style="border:0;" />


অবশেষে দোস্ত শাহরুখ খানের দেখা পেলাম।<img src=" style="border:0;" />


ছেড়ে দে শয়তান!(ঐশ্বরিয়া)<img src=" style="border:0;" />


জেমস বন্ডকে নতুন ছবির কাজ বুঝিয়ে দিতে যা কষ্ট হয়েছে!<img src=" style="border:0;" />


প্রিয় ব্যাক্তিত্ব হোসে মরিনহোর সাথে।<img src=" style="border:0;" />


ভাগ্যিস আমার সাথে লুইস হ্যামিল্টন পোজ দিয়ে ছবি তুলছে, নাইলে কি আর ২০০৯ এ একটা রেস ও জিতে!!<img src=" style="border:0;" />


আইনস্টাইন নিয়ে ফাইজলামি নাই কইলাম কিন্তু।


বিটলস' প্র‌্যাকটিস করতে রেগুলার বাসায় আইসা বইসা থাকে কি করুম! <img src=" style="border:0;" />


আমার গুরু স্যার রিচার্ড ব্রানসনের জরুরী তলব!<img src=" style="border:0;" />


হোয়াইট হাউসে গেলেই ফোনের পরে ফোন আসে!<img src=" style="border:0;" />


এই সেই 'মাদাম তুসো', যার কারণে এটা সম্ভব হয়েছিল।


সবাই মিলে ফ্যামিলি ফটুক!<img src=" style="border:0;" />


বাইরে আরেকটা ফ্যামিলি ফটুক!

আজ সকালে 'আইল অফ হোয়াইট' এ যাচ্ছি, শনিবারে ফিরব। ফিরে এসে ঘুরাঘরির কাহিনী লিখব নে!<img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28986622 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28986622 2009-07-31 09:18:08
অনেক কথাই বাতাসে হারিয়ে গেছে, বহুগান ক্ষয়ে যেতে যেতে বুড়ো! সারারাত ঘুমের ঘোরে শুধু উড়োজাহাজ উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনছি, মাঝে মাঝে আবার মার সাথেও কথা বলছি। ইদানিং খুব নিয়ম করে এমনটা হচ্ছে। একসময় সুখি মানুষের মতো আমার ঘুম দেখে আমার মা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো, যখন দেশ ছেড়ে চলে আসব, সব ঠিক, মার একটাই চিন্তা ছিল আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলবে কে! মা হয়তো জানে না আমি এ্যলার্ম বেজে উঠার আগেই এখন ঘুম থেকে উঠি। ইদানিং মাকে খুব মিস করছি। দেশে যাবো, যাচ্ছি করছি গত দুবছর ধরে, যেতে পারছি না। কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বাসায় এসে মার কথা ভেবে অনেক কেঁদেছি। মনে হচ্ছিল মার কোলে মাথা রাখলে এখুনি ভালো হয়ে যাবো। পাসপোর্টটা হাতে থাকলে হয়তো সেদিন চলেই যেতাম। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে সবকিছু ছেড়ে দৌড় দিই, মাকে দেখবো। দেশে থাকতে আমাকে কোনদিন হাসপাতালে যেতে হয় নি। মাঝে মাঝে অসুখ করলে কাউকে কিছু না বলে বিছানায় শুয়ে থাকতাম। মা ছোটভাইকে পাঠিয়ে বাসায় ডাক্তার ডেকে আনতো। বাসায় কোনদিন নিজে থেকে অসুখের কথা বলতাম না কিংবা ডাক্তারের কাছে যেতাম না বলে বাবার কাছে কতো কথা শুনতে হতো। বিদেশে এসে বাবার কথা শুনতে হয় না। তারপরও নিজেকে শুধরে নিয়েছি!

২.
বন্ধুর কথা লিখতে বসে লিখে ফেললাম কি! মুনতাকিম আমার বন্ধু সপ্তাহখানেক ছুটি কাটাতে এখানে আসছে, সকালে রওয়ানা দিয়েছে, আন্টি সেটা জানানোর জন্য ফোন দিয়েছিল। এখান থেকে সিএ পড়া শেষ করে সে দেশে চলে গেছে, আমিই তাকে চলে যাবার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলাম। সেই থেকে এ্যকাউন্টিং ফার্মে কাজ করছে, এখন নাকি কর্পোরেট প্রতিষ্টানগুলো লাখ ছাড়িয়ে অফার দিচ্ছে। দেশে এ্যকাউন্টিংয়ের ভবিষ্যৎ ভালোই দেখি! তো ও আসছে দেখে আমি কাজ থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছি, ইতিমধ্যে কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবো সেটা ও ঠিক করে রেখেছি।

৩.
গান আমাদের ভাই বোন, গান ছাড়া কি আমাদের একদিন ও চলে! গানের কথায় আসি। এখানে এখন চারিদিকে কনসার্ট আর কনসার্ট। আগস্টের দু-তিন তারিখ মেটাল ব্যান্ডের একটা ফেস্টিভ্যালে যাবো বলে অনেক আগে থেকেই মনস্থির করে রেখেছিলাম, শেষপর্যন্ত যাচ্ছি না। ইদানিং মেটাল শুনতে কেন জানি ভালো লাগে না, অথচ কিছুদিন আগেই মেটাল ছাড়া কিছু বুঝতাম না। মেটালিকা, ড্রিম থিয়েটার, আইরন মেইডেন আরো কত কি! অলটারনেটিভ রক আমি আগেও শুনতাম, এখন এটাই বেশি শুনছি। ইমন জুবায়ের ভাইয়ের কল্যাণে 'পোয়েটস অফ দি ফল' ব্যান্ডের সাথে পরিচিত হবার পর থেকে ওদের গান শুনছি। যারা শুনেননি 'স্লিপ' 'ফ্রেজাইল'
গানদুটো শুনে দেখতে পারেন। ফোক গানের প্রতি আগে তেমন আগ্রহ ছিল না আমার। ইদানিং ফোক গান খুব শুনছি। মেটাল শুনার বয়েস কি তাহলে চলে গেলো! তাইতো বলি দেশে ফোন করলেই মা খালি বিয়ের কথা কেন বলে!<img src=" style="border:0;" />

