আমার কয়েক বন্ধু মিলে একটা মেসে থাকতো চট্টগ্রামে। আমি ওদের ওখানে মাঝে মাঝে যেতাম। ওরা থাকতো ৫ জন একটা বাসা ভাড়া করে দুই নম্বর গেইট ষোলশহরে। আমার বন্ধুদেরই একজন ওর দেশের বাড়ী থেকে একটা ১০/১২ বছরের একটা ছেলে নিয়ে এসেছিল ফুট ফরমাশ খাটার জন্য। ছেলেটা একটু দুষ্টু টাইপের ছিল জানতাম।
একবার যখন আমরা ওখানে সবাই মিলে কার্ড খেলছিলাম দুপুরে ছেলেটা ময়লা-আবর্জনা ডাষ্টবিনে ফেলার নাম করে বের হলো কিন্তু আর ফিরে আসে না। ওরা ময়লা রাখার জন্য একটা প্লাষ্টিকের রং এর কৌটা ব্যাবহার করতো। এভাবে সন্ধ্যা হয়ে যায় তাকে আর পাওয়া যায় না। আমরা আশেপাশে বাসা দোকান সব জায়গায় খোঁজ নিলাম। কিন্তু কোথাও তার কোন হদিস পেলাম না। যাই হোক আমরা সবাই খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। তখন এত মোবাইলের ব্যাপকতা ছিল না যে এদিক ওদিকে তাড়াতাড়ি খবর দিবো।
আমাদের এক বন্ধুর পরামর্শে রাতে যেয়ে পাঁচলাইশ থানায় ৫০ টাকা দিয়ে জিডি করলাম। সব হাসপাতালে খবর নিলাম। অবশেষে হতাশ। এটা তো খুবই বিপদের কথা। কারণ ছেলেটি কোথাও তেমন চিনতো না কারণ ও আমাদের সাথে ছাড়া কোথাও যেত না। ঐ বন্ধুর বাড়ীতে খবর দেয়া হলো। তার অভিভাবকও খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন কারণ এখন তারা ঐ ছেলের বাবা মায়ের কাছে কি জবাব দিবে?
এভাবে একদিন দুইদিন চলে যায় আমরা কোন খোঁজ খবর পাই না। চিন্তা করা হলো পেপারে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। যে যাই বলছে আমরা তাই করছি। যেখানে খুঁজতে বলছে সেখানেই খুঁজছি। এমন সময় একজন বলল, ওমুক সিনেমা হলের কাছে (সিনেমা হলের নাম মনে নেই এখন) একটা লোক আছে সে নাকি আয়না দেখে সব বলে দিতে পারে। আমরা সেই লোকের খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম।
আমি, আর দুই বন্ধু গেলাম ওখানে। খুঁজে বের করলাম সেই লোককে। খুবই সাধারন একটা লোক। আমাদের সব ঘটনা খুলে বললাম। আমাদের বলল আমাদের একটা আয়না কিনে আনতে। আমি পাশের রেয়াজুদ্দিন বাজার থেকে একটা আয়না কিনে নিয়ে গিয়ে তাকে দিলাম। সে বলল, "কিছুক্ষণ পরে আমার পুরা শরীর কাঁপতে থাকবে তখন আপনারা আপনাদের যা জানার তা প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিবেন। কিন্তু কখনই এক/দুই মিনিটের বেশী সময় প্রশ্ন করবেন না। আপনাদের মধ্যে কেউ তুলা রাশি থাকলে ভাল হয়।"
আমরা তার সামনে বসে আছি আর সে আয়না সামনে নিয়ে কি যেন বিড়বিড় করে বলছে। একসময় খেয়াল করলাম যে, তার পুরো শরীর কাঁপছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমি আমার বন্ধুকে হাত দিয়ে গুঁতা মারলাম তার প্রশ্ন গুলো করার জন্য। আমার সেই বন্ধু প্রশ্ন করছে আর সেই লোকটি কেমন গলায় যেন সেগুলোর উত্তর দিচ্ছে।
তার কাছ থেকে আমরা জানলাম ছেলেটার হাতে একটা কৌটার মত কি যেন আছে। তার মধ্যে সে তার কাপড় রেখেছে। সে এখন আছে ঢাকার আশে পাশে কোথাও আছে। সে ঠিক মতই তার বাড়ী পৌঁছাবে চিন্তার কোন কারণ নেই। তার কাছে কোন কিছু টাকা আছে।
আমরা লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলাম তার ভিজিট কত। সে বলল, "ভিজিট লাগবে না, চলে যান, আমি এই কাজ করিনা, একটা মাসুম বাচ্চা হারিয়ে গেছে তাই সাহায্য করলাম।"
আমরা বাসায় চলে আসলাম রহস্যে অন্ধকার চোখে নিয়ে। কিছুতেই মন মানছে না। সেদিন রাত গেল সকাল আটটার দিকে বাসার মালিকের বাসার ল্যান্ডফোনে ফোন আসলো আমার সেই বন্ধুর বাড়ী থেকে। জানলাম সেই ছেলে ঠিক মতই তার গ্রামের বাড়ীতে বাবা মায়ের কাছে পৌঁছেছে।
নিশ্চিত হলাম সবাই। কয়েকদিন চরম উৎকন্ঠার মধ্যে কাটাচ্ছিলাম। খুব আশ্চর্য হলাম কিভাবে ঐ লোকটি সেই সব কথা বলল। কারণ সে যে কথা গুলো বলেছিল, সবই মিলে গেল। কারণ সেই ছেলেটি ঐ কৌটাটা নিয়েছিল সাথে এবং তার মধ্যে সে তার কাপড়ও নিয়েছিল। আরো শুনলাম সে যাওয়ার পথে একদিন কুমিল্লা কোথায় যেন ছিল। তারপর সে নিরাপদেই বাড়ী ফিরেছিল।
কথাটি মনে পড়লে আজো আশ্চর্য হয়ে যাই। কিভাবে সম্ভব? এমন আরো কিছু ঘটনা আছে আমার জানা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



