১১ই মে কুরআন দিবস :: ১৯৮৫ সালের এই দিনে
১১ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪০
১০ই এপ্রিল ১৯৮৫। কলিকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মিসেস খাস্তগীরের আদালতে কুরআনের সকল আরবী কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়ে পদ্ম চোপরা ও শীতল সিং একটি রীট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ১২ই এপ্রিল’৮৫ বিচারপতি তিন সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভারতসহ সারা বিশ্ব প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মুসলিম জনতাও এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকে মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও সর্বাত্মক প্রতিবাদের উদ্দশ্যে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদকে আহ্বায়ক করে একটি প্রতিবাদ কমিটি গঠন করা হয়। মাওলানা হোসাইন আহমদ এর আহ্বানে ১১ই মে বিকাল ৩ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে রীট আবেদনের প্রতিবাদে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। ঐ দিন সকালের দিকে প্রতিবাদ কমিটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেকে চাপ দিয়ে সভা স্থগিতের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। প্রশাসন নিজ উদ্যোগে সভা স্থগিত করা হয়েছে মর্মে সভা শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে থেকে মাইকিং করা শুরু করে। কিন্তু জনতা প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকে। উচ্ছসিত জনতার মিছিল শ্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় কুখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট ওহেদুজ্জামান মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে জনতাকে গালি গালাজ করতে থাকে এবং কোনভাবেই এখানে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানায়। এ পরিস্থিতিতে মাওলানা ইসারুল হক সাহেব ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শুধুমাত্র মুনাজাত করেই সভা শেষ করে চলে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ওহেদুজ্জামান মোল্লা এ আবেদন প্রত্যাখান করলে জনগন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করলে জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাজিস্ট্রেট নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালাতে নির্দেশ দিলে ঘটনা স্থলেই এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে ৮ জন মৃত্যু বরন করে।
সেদিন সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের বিদ্বেষমূলক আচরনের কারনেই সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম হয়। পুলিশের নিশৃংসতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, গুরুতর আহতদের নিয়ে রাজশাহী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যখন থানার সামনে দিয়ে একটি বাস যাচ্ছিল তখন সেই বাসেও তারা হামলা চালায় এবং গুলি করে একজনকে হত্যা করে এবং হেলপারসহ অনেককে আহত করে।
এই দিনে এদেশের ইসলাম প্রিয় জনতা প্রমাণ করে ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন ষড়যন্ত্র নিজের জীবন দিয়ে হলেও তারা প্রতিরোধ করবে ইনশাল্লাহ্ ।
এদিকে বিশ্ব মুসলিমের প্রতিবাদের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ মামলাটি খারিজের জন্য এটর্নী জেনারেলকে নির্দেশ দেয়। ১৩ই মে কলিকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বি. সি. বসাকের আদালতে স্থানান্তরিত হলে মামলাটি তিনি খারিজ করে দেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ইবনে সালাম বলেছেন:
ম্যাজিস্ট্রেট ওহেদুজ্জামান মোল্লার কিছু হয় নাই? মিজু আপনার ইমেইল এড্রেসটা দেবেন?
ধূসর ছায়া বলেছেন:
শুধু সত্য প্রকাশের জন্য, শুধু সাংবাদিক হওয়ার জন্য কেন তাসনিম খলিলকে আটক করবে সেনাবাহিনী? একজন তাসনিম খলিলের চেয়ে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশের জন্য বেশি কি করছে? আমরা কি মধ্যযুগে বাস করি যে আমাদের মত প্রকাশের অধিকার থাকবে না। তথ্য জানার অধিকার থাকবে না। এই গ্রেফতার এরকম আরো প্রশ্ন, আরো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লিখুন। সহব্লগার তাসনিম খলিলের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জানিয়ে দিন যে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।
অন্য পোস্ট আমরা দিতে পারবো অনেকদিন। আজকের পোস্টের বিষয় হোক:
১. সেনাবাহিনী
২. সংবিধান ও জনগণের অধিকার
৩. তাসনিম খলিল ও তার রিপোর্টিংয়ের বিষয়
৪. তথ্যের অধিকার ও এই শতাব্দী।
এসব বিষয়ে মিনি-প্রবন্ধ হতে পারে, হতে পারে ফিচার, কৌতুক, এমনকি উদ্দীপনামূলক গান হতে পারে, কার্টুন হতে পারে। তবে সবকিছুর উদ্দেশ্য হোক প্রতিবাদ।
সংগ্রামী অনুরোধ থাকলো সহব্লগারদের প্রতি।
আসুন প্রতিবাদ করে জানিয়ে দেই, আমরা আমাদের অধিকারের এক কণাও ছাড়তে নারাজ।
দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন:
আপনাকে সংগ্রামী অভিনন্দন।প্রতিবাদ স্বত:স্ফূর্ত। প্রতিবাদ একটি অধিকারের নাম।
এতটা সংকোচ, এত সেল্ফ সেন্সরশিপের দরকার নেই।
আমরা লড়াকু জাতি। লড়াই করে অধিকার আদায় করতে জানি।
খোলস ভেঙে বেরিয়ে এসে শ্লোগান দিতে জানি।
আবারও শুভেচ্ছা। তাসনিম খলিলের মুক্তির আন্দোলনের সাথেই থাকুন।
পাশা বলেছেন:
১১ই মে কুরআন দিবস এরকম স্মরনীয় দিনের পোষ্টের জন্য মিজুকে ধন্যবাদ।তাসনিম খলিলের মুক্তির আন্দোলনে আমরাও আছি।@ ধূসর ছায়া ।
যেকোন রকম অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতন মানুষেরা সব সময় ...