ব্রাড পেইসলি'র 'হুইস্কি লুলাবাই' আগে না শুনে থাকলে এখানে শুনুন।


টিম ম্যাকগ্র'র 'আই নিড ইউ' গান।


লেখাটি গতকাল লেখা। বন্ধুদের নিয়ে আজকে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। ফেরারি'র শোরুমে গিয়ে এফ১ গাড়ি দেখে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারি নাই। একটা শোপিস ও কিনলাম।<img src=" style="border:0;" />






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28984868 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28984868 2009-07-28 05:27:01
লন্ডনে যাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে!!
'হোমঅফিস':
এই মুহুর্তে এইটা হইল এক নাম্বারে। শালারা সব আকাইম্মারে হোমঅফিসে রিক্রুট করছে। পৃথিবীতে যদি এখন আকাইম্মা অফিসের তালিকা বানাই, ইংল্যান্ডের হোমঅফিস এক নাম্বারে থাকবে সেটা আমি না যে কাউরে জিগাইলে বলবে। কেন?

ভিসা এক্সটেনশন করার জন্য আমার পাসপোর্ট পাঠাইছি গত বছরের অক্টোবরে, এখনো ফেরত আসে নি। দেশে যাবো, যাবো করে যেতে পারছি না।<img src=" style="border:0;" /> এ তো গেলো আমার কাহিনী। এরকম আমি হাজার হাজার দেখাইতে পারবো। এক ব্যাটা সাতবছর পাসপোর্ট ফেরত পায় নি, এক সলিসিটরের সাথে কথা বললে সে তারে 'ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন' এর জন্য আবেদন করতে বলে, কারণ এখানে দশবছর থাকলে যে কেউ এটার আবেদন করতে পারে। তো সে 'ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন' ঠিকই পাইছে।

আমার এক বন্ধু এক্সটেনশনের জন্য পাঠাইছিল, ছয়মাস পরে সে পাসপোর্ট হাতে পেয়ে দেখে ভিসা আছে আর মাত্র তিনদিন, ন্যাশনালিটিতে লেখা পাকিস্থানি!

এক পরিচিত বড় ভাই পাসপোর্টে ভিসার মেয়াদ দেখতে গিয়ে রীতিমত অবাক, এক বছর দুবছর কিংবা পাঁচ বছর নয়, ১০০ বছরের ভিসার সীল।<img src=" style="border:0;" /> পরে বেচারাকে শুধরিয়ে আনতে আবার হোমঅফিস যেতে হয়েছিল।
এইবার বুঝেন কেন আমি হোমঅফিসে বোমা মারতে চাই!

নিউহ্যাম কাউন্সিল:
আমার তালিকাতে দুই নম্বরে আছে এই নর্দমা কাউন্সিল। কেন?
এখানে স্টুডেন্টদের কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না; কিন্তু এইটার থেকে রেহাই পাইতে যা করতে হয় সেইটা একবার যে করছে সে মামা জানে!
সেটা কেমন?
ধরেন যে বাড়িতে আছি, সেটার ট্যানেন্সি এগ্রিমেন্ট এ যাদের নাম থাকবে তাদের কলেজ লেটার দিতে হবে। ব্যস হয়ে গেলো! কি খুব সহজ মনে হচ্ছে না? দিয়ে আসার জন্য এ্যপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে, তারপর আপনি ওদের সময়মতো দিয়ে আসলেন। স্বাভাকিকভাবেই ফোন করে জানতে চাইবেন এটা কতটুকু আগাইছে! ফোন করে যদি জানতে পারেন ওরা আপনার কোন ডিটেইলস ই পাচ্ছে না, অবাক হবার কিছু নাই। এভাবে আরো কয়েকবার দিয়ে আসতে হবে এই যা! ততদিনে আপনার বাসায় 'কাউন্সিল ট্যাক্স' এর বিল তো আসবেই, লাল রঙের দুতিনটে রিমাইন্ডার ও যদি দেখে ফেলেন ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সপ্তাহখানেকের মতো বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ওদের ইন্সটলম্যান্টটা (একশো পাউন্ডের উপ্রে) পরিশোধ করে দিন। এটা অবশ্য ফেরত পাবেন! যদি কোন কারণে ইন্সটলম্যান্ট দিতে না পারেন তাহলে ও সমস্যা নেই; পুরো আ্যমাউন্ট (একহাজার পাউন্ডের মতো!) পরিশোধ করে দিলেই হয়ে যাবে। তারপর ওরা মাত্র(!) তিনমাস পর আপনার কাছে চিঠি পাঠাবে যে আপনার এক্সেম্পশন এক্সেপ্ট (কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হবে না এমন একটা চিঠি) হইছে। তারপর আপনি এক্সেম্পশন পাবার পূর্বে জরিমানা খাওয়ার ভয়ে যে আ্যমাউন্ট ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন সেটা ফেরত চেয়ে ফোন করবেন। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে যদি ওরা অনেক কিছু জিগেস করে রাগ করার কিছু নেই, সিকিউররিটি রিসন(!) বলে কথা, দু একটা ধমক ও যদি দিয়ে দেই ভয়ে ফোন রেখে দিলে চলবে না, টাকাটা আপনারই সো আপনাকে ধমক শুনে হলেও ওটা ফেরত চাইতে হবে। সে তো গেলো। এরপর একমাস কোন খবর না থাকলে সমস্যা কি? আবার ফোন করবেন তারপর ওরা সিস্টেম নামের একটা যন্ত্রে দেখতাছে এমন দোহাই দিয়ে ঘন্টাখানেক আপনাকে লাইনে রাখবে, ভুলেও ফোন রেখে দিবেন না কারণ আবার ফোন করলে একই কাজটাই করতে হবে। এখন ও কি খুব সহজ মনে হইতেছে?

