ও বসে লেভেল ফোরে। বেশ সুন্দর সাজানো গোছানো অফিস। অফিসে গিয়ে দেখি নীপা ওদের রিসিপশনে বসে আছে। নীপা যে ওখানে চাকুরী করে সেটা আমি জানতাম না। আমার এক বন্ধুর ছোটবোন। আমাদের এলাকাতেই থাকে। ওর কাছ থেকে জানলাম প্রত্যু এখন মিটিং এ। ওর ডিপার্টমেন্ট জিএম এর সাথে মিটিং। বেশ কিছুক্ষণ দেরী হবে। নীপা আমাকে বসতে বললো। আমি চিন্তা করলাম, এতদূর যখন এসেছি তখন দেখা করেই যাই। কারণ সবসময় আড্ডাতে ওর সাথে দেখা হয়। কিন্ত কি এমন জরুরী বিষয় যার জন্য প্রত্যু আমাকে অফিসে তলব করেছে। আর তাই আমিও খুব সিরিয়াসলি বিষয়টি নিয়েছিলাম।
রিসিপশনে বসে বসে পেপার পড়ছিলাম আর নীপার সাথে কথা বলছিলাম। নীপার কাছ থেকে জানলাম ওর বাসার সবাই এখন কেমন আছে। সত্যি কথা বলতে কি, ফরহাদের (নীপার ভাই আর আমার বন্ধু) সাথে দেখা নেই আজ প্রায় ৪/৫ মাস হবে। অথচ মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয় এবং একই এলাকাতে থাকি। আমরা চাকুরী আর প্রাত্যহিক জীবনের কাজ নিয়ে এতই বিজি হয়ে গেছি যে কারো সাথে কারো দেখা নেই।
নীপা, আমার আর প্রত্যুর মধ্যেকার সম্পর্ক জানতে চাইল। আমি বললাম যে, প্রত্যু আমার পরিচিত। একটা জরুরী প্রয়োজনে ওর কাছে এসেছি। নীপা আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে প্রশ্ন করলো, আপনিও কি ওনাকে দেখতে এসেছেন? আমি প্রথমে ঠিক বুঝতে পারিনি। আবারো জিজ্ঞাসা করলাম, তাতে নীপার কাছ থেকে যা শুনলাম তাতে বুঝতে পারলাম, কৌশিক আর মাসুম ভাই তো মিথ্যা বলেননি। প্রত্যুকে নাকি গত সপ্তাহে দুই বার দুই জন লোক এসে দেখে গেছেন। প্রত্যুর বিয়ের কথাবার্তা চলছে বেশ জোরেশোরে। পাত্রী পক্ষের লোকেরা প্রত্যুর অফিসের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য ইদানিং আসছে। এরমানে প্রত্যুর পরিবার থেকে ওর বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমি আর নীপাকে তেমন কিছু বললাম না, একটু চেপে গেলাম।
প্রায় ঘন্টা খানেক পরে প্রত্যুর সাথে দেখা হলো। ওর রুমে গিয়ে চা খেতে খেতে প্রয়োজনীয় বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলাম। আলাপের বিষয়টি আর কিছু না, সেটাও ছিল ওর বিয়ের ব্যাপার। তখন বুঝলাম, ছেলেও খুব টেনশনে আছে বিয়ে নিয়ে।
সমস্যা হলো প্রত্যুকে পছন্দ করেছে, দুটি মেয়ের গার্ডিয়ান। এই ছেলেটা এখন দোটানায় পড়েছে। কিভাবে উদ্ধার করা যায় সেটা নিয়েই এখন আমার চিন্তা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

