গতকাল একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম আমার সাইকেল নিয়ে। আজও একটা পোষ্ট দিবো সেই সাইকেলকে ঘিরেই। এটি মূলতঃ সাইকেলকে নিয়ে একটি শহরের কিছু কথা। কিন্তু লিখতে লিখতে দেখলাম এই পোষ্টটি শুধু সেই শহরের কিছু কথাই বলেছি।
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী। বিভাগীয় শহর। আয়তন প্রায় ৯৬.৬৮ বর্গকিমি। শিক্ষা নগরী হিসাবে পরিচিত রাজশাহী। কারণ ওখানকার রাজশাহী সরকারী কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই সুপরিচিত। এছাড়াও রয়েছে অনেক অনেক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
যাই হোক, আসল কথায় আসি। আমার দেখা শহর গুলোর মধ্যে রাজশাহীতে আমি সাইকেল সবচেয়ে বেশী চলতে দেখেছি। এমন কোন বাড়ী নেই যে বাড়ীতে একটি বা দুটি সাইকেল খুঁজে পাওয়া যাবে না। যারা রাজশাহী শহরে গিয়েছেন অথবা থাকেন তারাও ব্যাপারটা বলতে পারবেন। এই ব্লগে অনেকেই আছেন যারা এখনও রাজশাহীতে থাকেন অথবা রাজশাহীতে বেড়ে উঠেছেন।
আরো একটি আশ্চর্য ব্যাপার বেশীরভাগ সাইকেলের সামনে একটা বড় ক্যারিয়ার থাকবে। ব্যাপারটা মজার। যেটা বাঁশ এবং প্লাষ্টিকের রিবন দিয়ে বানানো। ৯০% সাইকেলে ওটা দেখা যাবে। এত সাইকেলের অর্থ হচ্ছে, এই শহরের অনেক ষ্টুডেন্ট আছে। এছাড়াও সাধারন লোকের মধ্যে সাইকেল চালানোর প্রবনতা দেখা যায়। রাস্তায় নামলেই টুংটাং বেল শোনা যায়।
রাজশাহী শহরের আরো কিছু ব্যাপার বলি রাখি। রাজশাহী শহরকে পুকুরের শহরও বলা হয়। অনেক পুকুর রয়েছে এখানে। কথিত আছে রাজশাহী জিরো পয়েন্টের সোনাদীঘির পানি নাকি খুবই টলটলে আর সুপেয় ছিল। ওটা নাকি বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির জন্য খনন করা হয়েছিল। আপনি যদি রিক্সায় চড়ে ঘুরে বেড়ান তবে ২ থেকে ৩ মিনিটের ব্যাবধানে আপনার আশে পাশে আপনি অবশ্যই একটি পুকুর পাবেন।
রেশম শিল্পের জন্য বিখাত্য রাজশাহী। রাজশাহী সিল্ক রমনীদের অত্যান্ত প্রিয় একটি কাপড়। রাজশাহীকে সিল্ক সিটি বলা হয়।
কিছুদিন আগে আর্ন্তজাতিক সংস্থার একটি জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী নগরী রাজশাহী। এটার কারণ আমার কাছে যেটা মনে হয়, রাজশাহীতে একই ক্লাসের লোকের বেশী বসবাস এবং বেশীর ভাগ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ষ্ট্যাটাসটা একই প্রায়। তবে এখনকার রাজশাহী অনেকটাই শ্রীহীন হয়ে পড়ছে।
রাজশাহী নিয়ে অনেক অনেক কথা আছে। সেগুলো পোষ্ট দিবো সময় পেলে। আমার প্রাণের শহর রাজশাহী। তুমি বেঁচে থাকো অনেকদিন। ভালো থাকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