ব্যাংক: এইটা দুই নাম্বারে দিলে বোধহয় ভালো হইত। আমার তিন তিনটে ব্যাংকে এ্যকাউন্ট ছিল, চুতিয়া শ্বেত চোরের কারখানা 'বার্কলেস ব্যাংক'র এ্যাকাউন্ট বিশ্বাস করেন ইচ্ছে করে বন্ধ করে দেয় নাই, বাধ্য করছে। আমার এক বন্ধু মাঝে মাঝে এখনো বলে, দোস্ত তুই 'বার্কলেস ব্যাংক' এ এতো জরিমানা দিছিস ঐটা দিয়ে টুইন টাওয়ার বানান যাইত! বুঝেন এইবার। জরিমানা কেমনে দিছি বলি। ধরেন আপনার এ্যকা্উন্টে ডিরেক্ট ডেবিট সেট করা আছে, কোন কারণে আপনার এ্যকাউন্টে যথেষ্ট টাকা নাই, ডিরেক্ট ডেবিট বাউন্স তো করবেই সাথে ৫০-৬০ পাউন্ডের জরিমানা গুণতে হবে! এইভাবে প্রথম তিন চার বছরে আমার কাছ থেকে খাইছে শালারা। তারপর দিলাম সেই এ্যকাউন্ট বন্ধ কইরা। এইবার আসি আরেক ব্যাংকের কথায়; 'ন্যাটওয়েষ্ট' এ আমার একটা এ্যকাউন্ট আছে। আমি বাসা বদলেছি সেই এপ্রিলে কিন্তু এই শালাদের ওখানে এখনো পুরনো এড্রেস দেয়া আছে। কেন?
এড্রেস বদলাতে ব্যাংকে গিয়েছিলাম, আমাকে বলে পাসপোর্ট দেখাইতে, আগেই কইছি আমার পাসপোর্ট হোমঅফিসে, ওদের সুন্দর করে বললাম, ' দেখো আমার পাসপোর্ট হাতে নাই, এক্সটেনশনের জন্য পাঠিয়েছি। আমার কলেজের আইডি আছে অন্যান্য অনেক কার্ডই তো আছে, না ওসব দিয়ে তাদের সিকিউরিটি চেক(নাকি আমার বাল!) হবে না। এখন উপায়? বাসায় এসে ফোন করেছি (কোন এক বুটকি কিম্বা মোটকিই হবে ) বলে একই কথা । চারদিন আগে ওই ব্যাংকের কার্ড দিয়ে একটা ল্যাপটপ অর্ডার করেছি কালকে দেখে অর্ডার বাতিল হইছে। কেন জানেন? ব্যাংকের এড্রেস এ এখনো পুরনোটা! আমি কোন দুনিয়ায় যামু রে মমিন?

আজকে গেলাম আমার অন্য ব্যাংকের এ্যকাউন্টে টাকা জমা দিতে। ব্যাংকের নাম 'আবে সানটান্দার', লাইনে দাড়াইছি সামনের পাঁচজন বিদায় করতে সময় নিছে একঘন্টা, তারপর যেই মুহুর্তে আমি যামু কাউন্টারের বোটকি(দেখতে মাশাল্লাহ আলিফ লায়লার দৈত্য!) কয় এক মিনিট খাড়াও, আইতাছি। আইচ্ছা আমি খাড়াই আছি, বসবার চাইলে ও পারতেছি না, চুডকালে যেখানে সেখানে বসে যেওন যাইত, বড় হওয়াতে সেইটা কি আর পারি? তারপর বুটকিটা যে গেলো আর আসার নাম নাই। স্কুলে থাকতে পোলাপান বয়সে ট্রান্সলেট করতে বলতাম না, 'সে গেলো তো গেলো, এমনভাবে গেলো আর ফিরে এলো না!' ঠিক ওইটার মতো। পিছনের দুএকজন ইতিমধ্যে চিল্লাচ্ছে। আমি ও ওদের সাথে সুর মিলাই। বছর দুয়েক পরে ঐ বুটকিটা আরো বুটকি হইয়া ফিইরা আসছে। আমারে একটা মুচকি হাসি (আমার কাছে আলিফ লায়লার দৈত্যের হাসি মনে হইছে) দিয়া কাউন্টারে যাইতে কইল। বুটকি কয় 'স্যরি টু কিপ ইউ ওয়েটিং' আমি কই নো ইটস ওকে,ইট ওয়াস জাস্ট এ মিনিট!
এসব ব্যাংকে যে বুটকি মোটকি কিম্বা যেসব বোটকা ব্যাটা কাজ করে ওগুলারে বোমা মারার আগে জুতাপেটা করতে ইচ্ছে করে!

