দুই/তিনদিন আগে আমার বস একটা সংক্ষিপ্ত সফরে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। ওখানে একটা অফিসিয়াল মিটিং ছিল। উনি ওখানে চারদিন ছিলেন। কিন্তু উনি ওখানে গিয়ে নিজেকে পুরো ফকির হয়ে দেশে রিক্ত হস্তে ফিরে এসেছেন।
বসের যেদিন বাংলাদেশে আসার ফ্লাইট সেইদিনই ধরা খেয়েছেন উনি। বলতে পারেন রামধরা।
আমার বস মানিব্যাগ থেকে কার্ড বের করে তাকে দিতে যেই না গিয়েছেন তখনই লোকটা তার হাতচালিয়ে দেয় মানিব্যাগের ভিতরে, মুহুর্তের মধ্যে সব ইউরো আর ডলারের নোট গুলো চলে যায় সেই লোকের হাতে। ধর, ধর, বলতে বলতে সেই লোককে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। তাকে তাড়া করার সময় পথচারী বেশে কয়েকজন তাদের দৌড়ের গতি থামিয়ে দেয়। সাথে সাথে রিপোর্ট করা হয় সিকিউরিটি কনট্রোল রুমে। তারা ভিডিও থেকে ঘটনাস্থলের ছবি সবাইকে তাৎক্ষনিকভাবে দেখায়। দেখা যায়, ঐ লোক কখনই মাথা উচু করে কথা বলেনি। আসলেই সে সবসময় মাথা নীচু করে রেখেছিল। যেন তার ঘাড়টা বাঁকা। এবং মুহুর্তের মধ্যে সে ক্যামেরা বাহিরে চলে যায়।
বসের পকেটে ১৫০০ ইউরো আর ৭৫০ ইউএস ডলারের মত ছিল। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় মনে হয় ২ লক্ষ টাকার মত হয়।
ঐ শপিং মলের সিকিউরিটির দায়িত্বে যারা আছেন তারা জানান, তারা বেশ কয়েকদিন যাবত এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে। কর্তৃপক্ষর চোখে ধুলা দিয়ে তারা এই সব করছে। এটা একটা চক্র। এরা একসাথে বেশ কয়েকজন থাকে। এরা অনেকগুলো ভাষায় ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে পারে। বিদেশীদের তারা তাদের নিজের ভাষায় কথা বলে আকৃষ্ট করে। তেমনি একটি ঘটনা সিকিউরিটির লোকজন তখন তাদের বলেছে। ঐ শপিং মলে কয়েকদিন আগে এক এরাবিয়ান গিয়েছেন একটা ল্যাপটপ কিনতে। ওখানে এই এমনই একজন জুটে যায় তার সাথে। দোকানদার মনে করে, লোকটি ঐ এরাবিয়ানের বন্ধু, তাকে কিনতে সহায়তা করছে আর এরাবিয়ানটি মনে করে এটা বোধহয় দোকানেরই কেউ। শেষে এরাবিয়ানটি ল্যাপটপ পছন্দ হলে টাকা দেয়, ঐ লোকের হাতে। সেই লোক তারই এক লোকের হাতে টাকাটা আর ল্যাপটপ দিয়ে বলে বিল করে আনতে। আর এই ফাঁকে সেই দুই লোক টাকা নিয়ে চম্পট।
আসলেই শৈল্পিকভাবে দক্ষ হাতে তারা কাজটি করছে। আমার বসের চেহারাটা এখন কালো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



