আমরা আজকেও ওখানে দাঁড়াবো। আমাদের আহব্বানে সাড়া দিয়েছেন ওখানে মার্কেট করতে আসা হাজার হাজার মানুষ। তারা অনেকে যেমন অনেকক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাদের কথা বিস্তৃত ভাবে শুনেছেন, অনেকে ব্যাস্ততার কারণে শুনতে পারেননি, আর কেউবা কর্ণপাতই করেননি। কিন্তু কম বেশী সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন যে যতটুকু পেরেছেন। দিনের শেষে আমাদের এচিভমেন্টটা ছিল ভালই। উল্লেখ করার মত। এমাউন্টটা কত তা অবশ্য আপনারা অবশ্য অন্য একটা পোষ্টে পাবেন।
আমি আজকের কিছু অভিজ্ঞতা আর আমাদের ব্যাক্তিগত এপ্রোচ নিয়ে কিছু কথা বলবো সেই সাথে ঘটনার বেশকিছু স্বরণীয় মূহুর্তের ছবিও শেয়ার করবো।
অনেক ধরনের অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়েছি আমরা। তার একটি আমি আজকে বলছি। এক ভদ্রমহিলা এসেছেন তার বাচ্চাকে নিয়ে মার্কেট করতে। তিনি আমাদের কথা খুব মনযোগ দিয়ে শুনলেন এবং কিছু কথা বললেন আমাদের। পরিশেষে তিনি যাবার সময় তার সাধ্যমত সাহায্য করে গেলেন শাশ্বতর জন্য। উনি আমাদের এ উদ্বোগ নেয়ার জন্য প্রসংশা করলেন। তিনি বললেন, তিনি নিজেও একজন ক্যান্সারের রোগী। কথাগুলো বলার সময় দেখলাম, তার চোখে জল। জানিনা এ জলের অর্থ কি। আমার যতটুকু মনে হয়েছে, এ জল কষ্টের। কারণ উনি জানেন যে, একজন অসুস্থ ব্যাক্তির বেদনা কতটুকু। আমি ভাষা হারিয়ে ফেললাম, তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার মত শক্তি আমার ঠোঁটে তখন ছিলনা। তার চোখের জলের কাছে আমি পরাজিত হয়েছি।
একটা কথা সত্য সেটা হলো, আসলে পৃথিবীতে ভাল মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। যারা সবাইকে আপন করে নিতে পারে। তারাই তো প্রকৃত মানুষ। আবার কিছু মানুষ আছে যাদের কোন উক্তি বা কথা সবার মন ভেঙ্গে দেয়। এমন লোকও খুঁজলে পাওয়া যায়, তারা আমাদের আশেপাশেই থাকেন। অবশ্য এরা সংখ্যায় খুব কম। তাদের কথা শুনলে মন ভেঙ্গে যায়। কিন্তু শাশ্বতর দিকে তাকিয়ে আবার শক্তি খুঁজে পাই। তারা বোঝে না, তাদের অবচেতন মনের কোন উক্তি ভেঙ্গে দিতে পারে কোন বড় সঙ্গবদ্ধ জমায়েতকে। নষ্ট করে দিতে পারে একটা তিল তিল করে গড়ে তোলা কোন স্বপ্নকে। আবার এমনও হতে পারে সেটার জন্য একটা টার্গেট ইউ টার্ন নিতে পারে। ডাইভার্ট হতে পারে অন্যদিকে। যাক সেসব কথা বুকের কষ্ট বুকেই থাক। নিঃশ্বাসগুলো শুধু ভারী হয় আর করুনা হয় তাদের জন্য।
ছবি:
১। অপেক্ষামান ক্যামেরাম্যান
২। বোর্ডের পিছনে দণ্ডায়মান কয়েকজন ব্লগ বন্ধু (ডান দিক থেকে-শেরীফ, মহারাজা, ক্যামেরাম্যান ও দীপু)
৩। বোর্ডের পিছনে দণ্ডায়মান কয়েকজন (ডান দিক থেকে- দীপু, শেরীফ, আমি-লেখক নিজে মিলটন ও রোদ্দুর-মেজবাহ আজাদের ছেলে)
৪। ব্যানার লিখছেন ব্লগ বন্ধু যীশু।
৫। ব্যানার লেখায় যীশুকে সহযোগীতা করছেন (বাম দিক থেকে-মিলটন, আজাদ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব)
৬। বসুন্ধরা চত্বরে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে দীপু ও আরো একজন ব্লগার।
৭। ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে দুজন এবং বোর্ডের পিছনে কয়েকজন।
৮। বাবার হাত ধরে রিক (দুঃখিত নামের বানানটা ঠিক লিখতে পারলাম না) এসেছিল আমাদের চেষ্টায় শামিল হতে।
৯। আমার টি-শার্ট পরে আমার ছেলে। টি-শার্টটি এখন তার দখলে। খুব পছন্দ হয়েছে। ওটা পরেই রাতে ঘুমিয়েছে। কিছুতেই খুলবে না। (রাহা ভাইকে অনুরোধ করছি আমার ছেলের জন্য একটা টি-শার্ট বানিয়ে দিয়ে অন্ততঃ আমারটা রক্ষা করুন)
আরো অনেক ছবি ছিল যেগুলো পরে শেয়ার করবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