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের পরিচালক তালিকার চার নাম্বারে। এমন কোন উইকেন্ড নাই ব্যাটারা ইনজিনিয়ারিং কাজ রাখবে না! আজকে এই লাইন চলে না তো কালকে ওটা চলে না। অনেক সময় ৫-৭ টা একসাথে চলে না।(লন্ডনে লাইন আছে পনেরোর মত) বাসে আমি অভ্যস্থ না, এখন পর্যন্ত যেখানেই আমাকে বাসে যেতে হইছে আমি হারাই যায়।মানে যাবো বাপের বাড়ি দেখা গেছে সেটা ফেলে চলে গেছি শ্বশুরবাড়ি।<img src=" style="border:0;" /> লন্ডনের বাস এতো আস্তে চলে দুতিন বছর পরে বাসায় পৌছানো যায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে এসব বাস ড্রাইভার রে আমাদের দেশের রাঙামাটি কিংবা খাগড়াছড়ি লাইনে বসাইয়া দিই। তারপর বুঝবে হাউ ম্যানি রাইস, হাউ ম্যানি প্যাডি।<img src=" style="border:0;" />

বিটি(ব্রিটিশ টেলিকম): এই শালার চুতিয়া কোম্পানির নামটা তালিকাতে আগে কইলেই পারতাম। আগের বাসায় বিটি থেকে আমরা ফোন/ব্রডব্যান্ড নিয়েছিলাম। সেই ব্রডব্যান্ড যে এমন ব্যান্ড বাজাই দিবে কল্পনারও বাইরে ছিল। কানেকশনে সমস্যা লেগেই থাকত। তারপর ওদের ফোন দাও, ভাগ্য ভালো হইলে কারো সাথে কথা বলা যেতো। বেশিরভাগই কলই চলে যেতো ইন্ডিয়াতে। সমস্যা হইতো ওদের যা শেখাইছে ওটার মধ্যে আমাদের কমপ্লেইন কমন পড়তো না, তারপর আবার ফোনের লাইন ট্রান্সফার করে ইংল্যান্ড এ। একবার শালারা বিল পাঠাইছে ৫০০ পাউন্ড। আমি তো রীতমতো রেগে বোমা ফাটাইতে ওদের অফিসে চলে গেছিলাম, পরে একবন্ধু যাইতে দেয় নাই।<img src=" style="border:0;" /> ওদের ফোন দিয়ে জিগেস করি এতো বিল কেন পাঠাইছে, কারণ আমাদের ২৪/৭ কল ফ্রি মাসের কন্ট্রাক্ট এ ছিল। পরে এক ব্যাটায় কয় আমাদের ব্রডব্যান্ডের মডেমের সাথে একটা ফোন পাঠিয়েছিল ওটা থেকে ফোন করেছি বলে ওরা চার্জ করছে, সে শুধায় আমাদের ফোনটা আলাদা করে বসাইতে হবে। ইয়া আল্লাহ তোরা এটা আগে কস নাই ক্যান? কি আর করা ৫০০ পাউন্ড ওদের পকেটে ঠিকই ভরে দিতে হইছে। এমন জোচ্ছুরি শুধু এদের কে দিয়েই সম্ভব! এই ব্যাটাদের আমি চৌদ্দবার বোমা মারতে রাজী।

আইচ্ছা তালিকা তো দেখি অনেক লম্বা হইয়া যাইতেছে। তালিকার অন্যদের নাম পরে বলব নে। আপাতত এইটা থাকল! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28979871 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28979871 2009-07-18 06:16:05
পিয়ানো প্রডিজি

মোজার্টের কথা যখন বললাম ১৭৮৫ সালে লেখা গানের অসাধারণ মিউজিকটি শুনে দেখুন।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28978862 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28978862 2009-07-15 22:43:21
অসুস্থ ১০০তম পোষ্ট: আমি বন্দী কারাগারে! 'সোয়াইন ফ্লু'র ওষুধ দিয়ে বাসায় পাঠালো। আগামী পাঁচদিন কাজে যাওয়া তো দুরের কথা বাসা থেকে বের না হতে বলে দিয়েছে ডাক্তার। যে কিনা পাঁচ ঘন্টা বাসায় বসে থাকতে পারি না, তাকে পাঁচদিন বাসায় থাকতে বললে কেমন লাগে? অবশ্য চামে কাজ থেকে ছুটি মেরে দিয়েছি। এখানে এখন যে অবস্থা 'সোয়াইন ফ্লু'র কথা বললে কাজ থেকে জোর করে ছুটি দিয়ে দিবে!
অনেকদিন ব্লগ লিখি না, এবার না হয় একটু ব্লগ লেখা হয়ে যাক। আলসেমির কারণে এতোদিন শততম পোষ্ট লেখা হয় নি, আজকে না হয় দিয়েই দিলাম অসুস্থ শততম পোষ্ট।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28977980 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28977980 2009-07-14 04:16:00
ইচ্ছে জাহাজ! সেখানে অনেক গল্প আছে;
গল্পগুচ্ছের মতো সে গল্পেরা শেষ হয়ে ও হয় না শেষ!
কেননা, ইচ্ছেরা এমনই হয়,

কেন যে আমার ইচ্ছে ফড়িঙের সাথে ফড়িঙিদের কোনদিন দেখা হলো না;
মধুবন্তী'কে নিয়ে আমার একটি বখাটে কবিতাও কেন যে বালুচরে ছাপা হলো না!

ইচ্ছেরা এমনই,
কেননা, ধূসর বর্ষাতীর গহীনে বিরহকাতর কোন নদী জাগে না
আমার তরে!
কেন যে আমার বুকের গহীনে অজস্র ভালবাসাকে
ধ্রুপদী মর্যাদা দিলো না সে;

কেন যে, আমার অষ্টাদশী স্বপ্নেরা প্রকাশ পেলো না কোন পুস্তকে!

