পূর্বে প্রকাশের পর
.............................
শ্রাবণী বললো, তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তবে আমি তোমার সাথে মতিঝিল যেতে চাই।
বললাম, "না সমস্যা মানে, ঠিক আছে চলো।" এই কথাতে ও যেন খুব খুশি হলো। একটা রিক্সা নিয়ে ঢাকা ভার্সিটির ভিতর দিয়ে পৌঁছালাম দৈনিক বাংলা মোড়ের ঢাকা অনুবাদ কেন্দ্রে। রিক্সায় যেতে যেতে শ্রাবণীর সাথে অনেক কথা হলো। ও মাঝে মাঝে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিল। ও বলছিল, "তোমার জন্মদিনে আমরা সারাদিন রিক্সায় চড়ে সারা রাজশাহী শহর ঘুরে বেড়াতাম। অনেক মজা করতাম। কিন্তু কোথায় চলে গেল আমার সেই সব স্বপ্নের দিনগুলো?"
আমি বললাম, এসব কথা এখন বলে কিই বা লাভ। মাঝখানের অনেক গুলো বছর আমাদের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে।
কাজ সারতে সারতে প্রায় বিকাল ৩টা বাজলো। এরই মধ্যে খন্দকার রেষ্টুরেন্টে বসে লাঞ্চ সারলাম।
একটা সি এন জি বেবীটেক্সি নিয়ে রওনা দিলাম বাসার দিকে। আমি ফার্মগেটে নেমে গেলাম আর ও চলে গেল মিরপুরে সেই গাড়ীতেই।
আমি নেমে যাওয়ার সময় আমাকে খুব আশ্চর্য করে দিয়ে ওর ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো, "তোমার জন্মদিনের উপহার।"
আমি চলে এলাম বাসায়। প্যাকেট খুলে দেখলাম একটি রোমান্সন হাতঘড়ি। ঘড়িটা বেশ সুন্দর আর দামী। ওটা আমি এখন ব্যাবহার করছি।
এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুদিন। শ্রাবণীর সাথে আমার প্রায় প্রতিদিন মোবাইলে কথা হয়। বুঝতে পারি ওর এতে ভাল লাগে। এরই মধ্যে কণা খালা আমাকে ওনার বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এভাবে শ্রাবণীর সাথে আমার সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে। আমি আর শ্রাবণী ভুলে যেতে থাকি আমাদের অতীত। এখন শ্রাবণী আগের মত হাসে, কথা বলে।
আমারও জাপান যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসে।
একদিন শুক্রবার সকালে কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলে দেখি শ্রাবণী আমার দরজায় দাঁড়িয়ে।
বললাম, "শ্রাবণী তুমি?"
........................
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



