যারা ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা করেন, তারা ব্যাপারটা ভালো ভাবে অনুধাবন করবে। তবে সেই জনগোষ্ঠী থেকে ভিআইপিগণ বাহিরে। কারণ ওনারা তো চারিদিকে রাস্তা ব্লক করে ৮০কিলোমিটার (!) স্পিডে যাতায়াত করেন কালো কাঁচ ঢাকা গাড়ীতে। চোখে পড়ারও সময় পায় না, জনগণের এই দুর্দশা।
এখন রমজান। সাড়ে তিনটায় বেশীরভাগ অফিস ছুটি। একটু কষ্ট করে ফার্মগেট বা এই রকম জংশনে একবার একমিনিট দাঁড়িয়ে দেখুনতো কি অবস্থা। যেন লাখ লাখ লোক দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা। হাঁটারও জায়গা নেই। আর গাড়ী। সে তো প্রচুর। কিন্তু কোন গাড়ীই এই মানুষগুলো পরিবহন করতে পারছে না কারণ সেগুলো আসছেই ওভারলোডেট হয়ে। তাহলে এই বাড়তি মানুষ গুলো কিভাবে তাদের কর্মস্থলে বা বাড়ী ফিরবে?
অনেকেই বলেন গাড়ী না পেলে হাঁটুন। এই রকম কথা যারা বলেন, তাদের মুখে ঝাঁটা। আরে শালা, তোরা রাস্তায় হেঁটে দেখ। তারপর বল। এই আবহাওয়ায় কতটুকু হাঁটা যায়। এ তো মরুভুমির চেয়েও কষ্টকর পরিবেশ। প্রচন্ড তাপমাত্রা এখন।
আর কোন নতুন কর্মক্ষেত্র ঢাকায় করা উচিত নয়। সেগুলো এখন অন্যান্য জেলায় করা উচিত। পরীক্ষামূলক ভাবে দুই একটি মন্ত্রনালয় ঢাকার বাহিরে সরিয়ে দেখা যেতে পারে। আর গার্মেন্টস শিল্পর বেলায়ও তাই করা উচিত। এতে পুরো দেশের উন্নতি হবে তো অনুন্নতি হবে না। চারিদিকে কাজ ছড়িয়ে পড়বে। মানুষের যাতায়াত বাড়বে সেসব জায়গায়। মানব উন্নয়ন হবে সেসব জায়গার মানুষের। ডিসেন্ট্রালাইসড না হলে কঠিন বিপদ আছে এই শহরের। যাদের বাড়ী ঢাকায় না তাদেরকে বাধ্য করা উচিত ঢাকা ছাড়তে তাদের কর্মস্থল সহ। তাদেরকে সেইসব শহরে পূর্নবাসন করতে হবে, আর এর দায়িত্ব সরকারের মূখ্য।
যদিও এটা দীর্ঘমেয়াদী একটা প্রকল্প। হয়ত সেটা করতে ২০-২৫ বছরও সময় লাগতে পারে। সরকারের এইসব দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজ তারা হাতে নিয়েছে। যদি এই ধরনের একটা কাজ তারা শুরু করে দিয়ে যেত তবে সেটাই হতো মানুষের মঙ্গল।
সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সবার এই বিষয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এই শহরের বসবাসকারী মানুষদের বাঁচতে দিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