আমার ইচ্ছেরা এমনই;
যতো ইচ্ছেরা হারিয়েছে আজ এই সন্ধ্যায়,
সব কি লেখা যায়?
না- সব লেখা যায় না কোনকালে!

কেননা, ইচ্ছেরা তেমনই দুপুর নিভিয়ে দিলে, যেমনি বাল্যসন্ধ্যা ঝরে!


কবিতাটি চিটি আপু'কে উৎসর্গ করতে মন চাইছে; যিনি চমৎকার সব কবিতার চরণে চরণে ঘুরে বেড়ান প্রতিনিয়ত।

[ পরীক্ষার জন্য পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে এতো বিরক্ত হয়ে যেতাম, কবিতার চরণ মাথায় ঘুরপাক করতো; যতক্ষণ খাতায় না লিখেছি ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুরতেই থাকে! দু এক লাইন টুকে ফেলেছিলাম। অনুরোধ: বানান ভুল থাকলে শুধরে দিন প্লিজ।]

ছবিসূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28963551 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28963551 2009-06-12 06:24:45
পরীক্ষা শেষ, অতঃপর!!!
একটা ব্রেকিং নিউজ আছে; বাংলাদেশ সুপার এইটে যাবে ভেবে ১৫ই জুনের খেলার টিকেট কিনেছিলাম। ভাগ্যিস সোনার ছেলেরা সুপার এইটে যেতে পারেনি নইলে কি আমি টিকেট দুটো বিক্রী করে বিশ পাউন্ড লাভ করতে পারতাম! <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28962587 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28962587 2009-06-10 06:09:54
চেলসি \/ লিভারপুল খেলা দেখে আসলাম!

পাঁচটার দিকে ক্লাসশেষে স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। আজকের ম্যাচে আমি একটু বেশি কনফিডেন্ট ছিলাম। চেলসি আগের ম্যাচে ৩-১ জিতে আসায় অনেকটা এগিয়ে ছিল। কিন্তু বিপক্ষ দল 'লিভারপুল' বলে কথা! চ্যাম্পিয়নস লীগে এদের ইতিহাস নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোল পায় লিভারপুল। এরপরে যখন লিভারপুল পেনাল্টি থেকে গোল করে আমার হাত পা কাঁপা শুরু করছিল। প্রথমার্ধের খেলা দেখে চেলসির খেলোয়াড়দের জুতাপেটা করতে ইচ্ছে হচ্ছিল। যাইহোক, দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি খেলা কারে কয় দেখাই দিছে!
যদিও চেলসি প্রথম গোলটা পায় রেইনার ভুলের সৌজন্যে। তবে, ফ্রি কিক থেকে আলেক্স এর বুলেটের গতিতে যে গোলটা করেছে সেটা দেখার মতো! অসাধারণ।
একটাসময় মনে হচ্ছিল লিভারপুল আরেকটা গোল করলেই বোধহয় সেমিতে চলে যাবে। ভাগ্যিস ল্যাম্পার্ড দু দুটো গোল করেছিল। নাইলে কি শালার 'লাল'দের দমিয়ে রাখা যায়!<img src=" style="border:0;" /> আহারে কত খুশি আজ আকাশে বাতাসে। লিভারপুল হারলে বড়ই আনন্দ পায়।<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
আজকের অন্যখেলায় বার্সা ১-১ গোলে ড্র পেয়েছে। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকায় বার্সার সেমিফাইনাল অনেকটা নিশ্চিত ছিল।
খেলা শেষে এমনিতে টায়ার্ড। পর্তুগিজ বান্ধবী কয় বালাকরে দেখবো। সুন্দরীদের কথা অবাধ্য হতে নেই। তাই গেলাম উপরের কর্পোরেট রেস্টুরেন্টে। গিয়ে দেখি অভিষেক বচ্চন এক কোণায় বইসা আছে। হের লগে একখান ছবি তুললাম, অটোগ্রাফও একটা নিয়েছি মাগার সে কি লিখছে সেটা উদ্ধার করা মুশকিল!
এটা সামুয়িক পোষ্ট। আগামীকাল ম্যান ইউ/ আর্সেনাল খেলার শেষে গুছিয়ে লিখুম নে।
এখন ঘুমুতে গেলাম। কালকে আবার ক্লাস!<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

ছবিগুলো 'বিবিসি' থেকে নেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28938279 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28938279 2009-04-15 06:11:03
সামুয়িক: আড্ডা হবে? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28936033 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28936033 2009-04-10 03:17:13 কমলা রঙের শৈশবে ফিরে যেতে চাই! দরজা খুললে কৃষ্ণচুড়ার গন্ধ পায় না;
বন্ধ জানালায় বসন্তের মাতাল করা হিমেল বাতাস আসে না;
বব মার্লে কিংবা নির্ভানার পোস্টার সাঁটানো
তৃষ্ণার্ত দেয়ালে মাঝে মাঝে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়!
শাদা রঙের সিলিংয়ের ওপারের আকাশে
নীল নক্ষত্র আগের মতোই জেগে উঠে, ডুবে যায়;
দূর্বাঘাসের চাদরে আমার শোয়া হয় না!

জাগতিক পড়ালেখা এখন আর বইয়ের পাতায় নেই,
দেওয়ালে উঠে গেছে।
ধূসর স্বপ্নের দেশে এসে;
কর্পোরেট ভবিষ্যতের খোরাক মেটাতে;
দেওয়ালের স্টিকি করা স্ট্র্যাটেজি কিংবা এ্যনালাইসিস টুলস' এ
আটকে থাকা এইসব দিনরাত্রি।
জীবনানন্দের মতো করে,
'কোথাও জীবন আছে- জীবনের স্বাদ রহিয়াছে'
উপলব্ধি করা হয়ে উঠেনা।

ক্ষ্যাপাচোখে দেয়ালের 'পরে
অস্পষ্ট অক্ষরে ব্যর্থতা দেখে ভাবি;
রাতের তিনটি তারার মতো,
পৃথিবীতে মানুষের উজ্জ্বল আলোর দিনও একদিন শেষ হয়!

