এবার সেই বড় ছেলেটি রাস্তা পার হয়ে চলে গেলো। আর তার পিছনে পিছনে সেই ছোট ছেলেটা পড়ি কি মরি করে সেই ব্যাগ দুই হাতে চেড়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। ছেলেটার উচ্চতা হয়ত চার ফুট। আর ব্যাগটি তার কোমরের প্রায় কাছকাছি উচ্চতার। ছেলেটির পক্ষে অসম্ভব সেই ব্যাগটি বহন করা।
এতবড় একজন তাগড়া মানুষ কিভাবে তার নিজের ব্যাগটি ছোট্ট একটা ছেলের হাতে দিয়ে রাস্তা পার হয়ে চলে গেলো। খুব কষ্ট পেলাম ঘটনাটা দেখে। ততক্ষণ আমার ভাড়া করা রিক্সাটা অনেকদুর চলে এসেছে। পিছনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় সবকিছু আড়াল হয়ে গেলো।
আমরা শিশু শ্রম চাইলেই একেবারে বন্ধ করে দিতে পারবো না। এটা ঠিক। কারণ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুদের তাদের শ্রমকে বিক্রি করতে হয়। এই পরিবর্তন এত তাড়াতাড়ি আসবে না। পেটের তাগিদে বা পরিবার চালাতে তারা এই শ্রম বিনিময় করে অর্থের কাছে। শিশুদের জন্য ঠিক যেই কাজ (অর্থাৎ তার দৈহিক গঠন বা শক্তির উপরে নির্ভর করে) প্রযোজ্য সেই কাজই দেয়া উচিত। মোটকথা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে তাদের বিরত রাখা উচিত্। পাশাপাশি আমাদের বাড়ীতে থাকা এই শিশুদের আমরা কাজের পাশাপাশি শিক্ষার আলো দেই। তবে বড় হয়ে তারা একটা ভালো কিছু করতে পারবে। আস্তে আস্তে শিশু শ্রমিকের হারও কমে আসবে।
মানুষের মধ্যে মানবিক বোধ জাগিয়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। আসলে বোধ ছাড়া এগুলো সম্ভব না। মানবতা সবার মধ্যে জাগ্রত হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



