somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চশমা পড়া......

২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে ছোটবেলা থেকেই চশমা পড়তে হয়। সেই স্কুল বেলা থেকেই। ওহ‍! কি যন্ত্রনা। তখন থেকে মাথাব্যথা করতো। বাবা মাকে বলতাম। কিন্তু তারা তেমন হয়ত পাত্তা দিতেন না। না পড়ার বাহানা হিসাবে দেখতেন। কিন্তু যেদিন বাসায় এসে বললাম আমি ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা স্পষ্ট দেখতে পারিনা তখন তাদের টনক নড়লো।

মনে হয়, ঢাকায় তখনকার পিজি হাসপাতালে চোখ দেখানো হলো। মাইনাস পাওয়ার। চশমা নেয়া হলো নিউমার্কেট থেকে। প্রথম চশমা পড়ার অনুভুতি আরো কষ্টের। সবকিছু উঁচুনিচু লাগে। নাকের উপরে আর কানের সাইডে ব্যথা হয়ে যেত। কিন্তু এভাবে কিছুদিন ইউজ করতে করতে একসময় সহ্য হয়ে গেলো।

কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করলাম, আমার ক্লাশে কেউ বিষয়টাকে ভালো ভাবে নিল না। সবার একটা ভাব যে, ফ্যাশন করে চশমা পড়ছি। কেউ ব্যাপারটি বুঝতেই চাইতো না। কোন কোন স্যারেরা আবার একটু টিপ্পনী কাটতেও শুরু করলেন। মনে পড়ে এমনও হয়েছে, হয়ত একদিন পড়া পারিনি তাই, শিক্ষক বললেন, "পড়া পারিস না তো চশমা পড়েছিস কেন?" কিশোর বয়সে এমন কথা শুনে খুবই কষ্ট পেতাম। আবার অনেক বন্ধুরা "চারচোখ" বলে ডাকতো।

মনে আছে, অনেক সময় বন্ধুরা চোখ থেকে টান দিয়ে চশমা খুলে ফেলতো। ব্যাপারটা তাদের কাছে খেলা ছিল অনেকটা। কিন্তু আমি বুঝতাম আমার কষ্টটা। কেউ আবার চশমা খুলে নিয়ে লুকিয়ে রাখতো। "কানা" বলে ডাকতো। এই কথা গুলো ঐ সময়ে খুব মনে ব্যথা দিতো। নিরবে এ সব হজম করতাম।

এরপর বছর বছর চশমা পাওয়ার বেড়েছে। লেন্স আরো মোটা হয়েছে। স্কুলে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে অনেকবার চশমা ভেঙ্গেছি। চশমা ভেঙ্গে বাসায় এসে সেটা বলতে ভয় পেতাম। অনেক বকা শুনতে হয়েছে বাবা মায়ের কাছে। মারও খেতে হয়েছে। তারপর হয়ত তারা সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক কথা গিলতে হয়েছে।

একবার এক বন্ধুর খেলার ছলে এক ঘুষিতে আমার চশমার বাম কাঁচটা ভেঙ্গে যায়। আমার বাম চোখের পাতার উপরে এবং নীচে কেটে যায়। উপরের ক্ষতটা খুব গভীর ছিল। সেখানে সিলাই দিতে হয় একটা। এমন আরো অনেক ঘটনা আছে। আরেকবার এক বাস এক্সিডেন্টে চশমার ভাঙ্গা কাঁচে ডান চোখটি মারাত্বক আহত হয়। ওখানেও সিলাই দিতে হয়। সেবারের এক্সিডেন্টের (বাসের ভাঙ্গা কাঁচ দিয়ে) ডান কানের নীচের (কানের লতি) অংশ আলাদা হয়ে যায়। পরে সিলাই দিতে হয়।

তবে কখনই আমার নিজের ব্যবহারের জন্য চশমা ভাঙ্গেনি। খুবই সর্তকতার সাথে চশমা ব্যাবহার করি। কলেজে উঠে একবার চশমার পাওয়ার কমে গেলো। এরপর আবারো কমেলো এইতো কয়েকদিন আগে।

এই চশমা থাকার জন্য কোনদিন ভারী কোন খেলা খেলতে পারতাম না। বৃষ্টির দিনে খুব কষ্ট হতো। তখন মনে হতো, চশমায় ওয়াইপার থাকলে ভালো হতো। কখনও কখন মনে হয় চোখের ল্যাসিক অপারেশন করিয়ে ফেলি। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে না। সময় বা টাকা বাঁধ সাধে।

এভাবেই হয়ত সারাজীবন চশমা ব্যাবহার করে যেতে হবে। মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত লাগে। কিন্তু কিছুই করার নাই। এই চশমা ব্যাবহার করাটা একটা কষ্টের ব্যাপার। যারা রেগুলার ইউজ করেন তারা ব্যাপারটা বুঝবেন। নাকের উপর দাগ পড়ে যায় আবার কানের হাড় দেবে যায়। কিন্তু কিছুই করার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
৩৪টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×