অনেক ক্লান্ত হলে 'পরে
লীন নীরবতায় যখন সময় কাটে;
আমার কর্পোরেট মন কমলা রঙের শৈশবে
ফিরে যেতে চাই!

ছবিসূত্র: এমএসএন থেকে সেভ করেছিলাম। আমার অনেক প্রিয় একটা ছবি। আমার শৈশবও অনেকটা এরকম ছিল!


[ এই লেখাটি একজন প্রিয় মানুষকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছে হলো। সাজি আপু] ; যিনি কবিতায় জীবনকে দেখেন কিংবা জীবনকে কবিতায় দেখান।


পাদটীকা: কি লিখেছি আমি নিজেই জানিনা! ব্লগে এসেছিলাম কবিতার টানে। এখানে এতো ভালো কবিতার পোষ্ট আসে; নিজের লেখা দিতে কেন জানি আর ইচ্ছে করে না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28934683 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28934683 2009-04-07 09:45:44
স্বগত আলাপ ০৫: দে দৌড়, দৌড়ের উপর দুনিয়া! > হাই ইটস ষ্টেফি
< ও হেই হোয়াটসআপ?
মনে মনে বলি এতো সকালে ফোন করার মানে কি!
> রিমেম্বার, ইউ টোল্ড মি, ইউ উইল গিভ মি দ্যা নোটস?
ইয়া আল্লাহ এইটা কবে বললাম!
< ইয়া, হোয়াট এবাউট টুমরো?
> ওকে দ্যান, সি ইউ ইন ক্লাস টুমরো।
কোনরকম বাই বলে ফোন রাখতে গিয়ে মোবাইলে সময় দেখি ১১:১০। খাইসে। আমার কাজ যাওয়ার কথা এগারোটায়। গতরাতে সময় এক ঘন্টা আগাইছে। আমি এ্যলার্ম দেওয়ার সময় একদম ভুলে গেছি। তাড়াতাড়ি কাজে ফোন দিলাম। কলিগ রিসিভ করলে বলি, 'আই উইল বি লেইট'।
কলিগ হেসে জিগেস করে 'হাউ লেইট'?
আমার এক ঘন্টা লেট হবে বলে ফোন রাখি। কলিগের মত আপনিও হাসছেন আর ভাবছেন আমি সবসময় লেট করি তাইনা?
মাঝে মাঝে একটু আধটু লেট হয় এটা আর এমন কি!
ভাগ্যিস, আমার বাপের কোম্পানীতে কাজ করিনা, দেরী করার জন্য কত দাতানি খেতে হতো কে জানে!
তারপর, মনে মনে বলি ব্রেকফাষ্টের কথা ভুলে যাও বাছা। আপাতত দে দৌড়, দৌড়ের উপরে দুনিয়া!
ট্রেন আছে কিনা মোবাইলে দেখে নিই। প্রতি মাসে ট্রাভেলকার্ডের জন্য একশো পাউন্ড গুণতে হয়। ট্রেনের সার্ভিস না থাকলে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে ইচ্ছে হলেও, করতে পারিনা। সবাই মুখ বুজে সহ্য করে। সো তুমি ও সহে যাও বাছা, পরদেশে এসব ছোট ব্যাপারে রাগ করতে হয় না। দেশে হইলে অন্তত সরকারের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করা যেত!
যাইহোক, আজ দেখি লন্ডনের মেয়র সাহেব কোথাও কোন ইন্জিনিয়ারিং কাজ রাখেন নি। সাধারণত, উইকএন্ডে আন্ডারগ্রাউন্ডে কোথাও না কোথাও ট্রেন সাসপেন্ড থাকে। সানডে'তে ট্রেনের অজুহাত শুনে অভ্যস্থ আমার পূর্বের কাজে ম্যানেজার একদিন বলে 'সানডে সার্ভিসের কথা মাথায় রেখে বাসা থেকে একটু আগে বের হলে তো পারি! তা ঠিক, তাল মিলিয়ে চলা উচিত। মনে মনে বলি 'তাল' যদি বুঝতাম এতোদিনে লাবিব কিংবা ফাহশানের মতো মাইয়াপটানো গান করে কতো জনপ্রিয় হতাম! তবে, এটা অন্তত র‌্যাপ গানের চেয়ে ভাল আছে। বাংলার সাথে ইংরেজি মেশানো র‌্যাপ শুনলে আমার কাছে বাংলাকে রেইপ করছে মনে হয়। গানের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা ছিল, এখনো বোধহয় আছে। বাবার ভয়ে মিউজিক পড়ার চিন্তা বাদ দিয়ে এ্যকাউন্টিং পড়ছি। লাইফ ইজ অল আ্যবাউট কম্প্রোমাইজ!