এবং এরকম অবরোধ আরোপ করতে গিয়ে কখনই কেউ সফল হয়নি। ...ধন্যবাদ
আজকের তাসনিম খলিলের ব্যাপারেও একই কথা
"Al Quran" because some on may have tried to Ban Quran in India. Islam is a religion and life style with history back to about 1500 years and survived the test of time. And all of a suddent today will become the "Al Quran" day.
Pure stupidity
মিজু বলেছেন:
আসসালামুআলাইকুম। আঈজুদ্দিন চৌধুরী ভাইকে আল্লাহ্
আশরাফ রহমান বলেছেন:
মিজু ভাই, আমাকে একটা মেইল দিয়েন তো।
আশরাফ রহমান বলেছেন:
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
কুরআন আমার ডংকাআমার কিসের শংকা
আমার নাহি নাহি ভয়
ইসলাম আমার পরিচয়।
........কাজী নজরুল ইসলাম
যারা তোমার কিতাবের অবমূল্যায়ণ হতে দিতে চায় নি, যারা নিজেদের জীবন থেকে কুরআনের টান বেশি অনুভব করেছে, তাদেরকে তুমি সর্বোচ্চ প্রতিদান দাও।
........মিজু ভাইকে ধন্যবাদ
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
মাহমুদ রহমান বলেছেন :[কুরআন আমার ডংকা
আমার কিসের শংকা
আমার নাহি নাহি ভয়
ইসলাম আমার পরিচয়।
........কাজী নজরুল ইসলাম]
হ এই নজরুলই আবার কৈছে:
মানুষেরে ঘৃণা করি
ও কারা কুরান বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি।
ওমুখ হতে কিতাব গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ কেতাব
সেই মানুষেরে মেরে
পুজিছে গ্রন্থ, ভন্ডের দল!
মুর্খরা সব শোন,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।
====
আমি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের লগে একমত না। আমি কোরান ক্যান, যে কোন বই ব্যান করণের বিপক্ষে। তয় নজরুলরে যেমনে ইসলামী কবি বানাইছেন আপনেরা, তার প্রতিবাদ কৈরা গেলাম। মানুষের ফিলোসফিটারে বোঝেন আগে! "মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।" বুঝলেন কিছু?
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
কুরআন যদি চুমু খাওয়ার বিষয় হয়, আলগা সম্মানের বিষয় হয়..... তাহলে নজরুল ঠিকই বলেছেন। এটা কুরআনের আসল রুপ নয়, এমনটি মানুষই করেছে...... আর নিশ্চয়ই তা মানুষ আনতে পারে না।ইসলামী কবি আমি কখন বানাইলাম। তার কবিতা দেখেই তো আপনি দাবী করছেন আমরা তাকে ইসলামী কবি বানিয়েছি।
যুগ যুগ ধরে কুরআন পড়ে অনেকে হেদায়াত প্রাপ্ত হন না, আবার সামান্য সময় কুরআন পড়েই অনেকে সত্যের সন্ধান পান। দু'জনের কাছে নিশ্চয়ই গ্রন্হটি ভিন্নভাবে ধরা দেয়।
আতরাফ রহমান বলেছেন:
কথা বার্তা সাবধানে বল যুক্তি। আগুন নিয়ে খেলছো।
যুঞ্চিক্ত বলেছেন:
মুর্খরা সব শোন,মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।
মাহমুদ সাব, নজরুল কোট করনের আগে আরেকবার চিন্তা কৈরেন
আরশাদ রহমান বলেছেন:
"মৌ-লোভী যত মৌলভী আর মোল্-লারা কন হাত নেড়েদেব দেবী নাম মুখে আনে যত দাও পাজিটার জাত মেরে!
