আজ সরকারী ছুটির দিন ছিল। বেড়াতে গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ছিল বেশ কিছু ভদ্রলোকের সাথে ভদ্রমহিলা। তো আমরা যারা ভদ্রলোকেরা ছিলাম, একটু আলদা বসে দুচারটা কথা বলছিলাম। তার বিষয়বস্তু ছিল, দেশের বর্তমান রাজনীতি, হালচাল, দুএকটি কর্পোরেট বুলি আর সাথে ছিল সিগারেটের ধোঁয়া। পাশেই চলছিল, আমাদের অর্ধাঙ্গিনীদের গোল বৈঠক। মাঝে মাঝে একটু কান আর চোখ যাচ্ছিল ঐ সুহাসিনী আর সুকণ্ঠীদের দলের দিকে।
কানখাড়া করে খেয়াল করছিলাম তাদের দুইএকটি কথাবার্তা। আলোচনা বিষয়বস্তু বেশ স্থুল, তাদের শাড়ি, অর্নামেন্টস, সংসার, আমার সাহেব এই, আমার সাহেব ঐ, জানেন ভাবী আমার ছেলেটা কিচ্ছু খেতে চায় না, আচ্ছা ভাবী আপনার হেয়ার কাটটা না খুব সুন্দর হয়েছে, কোন পার্লারে যান? ও তাই নাকি, আমি তো মাসে দুইবার পার্সোনায় যাই। ওরা খুব ভালো কেয়ার নেয়, আমি তো ওদের মেম্বার কার্ড করেছি। তাই নাকি ভাবী, তাহলে আমিও মেম্বার কার্ড করবো।
আবার দেখলাম, কেউ কেউ কথার ফাঁকে ফাঁকে দ্রুত হাতে ভ্যানেটিব্যাগ থেকে প্রসাধনী বের করে চটপট সেজে নিচ্ছেন। দুই একজনকে দেখলাম ঘেমে যাওয়ার কারনে মুখে মেকাপের পুরুত্ব ধরা পড়ছে। মনে হচ্ছে গাল দিয়ে মেকাপ গলে গভীর নদী বেয়ে গিয়েছে নিচের দিকে। পিছন থেকে শুনলাম একজন সুকণ্ঠী বলছেন, "ভাবী আপনার পার্সে কি আয়না আছে? জানেন ভাবী মাঝে মাঝে খুব আয়নার প্রয়োজন পড়ে। যখন পাইনা তখন খুব সমস্যায় পড়তে হয়।"
আমি মনে মনে তাদের কষ্টটা অনুভব করতে পারি। আসলেই চটপট হাতে সাজতে তো নিজের রূপটাও একটু পরখ করে নেয়া দরকার। আর তার জন্য তো চাই একটা মিনি আয়না। সবার হাতেই তো মোবাইল আছে। যদি মোবাইলে এমন অপশন থাকতো যে, কী চাপলেই স্ক্রীণটা একটা আয়না হয়ে যেত, তবে মনে হয় এই বিপদগ্রস্থ রমনীকুলদের একটা গতি হতো।
আসলেই মোবাইলের সাথে ছেলেদের জন্য একটা সিগারেট লাইটার আর রমনীদের জন্য একটা আয়না তো অবশ্যই প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



