somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ইন্টারনেট ও আমরা

২৬ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মনে হয় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যাবহারের খরচ সবচেয়ে বেশী। এত সুযোগ-সুবিধা থাকতেও আমরা তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছি না। এর পিছনে কাজ করছে দুটি জিনিস, বলে আমি মনে করি। তার একটি হলো অজ্ঞতা আরেকটি হলো দূর্নীতি। যেমন, এইসব উন্নয়নে বা সিদ্ধান্ত গ্রহনে যারা কাজ করেন তারা মোটেই আইটি সম্মন্ধে কোন জ্ঞান নেই। জ্ঞান নেই ভালো কথা, তারা যে তাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এর সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ব্যাপারে হেল্প নিবেন তাও তারা নেয় না। যারা এখন ডিসিশন মেকিং এ আছেন তাদের মধ্যে একটা ধারণা যে এই আইটি আমাদের উপকারের চেয়ে অপকার করবে বেশী। আমাদের সিকিউরিটি ব্রেক হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের কাছ থেকে যেসব অযুহাত আসে সেগুলো সত্যিই হাস্যকর। আর দূর্নীতি? সেটা তো আছে রন্ধে রন্ধে।

আজ আমরা বিশ্ব থেকে কত দুরে আছি। এই সাবমেরিন কেবল সংযোগ পাওয়ার কথা ছিল কত বছর আগে এই বাংলাদেশে। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো আমাদের সব নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। আমাদের সব কিছু ফাঁস হয়ে যাবে। হৈ হৈ করে উঠলো সব মাথামোটারা। মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো সাবমেরিন কেবলের সপ্ন। কয়েকশত বছর পিছিয়ে গেলাম আমরা।

সেই সারমেরিন কেবলই আবার নিতে হলো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অনেক পরে। সরকারের বড় বড় কথা তখন শোনে কে? এই আমরা হেন করলাম, এই আমরা তেন করলাম। সবাই বলে উঠলো এইবার আইটির জোয়ারের তোড়ে সব ভেসে যাবে বাংলাদেশে। আজ এতবছর হয়ে গেল সাবমেরিন কেবল কানেকশন লাগার কিন্ত এর সুফল কি আমরা পাচ্ছি?

দেশের ভিতরের ডাটা ট্রান্সফার ক্যারিয়ারের অবকাঠামোগত উন্নতি না করলে তো আমরা এর সুফল কখনই পাবো না। বিটিটিবি ১০ জিবি/সে. ব্যান্ডউইডথ নিচ্ছে সারমেরি ক্যাবল দিয়ে। কিন্তু এর কতটুকু ব্যাবহার হচ্ছে। মনে হয় তিন ভাগের একভাগও ব্যাবহার হয় না। এটার ব্যাবহার করার ক্ষেত্র থাকলেও সেখানে পৌঁছাচ্ছে না ইন্টারনেট। কারণ দেশের ভিতরে যেসব নেটওয়ার্কিং আছে সেখানেও রয়েছে সমস্যা। মূলত ঢাকাতেই যা ফাইবার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে সেটাই চাহিদার তুলনায় কম। সেক্ষেত্রে গ্রামগঞ্জ, জেলা উপজেলার কথা তো বাদই দেওয়া যায়। এই বিটিটিবি ই পারে তাদের ফাইবারের নেটওয়ার্ক দিয়ে পুরো দেশে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে। তাহলে করে না কেন? নেই কোন উদ্দ্যোগ। আর কেইবা নিবে এর জন্য উদ্দ্যোগ? সেরকম লোকই বা কোথায়। আর যারা দুই একজন আছেন সরকারের মধ্যে তাদের কোন কদর নেই।

তবে গত এক বছরের ব্যবধানে সরকার কয়েকদফা সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইডথ ফি কমিয়েছে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের কথা এর সুফল সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রত্যাশিত ভাবে পৌছেনি। সরকার বার বার আইএসপি গুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে তারা যেন গ্রাহকদের কম মূল্যে ইন্টানেট সেবা পৌঁছে দেয়। কিন্তু তারা সরকারের কথা কর্ণপাত করছে না। এমনকি সরকার আইএসপি গুলোর লাইসেন্স ফি এবং ইয়ারলী ফিও কমিয়েছে। কিন্তু তারপরও আমরা এর সুফল কি পাচ্ছি? মনে হয় পাচ্ছিনা। তবে হয়ত বিভিন্ন কর্পোরেট তাদের আইএসপি গুলোর কাছ থেকে জোড় জবরদস্তি করে কিছুটা কম মূল্যে ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারছে তারপরেও সেটা কিন্তু তুলনামূলক অনেক বেশী। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে আমরা যারা বাসা-বাড়ীতে বা ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ইন্টানেট ইউজ করি তারা তো এখনও কম মূল্যে ইন্টারনেট পাচ্ছি না। তাহলে আমরা কবে পাবো?

আশা কথা হলো, বর্তমান সরকার আসার পর এই ডাটা ট্রান্সফার ও টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরের জন্য বেশ ভালো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য তারা প্রসংশার দাবীদার। যেগুলো আমাদের আরো আগে পাওনা ছিল। হয়ত পহেলা জুলাই থেকে বিটিটিবি ব্যান্ডউইডথ ফি কমছে। ১ এমবি/সে. তারা দিবে ২৭ হাজার টাকায়। এর দাম পড়ে সবখরচ দিয়ে মাত্র ৮ হাজার টাকা মাত্র হওয়া উচিত বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। তারপরেও অনেক অনেক বেশী। আর এখন ১ এমবি/সে. প্রায় সম্ভবতঃ ৫০ হাজার টাকার উপরে।

সরকার বলছে, ইন্টারনেটের ইউজার কম। এই জন্যই দাম বেশী। সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলছি, আপনারা দেশের সবাইকে ইন্টারনেট পাওয়ার সুবিধা ইনশিওর করেন, তারপর দেখেন লাভ কেমন করে হয়। হাত পা গুটিয়ে থাকলে তো লাভ হবে না। ধরলাম, দশজনের কাছ থেকে দুই টাকা করে লাভ নিলে দাড়ায় ২০ টাকা আর একশ জনের কাছ থেকে পঞ্চাশ পয়সা করে লাভ নিলে দাড়ায় পঞ্চাশ টাকা। সরকারের এখন লাভের চেয়ে গ্রাহকের সংখ্যা বেশী করার কথা চিন্তা করতে হবে, সেই সাথে প্রোপার সার্ভিস আর রক্ষণাবেক্ষন করতে হবে। তবেই তো লাভের টাকা উঠে আসবে। আর তখনই এই সেক্টর থেকে সরকার লাভ করতে পারবে। আর তখন আমাদের দেশ টেকনোলজি নির্ভর হবে আরো বেশী। কাজের ক্ষেত্র তৈরী হবে বেশী। দেশর উন্নয়ন করতে হলে টেকনোলজি নির্ভর করা ছাড়া কোন লাভ নাই।

আশা করি সরকার অচিরেই এইসব বুঝে তার বিপরীতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
১৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×