ফার্মগেট, সন্ধ্যা ছয়টা, ১লা জুলাই, ২০০৭। হঠাৎ চোখ পড়তেই থমকে গেলাম। কোনদিন ভাবিনি যে, শ্রাবনীর সাথে এভাবে আর কোনদিন দেখা হবে। আমার মত ও অবশ্য থমকে গেলেও চোখ সরিয়ে নিতে পেরেছিল। যা আমি পারিনি। ওর চোখে এ কেমন চাহনি? এগিয়ে গেলাম একপায়ে দুপায়ে। ও শক্ত হয়ে ছিল। নিজ থেকেই আগ বাড়িয়েই কথা বললাম। কেমন আছো? কোন উত্তর নেই। ও কি আমাকে চিনতে পারছে না? তবে কি আমি ভুল করছি? নাহ্ আমার ভুল হওয়ার কথা না। যাকে নিয়ে কেটে গেছে আমার দীর্ঘ সাতটি বছর। ও মুখ খুললো। বললো, ভাল আছি। হঠাৎ করেই বুকের মধ্যে কেমন একটা মোচড় দিয়ে উঠল। সামলে নিলাম নিজেকে।
চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই কদমতলা, পবন দার ক্যান্টিন, ক্যাম্পাসের পুকুর ঘাট আরো কত কি? চোখটা ভিজে উঠলো। কিন্তু বুঝতে দিলাম না। বুঝতে পারলাম যে, ওর মনে প্রচন্ড এক ক্ষোভ এর জন্ম নিয়েছে। তা নিতেই পারে। ও তো আর জানে না, যে ওর জন্য শেষ পর্যন্ত আমি কিই না করেছি। শেষ করে দিয়েছি আমার জীবনটাকে। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা!
বললাম, কোথায় যাবে? জানলাম, বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই শ্রাবণী আর এই শ্রাবণীর অনেক অমিল। সেই দুষ্টুমী ভরা চোখ আর নেই। আর সেই কথার জন্য কান ঝালাপালা করে দেয়ার অভ্যাসও আর নেই। অনেক, অনেক পার্থক্য। এককথায় মূদ্রার এপিঠ আর ও পিঠ। বুঝতে পারলাম ও কিছু একটা বলতে চায়। বললাম, বলো। ওর ঠোঁট কাঁপছে।
শ্রাবণী বলল, কেমন আছো? বললাম, কেমন থাকা উচিত বলো?
তারপর কিছুক্ষণ নিরবতা। দেখে বুঝলাম ও সুখে নেই। ইচ্ছে করেই জিজ্জেস করলাম না ওর স্বামীর কথা। জানতে পারলাম মিরপুরে থাকে। আমার ভিজিটিং কার্ড দিলাম, যখন জিজ্জেস করলো, এখন কোথায় চাকুরী করছো? শ্রাবণী কার্ডটি কিছুক্ষণ দেখে ওর পার্সের ভিতর রেখে দিলো।
জানলাম ও একটা এন.জি.ও তে আছে। অফিস গ্রীনরোডে। এভাবে কয়েক মিনিট সময় পার হয়ে গেল। মিরপুরের অনেক বাস আসছে আবার চলেও যাচ্ছে। কিন্তু শ্রাবণী কোন বাসেই উঠছে না। তবে কি ও আরো কিছুক্ষণ আমার সাথে কথা বলতে চাইছে?
দেখলাম ওর চোখে পানি। বললাম, প্লিজ কেঁদোনা। এখানে অনেক লোকজন। কিন্তু ওর চোখের পানি থামছে না। বললো, আমার জীবনটা কেন এমন নষ্ট করে দিলে? আমি জবাব দিতে পারলাম না। শুধু বললাম, শ্রাবণী, আমাকে ভুল বুঝ না। তুমি যা কিছু জেনেছো সবই ভুল। পরে তোমাকে অনেক খুজেছি। কিন্তু ততক্ষেণ অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তোমার নাগাল আর পাইনি। ও আঁচল দিয়ে চোখ ঢেকে আরো জোরে কাঁদতে লাগলো। ভেবে পাচ্ছিলাম না যে তখন কি করবো। এদিকে দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এলো। খেয়ালই ছিল না। ওর মোবাইল নাম্বার চাইলাম। বললো, তোমার ভিজিটিং কার্ডের নাম্বারে আমিই ফোন দেবো। কথা না বাড়িয়ে সামনে আসা বিকল্প ১৭ নাম্বার বাসে উঠে গেলো। শুধু বললো, আসি।
বাস চলে গেলো আমার সামেন দিয়ে। চেষ্টা করলাম একটু এগিয়ে যেতে। পারলাম না। আমার পা যেন চলছে না। ভারী হয়ে গেছে পুরো শরীর। হঠাৎ একবার একটু মাথা বের করে আমার দিকে তাকালো শ্রাবণী। আমি হাত নাড়লাম। বাসটি বামে মোড় নিল তেজঁগাও কলেজের দিকে।
আমি তাকিয়ে রইলাম পথের দিকে চেয়ে.............
চলবে...... [এটি রিপোষ্ট, অনেক আগের লেখা, যদি আপনারা পড়তে চান তবে আরো পর্ব দিবো]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


