আমার প্রিয় পোস্ট

বদর দিবস

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৩

শেয়ারঃ
0 0 0

আমাদের সবারই জানা আছে আজ ১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস । এই দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে বদর প্রান্তে ইসলাম ও বাতিলের মাঝে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল । সত্য ও মিথ্যার এ লাড়াইয়ে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাঁর প্রতিশ্রুত সাহায্য মুসলিমদের জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং সত্য জয় লাভ করেছিল । মুশরিকদের প্রায় ১০০০ জন সৈন্যের বিপরীতে ৩০০ এর চেয়ে কিছু বেশি মুসলিম অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে অসম এই লড়াইয়ে সময়ের দাবী পূরণে ঝাপিয়ে পড়েছিল ।


যুদ্ধ শুরুর আগের দিন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিক কুরাইশদের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যাপারে সাহাবীদের মতামত জানতে চাইলেন । মুহাজিরদের মধ্য হতে বিশিষ্ট কয়েক জন সাহাবী তাদের মত প্রকাশ করার পর হযরত মিকদাদ ইব্‌ন আমর (রা) বললেন-
“হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাকে যে পথ দেখিয়েছেন তার ওপর আপনি অবিচল থাকুন । আমরা আপনার সঙ্গে রয়েছি । আল্লাহ্‌ তায়ালার শপথ, বনী ইসরাঈল হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-কে যে ধরনের কথা বলেছিল, আমরা আপনাকে ওরকম কথা বলব না । বনী ইসরাইলরা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-কে বলেছিল,
‘.....হে মূসা, সেই (শক্তিশালী) লোকেরা যতোক্ষণ সেখানে থাকবে, ততোক্ষণ আমরা কোনো অবস্থায়ই সেখানে প্রবেশ করবো না, তুমিই (বরং) যাও, তুমি ও তোমার মালিক উভয়ে মিলে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম । (সূরা মায়েদা-২৪)’


আমরা বলবো যে, আপনি এবং আপনার প্রতিপালক লড়াই করুন, আমরাও আপনার সাথে লড়বো । সেই মহান সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন আপনি যদি আমাদের বারকুল গামাদ পর্যন্তও নিয়ে যান তবু আমরা সারা পথ লড়াই করতে করতে আপনার সাথে সেখানে পৌঁছুবো ।”


আনসারদের পক্ষ হতে আনসারদের অধিনায়ক সা’দ ইব্‌ন মা’য (রা) বললেন- “----- । সেই আল্লাহ্‌ তায়ালার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদের সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান তবে আমরাও ঝাঁপিয়ে পড়বো । আমাদের একজন লোকও পিছনে পড়ে থাকবে না । আগামীকাল আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করলেও আমাদের কোন আপত্তি নেই । আমাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদন্দ্ব নেই । যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা রণনিপুণ । এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ্‌ পাক আমাদের মাধ্যমে এমন বীরত্বের প্রকাশ ঘটাবেন যা দেখে আপনার চক্ষু শীতল হয়ে যাবে । আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে চলুন । আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের যাত্রা পথে বরকত দিন ।”


সেদিন যেমন সাহাবীরা তাদের লোকবল ও যুদ্ধাস্ত্রের স্বল্পতা সত্ত্বেও সময়ের দাবী অনুযায়ী মুশরিকদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেননি তেমনি বর্তমানেও যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, ইসলামের অগ্রযাত্রকে থামিয়ে দিতে চায়, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে মুছে ফেলতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আজ রুখে দাঁড়াবার সময় এসেছে । মুসলিম মাত্রই আজ সময়ের দাবী হচ্ছে- যেখানেই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সেখানেই তাদেরকে মোকাবেলা করা, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা, বিনা চ্যালেঞ্জে তাদেরকে ছেড়ে না দেয়া । বদর প্রান্তে সাহাবীরা যেমন তাদের লোকবল ও যুদ্ধাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে ভীত বা চিন্তিত ছিলেন না, তেমনি আজও আমাদের কোন কিছুর স্বল্পতা নিয়ে ভীত বা চিন্তিত হওয়া ঠিক হবে না ।


মুসলিম হিসেবে সময়ের দাবী পূরণের তাওফীক আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের দান করুন- বদর দিবসে এই হোক আমাদের প্রার্থনা ।


 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৩
েব।তলভূত বলেছেন: ভাবতেই গর্ববোধ হয়, ইসলামের কত চমত্কার ইতিহাস।তবে এখনকার বিশ্বের সাথে তুলনা করাটা কি ঠিক?ঐ সাহাবিদের মত এখন মুসলিমরা কি?অন্যকে দোষারোপ করবার আগে আসুন একবার নিজেদের দিকে তাকাই।সঠিক ইসলাম কি আমরা মেনে চলছি?
৫. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৭
চে বলেছেন: , শিবির সহ সকল ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ী নিপাত যাক, এই হোক আজকের বদর দিবসের প্রার্থনা।

৫ দিলাম।
৬. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৪
'ভিমরু' বলেছেন: @ েচ
জামাত কি? ইসলাম নিয়ে কথা বললে যদি কেউ জামাত হয় তাহলে আমি নিজেকে জামাত ঘোষনা করলাম। এবং আমি গর্বিত।