আমি ইদানিং সবকিছু ভুলে যায়। কিছু মনে থাকে না। এই ভুলে যাওয়ার কারণে কত মাশুল গুণছি, আরো কত গুণতে হবে কে জানে!
সেদিন শেলী মেইল করে বলে 'তাড়াতাড়ি আমাকে একটা কল দিতে পারবে?' তাড়াতাড়ি বলেছে বিদায় দুদিন পর বন্ধুকে ফোন করি।
হ্যালো বলার পর থেকে অনেক কিছু হজম করতে হলো।
দুসপ্তাহ পূর্বে সে আমাকে কিছু রবীন্দ্রসংগীত মেইল করতে বলেছিল। তাড়াতাড়ি ফোন করতে কেন বলেছিল এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন! আমি গানের কথা মোটেও ভুলে যায় নি হে। এক সপ্তাহ পরেই আমি ওকে মেইল করেছিলাম। মেইলে দুটোর বেশি গান পাঠানো যায় না বিধায় আমি সাত-আটটার মতো গান পাঠিয়ে লিখেছিলাম পরে আরগুলো পাঠাব। কিন্তু সেই সময় কই! ব্যস্ত মানুষ।

গতকাল থেকে একটা কারণে মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। আজকে মনে হচ্ছিল শুধুমাত্র ছেলেদেরই মন কি সবসময় খারাপ থাকে নাকি মেয়েদের ও? যাইহোক, মন খারাপের কথা বলছিলাম। গতকাল কাজ শেষে বাসায় এসে শুনি সফি'র ভিসা রিফিউজ করছে। শুনে মুডটাই খারাপ হয়ে গেল। ইদানিংকালে এখানে ভিসা নিয়ে মামারা মশকরা শুরু করছে। এ দেশের অর্থনৈতিক বারোটা বেজে যাওয়াতে এখন যাকে তাকে ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে। এমনিতে ওভারসীস ষ্টুডেন্টসদের ওরা সবদিক দিয়ে বাঁশ দেয়। কথায় কথায় ভিসা ফি বাড়ায়। এখানে খুন, রেইপ, ড্রাগসসংক্রান্ত যত অপরাধ হয় এখন পর্যন্ত একটাতেও কোনদিন একজন ওভারসীস ষ্টুডেন্ড জড়িত এমন খবর দেখিনি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের নাগরিকরা এখানে এসে বিভিন্ন উপায়ে ক্রাইম করে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কোন কিছু করতে পারে না শালারা।

ভিসার কথায় ফিরে আসি। ভিসা এক্সটেনশন করার সময় মাসে আটশ পাউন্ড করে এ্যকাউন্টে তিনমাস দেখাতে হয়। সফি'র ভিসা প্রত্যাখ্যান করার কারণ ছিল ওটাই। সপ্তাহখানেকের জন্য নাকি ওর আটশোর নিচে ছিল। এটার জন্য অনেকটা আমিই দায়ী। ওর কাছ থেকে আমি তখন দুশো পাউন্ড ধার নিয়েছিলাম। টিউশন ফির জন্য লাগবে ভেবেছিলাম। দুসপ্তাহ পর সে টাকাটা ম্যানেজ করতে পারব কিনা আমাকে জিগেস করলে ড্রয়ার খুলে ওর হাতে তুলে দিই। ও হা হয়ে থাকিয়ে জিগেস করে 'তুই কি টাকাটা ব্যাংকে জমা দিস নি?' ব্যাংকে যাবার সময় পায়নি বললে ওর কাছ থেকে দুএকটা গালি হজম করি।
তো ব্যারিষ্টার বন্ধু নওফেলকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলি। আপিলে ভিসার সমস্যাটা মিটে যাবে বলে ওর ধারণা। তারপরও শুধু শুধু বেচারার কিছু বাড়তি খরচ বাড়ালাম। হায়রে বালছাল প্রবাস জীবন!

ইদানিং ব্যস্ততার কারণে দেশে বন্ধুদের ফোন করা হয়ে উঠে না। বাসায় দু-তিনদিন পরপর ফোন করি। বাসায় যখনই ফোন করি মার সে একই প্রশ্ন 'দেশে কবে যাবো', 'বিয়ে করছি কবে'? আমার বোনের ও জিগাসা দেশে কবে আসব? ওর ফার্ষ্ট টার্মের রেজাল্ট দিয়েছে সেদিন। ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, জুলজি, ম্যাথস সহ চারটাতে নাকি সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে। সর্বোচ্চ 'জিপিএ' ও নাকি তার দখলে। এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে না পেরে খুব মন খারাপ করেছিল ও। আমার ও মন খারাপ হয়েছিল।

আমার বন্ধু নওরীনের ও সেই একই কথা দেশে কবে আসব! আরে ভাই নিজেই জানিনা কবে যেতে পারছি। 'না প্রেমিক না বিপ্লবী' নাকি কি যেন একটা কবিতার মত সে আমার বন্ধু নাকি এরচেয়ে বেশিকিছু সেটা নিয়ে দ্বিধায় আছি।