ফতোয়া দিলাম কাফের কাজী ও
যদিও শহীদ হইতে রাজী ও!
আম পারা পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়া ভাত মেরে"
--------
"কেন খুঁজে ফের দেবতা ঠাকুরে মৃত পুঁথি কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!"
-নজরুল
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
নজরুলের কবিতায় সমাজের প্রকৃত রুপই ফুটে উঠে। আসল কাজ ছেড়ে দিয়ে ধর্মগ্রন্থকে নিয়ে এরকম আলগা ফুটানি দেখলে ক্ষোভে দুঃখে এরকম বক্তব্য আসা অলীক নয়......এনিওয়ে, নজরুলের শেষের লাইন যদি আপনি যেটা মিন করছেন সেটাই মিন করে থাকে তবে তা আমি মানি না।
মাহমুদ রহমান বলেছেন:
@ যুঞ্চিত
আরশাদ রহমান বলেছেন:
ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন, সৃস্টি নিয়ে আলোচনা করবেন অথচ দৃস্টিটা খুলবেনা তাহলে কি করে হবে।সৃস্টিকর্তা এবং সৃষ্টিকে বোঝাকি এত সোজা। হৃদয় মনে খোলে ভাবতে হবে।
নজরুলের সাথে কিছুদিনের জন্য হলেও আমার নানার সুযোগ হয়েছিলো সময় কাটানোর।তার কাছে গল্প শুনেছি। নজরুলের চিন্তাধারাকে শব্দার্থ করে বোঝার চেস্টা করা মোটেও ঠিক না। ইচ্ছামত তাঁকে ইসালমি কবি আবার ইসলাম বিরোধী না বলে আসল কথা বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
আতরাফ রহমান বলেছেন:
যা! শালা, নজরুল হালায় দেখি মুরতাদ। বাজে কথা কয়। ফররুখই আমাদের জাতিয় কবি করা দরকার ছিল।
তাহসিন সাঈদা মুন বলেছেন:
লেখাটা হৃদয়স্পর্শী। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাটা কঠিন। কান্না এসে গেল। আমি কত কম জানি। আশরাফ ভাইয়ার সাথে একমত পোষন করলাম।আঈজুদ্দিন চৌধুরীর কমেন্ট পড়ে অবাক হলাম। মুগ্ধ হলাম। ইস.. বাংলাদেশের সব মানুষ যদি তার মেধাকে ভালো কাজে ব্যবহার করত? আশা করি।
এই পোস্টে আরেকটা বিষয় ভালো লাগল, গালাগালি ছাড়া যুক্তিতর্ক।
কারও একটা লেখার সাথে ঐক্যমত্য এবং আরেকটি লেখার সাথে ভিন্নমত তো থাকতেই পারে। তাই না? ভালোটা গ্রহণ আর খারাপটা বর্জন করার চেষ্টা করা ভালো মনে করি।
ভুতের ওস্তাদ বলেছেন:
টটট
আবূসামীহা বলেছেন:
৫...অনেকদিন পরে আপনার ব্লগে আসলাম, দেখলাম, ভাল লাগল।
আপনি অনেক ইতিহাস ধারণ করে আছেন, যা হারিয়ে যাচ্ছে।
সংগ্রামী আমরা, সংগ্রাম চালিয়েই যাব।
"আমাদের কথাগুলো এমনি করেই বহুদিন
মুছে দিতে চেয়েও পারেনি।
সত্যের কথা মোরা বলেই যাব
বাধার পাহাড় যত মাড়িয়ে।"
আবূসামীহা বলেছেন:
মনেপড়ে, আমি তখন ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম বাড়ির পাশের মাঠে।
একজন এসে একটা বুলেটিন দিলেন।
হেডলাইন ছিল "এ খুন ছড়াবে আগুন সবখানে"। স্কুল ছাত্র আব্দুল মতিন, শীষ মুহাম্মদ সহ আরো অনেকে সেদিন কুর'আনের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে তাদের সর্বোচ্চ কুরবানী দিয়েছিল।
আল্লাহ্
রাজমুকুট বলেছেন:
আশরাফ রহমান বলেছেন: আল কুরআনের অবমাননা, সহ্য করা হবে না।কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় শাহাদাতকারীদের পরিবারের সবার প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।... পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় শাহাদাতকারীদের পরিবারের সবার প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।... পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।