somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি খুনের ইতিকথা!

২২ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে নিঃসংসভাবে একটা খুন করবো। কুচিকুচি করে কেটে মাংস রাস্তার কুকুরদের খাইয়ে দিবো।তারপর ছুড়িটা চুলায় গলিয়ে ফেলবো।
No dead body,
No murder weapon,
No charge,
No punishment!

আমি ছুড়ি-দা কড়কড়ে বালু দিয়ে ধার দিয়ে নিচ্ছি।কোনভাবেই আজ আজমইল্লাকে ছাড়বো না।ওকে খুন করার প্ল্যান আমার অনকে দিনের। ওর প্রতিদিনের রুটিন আমার মুখস্থ!

পুরো নাম আজমল শেখ।বাসা মুসার দোকানের পিছনে বস্তির মত ঘরগুলোতে।সারাদিন মাটি,ইট,বালু টানার কাজ করে।বেশ পেটানো কুচকুচে কালো শরীর। বাসায় তিন ছেলে আর প্রায় আধামরা বৌ।তবে মাঝে মাঝে মেয়েছেলের কাছে যায়।সপ্তাহে ৩দিন শনি,সোম,বুধ!আজ বুধবার।আজ সুফিয়ার কাছে যাবেই।

ঐখান থেকে ফেরার সময় বেশ ক্লান্ত থাকে।ঠিক হুজুরের বাসার গলির অন্ধকারে কাজ শেষ করতে হবে।কুকুরগুলোয় আমার হাত করা।৩ মাস ধরে খাইয়ে খাইয়ে পোষ মানিয়েছি!

পেছন থেকে এক কোপে মাথা আলাদা করে ফেলবো, অনেকটা পদ্মাবত সিনেমায় রণবীর সিং যেভাবে করেছিল। তারপর একটু মাথা ঠান্ডা রেখে পিছপিছ করে কাটা!কতক্ষণ আর লাগবে।আমার কাছে বেশ টাইম আছে।

আমি চাইলে আফতাব সাহেবের নাতি মুসাকেও খুন করতে পারি।ভদ্রলোকের খুব দেমাক।

শিশুদের খুন করা ইদানীং পান্তা ভাত।জমি নিয়ে বিরোধ তার পুলাপান মেরে ফেল,পারিবারিক বিরোধ তার পুলাপান মেরে ফেল, মন চাইছে ধর্ষণ করার পর খুন করে ফেল।রাগটা ঝেরে ফেলা বা প্রতিশোধ নেয়ার নতুন উপায়।খুব সহজ,একটা চকলেট দিয়া ডাকলেই আসবে।তারপর খালি কাজটা করতে হবে।

মুসার কিটক্যাট খুব পছন্দ।তাকে এইটা দেখিয়ে ডাকলে ছুটে আসবে।তারপর ঘরে এনে,গলা টিপে মেরে ফেলবো। ছোট শিশু কতই আর চিৎকার করবে।তারপর এসিডে চুবিয়ে শরীর, মাংস আলাদা করে গলিয়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দিবো।জাভেদ ইকবালের কথা মনে নাই? ঠিক তারই কায়দায় কাজটা করবো। কোন ভূল নেই।

মুসা ধবধবে ফর্সা ছেলে, চমৎকার কথা বলে।আমাদের বাসায়ও আসে মাঝেমধ্যে খেলতে।যতক্ষণ থাকে কথার তুবড়ি ছোটায়।তবে আমি বিরক্ত হতাম না।
ওর মাংস এসিডে গলে নিশ্চয়ই কালো কুচকুচে হয়ে যাবে।একটু গন্ধ হয়তো ছড়াবে, মাছের বা মাংসের আশটে গন্ধ বলে ঠিকই পার পেয়ে যাবো। মাসায় একটা মাছ আগেই পচিয়ে রেখেছি।

আগেই বলেছি আমার প্ল্যান আছে,গভীর প্ল্যান!

আমিতো মিস নাজমাকেও খুনটা করতে পারি।তিনি একাই থাকেন।সিংগেল মাদার।একেবারে রোগা মহিলা, এককথায় বলা যায় পেন্সিল কাঠির মত।
একমাত্র ছেলে সারাদিন এটাসেটা নিয়ে ঝগড়া করে,ভাংচুর করে,বাসায় একা ফেলে চলে যায়।তিনি বাসায় একা-একা কাদেন।

তাকে খুন করলে আমাকে কেউ সন্দেহই করবে না।তিনি আমাদের নিচের ফ্ল্যাটেই থাকেন।মাঝেই এটাসেটার জন্য আসেন।আমি গেলে নিশ্চয়ই আশ্চর্য হবেন না?গিয়ে কলিংবেলটা চাপবো, আর দরজা খুলতেই মাথায় জোরে বসিয়ে দিবো এক ঘা! ঊনার যে বয়স,একটাতেই শেষ হয়ে যাবার কথা!

