somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাঝামেলায় আছি এই ক্রেডিট কার্ড নিয়ে

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ষ্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের ক্রেডিক কার্ড ইউজ করছি প্রায় বেশ কয়েকবছর হলো। কোনদিন আমার কোন সমস্যা হয়নি। আমার ক্রেডিট লিমিট ৭০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ভাল ভাবেই বিল আসে অফিসের ঠিকানায় আমিও বিল পরিশোধ করি সময়মত। কোনদিন ডিফল্টার হইনি। বরং প্রচুর কেনাকাটা করার জন্য আমার লিমিট ২০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকায় উন্নিত হয়। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটার জন্য যে পয়েন্ট পাই তাতে আমার বছরে বোনাস হিসেবে ইয়ারলী ফি মওকুফ হয়ে যায়। এককথায় আমি এই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সন্তষ্ট।

চার মাস আগে অফিসে এক মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আসলো ব্র্যাক ব্যাংক থেকে বললো, যাদের অন্য কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কাড আছে তাদেরকে ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দেয়া হবে যার ক্রেডিট লিমিট হবে পূর্বের কার্ডে ১.৫ গুন এবং কোন ইয়ারলী ফি নেই। ভাল কথা। আমি ফরম ফিলাপ করলাম। বেশ কয়েকদিন পরে ক্রেডিট কার্ড পেলাম। গোল্ড কার্ড। লিমিট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।

পিন নাম্বারের জন্য ১৩ বার ফোন করে অবশেষে পিনের চিঠি হাতে পেলাম। যাক প্রথম মাসে কার্ড ইউজ করলাম না। যথা সময়ে বিল পেলাম ১০০০.৮২টাকার। ফোন দিলাম কাষ্টমার কেয়ারে। বেশ কয়েকবার ফোন করে লাইন পেলাম না। অবশেষে ১০ মিনিটে আমাকে কিউতে রেখে এক সুকন্ঠী ফোন ধরলেন, বললেন, কেমন আছেন স্যার? বললাম, আপনারা যেমন রেখেছেন। লাইন পেতে এত দেরী হওয়ার কথা জানতে চাইলাম। সুকন্ঠী রিনিঝিনি করে বললেন, আমাদের অনেক কাষ্টমার তো তাই। বললাম, গ্রামীনফোন থেকেও কি আপনাদের বেশী ক্লাইন্ট?

জানতে চাইলাম, আমার বিলের ব্যাপারে। উনি আমাকে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপরও বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয়েছে কাষ্টমার কেয়ারে কেউ কোন কথা বলতে পারনেনি। অবশেষে গেলাম গুলশান ব্র্যাঞ্চের কাষ্টমার কেয়ারে। দেখলাম, এক সুন্দরী বসে আছেন আমাদের সাথে কথা বলার জন্য। উনি সবার সাথে কথা বলছেন বেশ হেসে হেসে দাঁত বের করে। কেউ কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন উনার সৌন্দর্য দেখে। আমারও ভাল লাগলো ওনাকে দেখে। জানতে চাইলাম, কেন আমার উপর আপনার ব্যাংকের এই নির্যাতন? উনি বললেন, আপনার লেট পেমেন্ট ফি আছে। আমি বললাম, আমি তো এখনও কার্ড ইউজ করিনি। তাহলে লেট পেমেন্ট ফি আসলো কি করে? সুদর্শনা মহা চিন্তায় পড়লেন। বললেন, স্যার আমাদের ব্যাংকিং সফটওয়্যারে ভুল হয়ে গেছে, আপনি কাইন্ডলি মিনিমাম এমাউন্ট ৫০০ টাকা দিয়ে দিন পরের মাসে আমরা এটা এডজাষ্ট করে দিবো। সুন্দরীর কথা শুনে আশায় বুক বেঁধে ৫০০ টাকা দিলাম।

পরের মাসের বিল পেলাম না অফিসের ঠিকানায়। অবশেষে সুন্দরীর দারস্থ হলাম। বলল, স্যার আপনার এমাসের বিল ৬৭ টাকা। আপনি দিয়ে দিন। বললাম গত মাসের তার প্রতিশ্রুতির কথা। উনি আমাকে সুন্দর হাসি দিযে আস্বস্ত করলেন, কিছু মনে করবেন না। আমাদের সফটওয়্যারে সমস্যা হয়ে গেছে। সামনের মাসে ঠিক করে দিবো। আমি লিখিত নিয়ে আসলাম। আমি ৬৭ টাকা জমা দিয়ে দিলাম। ওনার মোবাইল নাম্বার আর নাম লিখে দিলেন। বললেন, এবার সমস্যা হলে ফোন দিবেন আর কষ্ট করে ব্যাংকে আসতে হবে না।

জানিনা আবার সুন্দরীর সাথে দেখা হবে কিনা? আপনি যদি এই ব্যাংকের কাষ্টমার কেয়ারে যান তবে দেখবেন যে, সবাই একই সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছে। আমার অফিসের বেশ কয়েকজন কলিগের এই সমস্যা। যারা কার্ড করেছে তাদেরই সমস্যা। এই ব্যাংকটি প্রথম থেকেই মানুষের কাছ থেকে সফটওয়্যারের দোহাই দিয়ে টাকা অযথা কেটে আসছে। যেগুলো আর কখনও এডযাষ্ট করে না।

এই বিচার কার কাছে দিবো? বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এগুলো খতিয়ে দেখা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:২৭
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×