আকাশটা ছিল পরিষ্কার । চাঁদটা জোৎস্না ছড়িয়ে জানান দিচ্ছিল তার উপস্থিতি আর তার আশে পাশে কিংবা দূরে ছিল মিটিমিটি তারাদের সহাবস্থান । চাঁদের আলোয় পৃথিবীটা হয়ে উঠেছিল মায়াময় । নিরালা নিস্তব্ধ পরিবেশে তুলার মত সাদা কুয়াশা কাটিয়ে, একা-বেকা রাস্তা'র পাশের গাছগুলিকে সাথে নিয়ে ছুটে চলছিল একটি ছাঁদ খোলা যান । যার মাঝে এই হিম-শীতল পরিবেশে অসংখ্য উষ্ণকারী বস্ত্রের মাঝে ছিল কিছু স্বপ্নখেকো যুবক ছড়িয়ে ছিটিয়ে । তাদের এই গন্তব্যহীন পৃথিবীতে গন্তব্য ছিল এক । তাদের পরিচয় দীর্ঘদিনের নয়, তবে বলা যেতে পারে দীর্ঘক্ষণের । এটা তাদের জন্য অস্বস্তিকর কিংবা আসোয়স্তির কারন হয়ে উঠতে দেয়নি তাদের চোখ । যার দিকে তাকিয়ে নিমিষেই একে অন্যকে তারা পড়তে পারছিল ঠিক যেন খোলা বইয়ের মত কিংবা একে অন্যের কাছে তারা ছিল নিজের প্রতিবিম্ব হয়ে ।
নিস্তব্ধতা ভংগকারী যান ছূটে চলছিল আপন গতিতে, যুবকদের মুখে ছিল শুধু তৃপ্তিময় অকৃত্তিম হাসি । নাহ, তাদের মনে কোন ভয় কাজ করছিল না, কাজ করছিল না কোন সংশয় কারন তারা জানত ভোর হবেই । ভোরের আলোয় তারা স্নান করে হতে পারবে ভারমুক্ত । তাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না কুয়াশা কিংবা ঠান্ডা বাতাস । যা শুধুমাত্র তাদের শরীরকে বিদ্ধ করতে পারছিল মাত্র, মন ছিল তাদের পুরোই উষ্ণ । স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলায় যাদের ব্রত তারা এতটুকু বাধায় থেমে যেতে পারে না তাই ছুটে চলছিল তারা অসীম শুণ্যতার পথে । মাঝে মাঝে রাতের নিশ্চুপ নিরবতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের কন্ঠ হচ্ছিল উচ্চকিত । গান, কবিতা কিংবা স্বপ্ন নিয়ে বিতন্ডাই ছিল তাদের উচ্চারিত কথামালা । দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকলেও স্বপ্নের উপসংহার ছিল এক , হোক না সেটা কবিতা, গান, গল্প কিংবা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ ।
তাই পরস্পরের অজানা, এখানে মূখ্য হয়ে উঠতে পারেনি । গলা মিলিয়েছে একে অন্যের সঙ্গে, অখন্ড নিরবতাকে উপহার দিয়েছে শোরগোলতা ।
কান্নায় লাভ নেই, কান্নায় হবে না
কোনোদিন পদ্মা মেঘনা
দিনের আলোয় শুকিয়ে যাবে সে
হবেনা তো এক নদী যমুনা
যেন তারা জেনে গেছে, কান্নার অপমৃত্যুর কথা । যা শুধু চলার পথের অন্তারায় ছাড়া আর কিছু না । সৃষ্টি করতে পারে না কোনোকিছুই । তাই তারা আজ একতাবদ্ধ কান্নাকে বিসর্জন দেয়ায় ।
আমি আমার আমার দু-চোখ
কখনোই জলে ভেজাব না
এ ব্যাথা আমারাই থাক
চাই না কারো সান্ত্বনা
কান্নাও যেন জেনে গেছে তাদের সংকল্পগাথা, তাই সেও লুকিয়ে পড়েছে আজ । সান্ত্বনাহীন চলতে শিখতে চায় তারা । সংকল্প গুলো তাদের যেন অন্তরের উচ্চারিত কথামালা ।
অদ্ভুত রূপালী রাতের রূপালী চাঁদ ক্রমশই মিয়ম্রাণ হয়ে পড়ছে, তেজদীপ্ত সুর্যের আগমনের বার্তায় । তার নিচে মায়াময় যুবকেরা নতুন ভোর আনার স্বপ্ন নিয়ে জেগে আছে । তারা নতুন ভোরের সুর্যকে আরো দীপ্তিময় করতে চায় কাজের সৃষ্টিকর্তা হয়ে । নতুন ভোর দেখার সৌভাগ্য তাদের ললাটে অঙ্কিত আছে কিনা তাদের জানা নেয়, জানা নেয় শেষ তবুও তারা স্বপ্ন দেখে শেষ দেখার । স্বপ্ন দেখে পরিশ্রান্ত চোখে একটা নতুন ভোরের, নতুন জীবনের কিংবা নতুন স্বদেশের ।
উৎসর্গঃ সেইসকল যুবকদের, যারা স্বপ্ন দেখে কিংবা দেখায় । এবং যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে তাদের কাজই পারে একটা সোনালী স্বদেশ তৈরী করতে ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