সবাই ভাববে নেশাখোর ছেলে টাকার জন্য মাকে খুন করেছে।পেপারে হেড লাইন হবে।কপাল ভালো থাকলে প্রতিবেশী হিসেবে আমার সাক্ষাৎকারও চাইতে পারে সাংবাদিকেরা!

কি? খুত আছে আমার প্ল্যানে? নেইতো!আমি জানি।

ঠিক এমনি নিখুঁতভাবে খুন করা হয়েছিল আমার মা মরা ছোট মেয়ে রোজকে!

কি দোষ হত, যদি আজমল আমার মেয়েকে প্রাইমারী স্কুলের পাশের পরিত্যক্ত বিল্ডিংটা ঢুকতে দেখেই ধমক দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিতো?যদি মুসা সেদিনও আমাদের বাসায় খেলতে আসতো? মিস নাজমা যদি উচ্চ শব্দের অভিযোগ না জানাতেন, মেয়েটাকে বকা না দিতেন, তাহলে কি আমি মেয়েকে বাইরে যেতে দিতাম? আমার রোজের মৃত্যুর জন্য এরা কি দায়ী নয়?

আমার মেয়েটাকে নির্দয়ভাবে বলৎকার করে মেরে ফেলা হয়েছিল।বিবস্ত্র শরীরটা পরে ছিল পরিত্যক্ত গার্মেন্টস বিল্ডিংয়ে,মাথাটা আজ ১ বছরেও খুজে পাওয়া যায়নি!আমার মেয়েটাকে আল্লাহ মায়ের আদরের ভাগ্য দেয়নি, কিন্তু অতটুকু বয়সেই কি কষ্টই না পেয়েছে সেদিন!

এই যাহ, ফজরের আযান পরে গেল।যাই নামাজ পড়ে দোয়া করে আসি।আল্লাহ যাতে আমার মেয়েটাকে আর কষ্ট না দেন।

খুন কিন্তু আমি এদের করবোই। আমার গভীর প্ল্যান আছে, গভীর প্ল্যান!
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ আশাহত বালকের আত্মকথা!!

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২২



একদা করিয়াছিলাম পণ ছোটবেলায় মনে
সুখি হইতে হইবে আমায় এই জীবনে,
বড় উচ্চাশায় করিলেন ভর্তি স্কুলেতে পিতা
ফি বছর রেজাল্ট দেখে বুঝিলেন সবই বৃথা।

বিদ্যা অর্জন নিতান্তই কঠিন শক্ত মর্ম তাহার,
অবশেষে উপলব্ধি করিলাম এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মরণে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪


বিশ্বজুড়ে তোমারই জয়
হে জাতির পিতা
শত বছরের বন্দী জাতির
তুমি ভাগ্য বিধাতা ।।
সালাম তোমায় প্রণাম তোমায়
জানাই নমষ্কার
সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য
তুমি অনন্য অহংকার।।
ভুলিতে পারনিি তোমায়
ভোলা কি যায় ?
দিকভ্রান্ত দুষ্টু লোকের
নানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Prescription

লিখেছেন রেজা শাহ্‌, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯



কলিজাকে ডাক্তার দেখিয়ে Prescription নিলাম ।

মোবাইলে Prescription এর ছবি তুলে ফার্মেসিতে গেলাম ঔষধ কিনতে।

বল্লো হবে না,
অরিজিনাল Prescription ছাড়া কোন মতেই ঔষধ দিবেন না ।

না তো নাই।

= বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুধে ভেজাল মেশানো কোম্পানিগুলো বিপদে ফেলে দিয়েছে খামারিদের

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

নিজেদের খামারে উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারিরা। ওই অঞ্চল থেকে মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার পর প্যাকেটজাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রেমবন্দির গল্প-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১০

©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
গত এপ্রিল মাসে আম্মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ইসলামিয়া ইস্পাহানী চক্ষু হাসপাতাল চোখ দেখাতে। সেখানে চোখ দেখাতে অনেক ঘুরাঘুরি করতে হয়। ফাইল কাগজপত্র এখান থেকে সেখানে, সেখান থেকে ওখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×