গত কয়েকদিন যাবত "তেলের দাম কমবে" এই কথা যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তার সাথে বাস্তব মূল্যহ্রাসের কোন মিল নেই। কিন্তু সরকার চাইলেও কোন জিনিসের দাম একেবারে কমিয়েও আনতে পারে না বা পারবে না। কারণ একটি জিনিসের সাথে আরেকটি জিনিসের সম্পর্ক বিদ্যমান।
তেলের মূল্যহ্রাস হবে এই বর তুলে গত কয়েকদিন জিজেলের বিক্রিও কম হয়েছে। সবাই অপেক্ষা করেছে কত কমে সেটা দেখার জন্য। কিন্তু লিটারে দুই টাকা কমে অনেকটা চুপসে গেছে তারা। সেচ মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই সরকার তড়িৎ গতিতে তেলের মূল্যহ্রাসের কথা রেখেছে বা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে এজন্য তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। সাধারনত এ ধরনের কাজ নিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করার রেওয়াজ আছে নিকট অতীতে।
তবে এটা সত্য, মানুষ আশা করেছিল আরো হয়ত দাম কমবে। যেমন লিটারে অন্তত পাঁচ টাকা বা তারচেয়ে বেশী। কারণ এর প্রচারটা ছিল মিডিয়াতে অনেক বেশী। ক্ষেত্র বিশেষে মনে হয়েছে, লোকজনকে অনেকটা জোড়পূর্বক খবরটা জানানোর ব্যাপারটা লক্ষ্য করা গেছে। তাই আশাটাও ছিল ঢের বেশী।
হঠাৎ বেশী দাম কমিয়ে দিলে চোরাচালানের একটা সম্ভবনা গড়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে লসটা হবে আমাদের। তবে এই দাম কমানোর ফলে কৃষক কতটুকু লাভবান হবে আর খাদ্যশষ্যের মূল্যহ্রাস কতটা হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
গত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই দফা তেলের দাম কমে আর এই নতুন সরকারের শুরুতে আরো একবার তেলের দাম কমলেও গাড়ী ভাড়া বা তেল সংশ্লিষ্ট শিল্পের পণ্যের মূল্য কি কমবে? এসব আসলে লাভটা হচ্ছে কার? কাগজ কলমে মূল্যহ্রাসের হিসাব থাকলেও বাস্তব জীবন ধারায় তো এর কোন প্রভাব পড়ছে না।
এতবার তেলের দাম কমলেও কি, গাড়ী ভাড়া একবারের জন্যও কমেছে? অথচ কোন জিনিসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহনের আগেই তার দাম বেড়ে যায়। এখানে প্রতারিত হচ্ছে কে? আর লাভবান হচ্ছে কে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