ধন্যবাদ মিজু ভাই। ৫
৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৯
ব্লুজ বলেছেন: আমরা কেন ইসলাম আর জামায়াত কে একসাথ করি? ইসলাম আর জামায়াত সমার্থক নয়। জামায়াত ইসলাম ধর্মকে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের কৃতকর্ম ঢাকার জন্য আর মানুষের ধর্মানুভুতিকে পুঁজি করে অভীস্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। দয়া করে ইসলাম আর জামায়াত কে একসাথ করবেননা কারন এতে তারাই লাভবান হচ্ছে। সাধারন মানুষ ধরে নিচ্ছে জামায়াত ইসলাম ধর্মের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ৫

৮. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩০
তাওহিদ সিকদার বলেছেন: ৫ দিলাম চাইলে আরো দিমু~
৯. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪২
ইকারুস বলেছেন: মুসলিম হিসেবে সময়ের দাবী পূরণের তাওফীক আল্লাহ্
১০. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫১
আশরাফ রহমান বলেছেন: লেখাটার দরকার ছিল । ৫
১১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
আশিক হাসান বলেছেন: কোথায় বদর আর আজ আমরা(মুসলমান) কোথায় ?
উপলদ্ধির আর কত দেরী ?
ধর্মীয় গোড়ামী আর ভন্ডামী দুর হউক ।
ইসলাম মুক্ত হউক মুনাফেকদের হাত থেকে যারা ইসলামকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে ।
প্রকাশ্য শত্রু অপেক্ষা গোপন শত্রু আরও ভয়ন্কর।
আল্লাহ আমাদের ইসলামকে জানার এবং কর্মে তা রুপ দেবার শক্তি দিন।
১২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৯
বুড়া শাহরীয়ার বলেছেন: সুন্দর লিখা
১৩. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩১
চে বলেছেন: @'ভিমরু'
জামাত ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ী । আপনার ঘোষনার জন্য ধন্যবাদ।

অনুন্নত পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্হায় অনেক রকমের ব্যবসা থাকে।

সকল সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, এই হোক বদর দিবসের শিক্ষা।

পোস্টকারীকে আগেই ৫ দিয়েছিলাম।
১৪. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:২৬
আবূসামীহা বলেছেন: ৫...
জামা'আতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুরা বেশী কথা বলার মানেই হল তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম দল ও গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে এই দলটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ।
এজন্য মুসলমানদের যে গোষ্ঠিই কোন কাজ করুকনা কেন, ইসলামের শত্রুরা তাকে এই দলটির উপর চাপিয়ে দেয়। এটা তাদের একটা বড় পাওনা আমার মতে। তারাই প্রথম ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান রূপে তুলে ধরে প্রচলিত সব মতবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় ইংরেজ শাসনোত্তর উপমহাদেশে। হতে পারে তাদের কর্মপদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু শত্রুরা তাদেরকেই এখনো নিজেদের পথের বড় বাধা মনে করে।
ইসলামপন্থী ব্লগারদের বলবো যদি তাদের কর্ম্পদ্ধতি পসন্দ না হয় তবে তাদের সাথে থাকবেননা। কিন্তু মুসলমানদের কোন দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে পাবলিক ফোরামে অহেতুক নিফাকের বা কুফরীর অভিযোগ উঠাবেননা। এটা করলে আপনি শত্রুদের হাতেই শুধু অস্ত্র তুলে দেবেন।
আমাকে কেউ কোন মুসলিম গোষ্ঠির বিরুদ্ধে বলতে বললে আমি অস্বীকার করি, ফলে তারা আমাকে সেই গোষ্ঠির সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযুক্ত করে। এতে আমি আহত হইনা। কারন, "মুসলিমরা হলো ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে সংশোধন করে নাও।"
১৫. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:০৫
আওরঙ্গজেব বলেছেন: "মুসলিমরা হলো ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে সংশোধন করে নাও।"
১৬. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:২৭
তােরক েনামান বলেছেন: ৫ বদর মানে অনেক তাগুতের বিরুদ্ধে অল্প ক'জন মুমিন,
বদর মানে আল্লাহ্‌র সাহায্য সীমাহীন।
বদর মানে যেখানে কলুষতা সেখানেই প্রতিরোধ,
বদর মানে মানুষের জন্য ভালবাসা, অগুনতি দরদ ।
৫ ৫ ৫

১৭. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:২৮
ইবনে সালাম বলেছেন: বদর যুদ্ধের বীর সাহাবীদের স্মরণ করছি। তাদের মতো আত্মত্যাগী হতে পারলে বর্তমান যুগেও ইসলামের বিজয় সম্ভব। ৫
১৯. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:৪৯
ডক্টর ইভিল বলেছেন: আল বদর নাম খুনি বাহিনী গঠনের মাধ্যমে এবং তা দ্বারা নিরীহ মানুষ হত্যা করে এবং নারী ধর্ষনের সহয়াতা করে জামাতে ইসলামী ১৯৭১ সনে বদর যুদ্ধ এবং তার সাহাবীদের অবমাননা করেছে এর জন্য জামাতে ইসলামীর শাস্তি চাই

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯১৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই