আজ আমরা বিশ্ব থেকে কত দুরে আছি। এই সাবমেরিন কেবল সংযোগ পাওয়ার কথা ছিল কত বছর আগে এই বাংলাদেশে। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো আমাদের সব নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। আমাদের সব কিছু ফাঁস হয়ে যাবে। হৈ হৈ করে উঠলো সব মাথামোটারা। মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো সাবমেরিন কেবলের সপ্ন। কয়েকশত বছর পিছিয়ে গেলাম আমরা।
সেই সারমেরিন কেবলই আবার নিতে হলো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অনেক পরে। সরকারের বড় বড় কথা তখন শোনে কে? এই আমরা হেন করলাম, এই আমরা তেন করলাম। সবাই বলে উঠলো এইবার আইটির জোয়ারের তোড়ে সব ভেসে যাবে বাংলাদেশে। আজ এতবছর হয়ে গেল সাবমেরিন কেবল কানেকশন লাগার কিন্ত এর সুফল কি আমরা পাচ্ছি?
দেশের ভিতরের ডাটা ট্রান্সফার ক্যারিয়ারের অবকাঠামোগত উন্নতি না করলে তো আমরা এর সুফল কখনই পাবো না। বিটিটিবি ১০ জিবি/সে. ব্যান্ডউইডথ নিচ্ছে সারমেরি ক্যাবল দিয়ে। কিন্তু এর কতটুকু ব্যাবহার হচ্ছে। মনে হয় তিন ভাগের একভাগও ব্যাবহার হয় না। এটার ব্যাবহার করার ক্ষেত্র থাকলেও সেখানে পৌঁছাচ্ছে না ইন্টারনেট। কারণ দেশের ভিতরে যেসব নেটওয়ার্কিং আছে সেখানেও রয়েছে সমস্যা। মূলত ঢাকাতেই যা ফাইবার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে সেটাই চাহিদার তুলনায় কম। সেক্ষেত্রে গ্রামগঞ্জ, জেলা উপজেলার কথা তো বাদই দেওয়া যায়। এই বিটিটিবি ই পারে তাদের ফাইবারের নেটওয়ার্ক দিয়ে পুরো দেশে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে। তাহলে করে না কেন? নেই কোন উদ্দ্যোগ। আর কেইবা নিবে এর জন্য উদ্দ্যোগ? সেরকম লোকই বা কোথায়। আর যারা দুই একজন আছেন সরকারের মধ্যে তাদের কোন কদর নেই।
তবে গত এক বছরের ব্যবধানে সরকার কয়েকদফা সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইডথ ফি কমিয়েছে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের কথা এর সুফল সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রত্যাশিত ভাবে পৌছেনি। সরকার বার বার আইএসপি গুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে তারা যেন গ্রাহকদের কম মূল্যে ইন্টানেট সেবা পৌঁছে দেয়। কিন্তু তারা সরকারের কথা কর্ণপাত করছে না। এমনকি সরকার আইএসপি গুলোর লাইসেন্স ফি এবং ইয়ারলী ফিও কমিয়েছে। কিন্তু তারপরও আমরা এর সুফল কি পাচ্ছি? মনে হয় পাচ্ছিনা। তবে হয়ত বিভিন্ন কর্পোরেট তাদের আইএসপি গুলোর কাছ থেকে জোড় জবরদস্তি করে কিছুটা কম মূল্যে ব্যান্ডউইডথ কিনতে পারছে তারপরেও সেটা কিন্তু তুলনামূলক অনেক বেশী। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে আমরা যারা বাসা-বাড়ীতে বা ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ইন্টানেট ইউজ করি তারা তো এখনও কম মূল্যে ইন্টারনেট পাচ্ছি না। তাহলে আমরা কবে পাবো?
আশা কথা হলো, বর্তমান সরকার আসার পর এই ডাটা ট্রান্সফার ও টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরের জন্য বেশ ভালো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য তারা প্রসংশার দাবীদার। যেগুলো আমাদের আরো আগে পাওনা ছিল। হয়ত পহেলা জুলাই থেকে বিটিটিবি ব্যান্ডউইডথ ফি কমছে। ১ এমবি/সে. তারা দিবে ২৭ হাজার টাকায়। এর দাম পড়ে সবখরচ দিয়ে মাত্র ৮ হাজার টাকা মাত্র হওয়া উচিত বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। তারপরেও অনেক অনেক বেশী। আর এখন ১ এমবি/সে. প্রায় সম্ভবতঃ ৫০ হাজার টাকার উপরে।
সরকার বলছে, ইন্টারনেটের ইউজার কম। এই জন্যই দাম বেশী। সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলছি, আপনারা দেশের সবাইকে ইন্টারনেট পাওয়ার সুবিধা ইনশিওর করেন, তারপর দেখেন লাভ কেমন করে হয়। হাত পা গুটিয়ে থাকলে তো লাভ হবে না। ধরলাম, দশজনের কাছ থেকে দুই টাকা করে লাভ নিলে দাড়ায় ২০ টাকা আর একশ জনের কাছ থেকে পঞ্চাশ পয়সা করে লাভ নিলে দাড়ায় পঞ্চাশ টাকা। সরকারের এখন লাভের চেয়ে গ্রাহকের সংখ্যা বেশী করার কথা চিন্তা করতে হবে, সেই সাথে প্রোপার সার্ভিস আর রক্ষণাবেক্ষন করতে হবে। তবেই তো লাভের টাকা উঠে আসবে। আর তখনই এই সেক্টর থেকে সরকার লাভ করতে পারবে। আর তখন আমাদের দেশ টেকনোলজি নির্ভর হবে আরো বেশী। কাজের ক্ষেত্র তৈরী হবে বেশী। দেশর উন্নয়ন করতে হলে টেকনোলজি নির্ভর করা ছাড়া কোন লাভ নাই।
আশা করি সরকার অচিরেই এইসব বুঝে তার বিপরীতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

