somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্ত ঝরা প্রেম - পর্ব ৪

২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে প্রকাশের পর
........................

আজ একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমি বড় হয়েছি একটা ছোট জেলা শহরে। সেখানেই পড়ালেখা করেছি প্রাইমারী/উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, কলেজে। আমার সমস্ত অতীত জুড়ে আছে সেখানকার সব সৃত্মি। আজো আন্দলিত করে আমাকে সেগুলো রীতিমত। আমি মাঝে মাঝে নষ্টালজিয়াতে ভুগি। কিন্তু সেগুলো আমি মনে করতে চাই না আর। মনে পড়লে আমার পুরো পৃথিবী ওলোটপালোট হয়ে আসে। আমার খালাত বোন নিশি। ওর সাথেই বেড়ে ওঠা। ওর সাথেই সব সুখ দুঃখ ভাগাভাগি। আমরা প্রাইমারী স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত একসাথে একক্লাশে পড়েছি।

নিশি যখন একেবারে ছোট তখন ওর মা মানে আমার খালা (দুঃসম্পর্কে) মারা যান। তারপর প্রায় ১২ বছর বয়সে ওর বাবাও মারাও যান এক মারাত্বক রোড এক্সিডেন্টে। তখন থেকেই নিশি হয়ে যায় একেবারে নিঃসঙ্গ। ওকে কোলে তুলে নেয় আমার মামা মামী। মানুষ করে ওকে। কোনদিনই বুঝতে দেয়নি বাবা মায়ের অভাব। কখনও বোঝেনি কষ্ট, অভাব কাকে বলে। মামা মামী ছিলেন নিঃসন্তান। তাই আদরে কখনও ভাটা পড়েনি।

আমাদের বাসা আর মামার বাসা ছিল প্রায় পাশাপাশি। যেহেতু এক ক্লাশে পড়তাম আমি আর নিশি তাই আমাদের বাসায় ছিল নিশির ছিল অবাধ যাতায়াত। আমার বাবা মা দুজনেই নিশিকে খুব পছন্দ করতেন।

আমরা কখন যে দুজনে দুজনকে ভালবেসে ফেলেছিলাম তা আমরা নিজেও জানতাম না। সবাই জানতো যে বড় হলে এদের বিয়ে হবে। সেই মনে করেই আমরা বেড়ে উঠেছিলাম। মাঝে মাঝে নানী ওকে আমার বউ বলে ক্ষ্যাপাতো। ও তখন লজ্জায় লাল হয়ে যেত। আর কোথায় যে পালিয়ে যেত খুঁজে পাওয়া যেত না। কখনও হয়ত দেখা যাচ্ছে আম গাছের উপরের ডালে উঠে রাগ করে বসে আছে। তখন ওকে অনেক কষ্টে মান ভাঙ্গিয়ে নীচে নামিয়ে আনতে হতো। এইভাবে মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলতো সবার সাথে। আমাদের এলাকার সবার সাথে ছিল ওর নিবিড় সম্পর্ক। ছোট বড় সবাই ওকে ভাল বলে জানতো। আমি ব্যাপারগুলোতে খুব মজা পেতাম।

কিন্তু ওর এই লুকোচুরি খেলা যে একসময়ে স্থায়ী রূপ নিবে তা আমি কখনও ভাবতে পারিনি।

আমাদের সাথে সাইন্স ডিপার্টমেন্টে পড়তো অপর্ণা। সুন্দরী, অহংকারী, বড়লোকের মেয়ে। অপর্ণা খুবই চালাক ছিল, না, চালাক বললে ভুল হবে ও ছিল খুব ধুর্ত টাইপের। এমন কোন কাজ নেই যেটা অপর্ণা করতে পারতো না। সব ধরনের কাজই ও খুব নিখুঁত ভাবে করত। যেকোন অঘটন ঘটনে ও ছিল পারদর্শী। আমি সবসময়ই ফার্ষ্ট বয় ছিলাম সব ক্লাশে। কলেজে আমি কারো সাথে তেমন মিশতাম না তবে সবার সঙ্গে অন্তরঙ্গতা ছিল। কিন্তু অপর্না সব বিষয়ে আমাকে প্রায় হিংসা করতো। কেন এই হিংসা করতো তখন বুঝিনি। অনেকদিন পরে জেনেছি। অপর্ণা আমার সাথে নিশির সম্পর্ক কখনই মেনে নিতে পারতো না। পরে জেনেছিলাম অপর্ণা আমাকে পছন্দ করতো। সে আমাকে অনেক বার বলেছেও এ কথা। কিন্তু আমি কখনই তাকে পাত্তা দেইনি। ওকে জাষ্ট আমার একজন ক্লাসমেট হিসেবেই ভাবতাম। অন্য কিছু না। আমার এই ব্যাপারগুলোই অপর্ণাকে হিংস্র করে তোলে। আর অন্যদিকে নিশি একই ক্লাশে আর্টসে পড়তো।

এভাবে মোটামোটি দিনগুলো ভালই কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ নিশি প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পড়লো। শুধু পেটে ব্যাথা। আমাদের পুরো পরিবারই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আমাদের ওখানকার ডাক্তার কিছুই ধরতে পারলো না। তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নেয়া হয় পাশের জেলা শহরে। ওখানে ওর ইভেষ্টিগেশন চলতে থাকে। প্যাথলজি টেস্টের এক রিপোর্ট উল্টোপাল্টা করে দেয় আমাদের জীবন। আমরা জানতে পারি নিশি দেড় মাসের প্রেগনেন্ট। সবাই নিশিকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসে। বাড়ীতে পোপনে এটা নিয়ে বেশ গরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ ভাবেতে পারেনি যে আমরা এমন একটা কাজ করবো। অবিশ্বাসের আগুনে আমাদের দুইজনকে প্রতিটি ক্ষণ জ্বলতে হোত। সবাই আমাদের ধিক্কার দিতে লাগলো। আমার উপর নেমে এলো দুনিয়ার সব আজাব। আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়া হলো। আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দিলো আমার বাবা।

এই কথাটা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায় যে, আমার সাথে নিশির অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। যারই ফলাফল নিশি প্রেগনেন্ট। পুরো এলাকাতে ছি ছি পড়ে যায়। হাজার হলেও ওটা একটা রিমোট এরিয়া। আমি তখন বাড়ির বাহিরে থাকি, বাড়ীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। বন্ধু বান্ধব মারফত খবর পাই, নিশি প্রচন্ড অসুস্থ্য। ওর শারীরীক অসুস্থ্যতার চেয়ে মানসিক চাপ প্রচন্ড বেশী ছিল।

আমি বাসা থেকে কয়েক মাইল দুরে আমার এক বন্ধুর মেসে উঠি। আমি নিশির আর কোন খবর পাই না। যতটুকু জানতে পারি, পুরো এলাকার লোকজন আমার বাবা, মামাকে খুব অপমান করেছে তাদের সন্তানদের কৃতকর্মের জন্য। আমার জীবনটা পাথর হয়ে যায়। তখন আমি অনুভব করি যে, আমি নিশিকে কতটা ভালবাসি।

চলবে..........



রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ১
Click This Link

রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ২
Click This Link

রক্ত ঝরা প্রেম- পর্ব ৩
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৫০
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×