পূর্বে প্রকাশের পর
...........................
দেখলাম একদৃষ্টিতে শ্রাবণী আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বললাম শুনতে চাও? সহ্য করতে পারবে?
"আমাকে সব খুলে বলো।" বলল শ্রাবণী।
আমি বললাম, আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছিল সে আর কেউ না, রবিন। সে এইকাজ করেছিল শুধু তোমাকে বিয়ে করার জন্য। ওর পক্ষে সব কিছুই সম্ভব ছিল কারণ ও তো নোংরা রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।
আমার এ কথা শুনে শ্রাবণী আকাশ থেকে পড়লো। কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থেকে ঝরঝর কেঁদে ফেললো। বললাম, এখন আর দুঃখ করে কোন লাভ নেই।
শ্রাবণী আমাকে চমকে দিয়ে বললো, "আমার বিয়ের ছয়মাস পরে রবিন এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। তারপর থেকে আমি আমার খালার সাথে মিরপুরে আছি।"
এই মুহুর্তে আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি বলা উচিত। দীর্ঘদিন কোন খোঁজখবর না রাখার জন্য রবিনের শেষ খবরটা অবশ্য আমি জানতাম না। সত্যিই শ্রাবণীর জন্য তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল।
দেখলাম শ্রাবণী কেঁদেই চলছে। আমি ওকে এ কান্না থামানোর জন্য কোন সান্তনাই দিতে পারলাম না।
এভাবে কেটে গেল বেশ কিছু সময়। বললাম কিছু খাবে? ও বলল "না"।
শ্রাবণী, আমার জাপানের স্কলারশীপটা হয়ে গেছে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই আমাকে চলে যেতে হবে। প্রথম অবস্থায় ১ বছরের মত থাকতে হবে। তারপর দেশে ঘুরতে আসতে পারবো। বললাম, আমি।
ও বললো, "হ্যাঁ সব কিছুই হলো তবে অনেক সময় নিয়ে। "
দেখলাম শ্রাবণী অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। নিজেই আইসক্রীমওয়ালার কাছ থেকে ২ টি আইসক্রীম নিল।
"জানো, তোমার কথা আমি আমার খালাকে সেদিন বললাম। তোমাকে বাসায় যেতে বলেছেন খালা।" শ্রাবণী আমার দিকে তাকিয়ে বললো।
খালা মানে, ছোট খালা? হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে, কণা খালা। বললাম আমি।
শ্রাবণী আমি একটু মতিঝিল যাবো। আমার কিছু কাগজপত্র ইংরেজীতে কনভার্ট করতে হবে। চলো আজ উঠি।
শ্রাবণীর মুখ দেখে মনে হয়েছিল ও আরো কিছুক্ষণ বসতে চায় আমার সাথে। আমি বললাম, তুমি কি কিছু বলতে চাও?
..........................
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



