মানুষ হয়ে মানুষের কষ্টে কাঁদেনা, শোকে মাতম করে না। এ কেমন কথা! তবে কি এই ভোগবাদী সমাজই এই মানুষকে আলাদ করে দিচ্ছে?
এই কিছুদিন আগে বিডিআর সদর দপ্তর ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারালো অনেক গুলো প্রাণ। তারা সামরিক বাহীনির অফিসার। আর সেই সাথে আরো গেলো কতগুলো বিডিআর জোয়ান আর সাধারণ মানুষের প্রাণবায়ু। শোকে মুহ্যমান পুরো বাংলাদেশ। সব মিডিয়া গুলো ক্লান্তিহীন প্রচার করছে এই সংশ্লিষ্ট খবর। রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষিতও হয়েছে। সবাই আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করেছে।
সবজায়গায় আলোচিত হচ্ছে শুধু সামরিক অফিসারদের মৃত্যু নিয়ে। তাদের প্রতি সবার সহানুভুতি প্রকাশ করতে দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে দেখা করেছে, তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে, তাদের দাবী-দাওয়া, ক্ষতিপূরণ বিষয়ক অনেক কথা হয়েছে (যদিও এসবের বিনিময়ে একটি প্রাণের মূল্য নির্ধারন করা যায় না)। হয়ত একসময়ে এসব সবকিছুই সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। এভাবেই একসময়ে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে উল্টে হবে ইতিহাস। হবে সৃত্মিস্তম্ভ।
কিন্তু সবার চোখের অলক্ষ্যে থেকে যাচ্ছে আরো কিছু, ঐ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে আরো কিছু সাধারণ মানুষ আরো কিছু বিডিআর জোয়ান। এদের কোন কথা কেউ বলছে না। হায়, কি স্বার্থপর আমরা!! ওরা সাধারণ জোয়ান আর ওরা সাধারণ মানুষ বলেই কি তাদের প্রতি এত অবহেলা? তাদের প্রতি কারো কোন কিছু বলার নেই? যে ছাত্র, যে রিক্সাওয়ালা প্রাণ দিয়েছে, ওরা অধরাই থেকে গেলো?
একটা পরিবারের জন্য স্বজন হারানোর ব্যথা যে কত কষ্টের তা তো শুধু ভুক্তভুগীরাই বোঝে। মিডিয়ার কল্যানে আমরা আজ শুধু সেনা অফিসারদের স্বজনদের কান্না শুনতে পারছি, আর সেই একই কান্নাতে বুক ভাসছে অন্য অনেক পরিবারের। যে অশ্রু তাদের কপোল বেয়ে নামছে, সে একই অশ্রু তো আরো পরিবারের কপোল বেয়েই নামছে। সবারই কষ্টের স্বাদ একই রকম। সব অশ্রুর স্বাদ একই, লোনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



