টিভি তেমন দেখা হয় না কখনই। হলেও খুব কম। তবে এই ঈদে মোটামুটি বেশ কয়েক ঘন্টা টিভির সামনে কাটিয়েছি। কিন্তু অশান্ত ভাবে। অশান্ত হতে হয়েছে ঐসব টিভি চ্যানেলের জন্যই। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো চেষ্টা করে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো প্রোগ্রাম দিতে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে কিছু নাটক। সিনেমা, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান একটাও দেখিনি। আর সবচেয়ে অসহ্য হলো ওমুক অভিনেতার সাথে তার সদ্য বিবাহিতা বউ এর হাসাহাসি লুটিপুটি, একটা চরম বিরক্তিকর একটা অনুষ্ঠান 'টকশো'। "আমার স্বামী এই করে, আমার স্বামী ঐ করে। আমার বউয়ের চুলটা না খুব সুন্দর আর ওর হাতের রান্নাটা, আহা! ও আমাকে খুব কেয়ার করে"। ইত্যাদি ইত্যাদি।
কি কারণে যে, কমার্শিয়াল কোম্পানীগুলো এইসব অনুষ্ঠানকে স্পনসর করে? ২৪ ঘন্টার সবচেয়ে দামী চাঙ্কে এগুলো প্রচার হয়েছে দেখলাম। তবে কিছু নাটক ভালো হয়েছে। এই প্রতিযোগীতার বাজারে পরিচালক আর প্রযোজকরা ভালই কয়েকটি উপহার দিয়েছে দর্শকদেরকে। তবে কয়েকটি নাটক দেখলাম, খুব স্লো, দুইজন শিল্পীকে দিয়েই নাটক শেষ করার চেষ্টা। এগুলো আনন্দের চেয়ে বিরক্ত ঘটিয়েছে নির্ঘাত।
একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয় যে, সবগুলো চ্যানেলে কমার্শিয়াল ব্রেক প্রায় একই সময় শুরু হয়। এটা বোধহয় সব চ্যানেল গুলো নিজেদের মধ্যে টাইম ফিক্সড করে নিয়েছে। কোন চ্যানেলের অনুষ্ঠান ব্রেক হলে দর্শকরা যাতে অন্য চ্যানেলে ফ্রিজ হতে না পারে। আবার আরো একটা ব্যাপার হলো, সবকটি চ্যানেলের ভালো নাটক গুলো একই সময়ে শুরু হয়। কোনটা রেখে কোনটা দেখবো এমন অবস্থা! কোনটার অভিনেতা প্রিয় তো আরেকটার গল্প সুন্দর, কোনটা হাসির তো আরেকটার থ্রিল। মানে কোনটা রেখে কোনটা দেখি। কিন্তু সবই দেখতে ইচ্ছা হয়। তাই এটা থেকে ওটাতে যেতেই রিমোটের ব্যাটারীর বেহাল দশা।
আর সবগুলো চ্যানেলে একটা খবর তো কমন। সেটা হলো ঢাকার রাস্তাঘাটের দৃশ্য। প্রতিটা ঘন্টার খবরের অনুষ্ঠানে এই নিউজটা কভার করা হবেই। আর পাঞ্জাবী পড়া কোন সাংবাদিকের মাইক্রোফোন হাতে একটাই ডায়লগ, "ছুটির শেষে কর্মস্থলে ফেরত মানুষগুলো ফিরলেই আবার ফিরে পাবে ঢাকার প্রাণ।" ফুটপাতে চলাচলকারী লোকজনের "ফাঁকা ঢাকা খুবই ভালো লাগছে" জাতীয় সাক্ষাতকার।
তবে এবার মনে হয় মোশারফ করিমে আর ব্যাচেলার খ্যাত মাসুদের (নামটা কি ভুল হলো?) চেহারাটা একটু বেশী দেখা গেল। আজ থেকে আবারো টিভির রিমোটের শান্তি। ওটা থাক না একটু সুখে। বড়ই ধকল গেছে ওটার উপর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