[ সম্পূর্ণ কাল্পনিক লেখা। কারো নামের সাথে মিলে গেলে (এমনকি আমার সাথেও<img src=" style="border:0;" />) সেটা হবে কাকতালীয় মাত্র, লেখক মোটেও দায়ী হইবেক না<img src=" style="border:0;" />।]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28931157 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28931157 2009-03-30 05:57:36
মনটা ভীষণ খারাপ!!!!! কিচ্ছু ভাল্লাগতেছে না!!!!!!!!!!!!!!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28925910 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28925910 2009-03-18 08:14:25
দোহাই আপনাদের এসব ছেলেমানুষী বন্ধ করুন পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে এটা এত বড় ঘটনা হত না। আমি কোন পক্ষের কিংবা বিপক্ষের হয়ে কথা বলছি না। কেউ কেউ দেখলাম জওয়ানদের এ ধরণের বিদ্রোহকে হাততালি দিচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এসব ছেলেমানুষী বন্ধ করুন। নিজে বুঝতে চেষ্টা করুন। পরিচিত যারা আর্মি কিংবা বিডিআর এ কর্মরত আছেন তাদের বুঝান, শান্ত করুন। এটার পরিণতি খারাপ হবে কখনোই ভালো হতে পারেনা। বিডিআরদের দাবীগুলো নৈতিক। কিন্তু এ ধরণের মানসিকতা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিদ্রোহ কখনোই শান্তি বয়ে আনবে না। শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সাথে বৈঠক করেই দাবী মেটানো সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা সেটলড করা উচিত।
যারা যুদ্ধ যুদ্ধ বলে লাফাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে দুটা কথা বলব। আর্মি কিংবা বিডিআর সবাই আমাদেরই আত্বীয়স্বজন। আমাদের দেশের মানুষ। এই দুই বাহিনীর গৃহযুদ্ধ/বিদ্রোহ হলে কিন্তু দেশের অনেক বড় ক্ষতি। দেশের ক্ষতি মানে আপনারই ক্ষতি। আপনারা হয়ত অনেকেই বড় বড় ফুটবল দলের খেলা দেখেন। আপনি কি জানেন এসব দলের প্লেয়াররা দলের সম্পত্তি। বছরশেষে যখন লাভ-ক্ষতি হিসেব করার জন্য পাবলিশড এ্যকাউন্টস করা হয়। তখন এসব প্লেয়াররাই এ্যকাউন্টস এ লংটার্ম এসেট হিসেবে স্থান পায়। এটা বলার কারণটা বলি। ধরুন, বাংলাদেশ একটা কোম্পানী। আর্মি কিংবা বিডিআরের অফিসাররা সবাই এই কোম্পানীর লংটার্ম এসেট। একজন মেজর জেনারেল হতে আনুমানিক বিশ বছর সময় লাগে। ঠিক একইভাবে কর্ণেল, লেঃ কর্ণেল পনেরো কিংবা দশ বছর সময় লাগে। এতোদিন যাবৎ এদের ট্রেনিংয়ের পেছনে দেশের কত টাকা খরচ হয়েছে বলতে পারেন? কোটি টাকা কিংবা তারও অনেক বেশি। সে টাকা আমার, আপনার কৃষক থেকে শুরু করে যারা রিকসা চালান তাদের ও। এবার চিন্তা করুন একজন ট্রেইন্‌ড আর্মি কিংবা বিডিআর অফিসার যারা বিদ্রোহে মারা গেলেন, দেশের কত লস ইতিমধ্যে হয়েছে। তাছাড়া আরেকজন মেজর জেনারেল তৈরীতে দেশের আরো বিশটা বছর সময় লাগবে।
যারা হাততালি দিচ্ছেন তাদের বলছি উস্কানীমূলক কথা না বলে প্লিজ বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনার পরিচিতজন যারা আর্মি বিডিআর এ কর্মরত আছেন তারা স্বাভাবিকভাবেই এখন অস্থির কিংবা ভীত। তাদের বোঝানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। আপনারা যারা আওয়ামী লীগ সরকার পছন্দ করেন না কিংবা বিএনপি করেন তাদের বলছি এটা ভাববেন না যে এটা আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা। এটা আপনার আমার সবার ব্যর্থতা। আওয়ামীলীগ পছন্দ করুন কিংবা না করুন তারাই কিন্তু দেশের নির্বাচিত সরকার। তার মানে এখন সেটা আপনারই সরকার, আপনিই সরকার। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সবার সাধ্যমত সহযোগিতা একটা দেশের সরকার অবশ্যই আশা করবে। সরকারের ব্যর্থতা হইল কি না সেটা না দেখে পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করুন। ঘটনা বুঝার চেষ্টা করুন। দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সামনে আরো বড় ক্ষতি হয়ে যাবার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন প্লিজ।



মন্তব্যের সবগুলোর একসাথে রিপ্লায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সবার প্রতি দেয়া মন্তব্য পোষ্টে এ্যড করে দিলাম।

সবার উদ্দেশে বলছি। আমি সশস্ত্রবাহিনী সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা। অনেকের মত জানতে ইচ্ছেও হয়না। এক্ষেত্রে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার 'সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি' কবিতাটি দ্রষ্টব্য।
যাইহোক, আমি জানি আপনারা এসব ব্যাপারে আমার কাছ থেকে বেশি বুঝেন। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে সেটা বলি। আর্মিকে আমার কোনদিন পছন্দ ছিল না। এটার কারণ দেশের দখলদারিত্ব নিয়ে নেওয়া। আর্মি যখন পলিটিশিয়ান হয়ে যায় সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ আর্মিরা বুঝে 'ব্লাডি সিভিলিয়ান'দের দুচারটে ডান্ডার বাড়ি দিলে সব ঠিক। ওরাই দেশ চালাবে। কিন্তু ইতিহাস বলে আর্মিরা সরকারের আসনে বসে কখনোই সুফল বয়ে আনেনি। উল্টো দেশের বারোটা বাজিয়েছে।

জওয়ানদের দাবীগুলো অবশ্যই নৈতিক। কিন্তু দাবী আদায় করে নিতে গৃহযুদ্ধ কখনো কাম্য নয়। এখনকার পরিস্তিতিতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ক্রিয়েট হইছে। এটাতে দেশের লাভ যে হচ্ছে না এটা তো যে কেউ বুঝতে পারছেন?
এসব জওয়ানদের উপরে অনেক অত্যাচার করা হবে সেটা বুঝাই যাচ্ছে। এটা যাতে নাহয় সেটার জন্য সরকারের এখুনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আর্মিদের এখুনি শান্ত করা উচিত। এটার পরিণাম কখনোই ভালো হবে না। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28917115 http://www.somewhereinblog.net/blog/metalfreakblog/28917115 2009-02-26 21:57:12