somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের প্রথম দিন আমরা যেভাবে অতিবাহিত করলাম বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে

১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল দশটা দশ মিনিটে আমি গিয়ে হাজির হয়েছিলাম বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে। গিয়ে দেখি ক্যামেরাম্যান (রঞ্জু ভাই) দাঁড়িয়ে আছেন। ভেবেছিলাম হয়ত বড় একটা ঝাড়ি খেতে হবে দশমিনিট দেরী করার জন্য। দেখলাম আমরা দুজনই প্রথম। তারপর একে একে আসতে থাকে মেজবাহ আজাদ ভাই ও তার ছেলে রোদ্দুর। বাবার হাত ধরে সেও এসেছিল সেখানে। এরপরে তো ঝাঁকে ঝাঁক সবাই। প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, যীশু, মহারাজা, শেরীফ, দীপু, তনু, নিশাচর, লুলুপাগলা, বৃত্তবন্দী, জানা ও তার কণ্যা, গিয়াস আহমেদ, উজ্জল, অদ্ভুত আধাঁর এক ছাড়াও আরো অনেকে। আরো এসেছিল চারজন বন্ধু ও বান্ধবী যারা কিনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন স্টুডেন্টস। দুপুরের পর থেকে ঢল নামে সব ব্লগারদের বসুন্ধরা চত্বরে। পরিণত হয় বন্ধু সমাবেশে। সবাই নিজের নিজের তাগিদে কাজ করেছে আপন মনে। কাউকেই তাগিদ দিতে হয়নি তার দায়িত্বটুকু পালন করার জন্য। আপনারা সবাই জানেন আমরা সবাই ওখানে গিয়েছিলাম শাশ্বতর জন্য। শাশ্বতর চিকিৎসার জন্য ফান্ড কালেকশনে। এই বসুন্ধরা চত্বরে ফান্ড কালেকশনের চিন্তাটা ছিল আমাদের প্রথম একটি ধাপ। আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবগত আছেন আগে লেখা পোষ্ট গুলো থেকে।

আমরা আজকেও ওখানে দাঁড়াবো। আমাদের আহব্বানে সাড়া দিয়েছেন ওখানে মার্কেট করতে আসা হাজার হাজার মানুষ। তারা অনেকে যেমন অনেকক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাদের কথা বিস্তৃত ভাবে শুনেছেন, অনেকে ব্যাস্ততার কারণে শুনতে পারেননি, আর কেউবা কর্ণপাতই করেননি। কিন্তু কম বেশী সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন যে যতটুকু পেরেছেন। দিনের শেষে আমাদের এচিভমেন্টটা ছিল ভালই। উল্লেখ করার মত। এমাউন্টটা কত তা অবশ্য আপনারা অবশ্য অন্য একটা পোষ্টে পাবেন।

আমি আজকের কিছু অভিজ্ঞতা আর আমাদের ব্যাক্তিগত এপ্রোচ নিয়ে কিছু কথা বলবো সেই সাথে ঘটনার বেশকিছু স্বরণীয় মূহুর্তের ছবিও শেয়ার করবো।

অনেক ধরনের অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়েছি আমরা। তার একটি আমি আজকে বলছি। এক ভদ্রমহিলা এসেছেন তার বাচ্চাকে নিয়ে মার্কেট করতে। তিনি আমাদের কথা খুব মনযোগ দিয়ে শুনলেন এবং কিছু কথা বললেন আমাদের। পরিশেষে তিনি যাবার সময় তার সাধ্যমত সাহায্য করে গেলেন শাশ্বতর জন্য। উনি আমাদের এ উদ্বোগ নেয়ার জন্য প্রসংশা করলেন। তিনি বললেন, তিনি নিজেও একজন ক্যান্সারের রোগী। কথাগুলো বলার সময় দেখলাম, তার চোখে জল। জানিনা এ জলের অর্থ কি। আমার যতটুকু মনে হয়েছে, এ জল কষ্টের। কারণ উনি জানেন যে, একজন অসুস্থ ব্যাক্তির বেদনা কতটুকু। আমি ভাষা হারিয়ে ফেললাম, তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার মত শক্তি আমার ঠোঁটে তখন ছিলনা। তার চোখের জলের কাছে আমি পরাজিত হয়েছি।

একটা কথা সত্য সেটা হলো, আসলে পৃথিবীতে ভাল মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। যারা সবাইকে আপন করে নিতে পারে। তারাই তো প্রকৃত মানুষ। আবার কিছু মানুষ আছে যাদের কোন উক্তি বা কথা সবার মন ভেঙ্গে দেয়। এমন লোকও খুঁজলে পাওয়া যায়, তারা আমাদের আশেপাশেই থাকেন। অবশ্য এরা সংখ্যায় খুব কম। তাদের কথা শুনলে মন ভেঙ্গে যায়। কিন্তু শাশ্বতর দিকে তাকিয়ে আবার শক্তি খুঁজে পাই। তারা বোঝে না, তাদের অবচেতন মনের কোন উক্তি ভেঙ্গে দিতে পারে কোন বড় সঙ্গবদ্ধ জমায়েতকে। নষ্ট করে দিতে পারে একটা তিল তিল করে গড়ে তোলা কোন স্বপ্নকে। আবার এমনও হতে পারে সেটার জন্য একটা টার্গেট ইউ টার্ন নিতে পারে। ডাইভার্ট হতে পারে অন্যদিকে। যাক সেসব কথা বুকের কষ্ট বুকেই থাক। নিঃশ্বাসগুলো শুধু ভারী হয় আর করুনা হয় তাদের জন্য।

ছবি:

১। অপেক্ষামান ক্যামেরাম্যান
২। বোর্ডের পিছনে দণ্ডায়মান কয়েকজন ব্লগ বন্ধু (ডান দিক থেকে-শেরীফ, মহারাজা, ক্যামেরাম্যান ও দীপু)
৩। বোর্ডের পিছনে দণ্ডায়মান কয়েকজন (ডান দিক থেকে- দীপু, শেরীফ, আমি-লেখক নিজে মিলটন ও রোদ্দুর-মেজবাহ আজাদের ছেলে)
৪। ব্যানার লিখছেন ব্লগ বন্ধু যীশু।
৫। ব্যানার লেখায় যীশুকে সহযোগীতা করছেন (বাম দিক থেকে-মিলটন, আজাদ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব)
৬। বসুন্ধরা চত্বরে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে দীপু ও আরো একজন ব্লগার।
৭। ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে দুজন এবং বোর্ডের পিছনে কয়েকজন।
৮। বাবার হাত ধরে রিক (দুঃখিত নামের বানানটা ঠিক লিখতে পারলাম না) এসেছিল আমাদের চেষ্টায় শামিল হতে।
৯। আমার টি-শার্ট পরে আমার ছেলে। টি-শার্টটি এখন তার দখলে। খুব পছন্দ হয়েছে। ওটা পরেই রাতে ঘুমিয়েছে। কিছুতেই খুলবে না। (রাহা ভাইকে অনুরোধ করছি আমার ছেলের জন্য একটা টি-শার্ট বানিয়ে দিয়ে অন্ততঃ আমারটা রক্ষা করুন)

আরো অনেক ছবি ছিল যেগুলো পরে শেয়ার করবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:০২
২৯টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×