আমাকে ছোটবেলা থেকেই চশমা পড়তে হয়। সেই স্কুল বেলা থেকেই। ওহ! কি যন্ত্রনা। তখন থেকে মাথাব্যথা করতো। বাবা মাকে বলতাম। কিন্তু তারা তেমন হয়ত পাত্তা দিতেন না। না পড়ার বাহানা হিসাবে দেখতেন। কিন্তু যেদিন বাসায় এসে বললাম আমি ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা স্পষ্ট দেখতে পারিনা তখন তাদের টনক নড়লো।
মনে হয়, ঢাকায় তখনকার পিজি হাসপাতালে চোখ দেখানো হলো। মাইনাস পাওয়ার। চশমা নেয়া হলো নিউমার্কেট থেকে। প্রথম চশমা পড়ার অনুভুতি আরো কষ্টের। সবকিছু উঁচুনিচু লাগে। নাকের উপরে আর কানের সাইডে ব্যথা হয়ে যেত। কিন্তু এভাবে কিছুদিন ইউজ করতে করতে একসময় সহ্য হয়ে গেলো।
কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করলাম, আমার ক্লাশে কেউ বিষয়টাকে ভালো ভাবে নিল না। সবার একটা ভাব যে, ফ্যাশন করে চশমা পড়ছি। কেউ ব্যাপারটি বুঝতেই চাইতো না। কোন কোন স্যারেরা আবার একটু টিপ্পনী কাটতেও শুরু করলেন। মনে পড়ে এমনও হয়েছে, হয়ত একদিন পড়া পারিনি তাই, শিক্ষক বললেন, "পড়া পারিস না তো চশমা পড়েছিস কেন?" কিশোর বয়সে এমন কথা শুনে খুবই কষ্ট পেতাম। আবার অনেক বন্ধুরা "চারচোখ" বলে ডাকতো।
মনে আছে, অনেক সময় বন্ধুরা চোখ থেকে টান দিয়ে চশমা খুলে ফেলতো। ব্যাপারটা তাদের কাছে খেলা ছিল অনেকটা। কিন্তু আমি বুঝতাম আমার কষ্টটা। কেউ আবার চশমা খুলে নিয়ে লুকিয়ে রাখতো। "কানা" বলে ডাকতো। এই কথা গুলো ঐ সময়ে খুব মনে ব্যথা দিতো। নিরবে এ সব হজম করতাম।
এরপর বছর বছর চশমা পাওয়ার বেড়েছে। লেন্স আরো মোটা হয়েছে। স্কুলে বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে অনেকবার চশমা ভেঙ্গেছি। চশমা ভেঙ্গে বাসায় এসে সেটা বলতে ভয় পেতাম। অনেক বকা শুনতে হয়েছে বাবা মায়ের কাছে। মারও খেতে হয়েছে। তারপর হয়ত তারা সেটা ঠিক করে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক কথা গিলতে হয়েছে।
একবার এক বন্ধুর খেলার ছলে এক ঘুষিতে আমার চশমার বাম কাঁচটা ভেঙ্গে যায়। আমার বাম চোখের পাতার উপরে এবং নীচে কেটে যায়। উপরের ক্ষতটা খুব গভীর ছিল। সেখানে সিলাই দিতে হয় একটা। এমন আরো অনেক ঘটনা আছে। আরেকবার এক বাস এক্সিডেন্টে চশমার ভাঙ্গা কাঁচে ডান চোখটি মারাত্বক আহত হয়। ওখানেও সিলাই দিতে হয়। সেবারের এক্সিডেন্টের (বাসের ভাঙ্গা কাঁচ দিয়ে) ডান কানের নীচের (কানের লতি) অংশ আলাদা হয়ে যায়। পরে সিলাই দিতে হয়।
তবে কখনই আমার নিজের ব্যবহারের জন্য চশমা ভাঙ্গেনি। খুবই সর্তকতার সাথে চশমা ব্যাবহার করি। কলেজে উঠে একবার চশমার পাওয়ার কমে গেলো। এরপর আবারো কমেলো এইতো কয়েকদিন আগে।
এই চশমা থাকার জন্য কোনদিন ভারী কোন খেলা খেলতে পারতাম না। বৃষ্টির দিনে খুব কষ্ট হতো। তখন মনে হতো, চশমায় ওয়াইপার থাকলে ভালো হতো। কখনও কখন মনে হয় চোখের ল্যাসিক অপারেশন করিয়ে ফেলি। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে না। সময় বা টাকা বাঁধ সাধে।
এভাবেই হয়ত সারাজীবন চশমা ব্যাবহার করে যেতে হবে। মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত লাগে। কিন্তু কিছুই করার নাই। এই চশমা ব্যাবহার করাটা একটা কষ্টের ব্যাপার। যারা রেগুলার ইউজ করেন তারা ব্যাপারটা বুঝবেন। নাকের উপর দাগ পড়ে যায় আবার কানের হাড় দেবে যায়। কিন্তু কিছুই করার নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

