আমাদের ব্যাংক গুলো ছেঁড়া টাকা কোন ভাবেই নিতে চায় না। বদল করে দিতে বলে। আবার গ্রাহকরা যখন ব্যাংক থেকে টাকা তোলে তখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেই নোট গুলো পরখ করে নেয়। এমন একটা ভাব যেন, কিভাবে এই অচল টাকা কার উপর, কে চাপাবে।
ব্যাংকপাড়া মতিঝিল আর গুলিস্তানের অলিতে গলিতে দেখা যায় নতুন টাকার পসরা সাজিয়ে বসে থাকে সব ব্যাবসায়ীরা। তাদের ক্যাশবাক্সের উপর নতুন টাকা গুলো দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর লাগে। তারা আসলে পুরাতন ছেঁড়া অচল নোট বদলিয়ে নতুন নোট দেয় ঠিকই কিন্তু তা থেকে ১০% কমিশন কেটে রাখে। মানে একটি অচল ১০০ টাকার নোট বদলিয়ে তারা দিবে ৯০ টাকা। ১০ টাকা চলে গেলো একটা অবৈধ সুবিধাবাদীদের হাতে। টাকার মালিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিবছর এমন হিসেব করলে টাকার বড় একটা অংশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। মানে একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে অসৎ ব্যাবসায়ীদের হাতে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে টাকাটির মালিক। কেউ হয়ত বলবে, একটা সার্ভিসের বদলে তো তারা (ব্যাবসায়িরা) কমিশন নিচ্ছে। কিন্তু এই কাজের জন্য কোন কমিশন কাটা উচিত নয়, যদি ব্যাংকগুলো তাদের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করে।
এই ব্যাবসাটি পুরোপুরি অবৈধ। আর এটি হচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাংকগুলোর কর্তব্যহীনতার জন্য। এই দায়িত্ব পুরোপুরি ভাবে ব্যাংকের। তাহলে গ্রাহককে আর নতুন টাকা নেবার জন্য কোন কমিশন দিতে হয় না। আর কোন পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অথরিটির দেখা উচিত এই ধরনের কাজগুলো যেন না হয়, অর্থাৎ অসৎ ব্যাবসায়ীরা যাতে গ্রাহকের সমস্যা বুঝে কমিশনের টাকা হাতিয়ে নিতে না পারে। এবং সেই সাথে গ্রাহক যাতে ব্যাংক থেকে তার প্রাপ্য সমপরিমান নতুন টাকার নোট পায় সেটা নিশ্চিত করা উচিত।
এই বিষয়েই আজ কথা হচ্ছিল আমাদের এক ব্লগ বন্ধু সু-শান্ত'র সাথে। উনিই আমাকে এ ব্যাপারে লিখার জন্য উৎসাহ দিলেন আর তা থেকেই এই লেখা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

